মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

তাতারীদের ইতিহাস

তাতারীদের ইতিহাস গ্রন্থটি ষষ্ঠ শতাব্দির মুসলিম সম্রাজ্যের উপর ধেয়ে আসা তাতারী আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে রচিত একটি অনবদ্য গ্রন্থ। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. রাগেব সারজানীর অনন্য সৃষ্টি এই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটির আলোচ্য বিষয় বর্বর তাতারীদের ঘৃন্য ইতিহাস। লেখক প্রতিষ্ঠিত সত্যের পাটাতনে দাঁড়িয়ে বলে গেছেন ইতিহাসের দাস্তান। সেই সঙ্গে ইসলামের শাশ্বত বিশ্বাত চরিত্র এবং মুসলমানদের রক্তে নির্মিত ঐতিহ্য ও আদর্শের প্রতি যত্নবান থেকেছেন পূর্ণ সতর্কতায়। লেখকের গদ্য অদ্ভুত সুন্দর, সহজ এবং সুখপাঠ্য। শক্তিমান ও প্রাঞ্জল। আরবী আধুনিক এবং বর্ণনাভঙ্গি ঋজু। ইতিহাসের গ্রন্থ বলে শব্দ ব্যবহারে ভাষা প্রাচুর্যও লক্ষণীয়। সবমিলিয়ে ‘তাতারীদের ইতিহাস’ একটি বর্ণাঢ্য রচনা।

তাতার আমাদের মুসলমানদের জন্য সবসময়ই প্রাসঙ্গিক। বর্তমান সময়ে আরো বেশি প্রাসঙ্গিক। দোয়া করি এটি আমাদের তরুণদের হাতে হাতে উঠে আসুক। ‘ওয়া ইসলা..মা….হ’ বলে আইনে জালুতের মাঠে কুতযের সেই পাষাণ নিনাদ আমাদের রক্তে কাঁপন ধরাক। মাওলানা আবদুল আলীম অনূদিত এই গ্রন্থ তার বিষয় তথ্যশক্তি টার্গেট এবং ভাষার সৌকর্যে আমাদের বাঙলা সাহিত্যে একটি উত্তম সংযোজন বলে বিবেচিত হবে। ইনশাআল্লাহ

পরিমাণ

242.00  440.00 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - তাতারীদের ইতিহাস

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 3 out of 5
    Rated 3 out of 5

    :

    তাতারীদের ইতিহাস গ্রন্থটি ষষ্ঠ শতাব্দীর মুসলিম সাম্রাজ্যের উপর ধেয়ে আসা তাতারী আগ্রাসনের ইতিহাস নিয়ে রচিত একটি অনবদ্য গ্রন্থ। বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. রাগেব সারাজানীর অনন্য সৃষ্টি এই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটির আলোচ্য বিষয় বর্বর তাতারীদের ঘৃন্য জঘন্য ইতিহাস। লেখক প্রতিষ্ঠিত সত্যের পাটাতনে দাঁড়িয়ে বলে গেছেন ইতিহাসের দাস্তান। সেই সঙ্গে ইসলামের শাশ্বত বিশ্বাস বরিত চরিত্র এবং মুসলমানদের রক্তে নির্মিত ঐতিহ্য ও আদর্শের প্রতি যত্নবান থেকেছেন পূর্ণ সতর্কতায়। লেখকের গদ্য বড় অদ্ভুত সুন্দর। সহজ। সুখপাঠ্য। শক্তিমান ও প্রাঞ্জল। আরবী আধুনিক এবং বর্ণনাভঙ্গি ঋজু। ইতিহাসের গ্রন্থ বলে শব্দ ব্যবহারে ভাষা প্রাচুর্যও লক্ষণীয়। সবমিলিয়ে ‘তাতারীদের ইতিহাস’ একটি বর্ণাঢ্য রচনা।

