মেন্যু
sobor o shokor

সবর ও শোকর

পৃষ্ঠা ১৩২ পরীক্ষা ঈমানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই পরীক্ষায় মুমিন উত্তীর্ণ হয় সবর ও শোকরের দ্বারা। যত রব্বানি আলিম আবেদগণ ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন, তাদের সবার প্রধান আমল ছিল সবর... আরো পড়ুন
পরিমাণ

144  195 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

- ৫৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি আমল চেকলিষ্ট।

- ৮৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি বই।

5 রিভিউ এবং রেটিং - সবর ও শোকর

4.8
Based on 5 reviews
5 star
80%
4 star
20%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    রওশন আরা মাসুমা – 01/05/2021:

    “আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো যদি তোমরা তাঁরই ইবাদতকারী হয়ে থাকো।” —সূরা: আন-নাহল,আয়াত-১১৪।
    ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাও যে ইবাদতের একটি অংশ সে বিষয়টা বেশিরভাগ সময় মনে থাকে না। এ বইটি সে বিষয়টা আত্মস্থ করতে সাহায্য করেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণ করা এবং যা কিছু আল্লাহর তরফ থেকে পেয়েছি সেগুলোকে আল্লাহর রহমত মনে করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে যে, জীবনকে সহজভাবে আল্লাহর দিকে এগিয়ে নেয়া যায় এ বই পাঠের মধ্য দিয়ে সে বিষয়টি সুন্দর ভাবে উপলব্ধি করতে পারলাম আলহামদুলিল্লাহ।
    “নিশ্চয়ই আমি তাদের ধৈর্যের কারনে আজ তাদের পুরস্কৃত করলাম, আজ তারাই হলো সফলকাম।” সূরা:আল-মুমিনূন,আয়াত-১১১।
    আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধৈর্যশীল হতে এবং কৃতজ্ঞ হতে সাহায্য করুন ,আমীন।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    borhanmia420:

    মাশাআল্লাহ, অসাধারণ একটি বই।
    আমাদের ভুলভাল চিন্তা ভাবনা পাল্টে দেওয়ার মত বই টি।
    এক কথায় মাস্টারপিস একটি বই।
    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 5 out of 5

    redwannabil116:

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভালো_লাগা_সেপ্টেম্বর_২০২০

    বইঃসবর ও শোকর,
    লেখক : আল্লামা ইবনুল কায়্যিম জাওযিয়্যাহ রহ.।

    ★প্রারম্ভিকাঃ
    মুমিন যখন সুখে থাকে তখন আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করে। আবর যখন দুঃখ-কষ্টে নিপাতিত হয় তখন সবর করে। আল্লাহর ফয়সালায় সে কখনো নিরাশ হয় না। আল্লাহর প্রতি সবসময় সুধারণা রাখে। একজন মুমিন সর্বদা তাকদিরের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখে৷ এই সবর ও শোকর ঈমানের অন্যতম একটা অংশ। সবর-শোকর ছাড়া কারো মুমিন হওয়া সত্যিই অবিশ্বাস্য! আমাদের সমাজে অনেকেই আছে যারা আল্লাহর নিয়ামত পেলে শুকরিয়া তো আদায় করেই না বরং আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হয়। আবার দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হলে আল্লাহর উপর সব দোষ দেয়। মনে হয় সে নিশ্পাপ শিশু! ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত! এই ধরনের সমস্যা হওয়ার মূল কারণ সবর-শোকর সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকা। আল্লামা ইবনুল কায়্যিম জাওযিয়্যাহ রহ. এই জানার কাজকেই সহজ করে দিয়েছেন। আরও সহজ করে দিয়েছেন সমর্পন প্রকাশনী বাংলায় বইটি অনুদিত করে।

    ★বিষয়বস্তুঃ
    বইটি সবরের গুরুত্ব সম্পর্কে লেখা হয়েছে। আমাদের কেন সবর করা উচিত? কোন সময় করা উচিত? সবর করলে এর প্রতিদানে মহান আল্লাহ কী প্রতিদান দিবেন? আবার শোকর কোন সময় করতে হবে? এর প্রতিদান কী? ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তরগুলো পাওয়া যাবে বইতে৷ লেখক বইটিতে সবরের বিভিন্ন স্তর, বিভাগ এবং কার ক্ষেত্রে কোনটা প্রযোজ্য এই বিষয়গুলো কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সংকলন করেছেন।

