মেন্যু
rater adhare provur sanniddhe

রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে

প্রকাশনী : আয়ান প্রকাশন
পৃষ্ঠা : 144, কভার : পেপার ব্যাক
অনুবাদ: আব্দুল আহাদ তাওহীদ সম্পাদনা: ফেরদাউস মিক্বদাদ "তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলােকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। প্রিয় পাঠক!... আরো পড়ুন
পরিমাণ

132  240 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী প্রসাধনী

48 রিভিউ এবং রেটিং - রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে

5.0
Based on 48 reviews
5 star
95%
4 star
4%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
Showing 46 of 48 reviews (5 star). See all 48 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #ইসলামিক_বই_পরিচিতি_প্রিভিউ_প্রতিযোগিতা_আয়ান_প্রকাশন

    আবু হূরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতের তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন- কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে আর আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছে এমন , যে আমার কাছে চাইবে আর আমি তাকে দেবো? কে আছে এমন, যে কিনা আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আর আমি তাকে ক্ষমা করব?(আস সুন্নাহ:১০৮৯)

    উপরের এই হাদিস থেকে একটা কথা প্রতীয়মান হয় যে, রাত যত বাড়ে আল্লাহ তা’আলা আমাদের ততবেশী নিকটবর্তী হন। তার সাথে আমাদের সম্পর্ক মজবুত করার উত্তম সময়। আমরা যাকে বেশী ভালোবাসি তার সাথে একাকী সময় কাটাতে উপভোগ করি। তেমনি আল্লাহ আমাদেরকে ভালোবাসেন, আমরা তার গাফেল বান্দা তবুও তিনি আমাদের ভালোবাসেন। প্রতিরাতে আমাদেরকে সুযোগ দেন তার ভালোবাসা গ্রহণ করার জন্য। এই সুযোগের অন্যতম মাধ্যম হলো সালাত।

    তাই রাতের সালাত মুসলিম উম্মাহর জন্য সবচেয়ে বড় এক নিয়ামত। এ অব্ধি যত সালাফে সালিহীনরা ছিলেন তাদের মধ্যে এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যারা তাহাজ্জুদ তথা রাতের কিয়াম আদায় না করেছেন। তবে আমাদের মধ্যে এই কিয়াম নিয়ে কিছু সংশয় কাজ করে। অনেকে বলে থাকে এই সালাত সুন্নত আবার অনেকে বলে থাকে এটি নফল। কেউ বলে ৮রাকাআত আবার কেউ বলে ১২ রাকাআত। যার কারণে সালাত নিয়ে আমাদের তথা মুসলিম উম্মাহর মাঝে এক ধরণের বিভ্রান্তির সৃষ্টির হয়।

    মুসলিম উম্মাহর এই ক্রান্তিলগ্নে ফিতনার ছড়াছড়ি। কোনটা আসল আর কোনটা নকল তা না বুঝে না জেনে একটা আঁকড়ে ধরলে ফিতনায় পড়ে যাওয়ার আশংকাই বেশী। তাই প্রয়োজন তাহাজ্জুদ তথা প্রভুর সান্নিধ্য লাভের জন্য যে সালাত আদায় করতে হবে তা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখা এবং অবশ্যই সঠিক জ্ঞান।

    সেই দিক থেকে “আয়ান প্রকাশন“ থেকে প্রকাশিত মুহতারাম “আব্দুল আহাদ তাওহীদ” এর অনূদিত “রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে” নামক বইটি খুব প্রয়োজনীয় এবং বেশ তথ্যবহুল একটি বই তাহাজ্জুদ সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান উপলব্ধি করার জন্য।

    যারা সমাজের বিভ্রান্তিতে পড়ে আছেন এবং নিজমনে সন্দেহ জাগছে এতো বড় এক নিয়ামত তথা রাতের সালাতের ব্যাপারে। যারা জানতে চান সঠিকভাবে নামায পড়ার নিয়মকানুন এবং সে অনুযায়ী আমল করতে চান তাদের জন্যই এই বইটি।

