মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

কুররাতু আইয়ুন যে জীবন জুড়ায় নয়ন

সম্পাদনা – আব্দুল্লাহ আল মাসউদ

লেখকের ভাষায়:
এই লেখা শুধুমাত্র যারা ইসলাম অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে জীবনকে সাজাতে চান তাদের জন্য। এখানে ইসলাম মানে একটু বুঝার ব্যাপার আছে। ইসলাম মানে হল— কুরআন এবং কুরআনের ব্যাখ্যা যা নবীজী করেছেন (হাদিস), হাদিসের ব্যাখ্যা যা সাহাবীরা করেছেন (আছার), আছারের ব্যাখ্যা যা তাবেঈরা করেছেন, পূর্ববর্তী উলামাগণ (সালাফ) যার উপর ঐক্যমত পোষণ করেছেন। ইসলামকে বাঁকিয়ে পেঁচিয়ে নিজেদের মনমতো সংজ্ঞায়ন করে সাজিয়ে নিলে সেটা ইসলাম নয়। আল্লাহও যেন খুশি থাকে, আবার শয়তানও যেন নারাজ না হয়— এধরনের ইসলামের সাথে নিঃসম্পর্ক ঘোষণা করছি। মনের মত ব্যাখ্যা যাদের পছন্দ তারা এই বই পড়ে দ্বিমত করা ছাড়া বেশি উপকার পাবেন না।

এখানে সবকিছুই সুন্নাহ সাব্যস্ত, তা কিন্তু নয়। কিছু আছে দলিলসাব্যস্ত, কিছু আছে আলিমগণের নিরীক্ষিত কওল, কিছু আছে কমনসেন্স ও আদব। যদি খটকা লাগে ফিকহীভাবে আস্থাভাজন আলিমের তাহকীক ও পরামর্শ নিবেন। কিতাব যথেষ্ট না, কিতাবের সাথে রিজাল (ব্যক্তি) যুক্ত হলেই ইলম পূর্ণতা পায়। তাই এখানে যা-ই থাকুক, খটকা লাগলে নিজ পছন্দের মানহাজের আলিম থেকে যাচাই করে অনুমোদিত হলে আমল করবেন। ফিকহী বা দীনী যেটুকু শিখেছি পেয়েছি, আপনাদের খিদমতে আরজ করলাম। কারো উপকারে এলে আল্লাহ বান্দাকে সাদাকায়ে জারিয়ার বদলা দিবেন এই আশায় লিখে দিলাম। অভিজ্ঞতালব্ধ ও দীনী ও আদবগত জিনিসগুলোকে মেডিকেল সাইন্সে গুলিয়ে আপনাদের জন্য শরবত বানালাম। মন্দ লাগলে উলামা হযরতগণ তো আছেনই আমাদের সংশোধনে। আলহামদুলিল্লাহ।

পরিমাণ

131.00  175.00 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

13 রিভিউ এবং রেটিং - কুররাতু আইয়ুন যে জীবন জুড়ায় নয়ন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #বুক_রিভিউ

    বইঃ কুররাতু আইয়ুন – যে জীবন জুড়ায় নয়ন
    লেখকঃ ডা. শামসুল আরেফীন
    সম্পাদনাঃ আবদুল্লাহ আল মাসউদ
    প্রকাশনীঃ মাকতাবাতুল আসলাফ
    প্রচ্ছদঃ আবুল ফাতাহ মুন্না
    ধরনঃ মোটিভেশনাল
    প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
    পৃষ্ঠাঃ ১১৮
    মুদ্রিত মূল্যঃ ১৭৫ টাকা

    #সার_সংক্ষেপঃ

    লেখাপড়া শিখতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই পাঠ্যবই পড়তে হয়। যা আমাদের শুধু পেশাগত দিক থেকেই উন্নত করে। লেখাপড়া শিখে কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ নাবিক,কেউবা আবার শিক্ষকতা পেশা বেছে নেয়। অর্জন করে নেয় মহাসাফল্যের সোপান। কিন্তু এ জীবন তো শুধু ক্ষণস্থায়ী। এ জীবনের ব্যক্তিগত অর্জন পরকালের কোনো কাজে কখনও আসবে না। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, কেবল ততক্ষণই এ অর্জন নিজের কাজে আসবে। নিঃশ্বাস নেই তো, কারোর কোনো মূল্যও নেই। কিন্তু যদি সততা, ন্যায়পরায়ণতা আর পরোপকারীতার মাধ্যমে বিশ্বাসের ভিত গড়া যায় তবেই মানবজনম স্বার্থক। নিজের জীবনকে পরকালের জন্য সাজাতে আমাদের প্রত্যেকের দরকার ইসলামী জীবনব্যবস্থায় নিজেকে পরিপাটি করে তোলা। “কুররাতু আইয়ুন” (যে জীবন জুড়ায় নয়ন) — বইটিতে তার নির্দেশনা রয়েছে।

    #পর্যালোচনাঃ

    ভূমিকাসহ বইটিতে মোট ১১ টি অধ্যায় রয়েছে —

    ১. পরিবারে দাওয়াহ —

    বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় বাহিরে দাওয়াহর কাজে বেশ সফলতার সাথে পারদর্শী। কিন্তু পরিবারে দাওয়াহ এর কাজ সম্পন্ন করতে অক্ষম। লজ্জা, জড়তা কিংবা ভয়ে চুপসে যায়। ব্যর্থ হয় সুকৌশল অবলম্বন করে দাওয়াহ এর কাজ সম্পন্ন করতে । এই সমস্যার সমাধান হিসেবে লেখক এই অধ্যায়ে পিতামাতা, নিজের স্ত্রী, স্বামী এবং বয়স্ক সন্তানকে ভিন্ন ভিন্ন বা বিকল্প পদ্ধতিতে দাওয়াহ দেওয়ার কিছু অভিনব কৌশল শিখিয়েছেন।

    ২. বিয়ে —

    বিয়ে-অবস্থাভেদে কারো জন্য ফরজ, কারো জন্য সুন্নত; আবার কারো জন্য ওয়াজিব।। তবু কেউ কেউ বিয়ের নাম শুনলেই ভয়ে আৎকে ওঠে। অন্তরাত্মা শুকিয়ে যায়। কেমন হবে জীবন সঙ্গী, যৌতুকলোভী হবে কিনা এসব নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়ে যায়। কারোর আবার বিয়ের নাম শুনলেও মনে লাড্ডু ফুটে। আবার কিছু মানুষের কাছে সোনার হরিণের মত; যৌতুক নিয়ে কোটিপতি হবার স্বপ্ন। কেউ কেউ অর্থাভাবে উপযুক্ত থেকেও বিয়ে করতে পারে না। সেক্ষেত্রে বিয়ের নিয়ত, দুআ ও আমল,
    কিসের ভিত্তিতে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করবেন তা জানতে হবে। বিয়েতে গায়ে হলুদ জায়েজ কিনা, পর্দা কেমন থাকবে, বিয়ে কোথায় হবে, বরযাত্রী কেমন হবে, কী কী ছাড় দিতে হবে, যৌতুক নেয়া যাবে কিনা, মাহর কী পরিমাণ হবে
    ইসলামী শরীয়তের অনুমোদিত পদ্ধতিতে কিভাবে বিবাহ কার্য সম্পাদন করবেন এবং ইসলামে শরীয়তের নিষিদ্ধ কিন্তু বর্তমানে প্রচলিত যে সব কু প্রথা আমাদের সমাজে চালু আছে তা থেকে বের হয়ে আল্লাহর হুকুম ও নবীজীর সুন্নাহর অনুসরণ করে কিভাবে দাম্পত্য জীবনে সুখ শান্তি লাভ করা যাবে তা বিস্তারিত জানতে পারবেন।

    ৩. বরফ গলবেই —

    বিয়ের পরবর্তী সময়ে নববধূর সাথে শ্বশুর- শাশুড়িসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে কিভাবে একটা সু-সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, তার আলোচনা রয়েছে এ অধ্যায়ে।

    ৪. আঁতুরঘরঃ ভেতরে ও বাহির —
    “সন্তানের তারাবিয়াহ জন্মের পরে না, বরং শুরু হয় জন্মের আগ থেকেই। গর্ভধারনেরও আগ থেকে। সন্তান কেমন হবে, তা আল্লাহ নির্ধারিত তাকদীর, গায়েবের চাবি। তবে আমরা চেষ্টার জন্য জবাবদিহি করবো, তাকদীরের জন্য না।” —(পৃষ্ঠা-৪৭)