    ★কেন পাড়বেন?
    যাদের সবর-শোকর সম্বন্ধে কোন ধরণা নেই তাদের বইটি পড়া উচিত। যারা ঝাপসা জানেন তাদের জন্যও বইটি গুরুত্ববহ। কারণ বইটিতে এই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা হবে ইনশা আল্লাহ।

    ★পাঠ্যানুভূতিঃ
    বইটি সবর-শোকর সম্বন্ধে প্রথম বই ছিল। তাই বইটিতে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারি। লেখক খুব সুন্দর ভাষায় বর্ণনা করেছেন। বর্ণনার ধারাবাহিকতাও বজায় রয়েছে। বইয়ের কলেবরও ছোট হওয়ায় একবারেই পড়ে ওঠা যাবে ইনশা আল্লাহ। সার্বিক দিক বিবেচনায় বইটি সবর-শোকর সম্পর্কিত অসাধারণ বই।

    প্রকাশনী : সমর্পণ প্রকাশন,,
    বিষয় : ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা,,
    পৃষ্ঠা ১৩২,
    প্রচ্ছদ মূল্যঃ ১৯৫ টাকা (পেপারব্যাক)।

    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    আনিসুল ইসলাম:

    সবর ও শোকর এই বইটি আসলে বই ছিল না আমাকে নিজেকে বদলানোর ফর্মুলা ছিল। আমার অদৈর্য হয়ে ওঠা অল্পতে , কোনো কাজে অন্যদের আগে শেষ করতে দেখে নিজেকে অনেক ব্যার্থ মনে করা সব কিছু ঠিক করতে আসলে মূল কাজ করছে এই বইটি।মনে করিয়ে দিয়েছে এই দুনিয়া পরীক্ষার স্থান, তাই দৈর্য ধরতে হবে আল্লাহর বান্দাদের ,তাহলে আল্লাহর মুমিন বান্দা হয় এ উঠা যাবে।

    বইটি তে যা পাবেন সংকেপে: দৈর্য্য কিভাবে ধর্য ধরতে হবে, ধৈর্য পরীক্ষা টা আল্লাহ তার বান্দাদের পরীক্ষা একটা উপায়,কিভাবে আল্লাহ তার বান্দাদের পরীক্ষা করেন, আল্লাহর এই পরীক্ষায় বান্দার করণীয়,প্রত্যেক মুহুর্তে আল্লাহর সোকর আদায় করা, আল্লাহর শো কর গুজার বান্দা হওয়া, শুকর গোঁজার বান্দাদের জন্য আল্লাহর প্রতিদান, নবী রাসূলদের ধর্যো পরীক্ষা কেমন ছিলেন আর কত কি!
    তার মধ্যে ইমাম ইবনু কাওয়্যম (রহিমাহুললাহ) হয় এ উঠেন আমার প্রিয় লেখক। সব বই পড়ার চেষ্টা করি উনার।

    ২ টি আয়াত দিয়ে শেষ করি :
    … যারা ধৈর্য ধারণ করে কষ্ট দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়। তারা সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী। (সূরা বাকারা ,২:১৭৭)
    ….আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। (সূরা আলে ইমরান ,৩:১৪৬)

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 4 out of 5

    বৃষ্টি জলি:

    ? লেখকের পরিচয় :

    ? ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) ৬৯১ হিজরী সনের সফর মাসের সাত তারিখ সিরিয়ার দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম মুহাম্মাদ। তবে তিনি ‘ইবনুল কাইয়্যুম আল-জাওযিয়্যাহ নামেই অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেন। তিনি দামেস্কের এক মাদ্রাসাতে দীর্ঘদিন অধ্যাপনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি লালিত-পালিত হয়েছেন ইলম ও আমলের চর্চায় নিরত একটি পরিবারে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাঁর মাঝে ইলমের প্রতি প্রচন্ড ঝোঁক পরিলক্ষিত হয়। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে অধ্যায়ন শুরু করেন। তাঁর পিতা একজন বিজ্ঞ আলিম হাওয়ায় তাঁর উদ্দেশ্য ও বিধেয় ষোল কলায় পূর্ণ হতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। তিনি তৎকালীন বিজ্ঞ অনেক আলিম এর শরণাপন্ন হয়েছিল ইলম অজর্নের জন্য।

