মেন্যু
ummahor-proti-ahoban

উম্মাহর প্রতি আহ্বান

অনুবাদক : মুফতি রেজাউল কারীম আবরার
কভার : হার্ড কভার
ভাষা : বাংলা
ঈসা আ. পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কয়েকশ বছর হয়ে গেল। পুরো পৃথিবীকে ঘিরে নিয়েছে নিকষ অন্ধকার। বায়তুল্লাহতে স্থান পেয়েছে মূর্তি! মহান পরওয়ারদেগারের উপাসনা করার মত কেউ নেই পুরো পৃথিবীতে। তখন মা... আরো পড়ুন
পরিমাণ

182  250 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

- ৫৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি আমল চেকলিষ্ট।

- ৮৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি বই।

2 রিভিউ এবং রেটিং - উম্মাহর প্রতি আহ্বান

5.0
Based on 2 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    M. Hasan Sifat:

    আমরা ছিলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি । অথচ সর্বত্র আজ মার খেয়েই যাচ্ছি । কেন আমরা এমন অসহায় জাতিতে পরিণত হলাম ? যে জাতির সামনে রোম এবং পারস্যের মত পরাশক্তি লুটিয়ে পরেছিল ! আমরা কি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবো ? যেতে হলে কি করতে হবে আমাদের ? জানতে হলে পড়তে হবে শায়খ আলি তানতাবি (রহ.)-এর “আলোর মিনার” বইয়ের অশ্রুমাখা লেখাগুলো । শায়খ আলি তানতাবিকে আল্লাহ্ অসাধারন লিখনীশক্তি দান করেছেন । মুসলিম বিশ্বের একজন কিংবদন্তী লেখক হিসেবে পরিচিত তিনি ।

    ❒ বইটির বিষয়বস্তু—
    “““““““““““““““`
    বইটিতে ভিন্ন ভিন্ন ৩৬ টি শিরোনামে অশ্রুঝরা আকুতি দিয়ে লেখাগুলো সাজানো হয়েছে । একেকটা একেক বিষয়ের উপর লেখা ।
    আল্লাহকে ভালবাসবো কেন ? প্রতিদিন কেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো ? সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে কেন নবিজী (স.) এর সুন্নাত পালন করবো ? কেন সিয়াম পালন করবো ? আল্লাহ্ কি সত্যিই আছেন ? এরকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে বইটিতে । ইসলামের দিকে আহবান জানানো হয়েছে । বইটি আপনার মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দেবে । খুলে দেবে অনেকগুলো বদ্ধ জানালা । তওবার গুরুত্ব,রমযান মাসের ইবাদত, নসিহাহ্, আমল বৃদ্ধির উপায়সহ লেখক বইয়ের পাতায় পাতায় ইসলামের অনেকগুলো ডালপালা ছড়িয়ে দিয়েছেন । বলা যেতে পারে— “একের ভিতর সব” ৷

    ❒ পাঠ্যানুভূতি—
    ““““““““““““`
    লেখকের লেখনী বইয়ের প্রথম থেকেই মুগ্ধ করেছে । লেখক সবসময়ই নিজেকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন । এটা তার লেখা বা বলার একটা কৌশল । যেকারনে তিনি পাঠকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সফল হয়েছেন । নিজের সাথে ঘটা ঘটনাগুলো, চারপাশ থেকে নেয়া অভিজ্ঞতা, কিছু উপমা দিয়ে পুরো বইটিকে তিনি সাজিয়েছেন আর তাতে ছিল পাঠকদের প্রতি তার অশ্রুঝরা আকুতি । যেকারনে বইটা ছিল সুখপাঠ্য । অনুবাদও ভাল লেগেছে । সাবলীল ।
    বইয়ের প্রতিটি পাতায় হৃদয়ের অশ্রুকে কলমের কালিতে ফুটিয়ে তুলেছেন, মুসলিম বিশ্বের এই কিংবদন্তি লেখক । প্রতিটা অধ্যায় পড়া শেষে বুঝতে পারবেন,লেখক কত সহজে একটি বিষয়ের গভীরে পৌছে সেটাকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন । দ্বীনের পথে আসা নতুন কোনো পথিকের জন্য বইটি সত্যিই সুখপাঠ্য হবে ।


    বইটি প্রকাশিত হয়েছে “কালান্তর প্রকাশনী” থেকে ।
    পৃষ্ঠা সংখ্যা—১৮৪
    প্রচ্ছদ মূল্য ৩০০ টাকা ।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Hasansifat1996:

