মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ঈমান সবার আগে

সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হল ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফার অন্ধকার। ঈমান জীবন, কুফর মৃত্যু। ঈমান পূর্ণ কল্যাণ আর কুফর পূর্ণ অকল্যাণ। ঈমান সরল পথ, আর কুফার ভ্ৰষ্টতার রাস্তা । ঈমান মুসলমানের কাছে প্ৰাণের চেয়েও প্রিয়। ঈমানদার সকল কষ্ট সহ্য করতে পারে, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে পারে, কিন্তু ঈমান ছাড়তে পারে না। ঈমােনই তার কাছে সবকিছু থেকে বড়। ঈমান শুধু মুখে কালেমা পড়ার নাম নয়, ইসলামকে তার সকল অপরিহার্য অনুষঙ্গসহ মনেপ্ৰাণে কাবুল করার নাম। আর একারণে মুমিনকে হতে হবে সুদৃঢ়, সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ। মুমিন কখনো শৈথিল্যবাদী হতে পারে না। কুফরির সাথে যেমন তার সন্ধি হতে পারে না তেমনি মুরতাদ ও অমুসলিমের সাথেও বন্ধুত্ব হতে পারে না। ইসলামের পূর্ণ পরিচয় কী এবং তার অপরিহার্য দাবি ও অনুষঙ্গগুলোই বা কী? সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করাই এ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য। দ্বীন ও ঈমান সম্পর্কে বেপরোয়া লোকদের যেহেতু এইসব বিষয়ের জ্ঞান নেই, কিংবা জ্ঞান থাকলেও পরোয়া নেই। তাই তাদের মতে ঈমানকুফরের সন্ধিও অসম্ভব কিছু নয়। (লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আমীম) কাকে বলে ঈমান আর তার অপরিহার্য অনুষঙ্গ কী-এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী নিয়েই এই বই।

পরিমাণ

66.00  110.00 (40% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

6 রিভিউ এবং রেটিং - ঈমান সবার আগে

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    • সূচনা :

    মানবজীবনে সবচে’ দামি সম্পদ কী? জ্বি, ঠিক বলেছেন – ঈমান। ঈমানই একজন মানুষের জীবনে সবচে’ দামি সম্পদ। বর্তমানে আমরা এমন একটা যুগ অতিবাহিত করছি, যার চারদিকে ঈমানবিধ্বংসী জাল পাতা আছে। খুব সহজেই আমরা সেই জালে আটকা পড়ে যাই। অতি সামান্য কারণে বা  দুনিয়ার মিছে মোহে পড়ে বিক্রি করে দিই আমাদের মহামূল্যবান এ সম্পদ। অথচ আমাদের মনে রাখা উচিত, ঈমান সবার এবং সবকিছুর  আগে। যে বইটি নিয়ে আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি, তা এ কথাই দলিলের মাধ্যমে দৃঢ়তার সাথে প্রমাণ করবে যে, ঈমান সবার আগে।
    .

    • লেখক সম্পর্কে দু’ কলম :

    মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক (হাফি:)। হাদীস শাস্ত্রে এ দেশের এক রত্ন। ঢাকার ইসলামী গবেষণামূলক উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার উলূমুল হাদীস অনুষদ এবং রচনা ও গবেষণা বিভাগের প্রধান এবং মাসিক আলকাউসারের তত্ত্বাবধায়ক। ‘এসব হাদীস নয়’, ‘প্রচলিত ভুল’, ‘ঈমান সবার আগে’সহ রচনা করেছেন বেশ কিছু জনপ্রিয় গ্রন্থ। হযরতের নেক হায়াত কামনা করছি।
    .

    • বইয়ের আলোচ্য বিষয় :

    ইসলাম কী? ঈমান কাকে বলে? তার অপরিহার্য দাবি এবং অনুষঙ্গগুলোই বা কী কী? আলোচ্য বইয়ে এ বিষয়ের ওপরই দলিলসহকারে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে।
    .

    • যা জানতে পারবেন এ বই থেকে :

    বইটি পড়ে পাঠক যা জানতে পারবেন : ঈমান আনার পর সংশয় বা দোদুল্যমানতা কি গ্রাহ্য? সচক্ষে দেখার পর বা কেবল যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় মেনে নেওয়াই কি ঈমান? যদি এমনটা না হয়, তাহলে আসলে ঈমান কী? কেবল অন্তরে বিশ্বাস করলেই কি ঈমানদার হওয়া যায়? নাকি মৌখিক স্বীকৃতিরও প্রয়োজন আছে?

