মেন্যু


সুলতান আবদুল হামিদ খান ও উসমানি খিলাফত পতনের ইতিহাস

অনুবাদক : আবদুর রশীদ তারাপাশ
প্রকাশকাল : আগস্ট ২০২০
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ২০৮ (হার্ডবোর্ড বাধাই)

সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ সোনায় মোড়া একটি নাম, এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের স্মারক, জাগৃতির এক অনুপম চেতনা। তাঁর জীবনাচার সংবলিত এই বইয়ের পরতে পরতে পাবেন রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। জানতে পারবেন ধর্মনিরপেক্ষবাদী কামাল পাশাদের গাদ্দারির ইতিহাস। প্রতিটি পাতার কালো অক্ষরগুলো যেন খিলাফতহারা ও েশাকে মুহ্যমান উম্মাহর অব্যক্ত বেদনার প্রতিনিধিত্ব করছে।

বইটিতে আরও পাবেন মুসলিম উম্মাহকে খিলাফতবিহীন করতে পেরে পাশ্চাত্যসমাজ যে নগ্ননৃত্যের মঞ্চায়ন করেছিল, তারই এক যথার্থ বিবরণ। দ্বিতীয় খিলাফতে রাশিদার নেতৃত্বদানের স্বপ্নদ্রষ্টাদের জন্য এখানে রয়েছে উত্তম পাথেয়, সুন্দর আগামী সাজানোর সোনালি শিক্ষা। রয়েছে চারদিকের শত্রু থেকে আত্মরক্ষার কৌশল।

যারা জানতে চান কীভাবে খিলাফতের পতন হয়েছে, কীভাবে সাড়ে তেরোশ বছর পৃথিবীকে নেতৃত্বদানকারী একটি পরাশক্তি বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব থেকে সরে পড়েছে এবং উম্মাহর অধঃপতন যখন চূড়ান্তের দিকে গড়াচ্ছে তখন মুসলিম উম্মাহর অবস্থা কেমন ছিল, সেই ইতিহাস—এই বই তাদের জন্য।

 

পরিমাণ

167  238 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

4 রিভিউ এবং রেটিং - সুলতান আবদুল হামিদ খান ও উসমানি খিলাফত পতনের ইতিহাস

4.8
Based on 4 reviews
5 star
75%
4 star
25%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিউ_প্রতিযোগিতা।

    ছোট্ট একটি গোত্র থেকে প্রতিষ্ঠা লাভ হয় উসমানীয়দের। আল্লাহর উপর আস্থা এবং জি [হা] দের অদম্য স্পৃহায় এগিয়ে চলেন উসমান গাজী রহঃ। যার ফলস্রতিতে মুসলিম জাতি পায় এক বিশাল সালতানাত। ক্রুসেড এবং তাতারদের মোকাবেলা করেই তাদেরকে সামনে এগোতে হয়। একটি একটি করে জনপদ মুসলিমদের আয়ত্তাধীন আসতে থাকে। এক সময় সেটা রুপ নেয় বিশাল এক সাম্রাজ্যে। এটাকে ধ্বংস করতে কুফফার বাহিনী তাদের চেষ্টার বিন্দুমাত্র কমতি রাখেনি। লেখক, পরিচালক, ঐতিজাসিক, সকলেই মিথ্যা ছরিয়েছে উসমানীয়দের নিয়ে। রাশিয়া, অষ্ট্রিয়া, জাপান, দোনমে ইউরোপ ইত্যাদি সকলেই মুখিয়ে থেকেছে উসমানীয়দের সমাপ্তি দেখতে।