    বইটির শর্ট পিডিএফটুকু পড়েই আমি বেশ অপেক্ষায় আছি বইটির জন্য। অনেকদিন থেকেই এমন একটি বই খুঁজছিলাম আমি যেখানে তাহাজ্জুদ, বিতর নামাযের নিয়মকানুন সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যে বই পড়লে সকল মতভেদ কেটে যাবে, সংশয় কেটে নতুন এক পথের সন্ধান পাবো।
    আলহামদুলিল্লাহ আমি তো পেয়ে গেছি সেই সন্ধান, তাই আপনাদেরকেও বলবো এই বইটি সংগ্রহ করার মতোই একটি বই। ভাষাও প্রাঞ্জল যা সহজেই বোধগম্য হবে সবার কাছে।
    সর্বোপরি বলবো বইটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের শ্রম সার্থক হোক। বইটি মুসলিম উম্মাহর মনে জায়গা করে নিক ইনশাআল্লাহ।

    #বই_পরিচিতিঃ
    📙 বই- রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে
    🖋 মূল- শাইখ সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী রহ.
    🖊️ অনুবাদ- আব্দুল আহাদ তাওহীদ
    মুদ্রিত মূল্য- ২৪০৳
    পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১৪৪
    বাইন্ডিং- পেপারব্যাক

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    “ভোর হওয়ার ঠিক আগেই রাত
    সবচেয়ে বেশি অন্ধকার হয়,
    সেই আঁধারে প্রভুর সান্নিধ্যে
    চাইবে না’ক তুমি?
    তাহলে এ জীবন যে রয়ে যাবে বৃথা”

    পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ
    ➖➖➖➖➖
    রাত্রির বিশেষ নফল সালাত তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ নামে পরিচিত। রমযানে এশার পর প্রথম রাতে পড়লে তাকে তারাবীহ এবং রমযানে ও অন্যান্য সময়ে শেষরাতে পড়লে তাকে ‘তাহাজ্জুদ’ বলা হয়। তাহাজ্জুদ মূল ধাতু (হুজদূন) অর্থঃ রাতে ঘুমানো বা ঘুম থেকে উঠা বা রাত্রি জাগরণ হয়ে সালাত আদায় করা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন–
    ” আমাদের পালনকর্তা মহান আল্লাহ প্রতি রাতের তৃতীয় প্রহরে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন যে, কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছো আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করব? কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? এভাবে তিনি ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত আহ্বান করেন।”
    রাতের কিছু অংশে ঘুম থেকে উঠে সালাত পড়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে বান্দা ও আল্লাহর মাঝে স্থাপিত হয় গভীর সম্পর্ক। দুনিয়াবি ব্যস্ত নাফসকে আল্লাহর ভালোবাসায় সিক্ত করার উত্তম মাধ্যম হলো কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাত। যে দুআ হয় না কবুল তাতে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত বান্দাকে আলোর পথের দিশারি দেখানোর জন্যই কিয়ামুল লাইল এবং এই কিতাবটি। ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহু তাহাজ্জুদ সালাত সম্পর্কে বলেছেন-
    “তাহাজ্জুদ সালাতে দুআর তুলনা হলো এমন যে, একটি তীর সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে।”

    সর্টপিডিএফে যা আছেঃ
    ➖➖➖➖➖➖➖➖
    সূচিপত্র প্রথমে দেখেই ‘ রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে’ কিতাবটি সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা চলে আসে। উক্ত কিতাবটি তিনটি পরিচ্ছেদ সাজানো। বলা যায়- কিতাবটিতে কিয়ামুল লাইল বা রাতের সালাত নিয়ে যথোপযোগী আলোচনা করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টপিক হলোঃ
    🔹তাহাজ্জুদ সালাতের মহাত্ম ও তাৎপর্য, রাত্রি জাগরণের ফযীলত, তা আদায় করার শ্রেষ্ঠ সময়, তার রাকাত সংখ্যা এবং রাত্রি জাগরণের আদব ও এর নির্দিষ্ট কারণসমূহ;