    ? তাঁর সম্পর্কে শায়খ হাফিয ইবনু কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
    হাদিস, তাফসীর ও ফিকহের মূলনীতিতে ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর সমসাময়িক সকল আলিমকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন উওম চরিত্রের অধিকারী। দুনিয়ার প্রতি নির্মোহ ও নিরাসক্ত একজন মানুষ।

    ? শায়খ ইবনু রজব রাহিমাহুল্লাহ তাঁর সম্পর্কে বলেন,
    তিনি খুব ইবাদতগুযার ছিলেন। প্রভুভক্তি, সুন্নাতের অনুসরণ, বিনয় ও নম্রতা, দুনিয়ার প্রতি নির্মোহতা তার চরিত্রের অনন্য ভূষণ। তিনি নিষ্পাপ নন, কিন্তু তার মতো নিষ্পাপও আমি আর কাউকে দেখিনি।

    ✨ ইমাম সুয়ূতি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,
    হাদীস, তাফসীর ও ফিকহের শাখাগত ক্ষেত্রে তাকে অনেকেই ইমামগণের সমপর্যায়ে গণ্য করে থাকেন। ইবনুল কাইয়্যুম এর জ্ঞানের পরিধি সুবিস্তৃত।জ্ঞানের এই বিশালতা তিনি অর্জন করেছেন বিভিন্ন শায়খ থেকে।

    ?️ তাঁর প্রকাশিত প্রসিদ্ধ কিছু কিতাবের নাম :
    ? যাদল মা’আদ (৪ খন্ড)
    ? আল কালিমুত তায়্যিব
    ? কিতাবের রূহ
    ? নুযহাতুল মুশতাকীন
    ? আহকামুল মাউলূদ
    ? আত তিবয়ান ফী আকসামির কুরআন
    ? সফরুল হিজরাতাইন

    ? এই দীপ্তমান প্রদীপটি ৬০ বছর বয়সে ৭৫১ হিজরীর ১৩ই রজব বুধবার দিবাগত রাতে ইশার আযানের সময় চিরদিনের জন্য নিভে যায়। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উঁচু মাকাম নসীব করুন।

    ?️??️ বই রিভিউ ?️??️

    ? সবর ও শোকর বইটি তেরো শতকের জগদ্বিখ্যাত আলিম, মুজতাহিদ ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) এর অমূল্য গ্রন্হ ‘উদ্দাতুস সাবিরীন ওয়া-যাখিরাতুশ শাকিরীন’-এর সংক্ষেপিত বাংলা অনুবাদ।

    ? আমাদের দুনিয়ার জীবন একটি পরীক্ষা ক্ষেএমাত্র। এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে আমাদের হাসি-কান্না, ভাঙ্গা-গড়া, সুখ-দুঃখের মাঝেই বেঁচে থাকতে হয়। এ জীবনে কখনো ফাগুনের ধারা বয়, কখনো-বা কালো মেঘে ছেয়ে যায় চলার পথ। যখন ফাগুনধারা বইবে আমাদের জীবনে তখন শোকর আদায় করতে হবে। কারণ, এই ধারা আমাদের প্রচেষ্টায় বয়নি। স্রষ্টার হুকুমেই বয়েছে। আর যখন কালো মেঘে ছেয়ে যাবে আকাশ, তখন আমাদের সবর করে যেতে হবে। কারণ, স্রষ্টা আমাদের পরীক্ষা করছেন। এই সময়টুকুতে আমাদের ধৈর্য্যের সাথে পার করতে হবে।
    সত্যি বলতে কি, জীবনটা ভয়ানক খাদের মতো। এই খাদ পেরিয়ে মঞ্জিলে পৌঁছুতে হলে আমাদের অবশ্যই শোকরের পাটাতনে পা রেখে মজবুত করে সবরের রশি আঁকড়ে ধরতে হবে। নয়তো নিজেদের অজান্তেই খাদে পড়ে যাবার সমূহ সম্ভবনা রয়েছে।

