মেন্যু
dukher pore shukh

দুঃখের পরে সুখ

অনুবাদ: মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-মাসউদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬০

মুহাম্মাদ ইবনু আমর থেকে বর্ণিত, আম্বাসা ইবনু সাঈদ বলেন, আমরা উমর ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে তাকে বিদায় জানাতে গেলাম। বিদায় জানিয়ে যখন চলে আসছি তখন তিনি দুইবার ‘আম্বাসা’ বলে ডাক দিলেন। আমি ফিরে আবার তাঁর কাছে গেলে তিনি আমাকে বললেন, ‘বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করবে। কারণ, তুমি যত সুখেই থাকো না কেন, মৃত্যুর স্মরণ তোমার ভেতর দুঃখের আবেশ জাগাবে। এমনিভাবে তুমি যত দুঃখেই থাকো না কেন, তা তোমার ভেতর সুখের আবেশ জাগাবে।'

দুঃখকে আমরা সবাই অপছন্দ করি, সুখই আমরা কামনা করি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে দুখ আসেই সুখকে আনন্দময় করতে। যে জীবনে দুঃখ বলে কিছু নেই, সেই জীবনের সুখের কোনো স্বাদ নেই। বিতৃষ্ণার।

দুখে ভরা এই পৃথিবীতে কীভাবে আপনি সুখের সাথে পার করে দিতে পারবেন, হাজারোর প্রেসারর মাঝে কীভাবে আপনি বিনম্রচিত্তে দুনিয়াটা কাটাবেন, সেই দিকনির্দেশনা পূর্ববর্তীদের জীবনী থেকে সংকলন করা হয়েছে বক্ষ্যমাণ বইটিতে।

অনুবাদকের কলাম থেকে:

এটি ইবনু আবিদ দুনইয়া রাহ. এর 'আল-ফারাজু বা'দাশ শিদ্দাহ' গ্রন্থের অনুবাদ। জালালুদ্দীন সুয়ুতী রাহ. এই বইটির সংক্ষেপণ করেন এবং তার সাথে নিজের পক্ষ থেকে আরও বেশ কিছু বর্ণনা যুক্ত করে 'আল-আরাজ' নামে একটি গ্রন্থ লেখেন। তো আমি অনুবাদে যেসব পিডিএফ থেকে সাহায্য নিয়েছি তার একটাতে সুয়ুতী রাহ. এর সংক্ষেপিত বইটিতে যেসব বর্ণনা অতিরিক্ত ছিলো সেগুলো আলাদাভাবে পরিশিষ্ট আকারে প্রদান করা হয়েছে। আমিও এই বইতে পরিশিষ্ট-১ হিসেবে সেখান থেকে কবিতা ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাগুলো এনেছি।
পরিশিষ্ট-২ তে দুঃখ-দুশ্চিন্তা দূর করা বিষয়ক হাদীসে যেসব দুআ বর্ণিত হয়েছে সেগুলো সংকলিত করেছি। যাতে কেউ আমল করতে চাইলে সহজে তা আমল করতে পারেন।

 

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - দুঃখের পরে সুখ

4.0
Based on 2 reviews
5 star
0%
4 star
100%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    সাধারণ মোটিভেশনাল বইগুলোতে কী থাকে?দুঃখ-যন্ত্রণা-হতাশা থেকে উঠে দাঁড়াও..আবার দৌঁড়াও লক্ষ্যের পিছে.. ব্যার্থতা থেকেই সাফল্যের বীজ জন্ম নিবে,প্রতিযোগিতায় তোমাকে টিকে থাকতেই হবে…।বইগুলো হয়ত পজিটিভ হতে সাহায্য করে,কিন্তু দুনিয়াবী সাফল্যের এবং চাহিদার কি কোন শেষ আছে?!তাছাড়া হৃদয়ের ব্যাথা কতটুই বা দূর হয়,হৃদয়ের মালিকের সাহায্য ছাড়া?

