মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ডাবল স্ট্যান্ডার্ড

কিছু লোক ইসলামকে সে শত্রু হিসেবে নিয়েছে বিভিন্ন কারণে। তাদের কাজই হল ইসলামের খুঁত খুঁজে বের করে প্রচার করা। খুঁজতে গিয়ে তারা পেয়ে যায় পশ্চিমা ঐতিহাসিকদের কিছু প্রলাপ, টেপ রেকর্ডার। ইসলামের দিকে তাক করে বাঁধা কয়েকটা প্রশ্ন। এর ভিতরেই প্রশ্নগুলোর ঘুরপাক, অপলাপ ও প্রোপাগান্ডা। যেগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে আমরা হয়তো কখনো-সখনো হিমশিম খেয়েছি। কখনো আসতাগফিরুল্লাহ বলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছি। এ বইটি হল সেই আপত্তিগুলোর ধারাবাহিক জবাব। ‘যুক্তির জবাব যুক্তি’ এর আদলে গল্পের ভাষায় কথাগুলো উপস্থাপিত হয়েছে।
'
বইটি পড়লে আপনি এ কথার সঙ্গে একমত হবেন যে, শরীয়তের হুকুমের কল্যাণ বুঝা সম্ভব। অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও বাকস্বাধীনতার নষ্টামির এ যুগে এমন কিছু ভাবনার সংকলন দরকার যা ইসলামের ওপর আপতিত সমকালীন অভিযোগগুলোর জবাব দেবে। এ বইটি তেমনই একটি বই। গল্পের ভাষায় রচিত এই সংকলনটি আমাদের সংগ্রহে থাকার উপযুক্ত বই।
'
বইয়ের ভেতরে রয়েছে-
১. না দেখে বিশ্বাস : মানবজন্মের সার্থকতা
২. দাসপ্রথা : ঐশী বিধানের সৌন্দর্য
৩. দক্ষিণ হস্ত মালিকানা : একটি নারীবাদী বিধান
৪. আরব সংস্কৃতি মানবো কেন?
৫. সমাধান কি মানবধর্মেই?
৬. বনু কুরাইজা ও বাংলাদেশ দণ্ডবিধি
৭. শ্রেণীবৈষম্যহীন সমাজঃ ওদের স্বপ্ন, আমাদের অর্জন
৮. শস্যক্ষেত্র ও নারী : সম্পত্তি, না সম্পদ?
৯. পরিপূর্ণ দাড়িঃ জঙ্গল, নাকি ছায়াবীথি?
১০. জিযিয়া :অমুসলিম নাগরিকের দায়মুক্তি
১১. বিজ্ঞান কল্পকাহিনী : শাশ্বত একত্ব (Eternal Oneness)
'
১১ টি ছোটগল্প।চিত্রকল্পে এগিয়ে যাবে কাহিনী।প্রতি বাক্যে থাকছে রেফারেন্স। সংগ্রহে রাখা এবং উপহার দেবার মত একটি বই।

পরিমাণ

170.00  340.00 (50% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

8 রিভিউ এবং রেটিং - ডাবল স্ট্যান্ডার্ড

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    ▶ বর্তমান সময়ের অন্যতম একটি সামাজিক ব্যাধি হলো–নাস্তিকতা।অবাধ তথ্য প্রবাহ ও বাক-স্বাধীনতার ফলে,অন্যান্য সামাজিক ব্যাধির মতো এর প্রভাব দিনকে-দিন বেড়েই চলছে।পর্যাপ্ত ধর্মীয় জ্ঞান ও সুষ্ঠু চর্চার অভাবে, ফেতনা- ফাসাদের এই যুগে,এমনিতেই মুসলিমদের ইমানের দুর্বিষহ অবস্থা। তারউপর, নাস্তিকদের ইসলামের কিছু নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে আক্রমণ, ক্রমেই মুসলিম-অমুসলিম সকলের মনে ইসলাম সম্পর্কে ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি করছে।ফলস্বরুপ,সংশয়ের আড়ালে কখন যে মনে নাস্তিকতার বীজ গেথে যায় টেরই পাই না। তাই, নাস্তিকদের এসব ইসলাম-বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের মূল উৎপাটন এখন সময়ের দাবি। আর,নাস্তিকদের কিছু ভুল ধারণা ও অপব্যাখ্যা এবং তার উপযুক্ত জবাব নিয়ে রচিত বই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’।নাস্তিকদের ‘যুক্তির বদলে যুক্তি’ ও প্রমাণ্য তথ্যের আলোকে সময়োপযোগী অসাধারণ একটি বই এটি।এছাড়া, বইয়ের প্রায় প্রতিটি লাইনে রেফারেন্স, পাঠকের নিকট বইটির গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করেছে।

    ▶বইটির বিশেষত্ব : বইটি পড়তে গিয়ে, প্রথম দিকে এর গঠন ও মূলধারা ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ১ ও ২’ এর মতো মনে হলেও,ক্রমাগত, লেখকের সহজ-সাবলীল লেখনীর মাধ্যমে দেয়া নাস্তিকদের ‘প্রশ্নের পর প্রশ্নের’ উত্তর ও অবাধ জ্ঞানের প্রবাহ বইটিকে আপনার নিকট অনন্য করে তুলবে।ফলাফল– এক বৈঠকেই পড়া শেষ। নাস্তিকদের একটি অন্যতম স্বভাব হল–তারা পৃথিবীর অন্য সব ধর্ম ও সংস্কৃতিকে এবং ইসলামকে আলাদা স্ট্যান্ডার্ড দিয়ে বিচার করে। লেখক বইয়ের প্রায় প্রতিটি গল্পের শেষে নাস্তিকদের এই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নীতিকে তুলে ধরেছেন,যা বইটির নামকে আরো তাৎপর্যবহ করে তোলে।

    ▶ পাঠ্যনুভূতি : প্রমাণ্য তথ্য ও অকাট্য যুক্তির সমাবেশে বইয়ের প্রতিটি গল্পই অসাধারণ।প্রতিটি গল্পের বৈশিষ্ট্যই এমন যে, গল্পের শেষ পর্যন্ত পাঠকের মমনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম।চোখ-ধাধাঁনো অসংখ্য রেফারেন্স উপস্থিত থাকায়, বইটিকে ছোটখাটো জ্ঞানকোষ বলা যেতে পারে।বইয়ের ‘বিজ্ঞান কল্পকাহিনি:শ্বাশত একত্ব’ শিরোনামে গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। গল্পটিতে সায়েন্সফিকশন গল্পের আদলে লেখক যেভাবে তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদকে ব্যাখ্যা করেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলেরই বইটি পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_জুন_২০২০