    সন্তান আল্লাহর নিয়ামত। আপনার সন্তান আপনার জন্য একটি পরীক্ষা। এজন্য সর্বপ্রথম নেক সন্তান লাভের জন্য নিয়ত করা থেকে শুরু করে স্বামী-স্ত্রীর জীবন যাত্রার পরিবর্তন, আদব ও সুন্নত এবং নেক আমল বজায় রাখা। গর্ভবতী মায়ের যত্ন, খাবার-দাবার, প্রসবকাল এবং প্রসব পরবর্তী করনীয়- ডান কানে আযান দেওয়া,বাম কানে ইকামত এবং নবীজীর সুন্নাহ মোতাবেক জন্মাবার পরই মিষ্টিমুখ ইত্যাদি সহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

    ৫. মানবশিল্প —

    সন্তান লালনপালনের জন্য মায়েরা যে ভূমিকা রাখেন, যত ত্যাগ স্বীকার করেন লেখক সেসব মমতাময় ভালোবাসার বর্ণনা সুনিপুণতার সাথে নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। এসব কাজকে লেখক মানবশিল্প বলে আখ্যায়িত করেছেন।

    এই অধ্যায়ের অন্যতম আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে নারীদের চাকরি – ব্যবসা করার পক্ষে ইসলামী অনুমোদনের অবতারণা। কোন ধরনের চাকরি আর কী রকম পর্দা করতে হবে, ঘরোয়া ভাবে কিভাবে আর্থিক স্বচ্ছলতা আনা যায় তা জানতে পারবেন এখান থেকে।

    ৬. সন্তানের তারবিয়াহ —

    শিশুকাল থেকে সন্তানকে ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চাকে প্রাথমিক শিক্ষাদান করার শুরু থেকেই শিশুর মনে ইসলামের আকিদার বীজ বপন করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে এ অধ্যায়ে আপনি পাবেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আপন নাবালক চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কে এবং লোকমান হাকিম কিভাবে আকিদা ও নসিহত শিখিয়েছেন।

    ৭. সন্তানের শিক্ষা —

    বইয়ে লেখক, সংসার, স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্যজীবন ও দায়িত্ব-কর্তব্য, সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষার ব্যাপারটাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। সন্তান লালনপালনের ক্ষেত্রে তার কিছু উপদেশ বাক্য —

    → “জন্মাবার পরই মিষ্টিমুখ বাচ্চার প্রথম চিকিৎসা।” —(পৃষ্ঠা-৫৯)

    → “সেলফি তুলবেন না, নজর লাগানোর সুযোগ রাখবেন না।”
    —(পৃষ্ঠা-৫৭)

    → “যত বেশি কোলে নেয়া হবে, ততই ইনফেকশান হবার চান্স বাড়বে।” —(পৃষ্ঠা-৫৮)

    → “এটা ব্রেন ডেভেলপমেন্টের সময়, যা শেখাবেন, যে সফটওয়্যার ইনস্টল দেবেন, তা পার্মানেন্ট হয়ে যাবে।” — (পৃষ্ঠা-৭৮)

    → “সন্তানের সাথে ও সামনে বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলুন।” —(পৃষ্ঠা-৮৩)

    → “তোমাকে এটাই হতে হবে, এটাই করতে হবে। এভাবে আটকে দেবেন না।” —(পৃষ্ঠা-৮৯)

    → “সন্তানকে অভিশাপ দেবেন না, ডিমরালাইজ করবেন না।” —(পৃষ্ঠা-৯০)

    ৮. দ্বিতীয় ভাবনা —

    আমাদের দেশে এটা মনে করা হয় যে ইসলামিক শিক্ষা অর্জন করার একমাত্র মাধ্যম হলো মাদ্রাসা। অথচ জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও মানুষ ইসলামের অনেক মৌলিক বিষয় সম্পর্কে জানে এবং ইসলামী জীবনব্যবস্থায় নিজেকে গড়ে তোলে। কেউ কেউ পুরোপুরি দ্বীনদার না হতে পারে ভবঘুরে হয়ে যায়। যার জন্য তারা দ্বীনি খেদমতের পিছনে অর্থ ব্যয় করতে চায়। তখন যদি তাদেরকে দুনিয়ার মোড়কে দ্বীন গিলিয়ে দেওয়া যায়। তাহলে মাদ্রাসা ও জেনারেল দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই একই সাথে যথাক্রমে আলেম ও দ্বীনদার মানুষ বের হবে।

    ৯. ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদ: প্রস্তাবিত কর্মপদ্ধতি —

    আমাদের দেশে নাস্তিকের অভাব নেই। তারা রিয়েল, ভার্চুয়াল সব জায়গাতেই ইসলামকে হেয় করার জন্য আজেবাজে মনগড়া কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। তাদের ইসলাম বিরোধী কথা শুনলে অনেকেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে আর গালিগালাজ করে থাকে। এতে করে আলটিমেটলি নিজের আমলনামাতে গুনাহ যুক্ত হয়ে যায়। অনেক সময় ইসলাম সম্পর্কে কম জানা ব্যক্তি তাদের সাথে তর্ক করতে গিয়ে তাদের গর্তে পা দিয়ে নিজেদের ঈমান দূর্বল করে ফেলে। এই সম্পর্কে কয়েকটি বাস্তব উদাহরন টেনে এনেছেন এই অধ্যায় আর কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

    ১০. অর্থময় জীবন —

    দাওয়াতের ক্ষেত্রে একজন দা’ঈর নমনীয়তা, কৌশল এবং ধৈর্য অবলম্বনে কিভাবে সহজে সাফল্য এসে ধরা দেয় তার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেছেন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাকে কাহিনী। এছাড়াও মুফতি তালহার চুয়াডাঙ্গা সফরের মাধ্যমে ছোট ছোট ঘটনা বর্ণনা করেছেন।

    উত্তম আখলাকের মাধ্যমে অনেক সময় মানুষকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়, যা অনেক সময় লম্বা লম্বা বয়ানের মাধ্যমে হয় না। লেখক এই অধ্যায়ে একজন দা’ঈর চারিত্রিক গুনাবলী চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন।

    ১১. একটি পরীক্ষা –
    উপেক্ষার উপাখ্যান: একজন অমুসলিম ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে লিখিত—

    “এই বিশ্বচরাচরের একজন অভিভাবক আছেন, তিনি স্রষ্টা, তিনিই সত্ত্বাধিকারী, আমরা তার সম্পত্তি, বানানো জিনিস। তিনি মৃত-অজীব নন। জবাব দেন, সাহায্যে করেন, বাবা মায়ের চেয়ে বেশি ভালোবাসেন এবং বেশি কনসার্নড। তিনি আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন, বাপের সব সিদ্ধান্ত যেমন সন্তান বোঝে না, ঠিক আল্লাহর সকল চিন্তাধারাও মানব জাতির এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক বোঝার ক্ষমতা থাকবে না স্বাভাবিকভাবেই।” — (পৃষ্ঠা-১১৩)

    একজন অমুসলিম কে দাওয়াত দিয়ে লেখক যে ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন এবং অমুসলিমের দাওয়াতের সময় সাহাবীদের কর্মপন্থা কেমন ছিলো তা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

    #পাঠ_প্রতিক্রিয়াঃ

    বইটি পড়ে আমার যে অনুভূতি হলো তা সঠিকভাবে ব্যক্ত করতে আমি অক্ষম। ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। এত সুন্দর করে কেউ বোঝাতে পারে তা আমার ভাবনায় ছিলনা। আমি যারপরনাই মুগ্ধ, বিস্মিত!

    #প্রিয়_উক্তিঃ

    → “আল্লাহ না করুন আমার মা শয্যাশায়ী হলে, আমি নিজেই আমার বউকে কাছে ঘেঁষতেও দেব না। খাওয়ানো, পায়খানা সাফ সব নিজের হাতেই করবো। নিয়ত এমন থাকা চাই। জান্নাত কামানোর এমন সুবর্ণ সুযোগ বউকে কেন দেবো?” —(পৃষ্ঠা-৩৯)

    → “স্বামীত্ব একটা ডিপ্লোম্যাটিক ও রাজনৈতিক পোষ্ট।” —(পৃষ্ঠা-৩৯)

    → “মেয়েরা হলো এমপ্লিফায়ারের মতো। যা শোনে, তা বড় করে বলে। যা পায়, তাও বড় করে দেয়।” —(পৃষ্ঠা-৪১)

    → “সবাই দ্বীনের জন্য স্যাক্রিফাইস করছি, এটা মনে করলে দেখবেন দিনশেষে সবই সুখ।” —(পৃষ্ঠা-৪৩)

    → “মুমিনের কষ্টের বদলে তার পদমর্যাদা বাড়ে।” —(পৃষ্ঠা-৫৬)

    → “অনুভূতিকে লিখে বোঝানো যায় না, অনুভূতিকে অনুভবেই বুঝতে হয়।” —(পৃষ্ঠা-৬৫)

