মেন্যু
rater adhare provur sanniddhe

রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে

প্রকাশনী : আয়ান প্রকাশন
পৃষ্ঠা : 144, কভার : পেপার ব্যাক

অনুবাদ: আব্দুল আহাদ তাওহীদ
সম্পাদনা: ফেরদাউস মিক্বদাদ

“তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলােকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে। প্রিয় পাঠক! রাত যখন ঘাের হয়, নিকষ কালাে অন্ধকার যখন ঢেকে নেয় সমগ্র পৃথিবীকে তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার আহবান “কে আছ এমন যে, আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহীহ বুখারী: ১১৪৫)

দোআ সব সময়ই করা যায়। তবে নির্জন রাতের নিস্তব্ধ পরিবেশে তাহাজ্জুদের সালাতে আল্লাহর কাছে দোআ করার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

রাসূলের ভাষ্য:
তাহাজ্জুদ সালাত তােমাদের নিয়মিতভাবে পড়া উচিত, কেননা এটা অতীতকালের সৎকর্মশীলদের পদ্ধতি ছিল এবং স্রষ্টার নৈকট্য লাভের মাধ্যম ছিল। এই অভ্যাস পাপকর্ম থেকে বিরত রাখে, মন্দকর্ম দূর করে আর শারীরিক রােগ-ব্যাধি থেকে রক্ষা করে। (তিরমিজি)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাঁর বান্দার প্রতি বিভিন্ন সময়ে গাফফার-গফুর, রহমান-রহীম নামের উসিলায় ক্ষমার অদৃশ্য হাত সম্প্রসারিত করেন। বিশেষ করে পবিত্র মাহে রামাদানে। কারণ, এ মাসটি হচ্ছে রহমত ও কুরআন অবতীর্ন হওয়ার মাস, ক্ষমা ও শবে কদরের রজনীর ফজীলতপূর্ণ মাস।

রাসূল সা. বলেন:
“দুর্ভাগা তারা, যারা মাহে রামাদান পেয়েও মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভ করতে পারল না।”

পবিত্র মাহে রামাদানের শুরুতে আল্লাহ তাআলা জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন, জান্নাতের দরজা খুলে দেন এবং শয়তানকে শিকলবদ্ধ করে রাখেন। তাই শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়। নেক কাজে অগ্রগামী হতে পারে। বান্দা যখন উপবাস থেকে দিবসের শেষ প্রহরে উপনীত হয় তখন তার মাঝে বয়ে যায় অনাবিল সুখ-শান্তি। কেননা সে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করেছে।

হাদিস শরিফে বিতর সালাত পড়ার কয়েকটি পদ্ধতি আমরা দেখতে পাই। সেগুলাের আলােকে বিভিন্ন মাজহাবে একাধিক পন্থায় বিতর সালাত আদায়ের পদ্ধতি পরিলক্ষিতি হয় এবং তারাবী সালাতের সংখ্যা নিয়েও আমাদের সমাজে দেখা যায় তুমুল বিতর্ক-মতানৈক্য।

প্রিয় পাঠক! আর উপরােল্লিখিত এই সকল বিষয়ে কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে বিশদভাবে উল্লেখ করে মানুষের হৃদয়ে লালিত অসার মতানৈক্য নিরসন করে ইসলামের সঠিক জ্ঞান-ভাবনা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে গেঁথে দেয়ার জন্য দলীল-প্রমাণ দিয়ে উত্থাপন করেছেন আরবের বিশিষ্ট দাঈ, গবেষক, কলামিষ্ট সাইদ ইবনে ওহাফ আল কাহতানী রহ.

