মেন্যু
Leadership Lessons From the Life of Rasoolullah

Leadership Lessons From the Life of Rasoolullah

পৃষ্ঠা : 255, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 2nd Edition, 2015
আইএসবিএন : 9781479284030, ভাষা : English
I decided to write this for two reasons: to make the lesson from the life of Rasoolullah relating specifically to leadership easily accessible to the seeker, whether Muslim or not;... আরো পড়ুন
পরিমাণ

521  695 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - Leadership Lessons From the Life of Rasoolullah

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    mr.tahmid:

    এ পৃথিবীতে যত নেতা এসেছেন তাদের সবার অর্জনের সাথে শুধু নেতা হিসেবে আমাদের মহানবী মুহাম্মাদ (ﷺ) এর অবদানের তুলনা করলে দেখবেন যে, আমাদের নবীজিই ছিলেন সর্বকালের সেরা নেতা। এই বই সেই মহান নেতা নবীজি রাহমাতুল্লিল আলামিন (ﷺ) এর বরকতময় জীবনি থেকে নেতৃত্বের শিক্ষা নিয়ে রচিত। সীরাতবিষয়ক অনন্য এ বই এর লেখক মির্জা ইয়াওয়ার বেগ।

    বইয়ের শুরুতে শাইখ যহির মাহমুদের লেখা প্রারম্ভিকা আপনাকে বইটি শুরু করার ব্যাপারে দারুণভাবে উৎসাহ যোগাবে। বইয়ের আলোচনার শুরুতে লেখক নেতা হওয়ার ৫টি আবশ্যক প্রাথমিক শর্ত বর্ণনা করে সেগুলো সম্পর্কে সরল আলোচনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন। একজন নেতাকে অনন্যসাধারণ হতে হবে। নেতার বিশ্বাস, লক্ষ্য, মান, টিমওয়ার্ক ও কমিটমেন্ট সবকিছুতেই সে অনন্যসাধারণ হতে হবে।

    বইয়ের প্রথম অংশে লেখক অনেক দীর্ঘ আলোচনা রেখেছেন। সীরাত ও অন্যান্য আমলি বিষয়গুলো বেশি বর্ণনা করে নবীজির নেতৃত্বগুণ এসব ঘটনা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু, বইয়ের ২য় অংশে এসে লেখক ১১ টি প্রামাণ্য পয়েন্টের দ্বারা নবীজির ১১টি নেতৃত্বগুণ নিয়ে অসাধারণ আলোচনা করেছেন। সংক্ষেপে পয়েন্টগুলো হচ্ছেঃ

    ১। পরিপূর্ণ নিশ্চয়তা।
    ২। আপসহীনতা।
    ৩।সামনে থেকে বিপদের মুকাবিলা করা।
    ৪। দৃঢ়তা।
    ৫।ব্যাক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে লক্ষ্য পূরণকে অগ্রাধিকার দেয়াঃ
    ৬। জীবন্ত বার্তাঃ নবীজি যে বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, সবার আগে তিনি নিজে সেই আদর্শে জীবন পরিচালনা করেছেন।
    ৭। ঝুঁকি গ্রহণ করাঃ বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটের কাহিনী সবিস্তারে তুলে ধরে লেখক দেখিয়েছেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিপদের মুখেও সম্ভাব্য ফায়দার সুযোগটুকু লুফে নিলেন।
    ৮। দীর্ঘস্থায়ী অর্জনের স্বার্থে ক্ষণস্থায়ী অর্জনকে বিসর্জন দেয়াঃ হুদায়বিয়ার ঘটনা তুলে ধরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
    ৯। মহত্ত্ব ও ক্ষমাশীলতাঃ এবার লেখক আলোচনা করেছেন মক্কা বিজয় নিয়ে। কীভাবে প্রথম সুযোগেই নবীজি (ﷺ) তাঁর মহত্ব ও ক্ষমাশীলতার দ্বারা ঘোরতর শত্রুদেরও হৃদয়রাজ্য জয় করে নিলেন সেই কাহিনীই বর্ণিত হয়েছে।
    ১০। নিজের ইচ্ছামত নয়, নিয়মতান্ত্রিক উসুল অনুযায়ী চলা।
    ১১। আগামীর নেতা বিনির্মাণ।