    পড়ছিলাম “দুখের পরে সুখ” বইটি।নিরবিচ্ছিন্ন সুখ কিংবা দুঃখ কোনটাই এ জীবনে সম্ভব নয়।মু’মীনের জীবনে হতাশা,কষ্ট,গ্লানী আসবেই।এটা ঈমানী দুর্বলতা নয়,সহজাত প্রবৃত্তি।দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি দুঃখ-যন্ত্রণায় আক্রান্ত হয়েছিলেন নবী রাসূলগণ।হতাশা তাদের জীবনেও ছিল।সেই হতাশার মুহুর্তগুলোতে তারা দুয়া করেছেন..চমৎকার সব দু’য়া..তাঁরা তাদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতেন দুয়ার মাধ্যমে।আল্লাহর সাহায্য অবধারিত হয়ে যায়,এমন সব দু’আর সংমিশ্রণ আছে বইটিতে।কষ্ট মানুষের জীবনে থাকবেই,কিন্তু এই কষ্ট গুলো হালকা করা যায় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে।যতবেশি রব্বের নাম,সীফাত-গুণাবলী জানা যাবে,আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাহকে চেনার চেষ্টা করা হবে..দুঃখ গুলো ততই কমে আসবে।

    রাসূল(স)বলেছেন,”আল্লাহির কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো।কারন তিনি স্বীয় অনুগ্রহ প্রার্থনা করাকে ভালবাসেন।আর সবচেয়ে উত্তম ইবাদাত হলো বিপদমুক্তির প্রতীক্ষা করা।”

    “যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে,আল্লাহ তার জন্য নিষ্কৃতির পথ করে দিবেন।”

    “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” হলো নিরানব্বইটি রোগের ওষুধ,যার সবচেয়ে সাধারণটা হলো দুশ্চিন্তা।”

    “কষ্টের মুহুর্তগুলো পাপরাশিকে বিদূরিত করে”।

    ” বেশি দুশ্চিন্তা করো না ভাগ্যে যা আছে তা হবেই।তোমার জন্য যে রিযিক বরাদ্দ তা পাবেই।”

    রাসূল(স)সাহাবীদের শিখিয়ে দিচ্ছিলেন,সব বালা মুসীবত থেকে মুক্তির দু’আ হলো মাছওয়ালা তথা ইউনুস(আ)এর দুয়া।তিনি বলেছিলেন,
    “হে আল্লাহ,তুমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই।তুমি মহান।নিশ্চয়ই আমি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত।

    ” বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করবে।কারন তুমি যত সুখেই থাকো না কেন মৃত্যুর স্মরণ তোমার ভেতর দুঃখের আবেশ জাগাবে।এমনিভাবে তুমি যত দুঃখেই থাকো না কেন,তা তোমার ভেতর সুখের আবেশ জাগাবে”(ওমর ইবিনু আব্দুল আযীয)

    এমনই সব প্রশান্তিকর দু’আ ও কথামালায় সাজানো হয়েছে বইটি। রাসূল(স) এর দু’আ,সাহাবী-সালেহীনদের দু’আর মাধ্যমে আল্লাহর অলৌকিক সাহায্যের গল্পগুলোও আছে এতে।ভরাক্রান্ত হৃদয়ের যে কোন মানুষের অন্তর শীতল হবে বইটা পাঠে।মু’মীনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র দু’আ।অস্ত্র হাতে থাকলে আর ভয় কী!দুশ্চিন্তাই বা কী!বইটি পাঠের মাধ্যমে অস্ত্রের মজুদ আরো সমৃদ্ধ হবে।ইন শা আল্লাহ।

    ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া রাহ. এর আল-ফারাজু বা’দাশ শিদ্দাহ গ্রন্থের অনুবাদ হলো এ বই। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রাহ. তা সংক্ষিপ্ত করে নিজের পক্ষ থেকে আরও কিছু সংযোজন করেন যা বইটিকে আরো বেশি সুখপাঠ্য করেছে।

    বইয়ের প্রচ্ছদ খুব সুন্দর।বেদনার মাঝে আনন্দ টাইপ অনুভূতি হয়।আর বইয়ের পাতাগুলো থেকে অদ্ভূত মিষ্টি একটা ঘ্রাণ আসে।সিরিয়াসলি,কি মেশানো হয়েছে?!

    4 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 4 out of 5

    :

    ?️ সুখ-দুঃখ দু’টি বিপরীত শব্দ। দুঃখ আছে বলেই কিন্তু আমরা সুখের প্রকৃত মর্ম বুঝি। দুঃখ আছে বলেই আমরা সুখের দিনের স্মৃতিগুলো খুব ভালোভাবেই অনুভব করতে পারি। দুঃখের ভেতর দিয়ে আমরা যখন জীবন অতিবাহিত করি তখন আমরা উপলদ্ধি করতে পারি সুখের দিনের আসল মর্যাদা।
    দুঃখের ভেতর আমরা কে নেই? পৃথিবীর সবচে ধনী লোকটা থেকে শুরু করে সবচে রিক্তহস্ত মানুষটাও কোন না কোন দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত। কেউ বেশী কেউ কম এই যা। তবে আশার কথা হলো, এই দুঃখের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে সুখ। দুঃখ চলে গেলেই ঘটে লুকিয়ে থাকা সুখের আগমন।
    ?পবিএ কুরআনে বলা হয়েছে—
    “নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে”
    [আল-কুরআন=৯৪:০৬]

