মেন্যু
sultan aorongojeb alomgir

সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির

অনুবাদক : কাজী সফওয়ান
সম্পাদক : আবদুর রশীদ তারাপাশী
পৃষ্ঠা : 240, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st Published, 2022
ভাষা : বাংলা
সম্পাদক: ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের যুদ্ধে ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করে সম্রাট বাবরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুস্থানের ইতিহাসে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী সাম্রাজ্য—ইতিহাসের পাতায় যা ‘মোগল সাম্রাজ্য’ নামে চির ভাস্বর হয়ে আছে। হিন্দুস্থানের... আরো পড়ুন
পরিমাণ

255  350 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

16 রিভিউ এবং রেটিং - সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির

4.9
Based on 16 reviews
5 star
87%
4 star
12%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    Jebon Mahmud:

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    📚বই:আমিরুল মুমিনিন উমর
    ইবনুল খাত্তাব।
    ধরন: জীবনী ও কীর্তি ।
    ✍লেখক:শায়খ আলি মুহাম্মদ
    সাল্লাবি।
    ⌨অনুবাদক:কাজী আবুল কালাম
    সিদ্দিক।
    🧾প্রচ্ছদ: শাহ ইফতেখার তারিখ।
    🖨প্রকাশানী:কালান্তর প্রকাশনী।
    📂পৃষ্ঠা সংখ্যা:প্রথম খন্ড
    ৪৯৬,দ্বিতীয় খন্ড ৫৭৬।
    💷₹মুদ্রিত মূল্য:১ম খন্ড ৪৮০,২য়
    খন্ড ৫২০।

    রাসূলুল্লাহ (স) জন্মের ১৩ বছর পর ‘আবু হাফস’ নামক একটি ছেলের পিতা হন খাত্তাব ইবনে নুফাইল। কে এই ‘আবু হাফস’ ? এই ‘আবু হাফস’ হলেন, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) জলিলে কদর সাহাবী আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) । হযরত উমর (রাঃ) এর বাবা খাত্তাব ইবনে নুফাইল ছিলেন কুরাইশ বংশের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁর মায়ের নাম হানতামা বিনতে হাশিম ইবনে মুগিরা। তিনি ছিলেন আবু জাহল ইবনে হিশামের চাচাতো বোন।উল্লেখ্য যুবক বয়সে হযরত উমর রাসূল (সাঃ) হত্যা কে হত্যার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন কিন্তু আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাকে হেদায়েত দান করেন এজন্য তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হেদায়েত কামনা করে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করেছিলেন। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত : রাসুল (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি উমর অথবা আবু জাহেলের মাধ্যমে ইসলামের মর্যাদা সমুন্নত করুন।’ প্রত্যুষেই হজরত উমর নবী (সা.)-এর দরবারে হাজির হয়ে ইসলাম কবুল করেন, অতঃপর (সর্বপ্রথম) প্রকাশ্যে হারাম শরিফে নামাজ আদায় করেন। (তিরমিজি) ইসলাম গ্রহণ পরবর্তীতে কাফের মুশরিকদের বিরুদ্ধে এক অবিচল নাম হয়ে ওঠেন হযরত উমর।আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর মৃত্যুর পর তিনি দ্বিতীয় খলীফা হিসেবে দায়িত্ব নেন। উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ ছিলেন। ন্যায়ের পক্ষাবলম্বন করার কারণে তাকে আল-ফারুক (সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী) উপাধি দেওয়া হয়। আমীরুল মু’মিনীন উপাধিটি সর্বপ্রথম তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা) তার সম্পর্কে বলেন, ‘আমার পরে যদি কেউ নবী হতেন, তবে তিনি উমর বিন খাত্তাবই হতেন।’ (মিশকাত )রাসুল (সা.) আরো বলেছেন, ‘হে উমর! নিশ্চয়ই শয়তান তোমাকে ভয় পায়। (তিরমিজি)প্রখ্যাত সাহাবী মুগীরা ইবন শু’বার (রা) অগ্নি উপাসক দাস আবু লুলু ফিরোজ ফজরের নামাযে দাড়ানো অবস্থায় এ মহান খলিফাকে ছুরিকাঘাত করে। আহত হওয়ার তৃতীয় দিনে হিজরী ২৩ সনের ২৭শে জিলহজ্জ বুধবার তিনি ইন্তেকাল করেন।হযরত সুহায়িব জানাজার নামাজ পড়ান। রওজায়ে নববীর মধ্যে হযরত সিদ্দিকে আকবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তাঁর খিলাফতকাল দশ বছর ৬ মাস ৪ দিন।

