মেন্যু
talibe ilme jibon pother patheo

তালিবে ইলমে জীবন পথের পাথেয়

প্রকাশনী : দারুল কলম
পৃষ্ঠা : 223, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st Published, 2002
আইএসবিএন : 9789849066378
বইটি সম্পর্কে খ্যাতিমান সাহিত্যিক মাওলানা আবু তাহের মিছবাহ বলেন, “আমার ছাত্রজীবনের শেষদিকে বইটি যেদিন হাতে এলো এবং পড়ার সৌভাগ্য হলো সেদিনকার অনুভূতি প্রকাশ করার সাধ্য আমার নেই। মনে হলো, দৃষ্টির সামনে... আরো পড়ুন
পরিমাণ

100 

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - তালিবে ইলমে জীবন পথের পাথেয়

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    মুশতাক আহমাদ:

    সব দেশের ভাষা-সাহিত্যে বক্তৃতাসংকলন আলাদা গুরুত্ব ও মর্যাদা রাখে। ইসলামি সাহিত্যের দিকে খেয়াল করলে দেখা যায় নবিজি ও সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে নিয়েই বয়ান সংগ্রহ ও সংকলন শুরু হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় এখনো নবিজি ও সাহাবিদের জাদুকরী, হৃদয়ছোঁয়া, জীবন বদলে দেওয়া বয়ান আজও সংরক্ষিত আছে। এই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

    বক্তৃতা কেমন হবে সেটা বক্তা সম্বন্ধে জানাশোনা থাকলে সহজেই ধারণা করা যায়। সহজে বোঝার জন্য বলি, আব্রাহাম লিংকন বলেন কিংবা নেলসন ম্যান্ডেলার বক্তৃতাসংকলনের কথা এলে, যারা তাকে চিনেন তারা সহজেই ধরে নিতে পারবেন এই বক্তৃতাগুলো কেমন হবে। কিংবা যারা উর্দুসাহিত্যের খোঁজখবর রাখেন অথবা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানা থাকে, তাহলে মৌলানা আবুল কালামের বক্তৃতাসংকলন বললেই সহজে অনুধাবন করতে পারবেন কেমন ঝাঁঝালো আর পাণ্ডিত্য টইটুম্বুর হতে পারে তার বক্তৃতাগুলো।

    ‘তালিবে ইলমের জীবন পথের পাথেয়’ হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রদের উদ্দেশ্যে দেওয়া মুফাক্কিরে ইসলাম সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর বক্তৃতাসংকলন। কে ছিলেন এই মুফাক্কিরে ইসলাম?
    তার পরিচয় সংক্ষিপ্তভাবে এটুকুই যথেষ্ট যে ‘মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্ব কী হারালো?’ বইয়ের মতো যুগান্তকারী বইয়ের লেখক তিনি। তার লিখিত আরবি প্রথম বই-ই আরববিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। যেখানেই গেছেন সেখানেই তাকে আসন ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন এই বইয়ের লেখক জানামাত্রই। এছাড়া আরবের বাইরে (আমার জানামতে) তিনিই প্রথম যে নিজ হাতে চাবি দিয়ে তালা খুলে বাইতুল্লাহর ভিতরে প্রবেশ করেছেন। এই সৌভাগ্য আরব-আজমে হাতেগোনা কয়েকজনের হয়েছিল। তার টাকশালি আরবি সাহিত্যের কাছে মাথানত করেছেন আরববিশ্বের বাঘা সাহিত্যিকরাও। বাদশাহ ফয়সল এয়ার্ড দিয়ে ভূষিত করা হয়েছিল তাকে। ভারতের অন্যতম দ্বীনী প্রতিষ্ঠান নদওয়াতুল উলামার রেক্টর ছিলেন। দারুল উলূম দেওবন্দের মজলিসে শুরার সদস্য ছিলেন। কারি তাইয়েব সাহেবের ইন্তেকালের পর ভারতের মুসলমানদের সবচে’ বড় প্লাটফর্ম ও আস্থার কেন্দ্র ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের’ আজীবন সভাপতি ছিলেন। সারা বিশ্বের আলেমদের সবচে’ বড় সংগঠন রাবেতা আলমে ইসলামির প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে আমরণ সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তাকে জানার জন্য এটুকুই যথেষ্ট মনে করি।

