মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

সবর

অনুবাদ: আবদুল্লাহ মজুমদার
সম্পাদনা: উস্তায আকরাম হোসাইন
বাইন্ডিং: হার্ড কভার

আমাদের জীবনটা বড্ড সমস্যা সংকুল। হঠাৎ করে যদি বাবা মারা যায় অথবা মা, অথবা যদি অনাকাঙ্খিতভাবে হারাতে হয় চাকরি, জীবন যদি বিপদের ঢালি নিয়ে হাজির হয় আমাদের সামনে, আমরা ভেঙে পড়ি। দূর্বল হয়ে পড়ি। ভিতরে ভিতরে গুড়িয়ে যাই।

জীবন এমনই। বহতা নদীর স্রোতের মতো জীবনের গতিপথ সরল এবং সোজা নয়। জীবনের পথ কখনো সমান্তরাল হয়না। অনিবার্য বাস্তবতা হলো এই, জীবনের গতিপথ সবসময় দূর্গম এবং বন্ধুর। পথে পথে কাঁটা বিছানো।

আমরা যদি নবী-রাসূলদের জীবনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখবো যে তাদের জীবনের অধিকাংশ সময়ই অতিবাহিত হয়েছে এই দূর্গম এবং বন্ধুর পথ মাড়ি দেওয়ার মাধ্যমেই। তারা যে পরিবেশ, পরিস্থিতিতে তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে ধরায় এসেছেন, সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি কখনোই তাদের পক্ষে ছিলোনা। তাদেরকে জীবনের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অথচ, তাঁরা ছিলেন নিষ্পাপ। তাহলে কেনো তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে এই কঠিন বাস্তবতার? হ্যাঁ, পরীক্ষা সবসময় বান্দার পাপের ফল নয়। কখনো কখনো বান্দার পরীক্ষাগুলো তার জন্যে আল্লাহর বিশেষ রহমত। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই আল্লাহ্‌ তাঁকে করে নেন আরো প্রিয়, আরো আপন, আরো উত্তম; কিন্তু, সব পরীক্ষাই যে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত, তাও নয়। এর কিছু আছে বান্দার পাপের ফল। বান্দার নিজ হাতে কামাই করা গুনাহর ফসল। বান্দা যখন পাপ করতে করতে নিজের আত্মাকে কলুষিত করে তোলে, তখন তার জন্যে নেমে আসে আযাব। সেই আযাবের নামই পরীক্ষা।

তবুও, এই পরীক্ষা নিয়ামত হোক বা পাপের ফসল- কোন অবস্থাতেই বান্দা ভেঙে পড়বেনা। সাহস হারাবে না। সে ধৈর্যধারণ করবে।

আল্লাহ্‌ বলছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো ভয়, ক্ষুধা, জান-মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। অতএব, ( হে নবী ) আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ প্রদান করুন’। [ বাকারা ১৫৫]

কুরআনের অনেক আয়াতে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া’তাআলা ধৈর্যশীলদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।

একজন মুসলিম কখনোই ধৈর্য হারায় না। ভেঙে পড়েনা। মনোবল হারায় না। আল্লাহর উপর, আল্লাহর ফয়সালার উপর তার পরিপূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস থাকে।

যখন বিপদ নেমে আসে আমাদের উপর, যখন জীবন হয়ে উঠে পরীক্ষাময়, চারদিক থেকে পৃথিবীটা যখন ক্রমশঃ সংকুচিত হয়ে আসে, তখন একজন মুমিন কিভাবে ধৈর্যধারণ করবে? কিভাবে সবর করবে? সে উপায়গুলোর উপর লিখেছেন যুগের ইমাম, ফকীহ, মুজাদ্দিদ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ। তাঁর রচিত বিখ্যাত বই ‘উদ্দাতুস সাবীরিন ওয়া যাখীরাতুশ শাকিরীন’ এর সংক্ষিপ্তসার।

 

পরিমাণ

226.00  290.00 (22% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - সবর

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ‘সবর’ বইটি ইমাম ইবনুল কাইয়িম এর উদ্দাতুস সাবর ওয়া যাকিরুশ শাকিরীন নামের বিখ্যাত গ্রন্থের মুখতাসার (সংক্ষিপ্ত) ভার্সন এর অনুবাদ। এ বইটির মুখতাসার কপিটির অনুবাদ করেছে দুইটি প্রকাশনী, সমর্পণ ও সমকালীন প্রকাশন। এছাড়া সম্পূর্ণ বইটি রুহামা পাবলিকেশন অনুবাদ করেছে যার কলেবর ৬০০ পৃষ্ঠা+। আমার সংগ্রহে রুহামার বিশাল বইটা আছে, কিন্তু ভাবলাম সমকালীনের সংক্ষিপ্ত কপির অনুবাদটাই আগে পড়ি।

    ইমাম ইবনুল কাইয়িম এক ভালোবাসার নাম। দ্বীনের পথে প্রথম আসার দিকে উনার উক্তিগুলো নেটে পড়তাম, তখনই শাইখের লেখার ভক্ত হয়ে যাই। শাইখের লেখা প্রথম যে বই আমার পড়া হয় তা সমকালনীন প্রকাশন থেকে ‘খুশু খুযু’ নামে বের হয়েছে।