    ১৮ দশকের শেষের দিকে এসে যখন উসমানীয়দের বাতি নিভু নিভু, ঠিক তখনই এসে এ মশাল হাতে নেন সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ রহঃ।
    চারিদিকে যখন শত্রুদের আনাগোনা তখন তিঁনিও তাদের মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর। সব চক্রান্ত নস্যাৎ করেছেন একে একে। অধিকাংশ যুবকরাই গা ভাসিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের স্রোতে। গণতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতার জালে আটকে গিয়েছিল মুসলিমরাও। ফরাসী জার্মানি ব্রিটেনীয়দের স্থলবাহিনী এবং নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রা, শিল্প ও সামরিক ক্ষেত্রে তাদের অবিশ্বাস্য উন্নতি, এসবকিছুই সাধারণ মুসলিমদেরকে ফেলে দেয় গোলকধাঁধায়। তারা চায়তে শুরু করে “মুক্তি” নামক চোরাবালি।
    সুলতান আব্দুল হামিদ রহঃ এ সবকিছুর বিপরীতে সালতানাতকে আবার নতুন করে সাজানোর ইচ্ছা করেন। ইচ্ছানুযায়ী কাজও এগোতে থাকে। শিক্ষা এবং পর্দাহীনতার বেহাল দশা দেখে সুলতান যথাযত পদক্ষেপ গ্রহন করেন। তিঁনি চান সমস্ত মুসলিম জাতি যেন এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। এই উত্তম উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তিঁনি বেশ কিছু পরিকল্পনাও গ্রহন করেন। যেমনঃ
    ১. উসমানি সালতানাতকে আরবী রঙে রাঙাবার ইচ্ছা।
    ২. মাদরাসাতুল আশাইর প্রতিষ্ঠা। এখানে আলেপ্পো, সিরিয়া, বাগদাদ, বসরা, মসুল, ইয়ামেন, হিজাজ বেনগাজি, আল কুদা এবং পশ্চিমে ত্রিপোলি প্রভৃতি প্রদেশমূহের বাচ্চাদের শিক্ষা প্রদান করা হত।
    ৩. হিজাজ রেললাইন পরিকল্পনা। দামেশ্ক থেকে মদিনা মুনাওয়ারা পর্যন্ত প্রলম্বিত এ রেললাইনের কাজ ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়। সুলতান নিজের থেকে সেটার জন্য ৫০ হাজার উামানি স্বর্ণমুদ্রা প্রদান করেন। একইভাবে ইরানের বাদশা ৫০ হাজার উামানি লিরা প্রদান করেন। এছাড়াও এ কাজে সকল মুসলিম রাষ্টের জণগন নিজ নিজ আগ্রহ থেকে দান করতে থাকেন। ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত একাজে শুধুমাত্র সাধারণ শ্রমিক সংখ্যাই ৭ হাজারের উপরে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে খরচহয় ৪২লাখ ৮৩ হাজার উসমানি লিরা। ২২ আগস্ট ১৯০৮ সর্বপ্রথম এ লাইন হয়ে প্রথম ট্রেনটি দামেশ্ক হয়ে মদিনায় যায়। যোখানে দামেশ্ক হয়ে মদিনায় যেতে আগে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেত সেখানে এ লাইনের মাধ্যমে তিন দিনই পৌছে যায়।
    এছাড়াও সুলতান ঐক্যের জন্য এমন সব পদক্ষেপ গ্রহন করেনযেখান থেকে সুলতানের বিচক্ষণতা এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়।

    বই সম্পর্কেঃ
    এ বই থেকে জানতে পারবেন একজন নেতার কতটা বিচক্ষণতা প্রয়োজন। এবং মুসলিমদেরকে নিয়ে কুফফার গোষ্ঠীর ষরযন্ত্র, যা এখন আরও বহুমাত্রায় চলমান। বুঝতে পারবেন যে মুসলিমদের একজন খলিফার কতটা প্রয়োজন। মিথ্যা-বানোয়াট ইতিহাসের বিপরীতে খুঁজে পাবেন সত্যের ছোয়া। দেখতে পাবেনএএমন এক সুলতানকে যিঁনি শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়ে গেছেন সবসময়। ৩৩ বছরের সালতানাতের যিঁনি একটা দিনও আয়েশ করতে পারেন নি।

