মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা

খাদিজা বেরিয়ে এলেন পণ্যশালা থেকে। বাইরের পোশাক পরলেন। ছুটে গেলেন সেই ওয়ারাকার কাছে আবার! গিয়ে সব বললেন তাঁকে, যা যা শুনে এসেছেন একটু আগে মায়সারার মুখে! ওয়ারাকা ঝলমল করে উঠলেন! ওয়ারাকার কণ্ঠটা চিৎকার করে উঠলো :
-খাদিজা! খাদিজা! বলেছিলাম না—মুহাম্মদ সাধারণ কেউ নয়!
খাদিজা বললেন :
-তাহলে কি তিনিই ভবিষ্যতের নবী?!
-আমার তো তা-ই বিশ্বাস! আসমানি কিতাব পড়ে যতোটুকু জেনেছি ও বুঝেছি, তাতে মনে হচ্ছে মুহাম্মদই শেষনবী! এ উম্মতের নবী! তাঁকেই আল্লাহ সবার উপরে ওঠাবেন! মহাসম্মানে ভূষিত করবেন!! আর এ মুহাম্মদই তোমার সেই স্বপ্নসূর্য! এবং তোমার ভবিষ্যৎ স্বামী!!

খাদিজা ফিরে এলেন গৃহে। সাথে নিয়ে এলেন দৃপ্ত অঙ্গীকার ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।
নবুওতের সূর্যকে বরণ করে নিতে এখন তিনি পূর্ণ প্রস্তুত!
আল-আমীনকে ‘হাতছাড়া’ করা যায় না, কিছুতেই না!
আল-আমীন রত্ন! কিন্তু এই রত্ন না, সেই রত্ন—আকাশের রত্ন! সবচেয়ে দামি রত্ন! আমার স্বপ্নসূর্য! আমার ভবিষ্যতের নবী! আমার ভাবী স্বামী!
আল্লাহু আকবার!

পরিমাণ

165.00  300.00 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

3 রিভিউ এবং রেটিং - গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ^^’উৎসর্গ’ পাতা থেকে:-
    নারী, তুমি খাদিজা হও!
    তাঁর মতো আলোকিত হও!
    আলোয় আলোয় ভরে দাও পৃথিবী!
    __________________________________

    হযরত খাদিজা রাযি.। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সর্বাধিক প্রিয় স্ত্রী। সকলের আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইসলামের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন যাবতীয় সম্পত্তি। কেমন ছিলো তাঁর জীবন, এ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থে।

    ★গ্রন্থালোচনা
    _______________________
    খাদিজা। কিশোরী অবস্থায় ছিলেন বাড়ির শোভা। বাবা-মা’র আদরের দুলালী। এভাবেই এগিয়ে চলা। অতপর প্রথম বিবাহ। স্বামী আতিক বিন আবিদ। পিত্রালয় ছেড়ে চলে গেলেন স্বামীগৃহে। অপরিচিত ঘর, অপরিচিত মানুষ___নিজের গুণে আপন করে নিলেন স্বামীকে ও তার পরিবারকে। স্বামী আতিক বিন আবিদ বেশ সন্তুষ্ট স্ত্রী’র প্রতি। যা আশা করেছেন তা তো পেয়েছেনই, যা আশা করেননি তাও পেয়েছেন। অল্পদিনেই এ দম্পতি হয়ে উঠলেন মক্কার গর্ব। সকলের অনুসরণীয়। বছর ঘুরতেই খাদিজার কোল আলো করে জম্ম নিলো এক মেয়ে। বন্ধন আরও দৃঢ় হলো। কিন্তু…
    আতিক-খাদিজা’র সুখ স্থায়ী হলো না। আতিক চলে গেলেন না ফেরার দেশে। স্বামীর আকস্মিক বিদায়ে হতাশায় মুষড়ে পড়েন খাদিজা। আতিকের রেখে যাওয়া মেয়েকে নিয়ে কাটিয়ে দিতে চান বাকি জীবন। পিতা খোআইলিদ বহু কষ্টে রাজি করান দ্বিতীয় বিবাহে।…

    নতুন জীবনে খাদিজা। নাব্বাশ ইবনে জুররাহ আত তামিমীর ঘরে। এবারের স্বামীও মুগ্ধ তাঁর প্রতি। এগিয়ে চললো তাঁদের ‘দাম্পত্যজীবন’। প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে যথাক্রমে জম্ম নিলো দুই ছেলে। সুখে পরিপূর্ণ হয়ে উঠলো তাঁদের সংসার। এত সুখ দেখে খাদিজার দুঃশ্চিন্তা হয়। ভাবেন___আমাদের এ সুখ স্থায়ী হবে তো! নতুন কোনো বিপদ আসবে না তো!!…
    অবশেষে খাদিজার আশঙ্কা সত্যি হয়। নাব্বাশ চলে যান আখিরাতের অনন্ত সফরে। খাদিজা আবারও একা। বিষণ্ন মন। দিশেহারা ভাব। এ যেন ঝড়ের পর আবার ঝড়। শোকের উপর আরো শোক।