পরিমাণ

132  240 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী

48 রিভিউ এবং রেটিং - রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে

5.0
Based on 48 reviews
5 star
95%
4 star
4%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    প্রতিটি মুমিন হৃদয়ে থাকে তার প্রভুর সান্নিধ্য অর্জনের তীব্র প্রত্যাশা।
    এই সান্নিধ্য অর্জনের সর্বোত্তম সময়।এই সময়ে কেউ চাইলে তার পাপের রাজ্যে অবাধে বিচরণ করতে পারে যেহেতু কেউ তাকে দেখছে না।
    অপরদিকে কেউ যদি এই সময়কে গণীমত মনে করে কিয়ামুল লাইলে বরাদ্দ করে নেয় তাহলে সে তার রবের অতি নিকটবর্তী হতে পারে তথা আল্লাহর সাথে সম্পর্ক দৃঢ় হয়।কেননা এসময় আল্লাহ বান্দার প্রতি বিশেষ করুণার নজর দিয়ে থাকেন।
    আমরা সাধারণত ঐ কাজের প্রতি অধিক মনোনিবেশ করে থাকে যেই কাজের ফাযায়েল( লাভ ) আমাদের সামনে থাকে চাই সেটা দুনিয়াবী হোক কিংবা দ্বীনি বিষয়ক।আলোচ্য বইটিতে ( ‘রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে’ ) উল্লেখিত বিষয়ের বিশদ ফাযায়েল বর্ণিত হয়েছে।
    বইটিতে আলোকপাত করা হয়েছে——
    তাহাজ্জুদ সালাতের মহত্ন ও তাৎপর্য
    রাত্রি জাগরণের ফযীলত
    আদায়ের শ্রেষ্ঠ সময়
    , রাকাত সংখ্যা
    রাত্রিজাগরণের আদব
    ,তারাবি সালাতের গুরুত্ব
    বিধি-বিধান,রাকাত সংখ্যা
    জামাতের সাথে তারাবী সালাত আদায়ের বৈধতা
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তার মুত্তাকী বান্দাদের গুনাবলী বর্ণ্না করতে গিয়ে বলেন—
    وَ الَّذِیۡنَ یَبِیۡتُوۡنَ لِرَبِّهِمۡ سُجَّدًا وَّ قِیَامًا ﴿۶۴﴾
    এবং তারা রাত অতিবাহিত করে তাদের রব-এর উদ্দেশ্যে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে থেকে।(ফুরকান-৬৪)
    কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে তাদের জীবনের এ দিকগুলো সুস্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। যেমন অন্য সূরায় বলা হয়েছেঃ “তাদের পিঠ বিছানা থেকে আলাদা থাকে, নিজেদের রবকে ডাকতে থাকে আশায় ও আশংকায়।” [সূরা আস-সাজদাহঃ ১৬] অন্যত্র আরো বলা হয়েছেঃ “এ সকল জান্নাতবাসী ছিল এমন সব লোক যারা রাতে সামান্যই ঘুমাতো এবং ভোর রাতে মাগফিরাতের দোআ করতো।” [সূরা আয-যারিয়াতঃ ১৭–১৮]
    নবীজীর ভাষায়–
    রাত যখন ঘাের হয়, নিকষ কালাে অন্ধকার যখন ঢেকে নেয় সমগ্র পৃথিবীকে তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলার আহবান “কে আছ এমন যে, আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।
    (সহীহ বুখারী: ১১৪৫)
    ——আর ফরজ সালাতের পর সর্বোত্তম সালাত হল তাহাজ্জুদ সালাত.(মুসলিম-১১৬৩)
    ইমাম শাফেয়ী রহিমাহুল্লাহ বলেন–
    তাহাজ্জুদ সালাতে দোয়ার তুলনা হলো “এটি এমন একটি তীর যা সফল্ভাবে লক্ষ্যভেদ করেছে।
    প্রিয় পাঠক আপনি কি চান না আপনার প্রভুর সান্নিধ্য অর্জন করতে? তাহলে আপনাকে বলবো বইটি অবশ্যই পাঠ করবেন।
    বইটির বিশেষত্বঃ
    সাবলীল বচন ও সরল অনুবাদ, সম্পূর্ণ দালিলীক আলোচনা।
    লেখক পরিচিতিঃ
    ডঃ সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল-কাহতানী, আরব বিশ্বের খ্যাতিমান গবেষক আলেম।পৃথিবী বিখ্যাত বই “হিসনুল মুসলিম” তারই রচিত।যা অনেক ভাষায় রচিত হয়েছে।সুতরাং, আলোচ্য বইটিও ইনশাআল্লাহ ব্যাপক সমাদৃত হবে।
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    আরবের প্রখ্যাত শায়খ সাঈদ ইবনে ওয়াহাফ আল কাহতানী তাহাজ্জুদ, বিতর, তারাবীহ – এ তিনটি বিষয়কে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাঁর “কিয়ামুল লাইল” গ্রন্থে খুব সুন্দরভাবে আলোকপাত করেছেন। যে গ্রন্থের ভাষান্তরিত রূপ হলো “রাঁতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে ” বই।

    🟫⬛পিডিএফ কথন🟫⬛
    __________________________

    বইটির ২৪ পৃষ্ঠার একটা শর্ট পিডিএফ পড়ার পর বইটি সম্পর্কে আমার মতামত তুলে ধরছি –
    __________________________________________________________________