    আসি বইয়ের কথায়। ‘সবর’ বইটি অসাধারণ। লেখক সমগ্র বইতেই যেন নিজের অসামান্য ইলমি যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। যখন সবরের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য নিয়ে লিখেছেন তখন মনে হয়েছে সবর এর চেয়ে উত্তম আর কোন আমলই হতে পারেনা। আবার, যখন শোকরের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোকপাত করেছেন তখন মনে হয়েছে সবকিছুই তো শোকরের উপর নির্ভরশীল। যখন সমন্বয় করেছেন, তখন আলোচ্য বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেছে।

    লেখক যখন সবরের বিভিন্ন ধরন, উত্তম সবর ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছেন তখন এত স্বতঃস্ফূর্তভাবে আলোচ্য বিষয়ের অবতারণা করেছেন যে সব শ্রেণীর পাঠকেরই উক্ত বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা এসে যাবে, বিইযনিল্লাহ। ঠিক তেমনিভাবে শোকর নিয়ে যখন আলোচনা করেছেন তখনও পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছেন। কুরআন হাদিস থেকে এত এত দলীল এত প্রামাণ্যভাবে লেখক উপস্থাপন করতে পারঙ্গম যে পাঠকমাত্রই বিমোহিত হবেন।

    বইয়ের দুইটি কোতূহলীদ্দীপক আলোচনার অবতারণা করা হয়েছে। একটি হচ্ছেঃ কে বেশি শ্রেষ্ঠ, ধৈর্যশীল গরীব নাকি কৃতজ্ঞ ধনী – এই বিতর্ক নিয়ে আলোচনা। দ্বিপাক্ষিক বিতর্কের স্টাইলে করা এসব আলোচনার মাধ্যমে আবারও লেখক নিজের পান্ডিত্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। যখন ধৈর্যশীল গরীব লোকের শ্রেষ্টত্বের কথা আলোচনা করেছেন তখন এত এত দলীল এনেছেন যে আমি ভেবেছি দ্বিতীয় দলের শ্রেষ্ঠ হওয়ার কোন সুযোগই নেই। আবার যখন কৃতজ্ঞ ধনী ব্যক্তির শ্রেষ্টত্বের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন তখন মনে হয়েছে তারাইতো শ্রেষ্ঠ। কুরআন, হাদিসের পাশাপাশি সালাফদের আমলও বাদ যায়নি লেখকের বিস্তারিত আলোচনা থেকে। শেষমেষ লেখক এই আলোচনার শিক্ষা টেনে অসম্ভব সুন্দরভাবে আলোচনার সমাপ্তি টেনেছেন।

    ঠিক তেমনিভাবে, সবর নাকি শোকর কোনটা উত্তম এ বিতর্কেরও পর্দা টেনেছেন লেখক এই বইয়ে। সবর এবং শোকর দুটিই তো আল্লাহর পছন্দনীয় গুণ। কিন্তু, উত্তম কোনটা? জানতে হলে বইটি পড়তে হবে।

    বইয়ের উপসংহারে আল্লাহর গুণবাচক নাম সম্পর্কে চমৎকার আলোচনা করেছেন যা পড়ে যেকোন পাঠকই অন্তরে আল্লাহর সাবুর ও শাকুর নাম দুটির মাহাত্ম্য অন্তরে অনুভব করবেন, আল্লাহর প্রতি আরো বেশি কৃতজ্ঞ হবেন।

    সবশেষে, অনুবাদ ও সম্পাদনারও প্রশংসা করতে হয়। তবে অনুবাদে কিছু উচ্চমার্গের সাহিত্যিক শব্দের ব্যবহার হয়ত নতুন পাঠকদের যাদের বাংলা ভাষা জ্ঞান সীমিত তাদেরকে সমস্যায় ফেলতে পারে। যদিও আমার ভালই লেগেছে। উদাহারণস্বরুপ, দুই প্রকার, তিন প্রকার এসব সহজবোধ্য শব্দের বদলে লেখক ব্যবহার করেছেন দ্বিবিধ, ত্রিবিধ প্রভৃতি সচরাচর কম ব্যবহৃত সাহিত্যিক শব্দাবলী। ‘নিরত’ শব্দটিও কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে।

    সমকালীনের সবচেয়ে সুন্দর বাঁধাই হয়েছে এ বইতে। সর্বোপরি, পাঠকমাত্রই এ বই পছন্দ করবেন বলে আশা করি।

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    একজন প্রকৃত মুমিন হিসেবে কিভাবে বিপদে ধর্য্য ধারণ করে বিচক্ষনতার পরিচয় দিতে পারে সেটি শুধুমাত্র এই বইটি পড়লে খুব ভালোভাবে উপলব্ধি করা যাই। লেখকের এক অনবদ্য সৃষ্টি। বইটি পড়লে আপনার ভিতর এমন এক অনুরণন সৃষ্টি হবে যা সত্যি বইটি না পড়লে অনুভব করা যাবে না। সকলের নিকট অনুরোধ থাকলো বইটি পড়ার।
    Was this review helpful to you?