মেন্যু
sultan jalaluddin khawarism shah

সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ

পৃষ্ঠা : 272, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st published 2020
অনুবাদক : ইমরান রাইহান ইতিহাস বিজয়ী আর বিজয়কেই ফলাও করে; পরাজয় আর পরাজিতকে ঢেকে রাখে বিস্মৃতির আড়ালে; কিন্তু কোনো কোনো পরাজয় ও পরাজিত পক্ষ এতই মহিয়ান হয়, তা গৌরবের দিক দিয়ে... আরো পড়ুন
পরিমাণ

210  300 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী প্রসাধনী

9 রিভিউ এবং রেটিং - সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ

4.9
Based on 9 reviews
5 star
88%
4 star
11%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    বইঃ সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ (‘শেরে খাওয়ারিজম জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ আওর তাতারি ইয়ালগার’ বইয়ের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ)
    লেখকঃ মাওলানা ইসমাইল রেহান
    অনুবাদ ও তথ্য সংযোজনঃ ইমরান রাইহান
    প্রকাশকঃ কালান্তর প্রকাশনী
    পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৭২
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা

    ইতিহাসের একজন পাঠক হিসেবে সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ কে নিয়ে নানা বাজে মন্তব্য শুনেছি ও পড়েছি।
    ইতিহাসে পরাজিতিরা কখনো মহনায়ক হয় না, সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ ব্যাতিত।যুগে যুগে পরাজিতরা নত হয়ে সবার আড়ালে গিয়ে ধুকে ধুকে মরে। বিপরীতে বীর প্রতাপে এগিয়ে চলে বিজয়ীরা। কিন্ত ঠিক ৮০০ বছর আগে মধ্য এশিয়ায় এমন একজন সুলতান ছিলেন যার আতঙ্কে বিজিয়ীরা পর্যন্ত কাঁপতো। সেই পরাজিত সুলতানের নাম জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ। ইতিহাস কেবল বিজয় এবং বিজয়ীদেরকে তুলে ধরে। ফলে এর নিচে চাপা পড়ে যায় পরাজিতরা। কিন্তু কিছু কিছু পরাজিতরা এতই মহীয়ান, যে বিজয়ীদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ অধিকাংশ যুদ্ধে মোঙ্গলদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু সুলতান জালালুদ্দীনের কাছে মোঙ্গলরা কম পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করে নি। এক বছরেই তিনি ৭টি যুদ্ধে মোঙ্গলদের পরাজিত করেন। সিন্ধু তীরের বাগ নিলাবের যুদ্ধে একবার স্বয়ং চেঙ্গিস খানকে পলায়ন করতে বাধ্য করেন। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, মোঙ্গলদের ত্রাস হয়েই বেঁচে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মোঙ্গলরা তাঁদের দেবতার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত এই বলে যে জালালুদ্দীন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।

    ইমরান রাইহান হাফি. লেখা পড়েছি বেশ কয়েকটা। । উনার অনুবাদে সম্ভ্রান্তের ছাপ স্পষ্ট। কৃতিত্বের ভারী বোঝা দেওয়া যায় তার উপর। বর্তমান সময়ে বাঙলা ভাষায় মুসলিম ইতিহাসের হারানো জৌলুস ফিরাতে যে কয়জন কাজ করছেন তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তাঁদের লেখার মান পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত এবং তাদের লেখা ইতিহাস গ্রন্থগুলো নির্ভরযোগ্যও। আমার আর কিছু বলার নেই। ইতিহাসের আঁধারে হারিয়ে যাওয়া এই মহান সুলতানকে যথার্থভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। বইটি সকল শ্রেণীর পাঠকদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
    রেটিংঃ ৫/৫