    ▪️বইটিতে তাহাজ্জুদ সালাতের মহত্ব্য ও তাৎপর্য, রাত্রি জাগরণের ফযিলত, তা আদায় করার শ্রেষ্ঠ সময়, রাকাত সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
    তারাবী সালাতের গুরুত্ব, বিধি-বিধান, সময় ও রাকাতসংখ্যা ও জামাআতে আদায়ের বৈধতা নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
    বিতিরের সালাত, আহকাম, গুরুত্ব, প্রকারভেদ, সংখ্যা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।

    ▪️লেখকের উপস্থাপন সহজবোধ্য এবং অনুবাদকের অনুবাদও বেশ সাবলীল ।।

    ▪️বইটিতে বিভিন্ন তথ্যাবলি সমৃদ্ধ রেফারেন্সসহ তুলে ধরা হয়েছে।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    আসসালামুআলাইকুম

    🔹️দিনের ব্যস্ততা পেরিয়ে রাত্রি নামে। পাখিরা নীড়ে ফিরে যায়। রাত যত গভীর হয়, নিকষ কালো অন্ধকারে ছেয়ে যায় চতুর্দিক। কোলাহলে মুখরিত শহর গ্রাম যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। মানুষ থেকে শুরু করে পশুপাখি ও অন্যান্য জীব জন্তু সবাই যখন নিদ্রা বিভোর হয়। প্রিয় থেকে অতি প্রিয়জনও ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়।
    ️ঠিক সেই সময়, হ্যাঁ, ঠিক সেই সময়, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা খুলে দেন।

    🔹️রসূল (স.) বলেছেন,
    আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের যখন শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন,
    “হে বান্দা আমার কাছে প্রার্থনা কর, আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করব। আমার কাছে তোমার কি চাওয়া আছে, চাও, আমি তা দান করব। আমার কাছে তোমার জীবনের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দেব।” _____বুখারী : ৬৯৮৬

    🔹️তাই তমসাচ্ছন্ন এই শান্ত নিরব পরিবেশকেই পুণ্যবান বান্দারা বেছে নেন আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার সাথে প্রেমের আলাপে মশগুল হওয়ার জন্য। এই সময়টাকেই তারা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য লাভের জন্য মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।

    🔹️এই পুণ্যবান বান্দাদের প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা নিজে করেছেন। কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা বলেছেন,

    “যে ব্যক্তি গভীর রজনীতে সিজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল হয়, পরকালের আশঙ্কা রাখে এবং তার পালনকর্তার অনুগ্রহ কামনা করে, সে কি তার সমান যে এরূপ করে না?
    আপনি বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তাভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।”___সুরা যুমার : ৯

    ___________________________________________

    📚শর্ট পিডিএফ এর আলোকে বইয়ের প্রিভিউ📚

    📘বইয়ের লেখক সম্পর্কে কিছু কথা:

    🔹️কোনো বই সম্পর্কে জানার জন্য সেই বইয়ের লেখক সম্পর্কে জানা অতীব জরুরি বলে মনে করছি। তাই বই সম্পর্কে বলার পূর্বে লেখক এর সংক্ষিপ্ত পরিচয় বর্ণনা করছি।
    🔹️”রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে” বইটির মূল লেখকের নাম “ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল কাহতানী”। তিনি ১৯৫১ সালে আল আরীন, মক্কা, সৌদি আরবে জন্মগ্রহণ করেন।

    🔹️১৪০৪ হিজরীতে জামিয়া ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সৌদি থেকে “কুল্লিয়াতু উসূলিদ দ্বীন” বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন সমাপ্ত করেন। এরপরে “আল হিকমাহ ফিদ দাওয়াতি ইলাল্লাহ” বিভাগে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং ফিকহুদ দাওয়াহ ফি সাহিলিল ইমামিল বুখারী বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তার লিখিত ৮০টি কিতাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিসনুল মুসলিম। যা বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ কয়ে কয়েক মিলিয়ন ছাপা হয়েছে।

    🔹️এই মহান ব্যক্তি ২০১৮ সালে পহেলা অক্টোবর ৬৮ বছর বয়সে লিভার ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন।

    📘বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কিছু কথা :

    🔹️”ড. সাঈদ ইবনে আলী ইবনে ওয়াহাফ আল কাহতানী” রচিত “কিয়ামুল লাইল” বইটির বঙ্গানুবাদই হলো “রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে”। রাতের ইবাদাত সম্পর্কে অনেকগুলো চমকপ্রদ তথ্য দিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। ️”আব্দুল আহাদ তাওহীদ” এর সুন্দর, সহজ, সাবলীল ভাষান্তরে, “ফেরদাউস মিক্বদাদ” এর সম্পাদনায় “রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে” নামে ১৪৪ পৃষ্ঠার এই বইটি বাংলাভাষী পাঠকদের হাতে পৌছে দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে “আয়ান প্রকাশন”।