    ? দুঃখের সময়গুলোতে আমাদের উচিত আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার কাছে বেশী বেশী দু’আ ও ইস্তেগফার করা। কেননা, সকল বিপদ-আপদ থেকে একমাএ উদ্ধারকারী হলেন-আল্লাহ তায়ালা। তিনি না চাইলেই আমাদের বিপদ কখনো কাটবে না। তাই বিপদের দিনগুলোতে আমাদের একমাএ মুক্তির পথ হলো রবে’র কাছে কায়মনো বাক্যে প্রার্থনা করা বিপদ মুক্তির জন্য দু’আ করে যাওয়া। সেই সত্যিকারের সুখী যে দুঃখের দিনগুলোতে সবর করে যায়। দুঃখের দিনগুলোতে যে আল্লাহ্‌ তা’আলার উপর ভরসা করে কাটিয়ে দেয়। মহান রব তাকে সীমাহীন সুখের দার প্রান্তে পৌঁছে দেন।

    আমরা অনেকে বিপদে পড়লে হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু আমাদের এমনটি করা অনুচিত। ধৈর্যধারকারীদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা পবিএ কুরআনে বিরাট পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন।

    মহান রব আরোও বলেছেন—
    তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।

    সুখ, দুঃখ সর্ব অবস্থাতেই আমাদের উচিত আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আনহুকে স্বরণ করা তাঁরই কাছে প্রার্থনা করা। আমরা যদি সুখের দিনে আল্লাহ’কে না ভুলি তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আনহু কিভাবে আমাদের দুঃখের দিনগুলোতে ভুলে থাকবেন?!?

    আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আমরা যদি মহান রবে’র কাছে কাকুতি-মিনতি করে কিছু চাই আমাদের রব সেই বান্দার চাওয়া ফিরিয়ে দিতে পারেন না।
    মহান রব তাঁর প্রত্যেক বান্দা/বান্দিদের অত্যন্ত ভালোবাসেন। বালা-মুসিবত দিয়ে তিনি কেবল তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। বিপদের সময়গুলোতে যে সবর করে সেই সৌভাগ্যবান।

    ? আবিদ দুনইয়া রাহিমাহুল্লাহ রচিত আল-ফারাজু বা’দাশ শিদ্দাহ নামক পুস্তিকার ভাষান্তরিত রূপ হলো-দুখের পরে সুখ বইটি।

    বইটি- ‘অল্প রিযিকে সন্তুষ্ট থাকলে আল্লাহ অল্প আমলে সন্তুষ্ট থাকেন’ শিরোনাম দিয়ে শুরু হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে—
    আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
    “আল্লাহর পক্ষ থেকে বিপদমুক্তির প্রতীক্ষা করাও একধরনের ইবাদাত। যে ব্যাক্তি রিযিকে সন্তুষ্ট থাকবে, আল্লাহ তাআলাও তার অল্প আমলে সন্তুষ্ট থাকবেন।“

    এরপর আছে- ‘উওম ইবাদাত হলো বিপদমুক্তির প্রতীক্ষা করা’
    আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লা্হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
    “আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো। কারণ, তিনি স্বীয় অনুগ্রহ প্রার্থনা করাকে ভালোবাসেন। আর সবচেয়ে উওম ইবাদাত হলো বিপদমুক্তির প্রতীক্ষা করা।“

    ? পরের পৃষ্ঠাতে যখন গেলাম মনে হলো কথাগুলো আমার জন্যই। এই পেইজের শিরোনাম গুলো হলো—
    ❄️ ধৈর্যধারণ সর্বাধিক উওম দান।
    ❄️ আল্লাহকে ভয় করা বিপদ-আপদ থেকে নিস্কৃতি লাভের উপায়।
    ❄️ আল্লাহ গুণাহ ক্ষমা করেন।
    এভাবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিরোনাম আকারে বইটি সাজানো হয়েছে ৩৫ পৃষ্ঠা অবধি।
    পরের পৃষ্ঠা থেকে বিপদে পতিত হলে নবী-রাসূলগণের শেখানো বিভিন্ন দু’আ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ধাপে ধাপে।