    পাঠ অনুভূতি: বইটি যখন আমি পড়ছিলাম তখন আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন তাকে সরাসরি দেখছি। অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করেছি আর ভেবেছি আহ যদি উমরের মতো শাসক এখন থাকতো তাহলে মুসলমান রা আজ মার খেতোনা।

    লেখার মান: লেখকের লেখার মান ছিলো অসম্ভব সুন্দর। ড. সাল্লাবি সবথেকে বিশুদ্ধ উৎস থেকে বইটি লিখেছেন। আল্লাহ লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন, ‘আমিন’।

    অনুবাদের মান: আবুল কালাম সিদ্দিক ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। তার অনুবাদ সবার থেকে ভিন্ন। মাশাল্লাহ অনেক ভালো কাজ করেছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম জাজা দান করুক।

    ছাপা ও বাঁধায়: ছাপা ও বাধায় মন কাড়ার মতো ছিলো। তেমন দোষ ত্রুটি নজরে আসেনি।

    বইটি কেন প্রয়োজনীয়? : কীভাবে অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষটি ইসলামী আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে গেলেন? কেমন করে তিনি তাঁর শাসন ব্যবস্থা কেমন ইসলামের পতাকা পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং কিভাবে অর্ধ জাহানের খলিফা হয়েছিলেন? জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবি রচিত এই বইটি।পরিশেষে বলতে চাই ড. আলি মুহাম্মদ সাল্লাবির লেখা উমর (রা:) এর জীবনী সম্বলিত বইটি প্রত্যেক মুসলমানের ঘরে ঘরে পৌছে যাক। এমন সুন্দর একটি বই পাঠকের সমীপে উপস্থাপন করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বইয়ের লেখক, অনুবাদক, প্রকাশক সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কবুল করুন এবং ইসলামের জন্য আরও অধিক পরিমাণে কাজ করার তাওফিক দিন, আমিন।

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    Niloy Imran:

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    আসসালামু আলাইকুম

    ✪ বই পরিচিতি :-

    নাম : সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক : ফাহাদ আবদুল্লাহ
    ধরণ : ইতিহাস ঐতিহ্য ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব
    সম্পাদক : আবদুর রশীদ তারাপাশী
    প্রকাশনা : কালান্তর প্রকাশনী
    প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ
    পৃষ্ঠা : ২৪০
    মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ ৳

    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির –
    মোগল সাম্রাজ্যের এক ন্যায়পরায়ণ শাসকের নাম।
    মোগল সাম্রাজ্যের ভিত গঠনে যিনি দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতা ও দুরদর্শী বিচক্ষণতা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং সামরিক প্রতিভায় মোগল সাম্রাজ্য পেয়েছিল এক নতুন অধ্যায়। মোগল সাম্রাজ্যকে নতুনত্ব দান করায় তিনি বরেণ্য ব্যক্তিদের দ্বারা প্রশংসিতও হয়েছেন বারবার। কুরআনের অনুলিপি এবং দাক্ষিণাত্য ও গুজরাটের সুবেদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। হাতির লড়াইয়ে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ভূষিত হন ‘ বাহাদুর ‘ খেতাবে। অসীম সাহসিকতা ও তাকওয়াপূর্ণ ছিল তার জীবনব্যবস্থা। আজীবন তিনি ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে গেছেন।

    ✪ বই সম্পর্কে :-

    দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির – বইটি লিখেছেন ফাহাদ আবদুল্লাহ। তরুণ লেখকের কলম হতে চমৎকার শব্দের ফুলঝুরি ঝড়ে পড়েছে বইটির প্রতি কলেবরে। লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ পরম যত্ন ও তীক্ষ্ম মেধা খাটিয়ে বইটিতে তুলে ধরেছেন সুলতানের বীরত্বপূর্ণ জীবনগাথা। বইটিতে সুলতানের জন্ম,বেড়ে উঠা থেকে শুরু করে সিংহাসনারোহণের প্রেক্ষাপটসহ আমৃত্যু তার সংগ্রামী জীবন সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
    মোট পাঁচটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে লিখিত এই বইটা। প্রতিটি অধ্যায় আবার পরিচ্ছেদ আকারে বিভক্ত বইটির প্রচ্ছদ ও বাইন্ডিং মাশাআল্লাহ। দেখলেই মনপ্রাণ শীতল হয়ে যায়। পড়ার জন্য মন অস্থির হয়ে পড়ে। একের পর এক ঘটনাবিন্যাস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে জেগে উঠে, যেকারণে শুধু পড়তেই মন চায়। হৃদয়ে ধারণ করে নিতে ইচ্ছে হয় সুলতানের জীবনাদর্শ থেকে পাওয়া নির্দেশনাসমূহ।

