মেন্যু
sultan aorongojeb alomgir

সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির

পৃষ্ঠা : 240, কভার : হার্ড কভার
সম্পাদক: আবদুর রশীদ তারাপাশী ১৫২৬ খ্রিষ্টাব্দে পানিপথের যুদ্ধে ইবরাহিম লোদিকে পরাজিত করে সম্রাট বাবরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুস্থানের ইতিহাসে সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী সাম্রাজ্য—ইতিহাসের পাতায় যা ‘মোগল সাম্রাজ্য’ নামে চির ভাস্বর... আরো পড়ুন

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

16 রিভিউ এবং রেটিং - সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির

4.9
Based on 16 reviews
5 star
87%
4 star
12%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
Showing 14 of 16 reviews (5 star). See all 16 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    MD BASHIR AHAMED:

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    বই: দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার: আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রথম প্রকাশ: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    পৃষ্ঠা: ২৩৭
    মূল্য: ৳ ৩০০
    প্রচ্ছদ: আবুল ফাতাহ
    প্রকাশক: কালান্তর প্রকাশনি

    ইসলামের ইতিহাসে অনেকগুলো সালতানাত বা সাম্রাজ্য গত হয়েছে। আবার ঐ সমস্ত সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে, পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক রাজা, বাদশা বা সুলতানরাও গত হয়েছেন। ভারতবর্ষের ইতিহাসে সবচে’ প্রতাপশালী যেই সাম্রাজ্যের নাম সর্বাগ্রে আমাদের সামনে আসে সেটা হচ্ছে ‘মোগল সাম্রাজ্য’। আর সেই মোগল সাম্রাজ্যের সবচে’ প্রতাপশালী যেই সুলতানের নাম আমাদের স্মরণে আসে তিনি হচ্ছেন সুলতান ‘আওরঙ্গজেব আলমগির’। প্রায় ৪০ লাখ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল যাঁর সালতানাত। সুদীর্ঘ ৫১ বছর যিনি রাজ্য পরিচালনা করেছেন ন্যায়-নীতি আর ইনসাফের সহিত। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি সংক্ষেপে কিন্তু অত্যন্ত নির্মোহ ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই তাঁর সম্পর্কে লেখা হয়েছে। সেই সাথে সুলতানের বিরুদ্ধে করা মুসলিম বিদ্বেষী শিয়া ইতিহাসবিদ, ইংরেজ এবং হিন্দু ইতিহাসবিদ, এবং প্রাচ্যবিদদের জঘণ্য সব অপবাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়েছে।

    আমরা ছোটবেলা থেকে সুলতান আওরঙ্গজেব সম্পর্কে জেনে এসেছি বা আমাদেরকে জানানো হয়েছে তিনি ছিলেন জুলুমবাজ, কট্টর ক্ষমতালোভি, ভ্রাতৃ-হন্তারক, হিন্দু বিদ্বেষী, মূর্তি ধ্বংসকারী, এমনকি সাম্রাজ্যের সুলতান হবার জন্য তিনি নিজের পিতাকেও বন্দি করে রেখেছিলেন। সেই সাথে এটাও জেনে এসেছি তিনি একজন আলেম এবং সেই সাথে কুরআনের হাফেজও ছিলেন। তিনি শরিয়া আইন দ্বারা সাম্রাজ্য তথা তৎকালিন ভারতবর্ষ পরিচালনা করতেন। কিন্তু তখনও পর্যন্ত এটা কল্পনাও করতে পারিনি যে, একজন আলেম-হাফেজ হয়ে তিনি কিভাবে ক্ষমতার জন্য নিজের ভাইদেরকে হত্যা করলেন, বাবাকে গৃহবন্দি করলেন, কেন হিন্দুদের প্রতি বিদ্বেষবশত মূর্তি বিনষ্টকারী ছিলেন! সেই হত্যা, বন্দি বা মূর্তি বিনষ্টের পেছনের রহস্য তখনও পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারিনি। বক্ষ্যমাণ ‘সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির’ গ্রন্থটি সেই সব রহস্যের জট উন্মোচন করেছে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে।