    লেখক সম্পর্কেঃ
    ড. আলি সাল্লাবি। লিবিয়ার বেনগাজিতে জন্ম নেওয়া এ লেখক ইতিহাস নিয়ে অধ্যায়নই করেছেন দীর্ঘ এক সময় ধরে। তাঁর লেখায় উঠে এসেছে এমন সব দুষ্প্রাপ্য তথ্য-উপাত্ত এবং আলোচনা, যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর। তিনি লিখেছেন অসংখ্য বই। তন্মধ্যে সিরাতুন নবী আর খলিফা সিরিজ অন্যতম। এগুলোর সবটাই অনুবাদ করে দিয়েছে কালান্তর। আল্লাহ তায়ালা শায়েখের হায়াতে বরকত দিন।

    বই: সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ।
    লেখকঃ ড. আলি সাল্লাবি।
    অনুবাদক: আব্দুর রশীদ তারাপাশী।
    প্রকাশনী : কালান্তর।
    প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ।
    মুদ্রিত মূল্য :২৩৮ ৳

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ _রিভিউ_প্রতিযোগিতা

    ⚛️বইয়ের নামঃদ্য ডায়নামিক সুলতান আব্দুল হামিদ খান ও উসমানী খিলাফত পতনের ইতিহাস

    সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ খান ছিলেন উসমানী সম্রাজ্যের সর্বশেষ কতৃত্বশীল সুলতান,খলিফাতুল মুসলিমীন।ছিলেন মুসলিম উম্মাহর এক দরদী অভিভাবক।আমরণ পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাওয়া এক অকুতোভয় সৈনিক। নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল,ইসলামের স্বার্থে ছিলেন আপোষহীন।সম্রাজ্যবাদের রক্তচক্ষু আর ইহুদিদের লোভ তাকে পরাজিত করতে পারেনি।তিনি চেয়েছিলেন শতধাবিভক্ত মুসলিম জাতিকে এক পতাকাতলে আনতে,ইসলামি ঐক্যের শক্তিতে উম্মাহর হারানো অতীত কে ফিরিয়ে আনতে।কিন্ত হায় উম্মাহর!যে জাতি নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঢেলে দেয়, তাদের ধ্বংস কে রুখতে পারে?তাই সুলতান আব্দুল হামিদের যথেষ্ট রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দুরদর্শিতা থাকা সত্তেও জাতির গাদ্দারদের কাছে হার মানতে হয়েছিলো সুলতানের,যার সাথে সলীল সমাধি হলো উসমানী সম্রাজ্যের,শেষ হলো একটি সোনালি ইতিহাসের সুদীর্ঘ অধ্যায়ের।সুলতান আব্দুল হামিদ ছিলেন খিলাফতের আকাশে গোধুলী লগ্নের সুর্য,যিনি ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আলো দিয়ে গেছেন।কিন্ত তার অবর্তমানে যে আধার মুসলিম উম্মাহ কে গ্রাস করেছিলো তার নাগপাশ থেকে আজো বের হতে পারেনি এই উম্মাহ।

    বইটি মুলত সুলতান আব্দুল হামিদের কর্মজীবন এবং উসমানী খিলাফতের পতন ও এর পরবর্তী তুরস্কের রাজনীতির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। পাঠক চলুন মলাটের ভাজ খুলে জেনে আসি এই ইতিহাসের অজানা অধ্যায়ের।

    ⚛️একনজরে

    বইয়ের নামঃদ্য ডায়নামিক সুলতান আব্দুল হামিদ খান ও উসমানী খিলাফত পতনের ইতিহাস
    বইয়ের ধরণঃইতিহাস সংক্রান্ত
    পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ২০৬
    মুদ্রিত মুল্যঃ২৩৪ টাকা
    প্রকাশনাঃকালান্তর প্রকাশনী

    ⚛️মলাটের ভাজে

    বইটি সর্বমোট আট টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে।
    প্রথম চারটি অধ্যায়ে সুলতান আব্দুল হামিদের সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার ব্যক্তিত্ব,রাশিয়া ও উসমানী সম্রাজ্যের মধ্যকার যুদ্ধ,”ইসলামি ঐকে”র ডাকে উম্মাহ কে এক কাতারে আনার প্রয়াস এবং পরবর্তীতে “ফ্রিম্যাসনারী ইয়াহুদী” ও ” ইত্তিহাদ ভে তেরাক্কি জেমিয়েতি” র কার্যক্রম ও এদের ব্যাপারে সুলতেনের অবস্থান প্রসংগে আলোচনা করা হয়েছে।