    🔹️অসাধারণ এই বইটিকে ৩টি পরিচ্ছেদের গাঁথুনিতে কয়েকটি পাঠ বিন্যাসের মাধ্যমে রাতের ইবাদাত সম্পর্কে মনোমুগ্ধকর আলোচনায় সজ্জিত করা হয়েছে।

    ➡️বইটির প্রথম পরিচ্ছেদ হলো- “তাহাজ্জুদ ও রাত্রি জাগরন”।

    🔸️এই পরিচ্ছেদকে ৯টি পাঠে ভাগ করা হয়েছে। বিভিন্ন পাঠে আলোচিত হয়েছে- তাহাজ্জুদের গুরুত্ব, তাহাজ্জুদ সালাত কিভাবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো, রাত্রি জাগরণের ফজিলত, তাহাজ্জুদ সালাত পড়ার সবচেয়ে উত্তম সময় কখন এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।

    🔸️এছাড়াও তাহাজ্জুদ সালাতের রাকাত সংখ্যা, রাত্রি জাগরণের আদবসমূহ, রাত্রি জাগরণের নির্দিষ্ট কারণসহ, যত ইচ্ছা তত নফল নামাজ পড়া এবং বসে নামাজ পড়ার বিষয়ে অসাধারণ তথ্য যত্ন করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ➡️দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ হলো- “তারাবির সালাত”।

    🔸️এই পরিচ্ছেদে তারাবির সালাতের তাৎপর্য, নামকরনের কারন সহ তারাবির সালাত কিভাবে রাসূলের বক্তব্য ও কর্মের মাধ্যমে দিয়ে সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হিসেবে সাব্যস্ত, জামাতে পড়ার তারাবির সালাত বিধান সম্পর্কে অসাধারণ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

    🔸️এছাড়াও রসূল (সা.) রমজান মাসে কিভাবে এই সালাতে উৎসাহ দিয়েছেন, খোলাফায়ে রাশেদীনকে অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, শেষ দশকে জাগ্রত থাকার সাধনা করতে বলেছেন, এশার পর কখন তারাবির সালাতের সময় এবং তারাবির সালাতের সঠিক রাকাত সংখ্যা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্যবহুল আলোচনা প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ➡️তৃতীয় পরিচ্ছেদ হলো- “বিতিরের সালাত”।

    🔸️এই পরিচ্ছেদের শুরুতেই বিতিরের সালাতের বিধান, ফজিলত ও উত্তম সময় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এরপরে আলোচিত হয়েছে বিতরের সালাতের প্রকারভেদ ও সংখ্যা।

    🔸️এরপরে বিতর সালাতে কিরাত ও দোয়া কুনুত পড়ার হুকুম, হাত উত্তোলন ও মুত্তাকির আমিন বলা, কেন বিতিরের সালাত সর্বশেষ সালাত, এই সালাত শেষ করে দোয়া করা, বিতির সালাত পড়ার পরে আরেকবার না পড়া, এই সালাতের জন্য পরিবারকে জাগ্রত করা এবং বিতিরের সালাত ছুটে গেলে কি করণীয় এসব প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করে এই পরিচ্ছেদের অনুপম সমাপ্তি টানা হয়েছে।

    ___________________________________________

    📚বই সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা:-

    🔹️বইয়ের প্রতিটি অধ্যায় শিক্ষনীয়, চিন্তনীয় ও মনোহোর। বইটির শব্দগাঁথুনি ও বর্ণনাভঙ্গি চমত্কার। কুরআন হাদিসের আলোকে নিরুপম ভাষাশৈলীতে কথাগুলো এমন অনুপমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, কোনো পাঠক হয়তো এক বসাতেই একটানা পড়ে শেষ করে ফেলবে। ইং শা আল্লাহ। কিন্তু শর্ট পিডিএফ দেখে যা মনে হয়েছে- এই বই শুধু পড়ে শেষ করার জন্য না, এ থেকে শিক্ষা নিয়ে মানবজীবনে অনুশীলনের জন্য। ️

    🔹️বইটিতে বিভিন্ন মাজহাবে রাতের সালাতের পদ্ধতি, রাকাত সংখ্যা সম্পর্কে যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে তার প্রেক্ষিতে কুরআন সুন্নাহের আলোকে সুন্দর ও লীলায়িত বাচনভঙ্গিতে আলোচনা করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিধানের সাথে দলিল দিয়ে সঠিক তথ্যের প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।

