মেন্যু
taraful

তারাফুল

আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব একজন স্বাপ্নিক সবুজ তরুণ। নিজের জীবনবোধ এবং জীবনদর্শন থেকে তিনি আমাদের জন্য কিছু পাঠ তুলে এনেছেন। জীবনের নিত্য পরিসরে, স্রষ্টার সান্নিধ্যে আসতে তিনি যে-উপায়, যে-দর্শন লালন করেন, সেই দর্শন পড়ে আগ্রহী পাঠকমাত্রই ভাববে, চিন্তা করবে―এমনটাই তিনি আশা করেন। তার সেই জীবনদর্শনের সমন্বিত রূপের নাম― ‘তারাফুল’। তারাফুলের মতো করে প্রস্ফুটিত হবে বিশ্বাসী হৃদয়গুলো―এমন প্রত্যাশা আমাদেরও।

পরিমাণ

172  232 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ৪৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি প্রিমিয়াম বুকমার্ক ফ্রি!
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী

5 রিভিউ এবং রেটিং - তারাফুল

4.6
Based on 5 reviews
5 star
60%
4 star
40%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    প্লিজ তারাফুল বইটা স্টকে আনা হোক😭😭😭
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    বইটি মূলত একটি প্রবন্ধগল্পের বই। অসাধারণ জীবনবোধের অনুপম দৃষ্টান্তে ভরপুর একটি বই। লেখকের মতে এ বইয়ের হালকা লেখাগুলো নাকি তার হৃদয়ের ভারী বর্ষন থেকে জন্ম নিয়েছে।আর এ কারণেই বোধহয় এ বইয়ের লেখাগুলো আমার হৃদয়পটের শুস্ক পাটাতনকে একেবারে গাঢ়ভাবে ভিজিয়ে দিয়েছে।

    বইটিতে রয়েছে ১৭ টি ভিন্ন স্বাদের প্রবন্ধগল্প। বইটির শুরুটা সত্যিই অসাধারণ। তৃতীয় নয়নে কুরআন অবলোকনের গুরুত্ব তুলে ধরতে মাত্র ছোট্ট চারটি আয়াতের সাথে জীবনাচারের এক দারুন যোগফল লেখক তুলে ধরেছেন এবারে সাবলীলভাবে।

    এর পরের গল্পে ফুটে উঠেছে দু’আর গুরুত্ব। এই জাগতিক জীবনে দু’আ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার জীবন ঘনিষ্ঠ কিছু উপমা নিয়ে লেখক এই অধ্যায়টি সাজিয়েছেন।

    ‘চোখশোক’ নামক অধ্যায়টি সমকালীন যুবকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পাঠ দিয়ে সাজানো। চোখের হেফাজত কিংবা বিশুদ্ধতায় নিজেকে পরিশুদ্ধ করে নেয়ার এত দারুন পাঠ আর অন্য কোথাও আমি পাইনি।

    এছাড়াও বেশ কিছু অধ্যায় সাজানো হয়েছে রবের সাথে অন্বয়কে দারুণভাবে পোক্ত করে দেয়ার জন্য।

    ” কুমড়ো ফুলের ঘর’ , ‘জীবনের গণিত’ ‘অস্ত্রোপাখ্যান’ কিংবা ‘পিঁপড়ে স্যার ‘ অধ্যায়গুলোর সাথে যেন আপনি নিজেকেই খুঁজে পাবেন বারবার ।এতটাই জীবনঘনিষ্ঠ এই লেখাগুলো…

    বইটিতে বিশেষ আরেকটি বিষয় উপস্থিতি রয়েছে। সেটা হল প্যারেন্টিং এর পাঠ।
    ‘লাল পাঞ্জাবি’সহ আরো কয়েকটি অধ্যায়ে প্যারেন্টিং এর পাঠটুকু নেয়া হয়ে যাবে।

    আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব ভাই কবিতার মানুষ। তাই বইটিতে ভরপুর কবিতা আর সাবলীল কাব্যানুবাদে আপনি মেতে থাকবেন। এছাড়াও ‘কবিতা নিয়ে কথকতা’ অধ্যায়ে নজীব ভাইয়ের সাথে একটা আড্ডাও হয়ে যাবে।
    ‘শাইফরানের তুলতুলে গাল’ অধ্যায়টি পড়ে আপনি আপনাকে একটু হলেও হাসতে হবে। কিন্তু হাসির শেষে দারুন একটা শিক্ষাও কিন্তু আপনি পেয়ে যাবেন।

