মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

সুরা ফাতিহার আলোকে ইসলামি আকিদা ও মানহাজ

প্রকাশনী : শব্দতরু

পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৯২ (পেপার ব্যাক কভার)

পরিমাণ

195.00  260.00 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - সুরা ফাতিহার আলোকে ইসলামি আকিদা ও মানহাজ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    বই: সুরা ফাতিহার আলোকে ইসলামী আকীদা ও মানহাজ
    লেখক: আলী হাসান উসামা

    মুমিনের খুঁটি-ই হল ঈমান। আকিদা। ইসলামের উপর দাঁড়াতে হলে কিংবা মুমিন নাম নিয়ে বারযাখের জীবনে যাওয়ার আগে তাকে তার ঈমান ও আকীদার অবস্থান পাকাপোক্ত করতে হবে। সঠিক আকীদা ছাড়া একজন মুসলিম পথভ্রষ্ট হতে পারে চোখের পলকেই। বইটিতে আকীদার মূল বিষয়বস্তু গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্তাকারে কলমের আঁচড় তুলেছেন তরুণ লেখক আলী হাসান উসামা।
    .
    বই নির্যাস :
    উম্মুল কিতাব বলা হয় কুরআনের প্রথম চ্যাপ্টার তথা ‘সুরা আল ফাতিহা’কে। এটা আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু এই সূরার ছাচে আমরা আমাদের আকীদা কে ফেলে যাচাই করেছি কখনও? লেখক বর্ণিত এই সূরার সাত আয়াতের মাধ্যমে বিশ্লেষন করেছেন আকীদার ব্যাসিক পয়েন্টগুলো। বইটিকে ভাগ করেছেন মোট পাঁচটি অধ্যায়ে। প্রতিটি অধ্যায়ের সহজবোধ্যতার জন্য কয়েকটি করে পরিচ্ছেদ আছে।

    বাসমালাহ থেকে নিয়ে, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা, আল্লাহর প্রশংসা কেন করব, ঈমানের ভিত্তি-শর্ত, দাসত্বের মহিমা এই বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করা হয়েছে বইয়ের শুরুর দিকে। তাওহীদের তিন স্তর, আসমা ওয়াস সিফাত, আল্লাহ্ কোথায় তার বিভিন্ন নস সম্পর্কে যুক্তিযুক্ত খন্ডায়ন করা হয়েছে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অধ্যায়ে।

    সরল ও সঠিক পথের মানহাজ কোনটা, আল্লাহর শত্রু কারা, তাদের প্রতি আমাদের অবস্থান কেমন হবে এবং শেষকণ্ঠে ধর্ম যার যার উৎসব যে সবার নয়; এর উপর-ও উপযুক্ত আলোচনা এনেছেন।
    .
    বইটি কেন পড়বেন?
    আকিদার চরম বেহাল অবস্থা থেকে মজবুত, তাজা আর সতেজ অবস্থায় আসার জন্য পড়বেন। আকীদাটাকে ঠিকঠাক করে রাব্বের সন্নিকটে আরও এক ধাপ এগিয়ে আসার জন্য বইটি সাজেস্ট করব। কালে-গর্ভে আমরা যারা আকীদার মূল কন্সেপ্ট থেকে বিচ্ছিন্ন তাদের জন্য বইটি অবশ্য পাঠ্য। প্রতিটি ঘরে ঘরে থাকার দাবি রাখে বইটি।
    .
    পাঠ্যানুভূতি :
    কুরআনের অনুবাদ পড়ার সময় আল্লাহ’র নসের বিষয়ে কথা আসলে বুঝতাম না ঠিকভাবে। এড়িয়ে যেতাম! বইটা পড়ার পর মোটামুটি একটা ধারণা পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। ভ্রান্ত ফিরকার বিভিন্ন টার্ম সম্পর্কে যেন হাতে কলমে জানলাম। পড়ার সময় মনে হয়েছে কত মূল্যবান বিষয় এখানে, যা এতদিন আমার মগজের আশেপাশে-ও ছিল না।

    “আল্লাহ তা’আলার সাদৃশ্যপূর্ণ গুণাবলীর ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপন্থা” আর “সরল পথের সরল মানহাজ সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে। প্রচ্ছদ,বাইন্ডিং,ফন্ট মনঃপুত ছিল নিঃসন্দেহে।

    সমালোচনার খাতিরে বলব কিছু কিছু জায়গায় শব্দের বানান ভুল কিংবা প্রিন্টিং মিস্টেক পেয়েছি; যার কারণে বিব্রত হচ্ছিলাম এই যা!