    ❀[[ বুক রিভিউ ]]❀
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইয়ের নামঃ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড
    লেখকঃ ড. শামসুল আরেফীন
    প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল আযহার
    বিষয়ঃ অন্ধকার থেকে আলোতে
    পৃষ্টাঃ ১৬০
    বিনিময় মূল্যঃ ১৭০ টাকা(৫০%ছাড়ে)
    ∎ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
    আল্লাহ তা’আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীতে পাঠয়েছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য।মানুষকে দান করেছেন উত্তম জ্ঞান, বিবেচনাশক্তি,যার দ্বারা মানুষ স্রষ্টাকে চিনতে পারেন,তার ইবাদাতে মশগুল থাকেন। বর্তমান যুগে তরুনদের মধ্যে এক প্রকার সংশয়ের বীজ তৈরী হয়েছে,তারা আল্লাহ ইবাদাতকে মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়া কোনো বস্তু মনে করেন,নিশ্চয়ই তারা পরকাল সম্বন্ধে উদাসীন।তারা স্রষ্টার অস্তিত্বকে অস্বীকার করে নিজেদের ইচ্ছামতো চলেন এবং ধর্মের ভুল খুঁজে বেড়ান।বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে তারা প্রমান করতে চায় যে,’সৃষ্টিকর্তা নেই’।তারা মানুষকে সৃষ্টিকর্তার দাসত্ব থেকে মুক্ত করে নাস্তিকতার দিকে আহ্বান করে,অবশেষে নিজেদেরকে পরিচয় দেয় নাস্তিক নামে।
    ∎ সাজিদ সিরিজ পড়ে তরুনরা সাজিদের মতো বই আরো বেশি বেশি খুঁজেছেন, তাদের জন্য পরিপূরক হিসেবে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ একটা চমৎকার বই।
    ∎ আমি নিজেই কিছু প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিত খুঁজছিলাম, সেই উত্তরগুলো চমৎকার এবং সহজবোধ্যভাবে পেলাম এই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বইয়ে।
    ♦ বিশ্লেষনঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ∎ বইটার প্রচ্ছদ (কাভার পেইজ) এর মানে টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ – একটি চশমার ছবি। বাম সাইডের ফ্রেমটা ভাঙা। যা বাম তথা নাস্তিকদের নির্দেশ করে। যে ফ্রেম দ্বারা নাস্তিকরা দুনিয়াকে, ধর্মকে দেখতো – সে ফ্রেমকে লেখক ভেঙে দিয়েছেন।
    ∎ বইয়ের বিষয়বস্তুগুলো (কন্টেন্ট) আপনার মন জয় করবে । বইটি মোট ১১ টি (এগারটি) গল্প দিয়ে সাজানো।প্রতিটি গল্পের উপস্থাপনই যেনো সংশয়ের বিরুদ্ধে একেকটি ধারালো তরবারি।
    ∎ প্রতিটি গল্পই আলাদা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ বড় রিভিউর দাবি রাখে।চেষ্টা করছি ধারনা দেওয়ার-
    ♦ ১) না দেখে বিশ্বাস- মানবজন্মের সার্থকতাঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ∎নাস্তিকদের একটি কমন প্রশ্ন হলো- “স্রষ্টা যে আছেন তার প্রমান কি?
    নাস্তিকদের এই অবিশ্বাসের জালকে কচুকাটা করেছেন লেখক এই গল্পে,যা ভেঙে দেবে স্রষ্টায় অবিশ্বাসীদের সন্দেহের কঠিন প্রাচীর।
    ∎কোরআনুল কারীমে আছে – ‘আল্লাযীনা ইউ’মিনুনা বিল গায়েবী’ – এরা তো তারাই, যারা না দেখে বিশ্বাস করে।
    স্রষ্টার অস্তিত্ব আমরা আমাদের চারপাশে প্রকৃতির দিকে তাকালেই তো বুঝতে পারি,”কোথায় নেই তিনি? তিনি যে নেই তার কোনো প্রমান আছে?”এ জন্য মোটা মোটা বই পড়ার দরকার নেই,বিচক্ষণতা দিয়েই ভাগ্যবানরা খুজে নেয় সৃষ্টিকর্তা মহান রব্বুল আলামীন কে।
    ∎ধোয়া এবং আগুনের চমৎকার একটি উদাহরণ লেখক ব্যবহার করেছেন স্রষ্টাকে না দেখে বিশ্বাস প্রসঙ্গে। এছাড়াও বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে সৃষ্টাকে খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম এই অংশে দেখানো হয়েছে। আশা করি, অবিশ্বাসীর সংশয় দূর হবে।
    ♦ ২) দাসপ্রথাঃ ঐশী বিধানের সৌন্দর্য্য –
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ∎নাস্তিকদের আরো একটি চুলকানিমূলক প্রশ্ন হলো,”ইসলাম কেনো দাসপ্রথা সমর্থন করে?”আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়টা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আমি সঠিক উত্তর পেয়েছি।
    ∎নবীজী হযরত মুহম্মদ (সঃ) এর সময়ে যুদ্ধেপরাজিত,যুদ্ধে বন্দি সৈন্যদের জেলে বন্দী না করে তাদেরকে কৃষিকাজে অংশগ্রহণ,ভরণপোষণ,বিয়েশাদীর ব্যাবস্থা করা এবং মুসলমানদের জীবনযাপনে মুগ্ধ হয়ে তারা যেনো ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন,পরকালের কঠিন শাস্তি থেকে বেঁচে যায়।
    ∎ ইসলামধর্মে বলা হয়েছে-
    মনিব যা খাবে-যেই পোষাক পরবে,দাসও তাই খাবে,তাই পরবে।দাসকে “আমার বালক/আমার খাদিম” বলে সম্বোধন করতে হবে। প্রতিদিন একজন দাসের ৭০ টি ভুল ক্ষমা করতে বলেছেন।
