মেন্যু
amirul muminin omor ibnul khattab

খলিফাতুল মুসলিমিন উমর ইবনুল খাত্তাব ( দুই খণ্ড একত্রে)

পৃষ্ঠা : 1072, কভার : হার্ড কভার

তাঁর জন্ম ও বাল্যকাল সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। ইবন আসাকির তাঁর তারীখে ’আমর ইবন ’আস রা. হতে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বর্ণিত হয়েছে,
একদিন ’আমর ইবন ’আস কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবসহ বসে আছে, এমন সময় হৈ চৈ শুনতে পেলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, খাত্তাবের একটা ছেলে হয়েছে। এ বর্ণনার ভিত্তিতে মনে হয়, হযরত ’উমারের জন্মের সময় বেশ একটা আনন্দোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
.
তাঁর গায়ের রং উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, টাক মাথা, গণ্ডদেশ মাংসহীন, ঘন দাড়ি এবং শরীর দীর্ঘাকৃতির। হাজার মানুষের মধ্যেও তাঁকেই সবার থেকে লম্বা দেখা যেত।
যৌবনের প্রারম্ভেই তিনি তৎকালীন অভিজাত আরবদের অবশ্য-শিক্ষণীয় বিষয়গুলি যথা: যুদ্ধবিদ্যা, কুস্তি, বক্তৃতা ও বংশ তালিকা শিক্ষা প্রভৃতি আয়ত্ত করেন। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের একজন শ্রেষ্ঠ কুস্তীগির। আরবের ‘উকায’ মেলায় তিনি কুস্তি লড়তেন।
আল্লামা যুবইয়ানী বলেছেন: ‘উমার ছিলেন এক মস্তবড় পালোয়ান।’ তিনি ছিলেন জাহিলি আরবের এক বিখ্যাত ঘোড় সওয়ার। আল্লামা জাহিয বলেছেন: ‘উমার ঘোড়ায় চড়লে মনে হত, ঘোড়ার চামড়ার সাথে তাঁর শরীর মিশে গেছে।’ [আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন]
.
দিনের বেলা কুস্তি আর রাতে মদের আসরে বুঁদ হয়ে পরে থাকা- এমনি ছিল উমারের যৌবনকাল। কে জানতো, এই সাধারণ একরোখা ধরনের যুবকটিই একদিন ‘ফারুকে আযমে’ পরিণত হবেন!
তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল পুরো মক্কাকে কাপিয়ে দেয়ার মত। ইসলাম তাঁর পুরো জীবনকে যে পাল্টে দিয়েছিল। তাঁর চিন্তাজগত এতটাই উঁচুতে পৌঁছে গিয়েছিল, কেবল তাঁর অভিমতের কারণে কুরআনের বেশ কয়েকবার আয়াত নাজিল হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নিকট তার স্ট্যাটাস দেখে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন- “আমার পর যদি কেউ নবি হত তাহলে উমর হত সেই নবি” !!
ইসলাম তাঁকে এমনি শ্রেষ্ঠত্ব দিল যে, এই মহান মানুষটি একসময় শাসন করলেন অর্ধ জাহান। আজও তিনি জনসাধারণ থেকে শাসকবর্গ সবার নিকট অনুসরণীয় হয়ে আছেন। তিনিই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
.
কীভাবে অন্ধকারের অতলে ডুবে থাকা মানুষটি দীপ্তিময় আকাশের চূড়ায় পৌঁছে গেলেন?
কেমন ছিল তাঁর শাসন-ব্যবস্থা, রণকৌশল, যার আদলে তিনি অর্ধ পৃথিবীতে খিলাফার পতাকা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন?
জানতে হলে পড়তে হবে, ড. মুহাম্মাদ আলি সাল্লাবি এর রচিত ‘আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব’ (রদ্বি.)
পৃষ্ঠা সংখ্যা
প্রথম খণ্ড ৪৯৬, দ্বিতীয় খণ্ড ৫৭৬, মোট: ১০৭২

পরিমাণ

650  1,000 (35% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ৪৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি প্রিমিয়াম বুকমার্ক ফ্রি!

- ৬৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি একটি আমল চেকলিস্ট ফ্রি!

- ৮৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি বই ফ্রি!

- ১,১৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি আতর ফ্রি!

- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী

11 রিভিউ এবং রেটিং - খলিফাতুল মুসলিমিন উমর ইবনুল খাত্তাব ( দুই খণ্ড একত্রে)

5.0
Based on 11 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    প্রিয়নবি (স.) এর সাথে থেকে ওহীর আলোয় নিজেকে ঢেলে সাজিয়েছিলেন যারা,ইসলামের রাঙা প্রভাতের রাঙা আলোয় রাঙিয়েছেন যারা নিজেকে,সেই তারকাদের মধ্যেই অন্যতম ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব রা.।

    💠বই আলাপ💠
    —————–
    দৃষ্টিনন্দন প্রচ্ছদে সাজানো বইটি ‘মক্কায় উমর ফারুক’,’হিজরত থেকে খেলাফত’ এবং ‘উমরের খেলাফত’ এই তিনটি অধ্যায়ে বিস্তৃত।পুরো বইটি অসাধারণভাবে লেখা। ড.আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন লেখক।কিন্তু বাংলাতে বইটি কেমন হবে তা নিয়ে আমার কিছুটা সংকোচ বিদ্যমান ছিলো।বইটি পাঠের পর সেই সংকোচ মিটে যায় আমার। কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক বইটি চমৎকারভাবে অনুবাদ করেছেন।শব্দ-বাক্যের সুন্দর ব্যবহারে তিনি তার প্রমাণই দিয়েছেন।
    বইয়ের সূচিপত্র আমাকে বইটি কিনার প্রতি আকৃষ্ট করে।বইটিতে উমর রা. এর জীবনী ও কর্মের ব্যাপারে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। তার জীবনের দুষ্প্রাপ্য জ্ঞানের মণি মুক্তো দিয়ে বইটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
    ইসলাম কবুলের আগ থেকে অর্ধ দুনিয়ার খলিফা হয়ে করা উম্মাহ এর জন্য শিক্ষণীয় কর্মসমূহ প্রায় সবটাই বইয়ে বেশ ভালো করে ফুটে উঠেছে।

    💠বইটা কি পড়তে হবে?💠
    —————————
    উমর ইবনুল খাত্তাব রা. দারিদ্রতার কবলে পড়ে একসময় খালাদের রাখাল চরাতেন।সেই উমরই অর্ধ পৃথিবী শাসন করেছেন।কিভাবে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হয় শিখিয়ে গিয়েছেন পৃথিবীবাসীদের। তার শাসন ব্যবস্থা আমাদের জন্য আজও বিস্ময়ের খোরাক।কিন্তু কিভাবে হলো এতোকিছু?তার উত্তর খুজতে হলে পড়তে হবে বইটি।
    💠সমাপ্তি কথন💠
    ——————-
    দ্বীন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব রা জীবনী পাঠ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তার জীবন আমাদের জন্য খোলা রত্ন, যেখান থেকে আমরা নিতে পারি চলার পথের পাথেয়।
    বইটিতে উমর রা. এর নেতৃত্বগুণ বিস্তারিতভাবে সন্নিবেশিত আছে।বর্তমানে আমরা নেতৃত্ব সংকটে ভুগছি, এই সংকট নিরসনে উমর রা. নেতৃত্বগুণ জানা প্রয়োজন। একজন নেতার বৈশিষ্টাবলী কেমন হওয়া উচিত জানতে পারবেন বইটি পড়লে।

    ——————-

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ইসলামের ৪০ তম মুসলমান হযরত উমর (রাঃ)। মক্কার ভূমি যখন দাওয়াতের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত। ঠিক সেই মূহুর্তেই উমর নামে এই মরু সিংহের ইসলামে পদার্পণ। সাহাবিরা তার সঙ্গ পেয়ে যেন, উষ্ণ হৃদয়ের মাঝে শীতল হাওয়ার খোজ পেলো।

    উমর রাঃ সাফ সাফ জানিয়ে দিলো, গোপনীয়তা নয় প্রকাশ্যে পালন হবে আমার দ্বীন। হামজা রঃ ও উমর রঃ দুই কাতারে বিভক্ত হয়ে বেরিয়ে গেলো ইসলামের প্রথম মিছিলে। সাথে ছিলো হযরত মোহাম্মদ সঃ নিজেও। মসজিদুল হারামের সামনে এমন দাপটে মিছিলে কাফেররা বিস্মিত। বিশ্বনবি সঃ এই বীরত্বের সাক্ষী হয়ে তাকে ফারুক উপাধীতে আরো সম্মানিত করলেন।

    তিনি ইসলামের ২য় খলিফা। বিনয়, নম্রতা, ধৈর্য ও সহনশীলতায় ভর করে ১০ বছরের একটি বৃহৎ শাসনামল। সমাজিক জীবন ও সংস্কারে রেখেছে অসাধারণ অবদান। খেলাফতের ঘোষণার শুরুতে আবু বকর রাঃ এর কাছে উমর রাঃ এর কঠোরতা নিয়ে সাহাবিদের ছিলো নানা প্রশ্ন। আবু বকর তার উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টাদের বলেছিলেন : “আমার কোমলতার জন্য তার (উমর) কঠোরতা ছিল। যখন খিলাফতের ভার তার কাঁধে আসবে তখন সে আর কঠোর থাকবে না। যদি আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে কাকে আমি আমার উত্তরসূরি নিয়োগ দিয়েছি, তবে আমি তাকে বলব যে আপনার লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছি”।