    ♦বিস্তারিত পর্যালোচনা:
    উক্ত গ্রন্থটিকে পড়া এবং বুঝার সুবিধার্থে লেখক বইটিকে মোট পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করেছেন। সেই অধ্যায়গুলো আবার কতগুলো ছোট ছোট শিরোনামে পরিচ্ছেদ আকারে বিভক্ত করেছেন।

    প্রথম অধ্যায় ‘‘জন্ম ও বেড়ে ওঠা এবং সিংহাসনে আরোহন’’ শিরোনামে লেখক আলোচনা করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরের জন্ম থেকে নিয়ে সুবেদার হওয়ার পর বিভিন্ন বিজয়াভিযানে তাঁর কৃতিত্বের বিভিন্ন দিক, বিশেষ করে দাক্ষিণাত্যের সুবেদারিতে প্রভূত উন্নতিসাধন এবং পরবর্তিতে বলখ ও বাদাখশান যুদ্ধে সেনাপতি হিসেবে নিযুক্তি এবং সফলতা। সেই সাথে কান্দাহার ও পারসিকদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ব্যর্থতার দিকগুলোও লেখক অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সহিত বর্ণনা করেছেন।

    দ্বিতীয় অধ্যায় ‘‘সিংহাসনে আরোহন এবং ইন্তিকাল পর্যন্ত শাসন’’ শিরোনামে লেখক আলোকপাত করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরের জীবনকালের সবচে’ সেরা এবং কৌশলি দিকগুলো। বিশেষত সুলতান শাহজাহানের জেষ্ঠ্য পুত্র দারাশিকো যখন সুলতান শাহজাহানের অসুস্থতা এবং দুর্বলতার সুযোগে সিংহাসনের পথে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তখন কিভাবে শাহজাদা আওরঙ্গজেব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত দারাকে হটিয়ে সিংহাসনে আরোহন করার পূর্বে অপারগতাবশত ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধের সূচনা করেছিলেন, ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধের চূড়ান্ত রূপ ঘটিয়েছিলেন, ভ্রাতৃঘাতি বিরোধ ও বোঝাপড়া সমাপ্ত করেছিলেন, সেই সাথে পিতার ইন্তেকালের পর সর্বমহলের সমর্থন আদায় করে সুলতান হিসেবে রাজ্যাভিষেক ঘটিয়েছিলেন তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের নবীন লেখক অত্যন্ত বিশ্লেষণধর্মীর সহিত আলোচনা করেছেন। সুলতান হওয়ার পর আওরঙ্গজেব কিভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন, সাম্রাজ্যের সীমান্তবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্রোহী গোত্র ইউসুফজাই, খাইবার ও আফ্রিদি গোত্রসমূহের বিদ্রোহ নির্মূলে কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন; সৎনামি, জাট, শিখ ও রাজপুতদের বিদ্রোহ কিভাবে সফলতার সহিত মোকাবিলা করেছেন, মারাঠাদের বিদ্রোহ কিভাবে দমন করেছেন, বিশেষ করে মারাঠা নেতা শিবাজির চক্রান্ত-ছলছাতুরি কিভাবে কৌশলে দমন করেছেন তা-ও উল্লেখ করেছেন।

    তৃতীয় অধ্যায় ‘‘সুলতানের ইন্তেকাল, চারিত্রিক অবস্থা, অসিয়ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব ও অবদান’’ শিরোনামে আলোকপাত করা হয়েছে সুলতানের অন্তিমমুহূর্ত ও ইন্তেকালের ঘটনা, সুলতানের জীবনসাধনা, ধৈর্য ও সহনশীলতা, জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ, সাধারণ জীবনযাপন, তাকওয়া ও খোদাভীতি, উদারতা ও মহানুভবতা, সাম্রাজ্যের উন্নতির বিভিন্ন দিক। সেই সাথে হিজরি ক্যালেন্ডার প্রবর্তন ও মন্দির ভাঙার অপবাদ এবং হিন্দুদের উপর জিজয়া-কর আরোপের অপবাদের জবাব লেখক অত্যন্ত সাবলীলভাবে তুলে ধরেছেন।