    পরবর্তী দুটি অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে সুলতানের ক্ষমতাচ্যুতি এবং উসমানী খিলাফত বিলুপ্তির বিষয়ে।কামাল পাশার নগ্ন থাবা কিভাবে একটি ইসলামি ভাবধারার সমাজের আবরণকে ছিড়ে খুবলে সেক্যুলারিজমের আমদানি করেছিলো তার আলোচনা হয়েছে।

    সপ্তম অধ্যায়ে পাঠক সবিস্ময়ে লক্ষ করবে “নাজিব আরবাকান” নামের এক মুজাহিদ কে।”ওয়াতান সালামাত পার্টি” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যিনি দেশের নাগরিকদের মাঝে পুনরায় ইসলামি ভাবধারা আনতে সক্ষম হন।সেক্যুলারিজমের ফাদ থেকে তুরস্ককে বের করে আনার চেষ্টা আলোচিত হয়েছে এ অধ্যায়ে।

    অষ্টম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে উসমানী খিলাফত পতনের কারণসমুহ নিয়ে।(পাঠককে সবিনয় অনুরোধ রাখছি বইটির এই অধ্যায়টি মনযোগ সহকারে পড়ার)
    লেখক শুধু ইতিহাস বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি বরং কুরআন সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলিল সহকারে উসমানী দের পতনের কারণ আলোচনা করেছেন।আলোচনার ফাকে ফাকে রেখেছেন বর্তমান উম্মাহর মুক্তির প্রেসক্রিপশন।

    ⚛️লেখক পরিচিতি

    আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবী ইতিহাসের পাঠকদের কাছে একটি সুপরিচিত নাম।লিবিয়ায় জন্ম।সুদীর্ঘ সময় তিনি রাজনীতি তে যুক্ত ছিলেন।মুয়াম্মার আল গাদ্দাফীর সময় ৮ বছর কারাবন্দী ছিলেন।মুসলিম ইতিহাসের উপর তিনি বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেছেন যা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়েছে।তন্মধ্যে রাসুল (সা) এর উপর লিখিত সীরাত গ্রন্থ এবং “খোলাফায়ে রাশেদার জীবনী” র উপর লেখা গ্রন্থগুলি বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

    ⚛️বইটি পড়ার প্রয়োজনীয়তা

    বক্ষমান বইটি একটি ইতিহাস সংক্রান্ত বই।ইতিহাস আমাদের সামনে অতীতকে তুলে ধরে।ইতিহাস এমন কিছু শিক্ষণীয় বিষয় তুলে ধরে যার মাধ্যমে আমরা বর্তমান কে বিচার করতে পারি এবং ভবিষ্যতের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে পারি।যারাই ইতিহাসকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে এবং এর শিক্ষা কে কাজে লাগাতে পেরেছে তারাই নতুন ইতিহাস তৈরী করেছে পক্ষান্তরে যারা এর শিক্ষাকে কাজে লাগায় নি ইতিহাস তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে।
    মুসলিম উম্মাহর একটি সুবিস্তৃত স্বর্ণালি অতীত রয়েছে,যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে উসমানী খিলাফত।যে উসমানীয় সাম্রাজ্য দক্ষিণপূর্ব ইউরোপ, উত্তরে রাশিয়া কৃষ্ণ সাগর, পশ্চিম এশিয়া, ককেসাস, উত্তর আফ্রিকা ও হর্ন অব আফ্রিকা জুড়ে , মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলসহবিস্তৃত একটি শক্তিশালী বহুজাতিক, বহুভাষিক সাম্রাজ্য ছিল সে সম্রাজ্য কেন ধ্বংস হয়ে গেলো?এর পেছনের কারণ গুলো কি কি?এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মুসলিম মাত্রই খোজা উচিৎ। পাঠক বইটি পড়ার সময় অবাক হয়ে অনুধাবন করবে তখনকার শাসকদের চরিত্রে সাথে বর্তমানের শাসকদের অনেকাংশে মিল রয়েছে,তখনকার বিদ্যমান সমস্যাগুলোর অনেক কিছু আজও মুসলিম উম্মাহর মাঝে বিদ্যমান।যে ষড়যন্ত্রকারীরা ভেতরে ও বাইরে থেকে মুসলিম উম্মাহ কে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে তারা আজো ষড়যন্ত্র আজো চলছে যেনো শত বিভক্ত এই উম্মাহ আবারো এক হতে না পারে।
    মুসলিম উম্মাহর হারানো ইতিহাস কে ফিরিয়ে আনতে,খিলাফতের অস্তমিত সুর্যকে আবার উদিত করতে,আমাদের এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট জানা আবশ্যক।এ লক্ষ্যে এই গ্রন্থটি পাঠকের জ্ঞানতৃষ্ণা মেটাতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে বলে আমি আশাবাদী,তাই সচেতন মুসলিম মাত্রই গ্রন্থটি পাঠ করা উচিৎ।