    উমর রাঃ তার শাসনব্যবস্থা এককেন্দ্রীক ব্যবস্থায় পরিচালিত করেন। পুরো সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত করা হয়। প্রদেশগুলো প্রাদেশিক গভর্নর বা ওয়ালি কর্তৃক শাসিত হত। কিছু ক্ষেত্রে উমর পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন :

    ১) উমর সর্বপ্রথম পাবলিক মিনিস্ট্রি প্রথা চালু করেন যেখানে সরকারি কর্মকর্তা ও সৈনিকদের রেকর্ড লিপিবদ্ধ করা থাকত। গভর্নর ও রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে পাঠানো চিঠির অনুলিপিও রেকর্ড হিসেবে রক্ষিত থাকত।
    ২) আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য তিনি প্রথম পুলিশ বাহিনী নিয়োগ দেন।
    ৩) জনতা বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি করলে তিনি প্রথম তাদের শৃঙ্খলায় আনেন।

    উমর রাঃ বলেন, “তুমি নেতা হওয়ার পূর্বে ইলম অর্জন কর”। তিনি জ্ঞানীদের বিশেষ ভাবে কদর করতেন। ইলম অর্জনে শিক্ষার্থীদের দিতেন উৎসাহ। তিনি মক্কা, মদিনা, বসরা, কুফা, সিরিয়ার ইত্যাদি পাঠশালা গুলো উন্নত করেন। আমি মনে করি, বর্তমান মুসলিম উম্মাহের নেতৃত্বের শুরুতে উমর রঃ জীবন পড়া আবশ্যক। কেননা, তার খেলাফতের প্রতিটি পরতে পরতে রয়েছে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলার উদাহরণ। এই বইটি আপনাকে তার জীবনের বিশুদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরবে। একজন পাঠক হিসেবে এতে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি। দুই খন্ডে গঠিত একটা বৃহৎ জীবনি গ্রন্থ।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    বইঃ উমর ইবনুল খাত্তাব রা. (১ম খণ্ড)
    লেখকঃ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি

    💥প্রারম্ভিকাঃ
    ——————-
    জাহিলিয়্যাতে নিমজ্জিত জনগোষ্ঠীকে আঁধারছিন্ন করে দীপ্তিময়তায় উদ্ভাসিত করেছিল একটি ‘আলো’। যে আলো ছিল বিচ্ছুরণশীল, চতুর্দিকে সে আলোকচ্ছটা ছিল ক্রমান্বয়ী বর্ধমান। সে আলোর সপ্রতিভ মহিমায় সমোজ্জ্বলিত হয়েছে কিছু নিষ্প্রভ প্রাণ। সেই প্রাণগুলোও সপ্রতিভ হয়েছে প্রথম আলোর স্নেহধন্য পরশে, বেগ ও আবেগে, ভাব ও ব্যক্তিত্বের সান্নিধ্যে। যাদের অনুকূল ও প্রতিকূল, সুখ ও দুঃখ, ধৈর্য ও সহনশীলতা, ভাব ও আবেগ , জীবন ও জীবিকা গড়ে উঠেছে সেই প্রথম আলোর দেখানো নীতি ও নৈতিকতা, শিক্ষা ও দীক্ষার পরিপূর্ণ অনুসরণে।

    প্রথম ‘আলো’ হলেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ স. আর ‘সপ্রতিভ প্রাণগুলো’ হলেন নবীজীর শিক্ষায় আলোকিত সাহাবায়ে কেরাম। আলোকিত ও সুভাসিত, সাহসিকতা ও মহানুভবতার মূর্তপ্রতীক এবং ‘আশারায়ে মুবাশশারায়’ স্থানপ্রাপ্ত সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম হলেন ‘হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রা.’। বক্ষ্যমাণ আজকের আলোচিত গ্রন্থটি সোনালী যুগের সূচনালগ্নে মুসলিম জাগরণের পথিকৃৎ, মুসলিমদের প্রকাশ্য শত্রু শয়তানও যার ভয়ে কম্পিত ও প্রকম্পিত থাকতো সবসময়, সেই বীরের জীবন ও কর্ম বিষয়ক কালান্তর প্রকাশনীর অমূল্য প্রকাশনা “ফাসলুল কিতাব ফি সিরাতিল আমিরিল মু’মিনিন উমর ইবনিল খাত্তাব” এর অনুবাদকর্ম।

    💥 বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত নির্যাসঃ
    ——————————————
    প্রচ্ছদপটের নান্দনিক বিন্যাশে সজ্জিত নাম থেকেই বইটির বিষয়বস্তু সৃষ্টিশীল ও মননশীলতার অধিকারী পাঠকের কাছে অত্যন্ত পরিষ্কার। তুষার শুভ্র সাদা পাতায় সন্নিবেশিত উমর রা. এর জীবন ও কর্মের মুক্তোঝরা উপাখ্যানে বইটি তিনটি অধ্যায়ের অধীনে কতগুলো পরিচ্ছেদের সামষ্টিক রুপ।
    ¤ প্রথম অধ্যায়ঃ মক্কায় উমর ফারুক রা.