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    আজ একজন জালালুদ্দিন শাহ এর প্রয়োজন
    যে একা হলেও লড়বে প্রয়োজনে দিবে আত্মবিসর্জন
    সুলতান জালালুদ্দিন খাওরিজম শাহ।একজন বীরের নাম।তাতার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এক সিপাহসালার।যে দেওয়াল হলে দাড়িয়ে ছিলো তাতার আর মুসলিম উম্মাহর মাঝে।এমন একজন সুলতানের জীবনি সম্পর্কে জানা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।কিন্তু তার জীবনি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিহাস যে অবিচার করেছে তা নিত্যান্তই দুঃখজনক।সেই সাথে তার উপর আরোপ করা হয়েছে নানান অপবাদ।এক্ষেত্রে দুঃখজনক বিষয় হলো পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের সাথে সাথে মুসলিম ইতিহাসবিদদেরোও কেউ কেউ তার উপর সমালোচনার বান চুড়ে মেরেছেন।আর সেসব অপবাদের ভীড়ে সুলতানের ত্যাগ,জিহাদি জজবা,আত্মবিসর্জনের নমুনা সবকিছু ঢাকা পড়ে রয়ে গেছিলো। আর সুলতানের সেই ত্যাগ,বিসর্জন আর জিহাদি জজবার ইতিহাসকে সবার সামনে তুলে ধরেছেন বর্তমান সময়ের একজন বিশিষ্ঠ ইতিহাসবিদ মাওলানা ইসমাইল রেহান তার “শেরে খাওয়ারিজম জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ অওর তাতারি ইয়ালগার” গ্রন্থে আর সেই গ্রন্থেরই সংক্ষিপ্ত অনুবাদ হলো বক্ষমান বইটি।বইটির অনুবাদ করেছেন আরেকজন প্রিয় লেখক ও অনুবাদক ইমরান রাইহান ভাই।বইটির অনুবাদ করা হয়েছে খুবই সাবলীলভাবে। বইটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রাচীন সূত্র থেকে সুলতানের জীবনকে বর্ণনা করা হযেছে। সুলতানের নিজের পরিবারকে নদীতে বিসর্জন দেবার বর্ণনাটি পড়ার সময় চোখ দিয়ে আনমনে বেড়িয়ে এসেছিলো অশ্রুর ফোঁটা।আপনজন ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের থেকেও সুলতান হয়েছেন বিশ্বাসঘাতকতার শিকার।তারপরও উম্মাহর জন্য তাতারদের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন নিরুদ্ধেশ হবার আগপর্যন্ত।
    বইটির গুনাবলীর মধ্যে একটি উপরে উল্লেখ করা হয়েছে আর তা হল এই বইয়ে উল্লেখিত ঘটনার প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আহোরন।
    এই বইটি পড়ে আপনি যেমন সুলতান সম্পর্কে জানতে পারবেন তেমনই তার উপর আরোপিত অভিযোগ সমুহেরও জবাব পাবেন। লেখক আরোপিত অভিযোগের উপর খুবই সুন্দর ও যৌক্তিকভাবে আলোকপাত করেছেন।
    বইটির বাইন্ডিং ও কাগজের মানও আমার ব্যাক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে।
    বইটি কেনো পড়বেনঃ
    ১)বইটি পড়ার প্রধান কারণ হবে সুলতানের জীবন সম্পর্কে জেনে নিজেদের মধ্যে তারমতো জিহাদি জজবা ও উম্মাহর তরে জীবন বিসর্জনের ইচ্ছা লালিত করতে পারি
    ২)বইটি পড়ার আরেকটি বড় কারন হলো সুলতানের উপর আরোপিত অভিযোগের যথার্থতা সম্পর্কে অবগত হওয়া।
    ৩)আর বইটি পড়ার সবচেয়ে বড় কারন হবে আমার মতে,উম্মাহর পতনের কারণ সম্পর্কে জেনে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া।কেননা,সুলতানের পরাজয়ের সবচাইতে বড় কারন যেটি ছিলো তা হলো উম্মাহর মধ্যে একতা না থাকা।তিনি একা হয়ে লড়েছিলন সারাজীবন।আর সেই সমস্যাটা বর্তমানে আমাদের মধ্যে বিদ্যমান। আর তাই সুলতানের ইতিহাস পড়ে তার পতন থেকে শিক্ষা নেওয়া আমাদের একান্ত দায়িত্ব

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    :

    বইঃ সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিযম শাহ
    ধরণঃ ইতিহাস
    মূল্যঃ ৩০০৳
    লেখকঃ ইসমাঈল রেহান
    অনুবাদকঃ ইমরান রাইহান
    প্রকাশনীঃ কালান্তর