    মুদ্রিত মূল্য : ২৫৬৳
    শব্দতরু প্রকাশন

    Was this review helpful to you?
  2. 4 out of 5

    :

    ◾ উপক্রমণিকা:

    আজ এখানে বাহাস, কাল ওখানে। কী নিয়ে বাহাস? ফুরুয়ী বিষয়াবলিই বাহাসের মূল আলোচ্য বিষয়। এ ফুরুয়ী ইখতিলাফের জন্যে আজ আমরা শতদলে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছি। অথচ ওসব নিয়ে ওতটা উতলা হবার কথা ছিল না। এ জাতীয় সামান্য ইখতিলাফের জন্যে একে অপরকে নানাভাবে গালিগালাজ করছি, এমনকি কাফের উপাধি পর্যন্ত দিয়ে দিই।

    আসলে আমাদের অবলম্বিত এ নীতি সুন্নাহ বিরোধী, সালাফদের কর্মপন্থার বিরোধী। সালাফরা এসব বিষয়ে ছিলেন নমনীয়। কিন্তু আমরা এসব ক্ষেত্রে কঠোর। অপরদিকে তাঁরা যে বিষয়টাতে ছিলেন কঠোর, আজ আমরা সে বিষয়টাতে নমনীয়। আকিদাগত বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়ে কত মুসলিম যে কাফির হয়ে যাচ্ছে, সেসব খবর আমরা রাখি না। আজ ওয়াজের মাঠগুলোতে আকিদার আলোচনা অনুপস্থিত। আকিদা-মানহাজের আলোচনায় লেখকদের কলমগুলো আজ শুষ্ক।

    আমাদের আকিদা কী, কেমন হবে আমাদের মানহাজ, এসব বিষয়ে বহুল আলোচনা আজ সময়ের দাবি। সেই প্রয়োজনীয়তাকে উপলব্ধি করে, নবপ্রতিষ্ঠিত প্রকাশনী ‘শব্দতরু’ আমাদেরকে দিয়েছে এক দামি উপহার – সূরা ফাতিহার আলোকে ইসলামি আকিদা ও মানহাজ।

    ৭ আয়াতের ছোট্ট এক সূরা। অথচ এর গুরুত্ব অবর্ণনীয়, এর গভীরত্ব অপরিমেয়। এ তো উম্মুল কুরআন-কুরআনের জননী। এ তো Introduction of the Quran – কুরআনের ভূমিকা। এ যেনো পুরো কুরআনের ধারক। এ সূরাকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে চলে আসবে পুরো কুরআন। এ সূরাতেই বর্ণিত হয়েছে আমাদের আকিদা, আমাদের মানহাজ। এ সূরার গভীর বোধ আমাদের থাকা একান্ত প্রয়োজন। তাই শব্দতরুর পরিবেশনা “সূরা ফাতিহার আলোকে আকিদা ও মানহাজ” অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। এটিই রিভিউর জন্যে আজ আমাদের নির্বাচিত বই।
    _______________________________________

    ◼ লেখক নিয়ে দু’টি কথা:

    আলী হাসান উসামা। এ সময়ের এক সাহসী দা’য়ী। তরুণ এ দা’য়ী একাধারে মাহফিলের মাঠে, সাহিত্যের মাঠে সমান জনপ্রিয়। জন্ম ১৯৯৫ সালে সিলেটে। একজন তরুণ লেখক, অনুবাদক, আলোচক হিসেবে ইতোমধ্যেই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে আলোচ্য বইটি অন্যতম। এটি তাঁর মৌলিক রচনা।
    _______________________________________

    ◼ বিস্তারিত আলোচনা:

    লেখক বইটিকে মূলত ৫টি অধ্যায়ে বিভক্ত করে তাঁর আলোচনাকে এগিয়ে নিয়েছেন। প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পরিচ্ছেদ।

    ◼ ১ম অধ্যায়:

    ১ম অধ্যায়টিকে সাজানো হয়েছে ৭টি পরিচ্ছেদে। পরিচ্ছেদ ৭টি হলো:

    ◻ সূচনা আল্লাহর নামে
    ◻ আল্লাহর সাহায্য
    ◻ সকল প্রশংসা আল্লাহর
    ◻ তাগুতি রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান
    ◻ যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
    ◻ দাসত্বের হীন শৃঙ্খল
    ◻ আল্লাহ তায়ালার রয়েছে সুন্দর নামসমূহ

    চলুন সংক্ষেপে পরিচ্ছেদগুলোর থেকে কিছু ধারনা নিয়ে নিই।

    ◼ সূচনা আল্লাহর নামে:

    সহীহ ইবনে হিব্বানে উল্লেখ রয়েছে,

    “প্রত্যেক এমন কাজ, আল্লাহর নামে যা সূচনা করা হয়নি, তা বরকতহীন।”

    তাই বইয়ের আলোচনার প্রারম্ভেই লেখক “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম” বলার গুরুত্ব দেখিয়েছেন; কাজের শুরুতেই ‘বিসমিল্লাহ’ বলার ৩টি ফায়দা উল্লেখ করেছেন।

    এরপর লেখক ‘তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর’ সংজ্ঞা দিয়েছেন। লেখকের ভাষায়,

    “তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর অর্থ হলো, রব হিসেবে আল্লাহর এককত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা বা আল্লাহর কার্যাবলি, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতায় তাঁকে একক বলে বিশ্বাস করা।”

    ‘রব’ শব্দটি একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এ পর্যায়ে লেখক পবিত্র কুরআন থেকে রব শব্দের অর্থ-ব্যাপকতা দেখিয়েছেন।

    ◼ আল্লাহর সাহায্য:

    ‘বিসমিল্লাহ’ বলার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করা হয়। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা, আল্লাহ তাকে প্রদান করেন। আল্লাহর ওপর ভরসা করলে আল্লাহই তার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যান। লেখক এ বিষয়টা দালীলিকভাবে প্রমাণ করেছেন।

    ◼ সকল প্রশংসা আল্লাহর:

    সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত। দৃপ্ততার সাথে দেয়া হচ্ছে তাওহীদে রুবুবিয়্যাতের ঘোষণা। আমাদের সকল সফলতা,পূর্ণতা বা প্রাপ্তির বেলায় প্রশংসা পাবার একমাত্র হকদার মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা। এখানে লেখক এ কথাগুলো খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

    ◼ তাগুতি রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান:

    সূরা ফাতিহার ১ম আয়াতের স্পষ্ট ঘোষণা – পুরো বিশ্বজাহানের সার্বভৌমত্ব কেবলই আল্লাহর। কিন্তু তাগুতি রাষ্ট্র তা বিশ্বাস করে না। তাগুতি রাষ্ট্রের মৌলিক উপাদান সরাসরি ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। তাদের মৌলিক উপাদান ৪টি।

    ১. সার্বভৌমত্ব। তাগুতি রাষ্ট্রে সার্বভৌমত্বের মালিক বানানো হয়েছে জনগণকে। নাউজুবিল্লাহ।

    ২. সংবিধান। সংবিধান হিসেবে এখানে কুরআন গ্রহণযোগ্য নয়। বরং মানবরচিত সংবিধানই এখানে পূজিত।

    ৩. ভৌগলিক সীমারেখা। সংক্ষেপে এক বলা হয় দেশ। আর এ দেশ রক্ষা তাদের নিকট দ্বীন ও ঈমানের চেয়েও বড়। আর এ ভৌগলিক সীমারেখার দোহাই দিয়ে কাঁটাতারের ওপরের মানুষগুলোর নির্যাতনকেও তারা ‘সে দেশের আভ্যন্তরীণ ইস্যু’ বলে এড়িয়ে যায়।