    ঈসা (আ.) পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার কয়েকশ বছর হয়ে গেল । পুরো পৃথিবীকে ঘিরে নিয়েছে নিকষ অন্ধকার । বাইতুল্লাহ্ তে স্থান পেয়েছে মূর্তি । মহান রব এর উপাসনা করার মতো কেউ নেই পুরো পৃথিবীতে । তখন মা আমেনার কোলজুড়ে নেমে এলো একটি আলোর রেখা । নিকষ অন্ধকারে তিনি জ্বালিয়ে দিলেন আলোর বাতি । ধীরে ধীরে সেই আলো ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীতে । তৎকালীন পৃথিবীর পরাশক্তি রোম এবং পারস্য মুসলমানদের কাছে মাথানত করতে বাধ্য হয়েছে । আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে গিয়ে আছড়ে পড়েছে ইসলামের বিজয়রথ । এভাবে কেটেছে কয়েক’শ বছর । কামাল আতাতুর্কের গাদ্দারির মাধ্যমে উসমানি খেলাফত বিলুপ্ত হয় । এরপর থেকে মুসলমানরা পৃথিবীতে মার খেয়েই যাচ্ছে । ৯০ বছর ধরে বাইতুল মাকদিস অভিশপ্ত ইহুদিদের দখলে । আফগান,ইরাক,ফিলিস্তিন,কাশ্মির,আরাকান, সিরিয়ায় আজ মুসলিমরা নির্যাতিত,অসহায় ।
    আমরা ছিলাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি । কেন আমরা এখন সবচেয়ে অসহায় জাতিতে পরিণত হলাম ? যে জাতির সামনে রোম এবং পারস্যের মত পরাশক্তি লুটিয়ে পড়েছিল ! আমরা কি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবো ? যেতে হলে কি করতে হবে আমাদের ? জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে শায়খ আলি তানতাবি রাহ. এর “আলোর মিনার” বইয়ের অশ্রুমাখা লেখাগুলো । হৃদয়ের অশ্রুকে কলমের কালিতে ফুটিয়ে তুলেছেন, মুসলিম বিশ্বের এই কিংবদন্তি লেখক । প্রতিটা অধ্যায় পড়া শেষে বুঝতে পারবেন,লেখক কত সহজে একটি বিষয়ের গভীরে পৌছে সেটাকে সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন ।

    বাংলা ভাষী পাঠকদের জন্য বইটি নিয়ে এসেছে এসময়ের সাড়া জাগানো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “কালান্তর প্রকাশনী” ।
    বইটিতে ভিন্ন ভিন্ন ৩৬ টি শিরোনামে অশ্রুঝরা আকুতি দিয়ে লেখাগুলো সাজানো হয়েছে । একেকটা একেক বিষয়ের উপর লেখা ।
    অনুবাদও ভাল লেগেছে । সাবলীল । অনুবাদ করেছেন, “মুফতি রেজাউল করিম আবরার” । অনুবাদক বইটিতে লেখকের মূল ভাব-অনুভবকে ধরে রাখার যে জোর প্রয়াস চালিয়েছেন, সেটা পাঠকরা পড়লেই বুঝতে পারবে ।
    লেখকের লেখনী বইয়ের প্রথম থেকেই পাঠককে মুগ্ধ করবে । প্রতিটা অধ্যায়ই আমার মনে দাগ কেটেছে, সবগুলো অধ্যায় নিয়ে লিখতে গেলে এখানেই ছোট খাটো একটা বই হয়ে যাবে । তাই এখানে কিছু অধ্যায় সম্পর্কে তুলে ধরছি যেন রিভিউ পাঠকরা বইটি সম্পর্কে একটা মোটামোটি ধারনা পেয়ে যায় । চলুন, এবার বইয়ের ভেতরের লুকানো রত্ন গুলো সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা করা যাক…..

    ~~~”ইবাদতের মওসুম”~~~
    ““““““““““““““““““““““
    .
    “ইবাদতের মওসুম” শিরোনামের অধ্যায়টি বইয়ের প্রথম অধ্যায় । শিরোনাম দেখে যে কেউই বুঝতে পারবে,এখানে রমাদান মাসের কথা বলা হচ্ছে । কৃষকের জন্য নতুন ধান ঘরে তোলার যেমন মওসুম আছে,তেমনি একজন মুমিনের জন্যও রয়েছে ইবাদতের মওসুম । কত রমাদান আসে, কত রমাদান চলে যায়,কিন্তু যেই আমি সেই আমিই রয়ে যাই । অথচ কথা ছিল,কৃষকের মতো আমরাও এই মওসুমে পর্যাপ্ত পাথেয় সংগ্রহ করে রাখবো । পিঁপড়ে যেমন শীতের আগেই তার খাবার সংগ্রহ করে রাখে আমাদেরও তো উচিত ছিল,রমাদানে প্রতিটা মুহুর্তকে কাজে লাগিয়ে পরকালের জন্য সঞ্চয় করে রাখা । কিন্তু আমরাতো গাফেল । দুনিয়া নামক এক ধূসর মরীচিকার পিছনে পড়ে আছি । বস্তুবাদী দুনিয়া আমাদের সামনে বাহারি আইটেম নিয়ে সাজিয়ে বসে আছে । যা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই না । যারা আখিরাতে সফল হতে চায়,রমাদান তাদের জন্য ব্যবসার মওসুম । লেখক তার আকুতি দিয়ে পাঠককে সেই বার্তাটিই পৌছতে চেয়েছেন ।

