মেন্যু


আমিরুল মুমিনিন উসমান ইবনে আফফান (হার্ড কভার)

অনুবাদক: কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৬৭২

ইতিহাসবিদদের অধিকাংশই ইতিহাস বর্ণনা করেই ক্ষান্ত, কিন্তু ড. আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবীর ব্যাপারে বললে বলতে হয়, তিনি হচ্ছেন ইতিহাস শিক্ষক! তাঁর কলমের প্রতিটি আঁচর শেখায় ইতিহাস, ধুলো-মলিন ইতিহাসের সেই পাতাগুলো থেকে তিনি তুলে আনতে জানেন অমূল্য সম্পদ, প্রমাণ করে দেখান কীভাবে ১৪শত বছরের ঘটনাগুলো এখনো অনুসরণে সর্বাধিক প্রাধান্য-যোগ্য; তাহলে ভাবুন এমন একজন ইতিহাসবিদের লেখনী থেকে সাহাবাদের জীবনী জানার স্বাদ কেমন হতে পারে? যিনি একবার তার লেখনী পড়েছে, প্রেমে পড়ে গেছে।
.
চার খলিফার একজন, উসমান ইবন আফফান (রদ্বি)। অনেকে এই নাম শুনলে বিলগেটসের মত বিলিয়নিয়ার ট্রিলিওনিয়ার ভাবেন। হ্যাঁ তিনি সেই সময়ের প্রথম সারির ধনীদের একজন ছিলেন। কিন্তু আসলে কি তিনি শুধু ধনী-ই ছিলেন? দুনিয়ার সাথে তার কেমন সম্পর্ক ছিল?
– মৃত্যুর শেষ সময়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে দুনিয়া দান করেছেন, যাতে এর দ্বারা আখিরাত কামনা করতে পারো। তিনি এজন্য দুনিয়া দেননি, চিরদিন তোমরা এখানেই থাকবে। নিশ্চয় দুনিয়া একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে। বাকি থেকে যাবে আখিরাত। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া যেন তোমাদের ধোঁকায় না ফেলে। আর চিরন্তন আখিরাত থেকে যেন তোমরা গাফেল না থাকো। চিরন্তনকে ক্ষয়মানের ওপর প্রাধান্য দাও। নিশ্চয় দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে..’ – এই ছিল সেই সময়ের টপ বিলিয়নিয়ারের ব্যক্তিত্ব, দুনিয়ার সাথে তার সম্পর্ক। তার হাতে দুনিয়া ছিল, কিন্তু অন্তর ছিল দুনিয়াশূন্য। এটাই প্রকৃত যুহুদ। তিনি দুনিয়াকে মন থেকে ছুড়ে মেরেছন, ফলে দুনিয়া তার পায়ে এসে পড়েছে।
.
ড. আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবির রচিত উসমান ইবন আফফান রাদ্বি এর জীবনী গ্রন্থ এবার কালান্তর প্রকাশনী থেকে। এক খণ্ডে সমাপ্ত।

পরিমাণ

490  700 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

3 রিভিউ এবং রেটিং - আমিরুল মুমিনিন উসমান ইবনে আফফান (হার্ড কভার)

