মেন্যু
sura yusufer poroshe

সুরা ইউসুফের পরশে

পৃষ্ঠা : 128, কভার : পেপার ব্যাক, সংস্করণ : 1st published 2020
অনুবাদক: আমীমুল ইহসান ‘সুরা ইউসুফ’ ইলম ও হিকমত আর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার এক মনোমুগ্ধকর বাগান। প্রতিটি আয়াত যেন একেকটি গাছ। শাখায় শাখায় ফুটে আছে রাশি রাশি বাহারি ফুল। কত রূপ, কত... আরো পড়ুন
পরিমাণ

122  167 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী

1 রিভিউ এবং রেটিং - সুরা ইউসুফের পরশে

4.0
Based on 1 review
5 star
0%
4 star
100%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    বই রিভিউঃ

    গল্পটি শুরু হয়, শিশু ইউসুফের একটি স্বপ্নের মাধ্যমে। ইউসুফ তাঁর পিতাকে বলে, “বাবা, আমি স্বপ্নে দেখেছি, সূর্য, চাঁদ ও ১১ টি তারা আমাকে সিজদা করছে।” একথা শুনে ইয়াকুব আলাহিস সালাম আদরের পুত্রকে নসিহত করেন, “দেখো ইউসুফ, এই স্বপ্নের কথা তোমার ভাইদেরকে বোলো না। ওরা জানলে ওদের হিংসা আরও বেড়ে যাবে; তোমার বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরু করবে।”

    কিন্তু সময়ের আবর্তনে কিভাবে যেন স্বপ্নের কথা হিংসুক ভাইদের কানে চলে যায়। তারা ঘৃণা ও হিংসায় কাতর হয়ে ইউসুফের বিষয়টি নিয়ে পরামর্শে বসে। প্রথমে তাকে হত্যা করার প্রস্তাব ওঠলেও পরে তারা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, ইউসুফকে গভীর কোন কূপে ফেলে দেওয়া হবে। আর এতেই তাদের অন্তরের আগুন নিভবে আর পিতার স্নেহসিক্ত মনোযোগ তাদের দিকে নিবন্ধ হবে।

    ভাইয়েরা শিশু ইউসুফকে নিয়ে দূরের এক গভীর কূপের কাছে চলে যায়। নিষ্পাপ একটি শিশুকে গভীর কূপে ফেলে নিক্ষেপ করতে এই পাষণ্ডগুলোর অন্তরে একটুও দয়া হয়নি। তারা ইউসুফের জামায় রক্ত মাখিয়ে তাদের বাবার কাছে মিথ্যে গল্প বলে যে, বাঘ এসে ইউসুফকে খেয়ে ফেলেছে।

    এদিকে অসহায় ইউসুফ অন্ধকার কুপে বসে ছিলেন। একটি বাণিজ্য কাফেলা কূপের পাশ দিয়ে মিশর যাবার সময় পানি তোলার জন্য কূপে বালতি ফেলতেই উঠে আসেন শিশু ইউসুফ। এ যে ফুটফুটে এক শিশু। তারা ইউসুফকে মিসরের রাজার কাছে বিক্রি করে দেয়৷ কূপ থেকে ইউসুফ গিয়ে উঠেন একেবারে রাজপ্রাসাদে।

    শুরু হয় তার নতুন জীবনের সন্দীপন। রাজা তাকে থাকার সুব্যবস্থা করে দেয়। ধীরে ধীরে শৈশব পেরিয়ে কৈশোরে পদার্পণ করেন তিনি। এরপর ভোরের রুপালি আলোর মতো তার অনিন্দ্য সুন্দর মুখাবয়বে ফুটে ওঠে যৌবনের দীপ্তি। রাজার স্ত্রী ইউসুফের রূপ সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে তাঁকে কাছে পাওয়ার জন্য ব্যকুল হয়ে ওঠে। সুযোগ বুঝে একদিন তাঁকে রাজপ্রাসাদের এক নির্জন কক্ষে নিয়ে যায়। কিন্তু পরিশুদ্ধচিত্ত ইউসুফকে আল্লাহ তায়ালা সুন্দরী নারীর এই মারাত্মক ছলনার হাত থেকে রক্ষা করেন। তারপর একে একে ইউসুফের কারাদণ্ড, তাওহিদের দাওয়াত, স্বপ্নের তাবির, কারাগার থেকে সিংহাসন, দাওয়াহ এবং সবশেষে ইউসুফ আলাইহিস সালাম পিতা মাতাকে ফিরে পেয়ে আলিঙ্গন করেন। তাদেরকে উঁচু আসনে বসান। অতঃপর তার বাবা-মা ও ১১ ভাই তাঁকে সিজদা করেন। এই দৃশ্য অবলোকন করে ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেন, ” বাবা, এটি তো তোমার পূর্বে দেখা স্বপ্নের তাবির।” এভাবেই শেষ হয় ঘটনার পরিক্রমা৷ ইমাম জাসসাস তার আহকামুল কুরআন গ্রন্থে লিখেছেন, পূর্ববর্তী নবিগণের শরিয়তে বড়দের প্রতি সম্মানসূচক সিজদা করা বৈধ ছিল। কিন্তু মুহাম্মদ (স.) এর শরিয়তে তা রহিত হয়ে গেছে।