    লেখক ভূমিকাতেই ইতিহাস পাঠের গুরুত্ব,প্রয়োজনীয়তা ও পঠন পদ্ধতি নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেছেন।পঠন পদ্ধতির বর্ণনা দিয়ে এর সুফল বর্ণনায় তিনি লিখেন-
    “এই পদ্ধতিতে ইতিহাস পাঠ করলে ইতিহাস প্রাণবন্ত ও সজীব হয়ে ওঠে।আপনি ইতিহাস পাঠ করবেন প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ার জন্য;কেবল সান্ত্বনালাভ কিংবা ইতিহাসবিদ হওয়ার জন্য নয়।এই পদ্ধতিতে ইতিহাস পাঠের সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য রয়েছে।তা হলো, ইতিহাসের ফাঁকে ফাঁকে ছত্রে ছত্রে ইবরত ও শিক্ষা অনুসন্ধান করা।”

    এই কিতাবটির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখক নিজেই বলেন,”বক্ষ্যমান কিতাবটিতে আমাদের সামনে রয়েছে মুসলিম ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিহাস;বরং এভাবে বললে অত্যুক্তি হবে না যে,সর্বদিক বিবেচনায় পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস আমাদের সামনে বিদ্যমান।”

    ★সংক্ষিপ্ত বই পরিচিতিঃ

    বক্ষ্যমান গ্রন্থটির আলোচ্য বিষয় বর্বর তাতারীদের ঘৃণ্য জঘন্য ইতিহাস। বর্ণনার ধারাবাহিকতা, তথ্যের সহজ উপস্থাপন, কাহিনীর বিন্যাস, ঘটনা চয়নের নিপূণতা, জয়-পরাজয়ের কারণ,প্রতিটি ঘটনা থেকে বর্তমানের শিক্ষা, ইতিহাসের চুলচেরা বিশ্লেষণ ইত্যাদির মাধ্যমে ইতিহাসের একঘেয়ে ও জটিল আবহ থেকে পাঠককে বের করে নিয়ে এমন এক অদ্ভুত উপলব্ধির জগত নির্মাণ করেছেন, যেখান থেকে বের হতে সময় লাগে। লেখক ইতিহাসের নির্মোহ কথকের মত শুধু ঘটনার বয়ান দিয়ে যান নি; তিনি জায়গায় জায়গায় থেমেছেন, ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ করেছেন, আহাজারি করেছেন, বর্তমানকে অতীতের সাথে মিলিয়ে দেখিয়েছেন এরপর আবার ‘আসুন তাতারীদের আলোচনায় আসি’ বলে ফিরে এসেছেন।

    ইতিহাসের নিরিখে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন মুসলমানদের পরাজয়ের কারণ,বের করে এনেছেন আমাদের জন্য শিক্ষা ও বলে দিয়েছেন আমাদের বর্তমান করনীয়। তিনি কখনো মমতার হাত বুলিয়ে, কখনো বা ধমকের সুরে বারবার জাগিয়ে তুলেছেন মুসলিমদের ঈমানীসত্ত্বাকে।পূর্বেকার ঘটনাগুলোকে বর্তমানের সাথে মিলিয়ে দিয়েছেন, তখনকার গাফেলরা কি করেছিল আর আমরা এখন কি করছি এসবও বলে গেছেন নির্দ্বিধায়। তাদের থেকে কি কাম্য ছিল আর তারা কি করেছে,এবং আমাদের কি করনীয় আর আমরা কি করে যাচ্ছি এসব সূক্ষ বিষয়গুলো তুলে এনেছেন ইতিহাসের শিক্ষা থেকে। ঘটনার বিভিন্ন দিককে কুরআন হাদীসের সুসংবাদ, সতর্কবানি ও ঘোষিত পরিণতির সাথে মিলিয়ে দেখিয়েছেন। আমাদের গর্বের ধন প্রিয় কুতয ও তার বিজয়াভিযানগুলো তুলে ধরছেন খুবই যত্নের সাথে।বর্ণনা করেছেন তার চারিত্রিক উৎকৃষ্টতা,সামরিক অভিজ্ঞতা ও দুনিয়া বিমুখতার কথা। অচেতন মুসলিমদের ঈমান জাগানিয়া কর্মপন্থার কথাও আলোচনা করেছেন খুব দরদ নিয়ে। পারস্পরিক আত্মকলহের অপনোদন করে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে তিনি কিভাবে বেধেছিলেন গোটা জাতিকে, সেই অভূতপূর্ব কর্মপন্থা আলোচনায় এনেছেন খুব সতর্কতার সাথে।
    ঈমানী চেতনায় মুমিনরা নিজেদের সপে দিয়েছে ইসলামের তরে। পুরস্কার হিসেবে মহান রব মুমিনদের বিজয় দান করেছেন।