5.0
Based on 3 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    ভূমিকা :
    উসমান ইবনে আফফান (রা)। তার নাম শুনতেই আমাদের সামনে ভেসে উঠে এক মহান দানবীর এর কথা যিনি ইসলাম এর জন্য নিজের সব সম্পদ দানের জন্য প্রস্তুত একই সাথে এক মহান শাসক যিনি মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ বিবাদ-কলহ এড়াতে নিজের জীবন বিদ্রোহীদের সামনে উৎসর্গ করেন।এই মহান সাহাবির জীবনী নিয়েই প্রখ্যাত আরব ঐতিহাসিক ড.আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
    বইটির বিশেষত্ত্ব :
    উসমান (রা) এর জীবনী নিয়ে গ্রন্থের অভাব নেই কিন্তু ড. সাল্লাবির বইটি অন্যসকল বই থেকে এই বইটি অনন্য বেশ কিছু কারণে।সর্বপ্রধান কারণ হলো শায়খ উসমান (রা) এর জীবনের ঘটনাসমূহ হতে এই উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা বের করেছেন। একই সাথে ইসলাম এর বিভিন্ন সময়ে উসমান (রা) যে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তা চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।এই গ্রন্থে শুধু উসমান (রা) এর ধারাবাহিক আলোচনা করেই লেখক ক্ষান্ত হননি বরং তাঁর জীবনের মূল্যবান অনেক ঘটনা বইয়ে সংযোজন করেছেন ।
    বইটিতে আলোচ্য বিষয়সমূহ :
    ১।জাহেলি যুগে উসমান(রা) কেমন ছিলেন,উনার নানা গুণাবলি সুবিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
    ২।আবু বকর(রা) এর দাওয়াতের পর উসমান(রা) এর ইসলামগ্রহণের ঘটনা ও তার কারণ বর্ণিত হয়েছে।
    ৩।মাক্কি জীবনে ইসলামে উমর (রা) এর অনন্যসাধারণ ভূমিকা ও নিকটাত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতনের করুণ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
    ৪। উসমান(রা) এর হিজরত এর ঘটনা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।
    ৫। মাদানি জীবনে উসমান(রা) এর গুরুত্বপূর্ণ নানা কর্মকাণ্ড এবং বদর,উহুদ সহ বিভিন্ন জিহাদে তাঁর অবদান আলোচনার পর শাইখ অনেক গুলো তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা আলোচনা করছেন।
    ৬।রাসুল (ﷺ) এর প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও রাসুল (ﷺ) কে দেয়া নানা পরামর্শ সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে।
    ৭।রাসুল(ﷺ) যেসকল কারনে উসমান (রা) এর সাথে তাঁর দুই কন্যা এর বিবাহ দিয়েছিলেন পাশাপাশি উসমান(রা) এর জুননুরাইন নামের কারণ বর্ণনা করেছেন।
    ৮।আবু বকর (রা),উমর(রা) এর খেলাফতকালে উসমান (রা) এর অবদান আলোচনার পর শাইখ উমর(রা) কর্তৃক গঠিত শুরা কমিটির মাধ্যমে উসমান (রা) এর খলিফা নির্বাচিত হওয়া এবং তাঁর হাতে জনগনের বাইয়াত গ্রহণের ঘটনা বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।
    ৯। উমর (রা) এর পর উসমান (রা) খিলাফতের সবচেয়ে যোগ্য ছিলেন লেখক তা হাদিস ও ইজমার আলোকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
    ১০। একজন শাসক হিসেবে জনগনের প্রতি উসমান (রা) যেসকল দায়িত্ব পালন করেছেন তা শায়খের আলোচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা থেকে সকল মুসলিমের শাসকের জন্য মূল্যবান শিক্ষা রয়েছে।
    ১১। উসমান (রা) কর্তৃক বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নরদের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ,তাঁদের কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ,বিভিন্ন বিষয় এর তদন্ত পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার পর শাইখ উসমান (রা) এর শাসনামলের গভর্নরবৃন্দের তালিকা ও পরিচিতি বর্ণনা করেছেন।
    ১২। একজন আদর্শ খলিফা হিসেবে উসমান (রা) এর সকল গুণাবলি যেমন:ইলম,ধৈর্য,ক্ষমা,মহানুভবতা,বীরত্ব,বিচক্ষণতা,ন্যায়বিচার,জুহদ, কৃতজ্ঞতাবোধ ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