    ~~~”আল্লাহর সামনে”~~~
    “““““““““““““““““““““
    .
    রুকু-সিজদার নাম নামাজ নয়,এগুলো নামাজের কাঠামো । নামাজের প্রান রয়েছে । নামাজে যদি প্রান না থাকে, সে নামাজ মৃত । নামাজের প্রান হচ্ছে খুশু-খুজু । লেখক এ অধ্যায়ে, সালাতকে প্রানবন্ত করার জন্য কিছু উপায় বাতলে দিয়েছেন । আমি কে ? জীবন কি? এর শেষ গন্তব্য কোথায় ? স্রষ্টা কে? এ ধরনের আরো কিছু প্রশ্ন নিয়ে নফসের সাথে কথোপকথনের একটা চমৎকার দৃশ্যও ফুটে উঠেছে । মনে হচ্ছিল,আমি সত্যিই নফসের সাথে কথা বলছি । এক নিঃশ্বাসে এ অধ্যায়টা শেষ করে ফেলতে পারবেন ।

    ~~~”যে দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত”~~~
    ““““““““““““““““““““““““““““““
    .
    বিপদের সময় মানুষ কি করে ? প্রত্যেক মানুষই সে মুসলিম হোক বা কাফের; বিপদের সময় অন্তরটা আল্লাহর দিকে ফিরে যায় । কেননা,প্রত্যেকের অন্তরে ঈমানের বীজ রয়েছে । এমনকি কাফেরের অন্তরেও । ফিরাউন হলো এ বিষয়ের উপর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । সে অবাধ্যতার চরম সীমায় পৌছেছিল । যখন সে সমুদ্রে ডুবে যাচ্ছিল,তখন বলেছিল–‘আমি সে খোদার উপর ঈমান আনছি,যে খোদার উপর ঈমান এনেছে বনি ইসরাইল” । তাই লেখক বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে,
    যার জন্য মাধ্যম সঙ্কুচিত হয়ে যাবে,সে যেন দুহাত প্রসারিত করে বলে, “ইয়া আল্লাহ্ আপনি আছেন,শুধু আপনিই…” । সব দরজা বন্ধ হয়ে গেলেও মহান রব এর দরজা বন্ধ হয় না । এ অধ্যায় পড়া শেষে আপনার ঈমানের স্তর কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে,,ইন শা আল্লাহ্ । লেখক এখানে রিজিক,সুস্থতা,বিপদে আল্লাহর উপর ভরসা করার মতো কিছু বাস্তব ঘটনা এবং আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন ।

    ~~~”কুমন্ত্রক এবং নিন্দাকারী নফস”~~~
    ““““““““““““““““““““““““““““““`
    .
    প্রচন্ড শীতের রাতে যখন আপনি ফজরের সময় ঘড়ির এলার্ম শোনেন,ঘড়ির শব্দ আপনাকে নামাজের দিকে আহবান করে, আপনি তখন শীতের তীব্রতা কল্পনা করেন । ঘুম আর তুলতুলে বিছানায় ঘুমানোর স্বাদ অনুভব করেন । আপনার ভিতর থেকে কে যেন বলছে,”আজ থাক্ , কাল যেও” । হঠাৎ ভেতর থেকে আরেকটা আওয়াজ শোনেন । সে আপনাকে বলছে, “আরামের বিছানা ছেড়ে দাও,সময় কম,উঠে দাঁড়াও,ঘুম থেকে সালাত উত্তম” । আপনি তখন ঘুমানো এবং দাঁড়ানোর মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকবেন ।
    এরকম কিছু উপমা লেখক বইয়ে তুলে ধরেছেন । আল্লাহ্ মানুষের মাঝে দুটি বিপরীতমুখী শক্তি দিয়েছেন । একটা নবীদের পথে চলতে সাহায্য করবে অন্যটি শয়তানের পথে । নফসকে নিয়ন্ত্রনের বাইরে রেখে আমরা তরুনরা আজ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরন করে, আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত । লেখক তার দরদমাখা আকুতি দিয়ে বুঝিয়েছেন– এ থেকে বাঁচার উপায় কি, কিভাবে নফসকে নিয়ন্ত্রন করা যাবে,এর ভয়াবহ পরিনাম কি – সে সম্পর্কে ।

