মেন্যু
amirul muminin omor ibnul khattab

খলিফাতুল মুসলিমিন উমর ইবনুল খাত্তাব ( দুই খণ্ড একত্রে)

পৃষ্ঠা : 1072, কভার : হার্ড কভার

তাঁর জন্ম ও বাল্যকাল সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায় না। ইবন আসাকির তাঁর তারীখে ’আমর ইবন ’আস রা. হতে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। তাতে বর্ণিত হয়েছে,
একদিন ’আমর ইবন ’আস কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবসহ বসে আছে, এমন সময় হৈ চৈ শুনতে পেলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, খাত্তাবের একটা ছেলে হয়েছে। এ বর্ণনার ভিত্তিতে মনে হয়, হযরত ’উমারের জন্মের সময় বেশ একটা আনন্দোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
.
তাঁর গায়ের রং উজ্জ্বল গৌরবর্ণ, টাক মাথা, গণ্ডদেশ মাংসহীন, ঘন দাড়ি এবং শরীর দীর্ঘাকৃতির। হাজার মানুষের মধ্যেও তাঁকেই সবার থেকে লম্বা দেখা যেত।
যৌবনের প্রারম্ভেই তিনি তৎকালীন অভিজাত আরবদের অবশ্য-শিক্ষণীয় বিষয়গুলি যথা: যুদ্ধবিদ্যা, কুস্তি, বক্তৃতা ও বংশ তালিকা শিক্ষা প্রভৃতি আয়ত্ত করেন। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের একজন শ্রেষ্ঠ কুস্তীগির। আরবের ‘উকায’ মেলায় তিনি কুস্তি লড়তেন।
আল্লামা যুবইয়ানী বলেছেন: ‘উমার ছিলেন এক মস্তবড় পালোয়ান।’ তিনি ছিলেন জাহিলি আরবের এক বিখ্যাত ঘোড় সওয়ার। আল্লামা জাহিয বলেছেন: ‘উমার ঘোড়ায় চড়লে মনে হত, ঘোড়ার চামড়ার সাথে তাঁর শরীর মিশে গেছে।’ [আল-বায়ান ওয়াত তাবয়ীন]
.
দিনের বেলা কুস্তি আর রাতে মদের আসরে বুঁদ হয়ে পরে থাকা- এমনি ছিল উমারের যৌবনকাল। কে জানতো, এই সাধারণ একরোখা ধরনের যুবকটিই একদিন ‘ফারুকে আযমে’ পরিণত হবেন!
তাঁর ইসলাম গ্রহণ ছিল পুরো মক্কাকে কাপিয়ে দেয়ার মত। ইসলাম তাঁর পুরো জীবনকে যে পাল্টে দিয়েছিল। তাঁর চিন্তাজগত এতটাই উঁচুতে পৌঁছে গিয়েছিল, কেবল তাঁর অভিমতের কারণে কুরআনের বেশ কয়েকবার আয়াত নাজিল হয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নিকট তার স্ট্যাটাস দেখে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন- “আমার পর যদি কেউ নবি হত তাহলে উমর হত সেই নবি” !!
ইসলাম তাঁকে এমনি শ্রেষ্ঠত্ব দিল যে, এই মহান মানুষটি একসময় শাসন করলেন অর্ধ জাহান। আজও তিনি জনসাধারণ থেকে শাসকবর্গ সবার নিকট অনুসরণীয় হয়ে আছেন। তিনিই উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু।
.
কীভাবে অন্ধকারের অতলে ডুবে থাকা মানুষটি দীপ্তিময় আকাশের চূড়ায় পৌঁছে গেলেন?
কেমন ছিল তাঁর শাসন-ব্যবস্থা, রণকৌশল, যার আদলে তিনি অর্ধ পৃথিবীতে খিলাফার পতাকা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন?
জানতে হলে পড়তে হবে, ড. মুহাম্মাদ আলি সাল্লাবি এর রচিত ‘আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব’ (রদ্বি.)
পৃষ্ঠা সংখ্যা
প্রথম খণ্ড ৪৯৬, দ্বিতীয় খণ্ড ৫৭৬, মোট: ১০৭২

পরিমাণ

650  1,000 (35% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ৪৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি প্রিমিয়াম বুকমার্ক ফ্রি!