    ✪ পাঠ প্রতিক্রিয়া :-

    ‘সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির ‘ বইটি সকলের কাছেই ভালো লাগার মতো। আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছি বইটি পড়ে। ইতিহাসকে এতটা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই অনেক বুদ্ধিমত্তার কাজ। বইটির শব্দবিন্যাস যথেষ্ট সুন্দর। এত সুন্দরভাবে ইতিহাসকে তুলে ধরা কোনো সহজসাধ্য কাজ নয়। ইতিহাসকে সহজ ভাবে জানার জন্য এই বইটি অনেকটাই কার্যকর।
    বইটি পড়ে সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সম্পর্কে যথাযথ ধারণা লাভ করতে পেরেছি। পূর্বে যে সকল সংশয় ছিল তা দূর হয়ে গিয়েছে। বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠাই হৃদয়ে ধারণ করার মতো। বইটি পড়ার মাধ্যমে সুলতানের বীরত্বপূর্ণ জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অভূতপূর্ব ধারণা লাভ করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।

    ✪ বইটি কেন পড়া উচিত :-

    অসীম সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার প্রতীক সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানতে এবং সুলতানের বীরত্ব ও তাকওয়াপূর্ণ জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে বইটি পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সুলতান সম্পর্কে পুর্বে যেসকল মিথ্যাচার আমরা শুনে এসেছি তার সঠিক জবাব পাবেন এই বইটিতে। কিছু হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ সুলতানের নামে মিথ্যাচার করেছেন। তারা তিলকে তাল বানিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন ইতিহাসের পাতায় পাতায়।সুলতানকে বারবার কলঙ্কিত করতে চেয়েছেন । এইসব হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদদের মিথ্যাচারের কঠোর জবাব দেয়া হয়েছে এই বইটিতে। সুলতানের সাহসিকতা ও দুরদর্শী বিচক্ষণতা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত হওয়া যাবে বইটির প্রতিটি কলেবরে চোখ বুলিয়ে।

    ✪ ইতিকথা :-

    বইটি সম্পর্কে কি বলে ইতির রেখা টানবো সেই ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা আসলে। ইতিহাসকে এতটা সুন্দর ও সাবলীল ভাষা এবং গঠনবিন্যাসে সাজিয়ে তোলা সত্যিই দুরূহ একটা কাজ। ইতিহাসের এক নতুন স্বাদ পাওয়া যায় বইটিতে চোখ রেখে । হৃদয়ে আসে নতুন উদ্যম, নতুন প্রানচাঞ্চল্যতা।

    সবশেষে বলব যে, ন্যায় ও ইনসাফপুর্ণ সমাজ ও জাতিগঠনে বইটি হতে যথাযথ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য বইটির প্রতিটি কলেবরে চোখ বুলিয়ে নিন। হৃদয়ে গেঁথে নিন বইটির মাধুর্যতা..।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    Niloy Imran:

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    আসসালামু আলাইকুম

    ✪ বই পরিচিতি :-

    নাম : সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক : ফাহাদ আবদুল্লাহ
    ধরণ : ইতিহাস ঐতিহ্য ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব
    সম্পাদক : আবদুর রশীদ তারাপাশী
    প্রকাশনা : কালান্তর প্রকাশনী
    প্রচ্ছদ : আবুল ফাতাহ
    পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২৪০
    মুদ্রিত মূল্য : ৩০০ ৳