    → “আমি কী পারি, এটা জানাটা জ্ঞান না। বরং আমি কী পারি না, এটা জানাটাই প্রকৃত জ্ঞান।” —(পৃষ্ঠা-৮১)

    → “নিজ ঈমানের ব্যাপারে ভয়ে ভয়ে থাকাটাই ঈমানের আলামত।” —(পৃষ্ঠা-১০১)

    #বৈশিষ্ট্যঃ

    “কুররাতু আইয়ুন” — বইটি জীবন গড়ার এক অপূর্ব কথামালায় সজ্জিত। সহজ ও সাবলীল ভাষায় প্রতিটি অধ্যায় লেখক তার নিজের জীবনের নানা উদাহরণের মাধ্যমে পাঠকের বোধগম্য করে তুলেছেন। সহজবোধ্য।

    বইয়ে হাদিস কুরআনের রেফারেন্স দিয়ে টীকার ব্যবহার করা হয়েছে। বইয়ের সবকিছুই যে সুন্নাহব্যস্ত তা নয়। কিছু আছে দলিলসাব্যস্ত, কিছু আছে আলেমগণের নিরীক্ষিত কওল, কিছু আছে কমনসেন্স ও আদব। বইয়ের প্রচ্ছদটাও বেশ আকর্ষণীয় ও নজর কাড়া।

    #মন্তব্যঃ

    কিছু বই পড়ে ভাবতে হয়, কী শিখলাম। শিক্ষাটা কীভাবে কাজে লাগানো যাবে। এ বই পড়ে তেমনি ধর্মবিমুখ মানুষ দ্বীনের ভাবনা ভাবতে বসবে, ইন শা আল্লাহ। এখনও যারা বইটি পড়েননি, তাদের উচিত অবশ্যই বইটি সংগ্রহ করা।

    বইয়ের শেষ পাতায় লেখকের সমাপ্তিসূচক কয়েকটি বাক্য —

    “এখন বলুন, দাওয়াত কি অপমান, নাকি আকুতি-সম্পর্কের দাবি-শেষ চেষ্টার আবেগ? আমার জবাব শেষ। এটাই সংক্ষিপ্ত। নইলে বুকের যে কষ্টটা, আকুতিটা, ব্যথাটা — সেটা লিখতে গেলে কলম সইতে পারতো না, পারবেও না।” —(পৃষ্ঠা-১১৮)

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    …….. মনটা ভালো নেই। চোখ পড়ল কুররাতু আইয়ুন এর উপর। পড়া শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ! এক অদ্ভূত ভালো লাগায় মনটা ভালো হয়ে গেল। আমিও নয়ন জুড়ানো মানুষটাকে নিয়ে স্বপ্ন বোনা শুরু করলাম……
    যারা এখনো বইটা পড়েননি, স্বপ্ন বুননের জন্য হলেও বইটা পড়ে নিতে পারেন।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5

    :

    ✿বই- কুররাতু আইয়ুন[যে জীবন জুড়ায় নয়ন]
    ✿লেখক- শামসুল আরেফীন
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

    ∎ বইটি কী নিয়ে লেখা?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    একটি নয়ন জুড়ানো জীবন গড়ার সপ্নকে বাস্তবায়নের হাতিয়ার বলা চলে বইটিকে। লেখক আপনাকে বইটির মাধ্যমে একটা সুন্দর সত্তা, সুন্দর সমাজ,সুন্দর পরিবার পাওয়ার প্র‍্যাক্টিক্যাল পথগুলো বুঝিয়ে দিবেন একজন বড় ভাইয়ের মতো করে।

    এটি নিয়েই আজকের বইটি— “কুররাতু আইয়ুন”

    ∎ কী কী পাবেন বইতে?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইটিতে যা পাবেন তা বোঝার জন্যে এর অধ্যায় শিরোনাম গুলো বলাই যথাযথ মনে করছি…গুরুত্বপূর্ণ গুলো তুলে ধরছি…
    -পরিবারে দাওয়াহ
    -বিয়ে
    -মানব শিল্প
    -সন্তানের তারবিয়াহ ও শিক্ষা
    – ইসলামবিদ্বেশী নাস্তিক্যবাদ: প্রস্তাবিত কর্মপদ্ধতি
    -অর্থময় জীবন

    ∎ কাদের জন্য বইটি?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    – আপনি নিজে দীনের পথের নতুন যাত্রী। তাই সবকিছু নিয়ে গুছিয়ে উঠতে হলে বইটি আপনার জন্যে।
    – আপনি তো ইসলাম কিছুটা মানতে শুরু করেছেন, তবে পরিবারের লোকদের কাজে আপনার অন্তর কেঁপে ওঠে। তাদের দীনের পথে আনতে আপনার জন্য এক অনন্য নাসীহাহ হবে বইটি।
    – আপনি একটা ইসলাম সম্মত সুখি পরিবার, হৃদয় প্রশান্তকারী জীবনসঙ্গী ও সন্তান কামনা করেন। তাহলেও বইটি আপনার জন্যে।
    – দাওয়াহ কাজের উত্তম সঙ্গী বানাতে পারেন বইটিকে যদি আপনি সমাজের মানুষগুলোকে ইসলামের ছায়ায় আনতে চান।

    ∎ বেস্ট পার্ট কী?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    শাশুড়ীর সাথে ছেলের বউয়ের, বাবার সাথে ছেলের, সমাজের সাথে একজন দা’য়ীর সম্পর্কটা বাস্তবিক অর্থে কেমন হওয়া চাই? এ ব্যাপারগুলো এতটাই সুন্দর করে নানান উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে বইটিতে যা অন্যকোথাও আমি এখন অবদি খুঁজে পাইনি।
    বারাকাল্লাহু ফিক!

    ∎ মন্তব্য [স্কিপ করবেন না প্লিজ]
    ▔▔▔▔▔
    “ওয়াও! এত্ত সুন্দর প্রচ্ছদ”— সবার প্রথমে এই বইটি দেখে আমার মাথায় এ কথাটাই ঘুরছিল।
    আমি প্রচ্ছদশিল্পীদের একটু অন্য রকম শ্রদ্ধার চোখে দেখি,তাদের কাজটাকে অনেক সম্মান করি। কারণ, একটা বই এর থিমটাকে যদি আপনি এর প্রচ্ছদে ফোটাতে না পারেন তাহলে বইটা হয়তো পাঠককে কিনতে আগ্রহী করবে না।

    এক্ষেত্রে আপনাদের কাছে অনুরোধ রইল যে কোনো প্রচ্ছদ ভালো লাগলে অবশ্যই তার নাম টা প্রথম পাতা থেকে দেখে নিবেন।আমি এটা করি।

    আর এ প্রচ্ছদটি করেছেন-“আবুল ফাতাহ মুন্না।” ভাইকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দান করুন সাথে লেখক ও এর সাথে জড়িত সকলকেই, আমিন!
    __________

    বুক লিংক-https://www.wafilife.com/shop/home-product/kurratu-ayyiun/

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5

    :

    আমরা সকলে চোখ জুড়ানো পরিবার,নিজের জীবন, সমাজ পছন্দ করি। চাই সব সময় এসকল জিনিসকে সুন্দর করতে। অনেকে চেষ্টা করে অনেকে করে না। যারা চেষ্টা করি তাদের মধ্যে পরিপূর্ণ ভাবে এসব গুন অর্জন করতে পারি না। কারণ আমাদের সমাজে কুরআন সুন্নাহ এর আলোকে দিক নির্দেশনা খুবই কম। এমন দিক নির্দেশনা সম্পন্ন বইয়ের মধ্যে কুরআন সুন্নাহ এর আলোকে অসাধারণ একটি বই আমি মনে করি কুররাতু আইয়ুন।

    লেখক বইটিতে তার জীবন থেকে অনুধাবন করা বিষয় গুলো কুরআন সুনাহ এর আলোকে সাজিয়েছে বইটিতে।সাধারণ জিবনে আমরা কম বেশি যেমন চাই যা চাই সব কিছু পরিষ্কার করার,সহজ সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