    ? এরপরের অংশে সাহাবীদের সময়কার বিভিন্ন ঘটনার ও দু’আর বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
    পরবর্তীতে রয়েছে- অনুবাদকৃত বিভিন্ন পঙক্তি যা বিভিন্ন ঘটনা ক্রমানুসারে বর্ণিত হয়েছে। আমি কিছু উল্লেখ করছি যার একটি বইটির ৮০ পৃষ্ঠাতে বিদ্যমান রয়েছে। যার শিরোনাম হলো-
    ‘বিপদ কখনো বহাল থাকে না’- একজন কুরাইশী ব্যাক্তি বলেছেন—
    এই যে দেখো তোমার রবের
    নতুন পুরান নিয়ামতের
    হিসাব করা দুষ্করই তো,
    চিন্তা থেকে হাত গুটিয়ে
    অনেক দূরে বসে থাকো।

    তোমার এসব বিপদ-আপদ
    থাকবে না আর আপন স্থানে,
    আশা করি আল্লাহ মহান
    এসব বিষয় সবই জানে।

    এরই পরে তোমার প্রতি
    দেবেন তিনি দয়ার নজর,
    দুঃখের তিমির চলে গিয়ে
    আসবে নতুন দিনের ফজর।

    বইয়ের প্রতিটি কবিতাই হৃদয়কে স্পর্শ করে যায়। এত সুন্দর শব্দের গাথুনি দিয়ে কবিতাগুলো লেখা যে পড়লে আবার পড়তে মন চাইবে। কবিতাগুলো শুষ্ক হৃদয়ে আশা জাগানিয়া স্বরূপ।

    ? বইটির পরবর্তী অংশটুকু ২ ভাগে বিভক্ত। পরিশিষ্ট-১ এবং পরিশিষ্ট-২ নামে।

    ? পরিশিষ্ট-১ এ ইবনু আবিদ দুনইয়া রাহিমাহুল্লাহ (২৮১ হি.) রচিত আলফারাজু বা’দাশ শিদ্দাহ বইটিকে সংক্ষেপ করে ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতী রাহিমাহুল্লাহ (৯১১ হি.) রচনা করেন আলআরাজু ফিল ফারাজি।
    এতে তিনি নিজের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কিতাব থেকে চয়ন করে আরও কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা সংযোজন করেন। যেসব বর্ণনা সুয়ুতী রাহিমাহুল্লাহ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন সেগুলো এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।
    এ অংশতে বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা আলোচনা করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলো থেকে আমাদের শিক্ষণীয় এবং জানার অনেক কিছু রয়েছে। আল্লাহ তায়ালার কাছে কিছু চেয়ে কেউ নিরাশ হন না। এমনই একটি ঘটনা উল্লেখ করছি—
    বইয়ের ১০২ নাম্বার পৃষ্ঠাতে এ ঘটনাটি রয়েছে।
    ‘চিলের সাহায্য নিয়ে আগমন করা’—
    ইমাম বাইহাকি রাহিমাহুল্লাহ তাঁর ফাযায়েলুল আমাল গ্রন্হে হাম্মাদ ইবনু সালামাহ’র সূএে বর্ণনা করেছেন, স্বীয় যামানার ক্বারীদের শায়খ আসিম ইবনু আবূ ইসহাক বলেছেন, ‘একবার আমি অভাবে পড়ে আমার এক ভাইয়ের গিয়ে নিজের অবস্থার কথা খুলে বললাম। দেখলাম তার চেহারায় অবজ্ঞার ভাব ফুটে উঠেছে। আমি তার ঘর থেকে বের হয়ে একটি নির্জন স্থানে চলে গেলাম এবং সালাত আদায় করে মাটিতে কপাল রেখে বললাম—
    “হে সকল উপকরণের উদ্ভবকারী, হে দরজাসমূহ উন্মুক্তকারী, হে আওয়াজসমূহ শ্রবণকারী, হে দুআসমূহ কবুলকারী, হে প্রয়োজনসমূহ পূরণকারী, আমার প্রয়োজন পূরণ করো এবং তোমার দয়ায় আমাকে তুমি ছাড়া অন্যদের থেকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।“
    দুআটা শেষ করে মাথা উঠাতেই একটি আওয়াজ শুনলাম। তাকিয়ে দেখি একটি চিল লাল একটি থলে ছুড়ে দিয়েছে। আমি থলেটি নিলাম। তাতে আশিটি স্বর্ণমুদ্রা এবং কাপড়ে জড়ানো কিছু মুক্তো ছিল। আমি মুক্তোগুলো বেশ ভালো দামেই বিক্রি করলাম। স্বর্ণমুদ্রাগুলো অতিরিক্ত রয়ে গেল। তারপর অর্জিত টাকা দিয়ে একটি জমি ক্রয় করলাম এবং আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করলাম।