    ~~~”রিজিক ভাগ করা তবে আমল ওয়াজিব”~~~
    ““““““““““““““““““““““““““““““““““`
    .
    আল্লাহ্ কুরআনে বিভিন্ন সৃষ্টির কসম খেয়েছেন । সূর্য, সূর্যের কিরণ কখনো আবার রাত এবং প্রভাতের কসম খেয়েছেন কিন্তু যখনই রিজিকের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি নিজ সত্ত্বার কসম খেয়েছেন । আমরা অনেকেই আমাদের রিজিক নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ি । হতাশ হয়ে যাই । অনেকেতো রিজিক নিয়ে ভ্রান্তির মধ্যেই পতিত হই । লেখক এখানে রিজিক নিয়ে কিছু উপমা এবং বাস্তব ঘটনা বর্ননা করেছেন । যারা রিজিক নিয়ে চিন্তিত কিংবা ভ্রান্তির মধ্যে আছেন, তাদের জন্য ৭ পৃষ্ঠা ব্যাপী এই আলোচনাটুকু যথেষ্ট ।

    ~~~”তাওবা”~~~
    “““““““““““““`
    ৫ পৃষ্ঠার আলোচনায় আপনি “তাওবা” সম্পর্কে একটা ভাল ধারনা পেয়ে যাবেন । প্রতিটা লাইন আপনাকে মুগ্ধ করবে । অধ্যায়টা শেষ করার পর, তাওবা করার জন্য আপনার অন্তরটা অস্থির হয়ে উঠবে । মনে হবে কেউ আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে বলছে,”ভাই ফিরে এসো,তাওবার জন্য অন্তরটাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নাও” ।

    ~~~”হে যুবক”~~~
    ““““““““““““““““
    “হে যুবক” শিরোনামের এই অধ্যায়টি বইয়ের সবথেকে বড় চমক বলে মনে হয়েছে আমার কাছে ! অথচ আলোচনা শেষ করা হয়েছে মাত্র ২ টি পৃষ্ঠাতেই । মনে হয়েছে এত তাড়াতাড়ি কেন শেষ করলেন লেখক ? তবে অল্প আলোচনায় যা লিখেছেন,সেটাওবা কম কিসে ! প্রতিটা মূল্যবান নসিহত যেন একেকটা মনিমুক্তো । সেই মনিমুক্তো গুলোর কয়েকটি লাইন হুবহু লিখে দেয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না—-
    // “আমরা চাই ইসলামের যুবকরা শারীরিকভাবে শক্তিশালী হোক । একজন লোক পাহাড় থেকে নিচে নামার সময় যেমনভাবে খুব সতর্ক হয়ে অবতরন করে,তেমনভাবে সে সতর্ক হয়ে জীবন পরিচালনা করবে । তার অন্তর হবে আকাশসম । সে হবে প্রাঞ্জল ভাষার অধিকারী ।
    হে যুবক ! সাহাবাদের আদর্শ গ্রহন করো । তাদের মত হৃদয়কে নূর দ্বারা ভরে নাও । শক্তি ছাড়া পুরুষের আর কোনো সৌন্দর্য নেই । নিজের বাকশক্তি ও কলমকে ধারালো করো । নিয়তকে বিশুদ্ধ করো । আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করো । আল্লাহ্ সঙ্গে থাকলে, পৃথিবীর কোনো প্রভাবশালী তাকে পরাজিত করতে পারবে না” \\

    সাহাবীদের প্রায়োরিটি, ছিল সালাত । তারা আল্লাহকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন । ইসলামকে তারা ধ্যান জ্ঞান বানিয়ে নিয়েছিলেন । তাই আল্লাহও তাদেরকে জমিনে সম্মানিত করেছেন, কর্তৃত্ব দান করেছেন । আর আজ আমাদের যুবকদের প্রায়োরিটি চেঞ্জ হয়ে গেছে, নতুন বের হওয়া গান-নাটক-মুভি আমাদের প্রায়োরিটি । নবিজী (স.) এর আদর্শকে ছেড়ে দিয়ে হলিউড-বলিউডের হিরোরা আজ আমাদের আদর্শ । তাই আমাদের উপর অপমান আর লাঞ্ছনার জীবন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ।
    মসজিদে ফজরের সালাতে দুই কাতার মুসল্লি হয়না । যারা আসে তারা অধিকাংশই মধ্যবয়স্ক অথবা বৃদ্ধ । সে উম্মতের উপর আল্লাহর সাহায্য আসবে কীভাবে ? লেখক যেন এ কথা গুলোই বোঝাতে চেয়েছেন বারবার ।