    চতুর্থ অধ্যায় ‘‘আওরঙ্গজেবের মৃত্যুপরবর্তী উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াই এবং সাম্রাজ্যের পতনের ঘনঘটা’’ শিরোনামে লেখক আলোচনা করেছেন সুলতান আওরঙ্গজেবের সন্তানদের মধ্যকার সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার নিয়ে লড়াইয়ের দুঃখজনক ঘটনা। সেই সাথে ১৪ শতকের দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনু খালদুনের মোকাদ্দিমার মূলনীতির কথা তুলে ধরেছেন- ‘যখন কোনো জাতি বা সভ্যতা উন্নতির শিখরে পৌঁছে যায়, তখন তার পতনও অনিবার্য হয়ে ওঠে।’ আর বাস্তবিকপক্ষেই সুলতান আওঙ্গজেব আলমগিরের শাসনকাল ছিল প্রকৃতার্থেই মোগল সাম্রাজ্যের উন্নতির সময়। যার ফলে নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে তাঁর সন্তানদের সময়েই এর পতনের ঘনঘটা শুরু হয়ে যায়।

    পঞ্চম অধ্যায় ‘‘ইতিহাসের কাঠগড়ায় সুলতান আওরঙ্গজেব’’ শিরোনামে লেখক সুলতানের বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের অভিযোগ-আপত্তি খন্ডন করার চেষ্টা করেছেন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের রেফারেন্সের ভিত্তিতেই। বিশেষ করে ইংরেজ লেখক লেনপুল, শিয়া লেখক খাফি খান এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদি লেখক যদুনাথ প্রমুখের করা সুলতানের উপর বিভিন্ন অপবাদ আপত্তির জবাবগুলো হিন্দু লেখক ওম প্রসাদসহ অনেক মুসলিম ঐতিহাসিকদের নিরপেক্ষ লেখার মাধ্যমেই বক্ষ্যমাণ গ্রন্থের লেখক খন্ডন করেছেন।

    পরিশেষে লেখক ‘‘একনজরে সুলতান আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য’’ এবং একনজরে আওরঙ্গজেবের পরিচিতি তুলে ধরেছেন যা যেকোনো পাঠকের জন্য জানা অনেক উপকারি বলে মনে করছি।

    ♦ভালো লাগার একটি বিষয়:
    মোগল সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির সুদীর্ঘ ৫১ বছর সিংহাসনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই শাসনকালেই তিনি কুরআন হেফজ সম্পন্ন করেছিলেন, সেই সাথে শরয়ি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য যোগ্য আলিমদের নিয়ে ইসলামি আইনশাস্ত্রের উপর ‘‘ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি’’ রচনা করেছিলেন। যা সারা বিশ্বে সমাদৃত এবং ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া নামেও পরিচিত।

    ♦গ্রন্থটির আলোচনা-সমালোচনা:
    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরকে নিয়ে সংক্ষেপে এমন তথ্যবহুল বই বাংলা ভাষায় আর দ্বিতীয়টি আছে বলে আমার মনে হয় না। বিশ্লেষণাত্বক তত্ত্ব-উপাত্ত এবং তথ্যের বিপুল সমাহারে লিখিত একটি গ্রন্থ বলে আমি মনে করছি। সুলতানের উপর করা ইংরেজ, হিন্দু এবং শিয়া ঐতিহাসিকদের প্রতিটি অভিযোগের যুক্তি খন্ডন আলাদা আলাদা রেফারেন্সের সহিত লেখক তুলে ধরেছেন। যেকোনো পাঠকের জন্যই গ্রন্থটি একটি নিরপেক্ষ গ্রন্থ হবে বলে আশা করছি।

    বইয়ের বাঁধাই, পেইজ এবং লেখার মান নিঃসন্দেহে দেখার মত। তবে বইয়ের প্রচ্ছদ আমার ভালো লাগেনি। যদিও ছবিতে অনেক সুন্দর লেগেছিল, কিন্তু বাস্তবে আমার কাছে ততটা সুন্দর লাগছে না।