    ∎তখনকার সময়ে ঐসকল দাসেরা পড়াশুনায়ও অনেক উন্নতি করেছিলেন। ইকরিমা (রহঃ) নামের এক দাস “বাহরুল উম্মাহ”(জাতির বিদ্যাসাগর) উপাধি লাভ করেন।
    নবীজী(সঃ) বলেন,”যে নিজের দাসের সাথে দুর্ব্যবহার করবে,সে জান্নাতে যাবে না”।
    এইভাবে দাসত্বকে চিরতরে বিলীন করাই ইসলামের উদ্দেশ্য।
    ♦ ৩) দক্ষিন হস্ত মালিকানা-একটি নারীবাদী বিধানঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইয়ের অন্যতম সেরা এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুচ্ছেদ এটি।
    ইসলামে যুদ্ধেপরাজিত, বন্দী নারীদের দাসি হিসেবে গ্রহন করার ব্যাপারে কথা বলা হয়েছে।
    নাস্তিকদের এখানেও সমস্যা- কেনো সেসব নারীদের দাসি হিসেবে গ্রহন করতে হবে?
    ∎তাদেরকে ফিরিয়ে দিলে সদ্য যুদ্ধেপরাজিত একটা দেশে তারা না খেয়ে মরতো আর নাহলে অন্য দেশে গিয়ে পতিতাবৃত্তি করা ছাড়া তাদের হাতে কোনো উপায় থাকতো না। তাই তাদেরকে জেলে বন্দী না করে স্বাভাবিক জীবনযাপন দিতেই দাসী হিসেবে গ্রহন করা।আর অন্যায় করলেই দাসমুক্ত করার ব্যাবস্থা তো ছিলোই।
    ∎তাদেরকে মালিকানা ছাড়া স্পর্শও করা যেতো না এছাড়াও তাদের সুরক্ষায় ছিলো অনেক বিধান।তাদের ভরণপোষণ, বিয়ে শাদীর দায়িত্বও নিয়েছিলেন মুসলমানরা। যদি তাদেরকে ভোগ করাই ইচ্ছাই মূল কারন থাকতো তাহলে ধর্ষন করে হত্যা করলেই তো হতো।
    ♦ ৪) শষ্যক্ষেত্রঃ সম্পত্তি না সম্পদ?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    কুরআনে নারীদের শষ্যক্ষেত্র বলা হয়েছে-এ নিয়েও নাস্তিক এবং নারীবাদীদের সমস্যা।এর ব্যাখা আর তারা জানে না,বুঝতেও চায় না।
    ∎ক্ষেতের ফসল যেমন চাষীর ভবিষ্যতের পাথেয়।ঠিক তেমনি স্ত্রীর গর্ভজাত সন্তানই পুরুষের বৃদ্ধবয়সের অবলম্বন।
    ∎চাষী যেমন শষ্যক্ষেত্রের যত্ন নেয়,সেচ দেয়,সারাদিন ক্ষেতেই ব্যয় করেন। স্বামীও তেমন স্ত্রীর যত্ন নেবেন,রোগশোকে পাশে থেকে যত্ন করবেন।
    ∎সবশেষে ওই জমিটুকুই চাষীর সম্বল, তার দুনিয়া,পরম নির্ভরতা ও আবেগের জায়গা।ঠিক তেমনি স্ত্রীও তার স্বামীর গর্বের ধন,তার আশ্রয়-সম্বল, স্ত্রী স্বামীর কাছে তার দুনিয়া,তার সবকিছু।
    ∎ইসলামই প্রথম নারীর অধিকার নিশ্চিত করেছে।
    আশা করি উত্তর পেয়ে গেছেন।
    ♦ ৫)জিযিয়াঃ অমুসলিম নাগরিকের দায়মুক্তি –
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    আরব দেশগুলোতে নাকি অমুসলিদের উপরে মোটা ভ্যাট চাপিয়ে দেয়া হয়,এমনটাও নাস্তিকরা বলে থাকেন।একটু ক্লিয়ার করা যাক-
    ∎আরব রাষ্ট্রগুলোতে মুসলমান সবল নাগরিকদের একটি নির্দিষ্ট সময় মিলিটারি সার্ভিসে কর্মরত থাকতে হয়,দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার খাতিরে।অমুসলিমদেরও যাওয়া বাধ্যতামূলক, না গেলে জরিমানা করা হয়(গরীব অমুসলিমরা মাসিক ১৪৬ টাকা এবং ধনীরা মাসিক ৫৮৬ টাকা)।এছাড়া কোনোপ্রকার রাজস্ব বা ব্যবসায়ী ভ্যাট অমুসলিদের থেকে নেয়া হয় না।
    ∎অন্যদিকে,মুসলমানরা ভারি টাকা রাজস্ব দেন,যাকাত দেন,মিলিটারি সার্ভিসে গিয়ে কেউ কেউ বরন করেন পঙ্গুত্ব।
    এবার ভেবে দেখুন ইসলাম কিভাবে অমুসলিমদেরও অধিকার এবং নিরাপত্তা রক্ষা করে।
    ♦ ৬) শ্রেনীবৈষম্যহীন সমাজঃ ওদের স্বপ্ন,আমাদের অর্জন-
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    সমাজতন্ত্র যে বৈষম্যহীন সমাজের কথা বলে,ইসলামি অর্থনীতি সেই সমাজ ইসলামি স্বর্ণযুগে অর্জন করে দেখিয়েছে। ইসলামি দর্শনের দূরদর্শিতা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ইসলামি যাকাত ব্যবস্থার ফলপ্রসূতা,এমনভাবে বন্টন যাতে পরবর্তীতে আর কারো যাকাতের দরকার না হয়,সম্পদ বন্টনসহ শ্রমিকদের নায্যমূল্য প্রাপ্তিতে ইসলাম কি কি অবদান রেখেছে সেই সব বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।ইসলামি অর্থনীতির শ্রেষ্ঠত্ব ও দারিদ্র দূরীকরণে এর কার্যকারিতা প্রমানে লেখক মুন্সিয়ানার ছাপ রেখেছেন।
    ♦ ৭) ইসলাম কি আরব সংস্কৃতি?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    অনেকেই ভাবেন ইসলাম হলো আরব সংস্কৃতি।কিন্তু না ইসলাম একটি সতন্ত্র সংস্কৃতি।
    ∎জোব্বা -বোরখা শুধু আরবরাই পরে না। ইহুদী র্যাবাই,চার্চের ফাদার,পোপদের সাদা গোল টুপি,যীশুর ছবিতে দাড়ি, জোব্বা,রেনেসার শিল্পকলাতে মাদার মেরীকেও হিযাব পরিহিত দেখা যায়। খৎনা ইহুদীরাও করে থাকেন।
    ∎২২ টা আরব দেশের সবার ভাষা নবীজীর সময় একই(আরবি) ছিলো না। মিশরে কপটিক, ফিলিস্তানে হিব্রু,সিরিয়ায় আরামায়িক ভাষা ছিলো।২৫ জন নবীর ৪ জন শুধু আরবের।