    Was this review helpful to you?
  2. 3 out of 5
    Rated 3 out of 5

    :

    সংক্ষিপ্ত কথা:
    _____________________
    খ্রিষ্টীয় তেরো শতকের শুরুতে পৃথিবীর ইতিহাসে অনেকটা আকস্মিকভাবেই এক জাতির অভ্যুত্থান ঘটে। সে জাতি ‘তাতার’। (মূলত শব্দটা ‘তাতার’। তবে অনুবাদে ‘তাতারী’ ব্যবহার করা হয়েছে। রিভিউয়ে আমরা তাতার শব্দটাই ব্যবহার করব।) তাতার মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত এক উপজাতি। চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে মঙ্গোলিয়ায় তাতার জাতির সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য তাতারদেরকে মোঙ্গলও বলা হয়।
    তাতারদের সংখ্যা ছিল পঙ্গপালের মতো— অগণিত। অভ্যুত্থানও ছিল পঙ্গপালের মতোই— আকস্মিক। শহরের পর শহর পদদলিত করে, পিষ্ট করে তাতাররা জয় করে নিয়েছিল পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চল। প্রাচ্য, মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ইউরোপ-সহ তাদের পদানত হয়েছিল শতশত শহর; মারা পড়েছে লাখ লাখ মানুষ।
    তাতার জাতির ইতিহাস বড় ঘৃণ্য ইতিহাস। জ্বালাও-পোড়াও ছিল তাদের প্রধান কাজ। ধ্বংস করা ছিল তাদের নেশা! পুরো পৃথিবীবাসী তাদের নাম শুনলেই ভয়ে কাঁপত!
    তবে তাদের (আসল) রাজত্ব ছিল মাত্র কয়েক বছরের। এই কবছরেই তারা ধ্বংস করে দিয়েছিল পৃথিবীর বড় একটা জনগোষ্ঠী; ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল পৃথিবীর বড় বড় শহর।
    এই তাতার জাতির ইতিহাস নিয়েই রচিত হয়েছে ‘তাতারীদের ইতিহাস’ বইটি।
    .
    লেখক পরিচিতি:
    ______________________
    ড. রাগেব সারজানী। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য একজন ঐতিহাসিক। অসাধারণ একজন ইতিহাস বিশ্লেষক। বাড়ি মিশরে। ইতিহাস বিষয়ে বেশ কয়েকটি গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তন্মধ্যে ‘কিসসাতু তাতার’ (তাতারীদের ইতিহাস), ‘কিসসাতু উন্দুলুস’ (আন্দালুসের ইতিহাস), ‘কিসসাতু তিউনিস’ (তিউনিসিয়ার ইতিহাস) সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। পেশায় একজন ডাক্তার হয়েও তিনি একজন গ্রহণযোগ্য ঐতিহাসিক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তাঁর ইতিহাস বিশ্লেষণ সত্যানুসন্ধানী সবারই ভালো লাগে। আমরা তাঁর দীর্ঘ কর্মময় জীবন কামনা করি।
    অনুবাদক আবদুল আলীম সাহেবও যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। তার অনুবাদ নেহাত খারাপ না। এ পর্যন্ত তার বেশ কয়েকটি অনূদিত বই প্রকাশ পেয়েছে। সামনে আরও কিছু প্রকাশ পাবে। তার অনূদিত বইগুলো আরও ভালো হোক— এই প্রত্যাশা।
    .