    ১৩।উসমান (রা) মূলত তাঁর লজ্জাশীলতা ও দানের জন্য বেশি বিখ্যাত ছিলেন যা লেখক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
    ১৪। উসমান (রা) এর খিলাফতকালে অর্থনীতিবিভাগ ও কার্যাবলী অত্যন্ত বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।ইসলামি খিলাফতকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর অবদানও চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
    ১৫। আমরা জানি উসমান (রা) এর আমলেও ইসলাম এর ব্যাপক বিস্তার অব্যাহত ছিল। এই সময়ের আজারবাইজান,তাবারিস্তান,সাইপ্রাস,খুরাসান এর যুদ্ধ এবং উত্তর আফ্রিকায় ইসলামি বিজয় নিয়ে শাইখ সুবিস্তারিত আলোচনা করেছেন।সবচেয়ে তাৎপর্যবহ ঘটনা ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের পতন যা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।
    ১৬।উসমান (রা) এর খেলাফত এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কুরআন সংকলন ও এক মাসহাফে উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। সে ঘটনাটি শাইখ সাল্লাবি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং জরুরি শিক্ষা তুলে ধরেছেন।
    ১৭।এরপর শাইখ উসমান (রা) এর হত্যা সংক্রান্ত ফিতনার কারণসমূহ আলোচনার পর এগুলো নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।
    ১৮।লেখক সাবায়িদের চক্রান্ত সুবিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
    ১৯।বইটিতে ফিতনা মোকাবেলায় উসমান (রা) এর কমর্পদ্ধতি সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
    ২০।বিদ্রোহীদের মদিনা দখল ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতিরোধের কথা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
    ২১।এরপর সাল্লাবি উসমান (রা) এর শাহাদাত ও হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনা আলোচনা করেছেন।
    ২২।পরিশেষে এই ব্যাপারে সাহাবিদের প্রতিক্রিয়া বর্ণনার পর লেখক উসমান (রা) এর গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বাণী তুলে ধরেছেন।
    বইটি যে কারণে পড়বেন :
    জীবনীগ্রন্থটি উসমান (রা) এর জীবনী নিয়ে পাঠকের তৃষ্ণা মেটাবে বলে আমি মনে করি। কারণ শাইখ যেভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে বিস্তারিতভাবে ঘটনাগুলো উপস্থাপন করেছেন তা খুবই কম বইয়ে পাওয়া যাবে।আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
    কালান্তর প্রকাশনীকে ধন্যবাদ বইটির এত সুন্দর বাইন্ডিং এর জন্য।আল্লাহ কালান্তর প্রকাশনীকে এত সুন্দর একটি বই উপহার দেওয়ার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এ প্রতিযোগীতার সাথে সংশ্লিষ্ট ওয়াফি লাইফকেও এগিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করুন ।আমিন।
    বই পরিচিতি :
    নাম : উসমান ইবনে আফফান রা.।
    লেখক : ড.আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি।
    পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৭০০
    দাম:৳ ৫২৫
    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
    ভূমিকা :
    উসমান ইবনে আফফান (রা)। তার নাম শুনতেই আমাদের সামনে ভেসে উঠে এক মহান দানবীর এর কথা যিনি ইসলাম এর জন্য নিজের সব সম্পদ দানের জন্য প্রস্তুত একই সাথে এক মহান শাসক যিনি মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ বিবাদ-কলহ এড়াতে নিজের জীবন বিদ্রোহীদের সামনে উৎসর্গ করেন।এই মহান সাহাবির জীবনী নিয়েই প্রখ্যাত আরব ঐতিহাসিক ড.আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।