    ♦রেটিং: ৪/৫

    ♦লেখক পরিচিতি:
    সমকালীন তরুণদের মধ্যে যারা স্বল্পসময়ে বড়দের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন, ফাহাদ আবদুল্লাহ তাদের একজন। আসলাম রাহির ‘‘দ্য মার্টায়ার লিডার’’ বইয়ের অনুবাদ করে লেখালেখির অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেছেন। দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির তাঁর প্রথম মৌলিক গ্রন্থ। প্রতিভাবান এই তরুণের জন্ম ফেনী জেলায়। ফেনীর প্রসিদ্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া মাদানিয়া, সিলোনিয়ায় দীনি শিক্ষার হাতেখড়ি। তারপর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিনগর ও জামিয়া ইসলামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ি থেকে উপরের শ্রেণীগুলোর পাঠ চুকান। ইসলামি সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখা প্রতিশ্রুতিশীল এই তরুণ ইতিহাস নিয়ে পড়তে ও লিখতে ভালোবাসেন। সে সূত্র ধরেই তাঁর আওরঙ্গজেব আলমগির গ্রন্থটি। আল্লাহ তাঁর নেক মাকসাদ পুরা করুন, হায়াতে বরাকাহ দান করুন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    MD. SAIDUL ISLAM:

    “দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার”

    ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও দীর্ঘমেয়াদি মুসলিম শাসনব্যবস্থা ছিল মোগল সাম্রাজ্য। ভাষা, সঙ্গীত, চিত্রকলা, স্থাপত্য, পোশাক অথবা খাবার-দাবার প্রতিটা বিষয়েই মোগলদের অবদান অনস্বীকার্য। সম্রাট বাবরের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই সাম্রাজ্যের। বাবর, হুমায়ুন, আকবর, জাহাঙ্গির ও শাহজাহানের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির। তিনি সুদীর্ঘ ৫১ বছর সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, বিচক্ষণ, দূরদর্শী ও আলোচিত শাসক। মোগল সম্রাট হিসেবে আওরঙ্গজেবের শাসনা আমলে বিভিন্ন যুদ্ধের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের সীমানা বহুদূর বিস্তার লাভ করে। সম্রাট হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাধারণ জীবন যাপন কাটিয়েছেন। তিনি টুপি এবং নিজের হাতের লিখা কুরআন বিক্রি করতেন আর রাজ্যের সম্পদ স্পর্শ করতেন না। তার আমলে তার পূর্বসূরীদের তুলনায় মোগল প্রশাসনে সর্বোচ্চ সংখ্যক হিন্দু কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছিল। মহান এই শাসক তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় জিহাদের ময়দানে অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন নির্ভীক সাহসিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। হাতির সাথে একাই লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার পর যখন তাঁর পিতা শাহজাহান তাঁর দুঃসাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেন তখন আওরঙ্গজেব বলেন-

    “এই লড়াইয়ে যদি আমি মরেও যেতাম, তথাপি ভীত হয়ে পালানোর চেয়ে ভালোই ছিল। এটা আমার গৌরবের মৃত্যুই হতো।”

    মোগল সাম্রাজ্যের মহানায়ক, মহান সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগিরকে নিয়ে ইংরেজদের গোলাম কিছু ইতিহাসবিদ নানা অপবাদ দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের সেই অপবাদের জবাব আর মহান এই নেতার জীবনী বাংলায় খুব একটা পাওয়া যায় না। তরুণ লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ তাঁর বইয়ে চেষ্টা করেছেন এই মহান সুলতানের জীবনী তুলে ধরতে। যা কালান্তর প্রকাশনী থেকে ‘দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অব দ্য মোগল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির’ নামে প্রকাশিত হয়েছে।

    বইটি যেভাবে সাজানো-

    লেখক বইটিকে পাঁচটি অধ্যায় ও প্রতিটি অধ্যায়কে বেশ কিছু পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন।
    লেখক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ধারাবাহিক ভাবে সকল দিক আলোচনা করেছেন।