    পুরো বইটি আপনাকে মুগ্ধ করবে । আমি উপরে মাত্র ৭ টি অধ্যায় নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি । আরো আলোচনা করতে গেলে সেটা আর রিভিউ থাকে না । তাই এখানেই শেষ করতে হচ্ছে ।
    ===================================
    .
    লেখক সবসময়ই নিজেকে উদ্দেশ্য করে কথা বলেছেন । এটা তার লেখা বা বলার একটা কৌশল । যেকারনে তিনি পাঠকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সফল হয়েছেন । একটা অধ্যায় পড়া শেষে পরের অধ্যায় পড়ার জন্য আপনি অধীর আগ্রহে থাকবেন । নিজের সাথে ঘটা ঘটনাগুলো, চারপাশ থেকে নেয়া অভিজ্ঞতা,কিছু উপমা দিয়ে পুরো বইটিকে তিনি সাজিয়েছেন আর তাতে ছিল পাঠকদের প্রতি তার অশ্রুঝরা আকুতি । শায়খ আলি তানতাবিকে আল্লাহ্ অসাধারন লিখনীশক্তি দান করেছিলেন । মুসলিম বিশ্বের একজন সুপরিচিত এবং কিংবদন্তী লেখক তিনি । যতদিন বেঁচে ছিলেন অবিরাম লিখে গেছেন । তার জন্ম ১৯০৯ সালে সিরিয়ার দামেস্কে । ১৯৯৯ সালের এক শুক্রবারে তিনি জেদ্দায় ইন্তেকাল করেন । আল্লাহ্ তার কবরকে রহমতের চাঁদর দ্বারা আবৃত করে দিন ।

    পরিশেষে বলতে চাই, আপনি যদি দ্বীনের পথে আসা নতুন কোনো পথিক হন তাহলে এই বইটি আপনার জন্য সুখপাঠ্য হবে । সেক্যুলার জীবন যাপন করার পর দ্বীনের পথে এসে অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয় । মনের গহীনে অনেক প্রশ্ন এসে ভীড় জমায় । আল্লাহকে ভালবাসবো কেন ? প্রতিদিন কেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো ? সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে কেন নবিজী (স.) এর সুন্নাত পালন করবো ? কেন সিয়াম পালন করবো ? সৃষ্টিকর্তা কি সত্যিই আছেন ? এরকম অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে বইটিতে । বইটি আপনার মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর দেবে । খুলে দেবে অনেকগুলো বদ্ধ জানালা । লেখক বইয়ের পাতায় পাতায় ইসলামের অনেকগুলো ডালপালা ছড়িয়ে দিয়েছেন । এ কারনে আমি বইয়ের আলাদা একটি নাম দিয়েছি, তা হলো– “একের ভেতর সব” ।

    বইটি প্রকাশিত হয়েছে এ সময়ের জনপ্রিয় প্রকাশনী সংস্থা “কালান্তর প্রকাশনী” থেকে । প্রচ্ছদ মূল্য ৩০০ টাকা । কালান্তরকে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই । মানসম্পন্ন বই উপহার দিয়ে যাবার জন্য খুব তাড়াতাড়িই তারা ইসলামী অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছে । বইয়ে ছোটখাটো দু’একটি বানান ভুল অবশ্য চোখে পড়েছে, যেটা ছাড় দেয়াই যায় । প্রচ্ছদ, কাগজের মান কোনোটা নিয়েই অভিযোগ করার মত কিছু পাইনি, আলহামদুলিল্লাহ্ । তবে হতাশ হয়েছি অন্য এক জায়গায় । বইয়ে কোনো সূচীপত্র পেলাম না । কেন সূচীপত্র দেয়া হলো না,সেটাও বুঝলাম না । এত চমৎকার একটা বইয়ের সূচিপত্র নেই, এটা মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর । প্রকাশকের কাছে অনুরোধ থাকবে, পরবর্তী সংস্করনে যেন সূচিপত্রটা সংযুক্ত করা হয় । এই বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক ও আরো যারা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে আছে, তাদেরকে আল্লাহ্ উত্তম প্রতিদান দিন । আমিন……
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top