    আরো জানবেন : কেবল একটি আয়াতের প্রতি আপত্তি রেখে কুরআনের বাকি অংশের ওপর ঈমান আনায়ন কি গ্রহণযোগ্য? যদি তা না হয়, তাহলে যারা পর্দা, মদ বা হদ সংক্রান্ত আয়াতের বেলায় নাক সিঁটকায়, তাদের ব্যাপারে ফতোয়া কী হবে? অন্যকে উত্তম আদর্শ মেনে নিয়ে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনায়ন কি সিদ্ধ?

    এছাড়াও বইয়ে আলোচিত হয়েছে “ইসলামকে অন্তর ও মুখে মেনে নেওয়াই  ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট কিনা এবং পুরো জীবনের কতটুকু অংশ ইসলাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে” – এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি।

    শ্রদ্ধাহীন বা ভালোবাসাহীন বিশ্বাস কি ঈমান বলে গণ্য হবে? বিদ্বেষ ও ঈমান কি একত্র হতে পারে? ঈমানের প্রাণ কী? ঈমানী আকাইদ ও আহকামের বিষয়গুলো অপব্যাখ্যা করে তার প্রতিষ্ঠিত অর্থ থেকে ভিন্নার্থে রূপান্তর করার বিধান কী? ইরতিদাদ কী? সাধারণ কুফর আর ইরতিদাদের হুকুম কি একই? – এসব প্রশ্নের উত্তরও পাবেন বইটিতে।

    ঈমানের সবচেয়ে বড় রোকন কী? বিধান প্রণয়নের অধিকার আল্লাহ ছাড়া আর কারো আছে কি?  মুয়ালাত ও বারাআত কাকে বলে এবং এর মানদণ্ড কী? পারস্পরিক সহযোগিতার মানদণ্ডই বা কী? – এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনাও দালিলিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে এ বইটিতে।

    আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়েছে এ বইয়ে। আর তা হলো – “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” নীতির ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা। অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে কি মুসলিমরা  বিলীন হতে পারবে? বা অংশগ্রহণ করতে পারবে কি? ইসলাম এ ব্যাপারে কী বলে? জানতে চাইলে আপনাকে এ বইটি পড়তে হবে।

    বইটির শেষের দিকে “ঈমান পরীক্ষার উপায়” শিরোনামে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। এ অংশে লেখক কিছু প্রশ্ন করেছেন এবং সে প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ বিশ্লেষিত আলোচনা উপস্থাপন করেছেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে ৩টি প্রশ্ন আমি নিম্নে উল্লেখ করছি :

    – আমার মাঝে কোনো কুফরী আকিদাহ নেই তো?
    – আমার মাঝে নিফাক নেই তো?
    – আল্লাহকে হাকিম ও বিধানদাতা মেনে নিতে আমার মনে কোনো দ্বিধা – নাউজুবিল্লাহ – নেই তো?

    এভাবেই আত্মসমালোচনামূলক কিছু প্রশ্নের ব্যাখ্যা করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এ ‘মাস্টারপিস’ বইটি।
    .

    • বইটির প্রয়োজনীয়তা :

    বইটি প্রয়োজন। খুব প্রয়োজন। সত্যিই খুব প্রয়োজন। এ ফেতনার কালে ঈমান সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞানার্জন প্রত্যেকের জন্য ফরজ। এ ফরজ দায়িত্ব পালনে এ বইটি সত্যিই আমাদেরকে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ। বইয়ের ভাষার উচ্চাঙ্গতা, বর্ণনার সরলতা, দলিল-আদিল্লার পূর্ণতা আপনার হৃদয়ে জ্বালিয়ে দিবে ঈমানী নূর, ঈমানকে করে তুলবে আপনার কাছে সবচেয়ে দামি। ইনশাআল্লাহ।
    .

    • পাঠান্তে মূল্যায়ন :

    অসাধারণ একটি বই, যা আপনার ঈমানের মূল্যকে আপনার চোখের সামনে স্পষ্ট করে দিবে, যেমনটা হয়েছে আমার ক্ষেত্রে। বইটি বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। যেমন :

    – ভাষার উচ্চাঙ্গতা
    – সাবলীল আলোচনা
    – সরল বর্ণনা
    – বর্ণনার বাহুল্যমুক্ততা
    – দলিলপত্রের পর্যাপ্ততা
    – শিরোনাম উল্লেখকরণ
    .