    ১ম অধ্যায়:
    সুলতানের জন্ম থেকে মোগল সালতানাতের সিংহাসনে আরোহণের আগে পর্যন্ত দীর্ঘ ৪০ বছরের বিবরণ।

    ২য় অধ্যায়:
    সিংহাসনে আরোহণের প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে সুলতানের ইনতিকাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৫০ বছরের শাসনামলের ইতিহাস।

    ৩য় অধ্যায়:
    সুলতানের মৃত্যু, চারিত্রিক অবস্থা, অসীয়ত এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর কৃতিত্ব এই অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    ৪র্থ অধ্যায়:
    সুলতানের মৃত্যু পরবর্তী সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।

    ৫ম অধ্যায়:
    মজলুম সুলতানের ওপর করা আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়া এবং সেগুলোর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে।
    সবশেষে কালনির্ঘন্ট ও পরিশিষ্ট বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য দিয়েছে।

    বইটির ভাল দিক-

    লেখক সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে অতি অল্প কথায় সকল দিক খুব ভাল ভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিটি অভিযোগের পেছনের মূল কারণ আলোচনা করায় পাঠকের বুঝতে সুবিধা হবে। বইয়ের প্রথম দিকের মানচিত্র, একনজরে সুলতান আওরঙ্গজেবের সাম্রাজ্য, কাল-নির্ঘন্ট, একনজরে আওরঙ্গজেবে-পরিচিতি এই অংশগুলো বইটিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছে। যা যে কোনো পাঠককে খুব সহজেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা মনে রাখতে সাহায্য করবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি ইতিহাস ও সাম্রাজ্য নির্ভর বইগুলোতে মানচিত্র দেয়া প্রয়োজন, আর এই বইটিতে তা দেয়ার ফলে বুঝতে অনেক সহজ হয়েছে। তাছাড়া লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় যে তথ্যগুলো দিয়েছেন এর মাধ্যমে অনেক কিছু জানা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, বিভিন্ন বই ও লেখকের নাম। সাধারণ পাঠক হিসেবে বইটি পড়তে গিয়ে এর বানান ও ভাষারীতিতে তেমন কোনো ভুল পরিলক্ষিত হয়নি। কালান্তর প্রকাশনীর ইতিহাস নির্ভর মৌলিক বইগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা একটি বই। এককথায় বইটি কালান্তরের সেরা একটি কাজ।

    বইটি পড়া কেন প্রয়োজন-

    মুসলিম উম্মাহর সোনালী অতীত ও সত্য ইতিহাস জানার জন্য বইটি সকলের পড়া উচিৎ। কিভাবে প্রতিনিয়ত আমাদের গৌরবময় ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে তা সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যাবে এই বই থেকে। সত্য ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের গড়ার জন্য বইটি সহায়ক হবে।

    বইয়ের নাম: আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখক: ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রকাশনী: কালান্তর প্রকাশনী
    মুদ্রিত মূল্য: ৩০০৳
    প্রকাশকাল: একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০
    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    Md. Deen Islam:

    বই রিভিউ

    নামঃ দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অফ দ্য মুঘল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখকঃ ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রকাশনীঃ কালান্তর
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা
    প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
    রেটিং ৪.৮/৫

    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির রহ.-এর ব্যাপারে প্রথম জেনেছি প্রাইমারি স্কুলের বই থেকে। ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ নামক কবিতাটি থেকে তাঁর মহানুভবতা, শিক্ষানুরাগী মনোভাব, উন্নত চরিত্র প্রভৃতি আন্দাজ করা যায়। পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে আরো কিছু টুকরো তথ্য জেনেছিলাম। যেমন- তিনি হাফিজে কুরআন ছিলেন, কুরআনের অনুলিপি তৈরি করতেন, ফাতওয়ায়ে আলমগিরি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত হয় ইত্যাদি। অর্থাৎ তাঁর ব্যাপারে একটা সুধারণা আমার সবসময়ই ছিলো। তবে এই মহান মানুষটিকে বিতর্কিত ও খলনায়ক বানানোর অপচেষ্টার চূড়ান্ত করেছে ইংরেজ, শিয়া ও ভারতীয় হিন্দু ইতিহাসবিদরা। বিনয় ঘোষ এর মতো ইতিহাসবিদরা তো তাঁর নামকে পর্যন্ত ব্যঙ্গ করে ‘ঔরঙ্গজীব’ লিখতে ছাড়েনি! (সূত্রঃ চেপে রাখা ইতিহাস, গোলাম আহমদ মোর্তজা)। আলোচ্য বইটি থেকে আমি দুইটি বিষয় ভালোভাবে জানতে পেরেছি-

