মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর

বসন্ত এসেছে। পত্র-পল্লব ফিরে পেয়েছে প্রাণ, চারপাশে ফুলের ঘ্রাণ আর পাখির গান। শীতের নিষ্প্রাণতায় কদিন আগেই মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়া প্রকৃতি এখন সজীবতায় মুখর। বসন্তের এই প্রাণ আমাদের প্রাণেও কি সঞ্চার হতে পারে?
 .
আল্লাহর রাসূলের ﷺ কাছে ‘হৃদয়ের বসন্ত’ ছিলো কুরআন। আমাদের চিরচেনা বসন্তের আবহ সামনে রেখে হৃদয়েও বসন্তের আবাহন অনুভব করা যায় কীভাবে? নিসর্গের গল্প শোনাতে শোনাতে কুরআনের বসন্তকে ছোঁয়ার প্রণোদনা দিতে আপনার কাছে এসেছে আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীবের ব্যতিক্রমী গল্পপ্রবন্ধ ‘বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর’।
 .
এই বইয়ের ফ্ল্যাপে থাকছে:
“বুকের খাতায় খুব যতনে
একটা স্বপন আঁকি
ফিরদাউসের ফুলবাগানে
আমি হবো পাখি।”
পরিমাণ

241.50  345.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

3 রিভিউ এবং রেটিং - বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    হৃদয়ের বসন্ত ! আল্লাহর রাসূলের কাছে “হৃদয়ের বসন্ত” ছিলো কুরআন । আমাদের চিরচেনা বসন্তের আবহ সামনে রেখে হৃদয়েও বসন্তের আবাহন অনুভব করা যায় । কিন্তু সেটা কিভাবে ? নিসর্গের গল্প শোনাতে শোনাতে কুরআনের বসন্তকে ছোঁয়ার প্রণোদনা দিতে সিয়ান পাবলিকেশনের ব্যতিক্রমী এই গদ্যরচনা “বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর” ।
    বিষণ্ণতার প্রহরগুলোকে প্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার জন্যে, জীবনের উঠোনকে জান্নাতের পুষ্পসৌরভে শোভিত করার প্রেরণা যোগানোর জন্যে, বিশ্বাসী তারুণ্যকে সুন্নাহর সবুজতা চিনিয়ে দেয়ার প্রয়াস নিয়েই এই বই । বইটি লিখেছেন তরুণ লেখক “আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব” । কবিতা ও গল্পগ্রন্থে ইতিমধ্যেই তিনি সব্যসাচী হিসেবে পাঠক মহলে বেশ পরিচিতি লাভ করেছেন । “বৃষ্টিমুখর রৌদ্রমুখর” তার চতুর্থ প্রকাশনা ।