    স্বাতন্ত্র‍্যে সমুজ্জ্বল এ অধ্যায়ে উমর রা. এর নাম ও বংশ পরিক্রমা, জন্ম ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের নিরঙ্কুশ বর্ণনা ও জাহেলী যুগে তাঁর অবস্থানের বিস্তারিত আলোচনা স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি পাঠক জানতে পারবেন উমর রা. এর ইসলাম গ্রহনের আলোকোজ্জ্বল ইতিহাস ও দাওয়াতি মিশনে তার ত্যাগ ও তীতিক্ষার সুদক্ষ বর্ণনা।

    ¤ দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ হিজরত থেকে খেলাফত

    উমর রা. এর কুরআনিক জীবন, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় নিষ্ঠাপূর্ণ শাশ্বত দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিমত অনুসারে কুরআনে অবতীর্ণ আয়াতের সামঞ্জস্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা স্থান পেয়েছে। রাসুলে আরাবী স. এর সার্বক্ষণিক সাহচর্য ও সিদ্দিকী খেলাফতকালে উমর রা. এর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন কৃতিত্ব এ অংশে স্থান পেয়েছে।

    ¤ তৃতীয় অধ্যায়ঃ উমরের খেলাফত

    আবু বকর রা. কর্তৃক উমর রা. কে খলিফা মনোনয়ন এবং তার ন্যায়নিষ্ঠ ও ইনসাফ ভিত্তিক শাসনপদ্ধতির বিস্তর বর্ণনার পাশাপাশি উমর রা. এর আল্লাহভীতি ও আত্নশুদ্ধি, দুনিয়া-বিমুখতা, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে ন্যায়পরায়ণ অবস্থান এবং আহলে বাইতের প্রতি হৃদ্যতা,ভক্তি ও সম্মান প্রদর্শনের বিস্তারিত আলোচনা আছে এ অংশে। বইটির ইতি টানা হয়েছে সামাজিক জীবনে আদর্শিক অবস্থান ও সমাজ সংস্কারে তাওহিদের হেফাযত ও বিদ’আতের বিরুদ্ধে লড়াই, ইবাদাতের যত্ন ও গুরুত্ব, ব্যবসা বাণিজ্যে নীতিমালা প্রণয়ন এবং নতুন আবাদি অঞ্চলের গণপূর্ত বিভাগের সংস্কার ও সংকট নিরসনের পর্যাপ্ত বিবরণের দক্ষ উপস্থাপনা দিয়ে।

    💥বইটি কেন পড়বেন?
    ——————————-
    পাশ্চাত্যরীতি ও সভ্যতার অন্ধানুকরণে, নব্য জাহিলিয়্যাতের প্রবেশদ্বার উন্মুক্তকরণে, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটিপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানের দরুণ খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগের শিক্ষা ও উপদেশ থেকে যোজন যোজন দূরে অবস্থান আজকের মুসলিমদের। আর সেজন্যেই আধুনিক মুসলিমদের সাথে প্রথম যুগের মুসমানদের জীবনের বিস্তর ব্যবধান। বিভিন্ন স্কলার, মনীষী ও মুবাল্লেগদের জীবনী অধ্যয়ন করলেও আমরা বুঝতে চাই না খুলাফায়ে রাশেদিনের জীবনী অধ্যয়নেই রয়েছে ইসলামের সবধরণের জ্ঞান ও বিজ্ঞান সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান।

    বইটি অধ্যয়নের মাধ্যমে জানা যাবে ইসলামি রাষ্ট্রের পূর্ণভিত্তি প্রতিষ্ঠায় করণীয় ও বর্জনীয়; প্রশাসনিক, বিচারিক, অর্থনৈতিক, রাজৈনিতক ও সামরিক বিভাগ পরিচালনায় একজন শাসকের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত। দিকভ্রান্ত জাতিকে পথের প্রকৃত দিশা দিতে পৃথিবীর নানা প্রান্তে পরিচালিত অভিযানের দক্ষ বর্ণনায় জি/হা/দি চেতনার স্পৃহা লাভ করবে পাঠক। এছাড়াও ইমান ও স্বচ্ছ আকিদা ধারণ, বিদ’আত ও তাগুতের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান থেকে সম্মানিত পাঠক প্রয়োজনীয় দীক্ষা পাবেন।

    💥 বইটির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যঃ
    —————————————————
    ০১. বইটির সম্পুর্ন অনুবাদ কর্মটি মেদ চর্বিহীন এক অতুলনীয় সংস্কার।
    ০২. বানানরীতি ও প্রতিটি বর্ণায়নের সাথে ব্যাকরণসিদ্ধতা, প্রয়োগযোগ্যতা ও প্রয়োগ বাহুল্য।
    ০৩. রেফারেন্স সমৃদ্ধ তথ্যবহুল আলোচনার সমাবেশ।
    ০৪. প্রতিটি বিষয়ের আদ্যোপান্ত বিস্তারিত আলোচনার সুদক্ষ প্রকাশভঙ্গী।

