মেন্যু
baibel quran o biggan

বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান

অনুবাদ: মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন , ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক
পৃষ্ঠা ৩১৮

১৯৮১ সালের কথা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্যান্সিসকো মিত্রা ক্ষমতায় এলেন। মিশর সরকারের কাছে চিঠি গেল। তাদের হাজার বছর আগের ‘ফারাও’ (ফিরআউন) নামক শাসকদের মমিগুলো লাগবে। ফ্রান্স পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চায়। মিশর সেই প্রস্তাবে রাজি হলো। পাঠিয়ে দিলো ফারাওদের মমি-কৃত মৃতদেহ।

এই গবেষণার দলের প্রধান দায়িত্বে ছিলেন ড. মরিস বুকাইলি নামক একজন গবেষক। তিনি পেশায় একজন ডাক্তার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট। কিন্তু গবেষণা করার সময় দেখলেন, ফারাওদের একজনের দেহে লবণের রেমনেন্টস আছে। মূলত তার মৃত্যু হয়েছিল সমুদ্রে ডুবে; এর স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণও পেয়ে গেলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় ছিল, অন্য দেহগুলোর তুলনায় এই দেহটি অধিক সজীব। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, এই গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ করবেন। কিন্তু বাঁধ হয়ে দাঁড়ালো খ্রিস্টান সহকর্মীরা। তাদের দাবী, তিনি যদি এই রিপোর্ট প্রকাশ করেন, তাহলে কুরআনের সত্যতা প্রমাণিত হয়ে যাবে। কিন্তু ড. বুকাইলির মন সায় দিল না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে মুসলিম আলিমদের সাথে বসলেন। এরপর জানলেন সূরা ইউনুস (১০)-এর ৯০-৯২ নং আয়াতগুলো।

তিনি যেন আকাশ থেকে পড়লেন আয়াতগুলো শুনে! যে ফারাও-এর দেহ নিয়ে এতদিন ধরে রিসার্চ করছেন, তা সংরক্ষণের কথা স্বয়ং আল্লাহই চৌদ্দ শত বছর আগে কুরআনে বলে রেখেছেন। এই ঘটনা ড. বুকাইলির মনে গভীর দাগ কাটল। সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি কুরআন নিয়ে গবেষণা করবেন। পরবর্তী দশটা বছর গবেষণার পর লিখে ফেললেন একটি চমৎকার গ্রন্থ, ‘কুরআন, বাইবেল এবং বিজ্ঞান।’

পরিমাণ

192  350 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী

15 রিভিউ এবং রেটিং - বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান

4.8
Based on 15 reviews
5 star
80%
4 star
20%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #Book_Review_1

    ❝বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান❞ ড. মরিস বুকাইলির অনবদ্য রচনা। বইটিতে তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সত্যকে মেনে নিতে হয়। জীবনের কোন এক অংশে মানুষ সত্য উপলব্ধি করতে পারে। হয়তো সে সত্যকে গ্রহণ করে নতুবা অহংকারবশত তা অস্বীকার করে। ড. মরিস বুকাইলি ছিলেন সত্য গ্রহণে নিরহংকার। বিষয়টি উপলব্ধি তখনই করা যাবে যখন বইটি পড়া যাবে। ভদ্রলোকের একটি বিষয় আমার বেশ ভালো লেগেছে। তা হলো- শেষ বয়সে সত্যানুসন্ধান। তিনি নিতান্তই জানার উদ্দেশ্য নিয়েই তা শুরু করেছিলেন। যা তিনি বইটিতে স্পষ্টতই উল্লেখ করেছেন। সে যখন ‘আরবি ভাষা’ শেখা শুরু করে তখন তার বয়স ৫০+ পেরিয়েছে।