- ৬৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি একটি আমল চেকলিস্ট ফ্রি!

- ৮৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি বই ফ্রি!

- ১,১৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি আতর ফ্রি!

- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী

11 রিভিউ এবং রেটিং - খলিফাতুল মুসলিমিন উমর ইবনুল খাত্তাব ( দুই খণ্ড একত্রে)

5.0
Based on 11 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    উমার ইবনুল খাত্তাব। ইসলামের ইতিহাসে যেন গোটা এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। আদর্শ শাসনের অনবদ্য দৃষ্টান্তে সমগ্র পৃথিবীর নিকট আজও তিনি এক আইডল। ঠিক যেদিন উন্মুক্ত তরবারি হাতে নবীজির গর্দানচ্ছেদের উন্মত্ততায় নেমেছিলেন, সেদিনই ইসলামের অমৃতসুধা পান করে হয়ে গিয়েছিলেন ইসলামের বীরবাহু সৈনিক।

    নবীজির সোহবতে জন্ম নিয়েছিল যে ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা, আবু বাকরের হাত ধরে যে রাষ্ট্র পার করেছে শৈশবের কাঁচামিঠে দিনগুলো, উমারের সময়ে সেই রাষ্ট্রের যেন ছিল ষোড়শীর টালমাটাল তারুণ্য। তাঁর খেলাফত কালেই এই উম্মাহ পেয়েছিল অর্ধ-পৃথিবীর শাসনভার। সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা, সামরিক ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের আলোচনায় আজও ‘উমার’ নামটি উঠে আসে সবার আগে।

    নজরুলের ভাষ্যে-
    “অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি
    খেজুরপাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি
    সাইমুম ঝড়ে পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক’ নুয়ে।
    ঊর্ধ্বে যারা- পড়ছে তাহারা, তুমি ছিলে খাড়া ভূঁয়ে।”

    ▪️প্রেক্ষাপটঃ
    উমর (রা.) হলেন ইতিহাসের এক স্বর্ণ-খোদিত নাম। ব্যক্তিত্বের মূর্ছনা আর লিডারশীপের বিচক্ষণতায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা ছড়িয়ে দিয়েছেন দিগ্বিদিক। তাঁর হাতেই প্রতিষ্ঠা পেয়েছে রাষ্ট্রীয় বহু অবকাঠামো। তাঁর তাক্বওয়া, নেতৃত্বের মুনশিয়ানা, জ্ঞানের দূরদর্শিতা মুসলিম উম্মাহর জন্য সৃষ্টি করেছে অনবদ্য ইতিহাস, বর্ণালী ঐতিহ্য।

    মহান এই ব্যক্তিত্বের জীবনের জানা-অজানা বিভিন্ন তথ্য ও তত্ত্ব, ঘটনাপ্রবাহ ও বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির সমন্বয়ে রচিত বইয়ের বাঙলায়ন হচ্ছে আমাদের আলোচ্য দুটি খন্ডের বই।

    কীভাবে আঁধারের অতলান্তে ডুবে থাকা মানুষটা পেলেন আলোর পরশমণি? মদের বোতলে বুঁদ হয়ে থাকা যুবক কি করে হয়ে উঠলেন আমিরুল মু’মিনীন? কেমন ছিল তাঁর শাসন-ব্যবস্থা, ন্যায়বিচারের ইতিবৃত্ত, যার নিমিত্তে তিনি পেয়েছিলেন আল-ফারুক উপাধি?

    জানতে হলে আমাদের পাড়ি দিতে হবে এই মহাবীরের জীবন সায়রের অন্তরীপে। সুবিন্যস্ত আর তথ্যবহুল আলোচনায়।

    .