    ⚛️ভালোলাগা-মন্দলাগা
    সবচেয়ে ভালো লেগেছে,বইটির শেষে “গ্রন্থের সার সংক্ষেপ” অংশটি।পাঠক এখান থেকে পুরো বইটির একটা চিত্র খুজে পাবেন।এছারা প্রচ্ছদ,বাধাই,মুদ্রণ ছিলো চমৎকার। অভিযোগ করার মতো মন্দ কোনো বিষয় আমার দৃষ্টিতে আসে নি।

    সবমিলিয়ে রেটিং 5/5

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    :

    #কালান্তর_ওয়াফিলাইফ_রিভিও_প্রতিযোগিতা

    সুলতান,বাদশা ইত্যাদি রাজকীয় উপাধী দেখলে একটা আগ্রহ সবারই থাকে।কিছু বিক্ষিপ্ত ইতিহাস জানার দরুণ অনেকে মনে করে তাদের সবারই জীবন আরাম-আয়েশী-বিলাসী!
    এটা সবার ক্ষেত্রে মোটেও পরিপূরক না।

    হা_এমনই এক সুলতান ছিলেন যিনি _মুসলিম উম্মাহর শেষ শ্রেষ্ঠ খলিফা _সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ খান।যিনি জীবনভর উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, প্রগতি ফেরাতে কাজ করেছেন__তিনিই ছিলেন একটা ঢাল এর মতো__ এই মহান খলিফার পুর্ণাঙ্গ জীবনিতিহাস তুলে ধরেছেন ড.আলি মোহাম্মদ সাল্লাবি_এই বইয়ে_সাথে তার গভীর অনুধাবনের ছাপ প্রকাশ পেয়ছে বইয়ের প্রতি পাতায় পাতায়।

    যারা ইতিহাস পাগল তাদের কাছে হাজার বছর আগের কথা দুদিন আগের কথা মনে হয় ! তাদের অধিকাংশের কাছে সুলতান অপরিচিত নন!কারণ তার জীবন-গল্প আর তাদের মাঝে মাত্র এক শতাব্দীর ফারাক!
    আমরা আমাদের ইতিহাস পড়তে চায় না, শিক্ষা নিতে চাই না তা থেকে -ভুলে গেলে হবে না যে ইতিহাস আগামীর পুঁজি। আজ যেটা ইতিহাস সেটার সাথে আজ’ও যুক্ত হবে আর আজ যেটা ভবিষ্যৎ কাল তা বর্তমান! তাই ইতিহাস আর বর্তমান এর মিশেলেই তৈরি হয় আগামির ভবিষ্যৎ আগামির বর্তমান।

    সুলতান আবদুল হামিদ খান এর জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু বলতে অনেক কিছইু শেখার আছে। এই মহান খলিফা সম্পর্কে যে জানার তৃষ্ণা সে তৃষ্ণা মেটাবার পাথেয় এর একটা বড় অংশ দখল করে নিয়েছে বক্ষমান বইটি–মহান সেই নেতা-খলিফার জীবন রচিত হয়েছে কালো কালির অক্ষরে…কালান্তরের অনুদিত ড.সাল্লাবি র বইয়ে।