    এখান থেকে একটি বিষয় শেখার আছে আমাদের। আমরা কুরআন নিয়ে কতটুকু ভাবি? কতটুকু চিন্তাভাবনা করি বা কোন ব্যক্তি যখন কুরআন নিয়ে কিছু (অভিযোগ) বলে তখনই বা কতটুকু চিন্তাভাবনা করি আমরা। ভদ্রলোকের কিন্তু এভাবেই সত্য গ্রহণের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি যখন ফিরাউনের আবিষ্কৃত মমি নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন, তখন একজন তাকে অবহিত করলেন, কুরআনেও ফিরাউনের কথা বলা রয়েছে। তখন থেকেই শুরু হয় তার সত্যের পথে যাত্রা।
    এভাবেই একদিন সে খ্রিস্টান থেকে মুসলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    বইটি মূল্যায়নের পিছনের ঘটনা দিয়ে শুরু করাটা বাঞ্চনীয় মনে করছি। যা আপনাদের বইটি পড়তে উৎসাহী করতে পারে। দীর্ঘ করোনাকালীন ছুটিতে বেশ কিছু বইপাড়া হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। যখনই কোন ভালো মানের বই পড়েছি তখনই মনে হতো এই বইটার মূল্যায়ন (Review) করা দরকার। এরকম বেশ কয়েকটি বইয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে সর্বশেষ আমার মনে হয়েছে এই বইটার মূল্যায়ন করবোই, ইন-শা-আল্লাহ। বইটির মূল্যায়ন করতে না পারলে নিজেকে অপরাধী ভাবতাম।

    আলোচনা দীর্ঘ হয়ে গেল। এবার মূল আলোচনায় যাচ্ছি-
    বইটি ৫টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
    ১ম অধ্যায়: বাইবেলের পুরাতন নিয়ম।
    ২য় অধ্যায়: বাইবেলের নতুন নিয়ম।
    ৩য় অধ্যায়: কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান।
    ৪র্থ অধ্যায়: কুরআন ও বাইবেলের বর্ণনা।
    ৫ম অধ্যায়: কুরআন, হাদিস ও আধুনিক বিজ্ঞান।

    আলোচিত পাঁচটি অধ্যায়ে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে। যা একজন সত্যান্বেষী পাঠককে সঠিক পথ দেখাবে। এখানে বিজ্ঞ পাঠক মাত্রই তার পাণ্ডিত্য অবলোকন করতে পারবেন। প্রত্যেকটি অধ্যায় শুরু করার আগে তিনি সাধারণ আলোচনা করেছেন যা মূল পাঠটি বুঝতে সহায়ক। এরপর মূল পাঠ। তারপর উপসংহার। এখানে তিনি সম্পূর্ণ অধ্যায়ের সারকথা তুলে ধরেন।
    তিনি একটি নাতিদীর্ঘ ভুমিকার মাধ্যমে বইয়ের আলোচনা শুরু করেন এবং উপসংহারে সমগ্র বইয়ের সার নির্জাস তুলে ধরেন।

    বইটির একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো- যারা বলেন যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) বাইবেল থেকে নকল করে কুরআনে তা আল্লাহর নামে চালিয়ে দিয়েছেন তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরাভূত করা। এখানে তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা প্রশংসনীয়।

    এরপর তিনি অনুবাদ ও ব্যাখ্যা নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন যা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রাচীন ভাষ্যকারগণ কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যায় কিছু গুরুতর ভুল করেছেন। ফলে, তিনি নিজেই অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রয়াস পেয়েছেন। কেননা সেই সময়ে বিজ্ঞান অত উন্নত হয়নি এবং তারা কুরআনের বৈজ্ঞানিক আয়াতগুলোও সেভাবে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তবে তিনি একাজ করেছেন তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই। অনুবাদের ক্ষেত্রে তিনি আরবি শব্দ বিশ্লেষণ করেছেন চমৎকারভাবে এবং ব্যাখ্যাও করেছেন অসাধারণভাবে।

    ❝বই থেকে ব্যক্তিগত উপলব্ধি❞
    ৩য় অধ্যায়ের সাধারণ আলোচনায় দেখা যায়, পাশ্চাত্যে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইসলাম সম্পর্কে এমন ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা পাওয়া সেখানে সত্যিই কঠিন। তিনি বলেন, প্রথমে ইসলামে আমার আদৌ কখনও বিশ্বাস ছিল না। তবে আমি খোলা মন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুরআনের পাঠ পরীক্ষা করতে শুরু করি।
    ড. মরিস বুকাইলি বেড়ে উঠেছেন পাশ্চাত্য ধ্যানধারণাকে লালন করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার ইসলামে বিশ্বাস থাকার কথা নয়। হয়েছেও তাই। তিনি ইসলাম বিচার করেছেন কুরআন ও হাদিস দিয়ে। কোন ব্যক্তি বা দলের ধ্যানধারণা দিয়ে নয়। যদি তাই হতো তাহলে সে পশ্চিমা সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সত্যের সন্ধান পেত না।
    বর্তমানে আমাদের মুসলিম সমাজেও এহেন কর্ম লক্ষ্য করা যায়। আমরা ইসলাম বিচার করি পছন্দের ব্যক্তি, দল ও নিজস্ব ধ্যানধারণা দিয়ে। যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন বিষয় দেখলেই সেটা নিয়ে গবেষণা না করে মূর্খতাবশত প্রতিবাদ করে বসি এবং সত্য গ্রহণে আমরা বিমুখ হয়ে পড়ি। আমরা যাই পাইনা কেন সেটা ড. মরিস বুকাইলির মতো খোলা মন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিচার করে গ্রহণ করাই উত্তম, যেটা তিনি পশ্চিমা সমাজ থেকে করে দেখিয়েছেন।