    ? আমাদের এই ছোট জীবনে ভালো-মন্দ আসে রাতদিনের অনন্তর পালাবদলের মতো। মুর্হূতেই চোখে পৃথিবীর আলো, আবার মুর্হূতেই রাজ্যের অন্ধকার। কোনো অবস্থাই স্থায়ী নয় এখানে— স্থায়ী নয় এই জীবন, এই ঘর ও সংসার। এখানে নিরবিচ্ছিন্ন আনন্দধারা বলে কিছু নেই, তবে ব্যতিক্রম কেবল সেই রহস্যময় ব্যাক্তিত্ব, যে নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছে তার প্রভুর সন্তুষ্টির আয়োজনে, এবং তার সাথে মিলিত হবার প্রাণান্তকর পথচলায়। সুতরাং তার শাখায় যখন কুঁড়ি গজায়, ফুল ফোটে তখন এই রূপের ডালি কৃতজ্ঞতার উপহারস্বরূপ তার প্রভুর দুয়ারে নিবেদন করে আখেরাতের আশায়। আর যখন দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয় তখন সে ধৈর্যকে আখেরাতের কল্যাণ অর্জনের উপকরণ হিসেবে যথাযথভাবে কাজে লাগায়, এ কারণে যা-কিছুই ঘটুক আল্লাহর ফায়সালা হিসেবে গ্রহণ করে সে সন্তুষ্ট থাকে, এবং এসব আল্লাহর পক্ষ থেকে বলে অন্তরে শান্তি অনুভব করে। এটা হচ্ছে একজন প্রকৃত ও সফল মুমিনের জীবনধারা।

    ? মুমিনের এই জীবনধারার মূল প্রেরণা হচ্ছে কুরআন থেকে নেওয়া অত্যুজ্জল জীবনদৃষ্টি।

    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া-তাআলা বলেন—
    “আর অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও সবরকারীদের।“
    [আল-কুরআন, ২:১৫৫]

    “কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।“
    [আল-কুরআন, ৯৪:৫-৬]

    ?️ আলিমগণের ঐক্যমতে ধৈর্য বা ধৈর্যের অধ্যবসায় বাধ্যতামূলক। এটা ঈমানের অর্ধেক, বাকি অর্ধেক কৃতজ্ঞতা। কুরআনুল কারীমে মোট নব্বই বার ধৈর্যের উল্লেখ আছে। ঈমানের সাথে ধৈর্যের সম্পর্ক—দেহের সাথে মাথার সম্পর্কের মতো; আর যার ধৈর্য নেই তার ঈমানও নেই।
    নিচের আয়াতগুলোতে আল্লাহ মুমিন বান্দাদের ধৈর্যধারণের আদেশ দিয়েছেন—
    “হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।“
    [আল-কুরআন=০২:১৫৩]

    হাশরের দিন আল্লাহ বলবেন—
    “নিশ্চয় আমি তাদের ধৈর্যের কারণে আজ তাদের পুরস্কৃত করলাম, আজ তারাই হলো সফলকাম।“
    [আল-কুরআন=২৩:১১১]

    আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ধৈর্যের তাগিদ দিয়ে বলেন—
    “…আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।“
    [আল-কুরআন=৩:১৪৬]

    আল্লাহ আমাদের বলেন—তিঁনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। এই ‘সাথে থাকা’ বিশেষ ধরনের সাহচর্যকে বোঝায়। এখানে সাথে থাকার অর্থ : আল্লাহ তাদের বিপদে রক্ষা করেন এবং সাহায্য করেন। তিঁনি ছাড়া কে আছেন আমাদের রক্ষাকর্তা?

    ? আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আনহু তিন প্রকার পর্যায় সৃষ্টি করেছেন—
    ? যেখানে শুধু সুখ আর সুখ আরাম আর আরাম, দুঃখ-কষ্টের লেশমাএ নেই, তা হলো জান্নাত।
    ? যেখানে শুধু দুঃখ আর দুঃখ সুখের ছিটেফোঁটাও নেই, সেটা হলো জাহান্নাম।
    ? যেখানে সুখ-দুঃখ, আরাম-আয়েশ সবই আছে, তা হলো দুনিয়া।

    তাই আজ পর্যন্ত এ পৃথিবীতে এমন কেউ আসেনি, কখনো আসবেও না দুঃখ-কষ্ট যাকে কখনো স্পর্শ করেনি। যত বড় শিক্ষিত সম্পদশালী বা ক্ষমতাশালীই হোক কিংবা মুত্তাকী পরহেজগারই হোক না কেনো, এ পৃথিবীতে থাকতে হলে সুখের সঙ্গে দুঃখ-কষ্ট, বিপদাপদের সম্মুখীন তাকে হতেই হবে। নবী রাসুলগণও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না।