    ∎ ইসলাম এসে পুরো আরব সংস্কৃতির বর্বরতা,কন্যাসন্তান হত্যা,মূর্তিপূজা দূর করে এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, আরব সংস্কৃতিকে পুরোপুরি সংশোধন করে।তাই ইসলাম একটি সতন্ত্র সংস্কৃতি।
    ♦ ৮) সমাধান কি মানবধর্মেই?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    অনেকেই মনে করেন,এই পৃথিবীর সমস্ত যুদ্ধ-অশান্তি কেবল ধর্মের জন্যই।পৃথিবীতে সংঘটিত মোট ১৭৬৩ টি যুদ্ধের ১২৩ টি হয়েছে ধর্মের কারনে(মাত্র ৭% এবং ধর্মযুদ্ধে মৃতের সংখ্যা মোট যুদ্ধে মৃত্যুর মাত্র ২%)।
    ১ম বিশ্বযুদ্ধে ১৫ মিলিয়ন,২য় ৬০ মিলিয়ন কিংবা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ৩ মিলিয়ন মৃত্যু এসবের কারন কিন্তু ধর্ম নয়।
    ∎ধর্মকে পুজি করে অনেক খুন,ধর্ষন হয় মানলাম কিন্তু ধর্মকে বাদ দিয়েও তো পৃথিবীতে খুন,ধর্ষন,চাদাবাজি,মাদকব্যবসা,নারীপাচার কি বন্ধ হয়েছে? তাহলে ধর্মকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র মানবধর্ম প্রতিষ্ঠা করলেই কি সব অপরাধ বন্ধ হয়ে যাবে?
    ∎ ধর্মে তাদেরই সমস্যা যারা পাপাচারে, ব্যভিচারে, সমকামিতায় লিপ্ত,যাকাতের বিপক্ষে যারা চায় দরিদ্র মজুর চিরকালই দরিদ্র থাকুক,নিজেদের কার্য হাসিল করতেই মানুষ ইসলাম ধর্মকে দোষ দিয়ে নিজেদের মনগড়া মানবধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
    ধর্ম ন্যায়পরায়ণতা শেখায়, তাই ধর্মকে ১০০% মানলেই পৃথিবী হবে সুন্দর।
    ♦ ৯)বনু কুরাইযার মৃত্যুদন্ড ও বাংলাদেশের দণ্ডবিধিঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    নাস্তিকরা অভিযোগ করেন মুসলমানরা ইহুদি “বনু কুরাইযা” গোত্রের পুরুষ যোদ্ধাদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে।
    ∎ নবীজী মদিনায় সংবিধান “মদিনা সনদ” প্রতিষ্ঠা করেন।যেখানে সকলের অধিকার সমান। “বনু কুরাইযা” ২ বার রাষ্ট্রদ্রোহ, রাষ্ট্রকে ও সংবিধানকে অস্বীকার,শত্রুপক্ষের সাথে যোগসাজশ করেন।তাদেরকে ক্ষমার পথ দেখালে সেটাও তারা মানতে নারাজ।তাদেরকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।
    ∎ বর্তমান বাংলাদেশের সংবিধানের ১২১ নং ধারায় আছে- যদি কেউ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে বা সাহায্য করে বা চেষ্টা করে,মৃত্যুদন্ড কারাদণ্ডে দন্ডিত হবে এবং একইসাথে অর্থদণ্ডেও দন্ডিত হবে।
    সেদিনের মৃত্যুদন্ড এবং আজকের বাংলাদেশের দণ্ডবিধি একই এবং প্রমাণিত।
    ♦ ১০) পরিপূর্ণ দাড়িঃ জঙ্গল নয়,ছায়াবীথি-
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বর্তমান সমাজে দাড়ি রাখা নিয়ে অনেজ বিভ্রান্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।বাবা -মাও সংকিত হয়ে পড়েন ছেলে দাড়ি রাখলে,এই ছেলেকে কিনা জঙ্গি ভেবে পুলিশ গ্রেফতার করে। কিংবা দাড়িওয়ালা ছেলেকে বিয়ে করাবে কিভাবে।
    ∎দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং এটা নবীর সুন্নত।দাড়ি রাখলে উম্মতের চেহারায় নবীজীর চেহারা নসীব হয়,যা আল্লাহর কাছে প্রিয়। দাড়ি রাখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে লেখক অত্যন্ত চমৎকারভাবে গল্পটি সাজিয়েছেন।বান্দা যতক্ষণ দাড়ি রাখা অবস্থায় থাকবে ততোক্ষণই সওয়াব পাবে।
    ♦১১) বিজ্ঞান কল্পকাহিনীঃ শাশ্বত একত্ব-
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইয়ের সবচেয়ে উপভোগ্য একটি অনুচ্ছেদ এটি।
    ∎এই গল্পে বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর দ্বারা পৃথিবীর বিভিন্ন সময়ের বিভিন্ন জাতির পালনকৃত ধর্ম এবং তাদের সৃষ্টাজ্ঞান সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
    ∎একেশ্বরবাদের ইতিহাস বহুদেবতার চেয়ে পুরনো।এখান থেকে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তা’আলা যে এক এবং অদ্বিতীয় তার প্রমান পাওয়া যায়।পৃথিবীর সব জাতির কাছেই আল্লাহ তা’আলা নবী-রাসূলকে পাঠিয়েছেন।আর শেষ নবীর উম্মত হিসেবে আমাদেরও উচিত সকল জাতির কাছে আবারে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দেওয়া।
    ♦ পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ∎বইটির লেখক একজন এ ডাক্তার মানুষ। কিন্তু, মাশআল্লাহ্ বইটি পড়ার পর উনার জন্য ভক্তি শ্রদ্ধায় মনটা ভরে গেলো। আর কতো সুন্দর করে বুঝিয়ে বুঝিয়ে রসিয়ে রসিয়ে লিখলে একজন পাঠকের নবীজি (সাঃ) এর সুন্নাত সম্বন্ধে বুঝে আসবে, জানিনা। কিন্তু এটা জানি যে এবং বিশ্বাস করি, এই বইটা পড়লে আপনার মধ্যে নবীপ্রেম সৃষ্টি হবে, সুন্নাতকে নিয়ে আপনি নতুন করে ভাবতে বসবেন, এবং আল্লাহ্ চাইলে সুন্নাত পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবেন। আল্লাহ্ লেখককে উত্তম জাযা দান করুক।