    🔹️মন দিয়ে বুঝে পড়লে যে, এই অনবদ্য বইটির প্রতিটি পাতায় একত্রবরণ করা অলংকৃত তথ্য পাঠকের বিবেকের দুয়ারে নাড়া দিয়ে সঠিকটা জানতে ও বুঝতে সহযোগিতা করবে, তা সহজেই অনুমেয়। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️মূল্যবান তথ্য সংবলিত অভূতপূর্ব এ বইয়ের পাতায় পাতায় কুরআন হাদিসে রাতের ইবাদাতের গুরুত্ব ও সেই সাথে আমাদের প্রিয় নবীজির (সা.) কিভাবে রাতের আঁধারে ইবাদাতে মশগুল হয়ে আল্লাহ্ তাআলার সাথে বন্ধন গড়তেন, এই ইবাদাতে কতটা যত্নবান ছিলেন, এসম্পর্কে প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    🔹️এছাড়াও বইটির বাইন্ডিং ও পৃষ্ঠার মান অসাধারণ হবে আশা করি। তবে আয়ান প্রকাশনীর বইগুলোতে সাধারণত চমৎকার পৃষ্ঠাসজ্জা করা হয়। কিন্তু এই বইটিতে সেই জিনিসটা চোখে পড়ল না। বইটির হালকা পৃষ্ঠাসজ্জা মনে অন্যরকম আনন্দের অনুভূতি এনে দিতো। পৃষ্ঠাসজ্জা ও কভার হার্ড হলে বইটির মান আরও বেড়ে যেত। তবে বইটির প্রচ্ছদ যেন বই টির সারমর্ম বহন করছে। বইটির অনিন্দ্য সুন্দর নামলিপি ও প্রচ্ছদ সহজেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️এই বইয়ের অনন্য একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বইটিতে টিকা যোগ করা হয়েছে। যা বইটির মান বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। কুরআন হাদিসের দলীল সমৃদ্ধ অসাধারণ একটি বই হবে এটি। ইং শা আল্লাহ।

    __________________________________________

    📚বইটি কাদের জন্য ও কেন পড়া উচিত বলে মনে করছি :

    🔹️নফসের কুপ্রভাব থেকে পরিত্রান পেয়ে নফসকে উন্নত করতে হলে রাতের ইবাদাতের কার্যকারিতা অতুলনীয়।

    🔹️আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা বলেন,
    ‘নিশ্চয় ইবাদতের জন্য রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল’। সুরা মু্‌যাম্মিল:৬

    🔹️ক্বলবে জমে থাকা ময়লা দূর করে, নফসের বিরুদ্ধে জয় লাভ করতে রাতের ইবাদত অনেক ফলপ্রসূ। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলার প্রিয় বান্দাদের কাতারে নিজের নাম লেখানো সহ নিজের ভিতরে জমে থাকা দুঃখ, বেদনা, কষ্ট, হাহাকার, এবং চাওয়া পাওয়ার সব কিছু বলার জন্য রাতের ইবাদত উত্তম একটি মাধ্যম। আর এই ইবাদাতের উত্তম নির্দেশনা পেতে এই বইটি অত্যন্ত সহায়ক হবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️যারা আল্লাহর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ লাভ করতে চান, কথা বলতে চান, মহান রবের সাথে সম্পর্ক গড়ে তার প্রিয়ভাজন হতে চান বা নিজের অভিযোগ অনুযোগ পেশ করতে চান। তাদের জন্য রাতের ইবাদত থেকে উত্তম বিকল্প কি আছে? কারণ রাতের আধারে বান্দা যখন সিজদাবনত হয়ে মহান রবের সাথে একাকী মুহূর্ত কাঁটায়, তখন রব ব্যতীত কেউ কি তার পাশে থাকে?

    🔹️এটি এমন একটি ইবাদত যেখানে বান্দা ও তার রব ছাড়া অন্য কারো অংশ থাকেনা। এই ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা শুধুমাত্র তার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করে। তাই এই ইবাদত একনিষ্ঠ ও সঠিকভাবে হওয়া একান্ত আবশ্যক।

    🔹️কিন্তু প্রচলিত নিয়মে ইবাদাত করে, সঠিক পদ্ধতি জানার পরে মানুষ যখন বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে বা দ্বন্দ্ব কলহে লিপ্ত হচ্ছে। তখন এই বইটির মাধ্যমে জানতে পারবে যে, কুরআন ও সুন্নাহে কিভাবে ইবাদাতের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। যা তাকে দ্বান্দ্বিক মনোভাব ও বিভ্রান্তির চোরাবালি থেকে টেনে তুলে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️মোটকথা যারা রাতের বেলা সঠিক পদ্ধতিতে প্রভূর সান্নিধ্য লাভ করতে ইবাদাতে যত্নবান হতে চান। তাদের জন্য এই বইটি একটি ফলপ্রসূ গাইডলাইন হিসেবে দারুন ভূমিকা পালন করবে। বইটি বুঝে পড়লে এবং বই থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা নিজের জীবনে কাজে লাগালে মানুষ সঠিক পদ্ধতিতে ইবাদাত করতে সক্ষম হবে। ইং শা আল্লাহ।

