মেন্যু
itihaser aynay bortoman bisshwabebostha

ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা

পৃষ্ঠা : 312, কভার : হার্ড কভার

‘ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা’ বইটি মূলত ওল্ড ওয়ার্ল্ড অর্ডার থেকে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের ইতিহাস নিয়ে রচিত। বইটি পাঠ শেষ হওয়ার পর পাঠক নিজ থেকেই এই প্রশ্নগুলোর জবাব পেয়ে যাবে বর্তমান সময়ে মুসলিমদের কোন পথে অগ্রসর হওয়া উচিৎ? তাদের দাওয়াতের মূল ভিত্তি কী হওয়া জরুরী? তাদের মূল শত্রু কারা? কী তাদের এজেন্ডা ও কর্মপদ্ধতি? লেখক ইতিহাস লেখার মধ্য দিয়ে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান এবং বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে চক্রান্তকারীদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারাগুলো অনেক সহজভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সেই সাথে সহজ ভাষায় এগুলোর জবাবও লিখেছেন। নিশ্চিতভাবে পশ্চিমাদের ইতিহাস জানা ছাড়াও পশ্চিমাদের বিশ্বাস ও চিন্তাধারা বোঝার জন্য এই বইটি অধ্যয়ন অনেক উপকারী হবে।
.
বর্তমান সময়ে চলমান ফিতনার জোয়ারে ভেসে যাওয়া ঈমান ধরে রাখা বড়ই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতে নিজের ঈমান বাঁচানোর জন্য বিশ্বব্যবস্থার ঈমান বিধ্বংসী যাবতীয় বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা প্রতিটি মুসলিমের অন্যতম প্রধান ঈমানি দায়িত্ব।

পরিমাণ

270  414 (35% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - ইতিহাসের আয়নায় বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা

5.0
Based on 2 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    ইতিহাসের এক কঠিন সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি আমরা। চারিদিক থেকে আমাদের ওপর চড়াও হয়েছে ইসলামবিদ্বেষীরা; যেন সহজেই ধরাপৃষ্ঠ থেকে মুছে দিতে পারে ইসলামের নামনিশানা। এই কঠিন সময়ে আমাদের ঈমান অথবা কুফর—যেকোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। বিভিন্ন কুফরী মতবাদ ও বিশ্বাস এমনভাবে আমাদের ওপর চেপে বসেছে যে—সত্য মিথ্যার প্রভেদ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
    এই অবস্থায় আমাদের জন্য জরুরি হলো বর্তমান বিশ্বব্যবস্থাকে সম্যকভাবে উপলব্ধি করা। আমরা যদি পশ্চিমাদের চিন্তাচেতনা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে না পারি, তাহলে তাদের প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের আজকের প্রজন্ম উপলব্ধি করতে পারে না—কীভাবে নিজেদের সোনালি অতীতকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এই বইটি আমাদের ইতিহাসের নানা গলিপথ ঘুরিয়ে বর্তমানের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেবে ইনশাআল্লাহ।
    .
    অতি গুরুত্বপূর্ণ এই বইটির অনুবাদ করেছেন ইফতেখার সিফাত। যতটুকু দেখেছি—অনুবাদ যথেষ্ট সাবলীল। মাশাআল্লাহ। আমি আশাবাদী—যুগের চাহিদা পূরণে বইটি কার্যকরী পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    প্রতিটা জাতির মূল ভিত্তিতে থাকে কিছু বিশ্বাসের সমষ্টি। যেই বিশ্বাসগুলোর দ্বারাই নির্ধারিত হয় সেই জাতির পরিচয়, সেই বিশ্বাসগুলোর ভিত্তিতেই গড়ে উঠে সেই জাতির শক্তি ও শাসন ক্ষমতা। তাই যুগে যুগে নবীরা এসে প্রথমেই মানুষের বিশ্বাসকে পরিবর্তনের মেহনত করেছেন। তাদেরকে কুফুরী বিশ্বাস থেকে তাওহীদের দিকে আসার দাওয়াহ দিয়েছেন। আল্লাহ্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম তাওহীদের বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। ফলে সাহাবীদের এই বিশাল বিজয় ছিল একমাত্র আকীদার বিজয়।

    তারপর থেকে গত ১৪শত বছরে মুসলিমদের ইতিহাসে অনেক পালাবদল হয়েছে। কিন্তু যতদিন পর্যন্ত মুসলিমরা তাদের বিশ্বাস-আদর্শকে আকড়ে ধারণ করেছিলেন, ততদিন পর্যন্ত মুসলিমরাই ছিলেন বিশ্বের পরাশক্তি, যাদেরকে কোন কুফুরী শক্তির মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না।