    💥লেখক সম্পর্কে কিছু কথাঃ
    —————————————
    বক্ষ্যমাণ এ গ্রন্থটির লেখক স্বনামধন্য ও সুপ্রসিদ্ধ সিরাত লেখক এবং বিশ্বের প্রবাদতুল্য ইতিহাস গবেষক ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি। উক্ত লেখক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজন নেই কারণ, শিক্ষাবিশ চাক্ষুষ দৃষ্টিসম্পন্ন পাঠকমাত্রই লেখকের তথ্য ও প্রমাণাদির আলোকে ভাষার আবেদন ও প্রকাশশৈলী রক্ষায় দক্ষতার গুন সম্পর্কে অবগত।

    মহান এ মনীষী ১৯৬৩ সালে লিবিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। অতিমাত্রায় ইলমপিপাসু এ লেখক আল্লাহ প্রদত্ত মেধা,ধৈর্য, জ্ঞান ও সময়কে কাজে লাগিয়ে ইতিহাস, সিরাত ও ধর্মতত্ত্বে বিশ্বের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে আছেন।

    💥 শেষ কথাঃ
    ——————–
    দুনিয়ার রুপ মনোহর সবুজ উদ্যানের ন্যায় মানুষকে সহজে আকৃষ্ট করে। অতএব, দুনিয়াকে ভয় করে,দুনিয়ার মায়াজাল ছিন্ন করে মহান সাহাবী উমর রা. এর জীবনী থেকে জীবনের পরম পাথেয় সঞ্চয়ে স্নিগ্ধতার সৌরভ ছড়িয়ে দিতে সকলের প্রতি বইটি পড়ার উদাত্ত আহ্বান রইলো। আল্লাহ যেন বইটি থেকে সবাইকে উত্তম জ্ঞান আহরণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতের মূল পুঁজি সঞ্চয়ের তাওফিক দেন। আমিন।

    ইতি টানতে চাই ‘কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ এর কবিতার চরণ দিয়ে-

    “উমর!ফারুক! আখেরি নবীর ওগো দক্ষিণ-বাহু!
    আহ্বান নয়, রুপ ধরে এসো-গ্রাসে অন্ধতা রাহু!
    ইসলাম-রবি,জ্যোতি তার আজ দিনে দিনে বিমলিন!
    সত্যের আলো নিভিয়া জ্বলিছে জোনাকির আলো ক্ষীণ”
    ____________________
    একনজরে বই পরিচিতিঃ
    বইঃ উমর ইবনুল খাত্তাব রা. (১ম খণ্ড)
    লেখকঃ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
    প্রকাশনীঃ কালান্তর প্রকাশনী
    পৃষ্ঠাঃ ৪৯৪
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৪৮০/-
    বাঁধাইঃ হার্ডবোর্ড বাঁধাই
    _____________________

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    📚বই:আমিরুল মুমিনিন উমর
    ইবনুল খাত্তাব।
    ধরন: জীবনী ও কীর্তি ।
    ✍লেখক:শায়খ আলি মুহাম্মদ
    সাল্লাবি।
    ⌨অনুবাদক:কাজী আবুল কালাম
    সিদ্দিক।
    🧾প্রচ্ছদ: শাহ ইফতেখার তারিখ।
    🖨প্রকাশানী:কালান্তর প্রকাশনী।
    📂প

