মেন্যু


সুলতান দ্য গ্রেট মুহাম্মাদ আল ফাতিহ

অনুবাদ: আবদুর রশীদ তারাপাশী
পৃষ্ঠা: ২৪৮
হার্ডবোর্ড বাধাই, ৮০ অফহোয়াইট পেপার

অটোমান সাম্রাজ্য মুসলমানদের স্বর্ণালি ইতিহাসের এক বর্ণালি নাম। উসমানি খেলাফত নামেই মূলত পরিচিত এই শাসনকাল। যে নাম শোনার সাথে সাথে আনন্দে নেচে ওঠে প্রাণ। ঝলমল করে ওঠে হৃদয়ের উঠোন। চোখ মুদলেই দেখা যায় নিকোপোলিসের ময়দানে বায়েজিদ ইলদারামের মুগুরের আঘাতে ভেড়া-বকরির ন্যায় পলায়নপর ক্রুসেডারদের নাজেহাল দৃশ্য। ভেসে ওঠে সুলায়মান কানুনি কর্তৃক ভিয়েনার দ্বারে করাঘাতের ছবি। বুক ফুলে ওঠে যখন দেখা যায় প্রিভিজার কাছে একা খাইরুদ্দিন বারবারুসা ইউরোপের চারশতাধিক যুদ্ধজাহাজের বহরকে খাওয়াচ্ছেন নাকানি-চুবানি। আনমনা হয়ে যেতে হয় যখন আলোঝলমল সে হৃদয়-উঠোনে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহের অনন্য কৃতিত্ব, যিনি বাস্তবায়ন করেছিলেন প্রিয়নবির ভবিষ্যদ্‌বাণী-সংক্রান্ত মুজিজা। চোখের সামনে ফুটে ওঠে পাহাড়ি বন্ধুর পথে পুরো নৌবহর টেনে নেওয়ার অতিলৌকিক দৃশ্য। গোল্ডেনহর্নে রাজহাঁসের মতো ভেসে বেড়ানো উসমানি নৌবহর। হাজার বছরের অজেয় দুর্গনগরী কনস্টান্টিনোপলের পতনের ছবি। দুর্ধর্ষ জেনেসারি বাহিনীর তুলনাহীন বীরত্ব।
সেই স্বর্ণালি ইতিহাসের উজ্জ্বল এক টুকরোর দ্যূতি তুলে ধরা হয়েছে সুলতান দ্য গ্রেট মুহাম্মাদ আল ফাতিহ নামক এই গ্রন্থে। এই আশায় যে, জাতির যুবশ্রেণি জেগে উঠুক। অনুধাবন করুক আমরা কী ছিলাম আর কী হয়েছি। এরপর তারা তাদের কর্তব্য নির্ধারণ করুক।
‘কালান্তর প্রকাশনী’ ঐতিহাসিক দায়মুক্তি এবং ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই প্রকাশ করে চলছে মুসলিম উম্মাহর হারিয়ে যাওয়া গৌরবময় ইতিহাস। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের প্রকাশনা ড. শায়খ আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবির ‘সুলতান দ্য গ্রেট মুহাম্মাদ আল ফাতিহ’।

পরিমাণ

227  325 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
প্রসাধনী
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

6 রিভিউ এবং রেটিং - সুলতান দ্য গ্রেট মুহাম্মাদ আল ফাতিহ

4.7
Based on 6 reviews
5 star
66%
4 star
33%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    বই: কনস্ট্যান্টিনোপল বিজেতা সুলতান দ্যা গ্রেট মুহাম্মাদ আল ফাতিহ

    লেখক: ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী

    ভাষান্তর: আব্দুর রশীদ তারপাশী

    প্রকাশনী: কালান্তর প্রকাশনী
    রেটিং- ৪/৫

    “মুসলিমরা একদা কুস্তুন্তুনিয়া বিজয় করবে। তাদের সেই বিজয়ী সেনাপতি কতই না সৌভাগ্যবান। সেই বিজয়ী সেনাদল কতই না বরকতময়”।
    -আহমদ আল-মুসনাদ ১৪:১৩১
    প্রারম্ভিক কথাঃ কুস্তুন্তুনিয়া বা কনস্টান্টিনোপল বিজয় মুসলিম সেনাপতিদের কাছে একসময় পরিণত হয় কিংবদন্তীতে। সবাই চাইতেন সেই বিজয়ী সৌভাগ্যবান হতে; হতে সেই সৌভাগ্যবান কাফেলার স্বপ্নসারথি। কনস্টান্টিনোপল বিজয় ছিল মুসলিম সেনাপতিদের কাছে একটি আরাধ্য স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে সুলতান মুহাম্মাদ আল ফাতিহ এর অসামান্য নেতৃত্বে ১৪৫১ সালে। তাকে নিয়েই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটির আলোচনা।
    বিশুদ্ধ ইতিহাস চর্চার বিকাশ আর ঘুমন্ত সিংহশাবককে জাগিয়ে দিতে কালান্তর প্রকাশনীর নিয়মিত যাত্রার এক মাইলফলক উদ্দিষ্ট বইটি।