    ∎লেখক ‘ড. শামসুল আরেফীন’ খুবই সহজ-সরল,প্রাঞ্জল এবং বোধগম্য ভাষায় ছোটগল্প আকারে সাজিয়েছেন তার ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বইটিকে।
    ♦ ভালোলাগা, মন্দলাগাঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বই এর যেই বিষয়গুলো আমাকে বেশি মুগ্ধ করেছে-
    ∎বইটির প্রচ্ছদঃ
    বইটির প্রচ্ছদটা অনেক গুরুত্ব বহন করে। এখানে বাম চোখের চশমা ভাঙ্গা কিংবা গুলি করা হয়েছে।যা বাম তথা নাস্তিকদের নির্দেশ করে। যে ফ্রেম দ্বারা নাস্তিকরা দুনিয়াকে, ধর্মকে দেখতো, সে ফ্রেমকে লেখক ভেঙে দিয়েছেন।
    ∎বই এর নামকরণঃ
    নাস্তিকতা সংশয়বাদের ভিত্তি ই জড়িত ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এর উপর, যেখানে নিজের অস্তিত্বের সত্যতা কে অস্বীকার করে প্রতিনিয়ত নিজেকে বিদ্রুপ করা হয়।
    ∎ বইয়ের মধ্যে পাঠককে ধরে রাখতে পারা লেখকের অন্যতম প্রধান একটি গুণাবলী। এক্ষেত্রে লেখক সফল হয়েছেন।
    ∎বইটির আরেকটা জিনিস ভালো লাগছে, বইটির প্রায় লাইনে লাইনে রেফারেন্স দেবার চেষ্টা করেছেন লেখক। প্রতিটি গল্প রেফারেন্সে ভরপুর।
    ∎একে বই না বলে একটি ছোটোখাটো জ্ঞানকোষ বলা যায়।এতো এতো তথ্য ঠাসা এখানে,আপনি চমকে যাবেন,হয়তো বলে উঠবেন এভাবে আগে আমি কেন ভাবিনি!
    →যে বিষয়গুলো যেই ব্যাপারগুলো নেগেটিভ মনে হয়েছে-
    ∎রেফারেন্সগুলো এভাবে দেয়া হয়েছে যেনো দেখে মনে হয়, এটা নিজেই আরেকটা গল্প! আরো সংক্ষিপ্ত, ছোট ফন্টে দেয়া যেতো।
    ∎প্রথম বই হিসেবে কিছু ভুল থাকা স্বাভাবিক। সেই ক্ষেত্রে প্রিন্টিং এ ভুল কিছুটা দৃষ্টিকটু লেগেছে, যদিও তা লেখকের দোষ নয়।
    ♦ বইটি কাদের জন্য এবং কেন পড়বেনঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ∎যাদের মনে সংশয়ের ছায়া পড়েছে,যাদের মন ইসলামের কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায়, দ্বীনের পথে মন অটুট রাখতে কষ্ট হচ্ছে; তাদের জন্যই এই বই।সব বয়সের মানুষ বইটি পড়তে পারবেন।
    সংশয়বাদে জর্জরিত, মুসলিম,অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের জন্য বইটি পড়া আবশ্যক । তবে উগ্র অন্ধ নাস্তিকদের জন্য অবশ্য কোন টনিকেই কাজ হবার নয়, কারণ তারা নফসের দাসত্বের কাছে আল্লাহর দাসত্বকে চিরতরে বিক্রি করে দিয়েছে।
    তাই,
    ▣ যদি প্রাকটিসিং মুসলিম হন- তৃপ্তির আবেশে হৃদয় প্রশান্ত করুন।
    ▣ যদি হন নন প্রাকটিসিং – কি পেয়ে পায়ে ঠেলছেন দেখুন
    ▣ হন যদি অবিশ্বাসী- উদ্ধৃত সাহসে গ্রহন করুন
    ▣ কিংবা যদি হন অমুসলিম- কৌতুহলে হাতে নিন
    ♦ লেখক পরিচিতিঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    পুরো নাম- শামসুল আরেফিন শক্তি। তিনি একজন ডাক্তার। শুরুতে তিনি প্রাকটিসিং মুসলমান ছিলেন না। অত:পর আল্লাহ তাকে হিদায়াত দান করেন। এটা তার প্রথম রচিত বই।
    ♦ মন্তব্যঃ
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” বইটি সম্পর্কে আমি প্রথম জানতে পারি অনলাইনের মাধ্যমে। কোয়ারেন্টাইনে বাসায় বসে বইটি পড়ি। এক কথায় বলতে গেলে এমন বই আমি আগে পড়িনি,এতো স্মার্ট চিন্তা,ভাবনা যুক্তি দেখে আমি বিস্মিত।আমি অনেক কিছু জানতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ্‌।
    ∎কয়েকটি গল্পই আমাকে মুগ্ধ করেছে।তার মধ্যে- দাসপ্রথা, শ্রেনীবৈষম্যহীন সমাজ,ইসলাম কি আরব সংস্কৃতি,পরিপূর্ন দাড়ি গল্পগুলো।সত্যিই অসাধারণ।
    ∎অন্ধকারের গোলকধাঁধায় বিভ্রান্ত, দিশেহারা প্রজন্মকে ইসলাম এর সঠিক বার্তাটি যুগপোযোগী, সুন্দর, যৌক্তিক উপায়ে গল্প আকারে তুলে ধরতে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের মাঝে ডা শামসুল আরেফিন ভাই অন্যতম।
    ∎ লেখকের লেখনীর প্রশংসা করতে হয় এই
    কারণে যে, প্রতিটি গল্পই সাড়ে চৌদ্দশো বছর আগের এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে একসাথে দেখানো হয়েছে।
    আল্লাহ তাআলা
    লেখককে উত্তম মর্যাদায় ভূষিত করুন।
    বইটিকে ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে কবুল
    করুন। লেখকের কলমের জোরকে
    আরো শাণিত করুন। আমিন।
    বইটি এখানে পাবেনঃ
    https://www.wafilife.com/shop/uncategorized/double-standard-1/