    ক. শাহজাহান পরবর্তী ভাইদের (দারা, মুরাদ, সুজা) সাথে আওরঙ্গজেবের ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ের স্বরূপ। অর্থাৎ আওরঙ্গজেব কি ক্ষমতা দখলের জন্য অন্যায়ভাবে ভাইদের হত্যা করেছিলেন কিনা? বিশেষত এই বিষয়টি নিয়ে সুলতানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেক ইতিহাসবিদ।
    খ. মারাঠা নেতা শিবাজির স্বরূপ। বাস্তবতা হলো, হিন্দুরা শিবাজিকে সাহিত্য ও সিনেমায় গ্লোরিফাই করলেও প্রকৃতার্থে সে আহামরি কোনো বীর ছিলো না! বরং সে ছিলো একজন কট্টরপন্থী মুসলিম বিদ্বেষী। পাশাপাশি একজন গণহত্যাকারী, ডাকাত, লুটেরা এবং আওরঙ্গজেবের উদারতার সুযোগে বারবার ওয়াদা ভঙ্গকারী!

    বইটিতে রয়েছে মোট ৫টি অধ্যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে পঞ্চম অধ্যায়টিকে। যারাই বইটি সংগ্রহ করেছেন বা পড়বেন, তাদেরকে অনুরোধ করবো এই অধ্যায়টি খুব ভালোভাবে পড়বেন। এখানে সুলতান আওরঙ্গজেবের উপর অন্যায়ভাবে আরোপিত অনেকগুলো অপবাদের খণ্ডন করা হয়েছে। যেমন-মূর্তি ভাঙ্গা ও উপাসনালয় বিধ্বস্ত করা, পিতাকে বন্দি করে রাখা, জিজিয়া কর আরোপ করা ইত্যাদি। আসলে কোনো একটি ঘটনাকে দেখেই বিচার করতে হয় না বরং এর প্রেক্ষাপট আমলে নিতে হয়; অন্যথায় অবিচার/বেইনসাফির আশঙ্কা থাকে! আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে হয়েছেও তাই। আওরঙ্গজেব বিদ্বেষী ইতিহাসবিদরা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করেছেন, পাশাপাশি কোন প্রেক্ষাপটে সুলতান এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন—তা উল্লেখ করেননি। সুতরাং একথা বলাই বাহুল্য, এই নীতি অবলম্বন করলে দুনিয়ার যেকোনো ন্যায়পরায়ণ শাসককে প্রশ্নবিদ্ধ ও কলংকিত করা সম্ভব!

    ভালো লাগার কয়েকটি দিকঃ
    ক. বইয়ের শুরুতে মোঘল সাম্রাজ্যের একটি মানচিত্র যোগ করা হয়েছে; যা দেখে পাঠক বুঝতে পারবে—কত বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে ছিলো এই সাম্রাজ্য।
    খ. লেখক ভূমিকায় আওরঙ্গজেব সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু বই সম্পর্কে পরিচয় করে দিয়েছেন; যা পরবর্তীতে এই বিষয়ক লেখালেখিতে গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে।
    গ. বইটির বানান নির্ভুলতা, পেইজ, মজবুত বাঁধাই।

