মেন্যু


ঈমান সবার আগে

সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হল ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফার অন্ধকার। ঈমান জীবন, কুফর মৃত্যু। ঈমান পূর্ণ কল্যাণ আর কুফর পূর্ণ অকল্যাণ। ঈমান সরল পথ, আর কুফার ভ্ৰষ্টতার রাস্তা । ঈমান মুসলমানের কাছে প্ৰাণের চেয়েও প্রিয়। ঈমানদার সকল কষ্ট সহ্য করতে পারে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, কিন্তু ঈমান ছাড়তে পারে না। ঈমােনই তার কাছে সবকিছু থেকে বড়। ঈমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, ইসলামকে তার সকল অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনেপ্ৰাণে কাবুল করার নাম। আর একারণে মুমিনকে হতে হবে সুদৃঢ়, সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ। মুমিন কখনো শৈথিল্যবাদী হতে পারে না। কুফরির সাথে যেমন তার সন্ধি হতে পারে না তেমনি মুরতাদ ও অমুসলিমের সাথেও বন্ধুত্ব হতে পারে না। ইসলামের পূর্ণ পরিচয় কী এবং তার অপরিহার্য দাবি ও অনুষঙ্গগুলোই বা কী? সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করাই এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য। দ্বীন ও ঈমান সম্পর্কে বেপরোয়া লোকদের যেহেতু এইসব বিষয়ের জ্ঞান নেই, কিংবা জ্ঞান থাকলেও পরোয়া নেই। তাই তাদের মতে ঈমানকুফরের সন্ধিও অসম্ভব কিছু নয়। (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আমীম) কাকে বলে ঈমান আর তার অপরিহার্য অনুষঙ্গ কী-এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিয়েই এই বই।

পরিমাণ

60  110 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
জিলহজ্জ স্পেশাল গ্যাজেটস
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

6 রিভিউ এবং রেটিং - ঈমান সবার আগে

5.0
Based on 6 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    • সূচনা :

    মানবজীবনে সবচে’ দামি সম্পদ কী? জ্বি, ঠিক বলেছেন – ঈমান। ঈমানই একজন মানুষের জীবনে সবচে’ দামি সম্পদ। বর্তমানে আমরা এমন একটা যুগ অতিবাহিত করছি, যার চারদিকে ঈমানবিধ্বংসী জাল পাতা আছে। খুব সহজেই আমরা সেই জালে আটকা পড়ে যাই। অতি সামান্য কারণে বা  দুনিয়ার মিছে মোহে পড়ে বিক্রি করে দিই আমাদের মহামূল্যবান এ সম্পদ। অথচ আমাদের মনে রাখা উচিত, ঈমান সবার এবং সবকিছুর  আগে। যে বইটি নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি, তা এ কথাই দলিলের মাধ্যমে দৃঢ়তার সাথে প্রমাণ করবে যে, ঈমান সবার আগে।
    .

    • লেখক সম্পর্কে দু’ কলম :

    মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক (হাফি:)। হাদীস শাস্ত্রে এ দেশের এক রত্ন। ঢাকার ইসলামী গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার উলূমুল হাদীস অনুষদ এবং রচনা ও গবেষণা বিভাগের প্রধান এবং মাসিক আলকাউসারের তত্ত্বাবধায়ক। ‘এসব হাদীস নয়’, ‘প্রচলিত ভুল’, ‘ঈমান সবার আগে’সহ রচনা করেছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় গ্রন্থ। হযরতের নেক হায়াত কামনা করছি।
    .

    • বইয়ের আলোচ্য বিষয় :

    ইসলাম কী? ঈমান কাকে বলে? তার অপরিহার্য দাবি এবং অনুষঙ্গগুলোই বা কী কী? আলোচ্য বইয়ে এ বিষয়ের ওপরই দলিলসহকারে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে।
    .

    • যা জানতে পারবেন এ বই থেকে :

    বইটি পড়ে পাঠক যা জানতে পারবেন : ঈমান আনার পর সংশয় বা দোদুল্যমানতা কি গ্রাহ্য? সচক্ষে দেখার পর বা কেবল যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় মেনে নেওয়াই কি ঈমান? যদি এমনটা না হয়, তাহলে আসলে ঈমান কী? কেবল অন্তরে বিশ্বাস করলেই কি ঈমানদার হওয়া যায়? নাকি মৌখিক স্বীকৃতিরও প্রয়োজন আছে?

    আরো জানবেন : কেবল একটি আয়াতের প্রতি আপত্তি রেখে কুরআনের বাকি অংশের ওপর ঈমান আনায়ন কি গ্রহণযোগ্য? যদি তা না হয়, তাহলে যারা পর্দা, মদ বা হদ সংক্রান্ত আয়াতের বেলায় নাক সিঁটকায়, তাদের ব্যাপারে ফতোয়া কী হবে? অন্যকে উত্তম আদর্শ মেনে নিয়ে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনায়ন কি সিদ্ধ?