    ❝বইটির চমকপ্রদ কিছু উক্তি❞
    ⤵️⤵️

    1️⃣) ইসলামের ক্ষেত্রে ধর্ম ও বিজ্ঞান সর্বদাই সহোদর বলে গণ্য হয়েছে।

    2️⃣) বাইবেলের ভুল-ভ্রান্তির জন্য মানুষকে দায়ী করা ছাড়া আর কোন যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই এবং সম্ভবত থাকতেও পারে না।

    3️⃣) হাদিসের সাথে বিজ্ঞানের তুলনা করে যে ফলাফলে উপনীত হয়েছি তার ফল খুবই নৈরাশ্যজনক। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসের সত্যতা সন্দেহাতীত।

    ❝একটি সংশয়❞
    লেখক কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের কোন সংঘর্ষ খুঝে না পেলেও হাদিস বিষয়ে তার আপত্তি তুলে ধরেছেন।
    তবে মরিস বুকাইলি হাদিস ও বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনার সমাপ্তি টেনেছেন ঠিক এভাবে, “ধর্ম বিষয়ে আমি যদি কোন আদেশ দেই তা পালন কর, কিন্তু আমি যদি নিজের বিবেচনায় কোনো আদেশ দেই তাহলে মনে রেখ আমি একজন মানুষমাত্র।” এটি একটি হাদিস।
    এই প্রেক্ষাপটে হাদিসটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা সংশ্লিষ্ট অধ্যায় পড়লেই বোঝা যায়।

    ❝সমালোচনা❞
    বিভিন্ন অনুবাদ গ্রন্থ পড়ার সুবাদে বলতে পারি যে, ভাষান্তর আরও সুন্দর হতে পারত। অনুবাদে বেশ কিছু ফার্সি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে বাংলা শব্দ ব্যবহার করলেই যথোচিত হতো। অনুবাদের আরেকটি গলদ – গুরুচন্ডালী দোষ। অর্থাৎ সাধু ও চলিত রীতির সংমিশ্রণ। যা পাঠকে মাঝেমাঝে বিরক্তিকর করে তোলে। এমনটি হয়েছে বিশেষত কুরআনের অনুবাদের ক্ষেত্রে।

    ❝একনজরে বই❞

    প্রকাশনী: দারুসসালাম বাংলাদেশ।
    পৃষ্টা সংখ্যা: ৩২৪।
    মুদ্রিত মূল্য: ৩৫০ টাকা।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 4 out of 5

    :

    #Book_Review_1

    ❝বাইবেল কুরআন ও বিজ্ঞান❞ ড. মরিস বুকাইলির অনবদ্য রচনা। বইটিতে তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্য দেখিয়েছেন। তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে সত্যকে মেনে নিতে হয়। জীবনের কোন এক অংশে মানুষ সত্য উপলব্ধি করতে পারে। হয়তো সে সত্যকে গ্রহণ করে নতুবা অহংকারবশত তা অস্বীকার করে। ড. মরিস বুকাইলি ছিলেন সত্য গ্রহণে নিরহংকার। বিষয়টি উপলব্ধি তখনই করা যাবে যখন বইটি পড়া যাবে। ভদ্রলোকের একটি বিষয় আমার বেশ ভালো লেগেছে। তা হলো- শেষ বয়সে সত্যানুসন্ধান। তিনি নিতান্তই জানার উদ্দেশ্য নিয়েই তা শুরু করেছিলেন। যা তিনি বইটিতে স্পষ্টতই উল্লেখ করেছেন। সে যখন ‘আরবি ভাষা’ শেখা শুরু করে তখন তার বয়স ৫০+ পেরিয়েছে।

