মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

সুখের নাটাই

সম্পাদনা : আবুল হাসানাত কাসিম, আব্দুল্লাহ মাহমুদ, নুসরাত জাহান মুন
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১০৪

সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মানুষ সুখের সন্ধান করে ফিরছে। নিজেদের জীবনকে সুখের আবরণে আচ্ছাদিত করতে মানুষের আজন্ম অভিপ্রায়। সভ্যতা এগোলো, মানুষ সংঘবদ্ধ হলো, গড়ে উঠলো সমাজ, রাষ্ট্র আর পরিবার। মানুষ থিঁতু হলো একটা জায়গায়। কিন্তু, সুখ সন্ধানে তার যে পৌরাণিক পৌনঃপুনিকতা, তা থেকে সে কি নিবৃত হতে পেরেছে কখনো?

আজ আমরা জানি, ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন কিংবা রাষ্ট্রজীবন, সবখানেই মুখ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিবার। একটা পরিবার কাঠামোর মধ্যেই নিহিত থাকে আমাদের সমাজজীবন, রাষ্ট্রজীবন আর ব্যক্তিজীবনের সুখের বীজ। আমাদের পরিবার যতোখানি গোছানো হবে, যতোখানি পরিপাটি হবে আমাদের সংসার, আমরা ততোখানিই সুখের কাছাকাছি যেতে পারবো। তবে, এসবকিছুকে ছাপিয়ে, সুখী জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সারকথা নিহিত আছে যে বিষয়ে, তা হলো মহান রবের সন্তুষ্টি। আমরা একটা বৃত্তবন্দী জীবন পার করি। আমাদের কেন্দ্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানই প্রধান এবং মুখ্য। ফলে, আমরা যতোখানি কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে পারবো, কিংবা একীভূত হতে পারবো তার মাঝে, ততোই আমাদের জীবন সুখী হবে। সুখের সুন্দর সৌন্দর্য তখন আমাদের জীবনে প্রস্ফুটিত হবে। বৃত্তবন্দী সেই জীবনের পরত থেকে, সুখের অনুসন্ধানে লেখিকা আফরোজা হাসান রচনা করেছেন ‘সুখের নাটাই’ শিরোনামে একটি অনন্য শৈলীর উপাখ্যান।

আমাদের বৃত্তবন্দী জীবনের অলিগলি থেকে, জীবনের পরত থেকে তুলে আনা সুখ সন্ধানের গল্পগুলো লেখিকার কলমে দারুণ শৈল্পীকতার রূপ লাভ করেছে। ‘সুখের নাটাই’-এ ভর করে, আমরাও ডুব দেবো অনন্ত অসীম আকাশে, যেখানে দেখা মিলবে সত্যিকার সুখের ঘুড়ির

পরিমাণ

124.00  160.00 (22% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

4 রিভিউ এবং রেটিং - সুখের নাটাই

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    কোন গঠনমূলক বই পড়া, নিজের মত করে কিছু নোট করা, ডায়েরীর পাতায় অগোছালো আঁচড় কেটে দিনলিপি লিখে যাওয়া আমার একান্ত পছন্দের বিষয়৷ কখনও বা শুধুই নিজে নিজে চুপচাপ বসে থেকে চিন্তার গভীরে ডুবে যাওয়াতেও যে মানসিক প্রশান্তি আর শক্তি মিলে সেইটাও ভাল লাগার৷ কিন্তু খুব পছন্দের বা ভাল লাগার কাজগুলিও ইদানিং করবার ফুরসত মিলে খুবই কম৷ ব্যস্ততার ভীড়ে এই আমি হারিয়ে অন্য আমির সাথে পথ চলি প্রতিদিন৷ এ যেন নিত্য অভ্যাসে রপ্ত করে নিয়েছি৷ বসন্ত বাতায়ন বলি আর বাদল বরিষণ বলি সবই এখন প্রাত্যহিক বদ্ধ নিয়মে বন্দী৷ তবুও মাঝে মাঝে কিছু বই জোর করে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাকে কব্জা করে ফেলে যা পড়ে শেষ না করা পর্যন্ত ভাল লাগেনা৷ লেখিকা আফরোজা হাসান আপুর “সুখের নাটাই” তেমনি একটা বই৷ পাওয়া মাত্রই যার মাণিক্য আত্মস্থ করতে বিন্দুমাত্র বিলম্ব করিনি৷

    লেখিকা ব্যক্তিগত জীবনে একজন মনোশিক্ষাবিদ ও কাউন্সেলর৷ জীবনের নানামুখী বাস্তব সমস্যার সমাধান ও পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি উনার সব্যসাচী ভূমিকা রাখেন ইসলামী সাহিত্য অঙনেও৷

