মেন্যু


শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় (তালবিসে ইবলিস)

প্রকাশনী : দারুল আরকাম

ভাষান্তর : মুফতি আবু সাআদ
পৃষ্ঠা : ৪৮০
দ্বিতীয় মুদ্রণ: নভেম্বর ২০১৯

শয়তান আমাদের আদি শত্রু। চির শত্রু। মহা শত্রু। তার এ শত্রুতা মানবজাতির আদি পিতা থেকে নিয়ে সৃষ্টির শেষ মানুষটি পর্যন্ত দীর্ঘ। তার অভনব ধোঁকা আর বিচিত্র কূটচাল জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে, শূণ্যে-মহাশূণ্যে- তথা পৃথিবীর সর্বত্র সকলের জন্য বিস্তৃত। তার প্রলোভন ও প্রতারণা থেকে বাঁচতে পারে না আলেম-জাহেল, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ- কেউই। সর্বত্র সবার জন্য সে পুতে রেখেছে অকল্পনীয়-অবর্ণনীয় পাপের বীজ। পৃথিবীব্যাপী সে বিছিয়ে রেখেছে অজস্র মোহজাল। পেতে রেখেছে অসংখ্য কুটিল ফাঁদ। সূক্ষ্ম-স্থূল সকল প্রকার ফন্দিতে শয়তান অদ্বিতীয়।
শয়তানকে কুরআন মাজিদে ইবলিসও বলা হয়েছে। তাতে ইবলিশ শব্দটি ব্যাবহার হয়েছে ১১ বার। শয়তানের এ নামেই আলোচ্য গ্রন্থ “তালবিসে ইবলিস” নামকরণ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়ার জন্যে শয়তানকে সুযোগ ও অবকাশ দিয়েছেন বটে; কিন্তু শয়তানের প্রতারণা ও বিভ্রান্তি থেকে আত্মরক্ষার জন্যে মানুষকে শয়তানি প্রতারণার যাবতীয় কূটকৌশল জানিয়ে দিয়েছেন এবং বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন।
শয়তানি প্রতারণার কূটকৌশলসমূহ যেমন কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন উপস্থাপনের সাথে সাথে কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে নিজের বাণীতেও সেগুলো জানিয়ে দিয়ে গেছেন। আলোচ্য “তালবিসে ইবলিস” গ্রন্থটিতে সে বিষয়গুলো অত্যন্ত নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা শায়খ ইবনুল জাওযী রহ.।

পরিমাণ

280  560 (50% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - শয়তান যেভাবে ধোঁকা দেয় (তালবিসে ইবলিস)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    এই বইটির নাম শুনে মনে হবে অতি সাধারণ কিছু বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে। কিন্তু এর অধ্যয়ন শুরু করলে দেখা গেল অনেকগুলো বিষয় যা আমাদের একেবারে অজানা ছিল তাকে উজ্জ্বল আলোয় প্রকাশ করে দেওয়া হল। জ্ঞানের কাজ হচ্ছে অন্ধকার জায়গায় আলোর স্ফুলিঙ্গ ঘটানো। অজ্ঞতার বিষয়ে জ্ঞাত হলে একেবারে অবাক হয়ে যেতে হয়। অনেক দক্ষতার সাথে লেখক এই গ্রন্থটি প্রস্তুত করেছেন। বোঝা গেছে এটি একদিনের কাজ নয়। আপনাকে এমন সব জায়গায় নিয়ে যাবে যে জায়গা গুলির সাথে আপনার ইতিপূর্বে না ছিল পরিচয় না ছিল চেনাজানা না ছিল আলাপচারিতা। এমন সব বিষয়ের অবতারণা হয়েছে যা অধ্যায়ন করে অবাক হতে হয়েছে। ভালো কিছু পেতে হলে মিষ্টি কিছু খেতে হলে লোভনীয় কিছু খেতে হলে মূল্যবান কিছু পেতে হলে একটু ধীরে ধীরে খেতে হয় এই বইটি পড়ার সময় এই কথাটি আমার মনে হয়েছিল।
    পাঠক বইটি পড়ার সময় একটু সময় ব্যয় করতে হবে। এর থেকে মনি-মুক্তা আহরণ করতে হলে একটু পরিশ্রম করতে হবে।
    বইটি পড়ুন নিজেকে আলোকিত করুন।
    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ইবলিসকে যখন জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হলো এবং আল্লাহ তাআলা তাকে কিয়ামত অবধি জীবন লাভের ঘোষণা জানিয়ে দিলেন তখন ইবলিস চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিল, ‘আমি তোমার বান্দাদের ধোকা দিয়েই যাব। চতুর্দিক থেকে আক্রমন করব। তাদের আমি পথচ্যুত করবই’।