    সবশেষ কথা হলো, ধুলোকালি সরিয়ে বিশুদ্ধ ইতিহাস উপস্থাপনের অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটা চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের উচিত নিজেদের এই ইতিহাস পড়া, প্রচার করা। বইয়ের লেখক ও প্রকাশককে যাজাকাল্লাহ।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    Md. Deen Islam:

    বইয়ের নামঃ দ্য গ্রেটেস্ট সুলতান অফ দ্য মুঘল এম্পায়ার আওরঙ্গজেব আলমগির
    লেখকঃ ফাহাদ আবদুল্লাহ
    প্রকাশনীঃ কালান্তর
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা
    প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
    রেটিং ৪.৮/৫

    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগির রহ.-এর ব্যাপারে প্রথম জেনেছি প্রাইমারি স্কুলের বই থেকে। ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ নামক কবিতাটি থেকে তাঁর মহানুভবতা, শিক্ষানুরাগী মনোভাব, উন্নত চরিত্র প্রভৃতি আন্দাজ করা যায়। পরবর্তীতে তাঁর সম্পর্কে আরো কিছু টুকরো তথ্য জেনেছিলাম। যেমন- তিনি হাফিজে কুরআন ছিলেন, কুরআনের অনুলিপি তৈরি করতেন, ফাতওয়ায়ে আলমগিরি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় রচিত হয় ইত্যাদি। অর্থাৎ তাঁর ব্যাপারে একটা সুধারণা আমার সবসময়ই ছিলো। তবে এই মহান মানুষটিকে বিতর্কিত ও খলনায়ক বানানোর অপচেষ্টার চূড়ান্ত করেছে ইংরেজ, শিয়া ও ভারতীয় হিন্দু ইতিহাসবিদরা। বিনয় ঘোষ এর মতো ইতিহাসবিদরা তো তাঁর নামকে পর্যন্ত ব্যঙ্গ করে ‘ঔরঙ্গজীব’ লিখতে ছাড়েনি! (সূত্রঃ চেপে রাখা ইতিহাস, গোলাম আহমদ মোর্তজা)। আলোচ্য বইটি থেকে আমি দুইটি বিষয় ভালোভাবে জানতে পেরেছি-

    ক. শাহজাহান পরবর্তী ভাইদের (দারা, মুরাদ, সুজা) সাথে আওরঙ্গজেবের ভ্রাতৃঘাতী লড়াইয়ের স্বরূপ। অর্থাৎ আওরঙ্গজেব কি ক্ষমতা দখলের জন্য অন্যায়ভাবে ভাইদের হত্যা করেছিলেন কিনা? বিশেষত এই বিষয়টি নিয়ে সুলতানকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অনেক ইতিহাসবিদ।
    খ. মারাঠা নেতা শিবাজির স্বরূপ। বাস্তবতা হলো, হিন্দুরা শিবাজিকে সাহিত্য ও সিনেমায় গ্লোরিফাই করলেও প্রকৃতার্থে সে আহামরি কোনো বীর ছিলো না! বরং সে ছিলো একজন কট্টরপন্থী মুসলিম বিদ্বেষী। পাশাপাশি একজন গণহত্যাকারী, ডাকাত, লুটেরা এবং আওরঙ্গজেবের উদারতার সুযোগে বারবার ওয়াদা ভঙ্গকারী!

    বইটিতে রয়েছে মোট ৫টি অধ্যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে পঞ্চম অধ্যায়টিকে। যারাই বইটি সংগ্রহ করেছেন বা পড়বেন, তাদেরকে অনুরোধ করবো এই অধ্যায়টি খুব ভালোভাবে পড়বেন। এখানে সুলতান আওরঙ্গজেবের উপর অন্যায়ভাবে আরোপিত অনেকগুলো অপবাদের খণ্ডন করা হয়েছে। যেমন-মূর্তি ভাঙ্গা ও উপাসনালয় বিধ্বস্ত করা, পিতাকে বন্দি করে রাখা, জিজিয়া কর আরোপ করা ইত্যাদি। আসলে কোনো একটি ঘটনাকে দেখেই বিচার করতে হয় না বরং এর প্রেক্ষাপট আমলে নিতে হয়; অন্যথায় অবিচার/বেইনসাফির আশঙ্কা থাকে! আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে হয়েছেও তাই। আওরঙ্গজেব বিদ্বেষী ইতিহাসবিদরা নির্দিষ্ট কিছু ঘটনাকে তিলকে তাল বানিয়ে প্রচার করেছেন, পাশাপাশি কোন প্রেক্ষাপটে সুলতান এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন—তা উল্লেখ করেননি। সুতরাং একথা বলাই বাহুল্য, এই নীতি অবলম্বন করলে দুনিয়ার যেকোনো ন্যায়পরায়ণ শাসককে প্রশ্নবিদ্ধ ও কলংকিত করা সম্ভব!