    সবমিলিয়ে বইটি এক কথায় অসাধারণ লেগেছে।প্রতিটি পাতায় পাতায় যেন নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায় এমন বই আরকি!
    নিত্য জীবনের পরিসরে স্রষ্টার সান্নিধ্য যে খুব বেশি দুরে নয় সেই ধারনাটা আরেকটু পোক্ত করতে বইটা পড়েই ফেলুন না!

    আচ্ছা রবের সাথে অন্বয় পোক্ত করে দেয় এমন বই ভালো না লেগে পারে!!!

    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    :

    ◾‌‌‌নামকরণ এবং ধরণঃ

    তারাফুল বইটি কেনার আগ্রহ জন্মেছিল ‘তারাফুল’ নাম থেকেই। কোন সে ফুল? আর বইয়ের সাথেই বা তার কি সম্পর্ক? এ ধরণের প্রশ্ন মনে উদিত হওয়ার সাথে সাথেই সংগ্রহ করে ফেলেছিলাম। তবে কংক্রিটে গড়া দূষিত শহরের হাজারো ব্যস্ততার ভীড়ে হারিয়ে যাওয়ায় বইটি নিয়ে বসার সুযোগ পাইনি। এতোকাল পর খানিকটা ফুরসত মেলায় বইয়ের পাতা উল্টোতে উল্টোতে জানলাম, লেখক ‘তারাফুল’ নামকরণ করেছেন আসমানের তারকা রাজি থেকে। তিনি কল্পনার দৃষ্টিতে আকাশের তারাগুলোকে ফুল হিসেবে দেখেছেন এবং সেখান থেকেই নাম দিয়েছেন ‘তারাফুল’।

    তারাফুল বইটি হলো প্রবন্ধ গল্প। তথাকথিত কাটখোট্টা প্রবন্ধের পরিবর্তে সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় কুরআনের আয়াত, হাদিস, সালাফদের উক্তি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিটি প্রবন্ধ রচনা করা হয়েছে।

    ◾বইটি কি কি নিয়ে রচিত?

    ১.
    সময়ের পাটাতনে দাঁড়িয়ে আজ আমরা অর্থ উপার্জনকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য মনে করি। শুধুমাত্র জীবিকা নির্বাহকেই আমাদের দুনিয়াতে আগমনের একমাত্র কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত দ্বীনের আহকামগুলো দ্বীধাহীনভাবে ছেড়ে দেই। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা কুরআনে কি বলেছেন? তিনি শুধুমাত্র রিযিক অন্বেষণের ক্ষেত্রে কতোটুকু অগ্রগামী হতে বলেছেন? দ্বীনের আহকাম মানার ক্ষেত্রে এবং তার দিকে প্রত্যাবর্তিত হওয়ার ক্ষেত্রে তার নির্দেশনা কি? এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর নিয়েই রচিত প্রথম অধ্যায়- ‘ কুরআনঃ তৃতীয় নয়নে’।

    ২.
    মানু্ষের অনুভূতিগুলো একটি নির্দিষ্ট গন্ডির মাঝে সীমাবদ্ধ। সেই নির্দিষ্টতার সীমানা পেরিয়ে অধিকাংশ সময় অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তাই মানুষ এক পাক্ষিকভাবে কালের পর কাল ধরে কারোর প্রতি সহমর্মিতা এবং কোমল অনুভূতি প্রকাশ করে যেতে পারে না। সীমাবদ্ধতা তাকে বাঁধা প্রদান করে। এটাই মানবজাতির বৈশিষ্ট্য।
    কিন্তু জীবজগতের মনুষ্য প্রজাতি সহ সকল সৃষ্টজীবের সৃষ্টিকর্তা এবং সবার ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী একজন রব্ব আছেন। তিনি এমন এক সত্তা, যার কাছে চাওয়ার দরুন নয় বরং না চাইলেই রাগান্বিত হন। তার কাছে চাওয়ার নামই দুয়া।
    দুয়ার গুরুত্ব, দুয়ার প্রয়োজনীয়তা, দুয়া কবুলিয়াতের বিশেষ মুহুর্ত, রব্বের কাছে দুয়া করার অসীম আগ্রহ, দুয়া কবুলিয়াতের তামান্না এবং আল্লাহ তায়ালাকে কেন আমার প্রয়োজন এসব বিষয়ের চমৎকার এবং বিস্তৃত আলোচনা পাওয়া যায় বইয়ের বেশ কিছু অধ্যায় থেকে।

