মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস (মাকতাবাতুল হেরা)

মুসলিম উম্মাহর শুরু থেকে এই উম্মাহ কিছু ব্যক্তির নিকট বরাবরই ঋণী। এই উম্মাহর ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে আমরা এসকল মনীষীর পদচিহ্ন খুঁজে পাই। তাঁরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন মুসলিমদের কল্যাণে। ইতিহাসখ্যাত এসকল মনীষীর তালিকা বড় দীর্ঘ। কাউকে আমরা চিনি,জানি,নিদেনপক্ষে নাম শুনেছি; কাউকে আবার চিনিও না,জানিও না, নাম শোনা তো দূর কি বাত। .
.
এসকল মহামনীষীদের চেনানোর জন্য,জানানোর জন্য,তাদের অবদান সম্পর্কে আমাদের ওয়াকিবহাল করার জন্য এমন এক গ্রন্থের প্রয়োজন ছিল যা আমাদের জানাবে তাঁরা কেমন ছিলেন,কেমন ছিল তাঁদের সমকালীন পরিবেশ,কি নিদারুণ কষ্ট ও সংগ্রামের মাধ্যমে তাঁরা স্বমহিমায় ভাস্মর হতে পেরেছিলেন। এই উম্মাহ কিভাবে তাঁদের কাছে ঋণী হল, তাঁদের জীবনের সাদামাটা ইতিহাসই কেবল নয়,সে ইতিহাসের আলোকে সেময়কার মানুষ,সমাজ ও সভ্যতা কিভাবে আলোকিত হয়েছিল,কিভাবে আজও আমরা জীবন গড়ার,ভাবনা-চিন্তার খোরাক তা থেকে পেতে পারি তাও সে গ্রন্থ আমাদের জানাতে পারবে।.
.
এমনই এক চমৎকার গ্রন্থ হচ্ছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সাহিত্যিক সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নাদভী(রাহ) লিখিত, “সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস”। বাঙলায় এই গ্রন্থটি ৭ খণ্ডে অনূদিত হয়েছে।.
.
এই গ্রন্থের রচনায় আলী মিয়াঁ (রাহ) যে রুচির পরিচয় দিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। মুসলিম উম্মাহর হাজারো রত্ন থেকে গুটিকয় রত্নকে খুঁজে নেয়া কোনো সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু এই কঠিককাজটি তিনি যেভাবে আঞ্জাম দিয়েছেন তা নিতান্তই আল্লাহর মেহেরবানী অতঃপর আলী মিয়াঁর(রাহ) সফলতা।

Clear
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস (মাকতাবাতুল হেরা)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    সিরিজ রিভিউ
    ‘সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস’ একটি সিরাত-সিরিজ; একটি চরিতাভিধান। আকাবিরে উম্মতের বেশ কয়েকজনের জীবনের চিত্র আঁকা হয়েছে এতে। যাঁদের ঘটনা পড়লে হৃদয় আন্দোলিত হয়; যাঁদের কাহিনি শুনলে গর্বে বুকটা স্ফীত হয়ে যায়; যাঁদের দূরদর্শিতার কথা জানলে ইমানি নুর ঝিলিক দিয়ে ওঠে— এমনই কিছু আল্লাহ-পাগলের কাহিনি দিয়ে সাজানো হয়েছে সিরিজটি।
    এই সিরিজে যাঁদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকেই আমাদের ইমান আমলের জন্য প্রেরণা-পুরুষ; প্রত্যেকেই আমাদের চেতনার আধার। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— উমর বিন আবদুল আজিজ, হাসান বসরি, ইমাম আহমদ বিন হামবল, ইমাম গাজালি, আবদুল কাদির জিলানি, নুরুদ্দিন জঙ্গি, সালাহুদ্দিন আইয়ুবি, জালালুদ্দিন রুমি, ইমাম ইবনে তাইমিয়া, নিজামুদ্দিন আওলিয়া, মুজাদ্দিদে আলফে সানি, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, সায়্যিদ আহমদ শহিদ রাহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখ।
    পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা, আকাবিরদের সম্পর্কে না জানা বড় আফসোসের বিষয়। সেই আফসোস কিছুটা হলেও ঘুচিয়ে দেবে এই সিরিজ। আকাবিরদের বর্ণাঢ্য জীবনের অনেক না জানা অধ্যায় উন্মোচিত হবে এই সিরিজের মাধ্যমে। জানা যাবে অনেক অজানা কাহিনি। অবগত হওয়া যাবে প্রামাণ্য এক ইতিহাস সম্পর্কে।