    বইটিতে কিভাবে পরিবরের সকল সদস্যকে দাওয়াত দিতে হবে,কুরআন সুন্নাহ এর আলোকে বিয়ে এবং এর সমাধান, স্বামী, স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ির মাঝে নানা দ্বন্দ্ব মিঠানোর উপদেশ,সন্তানকে কিভাবে গাইড করতে হবে লেখকের পিতা তাকে কিভাবে করত(আতুড়ঘর), নারীর সন্তান গড়ার শিল্প নারীর অবদান (মানবশিল্প), সন্তানকে কীভাবে শিক্ষা দিতে হবে, নিজেকেই কেমন করে দক্ষ শিক্ষক করে তুলতে হবে,( সন্তানের তারবীয়াহ )(সন্তানের শিক্ষা), শুধু মাদ্রাসা তৈরি না করে দ্বীন এর বেসিক জিনিস শেখাতে সেই মানের স্কুল, কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্ল্যান, ব্যবসা, চিকিৎসা সেবা ইত্যাদির ও ইসলামীকরনে প্ল্যান (দ্বিতীয় ভাবনা),নাস্তিকদের বেশি গুরত্ব না দেওয়া (ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদ), অমুসলিমদের প্রতি আমাদের প্রয়োজনীয় দরদের বিষয় (একটি পরীক্ষা)
    সহ আরো নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,প্ল্যান,এবং ব্যাক্তিগত মতামত তুলে ধরেছেন। যা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    লেখক তার চিন্তাকে,মেধাকে ব্যাবহার করে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন প্রকৃত কুরারাতু আইয়ুন গড়ে উঠার যা সাজেশন প্রয়োজন সব একটু একটু করে তোলে ধরার চেষ্টা করছেন বইটিতে।বইটিতে যেমন তুলে ধরা হয়েছে তা যদি সমাজে সত্যিই ফোটে উঠতো তাহলে আজকে ইসলাম এর উপর আঙ্গুল তোলার চেষ্টা ও করতো না কেউ। ব্যাক্তি,পরিবার,সমাজ সব কিছু কুরআন সুন্নাহ এর আদলে চলতো।

    ✓✓বইটি সকলকে পড়ার পরামর্শ রইলো।যাতে সামান্য কিছু হলেও আমরা নিজেদের মাঝে গড়ে তুলতে পারি,ফুটিয়ে তুলতে পারি কাজ গুলো।বইটির ২য় পার্ট ও প্রকাশিত হয়েছে ইনশা আল্লাহ বাকি যা কিছু অভাব রয়েছে টা সেটিতে পাবেন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5

    :

    বই: কুররাতু আইয়ুন
    লেখক: ডা. শামসুল আরেফীন
    সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ্ আল মাস’ঊদ
    প্রকাশনী: মাকতাবাতুল আসলাফ
    পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১৮
    • মুদ্রিত মূল্য: ১৭৫ টাকা
    • বাইন্ডিং: পেপারব্যাক

    বইটি কেন পড়বেন?

    যারা চোখ জুড়ানো ব্যক্তিজীবন ও পরিবার চান তাদের জন্য এই বইটা খুব উপকারী হবে। কথার মায়াবী জালে যাদের হৃদয় বন্দী হতে উৎসুক তারা পর্যাপ্ত পরিমান খোরাক পাবেন ইনশা আল্লাহ। এই বই আপনাকে ভাবাতে শেখাবে, প্রাকটিক্যাল হতে উদ্বুদ্ধ করবে।

    ভূমিকাঃ এখানে লেখক তার বলেছেন এই বইটির ওভার অল সম্পর্কে।
    পরিবারে দাওয়াহঃ এই অধ্যায়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের কীভাবে টেকনিক্যালি দাওয়াত দেয়া যায় তার টিপস দেয়া হয়েছে। পিতামাতা, স্ত্রী, স্বামী ও সন্তানকে দাওয়াত দেয়ার নানা উপায় একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির দৃষ্টিতে লেখক বর্ননা করেছেন। আধুনিক এই যুগে এইসব টিপস খুবই কার্যকর হবে বলেই মনে করা যায়।

    বিয়েঃ এটি জীবনের একটি অতি গুরুত্বপূর্ন ধাপ। বিয়ে করার আগে পূর্ব প্রস্তুতি দিয়ে তিনি শুরু করেছেন। কি কি করতে হবে এবং কি কি ছাড়তে হবে এগুলো বলার পর তিনি জীবনের নানা অভিজ্ঞতা থেকে পাত্রী নির্বাচন, বিয়ের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতাগুলো ধাপে ধাপে বর্ননা করেছেন।

    বরফ গলবেইঃ এই চ্যাপ্ট্যারে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব মেটাতে কীভাবে কৌশলী হয়ে এগুনো যায় তা বর্নিত হয়েছে। স্বামী, স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি সবার জন্যই রয়েছে উপদেশ, টোটকা।

    আতুড়ঘরঃ ভেতরে ও বাইরে অধ্যায়ে লেখক তার জীবনের ও ডাক্তারী পড়ালেখার অভিজ্ঞতার মিশেল ঘটিয়ে বাচ্চা পালনের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে বাচ্চা হওয়া, তাঁর পরের ১ম দিকের নানা কার্যক্রম ও ওভারওল সন্তান পালনের গাইডলাইন দিয়েছেন।

    মানবশিল্পঃ এই অধ্যায়টা লেখকের অন্যতম বেস্ট অধ্যায় হিসাবে গন্য করা যায়। মানুষ বড় করাকে এখানে তিনি ‘শিল্প’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। নারীদের তিনি মানবশিল্পীর মর্যাদা দিয়েছেন।
    সন্তানের তারবীয়াহ (দীক্ষা) এখানে সন্তানকে কীভাবে শিক্ষা দিতে হবে, নিজেকেই কেমন করে দক্ষ শিক্ষক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে তার অনেক নমুনা ও উপায় বর্নিত হয়েছে।
    সন্তানের শিক্ষাঃ এই অংশটাও বেশ গুরুত্বপুর্ন। ভাষার দক্ষতা, বিশ্লেষনী ক্ষমতা এই দুটোকেই আসল যোগ্যতা হিসাবে লেখক তুলে ধরেছেন এবং এগুলো বাড়াতে প্রয়োজনীয় উপদেশ ও নিয়ম জানিয়েছেন।

    দ্বিতীয় ভাবনাঃ এই অধ্যায়ে লেখকের একটু ভিন্নধর্মী চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে। মাদ্রাসা তৈরির চাইতে বৃহৎ অংশকে দ্বীন এর বেসিক জিনিস শেখাতে সেই মানের স্কুল, কলেজ বিশ্ব বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন তিনি। এছাড়া নানা অতি প্রয়োজনীয় সেবা যেমন ব্যবসা, চিকিৎসা সেবা ইত্যাদির ও ইসলামীকরনে তিনি চেষ্টা করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।

    ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক্যবাদঃ প্রস্তাবিত কর্মপদ্ধতি অধ্যায়ে নাস্তিকদের খুব বেশি পাত্তা না দেয়ার ও এই বিষয়ে সকলের গবেষণার প্রয়োজনীয়তা নাই মর্মে মতামত প্রকাশ করেছেন।
    অর্থময় জীবনঃ নিজেদেরকে ইসলামের একজন সফল প্রাকটিসিয়ান হিসাবে উপস্থাপনের ও নিজ নিজ জায়গায় থেকে দাওয়াত সকলের কাছে পৌছে দেবার আহবান এসেছে।

    একটি পরীক্ষাঃ উপেক্ষার উপাখ্যান অধ্যায়ে অমুসলিমদের প্রতি আমাদের প্রয়োজনীয় দরদের বিষয়টি এসেছে।

    মন্তব্যঃ লেখক ডাক্তার হওয়ায় এটি যৌক্তিক যে তিনি বেশ মেধাবী। লেখকের চিন্তাশক্তি ও প্রকাশক্ষমতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ভাষার সাথে আবেগের এমন মিশ্রন খুব কমই পাওয়া যায়। অবশ্যপাঠ্য একটি বই হিসাবে সাজেশন

    Was this review helpful to you?
  6. 5 out of 5

    :

    “আপনার সামনে আপনার পরিবারকে হিঁচড়ে জাহান্নামে নেওয়া হবে।সেদিন কেঁদেকেটে লাভ হবে না। আজকে কাঁদুন,যদি হওয়ার থাকে,আজকে কাঁদলে কিছু লাভ হতে পারে।”(বই এর লাইন)

    কেন পড়বো বইটি/যা যা শিখবোঃ
    যারা নিজ পরিবারকে নিজের মত প্র‍্যাক্টিসিং মুসলিম বানাতে চান,কিন্তু কিভাবে দাওয়াহ দিবেন বুঝতেছেন না।
    সম্পুর্ন ইসলামিক ওয়েতে বিয়ে কিভাবে হয়, জানতে চাচ্ছেন।
    বিয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি দরকার যাদের।
    স্ত্রী /স্বামী নির্বাচন করবেন যেভাবে।
    হবু শ্বশুর-শাশুড়িদের করণীয়।
    মা ও স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের ব্যালেন্স কিভাবে রাখা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
    বিয়ে করেছেন স্ত্রীকে কিভাবে দ্বীন বুঝাবেন, ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করার বিষয়টি উল্লেখ আছে বইতে।
    নিজের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই দ্বীনি বানানোর প্রসেডিওর।
    গর্ভাবস্থায় নারীদের করণীয় ও বর্জনীয়।
    নারীদের চাকরি/আলাদা পরিচয়, ইসলামে নারীর মর্যাদা এই সব নিয়ে কিছু কথা আলোচনা করে হয়েছে খুবই সুন্দর ভাবে।