    বইয়ে বর্ণিত সীরাতের ঘটনাবলী আমার অজানা কিছু ছিল না। তবে ঘটনাগুলো থেকে লেখক যেসব শিক্ষা ও নির্যাস বের করে এনেছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে অনন্যসাধারণ ছিল। মনে হচ্ছিল প্রিয়নবীর বরকতময় সীরাত কে এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে পড়লাম।পাশাপাশি বইতে সাহাবীদের জীবন থেকেও প্রচুর ঘটনা বর্ণিত ছিল।
    বইতে লেখক নবীজির জীবন থেকে নেতৃত্বের ১১টি গুণাবলী বর্ণনা করে সেগুলো নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেছেন। কখনো বদরের প্রান্তরের কাহিনীর অবতারণা করেছেন, কখনোবা শিক্ষা নিয়েছেন উহুদ থেকে। আবার কখনো হুদায়বিয়ার সন্ধিতে গিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা তুলে এনেছেন পাক্কা জহুরির চোখে।

    আমাদের নবীজি (ﷺ) শুধু একজন, দুজন না, একদল নেতাদের প্রজন্ম তৈরি করে গেছেন যারা তাঁর ওফাতের পর অর্ধেক বিশ্ব শাসন করেছেন ও নেতৃত্ব দিয়েছেন। মনে রাখবেন,মানুষ তাঁর কান দিয়ে শুনে না, চোখ দিয়ে শুনে। আপনি যে আদর্শের প্রচার করেছেন সে আদর্শের জন্য যদি নিজেকে বিপদের সামনে ঠেলে দেয়ার সাহস না করতে পারেন, তবে মানুষ কেন আপনার আহবান করা রাস্তায় জান দিবে? – নেতৃত্বের এসব উসুল যেন সিরাত থেকে আবার নতুন করে শিখলাম। এ বই যেন অন্য স্বাদের এক সিরাত; পাক্কা লিডারশিপ গুরুর চোখ থেকে।

    ||যেসব জিনিস ভালো লেগেছে||
    ১। প্রামাণ্য আলোচনা ও প্রত্যেক পয়েন্টকে উদাহারণ ও সরল বর্ণনায় ভেঙ্গে বুঝানো, ঠিক যেমন ট্রেনিং সেশনে করা হয়। লেখক সফল লাইফকোচ হওয়ায় সম্ভবত এমনভাবে লিখতে পেরেছেন।
    ২। সীরাত থেকে লীডারশিপের শিক্ষা দেয়া হয়েছে, ঠিক যেমনটি বইয়ের নাম ইঙ্গিত করে।
    ৩। পাশাপাশি আধুনিক বিশ্বের কিছু উদাহারণও টানা হয়েছে।
    ৪। বইয়ের শেষের রিভিউটাও উপকারী ছিল।
    ৫। লেখকের লেখনী খুব সুন্দর। সহজবোধ্য, প্রাণবন্ত, লেখার সাহিত্যমান উঁচু। কঠিন ইংরেজি শব্দ নাই বললেই চলে।
    ৬। বইয়ের শেষে বিখ্যাত ডিভাইন রিয়েলিটি বইয়ের লেখক ও অক্সফোরডে নাস্তিকদের সাথে স্মরণীয় বিতর্ক করে সাড়া জাগানো উস্তাদ হামজা শাইখ হামজা জর্জিসের লেখা ৮ পৃষ্ঠার দারুণ একটি রিভিউ যুক্ত হয়েছে যা সম্পূর্ণ বইয়ের সারনির্যাস পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে।
    ৭। হামজা জর্জিস বইয়ের রিভিউতে লিখেছিলেন, নবীজির জীবনকে তাওহীদের প্রিজম কাঁচের মধ্য দিয়ে লেখক ফুঁটিয়ে তুলেছেন এই বইতে। তাই নবীজির জীবন থেকে শিক্ষাগুলো তাওহীদের বর্ণিল রং এ ফুটে উঠেছে এ বইতে। বইর প্রচ্ছদও যেন এই কথারই ইশারা করছে। দারুণ প্রচ্ছদ।

    ||বইয়ের কিছু সমালোচনা||
    ১। দাম অনেক অনেক বেশি।
    ২। বইয়ের পেজ কোয়ালিটি আহামরি কিছু না। এমনকি মার্কার পেন দিয়ে দাগ দিলে পরের পাতায় গাঢ় দাগ পড়ে যায়।
    ৩। বইয়ে অল্প কিছু জায়গায় টাইপিং মিসটেক রয়েছে।
    ৪। এ বইয়ের শেষ পাতায় লেখক পরিচিতি অংশে লেখকের ছবি ছাপা হয়েছে। বিষয়টি হতাশাজনক।আলেমদের কেউ কেউ মোবাইল বা কম্পিউটারের ডিভাইসে ছবি তুলা বা রাখা জায়েজ বললেও প্রিন্ট করা ছবিকে হারাম বলেন।

    11 out of 12 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No