    সিরিজটি মহান দুই তাবিয়ি উমর বিন আবদুল আজিজ ও হাসান বসরি রাহিমাহুমাল্লাহ’র জীবনী দিয়ে শুরু হয়। এরপর বহির্বিশ্বের কয়েকজনের জীবনালেখ্য তুলে ধরেই লেখক রাহিমাহুল্লাহ উপমহাদেশে চলে আসেন। এখানকার দুই মহান সংস্কারক মুজাদ্দিদে আলফে সানি ও শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি এবং বালাকোটের অমর শহিদ সায়্যিদ আহমদ রাহিমাহুমুল্লাহর জীবনচরিত রচনা করেন পরম যত্নে।
    মূলত এটা সিরিজ আকারে লেখা হয়নি। প্রথমে হজরত আলি মিয়া রাহিমাহুল্লাহ তাঁর রক্ত ও চেতনার উৎস-পুরুষ শহিদে বালাকোট সায়্যিদ আহমদ শহিদ রাহিমাহুল্লাহর জীবনী ‘সিরাতে সায়্যিদ আহমদ শহিদ’ লিখেন। এটাই এই সিরিজের সবচে দীর্ঘ জীবনী। এরপর তিনি আরো অনেকের জীবনী ও তৎকালীন বিভিন্ন ইতিহাস লিখেন। পরবর্তীতে সবগুলো মিলিয়ে ‘তারিখে দাওয়াত ও আজিমত’ নামে প্রকাশ করা হয়।
    সিরিজটি প্রথমে পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত ছিল। পরে দুই খণ্ডব্যাপী ‘সিরাতে সায়্যিদ আহমদ শহিদ’ এড করে তা সাত খণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়।
    রিজাল শাস্ত্রে নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরাট রচনা। এতে আছে প্রামাণ্য ইতিহাস। এছাড়া প্রতি খণ্ডের শুরুতে তখনকার সময়ের মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অবস্থা ও পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। রিজাল ও তারিখের ক্ষেত্রে এটি একটি প্রামাণিক উপস্থাপনা।
    .
    লেখক পরিচিতি
    মুফাক্কিরে ইসলাম সায়্যিদ আবুল হাসান আলি নদবি রাহিমাহুল্লাহ। মা আল্লাহর কাছে কামনা করেছিলেন, আল্লাহ যেন তাঁকে একশোটি সন্তান দেন! আল্লাহ তাঁকে একশোটি সন্তান দেননি বটে; কিন্তু এমন এক সন্তান দিয়েছেন, যিনি একাই একশো জনের সমান! যিনি একাই পুরো পৃথিবী চষে বেড়িয়েছেন! আল্লাহর দীনকে সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছেন দায়িত্বের সাথে। প্রতিটি পয়েন্টে রেখে গেছেন অবদান।
    জন্ম ১৩৩২ হিজরির মুহররম মাসে, ভারতের লখনৌ প্রদেশের অন্তর্গত রায়বেরেলির তাকিয়াকিলা গ্রামে। বাবা সায়্যিদ আবদুল হাই হাসানি ছিলেন অন্যতম আলেম ও ঐতিহাসিক। মা ছিলেন হাফেজা। আরবি রক্তের মানুষ তাঁরা— রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় দৌহিত্র হজরত হাসান রাযিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর।
    তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে হিন্দুস্তানে সর্বপ্রথম আগমন করেন আমির সায়্যিদ কুতুবুদ্দিন মুহাম্মদ মাদানি (মৃত্যু ৬৭৭ হিজরি)। বালাকোট ময়দানের বীর সেনাপতি আমিরুল মুমিনিন সায়্যিদ আহমদ শহিদ রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন তাঁর পঞ্চম উর্ধ্বতন পুরুষ। ছিলেন তাঁর চেতনার উৎস। দাদা ফখরুদ্দিন রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন হায়দারাবাদের একটি সরকারি মাদরাসার প্রধান শিক্ষক। বাবা আবদুল হাই হাসানি রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন ভারতের অন্যতম সেরা আমেম, ঐতিহাসিক। যাঁকে ‘মুয়াররিখুল হিন্দ’ বলে অভিহিত করা হয়।