    আংশিক বিবরণঃ(সম্পুর্ন বইয়ের)

    আপনি আপনার পরিবারকে ঠিক কত টুকু ভালোবাসেন? যেই ভালোবাসার কারণে আপনি চান আপনার পরিবারের সবাই জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে একটি ঘর বানাতে পারে।
    আপনি প্র‍্যাক্টিসিং মুসলিম কিন্তু ঘরের পরিবেশ খুবই আপত্তিকর?
    ছোট বোনটা পর্দা করেনা,বাবা নামাজ পড়ে না,মা হিন্দি সিরিয়াল ছাড়তে পারছে না!
    মায়ের জন্য অন্তরটা যেনো দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে,আহারে!যেই বাবা আমার জন্য সারাদিন পরিশ্রম করে, সেই বাবাই একদিন নামাজ না পড়ার কারণে শাস্তি পেতে পারে!
    উহু কি ভয়ংকর!
    আচ্ছা? আমি কি পারিনা, তাদেরকে দ্বীনের পথে আনতে?কি কি পথ আছে এখন আমার কাছে?
    যেই পথটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে দাওয়াহ!

    তবে দাওয়াহ’র প্রসেডিওর টা একেকজন সাথে একেকরকম!
    কাকে কিভাবে দাওয়াহ দিতে হবে তার চমৎকার বর্ণনা দেয়া আছে এই বইতে।
    পিতামাতাকে দাওয়াহ দেয়ার প্রসেডিওর টা সবথেকে ভিন্ন।
    স্ত্রীকে দাওয়াহ দেয়ার প্রসেডিওর আরেকরকম।

    সুন্নাতি তারিকায় বিয়ে করা,
    কি কি ছাড় দিবেন, কি কি ছাড় দিবেন না, মোহর কত হলে ভালো হয় ইত্যাদি সম্পর্কে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে।

    বিয়ে হয়ে গিয়েছে,
    মা ও স্ত্রী একেকজন একেকজনের যায়গায় সমান গুরুত্বপূর্ণ, কাউকে ছোট করে দেখা যাবে না।
    কিভাবে ব্যালেন্স রেখে সবার সাথে দ্বীনি ভাবে চলতে হয় এই আলোচনাটি অসাধারণ লেগেছে।

    সন্তানকে জন্মের আগেই দ্বীনের জন্য ওয়াকফ করা,
    সন্তানের তারবিয়াহ জন্মের পরে না, বরং শুরু হয় জন্মের আগ থেকেই,গর্ভধারণেরও আগে থেকে।
    এইযে সন্তানকে দ্বীনি বানানোর প্রসেস, কিভাবে শুরু করবেন তার বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।

    সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যেভাবে
    দ্বীন শিখাবেন, নারীদের নতুন এক পরিচয় সম্পর্কেও এক অসাধারণ আলোচনা আছে এই বইতে।

    শেষের দিকে, আমরা কিভাবে দ্বীন নিয়ে কাজ করতে পারি, কি কি পরিকল্পনা করা যেতে পারে তার আলোচনা করা হয়েছে, সবশেষে এক অমুসলিম ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে কিছু কথার বর্ননা করা হয়েছে।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  7. 5 out of 5

    :

    “সালাহউদ্দীন আইয়ুবী চান, না ব্রয়লার মুরগি চান এ সিদ্ধান্ত আপনার।”
    মনের মধ্যে গেঁথে যাওয়ার মত একটি বাক্য। যা কুররাতু আইয়ুন বইটি থেকে পেয়েছি।

    সত্যিই তো আজ আমি যেই অবস্থানে দাড়িয়ে, তার থেকে বহুগুণ খারাপ অবস্থানেও যেতে পারতাম। কিন্তু আল্লাহ্ আমাকে সঠিক সময়েই পথ দেখিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ্।

    ছোট বেলা থেকেই বড় হয়েছি একটা জঘন্য পরিবেশ থেকে। আলহামদুলিল্লাহ্। এখন থেকে তা পুরোপুরি মুক্তির চেষ্টা। ঘরকে একটি ইসলামী ঘর বানানোর প্রচেষ্টা। পূর্ব পুরুষেরা যেহেতু কেউ প্র্যাকটিসিং ছিলেন না, সেহেতু নিজেকে দিয়েই এই বংশের হাল ধরার চেষ্টা করছি। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।

    ‘কুররাতু আইয়ুন’ এর অপর নাম আমি দিতে পারি আদর্শ পরিবার গঠনের প্রতিকৃতি। এই বইটি যারা পড়েছেন তারা এর মর্ম বুঝে গেছেন। আর যারা এখনো বাকি রয়েছেন তাদের বলবো, পরিবার গর্তে যাওয়ার আগেই বইটি পড়ে ফেলুন। দেখবেন লেখক এর চমৎকার কিছু কৌশল যা আপনার পারিবারিক জীবনকে গড়ে তুলবে প্রানবন্তময়।

    বইটি থেকে যা যা জানতে পারলাম তা হলো, বাবা-মা এর প্রতি আমাদের কেমন আন্তরিকতা থাকা উচিৎ, বিবাহের পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে যা কিছু প্রয়োজন। বলতে গেলে টোটাল প্যাকেজড। অসাধারণ। আরও রয়েছে সন্তানকে ছোট থেকেই কিভাবে ইসলামের আদব শেখানো যায়।

    বইটি হাতের নেওয়ার আগে সাধারণ বই এর মতই ভেবেছিলাম। কিন্তু এতো বড় কিছু শিক্ষা পাবো তা আশাও করিনি। ডাক্তার হয়ে যখন লেখক তখন তো বই আর বই থাকেনা। এ যেনো হয়ে উঠে গল্পে গল্পে প্রেসক্রিপশন।

    সত্যিই! অসাধারণ একটি বই। লেখক এর জন্য মন থেকে দুআ। আর ভাইজান এর সাথে দেখা হলে তাকে জড়িয়ে ধরে বলতে চাই, ভাইজান আপনাকে ভালোবাসি এক আল্লাহর জন্য।

    কিছু ব্যক্তিগত মতামত দিতে পারি। এই বইটা বিয়ের পর প্রতিদিন পড়ার উপযোগী একটি বই। স্টিকি নোট এর সাথে এই বই এর শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু গুলো ঘরের মধ্যে লাগানো যেতে পারে যেখানে সহজেই চোখ যায়।
    #MRHR

    Was this review helpful to you?
  8. 5 out of 5

    :

    “আপনার সামনে আপনার পরিবারকে হিঁচড়ে জাহান্নামে নেওয়া হবে।সেদিন কেঁদেকেটে লাভ হবে না। আজকে কাঁদুন,যদি হওয়ার থাকে,আজকে কাঁদলে কিছু লাভ হতে পারে।”(বই এর লাইন)

    ★কেন পড়বো বইটি/যা যা শিখবোঃ
    *যারা নিজ পরিবারকে নিজের মত প্র‍্যাক্টিসিং মুসলিম বানাতে চান,কিন্তু কিভাবে দাওয়াহ দিবেন বুঝতেছেন না।
    *সম্পুর্ন ইসলামিক ওয়েতে বিয়ে কিভাবে হয়, জানতে চাচ্ছেন।
    *বিয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি দরকার যাদের।
    *স্ত্রী /স্বামী নির্বাচন করবেন যেভাবে।
    *হবু শ্বশুর-শাশুড়িদের করণীয়।
    *মা ও স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের ব্যালেন্স কিভাবে রাখা যায় তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
    *বিয়ে করেছেন স্ত্রীকে কিভাবে দ্বীন বুঝাবেন, ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করার বিষয়টি উল্লেখ আছে বইতে।
    *নিজের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই দ্বীনি বানানোর প্রসেডিওর।
    *গর্ভাবস্থায় নারীদের করণীয় ও বর্জনীয়।
    *নারীদের চাকরি/আলাদা পরিচয়, ইসলামে নারীর মর্যাদা এই সব নিয়ে কিছু কথা আলোচনা করে হয়েছে খুবই সুন্দর ভাবে।

    আংশিক বিবরণঃ(সম্পুর্ন বইয়ের)

    আপনি আপনার পরিবারকে ঠিক কত টুকু ভালোবাসেন? যেই ভালোবাসার কারণে আপনি চান আপনার পরিবারের সবাই জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে একটি ঘর বানাতে পারে।
    আপনি প্র‍্যাক্টিসিং মুসলিম কিন্তু ঘরের পরিবেশ খুবই আপত্তিকর?
    ছোট বোনটা পর্দা করেনা,বাবা নামাজ পড়ে না,মা হিন্দি সিরিয়াল ছাড়তে পারছে না!
    মায়ের জন্য অন্তরটা যেনো দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে,আহারে!যেই বাবা আমার জন্য সারাদিন পরিশ্রম করে, সেই বাবাই একদিন নামাজ না পড়ার কারণে শাস্তি পেতে পারে!
    উহু কি ভয়ংকর!
    আচ্ছা? আমি কি পারিনা, তাদেরকে দ্বীনের পথে আনতে?কি কি পথ আছে এখন আমার কাছে?
    যেই পথটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে দাওয়াহ!