    মুল বই সম্পর্কে

    বইটাকে দুইভাগে ভাগ করা যায়
    ১.খলিফা আবদুল হামিদ ও উসমানী খেলাফত
    ২.এক আবদুল হামিদ ও মুসলিম বিশ্ব

    _
    ১.আবদুল হামিদ ও উসমানী খেলাফত

    দ্বিতীয় আবদুল হামিদে’র জন্ম উনবিংশ শতাব্দীর শেষাংশের কাছাকাছি। ততদিনে সুলতান সুলায়মান এর পর থেকে ভাঙ্গা-গড়া চলেছে উসমানী খেলাফতের ভুমিতে-শত্রু’রা শক্তপোক্ত জায়গায় পৌছাবার দরজায় এসে গিয়েছিল প্রায়।খেলাফতকে শেষ করার অভিপ্রায়ে যারা চাল -চাচ্ছিলো পাশা ও সরকারি কর্মকর্তাদের উপর -এমন সময় খিলাফতের শাসনাভার লাভ করেন সুলতান আবদুল হামিদ। তাঁর শাসনের শুরু মোটেও সুখকর ছিলো না__শত্রুদের আদর্শে -টাকায় চলা পাশা-মন্ত্রীদের জন্য বহু বেগ-সমস্যায় জর্জরিত হন সুলতান। অপরদিকে নানান আন্দোলন -সংঘাত,মুসলিম ভাতৃত্ব বিচ্ছেদ যেন নিত্য সমস্যা-রুপ নেয়।সবই ছিলো পরিকল্পিত ভাবে উসমানীদের পতনের জন্য -সুলতান সব সমস্যা দূরীকরণ যখন প্রায় করে ফেলেন তখনই তাকে হটিয়ে দেয়া হয় শাসনাভার থেকে পটিকল্পিতভাবে..

    ২.এক আবদুল হামিদ ও মুসলিম বিশ্ব

    উসমানীদের শুরুর’লগ্নের সুলতান,আমির গণ ছিলেন ইমানী চেতনায় বলিয়ান __তবে সময়ের সাথে সাথে কিছু বিলাসী,অযোগ্য সুলতানের দায়িত্বের প্রতি অপারগতা উসমানীদের সংকটে ফেলে দিয়েছে বেশ কয়েকবার __সুলতান আবদুল হামিদ খান __ছিলেন শেষ শ্রেষ্ঠ সুলতান তিনি তার দায়িত্ব যথাযত ভাবে পালনের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বকে আবার এক করে খেলাফতের ছায়ায় আনতে সচেষ্ট ছিলেন _তবে উসমানীদের কিছু লোকের অনৈতিকতা,দ্বীনহীনতার ভয়ংকর রোগের ফলে তারা শত্রুর পক্ষে অবস্থান নেয়__যার ফলস্বরূপ তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনে সুলতান আবদুল হামিদ কে খেলাফত থেকো সরানোর পর!….শতাধিক বছর পার গেছে তবে মুসলিম বিশ্ব আর ফিরে পাইনি আবদুল হামিদ কে_উসমানী সুযোগ্য খলিফার মতো খলিফা’কে….

    #_বইটা_কেন_পড়বেন??

    *বইটা পড়বেন নিজের ইতিহাস জানতে
    সর্বোপরি নিজের জন্যই বেশি পড়বেন

    ________
    বইয়ের নাম:সুলতান আবদুল হামিদ খান ও উসমানি খিলাফত পতনের ইতিহাস
    মুল:ড.আলি মোহাম্মদ সাল্লাবি
    ভাষান্তর:আবদুর রশীদ তারাপাশি
    মুদ্রিত মুল্য :২৩৮৳
    রেটিং:৪.৮/৯

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    :

    প্রাককথন—

    ইতিহাস জাতির দর্পণ। প্রতিটা জাতি তাদের চলতিপথে যে জিনিসটার শরণাপন্ন বেশি হয় তা হলো— ইতিহাস। জাতির প্রতিটি পদক্ষেপে ইতিহাসই তাদেরকে সহায়তা করে সবচে’ বেশি। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। ইতিহাসের আলোয় নিজেকে করে উদ্ভাসিত। সে ইতিহাস থেকে জানে, তার পূর্বপুরুষরা কী ভুল করেছিল? কী ছিল তাদের অপরাধ? আর কেনইবা তারা তলিয়ে গিয়েছিল ধ্বংসের অতল গহ্বরে?