    🔹তারাবি সালাতের গুরুত্ব, তার বিধি-বিধান,শ্রেষ্ঠত্ব, সময় এবং তার রাকাত সংখ্যা ও তারাবির সালাত জামায়েতে করার বৈধতা;

    🔹বিতরের সালাত, তার আহকাম, গুরুত্ব প্রকারভেদ, তার সংখ্যা এবং বিতরের সালাতে কিরাত পড়া, দুআ কুনুত পড়া। ইত্যাদি

    বইটির গুরুত্বঃ(জানতে হলে পড়তে হবে)
    ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
    আমরা প্রায়শই পবিত্র মাহে রমযান এলেই নিজেদের মাঝে মতানৈক্য জড়িয়ে পড়ি। ছড়াই কলহ-বিবাদ। কেউ বলে তারাবির সালাত ৮ বা ১২। আর কেউবা বলে ২০।
    অন্যদিকে পাড়া-মহল্লা বা মসজিদের আঙ্গিনাতেও বিতরের সালাত নিয়ে আলোচনা -পর্যালোচনার কোনো কমতি থাকে না। আবার তাহাজ্জুদ সালাতের সূচনা হবে দুই রাকাত না চার রাকাতের মাধ্যমে? কেরাত স্বশব্দে হবে নাকি নিঃশব্দে? ইত্যাদি নিয়েই চলছে আমাদের মাঝে তুমুল লড়াই। এসকল বিষয়গুলোই কুরআন ও সহিহ হাদিসের মাধ্যমে লেখক খুবই নিপুণতার সাথে কলমের নিপের শক্তিতে পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছে বক্ষমান গ্রন্থটি যা পাঠকদের হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণ করতে সক্ষম হবে।

    ভালোলাগাঃ
    ➖➖➖➖➖
    বর্তমান ফিতনা ফ্যাসাদের যুগে নিজেকে ঈমানী শক্তির মাধ্যমে ঠিক রাখার মতো এই কিতাবটি। লেখক সাঈদ ইবনে ওহাফ আল কাহতানী রহ: কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে সহজ ও সুনিপুণ ভাষায় বিশদভাবে উল্লেখ করে মানুষের হৃদয়ে লালিত অসার মতানৈক্য গুলোকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছেন যা আমি মনে করি বইটি পাঠকদের আমল ও ইলমের দ্বারা দুনিয়াবিমুখ করতে বেশ উপকারী। প্রত্যেকের জন্য নাসিহা হিসেবে কাজ করবে বইটি। বইটির নামের সাথে প্রচ্ছদও মানিয়েছে এটাও আমার খুব ভালো লেগেছে।

    সর্বদায় স্মরণে যা রাখতে হবেঃ
    ➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖➖
    📖 ফজর সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হলো রাত্রি জাগরণ করে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা।
    📖যদি স্ত্রী ঘুম থেকে উঠতে অস্বীকৃতি জানায় তখন স্বামী তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দিবে। আর যদি স্বামী অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে স্ত্রী তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দিবে।
    📖রমাদান মাসে মুমিনগণ জমায়েত হয় অন্তরের দুইটি মুজাহাদের জন্য – দিনে সিয়াম পালন করা ও রাতে কিয়ামুল লাইলের দন্ডায়মান হওয়া

    পরিশেষে বলব যে,,, “রাতের আঁধারে প্রভুর সান্নিধ্যে” গ্রন্থটি প্রথম থেকে শেষ অব্দি অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘকাল তারাবী, বিতর, তাহাজ্জুদ নিয়ে তুমুল তর্ক বির্তকের নিরসন ঘঠবে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য কিয়ামুল লাইল সবচেয়ে বেশি উপকারী। মনকে দৃঢ় করতে এটা খুবই সুন্দর মাধ্যম।

    বই পরিচিতিঃ
    ➖➖➖➖➖
    বইঃ রাতের আঁধারে প্রভুর সান্নিধ্যে
    লেখকঃ শাইখ সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী রহঃ
    ভাষান্তরঃ আব্দুল আহাদ তাওহীদ
    সম্পাদকঃ ফেরদাউস মিকদাদ
    প্রকাশনিঃ আয়ান প্রকাশন – Ayan Prokashan
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৪৪
    প্রথম প্রকাশঃ মার্চ ২০২১
    মূদ্রিত মূল্যঃ ২৪০৳