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5

    :

    ইসলাম ব্যাপারটার সাথে সবচেয়ে বড় অবিচার হলো একে “ধর্ম” বলা।আর দশটা ধর্মের মত ইসলাম “ধর্ম’ নয়। এর অস্তিত্ব শুধু কিছু উৎসব আর সাহিত্যের আচার-প্রথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এর রয়েছে পৃথক সংস্কৃতি,অর্থব্যবস্থা,সামজিকতার আলাদা সংজ্ঞা,রাষ্ট্র পরিচালনা,আইনশাস্ত্র,স্বাস্থ্যকর জীবনাচার,আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নীতিমালা। ব্যক্তি-পরিবার-সমাজ-দেশ-পৃথিবী কিভাবে চলবে তার সুনির্দিষ্ট নীতি আছে ইসলামের। প্রস্রাব-পায়খানা থেকে যুদ্ধ পর্যন্ত,ঘুম থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা পর্যন্ত,স্ত্রীমিলন থেকে বিচারকার্য পর্যন্ত সবকিছু; ২৪ ঘন্টায় যা কিছু হয় সব। আর ধর্ম বললে নামাজ-রোযা-হজ্জ ছাড়া আর কিছুই ভাসে না মনে।

    ইসলাম একটি সংস্কৃতি,একটা কমপ্লিট জীবনব্যবস্থা বলেই-
    ‘দেশজ চিরায়ত প্যাগান সংস্কৃতির সাথে,
    ‘বৃটিশ সেক্যুলার আইনের সাথে,
    ‘পূজিবাদি অর্থব্যবস্থার সাথে ইসলামের সংঘাত।

    একথাটাই আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান বুঝে না।কারণ আমাদের শেখানো হয়েছে ইসলাম জাস্ট ব্যক্তিগত পর্যায়ের একটা ধর্ম।

    দামেশকের বাইজান্টাইন শাসক গুপ্তচরকে জিজ্ঞেস করেছিল- মুসলিমরা কেমম?
    জবাব এলো..

    *তারা সারাদিন রোজা রাখে।
    *সারারাত নামাজে কাঁদে।
    *ওরা ওয়াদা পালন করে।
    *পরস্পরকে দাওয়াত দেয়।
    *নিজেদের মধ্যে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্টা করে।
    *উচ্চ সুরে কুরআন পাঠ ও যিকর করে।
    *ওদের রাজপুত্রও যদি চুরি করে তবে ওরা হাত কেটে দেয়,রাজপুত্রও যদি ব্যভিচার করে তবে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করে।

    সেই শাসক বলল, এমন লোকেরা তোমাদের আক্রমণ করতে এসেছে যাদের প্রতিরোধের ক্ষমতা তোমাদের নেই।

    এটা কোনো আর্মি না,কোন উন্নত অস্ত্র না,কোনো টেকনোলজি না,এটা ছিল এক লাইফস্টাইল যা পরাশক্তিদের পদানত করেছিল। আফসোস, আজ এই জীবনপদ্ধতি মুসলিম বিশ্বের কাছে নেই।

    এজন্য অমুসলিম শক্তি এই জীবপদ্ধতির উপর এই আদর্শের উপরই আঘাত করে এসেছে দেড় হাজার বছর।তৈরি করেছে কিছু পন্ডিত যারা এই জীবনপদ্ধতির উপর বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে মুসলিমদের অনাস্থা তৈরি করে দিবে।এবং তারা সফলও। আরবী নামধারী নাস্তিকগ্ণই তাদের সফলতার প্রমাণ।এইসব প্রাচ্যবিদ বা ওরিয়েন্টালিস্টদের গবেষণা দিয়ে তারা কুরআনকে বিচার করে,হাদিস-সীরাত-ফিকহকে বিচার করে,সেই শক্তিশালী আদর্শকে বিচার করে।

    আচ্ছা আপনিই বলেন,একজন পাকিস্থানীর লেখা ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস’ থেকে আপনি অই আশা করতে পারেন?
    সেটাকে আপনি আবার রেফারেন্স ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করে যাচ্ছেন।কেমম হল বিষয়টা?
    শত্রুপক্ষের চোখ দিয়ে আমারা আমাদের চেনার চেষ্টা করছি। কোথায় গিয়ে ঠেকেছে আমাদের মানসিক দাসত্ব আর দেউলিয়াত্ব।

    নাস্তিকবাদি অনেক প্রশ্নের খুব সুন্দর,ব্যাখা এবং গবেষনামূলক উত্তরের সমষ্টি বইটি।

    বইটি কারা পড়বেন? কেন পড়বেন?

    ★যদি প্র‍্যাক্টিসিং মুসলিম হনঃ তৃপ্তির আবেশে হৃদয় প্রশান্ত করুন।
    ★যদি হন নন-প্র‍্যাক্টিসিংঃ কী পেয়ে পায়ে ঠেলছেন চিনুন।
    ★যদি মডারেট সংস্কারবাদী হনঃ সংস্কার কোথায় প্রয়োজন জানুন।
    ★হন যদি বিশ্বাসীঃ উদ্ধত সাহসে গ্রহণ করুন।
    ★কিংবা যদি হন অমুসলিম ঃ কৌতূহলে হাতে নিন।
    ★বা আলিম যদি হনঃ এতিম উম্মতের ব্যথায় পড়ুন।
    ★আর মানুষ হন যদিঃ সত্তার তৃষ্ণায় আকন্ঠ পান করুন।

    জাস্ট পড়ুন,তবুও পড়ুন..

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5

    :

    বর্তমান শিক্ষা ব্যাবস্থায় নতুন জেনারেশনকে ধর্ম বিমুখতা থেকে ধর্মকে তাচ্ছিল্য করার যে জোয়ার বইছে, এই বইটি সেই জোয়ারের বিপরিতগামী জোয়ার আনার শক্তিশালী হাতিয়ারের মতই কার্যকর। সবার উচিত এমন বই নিজে পড়া এবং অপরের পড়ার জন্য প্রচারনায় ভুমিকা রাখা।
    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5

    :

    আমাদের সকলেরই উচিত চিন্তা ভাবনাকে পরিবর্তন করার। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের চিন্তা ভাবনায় আমূল পরিবর্তন আনুক। আমিন।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  6. 5 out of 5

    :