    ৃষ্ঠা সংখ্যা:প্রথম খন্ড
    ৪৯৬,দ্বিতীয় খন্ড ৫৭৬।
    💷₹মুদ্রিত মূল্য:১ম খন্ড ৪৮০,২য়
    খন্ড ৫২০।
    রাসূলুল্লাহ (স) জন্মের ১৩ বছর পর ‘আবু হাফস’ নামক একটি ছেলের পিতা হন খাত্তাব ইবনে নুফাইল। কে এই ‘আবু হাফস’ ? এই ‘আবু হাফস’ হলেন, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জলিলে কদর সাহাবী আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) । হযরত উমর (রাঃ) এর বাবা খাত্তাব ইবনে নুফাইল ছিলেন কুরাইশ বংশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁর মায়ের নাম হানতামা বিনতে হাশিম ইবনে মুগিরা। তিনি ছিলেন আবু জাহল ইবনে হিশামের চাচাতো বোন।উল্লেখ্য যুবক বয়সে হযরত উমর রাসূল (সাঃ) হত্যা কে হত্যার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে হেদায়েত দান করেন এজন্য তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হেদায়েত কামনা করে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেছিলেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত : রাসুল (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি উমর অথবা আবু জাহেলের মাধ্যমে ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত করুন।’ প্রত্যুষেই হজরত উমর নবী (সা.)-এর দরবারে হাজির হয়ে ইসলাম কবুল করেন, অতঃপর (সর্বপ্রথম) প্রকাশ্যে হারাম শরিফে নামাজ আদায় করেন। (তিরমিজি) ইসলাম গ্রহণ পরবর্তীতে কাফের মুশরিকদের বিরুদ্ধে এক অবিচল নাম হয়ে ওঠেন হযরত উমর।আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় খলীফা হিসেবে দায়িত্ব নেন। উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল-ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়। আমীরুল মু’মিনীন উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা) তার সম্পর্কে বলেন, ‘আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন, তবে তিনি উমর বিন খাত্তাবই হতেন।’ (মিশকাত )রাসুল (সা.) আরো বলেছেন, ‘হে উমর! নিশ্চয়ই শয়তান তোমাকে ভয় পায়। (তিরমিজি)প্রখ্যাত সাহাবী মুগীরা ইবন শু’বার (রা) অগ্নি উপাসক দাস আবু লুলু ফিরোজ ফজরের নামাযে দাড়ানো অবস্থায় এ মহান খলিফাকে ছুরিকাঘাত করে। আহত হওয়ার তৃতীয় দিনে হিজরী ২৩ সনের ২৭শে জিলহজ্জ বুধবার তিনি ইন্তেকাল করেন।হযরত সুহায়িব জানাজার নামাজ পড়ান। রওজায়ে নববীর মধ্যে হযরত সিদ্দিকে আকবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তাঁর খিলাফতকাল দশ বছর ৬ মাস ৪ দিন।

    পাঠ অনুভূতি: বইটি যখন আমি পড়ছিলাম তখন আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন তাকে সরাসরি দেখছি। অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করেছি আর ভেবেছি আহ যদি উমরের মতো শাসক এখন থাকতো তাহলে মুসলমান রা আজ মার খেতোনা।

    লেখার মান: লেখকের লেখার মান ছিলো অসম্ভব সুন্দর। ড. সাল্লাবি সবথেকে বিশুদ্ধ উৎস থেকে বইটি লিখেছেন। আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন, ‘আমিন’।

    অনুবাদের মান: আবুল কালাম সিদ্দিক ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তার অনুবাদ সবার থেকে ভিন্ন। মাশাল্লাহ অনেক ভালো কাজ করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম জাজা দান করুক।

    ছাপা ও বাঁধায়: ছাপা ও বাধায় মন কাড়ার মতো ছিলো। তেমন দোষ ত্রুটি নজরে আসেনি।

    বইটি কেন প্রয়োজনীয়? : কীভাবে অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষটি ইসলামী আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে গেলেন? কেমন করে তিনি তাঁর শাসন ব্যবস্থা কেমন ইসলামের পতাকা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং কিভাবে অর্ধ জাহানের খলিফা হয়েছিলেন? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি রচিত এই বইটি।পরিশেষে বলতে চাই ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবির লেখা উমর (রা:) এর জীবনী সম্বলিত বইটি প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে ঘরে পৌছে যাক। এমন সুন্দর একটি বই পাঠকের সমীপে উপস্থাপন করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করুন এবং ইসলামের জন্য আরও অধিক পরিমাণে কাজ করার তাওফিক দিন, আমিন।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    প্রারম্ভিকা
    ————–
    হলুদ সরষে ফুলের মতো রোদ উঠে পৃথিবীর প্রাচীন শহরটাতে। শ্বাসরুদ্ধকর লু হাওয়া হাহাকার করে মরু বিয়াবানে। গোঁড়ামিতে আচ্ছন্ন শহরের মানুষগুলো বর্বর ও জালেম। শহরের মধ্যেমণি রবের পবিত্র ঘরে আঙিনায় বসে পূজার আসন। ধুলোর আস্তর জমেছে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ধর্মে।

    জাহেলিয়াতের অমানিশা বিদীর্ণ করে ঈমানের আলোকচ্ছটায় মুমুর্ষ প্রায় এক জাতিকে আলোর পথে
    ফিরিয়ে আনেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
    আল কুরআনের পরশে এবং প্রিয় নবীজী সাঃ দরসে সাহাবীগণ জাহিলিয়াতের বিষ ফেলে পান করেছিলেন রেসালাতের
    অমিয় সুধা।
    প্রিয় নবীজি সাঃ এর সাহাবারা ছিলেন ঐশী আলোয় আলোকিত এক একটি আলোকময় চরিত্র।
    প্রিয় নবীজীর পরশে তাঁর সাহাবারা ঈমানের আলোকচ্ছটা বুকে জড়িয়ে হাজার প্রতিকূলতার পাহাড় ফুঁড়ে তাওহীদের বীজ রোপণ করেছেন আঁধার পৃথিবীর বুকজুড়ে।
    ইসলামের সেই সোনালী যুগের ইতিহাস যাকে ছাড়া অপূর্ণ তিনি হলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)।
    রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর‌‌ ঈমানের কড়ামিঠে দৃঢ়তা দেখে বলেছিলেন- “আমার পর যদি কেউ নবি হত তাহলে উমর হত সেই নবি” !!
    আজ বিশ্বজুড়ে মুসলিম উম্মাহ লাঞ্ছিত অপদস্থ, আমরা ভুলতে বসেছি সোনালী যুগের ইতিহাস এবং ইতিহাসের কান্ডারীদের। নব্য জাহেলীয়াতির যুগে একজন ওমর বিন খাত্তাব চাই যাঁর শাসনকার্য বদলে দেবে পৃথিবীর রূপরেখা।

    এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবন থেকে কিছু মণি মুক্তো কুড়িয়ে সেগুলো শব্দের ছন্দে বেঁধেছেন কালান্তর প্রকাশনী “আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব ( দুই খণ্ড একত্রে)” গ্রন্থের মাধ্যমে।
    বক্ষমান ব‌ইটির লেখক : ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী, ড. আলি সাল্লাবি।
    ড. শায়খ আলি সাল্লাবি রচিত ‘ফাসলুল খিতাব ফি সিরাতি আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব ‘ গ্রন্থটির অনুদিত রূপ হলো, কালান্তর প্রকাশনা কর্তৃক প্রকাশিত আলোচিত গ্রন্থটি।

    ব‌ই আলাপন
    ——————
    আলোচ্য ব‌ইটি সর্বমোট বৃহৎ পরিসরে তিনটি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন চমকপ্রদ শিরোনামে। প্রতিটি অধ্যায়কে বিভক্ত করা হয়েছে কতগুলো পরিচ্ছদে।

    মলাটবদ্ধ হয়েছে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফার শাসনকার্য, তাঁর বীরত্বগাথা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, ইসলাম গ্রহণ, হিজরত, আমিরুল‌ মুমিনিন হিআবে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, জন্ম, চারিত্রিক বর্ণনাসহ তাঁর আলোকিত জীবনের খুঁটিনাটি।
    উঠে এসেছে সমসাময়িক ঘটনাসমূহ যা পাঠককে মুগ্ধ করে।
    প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে তাঁর নাম, উপনাম, বংশ মর্যাদা, পরিবার ও তাঁর বিগত জাহেলী যুগের বর্ণনা।
    তারপর রয়েছে তাঁর ঐতিহাসিক ইসলাম গ্রহণ, হিজরত পর্বসহ আরো অন্যান্য বিস্তারিত মনোমুগ্ধকর ঘটনা।
    তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল পুরো মক্কাকে কাপিয়ে দেয়ার মত। ইসলাম তাঁর পুরো জীবনকে যে পাল্টে দিয়েছিল।

    আল্লামা যুবইয়ানী বলেছেন: ‘উমার ছিলেন এক মস্তবড় পালোয়ান।’ তিনি ছিলেন জাহিলি আরবের এক বিখ্যাত ঘোড় সওয়ার। আল্লামা জাহিয বলেছেন: ‘উমার ঘোড়ায় চড়লে মনে হত, ঘোড়ার চামড়ার সাথে তাঁর শরীর মিশে গেছে।’ [আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন]
    .
    দিনের বেলা কুস্তি আর রাতে মদের আসরে বুঁদ হয়ে পরে থাকা- এমনি ছিল উমারের যৌবনকাল। কে জানতো, এই সাধারণ একরোখা ধরনের যুবকটিই একদিন ‘ফারুকে আযমে’ পরিণত হবেন!
    তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল পুরো মক্কাকে কাপিয়ে দেয়ার মত। ইসলাম তাঁর পুরো জীবনকে যে পাল্টে দিয়েছিল। তাঁর চিন্তাজগত এতটাই উঁচুতে পৌঁছে গিয়েছিল, কেবল তাঁর অভিমতের কারণে কুরআনের বেশ কয়েকবার আয়াত নাজিল হয়।
    ইসলাম তাঁকে এমনি শ্রেষ্ঠত্ব দিল যে, এই মহান মানুষটি একসময় শাসন করলেন অর্ধ জাহান। আজও তিনি জনসাধারণ থেকে শাসকবর্গ সবার নিকট অনুসরণীয় হয়ে আছেন। তিনিই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।

    তাঁর চিন্তাজগত এতটাই উঁচুতে পৌঁছে গিয়েছিল, কেবল তাঁর অভিমতের কারণে কুরআনের বেশ কয়েকবার আয়াত নাজিল হয়।
    ইসলাম তাঁকে এমনি শ্রেষ্ঠত্ব দিল যে, এই মহান মানুষটি একসময় শাসন করলেন অর্ধ জাহান। আজও তিনি জনসাধারণ থেকে শাসকবর্গ সবার নিকট অনুসরণীয় হয়ে আছেন। তিনিই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।