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে থাকে তার প্রভুর সান্নিধ্য অর্জনের তীব্র প্রত্যাশা।
    এই সান্নিধ্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়।এই সময়ে কেউ চাইলে তার পাপের রাজ্যে অবাধে বিচরণ করতে পারে যেহেতু কেউ তাকে দেখছে না।
    অপরদিকে কেউ যদি এই সময়কে গণীমত মনে করে কিয়ামুল লাইলে বরাদ্দ করে নেয় তাহলে সে তার রবের অতি নিকটবর্তী হতে পারে তথা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।কেননা এসময় আল্লাহ বান্দার প্রতি বিশেষ করুণার নজর দিয়ে থাকেন।
    আমরা সাধারণত ঐ কাজের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করে থাকে যেই কাজের ফাযায়েল( লাভ ) আমাদের সামনে থাকে চাই সেটা দুনিয়াবী হোক কিংবা দ্বীনি বিষয়ক।আলোচ্য বইটিতে ( ‘রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে’ ) উল্লেখিত বিষয়ের বিশদ ফাযায়েল বর্ণিত হয়েছে।
    বইটিতে আলোকপাত করা হয়েছে——
    তাহাজ্জুদ সালাতের মহত্ন ও তাৎপর্য
    রাত্রি জাগরণের ফযীলত
    আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময়
    , রাকাত সংখ্যা
    রাত্রিজাগরণের আদব
    ,তারাবি সালাতের গুরুত্ব
    বিধি-বিধান,রাকাত সংখ্যা
    জামাতের সাথে তারাবী সালাত আদায়ের বৈধতা
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তার মুত্তাকী বান্দাদের গুনাবলী বর্ণ্না করতে গিয়ে বলেন—
    وَ الَّذِیۡنَ یَبِیۡتُوۡنَ لِرَبِّهِمۡ سُجَّدًا وَّ قِیَامًا ﴿۶۴﴾
    এবং তারা রাত অতিবাহিত করে তাদের রব-এর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে।(ফুরকান-৬৪)
    কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে তাদের জীবনের এ দিকগুলো সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন অন্য সূরায় বলা হয়েছেঃ “তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, নিজেদের রবকে ডাকতে থাকে আশায় ও আশংকায়।” [সূরা আস-সাজদাহঃ ১৬] অন্যত্র আরো বলা হয়েছেঃ “এ সকল জান্নাতবাসী ছিল এমন সব লোক যারা রাতে সামান্যই ঘুমাতো এবং ভোর রাতে মাগফিরাতের দোআ করতো।” [সূরা আয-যারিয়াতঃ ১৭–১৮]
    নবীজীর ভাষায়–
    রাত যখন ঘাের হয়, নিকষ কালাে অন্ধকার যখন ঢেকে নেয় সমগ্র পৃথিবীকে তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার আহবান “কে আছ এমন যে, আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।
    (সহীহ বুখারী: ১১৪৫)
    ——আর ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল তাহাজ্জুদ সালাত.(মুসলিম-১১৬৩)
    ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ বলেন–
    তাহাজ্জুদ সালাতে দোয়ার তুলনা হলো “এটি এমন একটি তীর যা সফল্ভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে।
    প্রিয় পাঠক আপনি কি চান না আপনার প্রভুর সান্নিধ্য অর্জন করতে? তাহলে আপনাকে বলবো বইটি অবশ্যই পাঠ করবেন।
    বইটির বিশেষত্বঃ
    সাবলীল বচন ও সরল অনুবাদ, সম্পূর্ণ দালিলীক আলোচনা।
    লেখক পরিচিতিঃ
    ডঃ সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহতানী, আরব বিশ্বের খ্যাতিমান গবেষক আলেম।পৃথিবী বিখ্যাত বই “হিসনুল মুসলিম” তারই রচিত।যা অনেক ভাষায় রচিত হয়েছে।সুতরাং, আলোচ্য বইটিও ইনশাআল্লাহ ব্যাপক সমাদৃত হবে।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    আরবের প্রখ্যাত শায়খ সাঈদ ইবনে ওয়াহাফ আল কাহতানী তাহাজ্জুদ, বিতর, তারাবীহ – এ তিনটি বিষয়কে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাঁর “কিয়ামুল লাইল” গ্রন্থে খুব সুন্দরভাবে আলোকপাত করেছেন। যে গ্রন্থের ভাষান্তরিত রূপ হলো “রাঁতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে ” বই।