    ইতিহাস পরাজয় আর পরাজিতদের প্রশ্রয় দেয় না। সে পছন্দ করে বিজেতার বিজয় মালার পাপড়ি গুনতে। কিন্তু পরাজিত হয়েও অনেক বিজেতা বনে বনে যায় ইতিহাসের পাতায়। ঐতিহাসিকগণ লুকোচুরি আর নাক সিঁটকে যাকে অবহেলা করতে পারেন না। তাঁর সম্পর্কে লিখতেই হয়। এ ধরনের কালজয়ী মহাবীরদের একজন সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ।
    পিতা আলাউদ্দিন খাওয়ারিজম শাহের খোয়ানো সাম্রাজ্যকে ফের ট্রান্স অক্সিয়ানা থেকে ককেশাস অবধি বিস্তৃত করেন।বিধ্বস্ত শহরগুলোকে উন্নতির দ্বারা আবাদ করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রণাঙ্গনে। তৎকালীন নরখাদক সাম্রাজ্যের জোয়ারের বিপরীতে অটল মানবঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন।
    বহু ঐতিহাসিক তাকে সাধারণ বীরের মর্যাদা দিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়েছেন। তবে এমন ঐতিহাসিক ছিলেন এবং আছেন, যারা ইতিহাসের পাতায় তাঁর অবদানকে সগর্বে তুলে এনেছেন।
    “খাওয়ারিজম শাহ ”গ্রন্থটি এই মহাবীরের জীবন উপাখ্যান নিয়ে রচিত,।যিনি তৎকালীন মোঙ্গল সাম্রাজ্যের স্থপতি চেঙ্গিস খানের অজেয় বাহিনী কে থমকে দিয়েছিলেন। চেংগিসপুত্র পর্যন্ত সন্ধি করে তার থেকে বেঁচে থাকতে চাইতো। গায়ে পরে যুদ্ধ বাঁধিয়ে বাবার মতো ভুল করতে চায়নি সে। সুলতান জালালুদ্দিন এর কারণে মধ্যপ্রাচ্য অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় মঙ্গল তাণ্ডব থেকে মুক্ত ছিল।
    কিন্তু নিয়তির পরিহাস আর কাকে বলে। মুসলিম ভ্রাতৃত্বের শিকল ভেঙ্গে অন্যান্য মুসলিম সাম্রাজ্যের অধিপতিরা তার ঘাড়ে ছুরিকাঘাত করে। গাদ্দারী ও শারীরিক অসুস্থতায় ভেঙে পড়ে তের শতাব্দীর সংগ্রামী তলোয়ার। অবশ্য মঙ্গল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর তারাও সুলতানকে স্মরণ করেছিল। কিন্তু ততক্ষণে কুড়াল পা পর্যন্ত চলে যায়।
    কতক ইতিহাস গ্রন্হে সুলতান জালালুদ্দিন সম্পর্কে বানোয়াট কিছু বর্ণনা রয়েছে। উক্ত বইয়ে সেগুলোর অগ্রহণযোগ্যতার ব্যাপারে আলোকপাত করা হয়েছে।
    সবমিলিয়ে মৌলিক গ্রন্থ হিসেবে বইটি চমৎকার। বোদ্ধা অনুবাদকের কলমের ছোঁয়ায় বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য বইটি এক অনন্য কীর্তি।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    এ যেনো এক যেকোনো থ্রিলার কাহিনীকে ও হার মানানো এক গল্প। যে গল্পের নায়ক সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ। বইটিতে উঠে এসেছে মুসলিম উম্মাহকে রক্ষা করার জন্য তার প্রচেষ্টার কথা, তার ত্যাগের কথা, তার দৃঢ়তার কথা। যা তাকে আবির্ভূত করেছে ইতিহাসের এক মহানায়ক হিসাবে। তিনি হয়ে দাড়িয়েছিল মুসলিম উম্মাহ জন্য মহাপ্রাচীর, যার