    এছাড়াও বইয়ে আলোচিত হয়েছে “ইসলামকে অন্তর ও মুখে মেনে নেওয়াই  ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট কিনা এবং পুরো জীবনের কতটুকু অংশ ইসলাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে” – এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি।

    শ্রদ্ধাহীন বা ভালোবাসাহীন বিশ্বাস কি ঈমান বলে গণ্য হবে? বিদ্বেষ ও ঈমান কি একত্র হতে পারে? ঈমানের প্রাণ কী? ঈমানী আকাইদ ও আহকামের বিষয়গুলো অপব্যাখ্যা করে তার প্রতিষ্ঠিত অর্থ থেকে ভিন্নার্থে রূপান্তর করার বিধান কী? ইরতিদাদ কী? সাধারণ কুফর আর ইরতিদাদের হুকুম কি একই? – এসব প্রশ্নের উত্তরও পাবেন বইটিতে।

    ঈমানের সবচেয়ে বড় রোকন কী? বিধান প্রণয়নের অধিকার আল্লাহ ছাড়া আর কারো আছে কি?  মুয়ালাত ও বারাআত কাকে বলে এবং এর মানদণ্ড কী? পারস্পরিক সহযোগিতার মানদণ্ডই বা কী? – এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনাও দালিলিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এ বইটিতে।

    আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে এ বইয়ে। আর তা হলো – “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” নীতির ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা। অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে কি মুসলিমরা  বিলীন হতে পারবে? বা অংশগ্রহণ করতে পারবে কি? ইসলাম এ ব্যাপারে কী বলে? জানতে চাইলে আপনাকে এ বইটি পড়তে হবে।

    বইটির শেষের দিকে “ঈমান পরীক্ষার উপায়” শিরোনামে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। এ অংশে লেখক কিছু প্রশ্ন করেছেন এবং সে প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ বিশ্লেষিত আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে ৩টি প্রশ্ন আমি নিম্নে উল্লেখ করছি :

    – আমার মাঝে কোনো কুফরী আকিদাহ নেই তো?
    – আমার মাঝে নিফাক নেই তো?
    – আল্লাহকে হাকিম ও বিধানদাতা মেনে নিতে আমার মনে কোনো দ্বিধা – নাউজুবিল্লাহ – নেই তো?

    এভাবেই আত্মসমালোচনামূলক কিছু প্রশ্নের ব্যাখ্যা করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এ ‘মাস্টারপিস’ বইটি।
    .

    • বইটির প্রয়োজনীয়তা :

    বইটি প্রয়োজন। খুব প্রয়োজন। সত্যিই খুব প্রয়োজন। এ ফেতনার কালে ঈমান সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞানার্জন প্রত্যেকের জন্য ফরজ। এ ফরজ দায়িত্ব পালনে এ বইটি সত্যিই আমাদেরকে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ। বইয়ের ভাষার উচ্চাঙ্গতা, বর্ণনার সরলতা, দলিল-আদিল্লার পূর্ণতা আপনার হৃদয়ে জ্বালিয়ে দিবে ঈমানী নূর, ঈমানকে করে তুলবে আপনার কাছে সবচেয়ে দামি। ইনশাআল্লাহ।
    .

    • পাঠান্তে মূল্যায়ন :

    অসাধারণ একটি বই, যা আপনার ঈমানের মূল্যকে আপনার চোখের সামনে স্পষ্ট করে দিবে, যেমনটা হয়েছে আমার ক্ষেত্রে। বইটি বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যেমন :

    – ভাষার উচ্চাঙ্গতা
    – সাবলীল আলোচনা
    – সরল বর্ণনা
    – বর্ণনার বাহুল্যমুক্ততা
    – দলিলপত্রের পর্যাপ্ততা
    – শিরোনাম উল্লেখকরণ
    .

    • উপসংহার :

    বস্তুগত ধন-সম্পদ রক্ষার্থে আমরা কত কিছুই তো করে থাকি। ঈমান রক্ষার্থে তার সিকিভাগ চেষ্টাও কি করি? ঈমান নিয়ে কতটা সচেতন আমরা? আল্লাহ আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন। পরিশেষে সবাইকে বলবো, ঈমান-আকিদাহ ও ফিতনা সংক্রান্ত বইপত্র বেশি বেশি পড়ুন। সে জন্য আপনার পাঠ্য তালিকায় যুক্ত করে নিন ‘ঈমান সবার আগে’।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No