    • উপসংহার :

    বস্তুগত ধন-সম্পদ রক্ষার্থে আমরা কত কিছুই তো করে থাকি। ঈমান রক্ষার্থে তার সিকিভাগ চেষ্টাও কি করি? ঈমান নিয়ে কতটা সচেতন আমরা? আল্লাহ আমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন। পরিশেষে সবাইকে বলবো, ঈমান-আকিদাহ ও ফিতনা সংক্রান্ত বইপত্র বেশি বেশি পড়ুন। সে জন্য আপনার পাঠ্য তালিকায় যুক্ত করে নিন ‘ঈমান সবার আগে’।

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    বিসমিল্লাহ
    ——————
    প্রারম্ভিকাঃ
    ঈমান সবচেয়ে বড় সম্পদ, দামী দান। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বান্দাদের যেসব অনুগ্রহ দান করেছেন, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ করেছেন ঈমানের দৌলত দান করে। ঈমান ছাড়া কোন আমলেই আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। যার ঈমান আছে প্রকৃতপক্ষেই তার সব আছে, আর যার ঈমান নেই বাকি সব কিছু থাকলেও তার মত নিঃস্ব আর কেউ নেই। এ জন্যে অন্য সবকিছুর আগে ঈমান প্রয়োজন। আমাদের সমাজে ইসলাম চর্চায় যে সঙ্কট বিরাজ করছে তার মর্মমূলে রয়েছে ঈমান -আকিদা বিবর্জিত ইসলামি অনুশাসন।

    প্রেক্ষাপটঃ
    বর্তমান ফিতনার এই জামানায় ঈমান নিয়ে টিকে থাকা যে কত কঠিন তা বলাই বাহুল্য। ঈমান-আকিদার বেহাল দশা অনুধাবন করতে পেরে সমাজের এ মারাত্মক অবস্থা সংশোধনের লক্ষ্য নিয়ে মাওলানা আব্দুল মালেক (হাফিজাহুল্লাহ) কুরআন ও হাদীসের আলোকে “ঈমান সবার আগে” শিরোনামে ধারাবাহিকভাবে কিছু লিখা প্রকাশিত করেন তার ‘মাসিক আল-কাউসার’ নামক পত্রিকায়। পরবর্তীতে পাঠকের সুবিধার্থে, লেখাগুলোকে সংকলন করে আমাদের সামনে বই আকারে পেশ করে গুরুত্বপূর্ণ খেদমত আঞ্জাম দেন রাহনুমা প্রকাশনী । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা গুরুত্বপূর্ণ এই বই সম্পর্কিত সকলের খেদমত কবুল করুন। (আমিন ইয়া রব)।

    সার-সংক্ষেপঃ
    ঈমান-আকিদার পরিচয়, ঈমানের জন্য অপরিহার্য বিষয়াবলী, কুফর, ইরতিদাদ, নিফাকসহ ঈমান বিধ্বংসী বিষয়সমূহের প্রামাণিক ও সংক্ষিপ্ত বিবরণ অত্যন্ত চমৎকার ভঙ্গিতে হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। সেই সাথে বইটিতে ঈমান পরিক্ষার উপায়সমূহ নিয়েও সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্ববহ আলোচনা এসেছে।
    যেমন_ ১) আমার মাঝে কোন কুফরি আকীদা নেই তো? ২) আমার মধ্যে নিফাক নেই তো?
    ৩) নিজের ইচ্ছা বা পছন্দের কারণে ঈমান ছাড়ছি না তো….. ইত্যাদি। সব শেষে তাওবার দরজা খোলা শিরোনামে আশা জাগানিয়া মর্মস্পর্শী আলোচনার মাধ্যমে বইটির সমাপ্তি হয়েছে।

    বইটি কেন পড়বেনঃ
    ঈমান একজন বান্দার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ঈমানহীনতা মানেই জাহান্নামের ভয়াবহ আযাব, কঠিন শাস্তি। এক কথায়, জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে জান্নাতের পথিক হতে চাইলে বইটির বিকল্প নেই বললেই চলে। প্রিয় পাঠক ; নিজের ঈমানকে হেফাজত করার জন্য, শিরক, কুফর, বিদ’আত, কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকতে হলে এবং নিজের ঈমানের অবস্থা পরিক্ষার জন্য রত্নভাণ্ডারে সজ্জিত মাস্টারপিস এই বইটি অবশ্যই আপনার পড়া উচিত।