    ? বিপদ-আপদের সময় আমাদের চিন্তা করা উচিৎ সামান্য ক’দিনের কষ্ট মাএ, দুনিয়ার কষ্ট থেকে তো কারো মুক্তি নেই। তাছাড়া আল্লাহর কোনো কাজ হেকমত থেকে খালি নয়। সে হেকমত আমাদের বুঝে আসুক বা না আসুক। তাই যতো কষ্টই হোক, হৃদয় ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাক, আল্লাহর ফয়সালার ওপর অভিযোগ না তুলে মনে প্রাণে মেনে নেয়া। বরং এই চিন্তা করা যে, আল্লাহর ফয়সালার ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারণ কিসে আমার কল্যাণ তাতো আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আনহুই আমার চেয়ে ভালো জানেন। সর্বাবস্থায় আমি তার মুখাপেক্ষী।

    ? শেখ সা’দী রহ. বলেন, অন্যান্য নেয়ামতের কথা না হয় বাদই দিলাম শুধু বেঁচে থাকা কত বড় নেয়ামত! প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসে দু’টি নেয়ামত লুকায়িত আছে; শ্বাস নেয়া একটি নেয়ামত, তেমনি শ্বাস বের করা আরেকটি নেয়ামত। কেননা শ্বাস যদি ভেতরে গিয়ে বের না হয় তাহলে বিপদ, বাইরে এসে ভেতরে না গেলেও বিপদ। প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাসে মানুষ দু’টি নেয়ামত ভোগ করে। আবার প্রত্যেক নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত। সে হিসেবে প্রতি শ্বাসে শুকরিয়া আদায় করলেও শুধু শ্বাস প্রশ্বাসের শুকরিয়া আদায়ই শেষ হয় না; অন্যান্য অসংখ্য নেয়ামতের শুকরিয়া তো সুদূর পরাহত।

    মোটকথা, আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা আনহুর নেয়ামতের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করা মানুষের সাধ্যের বাইরে। তাই অধিক পরিমাণে শুকরিয়া আদায় করতে থাকা আল্লাহ তা’য়ালার নিকট অতি প্রিয় আমল। এতে সওয়াবও অনেক।

    পবিএ কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা আনহু বলেন,
    “তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো, অকৃতজ্ঞ হয়ো না।“
    [আল-কুরআন=০২:১৫২]

    ? শোকর আদায়কারী বান্দা/বান্দী আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা আনহুর নিকট অতি প্রিয়। আর যে শোকর আদায় করে না সে ঘৃণিত। অকৃতজ্ঞ ব্যাক্তি সামান্য কষ্টেই বিরূপ হয়, অপরাপর অসংখ্য নেয়ামতের কথা ভুলে যায় যা সে ওই মুহূর্তেও ভোগ করছে।সামান্য কষ্টকে পাহাড়সম মনে করে মাথা কুটে।
    পক্ষান্তরে আল্লাহ’র শোকর আদায়কারী বান্দার অবস্থা হলো, মসিবতের সময়ও তার দৃষ্টি থাকে আল্লাহ’র অন্যান্য নেয়ামতের দিকে। সেগুলোর শুকরিয়া সে আদায় করে এবং মসিবত দূর হওয়ার দোয়া করে।

    ?️ মানুষের ওপর শয়তানের সর্বপ্রথম হামলা হলো এই যে, সে তাকে শোকর আদায় করতে বাঁধা দেয়। অকৃতজ্ঞতায় ডুবিয়ে রাখে। পবিএ কুরআনে এসেছে, শয়তান যখন কেয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থাকার সুযোগ পেলো আল্লাহ তা’লার সামনেই সে তার মনোবাঞ্ছা ব্যক্ত করল, ‘আমি আপনার বান্দাদেরকে বিভ্রান্ত করব এবং সর্বদিক থেকে তাদের ওপর আক্রমণ করব। ফলে তাদের অধিকাংশকে শোকর আদায়কারী পাবেন না।‘
    [আল-কুরআন=০৭:১৭]

    এতে বোঝা গেলো, শয়তানের সবচেয়ে বড় কামনা এবং আপ্রাণ চেষ্টা থাকে আল্লাহ’র বান্দাদেরকে শুকরিয়া আদায় না করাতে লিপ্ত রাখা, শোকর আদায়ের ফযিলত থেকে বঞ্চিত রাখা।
    পক্ষান্তরে, যারা সর্বাবস্থায় শুকরিয়া আদায় করে তাদের ওপর শয়তানের কোনো চক্রান্ত চলেনা।