    ইসলামি ঘরানার বইগুলোর নাম সাধারনত ইসলামি পরিভাষায় ব্যবহৃত হয় । এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু এই বইয়ের নাম দেখে অনেকেই হয়তো চমকে উঠতে পারেন যে, এটা কি ইসলামি বই ? জ্বী, এটা ইসলামি বই । সাহিত্য আর সুন্নাহ্ মিলেমিশে অদ্ভুত এক মোহময় পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এ প্রবন্ধগল্প গ্রন্থে । এই বই পুরোপুরি ফিকশনাল । আসলে পুরোপুরি ফিকশনাল বললেও পরিচয়টা স্পষ্ট হয় না । “ফিকশনাল ধাঁচে নন-ফিকশন” বললে হয়তো কিছুটা মিলতে পারে ।
    প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা অনুসঙ্গ নিয়ে গল্প করা হয়েছে এখানে । গল্পের মোড় খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়েছে, একটু পরপর বাঁক সৃষ্টি হয়েছে । বইয়ের প্রতিটা কথাই কেন্দ্রীভূত হয়েছে একটা চেতনায় এসে, আর তা হলো, সৃষ্টিনৈপুন্যের আবাহনে আল্লাহর মহিমা অনুধাবনের আহ্বান, নৈসর্গিক সৌন্দর্যের সম্মোহনে নিসর্গস্রষ্টার প্রতি সমর্পিত হবার প্রণোদনা ।
    প্রকৃতির ফুল-পাখি-ফল, শীত-গ্রীষ্ম-বসন্ত-বর্ষার নানা ঘরোয়া আলোচনায় উঠে এসেছে কুরআন-সুন্নাহর অমূল্য সব সম্পদ । কখনো বসন্তের কোকিলের বেশে, কখনো ঝরঝর বাদল দিনের আবহে, কখনো রক্তজবা ফুলের মৌতাতে । বিভিন্ন ভাষা ও সাহিত্যের কবিতাংশ ও উদ্ধৃতি গল্পের প্রবাহে চলে এসেছে । কথায় কথায় উঠে এসেছে নজরুল-রবীন্দ্রনাথ-জীবনানন্দ-জসীম উদ্দীন, শেক্সপিয়র-ডিকিন্সন-ওয়ার্ডসওয়ার্থ, যাইদ সাবিত-ইমরুল কাইস—বাংলা, ইংরেজি, আরবি কবিতা ও কবিতার কাব্যানুবাদ । তাদের আর আমাদের চিন্তার আর দর্শনের ফারাক ।
    গল্পের মাঝখানে হঠাৎ হঠাৎ করে কুরআন অধ্যয়নের দিকে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করানো হয়েছে । রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে “রোল মডেল” হিসেবে গ্রহন করার বোধটুকু উদ্বোধন করিয়ে দেয়ার প্রয়াসও দেখা গেছে । কোথাও কোথাও লেখকের শৈশবস্মৃতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কিছু টুকরো কথাও সংযুক্ত হয়েছে । জীবনের প্রতিটি পর্বে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার বীজ বোনা হয়েছে । জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে হতাশ না হয়ে পড়া এবং আল্লাহর স্মরণে স্থিত হয়ে আল্লাহর প্রতি আস্থাশীল হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে কয়েক জায়গায় । নফল ইবাদতের প্রতি যত্নবান হবার প্রেষণাও কয়েকভাবে গোচর হয়েছে । পারিবারিক পরিমন্ডলে দ্বীনের তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক চর্চার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে । প্রধানত তরুণদের দিকে লক্ষ রেখে লেখা হয়েছে বিধায় তাদের উপযোগী বিষয়াদি বিভিন্ন আঙ্গিকে আনা হয়েছে ।
    বইয়ে রয়েছে মোট ৫টি প্রবন্ধগল্প । এর মধ্যে “ফজরে আমি উঠতে পারি না” শিরোনামের প্রবন্ধটি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে । গল্পটি আমার জন্য, বিশেষ করে প্রত্যেক প্র‍্যাক্টিসং মুসলিমের জন্য অনুপ্রেরণামূলক, এবং চিন্তা চেতনায় পরিবর্তনকারী একটি গল্প ! 
    এছাড়াও রয়েছে–
    —–‘বনের পাখিরে কে চিনে রাখে’
    —–‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে’
    —–‘রৌদ্রমুখর’
    —–‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’ ।
    গল্পগুলো সাহিত্য নৈপুণ্যে, গদ্যের অনুপম স্টাইলে, ছন্দের কারুকার্যে পরিপূর্ন । এই গল্পগুলোতে লেখক দেখিয়েছেন কিভাবে স্রষ্টার সৃষ্টিরাজিতে চিন্তাভাবনা করতে হয়, অনুভব-অনুভূতিকে প্রাধান্য দিতে হয় ।
    এসব প্রবন্ধগল্পে যখনই কুরআন ও হাদিসের কোনো প্রসঙ্গ এসেছে, তখন সেটার প্রামান্যগ্রন্থ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে ।

    বইটি প্রকাশিত হয়েছে “সিয়ান পাবলিকেশন” থেকে, ২০১৮ সালের একুশে বইমেলাতে । বইয়ের পৃষ্ঠামান, সাজসজ্জা, প্রচ্ছদ সবকিছুই প্রশংসনীয় ।
    =====================
    প্রিয় পাঠক,, আপনি যদি বাংলা সাহিত্যের স্বাদ পেতে চান, যদি সাহিত্য দিয়ে আপনার হৃদয়কে আন্দোলিত করতে চান, তন্ময় হয়ে বইয়ের পাতার সাথে প্রকৃতির স্রষ্টার সান্নিধ্যে ডুবে থাকতে চান, তাহলে এই বইটি আপনার জন্য সুখপাঠ্য হবে । গল্পের কল্পডানায় চড়ে আপনার হৃদয় ক্ষণিকের জন্যে হলেও সবুজের মোহনায় এসে ভিড়িয়ে দেবে বইটি । মহান রবের সৃষ্টি কতটা অর্থবহ, সৃষ্টিনৈপুণ্য কতটা নিখুঁত সেসবকিছু ভাবাতে ভাবাতে বিশ্বাসকে চাঙা করার উপাদান ও উপকরণ খুঁজে পাবেন এ বইয়ে । আল্লাহর মহত্ব ও মাহাত্ন্য দুটোই অনুভব করতে পারবেন, ইন শা আল্লাহ্ ।
    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    অসাধারন লেখনি।
    Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    এটা বই নয়, বইয়ের চেয়ে বেশি কিছু!
    Was this review helpful to you?