    ▪️পাঠ-পর্যালোচনা :
    ঈষৎ বাদামীরঙা ঝিরিঝিরির সাথে একটুকরো সবুজাভ অংশে বিজয়ের খোলা তরবারী। যার জীবনালেখ্য তাঁর সাথে কি গভীর অর্থবোধক মিল এই প্রচ্ছদের!

    এই মহাবীরের জীবনসমুদ্র সেঁচে এক পেয়ালা মুক্তো কুড়িয়ে শব্দবন্দী করা অনুবাদ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে ‘কালান্তর প্রকাশনী ‘। বইটি রচনা করেছেন সমকালীন বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও গবেষক ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী। স্ব-গুণেই তিনি আজ জগদ্বিখ্যাত এক ব্যক্তিত্ব।

    দুটি খন্ডে বিভক্ত বইটিতে মোটামুটি উমার (রা.) এর জীবনের উল্লেখ-অনুল্লেখযোগ্য অনেক ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে। উভয়খন্ড মিলে মোট ৮টি অধ্যায় রয়েছে।

    • প্রথম খন্ডে মোট ৩টি-অধ্যায়। মক্কায় উমার(রা.), হিজরত থেকে খেলাফত এবং সামাজিক জীবন ও সমাজ সংস্কার এই তিনটি শিরোনামের অধীনে ছোট ছোট অনেক উপঅধ্যায় রয়েছে।

    প্রথম অধ্যায়ে তাঁর জন্ম, শারীরিক বৈশিষ্ট্য, ইসলামগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে হিজরতকালীন ঘটনাবলী, আহলে বাইতদের প্রতি তাঁর হৃদ্যতা ইত্যাদি। শেষ অধ্যায়ের উপজীব্য তাঁর খিলাফাত কাল। সমাজ সংস্কার, নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া, ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    • ২য় খন্ডে রয়েছে মোট পাঁচটা অধ্যায়। এই খন্ডে পুরোদমে তাঁর খিলাফাতের আলোচনাই হয়েছে। তাঁর বিচারকার্য, নেতৃত্ব, বিভিন্ন অভিযান, বিজয় ও তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর ঘটন-অঘটনে সজ্জিত একেকটা অধ্যায়।
    .

    ▪️বইটির বিশেষত্ব :
    বইটির মূল ফোকাস কেবল গাদাগাদা তথ্য আর ঘটনাপ্রবাহের বহমানতায় নয়, বরং এখানে উমার (রা.) এর জীবনের একেকটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণনার পর এর বিশ্লেষণেপূর্বক সাবলীল ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।

    গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে অনেকটা সম্মুখ আলোচনার মতো বায়োগ্রাফি পর্যালোচনা করা। শুধু গৎবাঁধা ইতিহাসের সমষ্টিতে অবসান নয়, বরং আলোচনা হয়েছে সুবিন্যস্তভাবে তবে মাধুর্যতার সাথে।

    ঘটনাগুলোকে বর্ণনার পর একটা কম্পেয়ার করা হয়েছে বর্তমান অবস্থার সাথে। যা পাঠকদের দাঁড় করাবে অর্জন-বর্জনের কাঠগড়ায়। জুগিয়ে দিবে উপলব্ধির খোরাক। আর এটাই বইটির প্রধান বিশেষত্ব।

    ড. সাল্লাবী রচিত বলে বিশুদ্ধতার মান নিয়ে হেডেক নেই। বরং অনুবাদকের পাঁকা হাতে সহজবোধ্য শব্দয়ন আর সাবলীল বর্ণনা সবশ্রেণীর পাঠকের জন্য বইটিকে করেছে সুখপাঠ্য। কেবল জীবনাচরণের একঘেয়ে বর্ণনাই হয়নি এই বইটিতে, বরং তাঁর জীবন ও কর্ম, আচার-আচরণের সাথে তুলনা করা হয়েছে বর্তমান যুগের। দেওয়া হয়েছে যুগোপযোগী নাসীহাহ।

    সাধারণত কোনো বাস্তব সত্য ঘটনার বর্ণনাপূর্বক নাসীহাহ প্রদান করলে, অডিয়েন্স অর্থাৎ পাঠককূলের মনে দাগ কাটতে বা আগ্রহ ধরে রাখতে অধিক কার্যকর হয়। প্রচলিত নিয়মের অন্তে এই জায়গাটাতেই বইটি অনন্য। সেই সাথে বইয়ের পৃষ্ঠা কিংবা বাইন্ডিং কোয়ালিটি বরাবরের মতোই উন্নত।
    .

