মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ইতিহাসের লাল আস্তিন

পরিমাণ

84.00  140.00 (40% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - ইতিহাসের লাল আস্তিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    মুসলমানদের রয়েছে কত শত গৌরবোজ্জল ইতিহাস ও বীরত্বপূর্ণ কাহিনী। তারা একসময় দুনিয়া শাসন করতো বীরের মতো । মুসলমানদের নাম শুনলে কাফির-মুশরিকরা ভয়ে কাপতো।
    কিন্তু বর্তমান পৃথিবীর দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মুসলমানরা আজ সর্বক্ষেত্রে নির্যাতন ও নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে। অবহেলা আর লাঞ্চনা যেন তাদের নিত্য সাথী।
    তবে কেন এই অশান্তিময় অবস্থার সৃষ্টি হলো ? এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আজ মুসলমানরা ভুলে গেছে আল্লাহর বানী, নবী (স:) এর আদর্শ ও সাহাবীদের আত্মত্যাগের কথা । সেই সাথে ভুলে গেছে তাদের  আত্মপরিচয় ও ইতিহাস। ব্যাপারটা মনে হয় আসলেই তাই। তা না হলে আমরা দিন দিন আজ কেন এত অধপতনের দিকে ধাবিত হচ্ছি? মুসলমানরা কেন সর্বক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে?
    আমরা কি শিক্ষা নিতে পারিনা আমাদের হারানো সেই গৌরবময় ইতিহাস থেকে । নবী (স:) এর আদর্শ ও সাহাবীদের আত্মত্যাগ থেকে। যে সাহাবীগন নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে জিহাদের ময়দানে ঝাপিয়ে পড়তো। কাপিয়ে দিতো অত্যাচারী জালিমের মসনদ। বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে যারা ছিল সর্বদা সিদ্ধহস্ত। সাহাবীদের সেই বীরত্বপূর্ণ ও কান্নাভেজা ইতিহাসের গল্প নিয়ে একটি অন্যতম বই হলো ” ইতিহাসের লাল আস্তিন “। বইটি লিখেছেন মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। যিনি একাধারে একজন আলেম, লেখক, অনুবাদক ও সম্পাদক। বইতে লেখক ১৬ টি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে রাসূল (স:) এর সাহাবীদের  বীররদর্পে যুদ্ধ করে শাহাদাত বরণের ঘটনা গল্পের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন।
    যারা আল্লাহর তায়ালার মনোনীত ধর্ম ইসলামকে সমুন্নত রাখতে ও পরকালে জান্নাত লাভের  প্রত্যাশায় যুদ্ধের ময়দানে শহীদ হয়েছেন।
    “শহীদদের প্রধান” শিরোনামের লিখায় লেখক বর্ণনা করেছেন রাসূল (স:) এর আপন চাচা হযরত হামজা (রা:) এর শাহাদাত বরণের ঘটনা। যার সম্পর্কে রাসূল (স:) বলেন ” তিনি হবেন কিয়ামতের দিন সকল শহীদদের প্রধান “।
    “প্রথম শহীদ সেই নারী” শিরোনামে উঠে এসেছে ইসলামে সর্বপ্রথম শহীদ হওয়ার মর্যাদা লাভকারী সুমাইয়া (রা:) এর ঘটনা।
    মুতার যুদ্ধে তিনি জীবনের শেষ বিন্দু থাকা পর্যন্ত তরবারীর ঝাণ্ডা হাতে লড়াই করে শহীদ হয়েছিলেন যায়েদ বিন হারেসা (রা:)। তার শাহাদাতের ঘটনাই বর্ণিত হয়েছে “ঝাণ্ডা উর্ধ্বে রাখ” শিরোনামে।
    এভাবে ১৬ টি ভিন্ন শিরোনামে উঠে এসেছে বিভিন্ন সাহাবীদের শাহাদাত বরণের হৃদয়বিদারক ঘটনা।
    এসব ঘটনা পড়লে পাঠকগণ বুঝতে পারবেন সাহাবীগন ইসলামের জন্য আল্লাহর পথে জীবন দিতে কতটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।
    .
    বইতে সাহাবীদের শাহাদাতের ঘটনা সমূহ গল্পের ছলে বর্ণনার ধারা যেন শেষ পর্যন্ত আকর্ষণ করে রাখে। গল্পগুলো পড়ার সময় যেকোনো পাঠক কাঁদবেন। চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে গড়িয়ে পড়বে অশ্রুফোটা । পাঠক হারিয়ে যাবেন মুসলমানদের ইতিহাসের সেই সোনালী যুগে। ঘটনার বাকে বাকে উপলদ্ধি করবেন সেই সময়ের বাস্তবতা। আপনাকে নিয়ে যাবে কখনো বদর, ওহুদ, ইয়ারমুক আবার কখনো ফোরাতের তীরে।
    সব মিলিয়ে বইটি খুবই ভালো এবং উপকারী।
    তাই এ জাতীয় গ্রন্থ ইসলামী মনোভাবাপন্ন সকলের জন্য একবার হলেও পড়া উচিৎ।
    Was this review helpful to you?