    পবিত্র কুরআনে বর্ণিত এই গল্পটি আমাদের জন্য অনন্য মহিমায় সমুজ্জ্বল, ইলম ও হিকমতের এক বিস্তৃত সাম্রাজ্য। কুরআন মাজিদে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের নাম এসেছে ২৬ বার, সুরা ইউসুফেই এসেছে ২৪ বার৷ মূলত বইটিতে সুরা ইউসুফের শিক্ষার সংসর্গে এসে লেখক দেখিয়েছেন সূরা ইউসুফের তাদাব্বুর। লেখক শাইখ আলী জাবির আল-ফাইফি একজন খ্যাতনামা আরবি গবেষক ও দায়ি। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের কিং খালিদ ইউনিভার্সিটির শরিয়াহ ও আরবিভাষা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তার লেখা এই বইটি অনুবাদে এসে প্রথম রুকু শিশু ইউসুফের স্বপ্ন থেকে দ্বাদশ রুকু তাওহিদ ও শিরক- নবিদের দাওয়াহ তে ভাগ করা হয়েছে। সুরা ইউসুফের প্রতিটি আয়াতের শিক্ষা বইটিকে করেছে অনন্য। সহজ, সরল, সুখপাঠ্য এই বইটি পড়ে বিস্মিত হতে বাধ্য হয়েছি।

    আমাদের অধিকাংশ তিলাওয়াতই প্রাণহীন। তাই কুরআন আমাদের অনুভূতিতে নাড়া দেয় না, হৃদয়ে হিদায়াতের নুর সৃষ্টি করে না আল্লাহ তায়ালা কুরআনের একাধিক জায়গায় তাদাব্বুরের প্রতি তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “এটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার উপর নাজিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াত সমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে।” বইটি পাঠকের মনের সন্দীপনের পাশাপাশি মগজে হাতুড়ি দিয়ে দেখিয়ে দিবে কুরআন শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়, অনুভব ও আমল করার বিষয়ও বটে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বোঝার তৌফিক দান করুক। আমীন।

    প্রিয় উক্তিঃ

    ১) একচেটিয়া ভোগ করার মনোবৃত্তি ও শরিকবিহীন একচ্ছত্র মালিকানা লাভের আকাঙ্ক্ষা মানুষের মারাত্মক মানসিক ব্যাধিগুলোর অন্যতম। এই রোগের কারণে অধিকাংশ মানুষ সাফল্যের পানে ছোটার পরিবর্তে সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামে, অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার বদলে নিজেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করে, জ্ঞানলাভের পরিবর্তে ক্লাসে প্রথম হওয়ার ধান্দা করে! সার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও আত্মমুগ্ধতাই আমাদেরকে এই ভ্রান্ত পথে নিয়ে যায়। এটি অহমিকার নতুন রূপ – ভদ্রতা ও আভিজাত্যের মোড়কে মূর্তিমান অহংকার।

    ২) যে ব্যক্তি কুরআন তিলাওয়াত করল, কিন্তু জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তার দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি স্বচ্ছ হলো না, তার এলোমেলো চিন্তাগুলো বিন্যস্ত হলো না, অস্থির ভাবনাগুলো সংহত হলো না, তার প্রত্যয় ও প্রত্যাশাগুলো তার আদর্শ ও মূলনীতির সঙ্গে খাপ খেল না – সে আসলে কুরআন তিলাওয়াতই করেনি।

    ৩) আপনি যদি চান আপনার বিরুদ্ধে হিংসুকদের অন্তরে দাউদাউ করে বিদ্বেষের আগুন জ্বলে না উঠুক, তবে আপনার সাফল্য ও সম্ভাবনাগুলো তাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখুন।

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top