    ইতিহাস সম্মন্ধে জ্ঞান রাখা সকলের জন্যই আবশ্যক। কেননা ইতিহাস মানুষকে শেখায়। তাদের পূর্বপুরুষদের সাফল্য-সংবাদে অনুপ্রাণিত করে। সতর্ক করে তাদের ভুলভ্রান্তি থেকে। তাই ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীমই বটে।

    এবার আসি মূল আলোচনায়—

    গত কয়েকদিন আগে কালান্তর প্রকাশনী থেকে তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। আল্লাহর অশেষ কৃপায় সেই বই তিনটি সংগ্রহ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। বই তিনটির মধ্যে একটি বইয়ের নাম হলো, ‘সুলতান আবদুল হামিদ খান’। বইটি লেখা হয়েছে উসমানী সাম্রাজ্যের সর্বশেষ স্বাধীন সুলতান এবং ইতিহাসের একজন মজলুম খলিফা ‘সুলতান আবদুল হামিদ খান’কে নিয়ে। কীভাবে তিনি ইসলামের খেদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন! কীভাবে তিনি মোকাবিলা করেছেন ঘরের এবং বাইরের শত্রুদের। তাদের সকল পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। সীনাটান করে দাঁড়িয়ে গিয়েছেন তাদের সামনে। রুখে দিয়েছেন তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ। আরও কত কী!

    তাঁর বীরত্ব-গাঁথা বলে শেষ করতে পারবো না। তিনি ইসলাম ও মুসলিম জাতির জন্য অনেক কিছু করেছেন। অনেক ত্যাগ সহ্য করেছেন। মুসলিম উম্মাহর একত্রীকরণে তিনি বিরাট ভূমিকা রেখেছেন। তবে আফসোসের বিষয় হলো, আজ আমরা মুসলিমরাই তাঁকে ভুলে বসে আছি। যা তাঁর মত একজন মহান ব্যক্তিত্বের প্রতি অন্যায়েরই নামান্তর।

    আমরা তাঁকে ভুলে গেলেও ইতিহাস তাঁকে ভোলেনি। সে এই মহামানবকে নিজের বুকে আঁকড়ে ধরে আছে শক্তভাবে। আর প্রতিনিয়তই আমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছে তাঁর কথা। কিন্তু আফসোস! আমরা কতোই না অকৃতজ্ঞ, তাঁর সম্মন্ধে আজও বেখবর।

    কারা পড়বেন বইটি আর কেনইবা পড়বেন—

    বইটি প্রত্যেক মুসলমানেরই পড়া উচিত বলে আমি মনে করি। কিন্তু— আজকাল তো খাঁটি মুসলমানের বড়ই অভাব। নামের মুসলমানে ভরে গেছে সর্বত্র। তারা বাহ্যতঃ নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করলেও— মূলত তারা পশ্চিমাদের দ্বারা প্রভাবিত। অতএব, তাদেরকে শতবার বোঝালেও তারা এসব বই পড়তে আগ্রহী হবে না। তবুও আমি তাদেরকে বলবো বইটি পড়ে দেখবার জন্যে।

    এছাড়াও যারা ইতিহাস সন্ধিৎসু— তাদের জন্যে বইটি বড় উপকারী। এতে আপনারা পাবেন বিভিন্ন দলিল— যা আপনার কখনো কোনো কাজে লেগে যেতে পারে।

    শেষকথা—

    একজন পাঠক হিসেবে বইটি আমার দারুণ লেগেছে। উন্নতমানের বাইন্ডিং, পৃষ্ঠা, প্রচ্ছদ— সবই আমায় মুগ্ধ করেছে। তাই আমি সবাইকে এ বইটি পড়ে দেখবার আমন্ত্রণ জানালাম। আশা করি কেউই হতাশ হবেন না।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top