    বিস্তারিত রিভিউ:
    ______________________
    তাতার বা তাতারিরা ছিল পৃথিবীর এক বর্বর জাতি। তাদের নৃশংসতা ও হত্যাযজ্ঞের কারণে তাদের পদানত হয়েছিল তৎকালীন বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চল! মারা পড়েছিল কয়েক লাখ, বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল আরও কয়েক লাখ মানুষ। তখন পুরো এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপজুড়ে মানবতার ওপর বিজয় লাভ করেছিল পাশবিকতা।
    চেঙ্গিস খানের নেতৃত্বে তাতারদের সাম্রাজ্যবাদ শুরু হয়। এরপর মানকু খানের সময়কালে তারা জয় করে নেয় পৃথিবীর অনেক দেশ ও শহর। এই সময় মধ্যপ্রাচ্যে তাতারদের প্রতিনিধি ছিল হালাকু খান। হালাকু ছিল দূরদর্শী ও সাহসী। নেতৃত্বের সব গুণ তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তবে একটা জিনিসই ছিল না, সেটা হল মানবতা। সে কাউকে দয়া করতে জানত না। শুধু সে-ই না; তাতারদের কারো কাছেই দয়া, মায়া, প্রেম, ভালোবাসার কোনো মূল্য ছিল না। তাদের ছিল না কোনো আদর্শ।
    তাতারদের ধ্বংসযজ্ঞ এবং তাদের শেষ পরিণাম বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, পৃথিবী জয় করে রাজত্ব কায়েম করা কিংবা রাজ্য শাসন করা তাদের উদ্দেশ্যই ছিল না! তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংস করো! কোনো আদর্শ বা নীতি নৈতিকতার বালাই নেই। মানুষ হত্যা করতে পারলেই তারা আনন্দ পেত। শহর ধ্বংসের মধ্যেই তারা তৃপ্তি পেত। এতটাই নৃশংস ও জঘন্য জাতি ছিল তাতার।
    খুব অল্প সময়ে পূর্ব এশিয়া থেকে নিয়ে তারা জয় করতে থাকে একের পর এক শহর। রাশিয়া, চীন থেকে নিয়ে আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ জয় করে নেয় তারা। ওদিকে পূর্ব ইউরোপেও তাদের বিজয়ধ্বনি বেজে ওঠে। খ্রিষ্টান, মুসলমান সবাই তাদের বশ্যতা স্বীকার করে। এমনকি জীবন বাঁচানোর জন্য অনেকে তাতারদের হয়ে নিজ জাতির বিরুদ্ধেই যুদ্ধ শুরু করে!!
    একসময় তারা হামলা চালায় তৎকালীন খেলাফতে আব্বাসিয়ার রাজধানী বাগদাদে। ইসলামি খেলাফতের পতন ঘটে। খলিফার নিকৃষ্টতম মৃত্যু হয়। সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইরাকসহ সব অঞ্চল তাতারদের দখলে আসে। তারা হাত বাড়ায় মিশরের দিকে।
    তবে এখানে ছিলেন আল্লাহর এক লড়াকু সৈনিক— সুলতান কুতুজ রাহিমাহুল্লাহ। তিনি আইনে জালুত যুদ্ধে তাতারদের সেই কালো হাত গুড়িয়ে দেন!
    তাতারদের এসব নৃশংসতা, ধ্বংসযজ্ঞ এবং জ্বালাও-পোড়াওয়ের কাহিনি নিয়েই রচিত হয়েছে ‘তাতারীদের ইতিহাস’ গ্রন্থটি। বইটি আরও বর্ণিত হয়েছে আনুষঙ্গিক অনেক বিষয়াবলি।