    এখান থেকে একটি বিষয় শেখার আছে আমাদের। আমরা কুরআন নিয়ে কতটুকু ভাবি? কতটুকু চিন্তাভাবনা করি বা কোন ব্যক্তি যখন কুরআন নিয়ে কিছু (অভিযোগ) বলে তখনই বা কতটুকু চিন্তাভাবনা করি আমরা। ভদ্রলোকের কিন্তু এভাবেই সত্য গ্রহণের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তিনি যখন ফিরাউনের আবিষ্কৃত মমি নিয়ে গবেষণা শুরু করলেন, তখন একজন তাকে অবহিত করলেন, কুরআনেও ফিরাউনের কথা বলা রয়েছে। তখন থেকেই শুরু হয় তার সত্যের পথে যাত্রা।
    এভাবেই একদিন সে খ্রিস্টান থেকে মুসলিম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

    বইটি মূল্যায়নের পিছনের ঘটনা দিয়ে শুরু করাটা বাঞ্চনীয় মনে করছি। যা আপনাদের বইটি পড়তে উৎসাহী করতে পারে। দীর্ঘ করোনাকালীন ছুটিতে বেশ কিছু বইপাড়া হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। যখনই কোন ভালো মানের বই পড়েছি তখনই মনে হতো এই বইটার মূল্যায়ন (Review) করা দরকার। এরকম বেশ কয়েকটি বইয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে সর্বশেষ আমার মনে হয়েছে এই বইটার মূল্যায়ন করবোই, ইন-শা-আল্লাহ। বইটির মূল্যায়ন করতে না পারলে নিজেকে অপরাধী ভাবতাম।

    আলোচনা দীর্ঘ হয়ে গেল। এবার মূল আলোচনায় যাচ্ছি-
    বইটি ৫টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
    ১ম অধ্যায়: বাইবেলের পুরাতন নিয়ম।
    ২য় অধ্যায়: বাইবেলের নতুন নিয়ম।
    ৩য় অধ্যায়: কুরআন ও আধুনিক বিজ্ঞান।
    ৪র্থ অধ্যায়: কুরআন ও বাইবেলের বর্ণনা।
    ৫ম অধ্যায়: কুরআন, হাদিস ও আধুনিক বিজ্ঞান।

    আলোচিত পাঁচটি অধ্যায়ে প্রচুর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা রয়েছে। যা একজন সত্যান্বেষী পাঠককে সঠিক পথ দেখাবে। এখানে বিজ্ঞ পাঠক মাত্রই তার পাণ্ডিত্য অবলোকন করতে পারবেন। প্রত্যেকটি অধ্যায় শুরু করার আগে তিনি সাধারণ আলোচনা করেছেন যা মূল পাঠটি বুঝতে সহায়ক। এরপর মূল পাঠ। তারপর উপসংহার। এখানে তিনি সম্পূর্ণ অধ্যায়ের সারকথা তুলে ধরেন।
    তিনি একটি নাতিদীর্ঘ ভুমিকার মাধ্যমে বইয়ের আলোচনা শুরু করেন এবং উপসংহারে সমগ্র বইয়ের সার নির্জাস তুলে ধরেন।

    বইটির একটি চমৎকার বৈশিষ্ট্য হলো- যারা বলেন যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) বাইবেল থেকে নকল করে কুরআনে তা আল্লাহর নামে চালিয়ে দিয়েছেন তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরাভূত করা। এখানে তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা প্রশংসনীয়।

    এরপর তিনি অনুবাদ ও ব্যাখ্যা নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেছেন যা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রাচীন ভাষ্যকারগণ কুরআনের অনুবাদ ও ব্যাখ্যায় কিছু গুরুতর ভুল করেছেন। ফলে, তিনি নিজেই অনুবাদ ও ব্যাখ্যার প্রয়াস পেয়েছেন। কেননা সেই সময়ে বিজ্ঞান অত উন্নত হয়নি এবং তারা কুরআনের বৈজ্ঞানিক আয়াতগুলোও সেভাবে অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করতে পারেননি। তবে তিনি একাজ করেছেন তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই। অনুবাদের ক্ষেত্রে তিনি আরবি শব্দ বিশ্লেষণ করেছেন চমৎকারভাবে এবং ব্যাখ্যাও করেছেন অসাধারণভাবে।