    প্রধান চরিত্রঃ ‘কনস্ট্যান্টিনোপল বিজেতা সুলতান দ্যা গ্রেট মুহাম্মাদ আল ফাতিহ’ বইটির নামটিই বলে দেয় বইটি কাকে নিয়ে এর মূল কে। প্রিয় নবীর সা. এর নবুয়্যতী মুজেযার বাস্তবায়ন তাঁর ওফাতের আটশ বছর পর যার হাতে । ইউরোপ লুটেরা, বর্বর, জুলুমবাজদের কাছে মূর্তিমাণ এক আতংক উসমানি সাম্রাজ্যের দেদীপ্যমান নক্ষত্র মুহাম্মাদ আল ফাতিহ বা ফাতিহ সুলতান। মেধা,বীরত্ব, দৃঢ়তা, সাহস ও সংকল্পের দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়ণতা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার গুণ ও মহিমায় গুণান্বিত ভাস্বর যিনি; তিনি সেই মুহাম্মাদ আল ফাতিহ। বিজয়ী যেন তাঁরই অন্য এক নাম। তাঁরই জীবনগাঁথা, আলমে ইসলামিয়ায় তাঁর খেদমত, অবদান, রণাঙ্গনে দোর্দন্ড প্রতাপে কাফিরের বুকে ভীতি জাগানিয়া তাঁর সেই বর্ণিল সময়ের চিত্র ফুটে উঠেছে এই বইয়ে।

    বইয়ের কথাঃ গ্রন্থটি আপনাকে দেখাবে, হ্যাঁ দেখাবে পাঠে অমনোযোগী এক বালকের বিজেতা হয়ে ওঠা। বিশুদ্ধ ইসলামি জ্ঞানে পাণ্ডিত্য অর্জন। কি করে পরিণত হয়েছিলেন যুদ্ধবিদ্যার ইতিহাসে এক তুখোড় মাস্টারমাইন্ড ট্যাক্টিশিয়ান।
    বইয়ের শুরুতে উসমানী সালতানাতের প্রতিষ্ঠা থেকে তাঁর পিতা দ্বিতীয় মুরাদ পর্যন্ত কিছু আলোচনা রয়েছে। এর পর থেকে শুরু হয়েছে তাঁর উপাখ্যান।

    কনস্টান্টিনোপল বিজয়াভিযান, পাহাড়ি উপত্যকার ওপর দিয়ে সত্তরটি জাহাজ গোল্ডেন হর্ণে এনে গ্রিক বাহিনীকে হতভম্ব করে দেওয়া। হাজার বছরের ধরে অজেয় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা থিওডোসিয়ান ওয়ালকে ব্যাসিলিকা দিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া। কনস্টান্টিনোপল পদানত করে কায়সার-ই-রুম হয়ে খ্রিষ্ঠ জাহানের দর্পচূর্ণের উপাখ্যান। বইয়ের রচনাশৈলীতে মনে হবে আপনি নিজে এসব নিজে প্রত্যক্ষ করেছেন।
    এছাড়া ইউরোপীয় ইতিহাসবিদদের ইতিহাস বিকৃতি আর মিথ্যাচারের জবাব।

    পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ সহজ-সরল, প্রাঞ্জল যেন ঝরনার মতই প্রবাহমান। এত সুন্দর করে আব্দুর রশিদ তারাপশী সাহেব হাফি. অনুবাদ করেছেন যে, ইতিহাসের বই হলেও পড়তে একদমই ক্লান্তি আসবে না। তবে বইয়ে মুহাম্মাদ আল ফাতিহ রহ. সম্পর্কে আরো আলোচনা থাকলে পাঠক মন আরো তৃপ্ত হত। যেহেতু অনুবাদ এক্ষেত্রে অনুবাদ কারী বা প্রকাশনার হয়তো নিরুপায়।

    সারকথাঃ নির্ভেজাল ইতিহাস চর্চার এই কাফেলায় শামিল হতে চাইলে, নিজেদের স্বর্ণালী অতীত জানতে, নিজেদের আসল পরিচয় জানতে এই ধরনের সত্য, সুন্দর, সাবলীল, বই পাঠ অবশ্য করণীয়। নিজেদের স্বর্ণালী ইতিহাস পাঠে ইনশা-আল্লাহ ঈমানের বলে বলীয়ান হয়ে আমরা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত করণীয় নির্ধারণ করতে পারব।
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুক।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top