    ▪️কেন পড়বেন?
    যখন কারো ঈমানে দুর্বলতা চলে আসে, গুনাহপ্রবণতা বেড়ে যায়, ইবাদতে আগ্রহ মিলেনা, তখন বিজ্ঞজনেরাও সাজেস্ট করেন নববী, সাহাবী, সালাফদের জীবনী অধ্যয়নের জন্য। গাফিলতির এই সময়টায় তাই আমাদের উমার রাযি. এর মতো সবার জীবনী পড়াই উচিত। মুসলিমদের সহজাত হীনম্মন্যতা আর পরাজিত মানসিকতা কাঁটিয়ে লিডারশীপের প্রেষণা নেওয়ার জন্য আমাদের যুবকদের উমার ইবনুল খাত্তাবকে (রাযি.) পড়াতো ভীষণরকমের প্রয়োজন।

    তবে, প্রশ্ন হতে পারে, এই বইটিই কেনো বেছে নিবো?

    উত্তরে হবে এই বইটির সুবিন্যস্ততা আর সহজপাঠ্যতা। তথ্যবহুল প্রত্যেকটা আলোচনা। আমিরুল মু’মিনীনকে সবিস্তারে জানতে এই বইটির তুলনা চলেনা। কেনো অনুসরণ করবেন, কি অনুসরণ করবেন তার সিক্যুয়েল আর রেফারেন্স মেইনটেইন করে বইটি পাঠকের তৃপ্তির পারদ ঊর্ধ্বে বৈ নিম্নগামী হওয়ার করবেনা, ইনশাআল্লাহ্।

    .
    ▪️নিজ অভিমত :
    আবু বাকরের পর এই উম্মাহ ও ফিতনার মধ্যিখানে উমার (রা.) তৈরী করেছিলেন অভেদ্য এক প্রাচীর। তাঁর শাহাদাত বরণের পর সেই প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে গেছে আদ্যোপান্তই। বিশ্বব্যাপী অভ্যন্তরীণ কিংবা বহিরাগত সর্বত্র ব্যাক্তিপর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপর্যায় পর্যন্ত ইসলামকে আজ ধরে নেওয়া হচ্ছে ‘অপাংক্তেয়’।

    এক উম্মাহ এক দেহের সম্পর্কে আজ ভাঙ্গনের বিষাদী সুর। দিকনির্দেশনার জন্য মুহাফেজ নেই, নেই কোনো অভিভাবক। এমন ক্রান্তিলগ্নে খুলাফায়ে রাশেদীনগণের জীবনের বিদগ্ধ পাঠ নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করাটা রীতিমতো অবশ্যকর্তব্য।

    আসমানের মালিক ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটান; ঘটান উম্মাহর পুনঃজাগরণ। তাঁর জন্য আমাদের দিতে হবে কঠিনতম পরীক্ষা, হতে হবে দৃঢ়প্রত্যয়ী। আমাদের ঘর থেকেই আরেকজন ‘উমার’ তৈরী করার প্রয়াসে যুবকদের পড়তে/পড়াতে হবে তাঁর জীবনগাঁথা। মুসলিমদের বীরদর্পে নেতৃত্বের ইতিহাস আবারো বুকে ধারণের জন্য উমারকে (রা.) সবিস্তারে জানতে বইটি ছড়িয়ে দিন সর্বত্র। ইনশাআল্লাহ্।

    আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রা.
    মূল : শায়খ ড. আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি
    অনুবাদ : কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
    প্রকাশনায় : কালান্তর প্রকাশনী

    2 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top