    ৩.
    আজকের এক শ্রেণীয় তরুণ সমাজ মাহরাম-গায়রে মাহরামের শৃঙ্খলা ভেঙে অশ্লিলতার সাগরে গা ভাসিয়েছে। সেরকম সমাজ এবং সংস্পর্শ থেকে উঠে আসা সত্ত্বেও কোন এক আলোর পথযাত্রী তরুণ কখনো গায়রে মাহরামের দিকে তাকাননি। কিন্তু কেন? কোন ভালোবাসার কারণে? আর কেনই বা সে ভালোবাসা? সেই ভালোবাসার বীজ কেই-বা বুনেছিল তার অন্তরে?

    লেখক এই আসমানি ভালোবাসার গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন আর সেই মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছেন পাঠকের হৃদয়েও। এই অধ্যায়ের একটি মাত্র লাইন যা পাঠকের হৃদয়কে আন্দোলিত করে হাজারবার এবং সেই সাথে দিয়ে যায় অসাধারণ শিক্ষা।

    এই চোখ দিয়ে আল্লাহকে দেখতে হবে, এই চোখে কি হারাম কিছু দেখা যায়?

    ৪.
    একটি মানবশিশু জন্মের পর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বাবা-মায়ের অনেক দায়িত্ব থাকে। শুধুমাত্র খাওয়ানো-পরানো ছাড়াও তাকে দ্বীনি ইলম শিক্ষা দেয়া, তারবিয়্যাত প্রদান করা এবং তার আখলাক-আদবের ব্যাপারে লক্ষ রাখা বাবা-মায়ের অপরিহার্য দায়িত্ব। সেজন্য প্যারেন্টিং বিষয়ে জ্ঞান রাখা আবশ্যক।
    বইটির কিছু অধ্যায় চমৎকারভাবে প্যারেন্টিং দিয়ে সাজানো। একজন বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত এবং কিভাবে হিকমার সাথে সন্তানকে তারবিয়্যাত করা উচিত এই বিষয়গুলোর সুস্পষ্ট ধারণা এসব অধ্যায় থেকে পাওয়া যায়।

    ৫.
    আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠত্বের আসন দান করেছেন। দিয়েছেন আশরাফুল মাখলুক্বাত উপাধি। কিন্তু তবুও আমাদের ক্ষুদ্র হতে অতি ক্ষুদ্র সৃষ্টজীবের কাছেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে। সেরকমই কোন এক ‘আকারে ক্ষুদ্র কিন্তু স্বভাবে বড়ই ভালো’ প্রাণীকে লেখক একটি পুরো অধ্যায় উৎসর্গ করেছেন। তাকে অভিহিত করেছেন শিক্ষক বলে। কারণ এই ছোট্ট উস্তাদের কাছ থেকে শেখা যায় অনেক দামী দামী ‘লাইফ লেসন’।
    কে সেই উস্তাদ? আর কিই-বা তার শিক্ষা? যার কারণে মনে হয়েছে, সুবহানাল্লাহ! এভাবেও শেখা যায়? এভাবেও ভাবা যায়?

    ◾বইটি সবার কেন পড়া উচিত?