    এই বইয়ে তেরোটি বক্তৃতা সংকলন করা হয়েছে। বক্তৃতাগুলোতে উঠে এসেছে মাদ্রাসার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, অধ্যয়নের সঠিক পথ ও পন্থা, তালেবে ইলমের মর্দাযা ও দায়িত্ব, আধুনিক যুগের চ্যালেঞ্জ ও তার জবাবসহ একজন প্রকৃত আলেম ও প্রকৃত আল্লাহওয়ালা হওয়ার পথ ও পন্থা, তাদের কাছে কওমের আশা ও প্রতাশা। লেখকের বিস্তৃত অধ্যয়ন, ইতিহাসসচেতনতা থেকে তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ ও তার মোকাবেলার তাদের কর্মপন্থা কী হবে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।
    মাদ্রাসার পরিচয় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
    “মাদ্রাসাকে আমি মনে করি সবচে’ সুরক্ষিত ও শক্তিশালী কেন্দ্র এবং গতি ও প্রগতির উচ্ছলতায় এবং উদ্যম ও প্রাণচাঞ্চল্যে পরিপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। এর এক প্রান্তের সংযোগ হলো নবুয়তে মুহাম্মদীর সঙ্গে, অন্য প্রান্তের সংযোগ হলো জীবন ও জগতের সাথে। মাদ্রাসা একদিকে নবুয়তে মুহাম্মদীর চিরন্তন ঝরনাধারা থেকে ‘জলসঞ্চয়’ করে, অন্যদিকে জীবনের ফসলভূমিতে ‘জলসিঞ্চন’ করে। এটা দ্বীনী মাদ্রাসার সর্বক্ষণের দায় ও দায়িত্ব। মুহুর্তের জন্য যদি সে তার দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবহেলা করে তাহলে জীবনের ফসলভূমি শুকিয়ে যাবে, মানুষ ও মানবতা নির্জীব হয়ে পড়বে এবং জীবন ও জগতের সব কিছুতে স্থবিরতা আসবে।”
    অন্য জায়গায় মাদ্রাসার পরিচয়ে দিতে গিয়ে বলেন,
    ” মাদ্রাসা তো সেই পবিত্র স্থান যেখানে- আগেও আমি বলেছি- তালিবে ইলমের মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে একটি প্রত্যক্ষ ও সুদৃঢ় সংযোগসূত্র সৃষ্টি হয়, যার একপ্রান্ত এদিকে, অন্য প্রান্ত স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কুদরতি হাতে।”
    পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতে হলে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। যোগ্যতা অর্জনের জন্য আগে ত্যাগ ও কুরবানি করতে হবে। ত্যাগ ও কুরবানির মহাশক্তি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
    “ত্যাগ ও কুরবানী এবং পণ ও প্রতিজ্ঞা এমনই মহাশক্তি যে, তা যদি ব্যক্তির মাঝে জাগ্রত হয় তাহলে তাকে আকাশের উচ্চতায় পৌঁছে দেয়; যদি প্রতিষ্ঠান বা সম্প্রদায়ের মাঝে জাগ্রত হয় তাহলে পৃথিবী তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়।”
    যোগ্যতা থাকলে যে কেউ স্বীকৃতি দিত্ব বাধ্য। আলী নদভীর ভাষায়,
    অযোগ্যদের তো প্রশ্নই আসে না, সময় এত নির্মম যে, যোগ্য ব্যক্তির পরিবর্তে যোগ্যতরের এবং উপযোগীর পরিবর্তে অধিকতর উপযোগীর সে পক্ষপাতী। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও উপযোগিতা যদি থাকে তাহলে যে কোন সময় ও কাল আপনার অনুকূল এবং যে কোন সমাজ ও সম্প্রদায় আপনার জন্য ব্যাকুল। সময়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে নিজের অযোগ্যতা ও দুর্বলতাকে আড়াল করার ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং হিনমন্যতা ছাড়া আর কিছু নয়।”

    বইয়ের প্রতিটি পাতাই লেখকের দরদমাখা হৃদয়কাড়া কথায় ভরপুর। প্রতিটি পৃষ্ঠাই গুরুত্বপূর্ণ। যার পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে লেখকের দরদ আর উত্তাপ। এখানে তার দুয়েকটা নমুনা দিলাম মাত্র। নয়তো এরকম বাছাই করা কথাগুলো দিতে গেলে কয়েকপর্বের দরকার হয়ে যাবে। জীবনের বদলে দেওয়ার মতো একটা বই।
    বইটা অনুবাদ করেছেন আদীব হুযুরখ্যাত আবু তাহের মিসবাহ দা.বা.। তার লেখা যারা পড়েছেন তাদের কাছে তাকে নতুন করে পরিচয়ে করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। বাইতুল্লাহর। মুসাফির, বাইতুল্লাহর ছায়ায়, তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে তার আলোড়নসৃষ্টিকারী ভ্রমণকাহিনি। তার অনূদিত বইয়ের মাঝে যে দুটির অনুবাদ সবচে’ সুন্দর ও অতুলনীয় তন্মধ্যে এটি একটি। বইটি আপনাকে নাড়া দেবে, চিন্তা-চেতনা ও জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নতুন করে চেনাবে।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top