    ___________________________________________

    📚পরিশেষে কিছু কথা বলি:

    🔹️আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা রাত জেগে ইবাদতকারী বান্দাদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। শুধু তাই নয় বরং তাদের এই আমলের বিনিময়ে সুন্দর ও উত্তম প্রতিদানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

    🔹️আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আলা বলেন,
    “তারা শয্যাত্যাগ করে তাদের প্রতিপালককে ডাকে আশায় ও আশংকায়, এবং আমি তাদেরকে যে রিযক দান করেছি তা হতে তারা ব্যয় করে। কেউ জানে না তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরষ্কার স্বরুপ।” _____সূরা সাজদা: ১৬, ১৭

    🔹️তাই রাতের বেলা সালাত আদায়, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার সহ দরুদ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য লাভ করতে এই বইটিকে উত্তম দিক নির্দেশক হিসেবে পাওয়া যাবে।

    🔹️আর এই বইটি সাধারণ গল্প উপন্যাসের মতো নিছক বিনোদনের উপকরণ নয়। এই বইটি মানুষের দ্বীন ও ঈমান কে প্রভাবিত করে, পাঠকের আমলী পরিবর্তনেও গুরুত্ব ভূমিকা পালন করবে। ইং শা আল্লাহ।

    🔹️দোয়া করি
    লেখক, প্রকাশক, অনুবাদকসহ এই বইয়ের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট রয়েছেন, হোক তা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, প্রত্যেককে আল্লাহ তা’আলা উত্তম প্রতিদান দান করুক। আমিন।

    ___________________________________________

    📚বই পরিচিতি:

    বই : রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে
    লেখক : সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী
    অনুবাদ : আব্দুল আহাদ তাওহীদ
    সম্পাদনা : ফেরদাউস মিক্বদাদ
    প্রকাশনী : আয়ান প্রকাশন
    কভার : পেপার ব্যাক
    পৃষ্ঠা : 144
    ভাষা : বাংলা

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 4 out of 5

    :

    🌸রাতের বেলা ইবাদতের জন্য উত্তম সময়। রাতের শেষ প্রহরকে রহমতের প্রহর বলা হয়। কারণ এ সময় মহান আল্লাহ শেষ আসমানে নেমে এসে বান্দাদেরকে আহবান করেন। এই সময়ের ইবাদতে অনেক নেকি রয়েছে।

    🌸নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামগণ রাতকে ইবাদতের জন্য উত্তম সময় হিসেবে বেছে নিতেন। দিনের ব্যস্ততা ছাড়িয়ে রাতের বেলা মহান আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার জন্য তারা রাতের বেলাতেই জিকির-আজকার, কুরআন তিলাওয়াত ও নফল সালাতে রত থাকতেন।

    🌸এসময় চারদিক প্রায় নিরব নিস্তব্ধ থাকে। নিকষ কালো অন্ধকারে এ সময় মানুষের আনাগোনা থাকে না বললেই চলে। তাই এ সময়ে নির্বিঘ্নে মহান আল্লাহর ইবাদতে নিজেকে লিপ্ত করা যায়। একমনে এক ধ্যানে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য নফল নামাজ কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকাতে ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা থাকেনা।

    🌸আর রাতের শেষ প্রহরে ইবাদতের কথা তো কুরআন হাদিসের বিভিন্ন জায়গাতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসময় মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ডাকে সাড়া দেন বান্দাদেরকে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন, ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বলেন।

    🌸হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাতের যখন শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন, হে বান্দা! আমার কাছে প্রার্থনা করো, আমি তোমার প্রার্থনা কবুল করব। আমার কাছে তোমার কি চাওয়া আছে, চাও, আমি তা দান করব। আমার কাছে তোমার জীবনের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমার গুনাহ মাফ করে দেব।’ [বুখারি : ৬৯৮৬]