    ইসলাম একটি শ্বাশত জীবনের ধর্ম। একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্ম ও একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এটাকে এক কথা, কয়েক বাক্য বা সামান্য কিছু বই দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না। জিনিস যেটা বড়, তার বর্ণনাও বড়ই হবে। ইসলামের প্রতিটি বিধানই কল্যাণময়। কখনও কোন বিষয়ে তাৎক্ষণিক কল্যাণময়। আবার কখনও বিশেষ বিষয়ে কল্যাণ আপাততভাবে ধীরগতির হলেও সামষ্টিক ভাবে অবশ্যই কল্যাণ। ইসলামের বিধানে কোন যুক্তি নেই, এই কথাটা ভুল।
    লেখক ডা. শামসুল আরেফীন পেশায় একজন চিকিৎসক হলেও লেখক জগতে অল্প কিছুদিনেই ভালই সুনাম কুড়িয়েছেন। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও তিনি দ্বীনের একজন বড় দাঈ। তাই আধুনিক শিক্ষিত মানুষদের মানসিকতা বেশ ভালভাবেই বোঝেন। বোঝেন বর্তমান সমাজের সমস্যার শিকড় কোথায়। তাই উনার এই প্রয়াস।
    গ্রন্থ পর্যালোচনাঃ
    বর্তমান আধুনিক সমাজে কোন খবর যতদ্রুত ছড়ানো সম্ভব, তা অতীতে কোন কালেই ছিল না। তাই ভাল কোন খবর যেমন ছড়ায় দ্রুত, তেমনি গুজবও ছড়ায়। অপরদিকে ধর্মীয় শিক্ষাবিহীন যখন আমাদের আধুনিক শিক্ষা, তখন ধর্ম নিয়ে মানুষের ধারণা স্পষ্ট না। ফলে ধর্মীয় বিষয়ে ভুল, অযুক্তি ও মিথ্যা সংবাদ যখন ছড়ায়, তখন সাধারণ মানুষ পড়ে যায় বিভ্রান্তিতে।
    ইসলামের উপর এই আক্রমণ অনেক আগে থেকেই। নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ থেকেই এই ধারাবাহিকতা বহাল আছে। বর্তমানে শুধু কৌশল ও মাধ্যম আলাদা। অন্য ধর্মে বা নিজেদের সাথে এই বিরোধীরা একরকম অথচ ইসলামের বেলায় অন্য রকম। এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মানসিকতা এরা তাদের অন্তরে লালন করে। এই ইসলাম বিরোধী ও তাদের দ্বারা প্রভাবে প্রভাবিত কিছু মানুষ অযথা কিছু আপত্তিকর প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। অথচ এটা সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও দলিলসহ ব্যাখ্যা করা যায়। মূলত এই বিষয়কে মাথায় রেখেই লেখক বইটির অধ্যায়গুলো সাজিয়েছেন।
    ঈমান যেহেতু ইসলামের মূলভিত্তি, তাই লেখক প্রথমেই “না দেখে বিশ্বাস” করা নিয়ে গল্পটি সাজিয়েছেন। আমরা প্রতিনিয়ত না দেখে অনেক বিষয়েরই অস্তিত্ব স্বীকার করি, তাহলে স্রষ্টাকে কেন দেখে বিশ্বাস করা যাবে না! এবং এর স্বার্থকতা কি, তা ব্যাখ্যা করেছেন দালিলিকভাবে।
    দ্বিতীয় গল্পে ইসলামে দাসপ্রথা নিয়ে যেসব আপত্তি তোলা হয়, সেসবের সুন্দরভাবে খণ্ডন করা হয়েছে। এরপর ইসলামে নারীদের কিছু বিধান নিয়ে বিরোধীদের বেশ কিছু আপত্তিগুলোর যুক্তিপূর্ণভাবে ও দলিলসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন- নারীদাসিদের সাথে আচরণ, স্ত্রীকে শস্যক্ষেত্র বলার ব্যাখ্যা।
    সমাজতন্ত্রকে যারা অনেকে সব সমস্যার সমাধান মনে করে, তাদেরকে নিয়ে এরকম একটা গল্প সাজানো হয়েছে। যেখানে একে একে সমাজতন্ত্রের ইতিহাস থেকে শুরু এর উত্থান ও পতন সব গল্পের ছলে তুলে ধরা হয়েছে, যা সাধারণ পাঠকের বুঝতে কোন সমস্যা হবে না।
    শেষ পর্যায়ে এসে কাল্পনিক সাইন্স ফিকশন গল্পকে কেন্দ্র করে ইসলামের দাওয়াতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
    মন্তব্যঃ ইসলামকে অনেকেই শুধু কিছু ইবাদত ও আচার অনুষ্ঠানের ধর্ম মনে করে। আর অনেকে সেকেলে মনে করে। বইটিতে ইসলামের সঠিকরুপটাই তুলে ধরা চেষ্টা করা হয়েছে। গল্পগুলোর প্রেক্ষাপট এমনভাবে সাজানে হয়েছে, যাতে পাঠকের যাতে রসবিহীন মনে না হয়। প্রতিটি পাতায় লেখকে নিখুত পরিশ্রমের চিহ্ন পাঠক উপলব্ধি করতে পারবে। বইটির কভারের পিছনে বলা হয়েছে, যে আপনি মুসলিম বা অমুসলিম, প্র্যাক্টিসিং বা নন- প্র্যাক্টিসিং, নাস্তিক বা আস্তিক যেই হন, বইটা আপনার চিন্তার জগতে অবশ্যই আলোড়ন সৃষ্টি করবে, ইন শা আল্লাহু
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  7. 5 out of 5

    :

    “ডাবল স্ট্যান্ডার্ড” বইটিতে লেখক ডা. শামসুল আরেফীন প্রত্যেক গল্রে আলাদা আলাদা পেশার দায়ীকে উপস্থাপন করেছেন। আসলে আমরা মুসলমান ঘরে শুধু জন্মগ্রহণ করেছি কিন্তু নিজস্ব সংস্কৃতি জানিনা এবং জানার চেস্টাও করিনা, ফলে অপসংস্কৃতি লালন করার কারণে তাদের সংস্কৃতিই নিজস্ব সংস্কৃতি হিসেবে মনে করি।এখন ইসলামী সংস্কৃতির কথা বললে নতুন লাগে। সব মিলে বইটি অনেক ভাল লেগেছে। এরকম বই বেশি বেশি প্রয়োজন। আল্লাহ তায়ালা লেখক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম জাজা দান করুন। আমিন।।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  8. 5 out of 5

    :

    আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। ইসলাম কেবলমাত্র একটি ধর্মই নয় বরং এটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। এখানে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে করণীয়- বর্জনীয় সব কিছু আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামের এমন কোন বিধান নেই যা মানব সভ্যতার জন্য অকল্যাণকর। ইসলামী বিধান পালনে করলে নেই কোন ক্ষতিকর সাইড ইফেক্ট।
    এত কিছুর পরেও ইসলাম বিরোধী অপশক্তি তথা নাস্তিক ও সেক্যুলার সমাজ ইসলাম কে নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তারা বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে কুরআন ও হাদীসে দেয়া ইসলামের বিধানগুলো নিয়ে মানুষের মাঝে সংশয়ের সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষ তাদের ধোকায় পতিত হচ্ছে । কেউবা এসবের উত্তর খুজতে গিয়ে নাস্তিকদের পাতানো ফাদে পা দিচ্ছে। বর্তমান মুসলিম সমাজও অবাধ স্বাধীনতা ও তথ্য প্রবাহের এই যুগে ইসলামের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ।
    কিন্তু ইসলাম কে বুঝতে হলে নাস্তিকদের  যুক্তি দিয়ে বুঝানোর দরকার নেই। কেননা ইসলাম কোন যুক্তির ধর্ম না। বরং যুক্তি যেখানে শেষ সেখান থেকেই ইসলামের শুরু। ইসলাম থেকে খুজে নিতে হয় কল্যান। যে ইসলাম দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান লাভের একমাত্র মাধ্যম।
    ইসলামের বিধান বুঝার ক্ষেত্রে যুক্তি ও বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের কার্যকারিতা আছে । কিন্তু সেটা একমাত্র মানদন্ড নয়। কেননা যুক্তি ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা আছে। সেই সাথে এগুলো সর্বদা পরিবতনশীল । পক্ষান্তরে ইসলাম শাশ্বত জীবনব্যাবস্থা। ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, যুদ্ধনীতি সহ সর্বক্ষেত্রে ইসলাম স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।
    এই নীতিমালা সামনে রেখেই ডা: শামসুল আরেফিন রচনা করেছেন একটি অনন্য বই ” ডাবল   স্টান্ডার্ড “। বইটি নাস্তিকদের যুক্তি ও অপব্যাখায়া গুলোর প্রতিবাদ করেই লেখা। আস্তিক নাস্তিক বিভিন্ন চরিত্র সৃষ্টির মাধ্যমে বইটিতে মোট এগারোটি গল্প সন্নিবেশিত আছে । মন কে নাস্তিকদের বোনা অবিশ্বাসের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে একই সাথে বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করার জন্য লেখক এখানে শব্দের পর শব্দের পশরা সাজিয়েছেন। কখনো বিজ্ঞান, কখনো ধর্ম, আবার কখনো যুক্তি, দর্শন, ও ইতিহাসের সাহায্যে তথ্যগুলোকে সহজ ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন। বইটির  প্রতিটি গল্পই নাস্তিকদের বিভিন্ন সন্দেহ ও সংশয়ের জবাবে এক একটি হাতিয়ার স্বরুপ।

    ***ব্যক্তিগত অনুভূতি:-***
    বইটির কভার, প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং, ও ভিতরের পাতা মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর। অনূভুতি যদি বলতেই হয় তাহলে বলবো বইটি এককথায় অসাধারন। বিভিন্ন দলিল প্রমানাদি ও তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিটি গল্পেই রয়েছে শিক্ষনীয় মেসেজ। সহজ, সাবলীল ও বোধগম্য ভাষায় রচিত। বাস্তবতা ও সুন্দর উপস্থাপনার মিশেলে বইটিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। বইটিতে নাস্তিকরা যেমন পাবে তাদের উপস্থাপিত প্রশ্নগুলোর উপযুক্ত  জবাব। তেমনি আল্লাহতে বিশ্বাসী মুসলিমদেরও বিশ্বাসের ভিত্তি আরো মজবুত হবে। বইটিতে সকলের জন্যই রয়েছে চিন্তার খোরাক।
    বইতে ভালো লাগার আরেকটি দিক হলো এখানে নির্দিষ্ট কোন চরিত্র কে ইসলামি ভাবধারা অনুযায়ী উপস্থাপন করা হয়নি। বরং কখনো ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক আবার কখনো ছাত্র প্রভৃতি সবাই ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করছে। আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি একদিন সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে ইসলামের সুমহান আলো ছড়িয়ে পড়বে। মুসলিমরা সবখানে তাদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রশ্নগুলোর যুক্তি,  বিজ্ঞান কুরআন হাদীস থেকে রেফারেন্স সমৃদ্ধ উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সরিয়ে দিবে অবিশ্বাসের জঞ্জাল সেই সাথে ফুটিয়ে তুলবে ইসলামের সৌন্দর্য।
    .
    ***প্রিয় উক্তিঃ-***
    (1) সময় এসেছে পাল্টা ধাওয়া ও দুআর। তাই নাস্তিকের জন্য দুআ, নাস্তিকতার জন্য ধাওয়া।
    (2) জমিটুকু চাষীর সম্বল। ওটাই তার দুনিয়া। পরম নির্ভরতা ও আবেগের জায়গা। তার কাছে ঐ জমিটুকুই সবকিছু।
    (৩) নাস্তিকরা হলো শিশুর মত। অবুঝ, অপরিণত। একই প্রশ্ন বারবার করে।
    .
    ***সমালোচনাঃ-***
    একটি বই প্রকাশের পিছনে লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশকের অসংখ্য রাত জাগার ইতিহাস থাকে, বইটিকে নির্ভুল করার জন্য। বইটিকে পঠনোপযোগী করতে প্রকাশনী যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। আল্লাহ তাদের খেদমত কবুল করুক। তারপরও কিছু ভুলভ্রান্তি থেকে যায়। যা অনিচ্ছাগত। আমি সেগুলোই তুলে ধরব এই অংশে–
    (1) বইটিতে অনেকগুলো বানান ভুল লক্ষ্য করেছি। কোন কোন জায়গায় দুটি শব্দ একখানে হয়ে গেছে। হয়তোবা এটা প্রথম সংস্করণ হওয়ার কারনেই হয়েছে।
    (2) সপ্তম অধ্যায়টির  নাম ” আরব সংস্কৃতি মানবো কেন ” না হয়ে ইসলামী সংস্কৃতি মানবো কেন হলে  ভালো হতো।
    .
    ***শেষ কথা:-***
    পরিশেষে বলতে হয় বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এত সুন্দর একটি বই লেখার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বইয়ের লেখক, প্রকাশক, পাঠক সহ  সবাইকে কবুল করুন। দোয়া করি আল্লাহ লেখকের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে নেক হায়াত দান করেন এবং দ্বীনের পথে তার এই পরিশ্রম কবুল করেন । আমিন

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?