    🟫⬛পিডিএফ কথন🟫⬛
    __________________________

    বইটির ২৪ পৃষ্ঠার একটা শর্ট পিডিএফ পড়ার পর বইটি সম্পর্কে আমার মতামত তুলে ধরছি –
    __________________________________________________________________

    ▪️বইটিতে তাহাজ্জুদ সালাতের মহত্ব্য ও তাৎপর্য, রাত্রি জাগরণের ফযিলত, তা আদায় করার শ্রেষ্ঠ সময়, রাকাত সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
    তারাবী সালাতের গুরুত্ব, বিধি-বিধান, সময় ও রাকাতসংখ্যা ও জামাআতে আদায়ের বৈধতা নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
    বিতিরের সালাত, আহকাম, গুরুত্ব, প্রকারভেদ, সংখ্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

    ▪️লেখকের উপস্থাপন সহজবোধ্য এবং অনুবাদকের অনুবাদও বেশ সাবলীল ।।

    ▪️বইটিতে বিভিন্ন তথ্যাবলি সমৃদ্ধ রেফারেন্সসহ তুলে ধরা হয়েছে।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    আসসালামুআলাইকুম

    🔹️দিনের ব্যস্ততা পেরিয়ে রাত্রি নামে। পাখিরা নীড়ে ফিরে যায়। রাত যত গভীর হয়, নিকষ কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায় চতুর্দিক। কোলাহলে মুখরিত শহর গ্রাম যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি ও অন্যান্য জীব জন্তু সবাই যখন নিদ্রা বিভোর হয়। প্রিয় থেকে অতি প্রিয়জনও ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়।
    ️ঠিক সেই সময়, হ্যাঁ, ঠিক সেই সময়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন।

    🔹️রসূল (স.) বলেছেন,
    আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের যখন শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন,
    “হে বান্দা আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করব। আমার কাছে তোমার কি চাওয়া আছে, চাও, আমি তা দান করব। আমার কাছে তোমার জীবনের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দেব।” _____বুখারী : ৬৯৮৬

    🔹️তাই তমসাচ্ছন্ন এই শান্ত নিরব পরিবেশকেই পুণ্যবান বান্দারা বেছে নেন আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার সাথে প্রেমের আলাপে মশগুল হওয়ার জন্য। এই সময়টাকেই তারা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের জন্য মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।

    🔹️এই পুণ্যবান বান্দাদের প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা নিজে করেছেন। কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা বলেছেন,

    “যে ব্যক্তি গভীর রজনীতে সিজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল হয়, পরকালের আশঙ্কা রাখে এবং তার পালনকর্তার অনুগ্রহ কামনা করে, সে কি তার সমান যে এরূপ করে না?
    আপনি বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।”___সুরা যুমার : ৯

    ___________________________________________

    📚শর্ট পিডিএফ এর আলোকে বইয়ের প্রিভিউ📚

    📘বইয়ের লেখক সম্পর্কে কিছু কথা:

    🔹️কোনো বই সম্পর্কে জানার জন্য সেই বইয়ের লেখক সম্পর্কে জানা অতীব জরুরি বলে মনে করছি। তাই বই সম্পর্কে বলার পূর্বে লেখক এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় বর্ণনা করছি।
    🔹️”রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে” বইটির মূল লেখকের নাম “ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল কাহতানী”। তিনি ১৯৫১ সালে আল আরীন, মক্কা, সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেন।