    🌸এভাবে ফজরের আগ পর্যন্ত মহান আল্লাহ বান্দাদেরকে আহবান করতে থাকেন। তার আহবানে যেসব বান্দারা সাড়া দেন। কাকুতি মিনতি করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, সাহায্য প্রার্থনা করেন, তাদের ভাগ্যের দরজা যেন খুলে যায় আল্লাহর রহমতে। এই রহমতের সময় যা ইবাদত করা হয় সবকিছুই প্রায় নফলের অন্তর্ভুক্ত। আর নফলের অন্তর্ভুক্ত মানেই অতিরিক্ত ইবাদত। আর অতিরিক্ত এই ইবাদত দিয়ে মহান আল্লাহকে খুশি করা যাবে।
    ইনশাআল্লাহ।

    📖শর্ট পিডিএফ এর আলোকে কিছু কথা-

    শর্ট পিডিএফ থেকে যা জানতে পারলাম তা হল এই যে-

    🌸বইটিকে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করা হয়েছে এবং তিনটি পরিচ্ছেদে রয়েছে অনেকগুলো করে পাঠ।

    🔶️প্রথম পরিচ্ছেদে- তাহাজ্জুদ ও রাত্রি জাগরন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    🔶️দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে- তারাবির সালাত নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

    🔶️তৃতীয় পরিচ্ছেদে- বিতিরের সালাত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

    🌸বিভিন্ন মাযহাবে তাহাজ্জুদ, তারাবি ও বিতির সালাত নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। আর এই নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। রাতের সালাতের পদ্ধতি ও রাকাত সংখ্যা নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা এই বইটিতে কুরআন হাদিসের আলোকে আলোচনা করে এই দ্বন্দ্ব নিরসন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

    🌸তিনটি পরিচ্ছেদে তাহাজ্জুদ, বিতর ও তারাবি নিয়ে কুরআন হাদিসের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। “রাতের আঁধারে প্রভুর সান্নিধ্যে” বইটি একটি অনুবাদ বই। এই বইয়ের মূল লেখক “সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী”। তার লেখা “কিয়ামূল লাইল” বইটির বাংলা ভাষায় অনুবাদিত রূপই হচ্ছে “রাতের আঁধারে প্রভুর সান্নিধ্যে” বইটি। বইটি বাংলা ভাষায় সহজ সরল সাবলীল সুন্দর ভাবে অনুবাদ করেছেন “আবুল আহাদ তাওহীদ”। আর এই অনুবাদিত বইটি পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন “আয়ান প্রকাশন”।

    🌸রাতের সালাতের পদ্ধতি ও রাকাত সংখ্যা নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে তা নিরসন করতে এই বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ। বইটিতে অনুবাদক তার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সুন্দর ভাষাশৈলীতে সহজবোধ্যভাবে আলোচনা উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন।

    🌸বইটির প্রচ্ছদ বইয়ের নামের সাথে অর্থবহ হয়েছে। যা থেকে সহজেই বই সম্পর্কে অনুমান করা যাবে। এছাড়াও বইয়ের প্রচ্ছদ পাঠক কে বইয়ের ভেতর দিকে টেনে নিয়ে যেতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। বইটির কভার হার্ড হলে এটি বইয়ের মান আরও বাড়িয়ে দিত। ইনশাআল্লাহ।

    📖 পরিশেষে কিছু কথা-

    🌸দিনের বেলা থেকে রাতের বেলায় ইবাদতে একাগ্রতা স্থাপন করা তুলনামূলক সহজ। এসময় মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা সহজ হবে।ইনশাআল্লাহ।

    🌸শেষ রাতে নফল সালাত কুরআন তিলাওয়াত জিকির-আজকার তওবা ইস্তেগফার এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য অর্জন করতে চাইলে আল্লাহ তাআলা ফিরিয়ে দিবেন না। আমাদের কোনোভাবেই উচিত নয় এই সময়কে হেলায় ফেলায় কাটানো। বরং ইবাদতের দিকে আরো যত্নবান হওয়া উচিত। রাতের বেলার ইবাদতে আগ্রহী ও যত্নবান হতে এ বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ইনশাআল্লাহ।

    📖বই : রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে
    লেখক : সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী
    অনুবাদ : আব্দুল আহাদ তাওহীদ
    সম্পাদনা : ফেরদাউস মিক্বদাদ
    প্রকাশনী : আয়ান প্রকাশন

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    🔶️আমাদের পূর্বসূরিরা রাত্রিবেলাকেই ইবাদতের জন্য উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নিতেন। আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম ও তাবে-তাবেঈন সহ আমাদের দ্বীনের প্রচারকরা রাত্রি বেলাতেই কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ, জিকির-আজগার করতেন।

    🔶️আমাদের নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সারা রাতই ইবাদাতে মশগুল থাকতেন। আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতেন। উম্মাহর জন্য দোয়া করতেন। সাহাবীদেরও অনেকেই চাইতেন নবীজীকে অনুসরণ করে সারারাত ইবাদত করতে।

    🎤কেন ওনারা রাতের বেলাকেই বেছে নিলেন ইবাদতের জন্য?