    ভালো লাগার কয়েকটি দিকঃ
    ক. বইয়ের শুরুতে মোঘল সাম্রাজ্যের একটি মানচিত্র যোগ করা হয়েছে; যা দেখে পাঠক বুঝতে পারবে—কত বিশাল ভূখণ্ড জুড়ে ছিলো এই সাম্রাজ্য।
    খ. লেখক ভূমিকায় আওরঙ্গজেব সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু বই সম্পর্কে পরিচয় করে দিয়েছেন; যা পরবর্তীতে এই বিষয়ক লেখালেখিতে গবেষকদের জন্য সহায়ক হবে।
    গ. বইটির বানান নির্ভুলতা, পেইজ, মজবুত বাঁধাই।

    সবশেষ কথা হলো, ধুলোকালি সরিয়ে বিশুদ্ধ ইতিহাস উপস্থাপনের অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটা চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের উচিত নিজেদের এই ইতিহাস পড়া, প্রচার করা। বইয়ের লেখক ও প্রকাশককে যাজাকাল্লাহ।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    nameiseyahiaislam:

    সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগীর- মোঘল সাম্রাজ্যের আকাশে জলন্ত এক মহান সুলতানের নাম। সুলতানের নাম জানেনা এরকম মানুষ বাংলার মাটিতে নেই বললেই চলে। ‘ফাতওয়ায়ে আলমগিরি’ বিখ্যাত মাসআলা ভিত্তিক গ্রন্থ যার আদেশে যোগ্য আলেমদের নিয়ে রচিত হয়। সুলতানের নামে রচিত আছে খলনায়কের ইতিহাস। তার শাসনামলের সোনালী অধ্যায়কে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করে ইংরেজদের পা চাটা কিছু হিন্দু ইতিহাসবিদরা।
    বর্তমানে সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ লেখক ফাহাদ আবদুল্লাহ মহান সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগীর নামক মৌলিক গল্প ভিত্তিক বইটিতে তিক্ষ্ণ মেধা খাটিয়ে ইতিহাসের চরম বাস্তবতা ও সব অভিযোগের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

    পাঠ প্রতিক্রিয়া : লেখক আওরঙ্গজেব আলমগীর _এর জীবনকে কেন্দ্র করে বইটিতে যে ঐতিহাসিক চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, সেখানে উঠে এসেছে সুলতানের জন্ম বেড়ে ওঠা এবং সিংহাসনে ওঠার প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে আমৃত্যু পর্যন্ত , তার সংগ্রামী জীবন নিয়ে প্রতিটি অধ্যায়ে হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। এবং আলোচনা করা হয়েছে এই মহান সুলতানকে নিয়ে আনিতো সব মিথ্যা অভিযোগ সম্পর্কে। তাই আসুন, আওরঙ্গজেব আলমগীর ইতিহাসে ডুব দিয়ে সত্য সন্ধানী হয়ে উঠি।
    ফাহাদ আবদুল্লাহ “সুলতান আওরঙ্গজেব আলমগীর ”
    বইটির মাধ্যমে পাঠকমহলে বেশ সাড়া ফেলেছেন। এমন একটি বই পাঠকদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য ,পাঠকরা তার কাছে কৃতজ্ঞ । আল্লাহ তাকে উত্তম জাযা দান করুন। সেই সাথে কালান্তর প্রকাশনীর জন্যও রইল অজস্র শুভ কামনা।

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top