    বইটির বিশেষত্ত্ব :
    উসমান (রা) এর জীবনী নিয়ে গ্রন্থের অভাব নেই কিন্তু ড. সাল্লাবির বইটি অন্যসকল বই থেকে এই বইটি অনন্য বেশ কিছু কারণে।সর্বপ্রধান কারণ হলো শায়খ উসমান(রা) এর জীবনের ঘটনাসমূহ হতে এই উম্মাহর জন্য অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষা বের করেছেন। একই সাথে ইসলাম এর বিভিন্ন সময়ে উসমান(রা) যে খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন তা চমৎকারভাবে আলোচনা করা হয়েছে।এই গ্রন্থে শুধু উসমান(রা) এর ধারাবাহিক আলোচনা করেই লেখক ক্ষান্ত হননি বরং তাঁর জীবনের মূল্যবান অনেক ঘটনা বইয়ে সংযোজন করেছেন ।
    বইটিতে আলোচ্য বিষয়সমূহ :
    ১।জাহেলি যুগে উসমান(রা) কেমন ছিলেন,উনার নানা গুণাবলি সুবিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
    ২।আবু বকর(রা) এর দাওয়াতের পর উসমান(রা) এর ইসলামগ্রহণের ঘটনা ও তার কারণ বর্ণিত হয়েছে।
    ৩।মাক্কি জীবনে ইসলামে উমর (রা) এর অনন্যসাধারণ ভূমিকা ও নিকটাত্মীয়দের দ্বারা নির্যাতনের করুণ কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
    ৪। উসমান(রা) এর হিজরত এর ঘটনা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে।
    ৫। মাদানি জীবনে উসমান(রা) এর গুরুত্বপূর্ণ নানা কর্মকাণ্ড এবং বদর,উহুদ সহ বিভিন্ন জিহাদে তাঁর অবদান আলোচনার পর শাইখ অনেক গুলো তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা আলোচনা করছেন।
    ৬।রাসুল (ﷺ) এর প্রতি তাঁর অপরিসীম ভালোবাসা ও রাসুল (ﷺ) কে দেয়া নানা পরামর্শ সুন্দরভাবে আলোচিত হয়েছে।
    ৭।রাসুল(ﷺ) যেসকল কারনে উসমান(রা) এর সাথে তাঁর দুই কন্যা এর বিবাহ দিয়েছিলেন পাশাপাশি উসমান(রা) এর জুননুরাইন নামের কারণ বর্ণনা করেছেন।
    ৮।আবু বকর (রা),উমর(রা) এর খেলাফতকালে উসমান(রা) এর অবদান আলোচনার পর শাইখ উমর(রা) কর্তৃক গঠিত শুরা কমিটির মাধ্যমে উসমান(রা) এর খলিফা নির্বাচিত হওয়া এবং তাঁর হাতে জনগনের বাইয়াত গ্রহণের ঘটনা বিশদভাবে আলোচনা করেছেন।
    ৯। একজন শাসক হিসেবে জনগনের প্রতি উসমান(রা) যেসকল দায়িত্ব পালন করেছেন তা শায়খের আলোচনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যা থেকে সকল মুসলিমের শাসকের জন্য মূল্যবান শিক্ষা রয়েছে।
    ১০। উসমান (রা) কর্তৃক বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নরদের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ,তাঁদের কার্যাবলী পর্যবেক্ষণ,বিভিন্ন বিষয় এর তদন্ত পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার পর শাইখ উসমান (রা) এর শাসনামলের গভর্নরবৃন্দের তালিকা ও পরিচিতি বর্ণনা করেছেন।
    ১১। একজন আদর্শ খলিফা হিসেবে উসমান(রা) এর সকল গুণাবলি যেমন:ইলম,ধৈর্য,ক্ষমা,মহানুভবতা,বীরত্ব,বিচক্ষণতা,ন্যায়বিচার,জুহদ,কৃতজ্ঞতাবোধ ইত্যাদির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে।
    ১২।উসমান (রা) মূলত তাঁর লজ্জাশীলতা ও দানের জন্য বেশি বিখ্যাত ছিলেন যা লেখক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
    ১৩। আমরা জানি উসমান (রা) এর আমলেও ইসলাম এর ব্যাপক বিস্তার অব্যাহত ছিল। এই সময়ের আজারবাইজান,তাবারিস্তান,সাইপ্রাস,খুরাসান এর যুদ্ধ এবং উত্তর আফ্রিকায় ইসলামি বিজয় নিয়ে শাইখ সুবিস্তারিত আলোচনা করেছেন।সবচেয়ে তাৎপর্যবহ ঘটনা ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের পতন যা ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।
    ১৪।উসমান (রা) এর খেলাফত এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কুরআন সংকলন ও এক মাসহাফে উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। সে ঘটনাটি শাইখ সাল্লাবি অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং জরুরি শিক্ষা তুলে ধরেছেন।
    ১৫।এরপর শাইখ উসমান (রা) এর হত্যা সংক্রান্ত ফিতনার কারণসমূহ আলোচনার পর এগুলো নিয়ে গবেষণার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন।
    ১৬।লেখক সাবায়িদের চক্রান্ত সুবিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
    ১৭।বইটিতে ফিতনা মোকাবেলায় উসমান (রা) এর কমর্পদ্ধতি সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
    ১৮।বিদ্রোহীদের মদিনা দখল ও সাহানায়ে কেরামের প্রতিরোধের কথা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
    ১৯।এরপর সাল্লাবি উসমান (রা) এর শাহাদাত ও হত্যার বিস্তারিত ঘটনা আলোচনা করেছেন।
    ২০।পরিশেষে এই ব্যাপারে সাহাবিদের প্রতিক্রিয়া বর্ণনার পর লেখক উসমান (রা) এর গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বাণী তুলে ধরেছেন।