    🔊 রাতের বেলা যখন পৃথিবী তমসাচ্ছন্ন হয়ে যায় তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বান্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন,

    “কে আছ এমন যে, আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছ এমন যে, আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (সহীহ বুখারী: ১১৪৫)

    🔶️আল্লাহ যখন এভাবে আহ্বান করেন। তখন কি তারা পারেন, আল্লাহর ডাকে সাড়া না দিয়ে থাকতে?

    🔶️আর এই সময় রহমতের সময়। এ সময় নীরবতার সময়। এ সময় প্রকৃতি অনেক নিরব থাকে। চারদিকে মানুষ যখন ঘুমে বিভোর হয়ে থাকে। ঠিক সেই সময় আমাদের তারা চাইতেন আল্লাহর ইবাদতে বিভোর থাকতে। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে।

    🔶️এসময় পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন। প্রকৃতি একদম চুপচাপ থাকে। জাগতিক কোন কাজের তেমন কোন তাড়নাও থাকেনা এসময়। নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির আজগার এর মাধ্যমে প্রভুর সান্নিধ্য লাভ করার উত্তম সময় এটিই। তাইতো তারা আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করার জন্য এসময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন।

    🔶️সকলের উচিত তাদের অনুসরণ করা। তাদের মতো করে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য রাত্রি জাগরন করা। নীরব নিস্তব্ধ পরিবেশে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য ইবাদতে মগ্ন হওয়া।

    🔶️অনেকেই রাতের বেলার ইবাদতে অনেক আগ্রহী। কিন্তু তারা সঠিক দিকনির্দেশনা পায়না। আবার রাত্রিবেলার ইবাদতে রাকাত সংখ্যা কত সেটা নিয়েও রয়েছে বহু মতভেদ। বিভিন্ন মাজহাবে বিভিন্নভাবে রাকাত সংখ্যা ও সালাতের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। এ নিয়ে রয়েছে অনেক মতানৈক্য। সালাতের পদ্ধতি ও রাকাত সংখ্যা নিয়ে যেন তর্ক বিতর্কের কূল কিনারা নেই।

    📖তাহাজ্জুদ, বিতর ও তারাবিহ বিষয়ে কুরআন হাদিসের আলোকে বিশদভাবে বর্ণনা করে “সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী” তার “কিয়ামূল লাইল” নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই রচনা করেন। এই বইটি “আয়ান প্রকাশন” “আব্দুল আহাদ তাওহীদ” এর অনুবাদে পাঠকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন “রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে” নামে।

    📖তাহাজ্জুদ, বিতর ও তারাবিহ নিয়ে মতানৈক্য নিরসন করতে এই বইটি অনন্য অবদান রাখবে। ইংশাআল্লাহ। বইটিতে লেখক সুন্দর, সাবলীল, সহজবোধ্য ভাষাশৈলীতে কুরআন ও হাদিসের আলোকে চমৎকার আলোচনা দক্ষতার সাথে উপস্থাপন করেছেন। হৃদয়ছোঁয়া লিখনিতে ৩টি পরিচ্ছেদে অনেকগুলো পাঠে বিভক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় সাজিয়েছেন বইটিকে। রাতের ইবাদাত কিভাবে করতে হবে সেই দিকনির্দেশনা কুরআন হাদিস থেকে নিয়ে প্রাঞ্জলভাবে তুলে ধরেছেন।

    📖এই বই অধ্যয়নের ফলে রাতের ইবাদত এর পদ্ধতি ও ফজিলত জানা যাবে ইনশাআল্লাহ। যা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাত্রিবেলার ঘুম পরিত্যাগ করে আল্লাহর জন্য রাত্রি জাগরণের প্রত্যয় জাগবে। ইংশাআল্লাহ।

    ✍️লেখা অনুসারে বইটির অর্থবহ নাম সার্থক হয়েছে। বইটির প্রচ্ছদও সামঞ্জস্যপূর্ণ। বইটি পাঠকদের হৃদয়ে এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করবে। ইংশাআল্লাহ।

    বই : রাতের আধাঁরে প্রভুর সান্নিধ্যে
    লেখক : সাঈদ ইবনে আলী আল কাহতানী
    অনুবাদ : আব্দুল আহাদ তাওহীদ
    সম্পাদনা : ফেরদাউস মিক্বদাদ
    প্রকাশনী : আয়ান প্রকাশন
    কভার : পেপার ব্যাক
    পৃষ্ঠা : 144

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top