    ‘তারাফুল’ বইটি পড়ার ক্ষেত্রে আমি ‘সবার’ শব্দটার উপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছি। কারণ লেখক কোন একটি নির্দিষ্ট টপিক বা বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে পুরো বইটি লিখেননি। বরং ভিন্ন টপিকের আলোকে একেকটি অধ্যায় সাজিয়েছেন। দুয়া থেকে শুরু করে ঈমান নবায়নের পদ্ধতি, শৈশব আঁকড়ে বেঁচে থাকার কারণ, কৌতুকের ছলে মিথ্যার পরিণাম, আমিত্বকে সংবরণের উপায়, প্যারেন্টিং সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অসাধারণভাবে আলোচনা করেছেন। তাই জীবনপথে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া কোন হতাশ ব্যক্তি বা দ্বীনের পথে নতুন কেউ, কোন ত্বলিবুল ইলম কিংবা কোন এক সাধারণ মুসলমানের ক্ষেত্রেও বইটির কোন না কোন অধ্যায় অবশ্যই উপকারে আসবে বলে মনে করি।

    ◾বইটি ভালো লাগার কারণ –

    কোন বই ভালো লাগার ক্ষেত্রে বইয়ের বাহ্যিক কলকব্জা অর্থাৎ প্রচ্ছদ, বাইন্ডিং,পৃষ্ঠাসজ্জা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক্ষেত্রে ‘তারাফুল’ পূর্ণ নম্বর পাওয়ার অধিকার রাখে। যা মুগ্ধতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাছাড়া লেখকের প্রকাশভঙ্গী, মানসম্মত লেখনী, নির্ভুল বানান, সাহিত্যজ্ঞান, বোঝানোর ক্ষমতা এবং প্রতিটি লেখায় সালাফ-সালেহীনদের ঘটনা ও উক্তির ব্যবহারের কারণে বইটিকে প্রিয় তালিকায় সহজেই স্থান দিয়ে দেওয়া যায়৷

    ◾যে বিষয়টি দৃষ্টিকটু লেগেছে –

    লেখক আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীবের আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন কবি। কবিতা লিখেন, কবিতা ভালোবাসেন। কবিতার প্রতি তার অদম্য টানের উদাহরণ দেখা যায় প্রায় প্রতিটি অধ্যায়ে। কবিতা প্রেমীদের কাছে এটি নিশ্চয় আনন্দের ব্যাপার কিন্তু কবিতা যাদের চক্ষু বিষ তাদের কাছে বিষয়টা হয়তো বিরক্তিকর এবং দৃষ্টিকটু লাগতে পারে।

    ◾শেষ কথাঃ

    রিভিউ-র শুরুতে ‘তারাফুল’ নামকরণ কোথা থেকে করা হয়েছে তা নিয়ে দু লাইন লিখেছিলাম। কিন্তু কেন করা হয়েছে তা তখন লিখিনি। লেখক নিজেও বিষয়টি উল্লেখ করেননি। কিন্তু একজন পাঠিকা হিসেবে বইটি পড়া শেষে আমি উপলব্ধি করেছি, বইয়ের নামকরণ করা স্বার্থক। ঘুটঘুটে অন্ধকারচ্ছন্ন রাত্তিরে যেমন ফুটে থাকা আসমানী তারাফুলগুলো আসমানের অন্ধকার দূর করে আলোর ফোয়ারা ছোটায় তেমনি ১৮টি তারা (অধ্যায়) নিয়ে গঠিত এ তারাফুলও পাঠকের হৃদয়ের অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোর পথযাত্রী হতে সহায়তা করবে।
    আল্লাহ তায়ালা বইয়ের লেখক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

    6 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভাল_লাগা_মার্চ_২০২০
    .
    বই— “তারাফুল”
    ••••••••••••••••••••­­­­•••••
    .
    “যেই চোখ দিয়ে আল্লাহকে দেখার স্বপ্ন দেখি, সেই চোখ দিয়ে কি হারাম কিছু দেখা যায়, বলো, ভাই?”—তারাফুল বইথেকে নেয়া একটি উদ্ধৃতি ।

    কিছু কিছু বই অাছে, যেখানে দ্বীনের গভীর কোনো বিষয় আলোচিত হয় না । কিন্তু যা আলোচিত হয়, সেগুলোকেও কোনো অংশে কম বলা যায় না । তেমনই একটি বই– “তারাফুল” । বইটি লিখেছেন তরুন কবি ও সাহিত্যিক “আবদুল্লাহ মাহমুদ নজীব” ।

    ■ কি নিয়ে বইটি?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইটিতে জীবনের নানা পরতে পরতে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় কিছু অনুভব-কে এক জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে । নিজের জীবনবোধ এবং জীবনদর্শন থেকে কিছু পাঠ তুলে আনা হয়েছে । অবশ্যই সেই জীবনদর্শন ইসলামের চাঁদরে মোড়া ।