    পাঠ্যানুভূতিঃ
    কিছু-কিছু বই আছে যেগুলো পড়ার পর যে অনুভূতি হয় তা আসলে লিখে বা বলে ব্যক্ত করা যায় না। শব্দ কম পড়ে যায়, ভাষা হারিয়ে যায়। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ বই “ঈমান সবার আগে” বইটি। অত্যন্ত দরদ ও ভালোবাসার সংমিশ্রণে সাজানো হয়েছে বইটিকে। শুধু এতটুকুই বলাই যথার্থ মনে করছি, আলহামদুলিল্লাহ উপকৃত হয়েছি।

    একনজরে বইটিঃ
    নামঃ ঈমান সবার আগে
    লেখকঃ মাওলানা আব্দুল মালেক
    প্রকাশনাঃ রাহনুমা প্রকাশনী
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭৯

    Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5

    :

    ♧প্রাক-কথনঃ
    সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মানুষের গর্ভ থেকে মানুষের জন্ম হয়ে বিশাল এই পৃথিবীর যাত্রা। এ যাত্রায় জন্ম হয় বিভিন্ন ধরনের মানুষের, আবার মৃত্যুর কোলেও ঢলে পড়ে সময় ও রিজিকের ইতি ঘটলে। জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যখানের সময়টুকুই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় সৌভাগ্যবান উত্তীর্ণ জনগোষ্ঠী তারাই যারা ইসলামকে কবুল করে মুসলিম তাঁবুতে অবস্থান নিয়েছে। আর একথা স্বতঃসিদ্ধ যে, মুসলিমদের কাছে তার নিজের জীবনের চেয়েও মূল্যবান যে জিনিস তা হলো “ঈমান”।

    ঈমানের বলেই একজন মুমিন অবিশ্বাসী গোষ্ঠী থেকে সম্পুর্ন পৃথক হয়ে যাবতীয় আত্নপ্রবঞ্চনাময় ভোগ-বিলাসকে তুচ্ছ করে মহান রবের সন্তুষ্টি তালাশে সর্বদা নিয়োজিত থাকে। কিন্তু কালের ঘূর্ণাবর্তে মুসলমানদের মধ্যেও ঈমান ও ইসলাম, কুফর ও নিফাক সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ জ্ঞানের প্রচণ্ড অভাব পরীলক্ষিত হয়। যার ফলে তার আকীদা ও বিশ্বাস, চিন্তা ও চেতনা, জীবন ও কর্ম সংশয় এবং দোদল্যমানতায় পর্যবসিত হয়। এ দিকগুলোর প্রতি লক্ষ রেখে ঈমান ও ইসলামের পূর্ণ পরিচয় এবং তার অপরিহার্য দাবি ও অনুষঙ্গ বিষয়গুলো প্রত্যেক মুমিন ও মুসলিমের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাহনুমা প্রকাশনীর ক্ষুদ্র ও সাফল্যমণ্ডিত প্রয়াস “ঈমান সবার আগে”।

    ♧ কি নিয়ে এই বই?
    বইটির আগাগোড়া ঈমানের পূর্ণ পরিচয় বহন করে। যদি আরো সুঁচালো ও সুক্ষ্মভাবে বলি, তাহলে এভাবে বলতে হয়-
    ০১. বইটির প্রথম ২১ পৃষ্ঠায় ঈমানের সংজ্ঞা ও একজন ঈমানদারের জন্য অবশ্যপালনীয় বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    ০২. পরবর্তীতে ৩৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত কুফর ও নিফাক এবং দ্বীনি কোন বিষয়ে অবজ্ঞা ও বিদ্রুপের পরিণতি এবং ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক দ্বীন বিকৃতি ও অপব্যখ্যার বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    ০৩. এরপরে ৫৬ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ঈমানের রোকন, দাবি, মুয়ালাত, বারাআত ও ঈমানদারের জন্য সংবেদনশীল কিছু বিষয় নিয়ে বইটিতে বিস্তর ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।