জন্য মঙ্গলদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন অনেক মুসলিম সালতানাত। যেই মঙ্গোলদের তারা ইয়াজুজ মাজুজ বলে হাল ছেড়ে দিয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছিলেন জনগন সেখানে সুলতান জালালউদ্দিন প্রতিরোধকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তার পিতার মতো পালিয়ে না বেড়িয়ে নেমে পড়েন মাঠে যুদ্ধের জন্য। ঘুরিয়ে দেন যুদ্ধের মোড়, যা দেখে স্বয়ং চেঙ্গিস খান ভ্যাবাচেকা খেয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি নিজেই সুলতান জালালউদ্দিনকে মোকাবেলা করার জন্য মাঠে নেমে পড়লেন, ভাবা যায়! ইতিহাস মানেই জয় পরাজয়, এখানে সুলতান ও ব্যাতিক্রম কিছু নয়। সিন্ধু নদীর তীরে যুদ্ধের সময় ছেলেকে হত্যা করা হয়। তিনি নিজেই বিসর্জন দেন তার স্ত্রী ও মাকে। তারপর অনেক উচু থেকে লাফ দেন সিন্ধু নদীর মধ্যে যা দেখে সবাই অবাক হয়েছিল। তার দেখাদেখি কিছু অনুগত সৈন্যরাও লাফ দিলেন নদীতে জীবনের মায়া ছেড়ে। সামান্য কয়েকজন সৈন্য নিয়ে জয় করে নেন ভারতবর্ষের অনেক অংশ। তিনি চাইলেই পারতেন এখানে বাকি জীবন টুকু সুখে কাটিয়ে দিতে কিন্তু না তিনি তা করেন নি। আবার ফিরে আসেন তার সাম্রাজ্যকে রক্ষা করার জন্য। তারপর কি হয়েছিল জানতে হলে পড়ুন বইটি, সব এখানেই বলে দিলে কি আর হয় নাকি!
    .
    আর এভাবেই তাতারদের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধকারী হিসাবে উঠে আসেন সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ। জ্বলে ওঠে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যে ইতিহাস থেকে যাবে সবার হৃদয়ে।
    .
    বইটাতে মানচিত্র সংযোগ করে দেওয়ায় খুব ভালো হয়েছে। পাঠক বইটা পড়ার সময় এজন্য খুব সহজে সেই সময়ের ভৌগলিক অবস্থান ও রাজনীতিটা সাবলীল ভাবে বুঝতে পারবে। এটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।
    .
    বইটির অনুবাদ যথেষ্ট ভালো হয়েছে। বইটি পড়তে লাগল কোথাও এক ঘিয়েমি লাগবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় পুরো বই পড়তে লেগে কোথাও মনে হয় নি যে তথ্যর ঘাটতি রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলাপ-ই বাদ দেয়নি লেখক।
    .
    বইয়ের পেজের মান ও বাধায় খুবই ভালো ও মানসম্মত হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। সব মিলিয়ে রেটিং ৫ এ ৫ না দিয়ে পারলাম না।
    .
    বই: সুলতান জালালুদ্দিন খাওয়ারিজম শাহ
    লেখক : ইমরান রাইহান, ইসমাইল রেহান
    প্রকাশনী : কালান্তর প্রকাশনী
    বিষয় : ইতিহাস ও ঐতিহ্য
    পৃষ্ঠা : 272 টি
    অনুবাদক : ইমরান রাইহান
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    :