    প্রথম ক্রুসেড যুদ্ধসমূহে পরাজয়ের পর থেকে পশ্চিমা শক্তি ও জয়ানিষ্টরা এই বাস্তবতা ভালভাবেই অনুধাবন করতে সক্ষম হয়। তারা বুঝতে পারে, মুসলিমরা যতদিন তাদের তাওহীদ ও আদর্শকে আকড়ে রাখবে, ততদিন বিশ্বের কোন শক্তি তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে না, শত্রু যতই শক্তিশালী হোক না কেন। তাই তারা মুসলিম উম্মাহর বিশ্বাস ও আদর্শিক শক্তির বাস্তবতা বুঝে তা ধ্বংসের পরিকল্পনা করার জন্যে প্রাচ্যবাদ সহ নানান চক্রান্ত বাস্তবায়ন শুরু করে।

    তখন একদিকে ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের দার্শনিক ও জয়ানবাদী শক্তিগুলো বিভিন্ন শিরকী দর্শন, বিশ্বাস ও মতবাদ তৈরি করে সেগুলো তাদের সমাজে প্রচার করতে থাকে। অপর দিকে তারা সেই কুফুরী বিশ্বাসগুলো বিভিন্ন ধোকাবাজী মুখোশ পরিয়ে মুসলিমদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে থাকে। তারা সেগুলোকে উন্নতি, স্বাধীনতা ও সমতা ইত্যাদি স্লোগানে মানুষের কাছে আকৃষ্ট করে তুলতে থাকে।

    এবং একসময় তাদের ধীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে যখন মুসলিম উম্মাহর মাঝে তাওহীদের আকীদা ও বিশ্বাস বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলশ্রুতিতে তারা তাওহীদকে জমিনের বুকে প্রতিষ্ঠার পথ থেকেও বিচ্যুত হয়। কারণ তাওহীদের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলার পর তাদের মধ্যে ই’লায়ে কালিমাতুল্লাহর সেই চেতনা বাকি থাকে নি যার জন্যে তাদের সংগ্রাম করতে হবে। আধুনিক কুফুরী মতবাদগুলো গ্রহণের ফলে তারা শত্রু-মিত্র চিনতে ভুল করে এবং শত্রুর পরিবর্তে নিজ মুসলিম ভাইদের বিরোদ্ধেই যুদ্ধ শুরু করে। আধুনিক কুফুরী আদর্শ চিনতে ভুল করার ফলেই তারা ইসলামী আদর্শকে পরিত্যাগ করে ব্যপক ভাবে কুফুরী আদর্শের গোলামে পরিনত হয়। ফলে একসময় তারা পূরো বিশ্বের বুকে লাঞ্ছিত, অপমানিত ও নির্যাতিত জাতিতে পরিনত হয়।

    আজ আমরা যদি চাই মুসলিমরা আবারো তাদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসুক তাহলে আমাদের প্রথমেই আধুনিক জামানার কুফুরী বিশ্বাস ও মতবাদ্গুলোর বাস্তবতা বুঝতে হবে, যেগুলোর গ্রহণের ফলেই মুসলিমরা আজ অধ্বপতিত হয়েছে। সেগুলোকে পূর্ণরূপে ত্যাগ করে তাওহীদের বিশ্বাসকে সঠিকভাবে ধারণ করতে হবে। আর তখনই মুসলিমরা আবারো ইসলামী আদর্শ-সভ্যতাকে ধারণ করবে। তারা তাদের শত্রু-মিত্র চিনতে পারবে। সর্বোপরি তাদের মাঝে সমস্ত ফিতনাকে মিটিয়ে ইসলামী শাসন ফিরিয়ে আনার মানসিকতা ফিরে আসবে। পাশাপাশি তারা বর্তমানের আধুনিক সেই শত্রু ও বিশ্বাসগুলোকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে, যারা আজ মুসলিম উম্মাহর পরাজয়ের পিছনে মূল কলকাঠি নাড়ছে।

    তাই আজ আমরা যদি সমস্ত কুফুরী ত্যাগ করে তাওহীদকে গ্রহন করতে চাই, সমাজের মানুষকে গোমরাহীর পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে চাই, সমস্ত ফিতনাকে নির্মুল করে দ্বীনকে বিজয় করতে চাই, আমরা যদি নবীদের ওয়ারিস হিসেবে বর্তমান যুগের কুফুর-শিরকের বিরোদ্ধে রুখে দাড়াতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই আধুনিক এই কুফুরীগুলো বাস্তবতা বুঝতে হবে। এই মতাদর্শগুলোর ব্যপারে জানতে হবে যার ভিত্তিতে উম্মাহ আজ ধ্বংসের অটল গহ্বরে হারিয়ে গেছে। এগুলো জানা কোন ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং প্রতিটা মুমিনের ঈমানী দায়িত্ব।

    বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা ও বিদ্যমান কুফুরীগুলোর নিয়ে এই বইটাতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই আমাদের সকলেই এই বইটা পড়া অনেক জরুরী।

    9 out of 9 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No