    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির –
    মোগল সাম্রাজ্যের এক ন্যায়পরায়ণ শাসকের নাম।
    মোগল সাম্রাজ্যের ভিত গঠনে যিনি দেখিয়েছেন অসীম সাহসিকতা ও দুরদর্শী বিচক্ষণতা। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং সামরিক প্রতিভায় মোগল সাম্রাজ্য পেয়েছিল এক নতুন অধ্যায়। মোগল সাম্রাজ্যকে নতুনত্ব দান করায় তিনি বরেণ্য ব্যক্তিদের দ্বারা প্রশংসিতও হয়েছেন বারবার। কুরআনের অনুলিপি এবং দাক্ষিণাত্য ও গুজরাটের সুবেদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। হাতির লড়াইয়ে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ভূষিত হন ‘ বাহাদুর ‘ খেতাবে। অসীম সাহসিকতা ও তাকওয়াপূর্ণ ছিল তার জীবনব্যবস্থা। আজীবন তিনি ন্যায়ের পক্ষে কাজ করে গেছেন।

    ✪ বই সম্পর্কে :-

    দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির – বইটি লিখেছেন ফাহাদ আবদুল্লাহ। তরুণ লেখকের কলম হতে চমৎকার শব্দের ফুলঝুরি ঝড়ে পড়েছে বইটির প্রতি কলেবরে। লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ পরম যত্ন ও তীক্ষ্ম মেধা খাটিয়ে বইটিতে তুলে ধরেছেন সুলতানের বীরত্বপূর্ণ জীবনগাথা। বইটিতে সুলতানের জন্ম,বেড়ে উঠা থেকে শুরু করে সিংহাসনারোহণের প্রেক্ষাপটসহ আমৃত্যু তার সংগ্রামী জীবন সম্বন্ধে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে।
    মোট পাঁচটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে লিখিত এই বইটা। প্রতিটি অধ্যায় আবার পরিচ্ছেদ আকারে বিভক্ত বইটির প্রচ্ছদ ও বাইন্ডিং মাশাআল্লাহ। দেখলেই মনপ্রাণ শীতল হয়ে যায়। পড়ার জন্য মন অস্থির হয়ে পড়ে। একের পর এক ঘটনাবিন্যাস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছে জেগে উঠে, যেকারণে শুধু পড়তেই মন চায়। হৃদয়ে ধারণ করে নিতে ইচ্ছে হয় সুলতানের জীবনাদর্শ থেকে পাওয়া নির্দেশনাসমূহ।

    ✪ পাঠ প্রতিক্রিয়া :-

    ‘সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির ‘ বইটি সকলের কাছেই ভালো লাগার মতো। আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। আমি রীতিমতো হতবাক হয়ে গেছি বইটি পড়ে। ইতিহাসকে এতটা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই অনেক বুদ্ধিমত্তার কাজ। বইটির শব্দবিন্যাস যথেষ্ট সুন্দর। এত সুন্দরভাবে ইতিহাসকে তুলে ধরা কোনো সহজসাধ্য কাজ নয়। ইতিহাসকে সহজ ভাবে জানার জন্য এই বইটি অনেকটাই কার্যকর।
    বইটি পড়ে সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সম্পর্কে যথাযথ ধারণা লাভ করতে পেরেছি। পূর্বে যে সকল সংশয় ছিল তা দূর হয়ে গিয়েছে। বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠাই হৃদয়ে ধারণ করার মতো। বইটি পড়ার মাধ্যমে সুলতানের বীরত্বপূর্ণ জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অভূতপূর্ব ধারণা লাভ করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ।

    ✪ বইটি কেন পড়া উচিত :-

    অসীম সাহসিকতা ও বিচক্ষণতার প্রতীক সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জানতে এবং সুলতানের বীরত্ব ও তাকওয়াপূর্ণ জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে বইটি পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সুলতান সম্পর্কে পুর্বে যেসকল মিথ্যাচার আমরা শুনে এসেছি তার সঠিক জবাব পাবেন এই বইটিতে। কিছু হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদ সুলতানের নামে মিথ্যাচার করেছেন। তারা তিলকে তাল বানিয়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন ইতিহাসের পাতায় পাতায়। সুলতানকে বারবার কলঙ্কিত করতে চেয়েছেন। এইসব হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসবিদদের মিথ্যাচারের কঠোর জবাব দেয়া হয়েছে এই বইটিতে। পাশাপাশি সুলতানের সাহসিকতা ও দুরদর্শী বিচক্ষণতা সম্বন্ধে সুস্পষ্টভাবে অবগত হওয়া যাবে বইটির প্রতিটি কলেবরে চোখ বুলিয়ে।