    তেমনি বইমেলা-২০২০ এ প্রকাশিত “সুখের নাটাই” উনার প্রানবন্ত ও প্রাঞ্জল গল্পের সমাহার৷

    দাম্পত্য ও পারিবারিক সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি ও টানাপোড়নের জটিল ও কঠিন তত্ত্বগুলিকে গুঁড়িয়ে দিয়ে যিনি সরলীকরণ ও সমাধানের পথ বাতলিয়ে দিয়েছেন গল্পের আদলে৷ বিশ্বায়নের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সবখানেই যেখানে ভাঙন আর অসৌজন্যতার ছড়াছড়ি ঠিক সেখানেই তিনি ভালোবাসা, সম্প্রীতি, ক্ষমা আর সৌহার্দ্রের বার্তা দিয়েছেন বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে৷

    ৬ টি ভিন্ন ভিন্ন গল্প আর প্রেক্ষাপট চিত্রায়নের মাধ্যমে সাবলীলভাবে বর্ণনা করেছেন পারিবারিক সমস্যাগুলো উত্তরণের উপায়, বাঁধতে শিখিয়েছেন প্রীতিডোরে৷ একেকটি গল্পে একেকটি চরিত্রের মাধ্যমে লেখিকা নিজেই তার দীর্ঘদিনের মনোচিকিৎসা ও শিক্ষার আলোকে অভিজ্ঞতালব্ধ নিজের কথাগুলো বলেছেন সুন্দর উপস্থাপনায়৷

    চলুন-

    //”ছোট ছোট ত্যাগে স্বপ্নিল জীবন” গল্পে অন্তরার মুখ দিয়ে কিছু কথা শুনি-

    “স্কুল-কলেজের পরীক্ষার মতো সংসারটাও একটা পরীক্ষা৷ কারও সাহায্য ছাড়াই কেবল আল্লাহর দেয়া মেধা-প্রতিভা ও নিজের পরিশ্রমের জোরে জীবনের পরীক্ষায় যেভাবে তুমি প্রথম হয়েছ, তেমনি সংসার নামক পরীক্ষাতেও প্রথম হবার ইচ্ছা ও চেষ্টা জারি রাখতে হবে৷ আর যারা জীবনের পরীক্ষায় টপ করতে চায়, অন্যেরা কী করছে না-করছে সেসব দেখার সময় তাদের থাকে না৷ জীবনের ছোট ছোট পরীক্ষায় সফল হতে হতে তারা ছুটে চলে আখিরাতের চূড়ান্ত সফলতার পানে”

    “কোনো ঘটনা বা কথা তোমাকে কতটা বিচলিত করবে, সেটা নির্ভর করে তুমি ঘটনা বা কথাকে কীভাবে দেখছ বা গ্রহণ করছ তার ওপর৷ অর্থাৎ, তোমার দৃষ্টিভঙির ওপর৷”

    “মনোবিজ্ঞানীরা বলেন- মানুষ কষ্ট পায় না, কষ্ট তৈরি করে৷ আর কে কেমন কষ্ট তৈরি করবে সেটা তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ, শিক্ষা আর বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে৷”

    “জগতে তোমার ইচ্ছেমত কেউই চলবে না৷ কারণ, তোমার নিয়ন্ত্রণে কেউ নেই৷ তোমার নিয়ন্ত্রণে আছ কেবল তুমি নিজে৷ আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই দেখবে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ৷”

    “আমরা নিজেদের ইচ্ছে, আকাঙ্খা, স্বপ্ন, কষ্ট ইত্যাদিকে বড় করে দেখি বলেই আমাদের জীবনটা জটিল হয়ে ওঠে৷ এভাবেই সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব আসে, ব্যবধান বাড়ে, কাছের মানুষরা দূরে চলে যায়৷ শুধু একটু ইচ্ছা, প্রচেষ্টা, অন্যকে বুঝতে পারার মানসিকতাই সম্পর্কগুলোকে করে দিতে পারে স্বপ্নিল৷”//

    //”জোছনার শিশিরে” গল্পে আরিয়া আর ফায়েজ এর শপিং করার সময় বেশ মজা লেগেছে ফায়েজের বুদ্ধিমত্তায়, যেভাবে আরিয়াকে সারপ্রাইজ করেছে না পাওয়ার কষ্ট দিয়ে তা পড়তে গিয়ে নিজেই হেসে দিয়েছিলাম৷