    🔹️১৪০৪ হিজরীতে জামিয়া ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সৌদি থেকে “কুল্লিয়াতু উসূলিদ দ্বীন” বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেন। এরপরে “আল হিকমাহ ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ” বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং ফিকহুদ দাওয়াহ ফি সাহিলিল ইমামিল বুখারী বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তার লিখিত ৮০টি কিতাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিসনুল মুসলিম। যা বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ কয়ে কয়েক মিলিয়ন ছাপা হয়েছে।

    🔹️এই মহান ব্যক্তি ২০১৮ সালে পহেলা অক্টোবর ৬৮ বছর বয়সে লিভার ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন।

    📘বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু কথা :

    🔹️”ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল কাহতানী” রচিত “কিয়ামুল লাইল” বইটির বঙ্গানুবাদই হলো “রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে”। রাতের ইবাদাত সম্পর্কে অনেকগুলো চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। ️”আব্দুল আহাদ তাওহীদ” এর সুন্দর, সহজ, সাবলীল ভাষান্তরে, “ফেরদাউস মিক্বদাদ” এর সম্পাদনায় “রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে” নামে ১৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটি বাংলাভাষী পাঠকদের হাতে পৌছে দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে “আয়ান প্রকাশন”।

    🔹️অসাধারণ এই বইটিকে ৩টি পরিচ্ছেদের গাঁথুনিতে কয়েকটি পাঠ বিন্যাসের মাধ্যমে রাতের ইবাদাত সম্পর্কে মনোমুগ্ধকর আলোচনায় সজ্জিত করা হয়েছে।

    ➡️বইটির প্রথম পরিচ্ছেদ হলো- “তাহাজ্জুদ ও রাত্রি জাগরন”।

    🔸️এই পরিচ্ছেদকে ৯টি পাঠে ভাগ করা হয়েছে। বিভিন্ন পাঠে আলোচিত হয়েছে- তাহাজ্জুদের গুরুত্ব, তাহাজ্জুদ সালাত কিভাবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো, রাত্রি জাগরণের ফজিলত, তাহাজ্জুদ সালাত পড়ার সবচেয়ে উত্তম সময় কখন এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।

    🔸️এছাড়াও তাহাজ্জুদ সালাতের রাকাত সংখ্যা, রাত্রি জাগরণের আদবসমূহ, রাত্রি জাগরণের নির্দিষ্ট কারণসহ, যত ইচ্ছা তত নফল নামাজ পড়া এবং বসে নামাজ পড়ার বিষয়ে অসাধারণ তথ্য যত্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ➡️দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হলো- “তারাবির সালাত”।

    🔸️এই পরিচ্ছেদে তারাবির সালাতের তাৎপর্য, নামকরনের কারন সহ তারাবির সালাত কিভাবে রাসূলের বক্তব্য ও কর্মের মাধ্যমে দিয়ে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে সাব্যস্ত, জামাতে পড়ার তারাবির সালাত বিধান সম্পর্কে অসাধারণ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    🔸️এছাড়াও রসূল (সা.) রমজান মাসে কিভাবে এই সালাতে উৎসাহ দিয়েছেন, খোলাফায়ে রাশেদীনকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, শেষ দশকে জাগ্রত থাকার সাধনা করতে বলেছেন, এশার পর কখন তারাবির সালাতের সময় এবং তারাবির সালাতের সঠিক রাকাত সংখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল আলোচনা প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ➡️তৃতীয় পরিচ্ছেদ হলো- “বিতিরের সালাত”।

    🔸️এই পরিচ্ছেদের শুরুতেই বিতিরের সালাতের বিধান, ফজিলত ও উত্তম সময় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এরপরে আলোচিত হয়েছে বিতরের সালাতের প্রকারভেদ ও সংখ্যা।