    বইঃ সুলতান জালালুদ্দীন খাওারিজম শাহ (‘শেরে খাওারিজম জালালুদ্দীন খাওারিজম শাহ আওর তাতারি ইয়ালগার’ বইয়ের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ)
    লেখকঃ মাওলানা ইসমাইল রেহান
    অনুবাদ ও তথ্য সংযোজনঃ ইমরান রাইহান
    প্রকাশকঃ কালান্তর প্রকাশনী
    পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ২৭২
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা

    ইতিহাসের একজন পাঠক হিসেবে সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ কে নিয়ে কিছু কিছু জেনেছি। তবে এই বইটি পড়ার আগে এরকম ব্যাপক আকারে জানা হয় নি। যা জেনেছি, তা হচ্ছে সুলতান জালালুদ্দীন ছিলেন উচ্চাকাঙ্খী, ক্ষমতালোভী, জালিম একজন শাসক। বক্ষ্যমাণ এই বইটি সুলতান জালালুদ্দীন এর প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেছে।

    ত্রয়োদশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে গোবির বুকে জেগে উঠা মোঙ্গল ঝড়ে বিপর্যস্ত মুসলিম উম্মাহর পক্ষ হতে যিনি সর্বপ্রথম হুঙ্কার দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে জুলকারনাইনের সীসাঢালা প্রাচীরের ন্যায় রুখে দাঁড়িয়েছেন, তিনি হলেন এই সুলতান জালালুদ্দীন। তখন মুসলিম উম্মাহর অবস্থা ছিলো সংকটাপন্ন। পূর্বের খাওয়ারিজম সাম্রাজ্য মোঙ্গলদের হাতে তছনছ হয়ে গিয়েছিলো। পশ্চিমের আইয়ুবী ও সেলজুকরা হয়ে গিয়েছিলো ক্ষমতালোভী। মাঝখানে ছিলো অপদার্থ আব্বাসী খলিফারা, যাদের কাজই ছিল শুধু ক্ষমতার গদি আঁকড়ে রাখা এবং সম্পদ জমা করা। সুলতান জালালুদ্দীন এদের কারো কাছে সাহায্য চাইলে কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি। পুরো ঘুমন্ত মুসলিম উম্মাহর পক্ষ থেকে জাগ্রত হয়ে তিনি একাই ফরজে আইন আদায় করেছিলেন। মোঙ্গলদের বিরুদ্ধে তিনি টানা দশ দশটি বছর যুদ্ধ করে গেছেন।

    ইতিহাস কেবল বিজয় এবং বিজয়ীদেরকে তুলে ধরে। ফলে এর নিচে চাপা পড়ে যায় পরাজিতরা। কিন্তু কিছু কিছু পরাজিতরা এতই মহীয়ান, যে বিজয়ীদেরকেও ছাড়িয়ে যায়। সুলতান জালালুদ্দীন খাওয়ারিজম শাহ অধিকাংশ যুদ্ধে মোঙ্গলদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। কিন্তু সুলতান জালালুদ্দীনের কাছে মোঙ্গলরা কম পরাজয়ের স্বাদ আস্বাদন করে নি। এক বছরেই তিনি ৭টি যুদ্ধে মোঙ্গলদের পরাজিত করেন। সিন্ধু তীরের বাগ নিলাবের যুদ্ধে একবার স্বয়ং চেঙ্গিস খানকে পলায়ন করতে বাধ্য করেন। তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন, মোঙ্গলদের ত্রাস হয়েই বেঁচে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মোঙ্গলরা তাঁদের দেবতার নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করত এই বলে যে জালালুদ্দীন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।

    সুলতান জালালুদ্দীনকে যদি পুরো মুসলিম উম্মাহ সাহায্য করত অথবা তাঁর পাশে দাঁড়াত। তাহলে হয়ত ইতিহাসের পাতা অন্যরকম হত। কিন্তু কেউ তাঁর পাশে না দাঁড়িয়ে সবাই তাঁর সাথে শত্রুতা ক্রয় করেছে।ফলে বিভিন্ন সময় তাঁকে আব্বাসীদের, সেলজুকদের, আইয়ুবীদের এবং দিল্লী সালতানাতের সাথে যুদ্ধ করতে হয়েছে। সব বাঁধা অতিক্রম করে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ আইয়ুবীদের হাতে তিনি পরাস্ত হন। কারণ আইয়ুবীরা ছিলো তখনকার বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বাহিনী। তারা বিগত অর্ধশতাব্দী ধরে ক্রুসেডে লড়াই করে আসছিল। বিশ্বের যেকোনো বাহিনীকে পরাজিত করার সামর্থ্য তাঁদের ছিলো। আইয়ুবীদের হাতে পরাস্ত হবার পর সুলতান জালালুদ্দীন এর সকল শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। অবশেষে জনৈক কুর্তি আততায়ীর হাতে শাহাদত বরণ করেন।

    মাওলানা ইসমাইল রেহান প্রত্যেক বিষয়ের খুটিনাটি আলোচনা করেছেন। মুল বইটি ৬০০ পৃষ্ঠার মতো হলেও এই বইয়ে(সংক্ষিপ্ত অনুবাদে) গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলোচনাই বাদ যায় নি। আবার কোথাও বিস্তৃত আলোচনাও আসে নি। অনুবাদক এমনভাবে বইটি সংক্ষিপ্ত করেছেন, কোনো পাঠকই একঘেয়েমি অনুভব করবে না, ধৈর্যহারা হবে না। অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও সহজ ভাষায় তিনি বইটি অনুবাদ জরেছেন। ইতিহাসের আঁধারে হারিয়ে যাওয়া এই মহান সুলতানকে যথার্থভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। বইটি সকল শ্রেণীর পাঠকদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top