    এছাড়াও বীরের জাতি মুসলমানরা তাতারদের হাতে কেন মার খেল, তাতাররাই বা কেন বিজয়ী হল, আবারও মুসলমানরা বিজয়ী হল এবং তাতাররা পরাজিত হল কেন— এসব প্রশ্নেরও সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অধপতিত জাতির ঘুরে দাঁড়ানোর পদ্ধতিও বর্ণনা করা হয়েছে বইটিতে।
    বইটিতে তাতারদের সম্পূর্ণ ইতিহাস নেই। তবে অধিকাংশ কাহিনি অবশ্যই আছে। বিশেষত তাদের সাম্রাজ্যের বিস্তার থেকে নিয়ে আইনে জালুত যুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ড মোটামুটি বিস্তারিত বর্ণনা আছে। তবে আইনে জালুত যুদ্ধে বড় ধরনের পরাজয়ের পর থেকে আরও বেশ কয়েক বছর তাতারদের যে নিভু নিভু শাসন ছিল, সে ব্যাপারে লেখক কোনো দৃষ্টিপাত করেননি। অবশ্য তাতারদের আসল পরিচয় ও কর্মকাণ্ড জানার জন্য লেখকের বর্ণিত কাহিনিই যথেষ্ট।
    .
    পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
    ____________________
    তাতারীদের ইতিহাস অনেক ভালো একটা বই। তাতারদের ইতিহাস জানার জন্য নির্ভরযোগ্য একটি গ্রন্থ। বিশেষত রাগিব সারজানি সাহেব গ্রহণযোগ্য ঐতিহাসিক হওয়ায় তাঁর ইতিহাস বিশ্লেষণও অনেক গুরুত্বের দাবিদার।
    লেখকের ইতিহাস পর্যালোচনা এবং সমাধান দেওয়ার ক্ষমতাটা অসাধারণ। সুন্দর গুছিয়ে বর্ণনা করতে পারেন তিনি। বইটা বাস্তবেই অনেক সেরা। ভালো লাগার মতো বই, অনেক কিছু জানার মতো বই।
    তবে বইটির অনুবাদে অনেক দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয়। আমি যে বইটা পড়েছি, সেটাকে একবার লাল কালি দিয়ে লাল করা হয়েছে। আমি পড়ার সময় আরও অনেক জায়গা লাল করে দিলাম! শুধু বানানভুলই নয়; শব্দগত, ভাষাগত ভুলও প্রচুর। উদাহরণত— Ukraine (ইউক্রেন) শব্দটির অনুবাদ করা হয়েছে ‘উকরানি।’ ফ্রান্সের রাজা নবম লুইসকে আরবিতে বলে ‘লুইস তাসে’। বাংলায়ও লুইস তাসে নামেই উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক ভুল রয়েছে, যেগুলো হয়তো সব পাঠকের কাছে ধরাই পড়বে না। যারা আরবি জানেন, তাদের কাছে আরবি কেন্দ্রিক ভুলগুলো ধরা পড়বে। যারা ইতিহাস ও ভাষা জানেন, তাদের কাছে আরও অনেক ভুলই দৃষ্টিগোচর হবে।
    যাইহোক, মূল বইটা (কিসসাতু তাতার) অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য। অনূদিত বইটাও খুব বেশি খারাপ না। তবে কিছু জায়গায় একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে! যাচ্ছেতাই রকমের অনুবাদ হয়েছে। আর বানানভুলের কথা নাইবা বললাম! আগামী সংস্করণে বইটা নির্ভুল হয়ে আসুক- এই প্রত্যাশা।
    এতক্ষণ কষ্ট করে লম্বা রিভিউ পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। জাযাকুমুল্লাহ! ♥
    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?