    🔸️এরপরে বিতর সালাতে কিরাত ও দোয়া কুনুত পড়ার হুকুম, হাত উত্তোলন ও মুত্তাকির আমিন বলা, কেন বিতিরের সালাত সর্বশেষ সালাত, এই সালাত শেষ করে দোয়া করা, বিতির সালাত পড়ার পরে আরেকবার না পড়া, এই সালাতের জন্য পরিবারকে জাগ্রত করা এবং বিতিরের সালাত ছুটে গেলে কি করণীয় এসব প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে এই পরিচ্ছেদের অনুপম সমাপ্তি টানা হয়েছে।

    ___________________________________________

    📚বই সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা:-

    🔹️বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় শিক্ষনীয়, চিন্তনীয় ও মনোহোর। বইটির শব্দগাঁথুনি ও বর্ণনাভঙ্গি চমত্কার। কুরআন হাদিসের আলোকে নিরুপম ভাষাশৈলীতে কথাগুলো এমন অনুপমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, কোনো পাঠক হয়তো এক বসাতেই একটানা পড়ে শেষ করে ফেলবে। ইং শা আল্লাহ। কিন্তু শর্ট পিডিএফ দেখে যা মনে হয়েছে- এই বই শুধু পড়ে শেষ করার জন্য না, এ থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবজীবনে অনুশীলনের জন্য। ️

    🔹️বইটিতে বিভিন্ন মাজহাবে রাতের সালাতের পদ্ধতি, রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে তার প্রেক্ষিতে কুরআন সুন্নাহের আলোকে সুন্দর ও লীলায়িত বাচনভঙ্গিতে আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিধানের সাথে দলিল দিয়ে সঠিক তথ্যের প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

    🔹️মন দিয়ে বুঝে পড়লে যে, এই অনবদ্য বইটির প্রতিটি পাতায় একত্রবরণ করা অলংকৃত তথ্য পাঠকের বিবেকের দুয়ারে নাড়া দিয়ে সঠিকটা জানতে ও বুঝতে সহযোগিতা করবে, তা সহজেই অনুমেয়। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️মূল্যবান তথ্য সংবলিত অভূতপূর্ব এ বইয়ের পাতায় পাতায় কুরআন হাদিসে রাতের ইবাদাতের গুরুত্ব ও সেই সাথে আমাদের প্রিয় নবীজির (সা.) কিভাবে রাতের আঁধারে ইবাদাতে মশগুল হয়ে আল্লাহ্ তাআলার সাথে বন্ধন গড়তেন, এই ইবাদাতে কতটা যত্নবান ছিলেন, এসম্পর্কে প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    🔹️এছাড়াও বইটির বাইন্ডিং ও পৃষ্ঠার মান অসাধারণ হবে আশা করি। তবে আয়ান প্রকাশনীর বইগুলোতে সাধারণত চমৎকার পৃষ্ঠাসজ্জা করা হয়। কিন্তু এই বইটিতে সেই জিনিসটা চোখে পড়ল না। বইটির হালকা পৃষ্ঠাসজ্জা মনে অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি এনে দিতো। পৃষ্ঠাসজ্জা ও কভার হার্ড হলে বইটির মান আরও বেড়ে যেত। তবে বইটির প্রচ্ছদ যেন বই টির সারমর্ম বহন করছে। বইটির অনিন্দ্য সুন্দর নামলিপি ও প্রচ্ছদ সহজেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️এই বইয়ের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বইটিতে টিকা যোগ করা হয়েছে। যা বইটির মান বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। কুরআন হাদিসের দলীল সমৃদ্ধ অসাধারণ একটি বই হবে এটি। ইং শা আল্লাহ।

    __________________________________________

    📚বইটি কাদের জন্য ও কেন পড়া উচিত বলে মনে করছি :

    🔹️নফসের কুপ্রভাব থেকে পরিত্রান পেয়ে নফসকে উন্নত করতে হলে রাতের ইবাদাতের কার্যকারিতা অতুলনীয়।

    🔹️আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা বলেন,
    ‘নিশ্চয় ইবাদতের জন্য রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল’। সুরা মু্‌যাম্মিল:৬