    ✪ ইতিকথা :-

    বইটি সম্পর্কে কি বলে ইতির রেখা টানবো সেই ভাষা খুঁঁজে পাচ্ছিনা আসলে। ইতিহাসকে এতটা সুন্দর ও সাবলীল ভাষা এবং গঠনবিন্যাসে সাজিয়ে তোলা সত্যিই দুরূহ একটা কাজ। ইতিহাসের এক নতুন স্বাদ পাওয়া যায় বইটিতে চোখ রেখে। হৃদয়ে আসে নতুন উদ্যম, নতুন প্রাণচাঞ্চল্যতা।

    সবশেষে বলব যে, ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ ও জাতিগঠনে বইটি হতে যথাযথ শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য বইটির প্রতিটি কলেবরে চোখ বুলিয়ে নিন। হৃদয়ে গেঁথে নিন বইটির মাধুর্যতা।

    সুমিষ্ট মধুরতায় পূর্ণ হবে আপনার জীবন – ইন শা আল্লাহ..।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    MD BASHIR AHAMED:

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    বই: দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার: আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রথম প্রকাশ: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    পৃষ্ঠা: ২৩৭
    মূল্য: ৳ ৩০০
    প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ
    প্রকাশক: কালান্তর প্রকাশনি

    ইসলামের ইতিহাসে অনেকগুলো সালতানাত বা সাম্রাজ্য গত হয়েছে। আবার ঐ সমস্ত সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে, পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক রাজা, বাদশা বা সুলতানরাও গত হয়েছেন। ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচে’ প্রতাপশালী যেই সাম্রাজ্যের নাম সর্বাগ্রে আমাদের সামনে আসে সেটা হচ্ছে ‘মোগল সাম্রাজ্য’। আর সেই মোগল সাম্রাজ্যের সবচে’ প্রতাপশালী যেই সুলতানের নাম আমাদের স্মরণে আসে তিনি হচ্ছেন সুলতান ‘আওরঙ্গজেব আলমগির’। প্রায় ৪০ লাখ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল যাঁর সালতানাত। সুদীর্ঘ ৫১ বছর যিনি রাজ্য পরিচালনা করেছেন ন্যায়-নীতি আর ইনসাফের সহিত। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সংক্ষেপে কিন্তু অত্যন্ত নির্মোহ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে। সেই সাথে সুলতানের বিরুদ্ধে করা মুসলিম বিদ্বেষী শিয়া ইতিহাসবিদ, ইংরেজ এবং হিন্দু ইতিহাসবিদ, এবং প্রাচ্যবিদদের জঘণ্য সব অপবাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়েছে।

    আমরা ছোটবেলা থেকে সুলতান আওরঙ্গজেব সম্পর্কে জেনে এসেছি বা আমাদেরকে জানানো হয়েছে তিনি ছিলেন জুলুমবাজ, কট্টর ক্ষমতালোভি, ভ্রাতৃ-হন্তারক, হিন্দু বিদ্বেষী, মূর্তি ধ্বংসকারী, এমনকি সাম্রাজ্যের সুলতান হবার জন্য তিনি নিজের পিতাকেও বন্দি করে রেখেছিলেন। সেই সাথে এটাও জেনে এসেছি তিনি একজন আলেম এবং সেই সাথে কুরআনের হাফেজও ছিলেন। তিনি শরিয়া আইন দ্বারা সাম্রাজ্য তথা তৎকালিন ভারতবর্ষ পরিচালনা করতেন। কিন্তু তখনও পর্যন্ত এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে, একজন আলেম-হাফেজ হয়ে তিনি কিভাবে ক্ষমতার জন্য নিজের ভাইদেরকে হত্যা করলেন, বাবাকে গৃহবন্দি করলেন, কেন হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষবশত মূর্তি বিনষ্টকারী ছিলেন! সেই হত্যা, বন্দি বা মূর্তি বিনষ্টের পেছনের রহস্য তখনও পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারিনি। বক্ষ্যমাণ ‘সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির’ গ্রন্থটি সেই সব রহস্যের জট উন্মোচন করেছে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে।

    ♦বিস্তারিত পর্যালোচনা:
    উক্ত গ্রন্থটিকে পড়া এবং বুঝার সুবিধার্থে লেখক বইটিকে মোট পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। সেই অধ্যায়গুলো আবার কতগুলো ছোট ছোট শিরোনামে পরিচ্ছেদ আকারে বিভক্ত করেছেন।