    বইটি যে কারনে পড়বেন :
    জীবনীগ্রন্থটি উসমান (রা) এর জীবনী নিয়ে পাঠকের তৃষ্ণা মেটাবে বলে আমি মনে করি। কারণ শাইখ যেভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে বিস্তারিতভাবে ঘটনাগুলো উপস্থাপন করেছেন তা খুবই কম বইয়ে পাওয়া যাবে।আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
    কালান্তর প্রকাশনীকে ধন্যবাদ বইটির এত সুন্দর বাইন্ডিং এর জন্য।আল্লাহ কালান্তর প্রকাশনীকে এত সুন্দর একটি বই উপহার দেওয়ার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এ প্রতিযোগীতার সাথে সংশ্লিষ্ট ওয়াফি লাইফকেও এগিয়ে যাওয়ার তৌফিক দান করুন ।আমিন।

    বই পরিচিতি :
    নাম : উসমান ইবনে আফফান রা.।
    লেখক : ড.আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি।
    পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৭০০
    দাম:৳ ৫২৫

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    উসমান ইবনে আফফান (রা:)। তিনি ছিলেন  খোলাফায়ে রাশেদার মধ্যে তৃতীয় খলিফা। খোলাফায়ে রাশেদিন দের সম্পর্কে রাসূল (স:) বলেন, “তোমরা আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে এবং উহার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে”।
    হযরত উসমান (রা:) ধর্ণাঢ্য পরিনারের হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত সৎ, বিনয়ী ও দানশীল ছিলেন। তার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল কর্তব্যনিষ্ঠা, ন্যায়পরায়ণতা, সৎ চরিত্র, একাগ্রতা ইত্যাদি। 
    রাসূল (স:) এর সেই বিখ্যাত সাহাবী হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা:) এর সুমহান জীবনী নিয়েই বিখ্যাত ঐতিহাসিক ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি রচনা করেছেন “আমিরুল মুমিনিন উসমান ইবনু আফফান (রা:)” বইটি। বইটি বাংলা অনুবাদ করেছেন অভিজ্ঞ অনুবাদক কাজী আবুল কালাম সিদ্দীক। 
    .
    ➤ সার-সংক্ষেপঃ-
    পুরো বইটিকে লেখক ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি সর্বমোট ৭টি অধ্যায়ে বিভক্ত করে আলোচনা করা হয়েছে।
    এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে উসমান (রা:) নাম, উপাধি, বংশপরিক্রমা, ইসলাম গ্রহণ, রাসূল (স:) এর কন্যা রুকাইয়া এর সাথে বিবাহ, নবিজীর সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ, হযরত আবুবকর ও উমর  (রা:) এর খেলাফতকালে উসমান (রা:) এর অবদান ইত্যাদি সম্পর্কে।

    দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে হযরত উসমান (রা:) খিলাফত, শাসন, চরিত্র, মহানুভবতা, বিচক্ষণতা, ন্যায়বিচার ইত্যাদি সম্পর্কে।

    এভাবে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে ক্রমান্বয়ে আলোচনা করা হয়েছে-
    উসমান (রা:) এর খিলাফতকালে অর্থ ও বিচারবিভাগ।
    উসমান (রা:) এর যুগে বিজয় অভিযান।
    উসমান (রা:) এর খিলাফতকালে রাজ্যব্যবস্থাপনা।
    উসমান (রা) এর হত্যা সম্পর্কীয় ফিতনার কারণসমূহ।
    তার হত্যাকান্ডের ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি।
    .
    ➤ বইটি কেন পড়বেনঃ-
    ১। আপনি যদি হযরত উসমান (রা:) এর সীরাত জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত অধ্যয়নের পাশাপাশি ব্যক্তি ও খলিফা উসমান (রা:) কে পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করতে চান তাহলে বইটি অবশ্যই পড়ুন। এখানে ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি তার জ্ঞানভাণ্ডার থেকে হযরত উমর (রা:) এর জীবনীর কেবল প্রয়োজনীয় ও শিক্ষণীয় বিষয়গুলোই তুলে ধরেছেন।

    ২। অন্যন্য গতানুগতিক সীরাতের চেয়ে উসমান (রা:) এর এই জীবনীর বিশেষত্ব সোজা ভাষায় ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি। আর সাল্লাবি যে বই লিখেন সেটা এমনিতেই মূল্যবান হয়ে ওঠে। তথ্য, তথ্যের বিশ্লেষণ, ইতিহাসের ভেতর থেকে শিক্ষণীয় বিষয়সমূহ তুলে আনা সবদিক দিয়েই সাল্লাবি অনন্য।
    .
    ➤ ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ-
    সাহাবায়ে কেরামগণের জীবনী পড়তে বরাবরই ভালো লাগে। আর সেটা যদি হয় ইসলামের মহান খলিফা হযরত উসমান (রা:) এর জীবনী নিয়ে তাহলে তো কোন কথাই নেই। বইটি পড়তে গিয়ে কোন শব্দের কাঠিন্যতা পরিলক্ষিত হয়নি। বরং অনুবাদ বই হলেও বেশ সহজ ও সাবলীল ভাষায় লেখা বলেই মনে হয়েছে । পড়তে গিয়ে কোথাও বিরক্তবোধ কাজ করেনি । বরং নিজের অজান্তেই যেন হারিয়ে গিয়েছি উসমান (রা:) এর জীবনের অজানা ভুবনে।
    এ বইটা যদি না পড়তাম তাহলে হয়তো উসমান ইবনে আফফান (রা:) এর ব্যাপারে অনেক কিছুই অজানা থেকে যেতো। বইটি পড়ার পর বুঝতে পেরেছি হযরত উসমান (রা:) ইসলামের জন্য কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং অসীম অবদানের জন্য অমর হয়ে আছেন।  
    সব মিলিয়ে বইটি খুবই ভালো এবং উপকারী। তাই সকল পাঠকের প্রতি অনুরোধ বইটি একবার হলেও পড়ুন।
    .
    ➤ শেষ কথাঃ-
    পরিশেষে বলতে চাই ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবির লেখা উসমান (রা:) এর  জীবনী সম্বলিত বইটি প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে ঘরে পৌছে যাক। এমন সুন্দর একটি বই পাঠকের সমীপে উপস্থাপন করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক সহ  সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করুন এবং ইসলামের জন্য আরও অধিক পরিমাণে কাজ করার তাওফিক দিন, আমিন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top