    ইতিহাস সাক্ষী, সৃষ্টির সূচনা থেকে নিয়ে আজ অবধি আদম সন্তানদের ধোঁকা দেয়ার কোনো হীনপন্থাই ইবলিস বাকী রাখেনি। চতুর্মূখী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে অনবরত। আকীদা, ইবাদত, লেনদেন,জীবনযাপন, চরিত্র; মোটকথা জীবনের এমন কোনোদিক নেই, যেখানে ইবলিসের ধোঁকার ফাঁদ নেই। মানবজীবনের নানা বাঁকে সে চাতুর্যের সাথে তার ফাঁদগুলো বিছিয়ে রেখেছে।

    ইবলিসের ধোকাঁ কি, এর ধরণ কী, মাধ্যম কী, কখন কিভাবে কোথায় কী ধরণের ফন্দি এঁটে থাকে ? কখন নেক সুরতে, কখন বদ সুরতে পাপের জাল বিছিয়ে রাখে? ইবলিসের ধোঁকা থেকে বাচতে কখন কী পদক্ষেপ ও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
    আল্লাহ ইবনুল জাওযী রহ. তার এই কিতাবে এসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছেন।

    তিনি সর্বপ্রথম ইলমে আকাইদ নিয়ে ইবলিসের প্ররোচনা পরিস্কার করে সেই সকল ভ্রান্ত মতবাদের পতাকাবাহী দলগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, ধূর্ত ইবলিস যাদেরকে সিরাতে মুস্তাকীম থেকে বিচ্যুত করেছে।

    তারই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় অধ্যায়ে খারেজী, রাফেযী, কাদরিয়া, মুতাযিলা, জাহমিয়া, জাবরিয়া এবং তাদের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখার ১২টি দল ও সেগুলোর পরিচিতির উপর আলোকপাত করেছেন।

    তৃতীয় অধ্যায়ে সন্দেহ-সংশয়ের হাকীকত ও তার বিভিন্ন প্রকারের দৃষ্টান্ত এবং কতিপয় শিক্ষামূলক ঘটনার বিশদ আলোচনা করেছেন।

    পঞ্চম অধ্যায়ে নাস্তিক, দার্শনিক, অগ্নিপূজক, মূর্তিপূজক, খোদাদ্রোহী, বাতিনী ইত্যাদি ফিরকার বিশ্বাসী ধ্যান-ধারণা, প্ররোচনার কৌশল ও সেগুলোর অপনোদন এবং খন্ডনের উপর যুক্তিসংগত পূর্ণাঙ্গ ও শিক্ষণীয় আলোচনা করেছেন।

    সপ্তম অধ্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন আলিম, খতিব, আবেদ, যাহেদ, সুফী, সাধারণ মানুষ ও মহিলাদেরকে ইবলিস কি কৌশলে ধোকা দেয় সেসব নিয়ে। সমসাময়িক অবস্থা বিবেচনায় এই অধ্যায়টি সবার পড়া থাকা দরকার।

    শয়তানি প্রতারণার কূটকৌশলসমূহ যেমন কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তেমনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন উপস্থাপনের সাথে সাথে কুরআনের ব্যাখ্যা হিসেবে নিজের বাণীতেও সেগুলো জানিয়ে দিয়ে গেছেন। আলোচ্য “তালবিসে ইবলিস” গ্রন্থটিতে সে বিষয়গুলো অত্যন্ত নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আল্লামা শায়খ ইবনুল জাওযী রহ.।

    এ-কিতাবটি তার বিষয়বস্তুর বিচারে একটি স্বতন্ত্র কিতাব। দ্বীনবিরোধী জাতিগুলোর ধর্মকর্ম ও তাদের উদ্দেশ্য জানতে এবং নিজ আমল সংশোধন ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য এটি এক অমূল্য রত্ন। আলোচনা এতটাই মর্মস্পর্ষী যে, গ্রন্থটি হাতছাড়া করতে মন সায় দেয় না।

    10 out of 12 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No