    প্রথম অধ্যায় ‘‘জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং সিংহাসনে আরোহন’’ শিরোনামে লেখক আলোচনা করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরের জন্ম থেকে নিয়ে সুবেদার হওয়ার পর বিভিন্ন বিজয়াভিযানে তাঁর কৃতিত্বের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে দাক্ষিণাত্যের সুবেদারিতে প্রভূত উন্নতিসাধন এবং পরবর্তিতে বলখ ও বাদাখশান যুদ্ধে সেনাপতি হিসেবে নিযুক্তি এবং সফলতা। সেই সাথে কান্দাহার ও পারসিকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যর্থতার দিকগুলোও লেখক অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সহিত বর্ণনা করেছেন।

    দ্বিতীয় অধ্যায় ‘‘সিংহাসনে আরোহন এবং ইন্তিকাল পর্যন্ত শাসন’’ শিরোনামে লেখক আলোকপাত করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরের জীবনকালের সবচে’ সেরা এবং কৌশলি দিকগুলো। বিশেষত সুলতান শাহজাহানের জেষ্ঠ্য পুত্র দারাশিকো যখন সুলতান শাহজাহানের অসুস্থতা এবং দুর্বলতার সুযোগে সিংহাসনের পথে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তখন কিভাবে শাহজাদা আওরঙ্গজেব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত দারাকে হটিয়ে সিংহাসনে আরোহন করার পূর্বে অপারগতাবশত ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন, ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধের চূড়ান্ত রূপ ঘটিয়েছিলেন, ভ্রাতৃঘাতি বিরোধ ও বোঝাপড়া সমাপ্ত করেছিলেন, সেই সাথে পিতার ইন্তেকালের পর সর্বমহলের সমর্থন আদায় করে সুলতান হিসেবে রাজ্যাভিষেক ঘটিয়েছিলেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের নবীন লেখক অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মীর সহিত আলোচনা করেছেন। সুলতান হওয়ার পর আওরঙ্গজেব কিভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন, সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী গোত্র ইউসুফজাই, খাইবার ও আফ্রিদি গোত্রসমূহের বিদ্রোহ নির্মূলে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন; সৎনামি, জাট, শিখ ও রাজপুতদের বিদ্রোহ কিভাবে সফলতার সহিত মোকাবিলা করেছেন, মারাঠাদের বিদ্রোহ কিভাবে দমন করেছেন, বিশেষ করে মারাঠা নেতা শিবাজির চক্রান্ত-ছলছাতুরি কিভাবে কৌশলে দমন করেছেন তা-ও উল্লেখ করেছেন।

    তৃতীয় অধ্যায় ‘‘সুলতানের ইন্তেকাল, চারিত্রিক অবস্থা, অসিয়ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব ও অবদান’’ শিরোনামে আলোকপাত করা হয়েছে সুলতানের অন্তিমমুহূর্ত ও ইন্তেকালের ঘটনা, সুলতানের জীবনসাধনা, ধৈর্য ও সহনশীলতা, জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ, সাধারণ জীবনযাপন, তাকওয়া ও খোদাভীতি, উদারতা ও মহানুভবতা, সাম্রাজ্যের উন্নতির বিভিন্ন দিক। সেই সাথে হিজরি ক্যালেন্ডার প্রবর্তন ও মন্দির ভাঙার অপবাদ এবং হিন্দুদের উপর জিজয়া-কর আরোপের অপবাদের জবাব লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন।

    চতুর্থ অধ্যায় ‘‘আওরঙ্গজেবের মৃত্যুপরবর্তী উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াই এবং সাম্রাজ্যের পতনের ঘনঘটা’’ শিরোনামে লেখক আলোচনা করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেবের সন্তানদের মধ্যকার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াইয়ের দুঃখজনক ঘটনা। সেই সাথে ১৪ শতকের দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনু খালদুনের মোকাদ্দিমার মূলনীতির কথা তুলে ধরেছেন- ‘যখন কোনো জাতি বা সভ্যতা উন্নতির শিখরে পৌঁছে যায়, তখন তার পতনও অনিবার্য হয়ে ওঠে।’ আর বাস্তবিকপক্ষেই সুলতান আওঙ্গজেব আলমগিরের শাসনকাল ছিল প্রকৃতার্থেই মোগল সাম্রাজ্যের উন্নতির সময়। যার ফলে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁর সন্তানদের সময়েই এর পতনের ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়।