    তবে দাওয়াহ’র প্রসেডিওর টা একেকজন সাথে একেকরকম!
    কাকে কিভাবে দাওয়াহ দিতে হবে তার চমৎকার বর্ণনা দেয়া আছে এই বইতে।
    ★পিতামাতাকে দাওয়াহ দেয়ার প্রসেডিওর টা সবথেকে ভিন্ন।
    ★স্ত্রীকে দাওয়াহ দেয়ার প্রসেডিওর আরেকরকম।

    ★সুন্নাতি তারিকায় বিয়ে করা,
    কি কি ছাড় দিবেন, কি কি ছাড় দিবেন না, মোহর কত হলে ভালো হয় ইত্যাদি সম্পর্কে বিষদ আলোচনা করা হয়েছে।

    ★★ বিয়ে হয়ে গিয়েছে,
    মা ও স্ত্রী একেকজন একেকজনের যায়গায় সমান গুরুত্বপূর্ণ, কাউকে ছোট করে দেখা যাবে না।
    কিভাবে ব্যালেন্স রেখে সবার সাথে দ্বীনি ভাবে চলতে হয় এই আলোচনাটি অসাধারণ লেগেছে।

    ★★ সন্তানকে জন্মের আগেই দ্বীনের জন্য ওয়াকফ করা,
    সন্তানের তারবিয়াহ জন্মের পরে না, বরং শুরু হয় জন্মের আগ থেকেই,গর্ভধারণেরও আগে থেকে।
    এইযে সন্তানকে দ্বীনি বানানোর প্রসেস, কিভাবে শুরু করবেন তার বিস্তারিত বর্ননা করা হয়েছে।

    ★★সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যেভাবে
    দ্বীন শিখাবেন, নারীদের নতুন এক পরিচয় সম্পর্কেও এক অসাধারণ আলোচনা আছে এই বইতে।

    ★★শেষের দিকে, আমরা কিভাবে দ্বীন নিয়ে কাজ করতে পারি, কি কি পরিকল্পনা করা যেতে পারে তার আলোচনা করা হয়েছে, সবশেষে এক অমুসলিম ভাইয়ের প্রশ্নের জবাবে কিছু কথার বর্ননা করা হয়েছে।

    Was this review helpful to you?
  9. 5 out of 5

    :

    “পাঠ্যপুস্তক আমাদের শুধু ভালো কেরানী আর পুঁজিবাদের সেবক হওয়া শেখায়। যেন চাকরিগিরির ক্যারিয়ারই সব। টাকা কামানোই জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা যদি ভবিষ্যত জীবনের জন্য আমাদের গড়ে তোলার’ই দাবী করে, তবে ভালো চাকুরের সাথে ভালো স্বামী, ভালো বাবা কিংবা ভালো সন্তান হওয়ার সিলেবাস কোথায়? তার মানে ওরা আপনার সুন্দর জীবন চায় না, চায় শুধু আপনার সুন্দর সার্ভিস টুকু। ষাট বছর হলে ছিবড়ে ফেলে দেবে ছুঁড়ে, ব্যস” ___কুররাতু আইয়ুন
    .
    ★বিষয়বস্তুঃ
    প্রফেশনালরা আপনার জীবনের সৌন্দর্যের পূজারী নয়। তারা শুধুমাত্র আপনার সার্ভিসিং নিয়েই তটস্থ। আপনার ছেলে মানুষ হলো কিনা, মেয়ে বিপথে চলে গেলো কিনা তা দেখা তাদের বিষয়বস্তুর মধ্যে পড়েই না। আপনার ডিভোর্সে তাদের কিচ্ছু আসে যায় না কিংবা আপনার মা-কে বৃদ্ধাশ্রমে কেন পাঠালেন তার কৈফিয়ত ও চাইতে আসবে না। স্রেফ আপনার কাজ নেওয়ার জন্যই তাদের এত রঙচঙা আয়োজন, এত এত….
    এই বইটি আমাদের সিলেবাসের সেই অসূর্যম্পশ্যা অংশটুকু নিয়েই, যেগুলো কখনো আলোর মুখ দেখে নি।

    সহজে বলা যেতে পারে, নয়ন জুড়ানো জীবনের সাবলীল প্রেশক্রিপশান। অতি সূক্ষ্ম চিন্তাধারা আর লেখকের অসাধারণ জীবনদর্শনকে গৎবাঁধা প্রবন্ধে মলাটবদ্ধ না করে বরং লেখক একে প্রাণবন্ত আড্ডার মতো করে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। যেন লেখক বলে চলেছেন আর আমরা শুনছি। বর্তমান পরিবার আর গুণে ধরা সমাজব্যবস্থার সমস্যাগুলোর সূক্ষ্মতম দিকটিও চিহ্নিত করে দেখিয়েছেন, যেসব নিয়ে আমাদের ভাবারই ফুরসত হয় না। সেইসাথে যুগপৎভাবে দেখিয়েছেন কুরআন-হাদিসের আলোকে যুগোপযোগী সমাধানের আলোকবার্তিকা।
    .
    ভূমিকা সহ বইটিতে মোট ১১টি টপিক
    নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক। প্রতিটি টপিকের সাবলীল আলোচনা আর লেখকের নিজের জীবনের সাদৃশ্যতার সাথে সুকৌশল উপস্থাপন বইটির বিশেষত্ব আরো কয়েক চামচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
    .
    ★সারসংক্ষেপঃ
    প্রথম টপিকটি হলো পরিবারের দাওয়াহ নিয়ে। গোড়াতেই লেখক তার দেখা একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন যেটি পরিবারের দাওয়াহ’র বিষয়টি আরো সুগভীর উপলব্ধির হেতু হয়ে যায়। আমরা অনেকেই বাইরে দাওয়াহ’র কাজে ভীষণ সচেতন। কিন্তু পরিবারের দাওয়াহ’র বিষয়ে বেখেয়াল অথবা কোথা থেকে শুরু করবো বুঝে উঠতে পারিনা। এই টপিকটি পড়লে আপনি আপনার সমাধান পাবেন ইনশাআল্লাহ। লেখক বিভিন্ন আঙ্গিকে চমৎকার কিছু কৌশল অবলম্বন করেছেন।
    পৃথক পৃথকভাবে পিতামাতা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান সন্ততির মনোজগৎ বিশ্লেষণ করে দাওয়াহ’র কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন।

    পরবর্তী টপিকে বিয়ে নিয়ে আলোচনা। আজকালকার বিয়ে মানেই ফ্যান্টাস্টি তথা ফিতনা! নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে আমরা পশ্চিমা ও হিন্দুয়ানী রুসুমের দিকে ঝুঁকে পড়েছি। এত্তোসব রেওয়াজের ভিড়ে তাই আজ পাত্রীর বাবারা কন্যা দায়গ্রস্ত আর পাত্রপক্ষ যৌতুক আর দেনাপাওনার লোভে বিভৎস!
    অথচ, ইসলামে বিয়ে কত সহজ আর চক্ষুশীতলকারক। আমরাই আজ বিয়েকে কঠিন করে ফেলেছি, তাই তো চারিদিকে হারাম সম্পর্ক আর জিনার ছড়াছড়ি।
    লেখক এই টপিকে ইসলামিক্যালি বিয়ে নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিয়ের চেষ্টা ও নিয়ত, পাত্র-পাত্রী নির্বাচন, যৌতুক পরিহার, মাহর, পর্দা সহ বিয়ের সর্ববিষয় আলোচনা করেছেন। ‘মসজিদে বিয়ে’ কিংবা ‘খেজুর ছিটানো’র- মতো কিছু হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ’র কথা তুলে ধরেছেন
    .
    তৃতীয় টপিকটির শিরোনামঃ “বরফ গলবেই”!
    এটা হলো পরিবারের অধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশটি। বর্তমানে পারিবারিক মেলবন্ধনের অভাব পবিত্র সম্পর্কগুলোকে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই বইছে অশান্তির কালোবাতাস। এর কারণ ও প্রতিকারের বিষয়টিই হচ্ছে এই টপিকের আলোচ্য বিষয়।
    ভাইয়েরা কিভাবে মা ও বউয়ের মাঝে ব্যালেন্স রেখে সংসার চালাবেন, বোনেরা কিভাবে শাশুড়ীর মন জয় করবেন, এমনকি শশুড়-শাশুড়ীরা কিভাবে সবকিছু মেইনটেইন করবেন, তারই সুস্পষ্ট ও চমৎকার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন লেখক এই অংশে।