    মহান এই বংশে জন্ম নেওয়া হজরত আলি মিয়া রাহিমাহুল্লাহ মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে গবেষণাগ্রন্থ ‘মা জা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমিন’ লিখে আরববিশ্বে সাড়া ফেলে দেন। বইটি পড়ে আরবের বড় বড় সাহিত্যিকের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে যায়! একজন অনারব যে আরবি ভাষায় এমন সাহিত্যপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ লিখতে পারে— এটা তাদের বিশ্বাস হতে চায় না। মূলত এ বইই তাঁকে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি এনে দেয়।
    পড়াশোনা করেছেন লখনৌর বিখ্যাত নদওয়াতুল উলামায়। শিক্ষকতাও এখানেই, গড়েছেন হাজারো ছাত্র, অনুরাগী, অনুসারী। ছিলেন মদিনা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাকালীন পৃষ্ঠপোষক। ছিলেন অক্সফোর্ডের ইসলাম বিভাগের মুরব্বি। এছাড়াও তিনি ছিলেন তাবলিগের মুরব্বি। দীনের দাওয়াত নিয়ে চলে গেছেন বিশ্বের দুয়ারে দুয়ারে। প্রায় পুরোটা পৃথিবী সফর করেছেন। সর্বত্র পৌঁছে দিয়েছেন দীনের বাণী।
    বক্ষ্যমাণ সিরিজের গ্রন্থ ‘সিরাতে সায়্যিদ আহমদ শহিদ’ লেখার মাধ্যমেই তিনি উর্দু সাহিত্যাকাশে নিজের নাম লিখিয়ে নেন। এরপর লিখে গেছেন দুই হাতে! উজাড় করে দিয়েছেন ভেতরের সবটুকু আবেগ, অনুভূতি, ভাবনা। তাঁর ‘মা জা খাসিরাল আলামু বিইনহিতাতিল মুসলিমিন’ বিশ্বের অনেক ভাষায় অনুবাদ হয়েছে। দীর্ঘ সাত খণ্ডে লিখেছেন আত্মজীবনী ‘কারওয়ানে জিন্দেগি’। ঐতিহাসিকের সুযোগ্য ছেলে হওয়ার কারণেই তাঁর আত্মজীবনী নিছক আত্মকাহিনি হয়ে ওঠেনি; বরং একইসঙ্গে হয়ে ওঠেছে সমসাময়িক ব্যক্তি ও জামানার ইতিহাসও!
    বর্তমান আরববিশ্বের বিশিষ্ট আলেম ও লেখক ড. ইউসুফ কারজাবি হজরত আলি মিয়ার ব্যক্তিত্ব ও লিখনী দ্বারা এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, তিনি নিজেকে আলি মিয়ার ছাত্র বলে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। তিনি হজরত আলি মিয়ার একটি জীবনীও রচনা করেছেন।
    সায়্যিদ আবুল হাসান আলি নদবি রাহিমাহুল্লাহ সবাইকে শোক-সাগরে ভাসিয়ে হিজরি ১৪২১ সনের ২২শে রমজান জুমার পূর্বে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াতরত অবস্থায় ইনতিকাল করেন। রায়বেরেলির পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
    .
    অনুবাদক প্রসঙ্গ
    এই সিরিজের অনুবাদক তিনজন। আবু সাঈদ মুহাম্মদ উমর আলী, আবু তাহের মিসবাহ ও শাহ আবদুল হালীম হুসাইনী।
    এদেশে হজরত আলি মিয়ার আবেগ, অনুভূতি, এমনকি হৃদয়ের উত্তাপ পর্যন্ত সবচে বেশি যিনি অনুভব করতেন, তিনি হজরত আবু সাঈদ মুহাম্মদ উমর আলী রাহিমাহুল্লাহ। এখনও তাঁর রচিত ও অনূদিত অনেক বই অপ্রকাশিতই রয়ে গেছে। অনুবাদে তিনি সবার কাছেই আস্থাভাজন ও গ্রহণযোগ্য। তিনি হজরত আলি মিয়া নদবির বেশকিছু বই অনুবাদ করেছেন। সবগুলোই পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
    আবু তাহের মিসবাহ সাহেবকে বলা হয় ‘আদিব হুজুর’; আসলেই তাই! আপাদমস্তক ভাষার খেদমতে নিয়োজিত পুরুষ তিনি। এদেশের আলেম সমাজে বেশ উজ্জ্বল তাঁর নাম। মৌলিক, অনূদিত মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা প্রচুর। সবগুলোই পেয়েছে পাঠকপ্রিয়তা, হয়েছে সমাদৃত।
    শাহ আবদুল হালীম হুসাইনী একজন আলেম লেখক। মিরপুরস্থ আল মাহাদুল ইসলামীর ফতোয়া বিভাগের শিক্ষক তিনি। এছাড়াও কাজ করছেন পাক্ষিক মুক্ত আওয়াজ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে। রচনা করেছেন বেশ কয়েকটি গ্রন্থও।
    .