    ৪. জনগণ। ইসলামের দৃষ্টিতে জনগণ মহান আল্লাহর গোলাম। কিন্তু তাগুতি রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ।

    তাগুতি রাষ্ট্রের ইসলাম সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো লেখক এখানে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

    ◼ যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু:

    ২য় আয়াত। আল্লাহর দু’টি গুণের পরিচয়। ‘রহমান’ ও ‘রহিম’। লেখক এ পরিচ্ছেদে আল্লাহর গুণবাচক এ নাম দু’টির পার্থক্য নির্ণয় করেছেন। এছাড়াও এখানে লেখক শরিয়াহর সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন। লেখকের মতে, শরিয়াহ দুই প্রকার :

    ১. আল্লাহর দ্বীন ও শরিয়াহ
    ২.মানব রচিত দ্বীন ও শরিয়াহ

    এরপর লেখক এ দু’য়ের মাঝে পার্থক্য দেখিয়েছেন এবং আল্লাহর দ্বীন আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।

    ◼ দাসত্বের হীন শৃঙ্খল :

    আমরা এক আল্লাহর দাস। সুতরাং তাঁর প্রণীত বিধানই আমরা মেনে চলতে বাধ্য। এর বিপরীতে মানবরচিত কোনো বিধান মানা আমাদের জন্যে বৈধ নয়। এ পরিচ্ছেদে লেখক বিভিন্ন উদাহরণের মাধ্যমে আল্লাহর আইন মেনে চলার গুরুত্ব বুঝিয়েছেন।

    ◼ আল্লাহ তায়ালার রয়েছে সুন্দর নামসমূহ:

    মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন,

    ” আর আল্লাহর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ। তোমরা সেসব নাম নিয়ে তাঁকে ডাকো। আর যারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি সাধন করে, তোমরা তাদের পরিত্যাগ করো। তারা যা করতো, অচিরেই তাদের তার প্রতিদান দেওয়া হবে।” (সূরা আরাফ : ১৮০)

    আল্লাহ তায়ালার রয়েছে অনেক গুণবাচক নাম। এসব নামের এককত্বের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাকে বলা হয় ‘তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত’। আল্লাহর গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের কী করণীয়, তা এখানে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসছে সামনেই।
    _______________________________________

    ◼ ২য় অধ্যায়:

    এবার ২য় অধ্যায়ের আলোচনা। এ অধ্যায়ে রয়েছে দু’টি জটিল এবং মতভেদপূর্ণ আকিদার বিস্তারিত আলোচনা।

    ১. আল্লাহর সাদৃশ্যপূর্ণ গুণাবলির ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপন্থা
    ২. আল্লাহ কোথায়

    উপরোক্ত বিষয় দু’টির আলোচনা অত্যন্ত জটিল এবং সেনসিটিভ।

    আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের সম্পর্কে আমাদেরকে যতটুকু জানিয়েছেন, তার বেশি জানার চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা হয়ে যাবো গোমরাহ। তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের বাড়াবাড়ি মোটেই সঙ্গত নয়।

    এ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ আকিদার ক্ষেত্রে লেখক ‘তাফবিয’ এর আকিদা গ্রহণ করেছেন। যার মানে হচ্ছে, আল্লাহর সাদৃশ্যপূর্ণ গুণাবলি এবং তাঁর অবস্থান সংক্রান্ত নুসুসকে যেভাবে আছে সেভাবেই ছেড়ে দেয়া। এর প্রকৃত অর্থ মহান আল্লাহই জানেন। এগুলোর কোনো অনুবাদ করাও সঙ্গত নয়। বরং মূল শব্দটিকে আরবিতেই উচ্চারণ করা উচিত। যেমন: “আল্লাহ আরশে অধিষ্ঠিত হয়েছেন” না বলে, বলতে হবে, “আল্লাহ আরশে ইস্তিওয়া করেছেন”। এ দু’টি বিষয়ের সুদীর্ঘ আলোচনায় লেখক সালাফ এবং খালাফদের বক্তব্য তুলে ধরে নিজের স্বপক্ষে দলিল দিয়েছেন।
    _______________________________________