    রবি ঠাকুরের মতে- মেয়েরা দুই জাতের; এক জাত প্রধানত মা, আরেক জাত প্রিয়া৷ ঋতুর সঙে তুলনা করা হলে মা হল বর্ষাঋতু৷ এ ঋতুতে আমরা পাই জল, ফল-ফসল৷ এ ঋতুতে তাপ নিবারিত হয়, বৃষ্টি বর্ষিত হয়৷ আর প্রিয়া হলো বসন্ত ঋতু- রহস্যময়ী ও রক্তে চাঞ্চল্য আনয়নকারী৷

    আর ফায়েজের মতে- আরিয়া হল জাতে মা আর ঋতুতে বর্ষা৷ মজার সব বিশেষণ জেনেছি গল্পটিতে৷

    ভালই লেগেছে দুজনার কথাগুলো৷

    “সুখী হবার খুব সহজ ও ফলপ্রসূ একটি শর্ত হচ্ছে, আমরা যখন যে অবস্থানে থাকব বা যে ব্যক্তির সাথে থাকব, সুখ চাইতে হবে সেই অবস্থান বা সেই ব্যক্তির অবস্থান অনুযায়ী”

    “সংসারে সুখী হতে চাইলে নিজ নিজ প্রাপ্তির হিসেব করা ছাড়তে হবে৷ ভালোবাসা মানে আমি তোমাকে কী দিলাম এবং বদলে কী পেলাম তার যাচাই করা নয়৷ বরং একে অন্যের ঘাটতিগুলো পূরণ করতে করতে দুজন মিলে একই গন্তব্য পানে ছুটে চলা৷//

    //”অন্তরালের ছায়া” গল্পে ইলমা আর নুরির কথায় কথায় উঠে এসেছে জীবনের কিছু সহজ পাঠ৷ নুরির কথায় শুনি কয়েকটি-

    “এত ভালোবাসাবাসি, এত টান, এত আকর্ষণ থাকার পরও সম্পর্কগুলো ভেঙে যায় কেন? জীবন দিয়ে দেবার দাবিদারেরা একে অন্যের জন্য নিজেদের ছোট্ট ছোট ইচ্ছা-অনিচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দের ত্যাগ স্বীকার করতে পারে না কেন? কোনো ব্যক্তিই যেখানে ভুলের উর্ধ্বে নয়, সেখানে ক্ষমা করে দিতে পারে না কেন একে অন্যের ভুলগুলো? কেন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে ভেঙে ফেলাকেই পছন্দ করতে শুরু করেছে মানুষ? কেন ঘৃণার আঁধারে ঢেকে যায় ভালোবাসার সূর্য?

    “পূর্বপ্রস্তুতি যেকোনো নেতিবাচক ঘটনার সাথে মানিয়ে নেওয়ার চমৎকার একটি ফর্মূলা৷ তাই একটি সম্পর্ক যত মধুরই হোক না কেন কিংবা একজন মানুষ যতই ভালো হোক না কেন, তার ভেতরে নেতিবাচক কিছু থাকতেই পারে! এই ভাবনাটা এবং এটা মেনে নেওয়ার উদারতাই ‘ভালোবাসার’ ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত৷”

    “কিছু কিছু মূহুর্ত ভীষণ রকম অসহায়ত্ব নিয়ে হাজির হয় আমাদের কাছে! পছন্দের মানুষরা খুব কাছে থাকার পরও অদ্ভূত এক একাকিত্ব ঘিরে ধরে মনকে৷ অকারণেই বারবার ভিজে ওঠে চোখ৷ চোখ বুজলেই দেখা যায় বুকের ভেতরে ভেসে বেড়াচ্ছে শূন্যতা৷ আকাশের বুকে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ উড়ে বেড়ানোর মতো৷ এই অনুভূতিগুলোর কাছে নিজেকে খুব অসহায় লাগে৷ তখন মন প্রশান্তি খুঁজে পায় একমাত্র রবের স্মরণে৷”

    “ভালো লাগার জন্য মানুষ অন্যকে কষ্ট দিতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার জন্য নিজে কষ্ট সহ্য করে৷”

    আরও এমন অনেক সুন্দর কথার গাঁথুনি সাজানো হয়েছে বইটিতে বিভিন্ন চরিত্রের আলোকে৷

    অধরা আর মারইয়ামের কথামালায় কিভাবে বাসায় কোয়ালিটি টাইম বাড়ানো যায়, কিভাবে সম্পর্কের সূতোয় বেঁধে রাখা যায় তার সহজ ও সুন্দর পাঠ রয়েছে৷ তবে আর নির্দিষ্ট উক্তি কোট করছি না৷ সেগুলো আপনাদের পড়ার জন্য৷