    এর পরের আলোচ্য বিষয় সন্তান জন্মের আগে ও পরে মায়ের করণীয় বিষয়াবলী। সন্তান জন্মের আগেই সন্তানের তারবিয়াহ শুরু হয়। তাই গর্ভকালীন সময় মায়েরা কি কি আমল করবেন তথা সন্তানকে কি কি শেখাবেন, তার পদ্ধতিগুলো তুলে ধরা হয়েছে। যুগপৎ মেডিক্যাল সাইন্স ও ইসলামিক্যালি প্রসূতি মায়েদের যত্ন,খাবারদাবার গর্ভকালীন ও গর্ভপরবর্তী করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াদির প্রতি আলোকপাত করা হয়েছে।
    .
    এরপরে কবি মানবশিল্পীদের গান গেয়েছেন। নিশ্চয়ই ভাবছেন মানবশিল্পী কারা?
    আপনার ঘরে মমতাময়ী মা কিংবা আপনার আপনার স্ত্রী-ই আপনার উত্তর, যারা গৃহস্থালীর প্রতিটি কর্ম প্রত্যহ নিখুঁত ভাবে করে। যার নিপুণ হাতে গড়ে উঠে পৃথিবীর নিপুণতম শিল্প। লেখক তার নাম দিয়েছেন মানবশিল্প।
    লেখক আহবান করেছন ভোগবাদীর দাসত্ব থেকে বেরিয়ে এসে দুনিয়া দেখতে। ক্যারিয়ারিজম কখনোই ঐতিহ্যবাহী মানবশিল্পের আরাধ্য হতে পারেনা। ইসলাম নারীদের আয় করার সুযোগ দিয়েছে, তবে তা নিজস্ব সত্তাকে ভুলে নয়। এই মানবশিল্পের খাতিরেই ইসলাম নারীদের অব্যহতি দিয়েছে রোজগারের বাধ্যবাধকতা, যুদ্ধের দায়িত্ব কিংবা শাসন থেকে!
    নারীবাদীর চক্করে নিজ শিল্পকে বেখেয়াল বুয়ার হাতে তুলে দিয়ে আনফিট একটা প্রজন্ম গড়ার জবাবদিহি নারীরা কিভাবে করবে? সেটাই সময়ের দাবী।

    ৬ষ্ঠ টপিক সন্তানের তারাবিয়াহ নিয়ে। সন্তানের দীক্ষার ব্যাপারে আজকাল মা-বাবারা উদাসীন বলা চলে। বুঝতে শিখার আগেই কিন্ডারগার্টেনে পাঠিয়ে দিয়ে নিজেরা বেমালুম বেখেয়াল হয়ে যায়। এই টপিকে সন্তানদের দীক্ষাগুরু হয়ে মা-বাবার করণীয় পদ্ধতিগুলোই হাইলাইট করেছেন লেখক।
    .

    এর পরের টপিকটি সমাজের সেই অংশটিকে নিয়ে, যারা দ্বীন সম্পর্কে বেখবর! এদের দুনিয়ার মোড়কে দীন গিলানোর অসাধারণ ও ভিন্ন কর্মপন্থার উল্লেখ করেন লেখক। আমরা মাদ্রাসাকে ইসলামিক শিক্ষা অর্জনের একমাত্র উৎস হিসেবে মনে করি। অথচ একটা বৃহৎ অংশ, যারা কিনা জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে। তাই লেখক প্রস্তাব করেছেন দ্বীনী স্কুল-কলেজ, দ্বীনী হাসপাতাল দ্বীনী মার্কেট তৈরী করার যেগুলো এই বেখেয়াল অংশটা ব্যবহার করে। এতে করে দুনিয়ার মোড়কে এদের ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানানোর কাজ হয়ে হয়ে যাবে।
    .
    এরপরের টপিক নাস্তিক্যবাদ নিয়ে। নাস্তিক্যবাদ বর্তমানের বহুল আলোচিত বিষয়ের মধ্যে একটি। এদের ভিত্তিহীন ও আক্রমণাত্মক কথাবার্তার জবাব না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন লেখক। আর যারা জানতে আগ্রহী, তাদের লিংক, বই ইত্যাদি দেওয়ার সাজেস্ট করেছেন। সাথে আরো অনেকগুলো টিপস ও দিয়েছেন।

    পরের টপিকটি হলো অর্থময় জীবন। নিজের আখলাক দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করার ভূমিকা যে কতটা ফলদায়ক তা’ই এখানে আলোচ্য। দাওয়াহ’র ক্ষেত্রে একজন দাঈ’র ধৈর্য্য আর নমনীয়তা কিভাবে মানুষকে প্রভাবিত করে, তার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে লেখক দেখিয়েছেন মুফতী তালহার দাওয়াতের সাফল্য। নিজেকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন আপনার আদর্শে আকৃষ্ট হয়ে মানুষ আপনার সান্নিধ্য কামনা করে। দ্বীন এমনই, যা কিনা মানুষকে পাগল করে দিতে পারে যেমনটি মহামানব নবীজি (সঃ) এর আখলাকের গুণে মুমিন-মুশরিক সবাই পাগল ছিলো। লম্বা বয়ানে বোঝানোর জিনিস না, দেখানোর জিনিস। ঠিকঠাক দেখিয়ে দিতে পারলেই কেল্লাফতে!
    লেখক বলেন, নিশ্চয়ই এ দ্বীন বিজয়ী হওয়ার জন্য এসেছে। দেখার বিষয় এটাই যে, এই বিজয়ে আপনার-আমার ভূমিকা কতটুকু!
    .
    সর্বশেষে লেখক একজন অমুসলিমের প্রশ্নের যৌক্তিক ও আবেগী উত্তর দিয়েছেন। প্রশ্নোত্তরের ভূমিকক শেষে লেখক বলেন, অন্য ধর্মমত তিনি সম্মান করেন না, আবার অবমাননাও করেন না। কিন্তু একটা কুকুর বিড়ালে পুড়তে থাকলে,তাকে বাঁচানো মানবতার দাবী! সেখানে আমারই অমুসলিম ভাই ভুল উত্তরের কারণে নরকের ৭০ গুণ তেজের আগুনে পুড়বে, এটা আমরা কিভাবে সহ্য করি?
    আরো দু’ চামচ আবেগ মিশ্রিত করে দেন লেখক শেষটায়, “এবার বলুন, দাওয়াত কি অপমান, নাকি আকুতি-সম্পর্কের দাবী-শেষ চেষ্টার আবেগ?
    .

    ★বই সম্পর্কে কিছু কথাঃ
    – ১১৮ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইয়ে আছে নয়ন জুড়ানো জীবন প্রাপ্তির মূল্যবান সব থিওরী। আপনি বইটি পড়বেন আর নিজেদের জীবনের অন্তঃসারশূন্যতার কথা উপলব্ধি করবেন, সেই সাথে পেয়ে যাবেন পরিবর্তনের আলোকছটা; একটা কম্পলিট গাইডলাইন।

    -বইয়ের ফুডনোটে টীকা ব্যবহার আলোচনাকে আরো বোধগম্য করেছে। সেইসাথে লেখকের শব্দচয়নের বৈচিত্র্যতা আর পটু লিখনশৈলী প্রসঙ্গ’কে আরো উপভোগ্য করে তুলেছে।

    – বইয়ের প্রচ্ছদটা ভীষণ সুন্দর। প্রচ্ছদ দেখেই যে কারো পড়তে ইচ্ছে করবে বইটা।
    সম্পর্কের বন্ধনের মতো কুররাতু আইয়ুন-কে দুটো সেফটিপিন আটকে রেখেছে একত্রে আর উপর দিয়ে বইছে রহমতের বারিধারা। মাশাআল্লাহ ♥

    – বইয়ের বাইন্ডিং যথেষ্ট ভালো ও পেপারব্যাক কোয়ালিটির।

    ★নেতিবাচক দিকঃ
    – বস্তুত, বইটি অনেকাংশেই ফেইসবুকীয় স্টাইলে লেখা, যেটা লেখক নিজেই স্বীকার করেছেন। তাই, সাধারণ মানুষরদের কিছু বিষয় সাবলীলভাবে বুঝাটা সময়সাপেক্ষ হতে পারে! আর, দু-একটি বানান ভুল (হয়তো টাইপিং মিসটেক) ছাড়া সবকিছুই আকর্ষণীয় বইটার।
    .
    ★শেষকথাঃ
    অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এই বইটি পড়ার অনুরোধ সবাইকে। আল্লাহ আমাদের দ্বীনী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন।
    .
    ★রেটিং- ১০/৯