    ?️ সুখের দিন গুলিতে আমরা কি পরিমাণ সুখে থাকি তা কেবল দুঃখের দিন গুলিতেই উপলব্ধি করা যায়। দুঃখের দিন গুলিতে আমরা হতাশ হয়ে যাই। অথচ এত দিন আমরা সুখের দিন গুলি কাটিয়ে এসেছি, এই ব্যাপারটা আমরা ভুলেই যাই!! যে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আনহু রাতের পরে দিন আনতে পারেন, তিনি এক মুহূর্তেই দুঃখের পরে সুখ এনে দিতে পারেন। এইটা কোন ব্যাপারই না আল্লাহ্‌ তা’য়ালা এর জন্য। এই কথাটা যেনো আমাদের মনেই থাকে না। হায়!! আমরা কতই না অকৃতজ্ঞ !। অথচ এত কিছু সত্ত্বেও আমাদের মহান রব তো আমাদের কখনও ছেড়ে যান না।

    ? তাই আমাদের উচিত দুনিয়ার এই ছোট্ট জীবনে মহান রবের পানে ছুটে চলা।বিপদে সবর আর সুখের সময়ে শোকর আদায় করা। কেননা এমন কোন বিপদ নেই যা আল্লাহ্‌ ব্যতীত কেউ দূর করে দিবেন। আর এমন কোনো সুখ নেই যা মহান রব ব্যতীত কেউ এনে দিতে পারবেন। সুখে, দুঃখে সর্ব অবস্থাতেই আপনি কেবল একজনকেই খুঁজে পাবেন আর তিঁনিই হলেন আপনার আমার মালিক আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু।

    ♻️ এ বইটির উদ্দেশ্য হলো—
    ধৈর্যের তীব্র প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা এবং দুনিয়ার শাস্তি ও আখেরাতের মুক্তি যে ধৈর্যের ওপর নির্ভরশীল, সে বিষয়ে বুঝিয়ে বলা। বইটি কল্যাণের এক ফল্গুধারা-যার উপদেশ ও শিক্ষা থেকে পাঠক ব্যাপক উপকার লাভ করতে সক্ষম হবে।

    ? বইটি পড়লে আপনি জানতে পারবেন—

    ? ধৈর্য কী?

    ? ধৈর্যের স্তরসমূহ।

    ? ধৈর্যের প্রকারভেদ।

    ? ধৈর্যের ভালোমন্দ।

    ? কীভাবে ধৈর্য বাড়াবেন?

    ? মানবজীবনে ধৈর্যের অপনিহার্যতা।

    ? আল-কুরআনে ধৈর্য।

    ? আল-হাদীসে ধৈর্য।

    ? সাহাবাদের মধ্যে ধৈর্যের গুণাগুণ।

    ? ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা।

    ? কুরআনে কৃতজ্ঞতা।

    ? হাদীসে কৃতজ্ঞতা।

    ? সাহাবা ও তাবিঈনদের কৃতজ্ঞতার দৃষ্টান্ত।

    এইগুলোর বিস্তারিত বর্ননা এবং আরও অনেক কিছু জানতে পারবেন বইটি পড়ে।

    ? বইয়ের প্রচ্ছদ, ডিজাইন, বাইন্ডিং অসাধারণ । বইটার প্রচ্ছদ দেখে আর নাম শুনে আপনার পড়ার প্রতি আগ্রহ কাজ করবে।

    ? পরিশেষে,
    “নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও নারী, মুমিন পুরুষ ও নারী, অনুগত পুরুষ ও নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও নারী, বিনয়াবনত পুরুষ ও নারী, দানশীল পুরুষ ও নারী, সিয়ামপালনকারী পুরুষ ও নারী, নিজদের লজ্জাস্থানের হিফাযতকারী পুরুষ ও নারী, আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও নারী, তাদের জন্য আল্লাহ মাগফিরাত ও মহান প্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন।“
    [আল-কুরআন=৩৩:৩৫]

    ❄️ আল্লাহ তাআলা ধৈর্যকে তাঁর ভালোবাসা, তাঁর বন্ধুত্ব, তাঁর সাহায্য-সহযোগিতা এবং তাঁর উওম প্রতিদান লাভের মাধ্যম বানিয়েছেন। সম্মান ও অনুগ্রহের জন্য এটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

    ? আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা আনহু আমাদের সকলকে দুনিয়ার পরীক্ষায় সবর ও শোকর আদায় করে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হবার তাওফিক দান করুন।
    আমিন।

    6 out of 8 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No