    ০৪. পরবর্তী ৫৭ পৃষ্ঠা থেকে শেষ পর্যন্ত একজন মুমিনের নিজ ঈমানকে জাস্টিফাই করার জন্য “ঈমান পরীক্ষার উপায়” আলোচনা করা হয়েছে।পরিশেষে সমস্ত গুনাহ থেকে বাঁচার মাধ্যমে আত্নশুদ্ধি, কর্ম সংশোধন এবং সাধ্যমত অতীত জীবনের ক্ষতিপূরণ, কুফর-শিরক ও নিফাকসহ বড় বড় অপরাধ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য তাওবার আহ্বান জানিয়ে লেখক লিখাটি শেষ করেছেন।

    ♧ বইটি কাদের জন্য এবং কেন পড়বেন?
    মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত অদৃশ্য বিষয় মেনে নিতে অনেকে সন্দিহান থাকে,ঈমানের অনেক বিষয়ের ধরণ ও বিবরণ বুঝে আসে না,যার ফলে শরীয়াতের হুকুম তামিলে দ্বীধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। মোটকথা ঈমানের হাক্বিকত সম্পর্কে একেবারেরই অজ্ঞ থাকে। ঈমানের হাক্বিকত, মুমিনের বৈশিষ্ট্য এবং ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক প্রায় সকল বিষয় নিয়েই যেহেতু আলোচনা করা হয়েছে সেজন্য বইটি যেকোন বয়সের প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য হাইলি রিকোমেন্ডেড। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের ঈমান যাচাইয়ের জন্য হলেও বইটি পড়া উচিত বলে মনে করি।

    ♧ বইটির কিছু বিশেষত্বঃ
    বইটিতে প্রত্যেকটি বিষয়ের ব্যাখ্যায় লেখক কুরআন থেকে আয়াত উদ্ধৃত করেছেন। যার ফলে সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহর নির্দেশিকা খুব সহজেই অনুধাবন করা যায়। ঈমানের মৌলিক প্রায় সকল বিষয় নিয়ে কুরআনের আয়াত সমূহের এক নির্ভরযোগ্য সমাহার এই বইটি। সহজ ও সাবলীল শব্দবিন্যাসের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে বিষয়গুলো ফুটে উঠেছে বইটিতে।

    ♧ লেখক সম্পর্কেঃ
    “ঈমান সবার আগে” বইটি মাসিক আল-কাউসার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত তিনটি সংখ্যার সম্মিলিত রুপ। সে হিসেবে বইটির লেখক ‘মাওলানা আব্দুল মালেক হাফি.’ হুজুর। উপমহাদেশের প্রখ্যাত ‘মুহাক্কিক’ আলেমদের কারো নাম নিলে অনায়াশেই হুজুরের নামও চলে আসবে। অসাধারণ বিনয় ও নম্রতা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতার অধিকারী মানুষ তিনি। প্রচারবিমুখ এই মানুষটির সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাত না হলে তার ব্যক্তিত্ব ও সরলতা, ইখলাস ও দৃঢ়তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া অসম্ভব-ই ছিল বটে।

    ♧ একটু অনুযোগঃ
    একটি বই পাঠকের হৃদয়ে স্থান কেড়ে নিতে কয়েকটি বিষয় ধর্তব্য হয়ে দাঁড়ায়। সেগুলোর মধ্যে বিশ্বস্ত প্রকাশনীর পাশাপাশি পাঠকহৃদয়কে আলোড়িত করতে একজন প্রজ্ঞাবান লেখক হিসেবে হুজুরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। বইটির শুরু বা শেষে কোথাও যদি লেখক সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি থাকত তাহলে বইটি আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ হতো। আশা করি,পরবর্তী সংস্করণগুলোতে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।

    ♧ পাঠ্যানুভুতি ও মন্তব্যঃ
    পাঠ্যানুভুতি লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব হলেও কিছু কথা বলতেই হয়। বইটি জ্ঞানের এক দ্বার উন্মোচিত করেছে। একজন মুসলিম হলেও ঈমানের খুঁটিনাটি বিষয়গুলা জানা ছিলনা, বইটি বিষয়গুলো ধরে ধরে শিখিয়েছে আমাকে। এছাড়াও ঈমানী পরীক্ষার ক্রাইটেরিয়ায় ফেলে নিজেকে যাচাই ও সংশোধনের সুযোগ হয়েছে। প্রত্যেকেরই উচিত হবে বইটি আদ্যোপান্ত অন্তত একবার হলেও পড়া, আশা করা যায় ঈমানী শক্তিতে এক নতুন দীগন্তের উদ্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

    Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5

    :

    ‘ঈমান’– মাত্র ৩টি বর্ণের সমষ্টি। যা একজন মুসলিমের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র সম্বল ও আল্লাহ প্রদত্ত অমূল্য উপহার। সেই ঈমানকে কিভাবে যত্ন নিতে হবে এবং কেন সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে সেসব নিয়েই এই বইটি।
    .
    ★বইয়ের বিষয়বস্তুঃ–
    ৭৯ পৃষ্ঠা বিশিষ্ট এই বইটি মূলত একটি প্রবন্ধের সংকলন। প্রথমে মাসিক আল কাউসারে পরপর তিন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। বইটিতে ঈমান,আকীদা,তাওহীদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ঈমান ও ইসলামের পূর্ণ পরিচয় কী, তার অপরিহার্য দাবি এবং অনুষঙ্গইবা কি– সে সম্পর্কে আলোচনাই বইয়ের মূল বিষয়বস্তু। আমাদের কেন ঈমান-আকীদা বিশুদ্ধ ও স্পষ্ট হওয়া উচিত তাও আলোচিত হয়েছে। ১৫টি পয়েন্টে ঈমানের আদ্যোপান্ত সহ শিরক-কুফরের ভয়াবহতা, মুনাফিক-মুরতাদদের পরিচিতি, ঈমানদারদের করণীয়-বর্জনীয়, ঈমান ভঙ্গের কারণ সমূহও আলোচনা করা হয়েছে। ১৬ নম্বর পয়েন্টে “ঈমান পরীক্ষার উপায়” নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। লেখক এখানে ৮টি পদ্ধতি উপস্থাপন করেছেন। সবশেষে তওবার নসিহত দিয়ে বইটির ইতি টেনেছেন।
    .
    ★কেন পড়বেন বইটিঃ–
    এই বইটি আমাদের বারবার পড়া উচিত। বুঝেবুঝে পড়া উচিত। বইটি থেকে একজন পাঠক খুব সহজেই নিজেদের ঈমান যাচাই করে নিতে পারবে। নিজেদের অজান্তেই ঈমান বিকিয়ে দিচ্ছে কিনা কিংবা আদৌ ঈমান আছে কিনা– এ ব্যাপারে বইটিতে যথেষ্ট ভাবনার খোরাক পাওয়া যাবে।
    আশা করি বইটি পড়ে ঈমান সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং সচেতনতার দরজা উন্মোচিত হবে।
    .
    ★পাঠ অনুভূতিঃ–
    বইটি পড়ে নিজের ঈমানকে যাচাই করে নিয়েছি। মৃত্যু পর্যন্ত কীভাবে ঈমানের পরিচর্যা নেয়া যায় সে সম্পর্কে শিখে নিয়েছি। ঈমান-আকিদার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে অবহেলা না করে কিভাবে গুরুত্বের সাথে নেয়া উচিত- সে ব্যাপারে বুঝে নিয়েছি। পেয়েছি লেখকের গুরুত্বপূর্ণ কিছু নসিহত। আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে এই চরম দুর্দিনে বইটিকে অপরিহার্য মনে হয়েছে। বইটির বিষয়বস্তুর দিকে তাকালে সত্যিই অনেক উপকারী মনে হয়। তাছাড়া সহজ ও সাবলীল ভাষায় দলিল সমৃদ্ধ হওয়ার কারনে বইটির গ্রহনযোগ্যতা ও পাঠকপ্রিয়তা দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে।
    Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5

    :

    # রাহনুমা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    বইঃ ঈমান সবার আগে
    লেখকঃ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক
    প্রকাশনায়ঃ রাহনুমা প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৯০
    পৃষ্ঠাঃ ৭৯