    Was this review helpful to you?
  10. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_মার্চ_২০২০
    .
    বই: কুররাতু আইয়ুন : যে জীবন জুড়ায় নয়ন
    লেখক: ডা. শামসুল আরেফীন
    .
    প্রাককথন:
    কিছু বই পড়লে লেখকের জন্য বারবার দু’আ আসে। কখনো সেটি ঠোঁট নেড়ে, কখনো হৃদয়ের গভীর থেকে। কুররাতু আইয়ুন এমন এক বই, যা শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থামেনি, বরং সমাধানের প্র্যাক্টিক্যাল পথটি দেখিয়ে দিয়েছে।
    .
    বই পর্যালোচনা:
    আমরা অনেকেই পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়ার জন্য নোট খাতা তৈরি করতাম। আলোচ্য বইটিকে আমার কাছে তেমনই একটি নোট খাতার মত মনে হয়েছে। বইটির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটু পরিচিতি দেওয়া যাক।
    .
    অধ্যায়: পরিবারে দাওয়াহ
    যদি পিতা-মাতা ও স্ত্রী ইসলাম থেকে বিমুখ থাকে, তবে তাঁদের দাওয়াত দিতে হবে নিজের আমল-আখলাকের দ্বারা। শুধু মুখের কথায় তাঁদের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। লেখক তার দাবির পক্ষে একাধিক উদাহরণ দেখিয়েছেন—নিজ পরিবার ও অন্যদের। স্বামীকে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাকে কীভাবে বোঝাতে হবে, সে আলোচনাও এসেছে।
    .
    অধ্যায়: বিয়ে
    বিয়ের আগেই বিয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে সুচারুরূপে। পর্ন, হস্তমৈথুনসহ সকল বদ-অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
    লেখক বিয়ের নিয়ত ও উদ্দেশ্য উল্লেখ করেছেন ৬ টি পয়েন্টে। কিছু আমলের কথা বলেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে নেককার জীবনসঙ্গী পাওয়া যায়। এরপর তিনি পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দিক ও নিয়মাবলী আলোচনা করেছেন পয়েন্ট আকারে। তারপর বিয়ে কীভাবে করতে হবে সে আলোচনা।
    .
    অধ্যায়: বরফ গলবেই
    প্রথম অংশে ভাইদের উদ্দেশ্যে অনেক কথা বলা হয়েছে—কীভাবে স্ত্রীর সাথে উত্তম দাম্পত্য কায়েম করতে হবে, কীভাবে স্ত্রী এবং শাশুড়ি মায়ের সাথে সম্পর্কটা ভালো করবে, এক্ষেত্রে ভাইদের কী করণীয় ইত্যাদি।
    এরপর বোনদের উদ্দেশ্যেও লেখক কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। সর্বশেষ হবু শ্বশুর-শাশুড়িদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রিমাইন্ডার (স্মরণিকা) দেওয়া হয়েছে।
    .
    অধ্যায়: আঁতুড়ঘর : ভেতরে ও বাইরে
    এই অধ্যায়টির প্রায় সবটাই গর্ভবর্তী মায়েদের উদ্দেশ্যে। গর্ভাবস্থায় জীবনযাত্রা কেমন হবে, খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে, রাত্রিকালিন সময়টা কীভাবে কাটবে ইত্যাদি নিয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এসেছে। এরপর তিনি প্রসবকালীন ও প্রসবের পরবর্তী অবস্থা ও নবজাতকের ব্যাপারে কী করণীয় তাও বলে দিয়েছেন চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ইসলামের আলোকে। (উল্লেখ্য, লেখক একজন রেজিস্টার্ড ডক্টর)
    .
    অধ্যায়: মানবশিল্প
    লেখকের এই প্রবন্ধটি মুসলিম বোনদেরকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। এই প্রবন্ধে তিনি নারীদেরকে মানবশিল্পী তথা মানুষকে গড়ে তোলার কারিগর হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। ক্যারিয়ারিস্টিক মা-বোনেরা নিরপেক্ষ মন নিয়ে পড়লে তাদের চোখ খুলে যাবে।
    .
    এরপর দুটো অধ্যায়ে সন্তানের দীক্ষা (নৈতিকতা) এবং শিক্ষা কীভাবে হবে, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। অতপর যারা দ্বীনের জন্য আর্থিকভাবে বড় কিছু করতে চান তাদের জন্য নির্দেশিকা এবং কিছু আইডিয়া শেয়ার করেছেন।
    .
    আরো কয়েকটি প্রবন্ধের বিষয়বস্তু বলা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে, কারণ রিভিউ বড় হয়ে যাচ্ছে।
    .
    পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
    এককথায় বলতে গেলে বইটি পড়ে আমি মুগ্ধ। লেখক বইটি কথ্য ভাষার ঢঙে সাজিয়েছেন, বাক্যগুলো যত পারা যায় সংক্ষিপ্ত করেছেন। আবেগ ঢেলেছেন বিভিন্ন স্থানে স্থানে। সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ্ আল মাস’ঊদ সাহেবের কথা আলাদা করে বলতে হয়। বইটিকে সুখপাঠ্য করার জন্য তাঁর সমৃদ্ধ টীকাগুলো অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। পাঠককে প্রায় কোনো প্রশ্নই করার সুযোগ রাখেননি।
    .
    আসলে তাত্ত্বিক বই বাজারে বহু পাওয়া যায়, কিন্তু এমন প্র্যাক্টিক্যাল বইয়ের দেখা পাওয়া যায় না। অথচ অনেকগুলো তাত্ত্বিক বইয়ের চেয়েও এমন একটি প্র্যাক্টিক্যাল বই অধিক কার্যকর (ওয়াল্লাহু আলাম)।
    .
    বইটিকে সাহিত্য হিসেবে পাঠ না করে গাইড বুক হিসেবে পাঠ করলে ভালো হবে। কারণ এখানে কথ্য ভাষায়, আলোচনার ঢঙে অনেক কথা এসেছে। স্টাইলটা ভালোই লেগেছে পড়তে। বইয়ের পাতার মান, প্রচ্ছদ ও বাইন্ডিং—সবকিছুই ভালো হয়েছে; কোনো অভিযোগ নেই।
    .
    নেতিবাচক দিক:
    কিছু স্থানে লেখক সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে এমনভাবে বাক্য তৈরি করেছেন, যার ফলে বাক্যগুলো খাপছাড়া মনে হয়েছে। কোথাও কোথাও শব্দচয়ন ভালো লাগেনি। তাছাড়া বইটির লেখা কখনো ফেইসবুকের স্ট্যাটাসের মত মনে হবে। যারা “ফেইসবুকীয় দ্বীনি কমিউনিটি” থেকে দূরে, তারা কিছু স্থান সহজে বোঝে ওঠতে পারবে না।
    .
    একনজরে বই পরিচিতি:
    • বই: কুররাতু আইয়ুন
    • লেখক: ডা. শামসুল আরেফীন
    • সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ্ আল মাস’ঊদ
    • বইয়ের ধরণ: মোটিভেশনাল
    • প্রকাশনী: মাকতাবাতুল আসলাফ
    • পৃষ্ঠা: ১১৮ (মান ভাল)
    • মুদ্রিত মূল্য: ১৭৫ টাকা
    • বাইন্ডিং: পেপারব্যাক
    • প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
    Was this review helpful to you?
  11. 4 out of 5

    :

    বইটির ৪০ থেকে ৯০ পৃঃ অংশ টার তুলনা নেই। প্রত্যেকের এটা কেনা উচিত। তাবলিগ ওয়ালাদের জন্য বইটা পেয়োবোরা।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  12. 5 out of 5

    :

    গত দুই বছর যাবত বই পড়ার অভ্যাস হয়েছে।শুরু থেকেই ওয়াফি থেকে বই কিনেছি। আমরা যারা আম জনতা যারা আরবী পারিনা তাদের জন্য অনুবাদের বই ছাড়া উপায় নেই। বেশ কিছু ভাল বই পড়া হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ।আমাদের দেশীয় লেখকদের লেখা ও খুব ভাল। কুররাতু আইয়ুন বইটা পড়লাম দাওয়াতের বেশ কিছু টিপস আছে এখানে। আল্লাহ্‌ যেন এই বই সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দেন।যারা দ্বীনের পথে নতুন আসছেন তাদের বইটি পড়া উচিত।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  13. 5 out of 5

    :

    বর্তমান সময়ে পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কিভাবে দ্বীনকে চর্চা করা যায় এর এক অসাধারণ বাস্তব চিত্র বইটিতে ফুটে উঠেছে। আলহামদুলিল্লাহ বইটি থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?