    🔹️ক্বলবে জমে থাকা ময়লা দূর করে, নফসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতে রাতের ইবাদত অনেক ফলপ্রসূ। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার প্রিয় বান্দাদের কাতারে নিজের নাম লেখানো সহ নিজের ভিতরে জমে থাকা দুঃখ, বেদনা, কষ্ট, হাহাকার, এবং চাওয়া পাওয়ার সব কিছু বলার জন্য রাতের ইবাদত উত্তম একটি মাধ্যম। আর এই ইবাদাতের উত্তম নির্দেশনা পেতে এই বইটি অত্যন্ত সহায়ক হবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️যারা আল্লাহর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ লাভ করতে চান, কথা বলতে চান, মহান রবের সাথে সম্পর্ক গড়ে তার প্রিয়ভাজন হতে চান বা নিজের অভিযোগ অনুযোগ পেশ করতে চান। তাদের জন্য রাতের ইবাদত থেকে উত্তম বিকল্প কি আছে? কারণ রাতের আধারে বান্দা যখন সিজদাবনত হয়ে মহান রবের সাথে একাকী মুহূর্ত কাঁটায়, তখন রব ব্যতীত কেউ কি তার পাশে থাকে?

    🔹️এটি এমন একটি ইবাদত যেখানে বান্দা ও তার রব ছাড়া অন্য কারো অংশ থাকেনা। এই ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা শুধুমাত্র তার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে। তাই এই ইবাদত একনিষ্ঠ ও সঠিকভাবে হওয়া একান্ত আবশ্যক।

    🔹️কিন্তু প্রচলিত নিয়মে ইবাদাত করে, সঠিক পদ্ধতি জানার পরে মানুষ যখন বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে বা দ্বন্দ্ব কলহে লিপ্ত হচ্ছে। তখন এই বইটির মাধ্যমে জানতে পারবে যে, কুরআন ও সুন্নাহে কিভাবে ইবাদাতের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। যা তাকে দ্বান্দ্বিক মনোভাব ও বিভ্রান্তির চোরাবালি থেকে টেনে তুলে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️মোটকথা যারা রাতের বেলা সঠিক পদ্ধতিতে প্রভূর সান্নিধ্য লাভ করতে ইবাদাতে যত্নবান হতে চান। তাদের জন্য এই বইটি একটি ফলপ্রসূ গাইডলাইন হিসেবে দারুন ভূমিকা পালন করবে। বইটি বুঝে পড়লে এবং বই থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিজের জীবনে কাজে লাগালে মানুষ সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদাত করতে সক্ষম হবে। ইং শা আল্লাহ।

    ___________________________________________

    📚পরিশেষে কিছু কথা বলি:

    🔹️আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা রাত জেগে ইবাদতকারী বান্দাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। শুধু তাই নয় বরং তাদের এই আমলের বিনিময়ে সুন্দর ও উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

    🔹️আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা বলেন,
    “তারা শয্যাত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায়, এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে। কেউ জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরষ্কার স্বরুপ।” _____সূরা সাজদা: ১৬, ১৭

    🔹️তাই রাতের বেলা সালাত আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার সহ দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য লাভ করতে এই বইটিকে উত্তম দিক নির্দেশক হিসেবে পাওয়া যাবে।

    🔹️আর এই বইটি সাধারণ গল্প উপন্যাসের মতো নিছক বিনোদনের উপকরণ নয়। এই বইটি মানুষের দ্বীন ও ঈমান কে প্রভাবিত করে, পাঠকের আমলী পরিবর্তনেও গুরুত্ব ভূমিকা পালন করবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️দোয়া করি
    লেখক, প্রকাশক, অনুবাদকসহ এই বইয়ের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, হোক তা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, প্রত্যেককে আল্লাহ তা’আলা উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমিন।

    ___________________________________________

    📚বই পরিচিতি:

    বই : রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে
    লেখক : সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী
    অনুবাদ : আব্দুল আহাদ তাওহীদ
    সম্পাদনা : ফেরদাউস মিক্বদাদ
    প্রকাশনী : আয়ান প্রকাশন
    কভার : পেপার ব্যাক
    পৃষ্ঠা : 144
    ভাষা : বাংলা

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top