    ———————————–
    ঈমান একজন মুসলিমের জন্য অমূল্য সম্পদ। ঈমান মুসলিমের কাছে প্রাণের চেয়েও প্রিয়। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ ঈমান। আমরা অনেকে ঈমান বলতে শুধু আল্লাহ ও তার রসূলকে বিশ্বাস করাকেই বুঝি। শুধু এই বিশ্বাসটুকু নয় বরং সেই সাথে উনাদের দেয়া প্রতিটি বিধিবিধানকে মনে প্রাণে বিশ্বাস ও কর্মে পরিণত করাই ঈমান।বর্তমান সমাজের অবস্থা এমন যে বেশির ভাগ মুসলিম আল্লাহ ও তার নবী-রাসূলকে বিশ্বাস করলেও তাদের দেয়া বিধিবিধান জীবনে প্রতিফলিত করে না।আবার অনেকে যুগের প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু বিষয় অবজ্ঞা এমন কি অস্বীকারও করে(নাউজুবিল্লাহ),যা ঈমানের শর্ত পূরণে পরিপন্থী। আমাদের মাঝেও এসব ব্যাপার থাকা অস্বাভাবিক নয়। তাই নিজের ঈমানকে পুনঃপুন যাচাই কর আবশ্যক।

    বইটিতে কী আছে?
    বইটি মূলত দুই ধাপে সাজানো হয়েছে। প্রথম ধাপে ঈমান কাকে বলে, এর অপরিহার্য অনুষঙ্গ গুলো কি – এসব বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। ঈমানের ছোট খাটো অনেক বিষয় আছে যা আমরা আমলে নেই না সেসব বিষয়গুলোও বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সর্বোপরি ইসলামের পূর্ণ পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে সংক্ষিপ্ত পরিসরে।
    দ্বিতীয় ধাপে কুরআন, সুন্নাহ ও সীরাতে সালাফের আলোকে নিজের ঈমান পরীক্ষার কিছু উপায় সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। মৌলিক ভাবে ঈমান যাচাইয়ের দুটি পর্যায় আছে।প্রথম পর্যায়ঃ আমার ঈমান ঠিক আছে কিনা। দ্বিতীয় পর্যায়ঃ সবলতা-দুর্বলতার বিচারে আমার ঈমান কোথায়। বইটিতে শুধু প্রথম পর্যায়ের আলোচনা করা হয়েছে।

    মন্তব্যঃ
    বলা হয়েছে এমন এক সময় আসবে যখন মুসলমানের জন্য ঈমান ধরে রাখা জ্বলন্ত কয়লা হাতের মধ্যে রাখার ন্যায় কঠিন হবে। আর আমরা নাকি সেই সময়েই আছি। আমরা নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় তো দিচ্ছি কিন্তু মুসলিমের প্রথম ও প্রধান শর্তটি আমরা শক্তভাবে আসটে পিসটে ধরে রাখতে পারছি তো? নাকি ফাঁক ফোকর দিয়ে কিছু বের হয়ে যাচ্ছে? আল্লাহ না করুন যাদি এমন হয় তবে এখনই নিজেকে সংশোধন করা উচিত।বলা ত যায় না কখন ডাক চলে আসে।মৃত্যুর আগে অন্তত পূর্ণ ঈমানের সাথে যেন মরতে পারি।
    লেখক ছোট এই বইটি সুন্দর সহজও সাবলীল ভাষায় লিখেছেন, বইটি এক বসায় পড়ে ফেলার মত। বইটি আমাদের জন্য নিজের ঈমানকে ঝালাই করার একটি উত্তম উপায় হতে পারে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি প্রত্যেকের বইটি পড়া উচিত।

    আল্লাহ তা’আলা কুরআন হাকীমে বলেছেন –
    “তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশ বিশ্বাস কর আর কিছু অংশ প্রত্যাখ্যান কর?সুতরাং তোমাদের যারা এরকম করে, তাদের একমাত্র পরিণাম পার্থিব জীবনে হীনতা এবং কেয়ামতের দিন তারা কঠিন শাস্তির দিকে নিক্ষিপ্ত হবে, তাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আল্লাহ বেখবর নন। আল বাকারা ২;৮৫

    Was this review helpful to you?
  6. 5 out of 5

    :

    লেখক “মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আব্দুল মালেক”
    ‘ঈমান সবার আগে’ বইটিতে একজন মুসলিম ব্যক্তির ঈমানি চেতনাকে উজ্জীবিত করে বইটিতে একজন ঈমানদার ব্যক্তির সাথে কাফের, মুশরিকদের সাথে কেমন আচরণ হবে তা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ঈমান আক্বিদা ও বিশ্বাস, শিরক, বিদয়াত ও কুসংস্কার নিয়ে সুন্দর ও সাবলিল ভাষায় বর্ণনা করা হয়েছে।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?