    খুব জোর দিয়েই বলছি, পুরো বইটি পড়তে পড়তে নিজেদেরই বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে মিলিয়ে ফেলেছি বিভিন্ন চরিত্রে৷ আর এইটাই বইটির মূল আকর্ষণ৷ বইটি পড়তে গিয়ে ক্ষমা আর ঔদার্য্যের পাঠ খুব সুন্দরভাবে মনের মধ্যে গেঁথে গেছে চমৎকার সব কথামালা আর শব্দের গাঁথুনিতে৷

    আর একটি কথা- বইটিতে পারস্পারিক বাক্যালাপের মধ্যে কিছু ছোট ছোট কবিতা আছে যা আপনার মুড কে সুইচ অন করে প্রাণোচ্ছলতায় ভরিয়ে দিবে৷

    আর লিখলাম না৷ কারন পুরো বইটিই তাহলে এখানে দিয়ে দিতে হবে৷ বইটি পরিবারের সদস্যদের উপহার দিই৷ আর শিক্ষাগুলো কাজে লাগিয়ে পথ চলি সুখের নাটাই ধরে রেখে৷

    আল্লাহ রাব্বুল আলামীন লেখিকা ও এই বইয়ের পেছনে যাদের মেহনত আছে তাদের সবাইকে কবুল করুন৷ আর আমাদেরকে এখান থেকে সুন্দর শিক্ষাগুলো অন্তরে লালন করে জীবনে চলার তাওফিক দিন৷ আমীন৷

    লেখিকার আরও যে বইগুলো পড়ে দেখতে পারেন

    ১৷ “আপনার সন্তান আপনার ভবিষ্যত”- আপনার ভবিষ্যত বংশধর, আগামীর উত্তরসূরিকে প্রস্তুত করবার জন্য সুন্দর ও প্রাণবন্ত এক অভিধান৷

    ২৷ “স্বপ্ন দেখি সুন্দর পৃথিবীর”- এই বইটিও আপনার মানবীয় গুনাবলীর লালন ও জীবনে প্রয়োগের বিভিন্ন পন্থা শিখিয়ে দেবে আপনার অবচেতনভাবেই৷ এমন প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় আপনাকে আপনার মানবসত্ত্বা বিকশিত করবার জন্য দারুন এক কথামালা৷

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার অবক্ষয় থেকে মুক্ত থেকে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক পারিবারিক বন্ধন সূদৃঢ় করতে বইটি অসাধারন। লেখিকার প্রতি দোয়া ও আন্তরিক ভালোবাসা রইলো।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5

    :

    সেই প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে মানুষ সুখের সন্ধান করে ফিরছে। নিজেদের জীবনকে সুখের আবরণে আচ্ছাদিত করতে মানুষের আজন্ম অভিপ্রায়। সভ্যতা এগোলো, মানুষ সংঘবদ্ধ হলো, গড়ে উঠলো সমাজ, রাষ্ট্র আর পরিবার। মানুষ থিঁতু হলো একটা জায়গায়। কিন্তু, সুখ সন্ধানে তার যে পৌরাণিক পৌনঃপুনিকতা, তা থেকে সে কি নিবৃত হতে পেরেছে কখনো?আজ আমরা জানি, ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন কিংবা রাষ্ট্রজীবন, সবখানেই মুখ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পরিবার। একটা পরিবার কাঠামোর মধ্যেই নিহিত থাকে আমাদের সমাজজীবন, রাষ্ট্রজীবন আর ব্যক্তিজীবনের সুখের বীজ। আমাদের পরিবার যতোখানি গোছানো হবে, যতোখানি পরিপাটি হবে আমাদের সংসার, আমরা ততোখানিই সুখের কাছাকাছি যেতে পারবো। তবে, এসবকিছুকে ছাপিয়ে, সুখী জীবনের সবচেয়ে বড় এবং সারকথা নিহিত আছে যে বিষয়ে, তা হলো মহান রবের সন্তুষ্টি। আমরা একটা বৃত্তবন্দী জীবন পার করি। আমাদের কেন্দ্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানই প্রধান এবং মুখ্য। ফলে, আমরা যতোখানি কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকতে পারবো, কিংবা একীভূত হতে পারবো তার মাঝে, ততোই আমাদের জীবন সুখী হবে। সুখের সুন্দর সৌন্দর্য তখন আমাদের জীবনে ফুটে উঠবে। বৃত্তবন্দী সেই জীবনের পরত থেকে, সুখের অনুসন্ধানে লেখিকা আফরোজা হাসান রচনা করেছেন ‘সুখের নাটাই’ শিরোনামে একটি অনন্য শৈলীর উপাখ্যান।