    ◼ ৩য় অধ্যায়:

    এ অধ্যায়ে লেখক যা নিয়ে আলোচনা করেছেন:

    ◻ ঈমানের পরিচয়
    ◻ ঈমানের শর্তসমূহ
    ◻ বিচার দিবসের মালিক
    ◻ নবুওয়াতের আকিদা

    ◼ ঈমানের পরিচয়:

    এ পরিচ্ছেদে লেখক ঈমানের সংজ্ঞা দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়,

    ” যে বিষয়গুলো দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারটি অকাট্য ও সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার নাম হলো ঈমান।”

    এরপর লেখক কুফরের প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন:

    ১. কুফরে ইনকার
    ২. কুফরে জুহুদ
    ৩. কুফরে ইনাদ
    ৪. কুফরে নিফাক
    ৫. কুফরে ইলহাদ

    ◼ ঈমানের শর্তসমূহ:

    ঈমান সাব্যস্ত হওয়ার কিছু শর্ত রয়েছে, যে শর্তগুলো পূরণ হলে দুনিয়া এবং আখিরাতে একজন মানুষ নিরাপদ।

    * পার্থিব জীবনে নিরাপত্তার জন্য দু’টি শর্ত:

    ১. মুখে তাওহীদের কালিমা উচ্চারণ এবং এর স্বীকৃতি দেওয়া।
    ২. ঈমান ভঙ্গকারী কোনো কাজকর্মে লিপ্ত না থাকা।

    * পরকালে চিরস্থায়ী জাহান্নাম থেকে মুক্তির শর্ত:

    ১. জ্ঞান
    ২. সুনিশ্চিত বিশ্বাস
    ৩. কালিমার মর্ম কবুল করা
    ৪. আত্মসমর্পণ
    ৫. সত্যবাদিতা
    ৬. ইখলাস
    ৭. ভালোবাসা

    লেখক এ শর্তগুলো উল্লেখ করার পর ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ বর্ণনা করেছেন। ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহকে ৩ ভাগে ভাগ করে আলোচনা করেছেন।

    ১. বিশ্বাসগত
    ২. উক্তিগত
    ৩. কর্মগত

    খুবই প্রয়োজনীয় আলোচনা। বর্তমান জামানায় আমরা যে কোন ফাঁকে ঈমান খুইয়ে বসি, তা ঠিক বলা মুশকিল। কেননা এ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান খুবই সীমিত। যেখানে রাসূল (সা:) স্বয়ং বলেছেন যে, আমাদের সময়ে ঈমান ধরে রাখা হাতে জ্বলন্ত অঙ্গার ধরে রাখার চেয়েও কঠিন, সেখানে এ ব্যাপারে আমরা উদাসীন! সুতরাং ঈমান ভঙ্গের কারণগুলো জানা আমাদের জন্যে একান্ত জরুরী।

    ◼ বিচার দিবসের মালিক:

    বিচার দিবস। থমথমে একটা অবস্থা! যে যার নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত! ভীত-সন্ত্রস্ত! কর্তৃত্ব কেবলই আল্লাহর। যিনি রহমান-রহিম, তিনিই আবার ক্বাহহার। বিচার হবে পুঙ্খানুপুঙ্খ। বিন্দুমাত্র জুলুম হবে মা কারো প্রতি। এ দিনেরও মালিক মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন। সূরা ফাতিহার ৩য় আয়াতে আল্লাহ এটাই বলছেন স্পষ্টভাষায়,

    ” مالك يوم الدين-“

    লেখক এ পরিচ্ছেদে এ আয়াত সংক্রান্ত আলোচনাই উপস্থাপন করেছেন।

    ◼ নবুওয়াতের আকিদা:

    এ পরিচ্ছেদে লেখক নবুওয়াত সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোচনা রেখেছেন। বান্দাকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে মহান আল্লাহ যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন। নবী-রাসূলগণ মানুষদের দেখিয়ে দিয়েছেন আলোর পথ।
    _______________________________________

    ◼ ৪র্থ অধ্যায়:

    ৩টি পরিচ্ছেদে সাজানো হয়েছে অধ্যায়টি।

    ◻ আমরা আপনারই ইবাদাত করি
    ◻ তাগুত কী
    ◻ আমরা আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি

    সূরা ফাতিহার ৪র্থ আয়াত। আল্লাহ পাকে ঘোষণা,

    ” আমরা আপনারই ইবাদাত করি এবং আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি।”

    অত্র আয়াত ঘোষণা দিচ্ছে তাওহীদে উলুহিয়্যাতের। ইলাহ বা ইবাদাত পাবার যোগ্য একমাত্র মহান আল্লাহ। তাঁর জন্যেই আমাদের সকল ইবাদাত, তাঁর কাছেই আমাদের সব চাওয়া-পাওয়া। কালিমা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” ইলাহ হিসেবে আল্লাহর এককত্বকে অপরিহার্য করে। এ কালিমার দু’টি অংশ।

    ১. “লা ইলাহা” বলার দ্বারা তাগুতকে অস্বীকার করা।
    ২. “ইল্লাল্লাহ” বলার দ্বারা যাবতীয় ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা।

    তাই মুমিন হতে গেলে আল্লাহকে ইলাহ হিসেবে মেনে নেয়ার পাশাপাশি, তাগুতকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

    তাহলে তাগুত কী? লেখক এখানে ইমাম তাবারী (রহি:) এর কওল উল্লেখ করেছেন।

    ” আমার মতে তাগুতের সঠিক সংজ্ঞা হলো, তাগুত হলো সে, যে আল্লাহর ওপর সীমালঙ্ঘন করে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তার উপাসনা করা হয়।”

    সুতরাং যারা আল্লাহর আইনের পরিবর্তে মানবরচিত আইন দ্বারা বিচার সমাধা করে, তারা তাগুত। লেখক খুব সাহসিকতার সাথে এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
    _______________________________________

    ◼ ৫ম অধ্যায়:

    ৫ম অধ্যায়। শেষ অধ্যায়। এতে রয়েছে ৯টি পরিচ্ছেদ।

    ◻ সরল পথের সন্ধানে
    ◻ হিদায়াত প্রার্থনা
    ◻ সরল পথের আকিদা-বিশ্বাস
    ◻ সরল পথের সরল মানহাজ
    ◻ সিরাতে মুস্তাকিম পরিচিতি
    ◻ মিল্লাতে ইবরাহিম সকল নবীর দ্বীন
    ◻ আল্লাহর শত্রুদের প্রতি ঘৃণা
    ◻ উদারতার নামে আদর্শ বিসর্জন
    ◻ ধর্ম যার যার, উৎসব সবার

    একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সূরা ফাতিহার ৫ম আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে শেখাচ্ছেন, আমরা তাঁর কাছে কী চাইবো। কী চাইবো আমরা?

    ” اهدنا الصراط المستقيم-“

    “আহমাদের সরল পথে পরিচালিত করুন।”

    হ্যাঁ, আমাদেরকে মহান রবের দরবারে চাইতে হবে সরল পথের সন্ধান। ‘সিরাতুল মুস্তাক্বিম’ বা সরল পথ কোনটা? এর উত্তর আল্লাহই দিচ্ছেন পরবর্তী আয়াতে

    ” صراط الذين انعمت عليهم- غير المغضوب عليهم ولا الضالين-“

    ” তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। তাদের পথ নয়, যারা গজবগ্রস্ত এবং তাদের পথও নয়, যারা পথভ্রষ্ট। ”

    এরপর লেখক সরল পথের আকিদা ও মানহাজ উল্লেখ করেছেন, যা কিনা আজকাল আমরা প্রায় ভুলতে বসেছি। অনেকেই এমন আছে, যারা সরল পথের আকিদা ও মানহাজ থেকে বিচ্যুত, তবুও তাদেরকে আমরা চিনতে পারি না। ছোটখাটো ইখলাফী মাসয়ালায় একে অপরকে কাফির উপাধি দেয়া হচ্ছে। অথচ সরল পথের আকিদা থেকে অনেক দূরে থাকা ব্যক্তিদের ঠিকই মুসলিম গণ্য করা হচ্ছে। আজ খারেজি-মুরজিয়াদের আকিদায় ছেয়ে যাচ্ছে সমাজ। সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। খুবই প্রয়োজন।