    পঞ্চম অধ্যায় ‘‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় সুলতান আওরঙ্গজেব’’ শিরোনামে লেখক সুলতানের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের অভিযোগ-আপত্তি খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের রেফারেন্সের ভিত্তিতেই। বিশেষ করে ইংরেজ লেখক লেনপুল, শিয়া লেখক খাফি খান এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদি লেখক যদুনাথ প্রমুখের করা সুলতানের উপর বিভিন্ন অপবাদ আপত্তির জবাবগুলো হিন্দু লেখক ওম প্রসাদসহ অনেক মুসলিম ঐতিহাসিকদের নিরপেক্ষ লেখার মাধ্যমেই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের লেখক খন্ডন করেছেন।

    পরিশেষে লেখক ‘‘একনজরে সুলতান আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য’’ এবং একনজরে আওরঙ্গজেবের পরিচিতি তুলে ধরেছেন যা যেকোনো পাঠকের জন্য জানা অনেক উপকারি বলে মনে করছি।

    ♦ভালো লাগার একটি বিষয়:
    মোগল সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সুদীর্ঘ ৫১ বছর সিংহাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই শাসনকালেই তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেছিলেন, সেই সাথে শরয়ি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য যোগ্য আলিমদের নিয়ে ইসলামি আইনশাস্ত্রের উপর ‘‘ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি’’ রচনা করেছিলেন। যা সারা বিশ্বে সমাদৃত এবং ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া নামেও পরিচিত।

    ♦গ্রন্থটির আলোচনা-সমালোচনা:
    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরকে নিয়ে সংক্ষেপে এমন তথ্যবহুল বই বাংলা ভাষায় আর দ্বিতীয়টি আছে বলে আমার মনে হয় না। বিশ্লেষণাত্বক তত্ত্ব-উপাত্ত এবং তথ্যের বিপুল সমাহারে লিখিত একটি গ্রন্থ বলে আমি মনে করছি। সুলতানের উপর করা ইংরেজ, হিন্দু এবং শিয়া ঐতিহাসিকদের প্রতিটি অভিযোগের যুক্তি খন্ডন আলাদা আলাদা রেফারেন্সের সহিত লেখক তুলে ধরেছেন। যেকোনো পাঠকের জন্যই গ্রন্থটি একটি নিরপেক্ষ গ্রন্থ হবে বলে আশা করছি।

    বইয়ের বাঁধাই, পেইজ এবং লেখার মান নিঃসন্দেহে দেখার মত। তবে বইয়ের প্রচ্ছদ আমার ভালো লাগেনি। যদিও ছবিতে অনেক সুন্দর লেগেছিল, কিন্তু বাস্তবে আমার কাছে ততটা সুন্দর লাগছে না।

    ♦রেটিং: ৪/৫

    ♦লেখক পরিচিতি:
    সমকালীন তরুণদের মধ্যে যারা স্বল্পসময়ে বড়দের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন, ফাহাদ আবদুল্লাহ তাদের একজন। আসলাম রাহির ‘‘দ্য মার্টায়ার লিডার’’ বইয়ের অনুবাদ করে লেখালেখির অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির তাঁর প্রথম মৌলিক গ্রন্থ। প্রতিভাবান এই তরুণের জন্ম ফেনী জেলায়। ফেনীর প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া মাদানিয়া, সিলোনিয়ায় দীনি শিক্ষার হাতেখড়ি। তারপর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিনগর ও জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি থেকে উপরের শ্রেণীগুলোর পাঠ চুকান। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা প্রতিশ্রুতিশীল এই তরুণ ইতিহাস নিয়ে পড়তে ও লিখতে ভালোবাসেন। সে সূত্র ধরেই তাঁর আওরঙ্গজেব আলমগির গ্রন্থটি। আল্লাহ তাঁর নেক মাকসাদ পুরা করুন, হায়াতে বরাকাহ দান করুন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    MD. SAIDUL ISLAM:

    “দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার”

    ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দীর্ঘমেয়াদি মুসলিম শাসনব্যবস্থা ছিল মোগল সাম্রাজ্য। ভাষা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, স্থাপত্য, পোশাক অথবা খাবার-দাবার প্রতিটা বিষয়েই মোগলদের অবদান অনস্বীকার্য। সম্রাট বাবরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই সাম্রাজ্যের। বাবর, হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির। তিনি সুদীর্ঘ ৫১ বছর সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও আলোচিত শাসক। মোগল সম্রাট হিসেবে আওরঙ্গজেবের শাসনা আমলে বিভিন্ন যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার লাভ করে। সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন কাটিয়েছেন। তিনি টুপি এবং নিজের হাতের লিখা কুরআন বিক্রি করতেন আর রাজ্যের সম্পদ স্পর্শ করতেন না। তার আমলে তার পূর্বসূরীদের তুলনায় মোগল প্রশাসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক হিন্দু কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছিল। মহান এই শাসক তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক সাহসিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। হাতির সাথে একাই লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার পর যখন তাঁর পিতা শাহজাহান তাঁর দুঃসাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন তখন আওরঙ্গজেব বলেন-

    “এই লড়াইয়ে যদি আমি মরেও যেতাম, তথাপি ভীত হয়ে পালানোর চেয়ে ভালোই ছিল। এটা আমার গৌরবের মৃত্যুই হতো।”

    মোগল সাম্রাজ্যের মহানায়ক, মহান সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরকে নিয়ে ইংরেজদের গোলাম কিছু ইতিহাসবিদ নানা অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের সেই অপবাদের জবাব আর মহান এই নেতার জীবনী বাংলায় খুব একটা পাওয়া যায় না। তরুণ লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ তাঁর বইয়ে চেষ্টা করেছেন এই মহান সুলতানের জীবনী তুলে ধরতে। যা কালান্তর প্রকাশনী থেকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।

    বইটি যেভাবে সাজানো-

    লেখক বইটিকে পাঁচটি অধ্যায় ও প্রতিটি অধ্যায়কে বেশ কিছু পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন।
    লেখক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে সকল দিক আলোচনা করেছেন।

    ১ম অধ্যায়:
    সুলতানের জন্ম থেকে মোগল সালতানাতের সিংহাসনে আরোহণের আগে পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ বছরের বিবরণ।

    ২য় অধ্যায়:
    সিংহাসনে আরোহণের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সুলতানের ইনতিকাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৫০ বছরের শাসনামলের ইতিহাস।

    ৩য় অধ্যায়:
    সুলতানের মৃত্যু, চারিত্রিক অবস্থা, অসীয়ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    ৪র্থ অধ্যায়:
    সুলতানের মৃত্যু পরবর্তী সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

    ৫ম অধ্যায়:
    মজলুম সুলতানের ওপর করা আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া এবং সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে।
    সবশেষে কালনির্ঘন্ট ও পরিশিষ্ট বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

    বইটির ভাল দিক-

    লেখক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে অতি অল্প কথায় সকল দিক খুব ভাল ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগের পেছনের মূল কারণ আলোচনা করায় পাঠকের বুঝতে সুবিধা হবে। বইয়ের প্রথম দিকের মানচিত্র, একনজরে সুলতান আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য, কাল-নির্ঘন্ট, একনজরে আওরঙ্গজেবে-পরিচিতি এই অংশগুলো বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছে। যা যে কোনো পাঠককে খুব সহজেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মনে রাখতে সাহায্য করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ইতিহাস ও সাম্রাজ্য নির্ভর বইগুলোতে মানচিত্র দেয়া প্রয়োজন, আর এই বইটিতে তা দেয়ার ফলে বুঝতে অনেক সহজ হয়েছে। তাছাড়া লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় যে তথ্যগুলো দিয়েছেন এর মাধ্যমে অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, বিভিন্ন বই ও লেখকের নাম। সাধারণ পাঠক হিসেবে বইটি পড়তে গিয়ে এর বানান ও ভাষারীতিতে তেমন কোনো ভুল পরিলক্ষিত হয়নি। কালান্তর প্রকাশনীর ইতিহাস নির্ভর মৌলিক বইগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা একটি বই। এককথায় বইটি কালান্তরের সেরা একটি কাজ।

    বইটি পড়া কেন প্রয়োজন-

    মুসলিম উম্মাহর সোনালী অতীত ও সত্য ইতিহাস জানার জন্য বইটি সকলের পড়া উচিৎ। কিভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের গৌরবময় ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে তা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে এই বই থেকে। সত্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের গড়ার জন্য বইটি সহায়ক হবে।

    বইয়ের নাম: আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রকাশনী: কালান্তর প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্য: ৩০০৳
    প্রকাশকাল: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top