    ❝বই থেকে ব্যক্তিগত উপলব্ধি❞
    ৩য় অধ্যায়ের সাধারণ আলোচনায় দেখা যায়, পাশ্চাত্যে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ইসলাম সম্পর্কে এমন ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, প্রকৃত ইসলাম সম্পর্কে কোনো সঠিক ধারণা পাওয়া সেখানে সত্যিই কঠিন। তিনি বলেন, প্রথমে ইসলামে আমার আদৌ কখনও বিশ্বাস ছিল না। তবে আমি খোলা মন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কুরআনের পাঠ পরীক্ষা করতে শুরু করি।
    ড. মরিস বুকাইলি বেড়ে উঠেছেন পাশ্চাত্য ধ্যানধারণাকে লালন করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তার ইসলামে বিশ্বাস থাকার কথা নয়। হয়েছেও তাই। তিনি ইসলাম বিচার করেছেন কুরআন ও হাদিস দিয়ে। কোন ব্যক্তি বা দলের ধ্যানধারণা দিয়ে নয়। যদি তাই হতো তাহলে সে পশ্চিমা সংস্কৃতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সত্যের সন্ধান পেত না।
    বর্তমানে আমাদের মুসলিম সমাজেও এহেন কর্ম লক্ষ্য করা যায়। আমরা ইসলাম বিচার করি পছন্দের ব্যক্তি, দল ও নিজস্ব ধ্যানধারণা দিয়ে। যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। নতুন বিষয় দেখলেই সেটা নিয়ে গবেষণা না করে মূর্খতাবশত প্রতিবাদ করে বসি এবং সত্য গ্রহণে আমরা বিমুখ হয়ে পড়ি। আমরা যাই পাইনা কেন সেটা ড. মরিস বুকাইলির মতো খোলা মন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিচার করে গ্রহণ করাই উত্তম, যেটা তিনি পশ্চিমা সমাজ থেকে করে দেখিয়েছেন।

    ❝বইটির চমকপ্রদ কিছু উক্তি❞
    ⤵️⤵️

    1️⃣) ইসলামের ক্ষেত্রে ধর্ম ও বিজ্ঞান সর্বদাই সহোদর বলে গণ্য হয়েছে।

    2️⃣) বাইবেলের ভুল-ভ্রান্তির জন্য মানুষকে দায়ী করা ছাড়া আর কোন যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই এবং সম্ভবত থাকতেও পারে না।

    3️⃣) হাদিসের সাথে বিজ্ঞানের তুলনা করে যে ফলাফলে উপনীত হয়েছি তার ফল খুবই নৈরাশ্যজনক। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসের সত্যতা সন্দেহাতীত।

    ❝একটি সংশয়❞
    লেখক কুরআনের সাথে বিজ্ঞানের কোন সংঘর্ষ খুঝে না পেলেও হাদিস বিষয়ে তার আপত্তি তুলে ধরেছেন।
    তবে মরিস বুকাইলি হাদিস ও বিজ্ঞান বিষয়ক আলোচনার সমাপ্তি টেনেছেন ঠিক এভাবে, “ধর্ম বিষয়ে আমি যদি কোন আদেশ দেই তা পালন কর, কিন্তু আমি যদি নিজের বিবেচনায় কোনো আদেশ দেই তাহলে মনে রেখ আমি একজন মানুষমাত্র।” এটি একটি হাদিস।
    এই প্রেক্ষাপটে হাদিসটি যে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা সংশ্লিষ্ট অধ্যায় পড়লেই বোঝা যায়।

    ❝সমালোচনা❞
    বিভিন্ন অনুবাদ গ্রন্থ পড়ার সুবাদে বলতে পারি যে, ভাষান্তর আরও সুন্দর হতে পারত। অনুবাদে বেশ কিছু ফার্সি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে বাংলা শব্দ ব্যবহার করলেই যথোচিত হতো। অনুবাদের আরেকটি গলদ – গুরুচন্ডালী দোষ। অর্থাৎ সাধু ও চলিত রীতির সংমিশ্রণ। যা পাঠকে মাঝেমাঝে বিরক্তিকর করে তোলে। এমনটি হয়েছে বিশেষত কুরআনের অনুবাদের ক্ষেত্রে।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    Alhamdulillah..it was really a nice book.!❤
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    It was really a nice book.!❤
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    অসাধারণ একটি বই
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No