    এবার লেখক সিরাতুল মুস্তাকিমের পরিচয় দিয়েছেন। উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সকল মানুষকে ৩ ভাগে ভাগ করেছেন।

    ১. নিয়ামতপ্রাপ্ত
    ২. গজবগ্রস্ত
    ৩. পথভ্রষ্ট

    লেখক এই ৩ ভাগেরই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন – নিয়ামতপ্রাপ্ত কারা, গজবগ্রস্ত কারা, পথভ্রষ্ট কারা।

    “মিল্লাতে ইবরাহিম সকল নবির দ্বীন” শিরোনামে লেখক মিল্লাতে ইবরাহিমের পরিচয়, মিল্লাতে ইবরাহিম অনুসরণের গুরুত্ব দেখিয়েছেন। সকল নবীর মিল্লাত একই, যদিও শরীয়ত ভিন্ন ভিন্ন। মিল্লাতে ইবরাহিম নিয়ে আলোচনা কেনো প্রয়োজন? জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আ:) এর জীবনিতে রয়েছে আমাদের জন্য অনুপম আদর্শ।

    মিল্লাতে ইবরাহিমের ২টি মূল বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন লেখক।

    ১. সকল ইবাদাত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্য একনিষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা।
    ২. শিরক এবং মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা।

    বইয়ের একদম শেষে লেখক আলোচনা করেছেন বর্তমান বাংলাদেশের জন্যে অতীব জরুরি একটি বিষয়। আপনি শুনে থাকবেন দেশের নেতৃস্থানীয় লোকেরা বলে বেড়ায়, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”। কী মুসলিম, কী হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী – যে যেই ধর্মেই থাক না কেনো, উৎসবগুলোতে সবার অংশগ্রহণ কাম্য। এই নীতি মুসলিমদের ঠিকই গ্রাস করে নিয়েছে, যদিও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এ নীতি গ্রহণ করেনি। তারা আমাদের উৎসবগুলোতে আসে না। কিন্তু আমরা – দুর্ভাগা -তাদের পূজা পার্বণে ঠিকই যাই, গিয়ে শুভেচ্ছা জানাই। অথচ এ এক মহাভ্রান্ত বুলি। মহান আল্লাহ যাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের বা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন, সেখানে কীভাবে তাদের উৎসবগুলোতে আমরা যেতে পারি! আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন।

    আমাদের রিভিউ শেষ করছি শেষ পৃষ্ঠায় বর্ণিত লেখকের একটি বাণী দিয়ে,

    “দেশ হোক শুধু পরিচয়; দেশভিত্তিক স্বতন্ত্র মতবাদের কোনো প্রয়োজন নেই।”
    ________________________________________

    ◼ নিজস্ব অভিমত:

    এক কথায় বলতে গেলে বইটি অসাধারণ। বইয়ের বিষয়বস্তু যুগোপযোগী। গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে বইটির কভার পেপারব্যাক না করলে বোধ হয় বেশি ভাল হত। তাছাড়া পেপারব্যাক হলেও কভার আরো উন্নত করার প্রয়োজন ছিল। খুবই দুর্বল কভার, যা কিনা এমন একটি বইয়ের সাথে মানায় না। মূল বইটিকে ৫টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে অথচ সূচীপত্রে অধ্যায় বিন্যাসের ছিটেফোঁটাও নেই।পরবর্তী প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকের এ দিকটা খেয়াল রাখার আবেদন রইলো। এছাড়াও লেখকের পরিচিতি উল্লেখ না থাকায় বইটি তার সৌন্দর্য হারিয়েছে।
    _______________________________________

    ◼ শেষকথন:

    সহীহ আকিদা ব্যতীত জান্নাত লাভের আশা অসম্ভব। বর্তমান এ ক্রান্তিলগ্নে আকিদার ইলম অর্জন করা একান্ত আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে বইটি বেশ উপকারী হবে বলে আশা করি। তাই বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।

    Was this review helpful to you?