    প্রথম খণ্ডে যা যা আছে
    প্রথমেই আছে গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা। এতে লেখক রাহ. জীবনের গতিময়তা ও পরিবর্তনশীলতা, ইসলামের স্থায়িত্ব বজায় রাখার গায়েবি ব্যবস্থাপনা, অন্যান্য ধর্মে সংস্কারকদের স্বল্পতা ও কারণ, ইসলামের উত্তরাধিকার প্রভৃতি বিষয় সুচারুরূপে ফুটিয়ে তুলেছেন।
    প্রথম খণ্ডের প্রথম অধ্যায় শুরু হয়েছে হিজরি প্রথম শতাব্দির মুজাদ্দিদ আমিরুল মুমিনিন উমর বিন আবদুল আজিজ রাহ.’র জীবনী দিয়ে। এতে তাঁর সময়ের উমাইয়া খেলাফতের বিভিন্ন বিষয়, তাঁর খলিফা হওয়া, বদলে নেওয়া জীবন এবং দীনের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এরপর আসছে বিশিষ্টজনদের তাবিয়ি হজরত হাসান বসরি রাহ.’র জীবনী। এতে তাঁর ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা, সততা, জনপ্রিয়তা ইত্যাদি সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
    ভিন্ন একটা অধ্যায়ে হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের প্রণয়ন ও সংকলন প্রসঙ্গ এবং ইমামদের বৈশিষ্ট্য ও শিষ্যদের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পরের অধ্যায়ে ইমাম আহমদ রাহ.’র বিপ্লবী জীবন ও তাঁর নির্যাতিত হওয়ার বিষয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
    তখনকার ভ্রান্ত মুতাজিলা সম্প্রদায়ের ফিতনার বিরুদ্ধে যিনি লড়েছিলেন, সেই ইমাম আবুল হাসান আশআরির জীবনী আনা হয়েছে এর পরপরই। তারপর আকিদার আরেক ইমাম আবু মানসুর মাতুরিদির প্রসঙ্গে কিছু কথা তুলে ধরা হয়েছে।
    বিশিষ্ট দার্শনিক ইমাম গাজালির জীবনী ও তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে পরের অধ্যায়ে। বড়পির আবদুল কাদির জিলানি রাহ.’র জীবনী এসেছে নবম অধ্যায়ে।
    আল্লামা ইবনুল জাওজি ও হাদিসে তাঁর অবদান সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে দশম অধ্যায়ে। এরপরের অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে ক্রুসেড যুদ্ধ এবং দুই নায়ক নুরুদ্দিন জঙ্গি ও সালাহুদ্দিন আইয়ুবির জীবন নিয়ে। পরে শায়খুল ইসলাম ইজ্জুদ্দিন বিন আবদুস সালামের জীবনী বর্ণনা করে তাতারিদের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরা হয়েছে। মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি রাহ. ও তার জুহদ, চরিত্র, কাব্য, আধ্যাত্মিকতা ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করে এই খণ্ডের ইতি টানা হয়েছে।
    .
    দ্বিতীয় খণ্ডে যা যা আছে
    দ্বিতীয় খণ্ড পুরোটাই শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহ.’র জীবনী নিয়ে রচিত হয়েছে। মাত্র কয়েকটি মাসআলায় তাঁর ইজতেহাদি মতভিন্নতা থাকার কারণে তাঁকে অনেক হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, সরকারের জুলুমের শিকার হয়েছেন, মানুষের কাছে নিগৃহীত হয়েছেন— তবু আদর্শ থেকে টলেননি।
    ভিন্ন মত থাকা সত্ত্বেও হজরত আলি মিয়া নদবি রাহ. ইমাম ইবনে তাইমিয়ার জীবনী লিখে অনেক বড় উদারতার পরিচয় দিয়েছেন, যা অধিকাংশরাই পারেননি! আমাদের আলেম সমাজেরও অনেকে ইবনে তাইমিয়াকে ভালো নজরে দেখেন না। তাদের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য এই খণ্ডটি বড়ই কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
    এই খণ্ডে ইবনে তাইমিয়া রাহ.’র জীবনের বিভিন্ন দিক, দরস, তাতারিদের ইতিহাস, তাঁর লিখনীর বৈশিষ্ট্য, শিরক বিদআতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং রচনাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। সবশেষে তাঁর ছাত্র ও অনুসারীদের মধ্যে ইবনুল কায়্যিম জাওজিয়া, ইবনে আবদুল হাদি, ইবনে কাসির এবং ইবনে রজব রাহিমাহুমুল্লাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী আলোচনার মধ্য দিয়ে এই খণ্ড সমাপ্ত করা হয়েছে।
    .