    স্রষ্টার সান্নিধ্যে আসতে যে উপায় আর দর্শন প্রয়োজন সেগুলোই বই থেকে একজন পাঠক পেতে যাচ্ছে । আছে প্যারেন্টিং নিয়ে কিছু কথা, কুরআনকে নিয়ে তাদাব্বুর, দুআ করার প্রয়োজনীয়তা । গুনাহমুক্ত জীবনযাপন করার উপায় নিয়ে চমৎকার সব আলোচনা । বইটির শেষ অধ্যায় এসে চিনতে পারবেন, একজন শিক্ষককে । যার কাছে রয়েছে অগণিত শিক্ষনীয় বিষয় । কে সেই শিক্ষক ? জানতে হলে পড়তে হবে বইটি ।
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে “রোল মডেল” হিসেবে গ্রহন করার বোধটুকু উদ্বোধন করিয়ে দেয়ার প্রয়াসও দেখা গেছে । কোথাও কোথাও লেখকের শৈশবস্মৃতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কিছু টুকরো কথাও সংযুক্ত হয়েছে । জীবনের প্রতিটি পর্বে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার বীজ বোনা হয়েছে ।

    ■ ভাল লাগা
    ▔▔▔▔▔▔▔▔
    বইয়ের সবথেকে ভাললাগার বিষয় হচ্ছে, লেখকের শব্দ গাঁথুনি । যেন বাংলা সাহিত্যের পশরা সাজানো হয়েছে । আর বইটি হার্ডকভার । হার্ডকভার বই পড়তে কিযে ভাললাগে তা আলাদা করে বোঝানোর কিছু নেই । পৃষ্ঠামান, সাজসজ্জা, প্রচ্ছদ সবকিছুই প্রশংসনীয় । জীবনদর্শনের এই ক্লাশে যখনই কুরআন ও হাদিসের কোনো প্রসঙ্গ এসেছে, তখনই সেটার প্রামান্যগ্রন্থ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে ।

    ■ খারাপ লাগা
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    কবিতা আমার কাছে প্রচন্ড বিরক্তিকর একটা বিষয় । বলা যায় দুই চোখের বিষ । আলোচনার মাঝে-মাঝে লেখক বেশকিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন । যেটা আমার মোটেই পছন্দ না । তাছাড়া বইয়ে কিছু অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা ছিল বলে মনে হয়েছে । আমার মতে সেগুলো না আনলেও হতো । তবে ছোটখাটো এই বিষয়গুলো বাদ দিলে বইটা আসলেই উপকারী এবং বুক শেলফে অবশ্যই অবশ্যই রাখার মতো একটা বই ।

    ■ বইটি কাদের জন্য—
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    যারা দ্বীনের পথে নতুন, দ্বীন পালন করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খান- এই বইটা তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরী । দ্বীনকে আঁকড়ে ধরতে চাইলে, দ্বীনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে আপ্রানভাবে পালন করতে চাইলে এই বইটা আপনার জন্য হতে পারে একটা রিমাইন্ডার ।

    ■ শেষ কথা
    ▔▔▔▔▔▔▔▔
    গোটা বইটাই একটা রিমাইন্ডার । নিখুঁত কিছু কথামালার দ্বারা পাঠক ভাবাতে থাকবে তার নিজের জীবন নিয়ে । বিশ্বাসকে চাঙা করতে ও জীবন গঠনের কিছু উপাদান ও উপকরণ খুঁজে পাবে এ বইয়ে ।
    বইটি প্রকাশিত হয়েছে- সমকালীন প্রকাশন থেকে ।
    পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬২ ।
    প্রচ্ছদ মূল্য-২৭২ টাকা ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 4 out of 5

    :

    এই বইয়ের আমাদের সালাফগণের উক্তি গুলো আমাদের জন্য খুবই শিক্ষণীয়। যুহুদ অবলম্বনের জন্য অনুপ্রেরণা দায়ক। আল্লাহ যেন এই বই সংস্লিষ্ট সকলকেই উভয় জাহানে উত্তম প্রতিদান দেন।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top