    ▪️এছাড়াও আরো ঘটনাগুলো হলো—
    ? মুক্তির চাবিকাঠি সন্ধান প্রদান।
    ? আলা ইবনু হাদরামী রা.-এর বিপদমুক্তির দুআ।
    ? ভালো কাজ করলে বিপদে তার ফল পাওয়া যায়।
    ? আয়িশা রা.-এর স্বপ্নে পাওয়া দুআ।
    ? পাখির থেকে দুআ শিক্ষা।
    ? হাজ্জাজের কারাগার থেকে মুক্তি।
    ? দুদর্শার সময়ে ইস্তিগফার করা।
    ? হাসান রা.-এর ভাতা ফিরে পাওয়া।
    ? পাঁচ আয়াতের বরকত।
    আমি কয়েকটি উল্লেখ করলাম বইটি পড়লে আরোও অনেক আশ্চর্য ও অবাক করা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    ? পরিশিষ্ট-২ (শেষ অংশ) এ বিপদ-মুসিবত ও দুঃখ-দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির বিষয়ে হাদীসের বর্ণিত বিভিন্ন দুআ এই অংশে আলাদাভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে করে পাঠকেরা চাইলে মাসনুন দুআর ওপর সহজেই আমল করতে পারেন। দু’য়া গুলো খুবই উপকারী।
    আমি দুআ গুলোর শিরোনাম উল্লেখ করছি—
    ? বিপদে আক্রান্ত হলে গুণাহ মাফ হয়।
    ? জিবরীল আলাইহিসসালাম-এর শেখানো দুআ।
    ? নিরানব্বইটি রোগের ওষুধ।
    ? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদের সময় যে দুআ পড়তেন।
    ? বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দুআ।
    ? দুশ্চিন্তা দূর করার দুআ।
    ? যে দুআ পড়লে কোনো কিছু ক্ষতি করতে পারবে না।
    ? ব্যথা দূর করার দুআ।
    সহ আরোও বিভিন্ন দুআ ও আমল বইটি পড়লে জানতে পারবেন।

    ? এই বইটির আরোও একটি বিষয় রয়েছে-যা হলো ব্যক্তিসূচি নামে ৪ পেইজ জুড়ে একটি চার্ট দেয়া আছে বইটির শেষ দিকে। এর মাধ্যমে আপনি যে ব্যক্তি সম্পর্কে জানতে চাইছেন- বইটির কত কত পৃষ্ঠাতে তাঁর নাম আছে তা সহজেই বের করতে পারবেন।

    ❄️ বইটির প্রচ্ছদ, ডিজাইন, বাইন্ডিং মাশা’আল্লাহ খুবই চমতকার। বইয়ের নাম শুনেই এবং প্রচ্ছদ দেখেই আপনার পড়ার প্রতি আগ্রহ কাজ করবে।

    ⏳ পরিশেষে,
    মাএ ১৫৮ পৃষ্ঠার এ বইটি পড়ে আপনি অজানা ঘটনা, দুআ এবং আরও অনেক বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। বইটি হতাশা হৃদয়ে আশার আলো জাগাতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।
    সত্যি বলতে কি – দুনিয়া আমাদের কিছুই দিতে পারেনা হতাশা, অসুস্থ প্রতিযোগিতা আর ব্যর্থতা ছাড়া। আমাদের আসল সুখ মহান রবের পানে ছুটে চলা। দুখের সময় সবর করে সুখের সময় শোকর করা। শুধু মহান রবের কাছেই চেয়ে যাওয়া। আর মনে রাখা রাত পোহালেই প্রভাতের দেখা মিলবেই।
    মহান রবের উপর ভরসা করে দুঃখের দিন গুলোতে সবর করে যান। দেখবেন মহান রব আপনাকে এমন সুখের সন্ধান দিবেন যা আপনার কল্পনার বাইরে।

    আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু আমাদের সকলকে দুঃখের দিনগুলোতে সবর করে যাওয়ার এবং সুখের দিনগুলোতে তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার তোওফিক দান করুন।
    আমিন ।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No