    ছেলে-মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে ঘুরে দাঁড়ান। নজর দেন স্বামীর ব্যাবসায়। এগিয়ে চলছে ব্যবসা। নিপুণ সুদক্ষ পরিচালনায় সম্পদ বাড়তেই থাকে। অল্পদিনে হয়ে উঠেন মক্কার শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী।
    কঠিন সিদ্ধান্ত নেন, আর বিবাহ করবেন না। বাকি জীবন কাটিয়ে দিবেন দুই ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে।

    এরপর?…

    বিস্ময়কর এক স্বপ্ন দেখেন ঘুমের বিছানায়। যাকে বলা যায় ‘স্বপ্নসূর্য’। স্বপ্নসূর্য যেন তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। কে এই ‘স্বপ্নসূর্য’র নায়ক? কাকে স্বপ্ন দেখে মোড় ঘুরে যায় তাঁর জীবনের? সেই কঠিনতম সিদ্ধান্তের?
    তিনি আল আমীন! যিনি ভবিষ্যতে হবেন তাঁর স্বামী! হবেন বিশ্ব জাহানের নবী!

    তারপর?…

    মুহাম্মদ খাদিজার ব্যবসার সফর নিয়ে রওনা হন সিরিয়ায়। মুহাম্মদের রুচি, বুদ্ধি দেখে খাদিজা মুগ্ধ। প্রিয় বান্ধবী নাফিসাকে পাঠান মুহাম্মদের নিকট বিবাহের প্রস্তাব দিয়ে। অতপর হলো বিবাহ। কেমন ছিলো তাঁদের সংসার? নবীর পাশে থেকে খাদিজা কীভাবে করেছেন ইসলামের খেদমত? কিসের পরশে ধন-দৌলত সবকিছু উপঢৌকন হিশেবে পেশ করেন স্বামী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কদমে? কেন আদর্শ ও অনুসরণীয় ‘দম্পতি’ বলা হয় তাঁদের? জানতে হলে পড়ুন বইটি।

    →→পাঠ-অনুভূতি
    _______________________
    জীবনী পড়তে কার না ভালো লাগে! সেই জীবনী যদি হয় গল্পে আঁকা! যদি পাওয়া যায় উপন্যাসের ছায়া! তাহলে নিঃসন্দেহে ভাল লাগা বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ। ‘গল্পে আঁকা মহীয়সী খাদিজা রাযিয়াল্লাহু আনহা’-বইটি ঠিক তেমনি একটি বই। সাথে জানতে পেরেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাম্পত্য জীবনের অনেক বিষয়াদিও।

    →→বইয়ের ইতিবাচক/নেতিবাচক দিক
    ____________________________________________
    পুরো বইয়ে একটা বিষয় আমাকে হতাশ করেছে। তা হলো, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিবাহের পর খাদিজা রাযি.’র পূর্বের তিন সম্তানের বর্ণনা পাওয়া যায়নি। যা পাঠককে বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে। এ বর্ণনা দেওয়া থাকলে বোধহয় বইটি পূর্ণাঙ্গতা লাভ করতো। এছাড়া বাদবাকি সবকিছুই ভালো লেগেছে। অনুবাদ প্রাঞ্জল ও সাবলীল। ছোট ছোট বাক্যের মাধ্যমে অনুবাদক ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী কারিশমা দেখিয়েছেন। এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি বইটি অনূদিত। বরং মৌলিক গ্রন্থ বলেই অনুভূত হয়েছে। প্রচ্ছদ অসাধারণ। বাইন্ডিং, কাগজ, অঙ্গসজ্জা সবকিছু চমৎকার। দাম অনুযায়ী মান খুব ভাল। বানানের প্রতি বিশেষ যত্ন দেওয়া হয়েছে। তেমনভাবে বানান ভুল চোখে পড়েনি।

    →→শেষ কথা
    ________________________
    বইটি নারীদের জন্য বিশেষ উপকারী হবে বলে বিশ্বাস রাখি। খাদিজা রাযি.’র জীবন থেকে যদি আমাদের মা-বোনেরা শিক্ষা নেন এবং অুনসরণ করেন, তাহলে সাংসারিক জীবনে তা সুফল বয়ে আনবে। অন্তত স্ত্রী হিশেবে সংসারে তার কতটুকু দায়িত্ব, খাদিজা রাযি.-‘র জীবনী তা বাতলে দিবে এবং আমল করতে উদ্বুদ্ধ করবে ইনশাআল্লাহ।

    পড়ুন। পড়তে পড়তে কখন যে শেষ হয়ে যাবে, টেরও পাবেন না। শেষ হওয়ার পর হয়তো নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করবেন। নিজেকে নতুনভাবে গড়ার স্বপ্ন দেখবেন। পড়লে হতাশ হবেন না, এতটুকু দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    The book is necessary for me
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    দারুন লাগছে পড়ে…
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?