    উমর রাঃ এর দৃঢ় ঈমান ও তাক‌ওয়ার সুনির্দিষ্ট বর্ণনা যেমন পাঠককে মুগ্ধ করে তেমনি তাঁর খেলাফতকালের ন্যায়পরায়ণতা, কোমলতা হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়।বর্ণনা এসেছে তিনি আমিরুল মুমিনিন হয়েও কিভাবে সাধারণ মানুষের নিত্য খোঁজখবর নিতেন কিভাবে নিষ্ঠার সাথে খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
    উমর‌‌ রাঃ‌ এর কাছে ইলমের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম এবং সামাজিক অবদান ছিলো অনস্বীকার্য।

    পাঠ্য অনুভূতি
    ——————–
    ইলম, আমল ,তাক‌ওয়া এবং আল্লাহ ভীরুতায় অনন্য ও অতুলনীয় এই মহাপুরুষের দীপ্তিময় জীবনী আমাদের নিভু নিভু ঈমানকে জাগ্রত করে। আমাদের কাছে ইসলাম আনুষ্ঠানিকতায় বন্দী। কিন্তু এই প্রবাদপ্রতিম ব্যাক্তিত্বদের সংস্পর্শে ইসলাম আলো ছড়িয়েছে ।
    ড. শায়খ আলি সাল্লাবি উমর‌ রাঃ জীবনী ঋজু বর্ণনাভঙ্গি ও প্রাঞ্জল ভাষায়। তাঁর শব্দ যেমন সুচয়িত ও গাঁথুনি তেমনি মজবুত।

    বইটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গতানুগতিক ধারায় গৎবাঁধা স্টাইলে ইতিহাসের পর্যালোচনা করা হয়নি বরং প্রতিটি অধ্যায়ে ফুটে উঠেছে সাহাবের ব্যাক্তিত্বের নির্যাস যা গল্পাকারে বলা হয়েছে। ব‌ইয়ের রচনাশৈলী ‌ও প্রাঞ্জল উপস্থাপন পাঠকদের মুগ্ধ করবে অনায়াসে।

    কেন পড়বেন
    ——————-
    বিশ্বব্যাপী উম্মাহ্ আজ সব অপদস্থ লাঞ্ছিত, অপাংক্তেয়।
    ছিন্নভিন্ন উম্মাহর মাঝে‌ না আছে ঐক্য না আছে নেতৃত্ব দেওয়ার মত কোন উমর ইবনুল খাত্তাব রাঃ। আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের গৌরবময় সোনালী অতীতকে।
    এই ছিন্নমূল উম্মাহকে ঈমানের আলোকচ্ছটায় জাগ্রত করতে আমাদের কর্তব্য কিতাবের পাতার ভাঁজে সোনালী দিনের তালাশ করা। গাফেল অন্তরকে নাড়া দিতে প্রয়োজন নবীজির পাঠশালার উজ্জ্বল নক্ষত্রের সান্নিধ্যকে স্মরণ করা।
    উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বলেছেন “আমার উম্মতের মুহাদ্দিস হলো উমর”। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ উমরের জিহ্বায় ও তার অন্তরে সত্যকে তুলে ধরেছেন। প্রকৃত অর্থে‌ই তিনি ছিলেন উম্মাহর মুহাদ্দিস।এই ভাঙনের কালে তাঁকে হয়তো পাবোনা কিন্তু আলোচ্য ব‌ইটির মাধ্যমে তাঁর দরসে হাজির হতে পারবো।

    পরিশেষে
    ————–
    ইসলাম তাঁকে এমনি শ্রেষ্ঠত্ব দিল যে, এই মহান মানুষটি একসময় শাসন করলেন অর্ধ জাহান। আজও তিনি জনসাধারণ থেকে শাসকবর্গ সবার নিকট অনুসরণীয় হয়ে আছেন। তিনিই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
    কীভাবে অন্ধকারের অতলে ডুবে থাকা মানুষটি দীপ্তিময় আকাশের চূড়ায় পৌঁছে গেলেন?
    কেমন ছিল তাঁর শাসন-ব্যবস্থা, রণকৌশল, যার আদলে তিনি অর্ধ পৃথিবীতে খিলাফার পতাকা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন?
    জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে, ড. মুহাম্মাদ আলি সাল্লাবি এর রচিত ‘আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব’ (রদ্বি.)
    নববি আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমাদের সাহাবাণ জীবন অতিবাহিত করেছেন, মশাল ধরেছেন অন্ধকার পথে। সেই আদর্শ থেকে বিচ্ছুরিত আলো পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তরে পৌঁছে যাক এমন সুপাঠ্যের মাধ্যমে।

    📙একনজরে ব‌ই পরিচিতি
    ———————————
    ব‌ই: আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব ( দুই খণ্ড একত্রে)
    লেখক : ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী, ড. আলী মুহাম্মদ আস-সাল্লাবী
    প্রকাশনী : কালান্তর প্রকাশনী
    বিষয় : নবী-রাসূল ও সাহাবীদের জীবনী

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No