    তৃতীয় খণ্ডে যা যা আছে
    তৃতীয় খণ্ডে উপমহাদেশীয় বেশ কজনের জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে খাজা মইনুদ্দিন চিশতি, কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকি ও ফরিদুদ্দিন গঞ্জে শকর রাহ.’র জীবনী প্রথম অধ্যায়ে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর খাজা নিজামুদ্দিন আওলিয়ার জীবনী বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর পরপরই শরফুদ্দিন ইয়াহইয়া মুনায়রি রাহ.’র জীবনী আলোচিত হয়েছে।
    .
    চতুর্থ খণ্ডে যা যা আছে_
    দশম শতাব্দিতে মুসলিম বিশ্বের অবস্থা ও বিভিন্ন মতবাদের আলোচনার মধ্য দিয়ে চতুর্থ খণ্ড শুরু হয়েছে। এই খণ্ডের তৃতীয় অধ্যায় থেকে শুরু হয়েছে মহান সংস্কারক মুজাদ্দিদে আলফে সানি রাহ.’র জীবনী। এখানে তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এবং সম্রাট আকবরের বিরুদ্ধে অবস্থান বেশ স্পষ্ট করে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়াও এই খণ্ডে তাঁর আধ্যাত্মিকতা, খলিফাবৃন্দ এবং ‘ওয়াহদাতুল উজিদ’ বিষয়ক মাসআলার আলোচনা প্রণিধান পেয়েছে।
    .
    পঞ্চম খণ্ডে যা যা আছে
    এই খণ্ড পুরোটাই হজরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবি রাহ.’র জীবনী নিয়ে রচিত হয়েছে। এখানে তাঁর সময়কার রাজনৈতিক অবস্থা, উসমানিয়া খেলাফতের বৈশিষ্ট্য এবং সমসাময়িক বিশ্বের অনেক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। শাহ সাহেবের পূর্বপুরুষ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদিও স্থান পেয়েছে এতে।
    ইসলামের জন্য শাহ সাহেবের খেদমত, হাদিসের প্রচার প্রসার, রচনাবলি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। সবশেষে তাঁর সন্তানাদি ও তাঁদের অবদান সম্পর্কে আলোচনা করে এই খণ্ডের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
    .
    ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ডে যা যা আছে
    এই দুই খণ্ডে দীর্ঘ পরিসরে হজরত আলি মিয়া নদবি রাহ. তাঁর পূর্বপুরুষ বালাকোটের অমর শহিদ সায়্যিদ আহমদ রাহ.’র জীবনী বর্ণনা করেছেন। এটা মূলত সিরাতে সায়্যিদ আহমদ শহিদ-ই, যা এই সিরিজের শেষ দুই খণ্ড হিসেবে সংযোজন করা হয়েছে।
    সায়্যিদ আহমদ শহিদ রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন হজরত আবুল হাসান আলি নদবির পঞ্চম উর্ধ্বতন পুরুষ। তিনি ছিলেন আমিরুল মুমিনিন ওয়াল মুজাহিদিন। এই দুই খণ্ডে তাঁর জীবনের নানা দিক ও আন্দোলন সংগ্রামের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে তাঁর দিল্লি সফর, লখনৌ সফর, রায়বেরেলিতে অবস্থান, সেখান থেকে মির্জাপুর, কলকাতায় এবং হেজাজে প্রবেশসহ আরো বেশকিছু ভ্রমণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
    তাঁর জিহাদ, জিহাদের উদ্দেশ্য ও কারণসমূহ, সীমান্ত প্রসঙ্গ এবং বিভিন্ন আক্রমণ ও যুদ্ধের চিত্র আঁকা হয়েছে এতে। বিভিন্ন রাজা ও জমিদারের সঙ্গে যুদ্ধ, আলোচনা এবং সন্ধি সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।
    সায়্যিদ আহমদ শহিদ রাহিমাহুল্লাহর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিক হল বালাকোটে ইংরেজদের বিরুদ্ধে জিহাদ। এখানে তাঁর বীরত্ব, বদান্যতা এবং সহিষ্ণুতা প্রভৃতি বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এভাবেই শেষ হয়েছে অসাধারণ এই সিরিজ।
    .
    পুরোটা সিরিজ একটি বিশাল চরিতাভিধান। যাতে স্থান পেয়েছে আকাবিরে উম্মতের শ্রেষ্ঠ কিছু মানুষের জীবনালেখ্য। তাই আকাবিরদের জীবনী জানতে ও তাঁদের মতো আল্লাহওয়ালা জীবন গড়তে সবারই সিরিজটি পড়া উচিত।
    আল্লাহ আমাদের আকাবিরদের সবাইকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং আমাদেরকে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার তাওফিক দিন, আমিন!
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    boss book
    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?