    বইটি পড়েই নিজের ভিতরে একটা অন্যরকম অনুভূতি কাজ করবে। কিভাবে পরিবার জীবনের সমস্যা গুলোর সুন্দর সমাধান করা সম্ভব তা গল্পের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। তাই আমি মনে করি, সকলের বইটি পড়া উচিৎ।

    Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5

    :

    #ওয়াফি_লাইফ_পাঠকের_ভালো_লাগা_জুন_২০২০

    সুখের নাটাই
    ••••••••••••••••
    ✓লেখক : আফরোজা হাসান
    ✓প্রকাশনী : সমকালীন প্রকাশন
    ✓বিষয় : ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও অনুপ্রেরণা
    ✓সম্পাদনা : আবুল হাসানাত কাসিম, আব্দুল্লাহ মাহমুদ, নুসরাত জাহান মুন
    ✓পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১০৪

    আমরা চাই একটা সুন্দর পরিবার। যে পরিবার দেখে চোখ জুড়ায়। যে পরিবার নবী করীম স. উপভোগ করেছিল তেমন সুন্দর পরিবার।আর এমন সুন্দর চোখ জুড়ানো পরিবার পেতে হলে লাগবে আল্লাহর সন্তুষ্টি। পরিবারের সকল কিছু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হলে সে পরিবার হই চক্ষু শীতল করা পরিবার। কিন্তু কি এমন করা প্রয়োজন যা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করবে। এই সমাধান নিয়েই গল্পের আঙ্গিকে সুন্দর ভাবে সাজানো হয়েছে এই বইটি।

    বিষয়বস্তু—
    °°°°°°°°°°°°°°°°
    বইটি সাধারনত পরিবারকে সুন্দর ভাবে গড়ার জন্য,সাজানোর জন্য সমাধান তুলে ধরা হয়েছে। সকল পরিবার সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর তুলে ধরা হয়েছে গল্পের মাধ্যমে। বইটিতে ৬ টি পরিবারের গল্পঃ তাদের খুনসুটি , তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে আমরা কিভাবে পর ত্যাগের উপকার, শাশুড়ির সাথে নানা সমস্যার সমাধান এবং শসুর শাশুড়ির সাথে কেমন হতে হবে,শাশুড়ি কিভাবে পুত্র বধূর সাথে আচরন করবে,স্বামীর সাথে কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে,স্ত্রীর সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নিতে হবে,পরিবারে কিভাবে দ্বীন শিক্ষা দিবে, সন্তানদের কিভাবে আদব কায়দা শিখাতে হবে,কিভাবে সন্তানদের কাছে প্রিয় জন হতে উঠতে হবে যাতে সব কিছু সেয়ার করে সকল পরিবার সম্পর্কিত সমাধান রয়েছে।

    পাঠ্যানুভূতি—
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°
    আমি বইটা যখন পড়তে শুরু করি তখন মনে করি কোনো গল্পের বই। কিন্তু আস্তে আসতে যখন সামনের দিকে এগিয়ে যায় প্রথম গল্পঃ শেষ করি তখন বোঝতে পারি এটি ঠিক চক্ষু শীতল পরিবার গড়তে বিরাট ভূমিকা রাখবে। আমি প্রত্যেক গল্পের মাঝে নানা সমস্যার সমাধান গুলো পড়ে অবাক হয়েছি।পড়তে পড়তে বলতে হয়েছে আরেহ!! এই সমস্যার কথা লেখিকা জানেন কি করে ? সবার এমন হই?
    প্রত্যেক গল্পঃ আমাকে শিখিয়ে দিয়ে গেছে হুম! আমার জিনিস টা এমন ভাবে সমাধান করতে হবে। এভাবে যদি করতাম সমস্যা টা হতো না।
    মজার বিষয় সব কিছু দ্বীন ইসলামের সুন্নাহ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যেমন করা প্রয়োজন সেভাবেই উল্লেখ করেছেন লেখিকা। ওনার ভাষা শৈলী মুগ্ধ করতে বাধ্য। আল্লাহ্ উনাকে যাজায় এ খায়ের দান করুন।
    কেন পড়বেন বইটি ?
    °°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
    বইটা সকলের প্রয়োজন পড়ার। কারণ আমাদের সকলের এমন সমস্যা গুলো হর হামেশাই হয়ে
    থাকে আমাদের । একটি আল্লাহ সন্তুষ্ট হই এমন পরিবার ঘটনে বিরাট ভূমিকা রাখবে মুসলিম সমাজে লেখিকার লেখনী গুলো আমি মনে করি। বইটি ছোট অল্প হাদিইয়া তবে ফযীলত অনেক।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?