মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

শয়তানের চক্রান্ত

অনুবাদ: শরীফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ ওসমান
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ আল-মাসউদ
পৃষ্ঠা সংখ্যা – ১৩২

কুরআনের ভাষ্যমতে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য শত্রু। সে সব সময়ই চায় নানান রকম চক্রান্তের ফাঁদ পেতে আল্লাহর বান্দাদের গোমরাহ করতে। সেজন্যই শয়তানের চক্রান্ত সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকা প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য।

ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া রাহিমাহুল্লাহ সেই দিকে লক্ষ করেই রচনা করেন মাকায়িদুশ শাইতান নামক পুস্তিকাটি, যেখানে তিনি শয়তানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কুরআন-হাদিসের আলোকে তুলে ধরেন।
সেই পুস্তিকাটিরই অনুবাদ বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে পেশ করা হচ্ছে।

এই পুস্তিকার সাথে বিভিন্ন পাপাচারের নিন্দা করে লেখকের রচিত আরেকটি পুস্তিকার অনুবাদও সংযুক্ত করা হয়েছে। কারণ, সেগুলোও একধরনের শয়তানি কর্মকাণ্ড; যার মধ্যে নাচ-গান-পাশা-জিনা-সমকাম ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

দুই পুস্তিকার এই সমন্বিত অনুবাদ আশা করি পাঠকদের মনে দোলা দেবে। শয়তানের শয়তানি সম্পর্কে সচেতন থাকতে তাদেরকে সাহায্য করবে।

পরিমাণ

133.00  190.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - শয়তানের চক্রান্ত

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া (রহ) এর ‘মাকায়িদুশ শাইতান’ আর ‘যাম্মুল মালাহি’ নামক গ্রন্থদ্বয়ের বাংলায়ন হয়েছে এ বইয়ে। ইমাম ইবনু আবিদ দুনইয়া রাহিমাহুল্লাহ সালাফদের সময়কার প্রসিদ্ধ আলিম। তিনি এমন সব বিষয়ে লেখালেখি করেছেন যেসব বিষয়ে অন্যরা সাধারণত লিখেন নি।

    বইয়ের শুরুতে শাইখ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ খেলাধূলার শারঈ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রামাণ্য সম্পাদকীয় লিখে দিয়েছেন। কোন খেলা জায়েজ? কোন খেলা নাজায়েজ? ক্রিকেট খেলা কি জায়েজ? ফুটবল খেলা কখন জায়েজ হবে না? দাবা,পাশা ইত্যাদি খেলা নিয়ে আলেমদের মত কী? খেলার সময় কী নিয়ত রাখতে হবে ও শর্ত কী কী- এসব বিষয়ে মূল্যবান মতামত দেয়া হয়েছে এ বইয়ের সম্পাদকীয়তে। পাশাপাশি সমকামিতা নিয়ে শাইখ সালিহ আল মুনাজ্জিদের প্রায় ৮-৯ পৃষ্ঠার এক বিশাল লেখা সম্পাদক সাহেব এখানে অনুবাদ করে দেয়া হয়েছে।মোটকথা, এই বইয়ের শুরুতেই সম্পাদক সাহেবের মূল্যবান একটি প্রবন্ধ পাঠকগণ বোনাস হিসেবে পাবেন।

    বইটির প্রথম অংশ ‘মাকায়িদুশ শাইতান’ এর অনুবাদ, যা মূলত শয়তানের নানা চক্রান্ত নিয়ে হাদীস ও সালাফদের জীবন থেকে নানা ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে। জিনদের বাসথান, খাবার, প্রকারভেদ, চক্রান্ত ও শয়তান থেকে বাঁচার নানা আমল নিয়ে এ অংশটি লেখা হয়েছে। নবীজির (ﷺ) সাথে, ঈসা (আ), ইয়াহইয়া (আ) এবং বিভিন্ন সাহাবীদের সাথে ঘটে যাওয়া ইবলিসের নানা ঘটনাও এখানে আনা হয়েছে।শয়তানের চক্রান্তে কারুণ ও বারসিসা কিভাবে পতিত হলো সে কাহিনীও এ অংশে এসেছে। উমর (রা), আম্মার (রা), আইয়ুব (আ), ঈসা (আ) গণ কীভাবে শয়তানের চক্রান্ত নস্যাৎ করে দিলেন তাও জানতে পারবেন এ গ্রন্থে।

    এ বইয়ের ২য় অংশ ‘যাম্মুল মালাহি’ গ্রন্থের অনুবাদ। এখানে ১৪টি অধ্যায়ে শয়তানের নানা চক্রান্তের স্বরুপ উন্মোচিত হয়েছে। আসুন অল্প কথায় দেখে নেই প্রত্যেক অধ্যায়ের মূল বিষয়বস্তু।

    বইয়ের পাপাচারের শাস্তি অধ্যায়ে রেশম, মদ, বাদ্যযন্ত্রকে হালাল বানানো; গায়িকা মহিলাদের বরণ করা ইত্যাদি কারণে উম্মতের উপর অবয়ব বিকৃতি, ভূমিধ্বস ও পাথরবৃষ্টির শাস্তি হবে সে সংক্রান্ত অনেক বর্ণনা এসেছে।

    এছাড়া বইয়ের বাকি অধ্যায়গুলোতে শয়তানের নানা অস্ত্র যেমনঃ গান বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি, পাশা বা লুডু খেলা, দাবা খেলা, গুটি খেলা, বরই বিচি দিয়ে খেলা, তবলা, বাজি ধরা, কবুতর দিয়ে বাজি ধরা, সমকামিতা, নারী সমকাম, পুরুষ সমকাম ইত্যাদি জঘন্য পাপাচার বিষয়ক হাদিস এবং সালাফদের বর্ণনা এসেছে। এসব আচরণের ধ্বংসলীলা ও তা থেকে বাঁচার টোটকাও পাবেন এ বইয়ে।

    এছাড়া বইয়ের শেষ অধ্যায়ে হিজড়াদের নিয়ে ১১টি বর্ণনার মাধ্যমে এ বই শেষ হয়েছে। নবীজি (ﷺ) হিজড়াদের থেকে মহিলাদেরকে পর্দা করার হুকুম দিয়েছেন।

    ||বইয়ের যেসব বিষয় ভাল লেগেছে||
    ১। অনুবাদ খুবই প্রাঞ্জল ছিল।
    ২।সম্পাদনারও তারিফ করতে হয়। বানান, তাহকীক, তাখরীজ, ফুটনোট প্রত্যেক ক্ষেত্রেই যত্নের ছোঁয়া ছিল।
    ৩।অভিজ্ঞতা ও আভিজাত্যের ছাপ ছিল পেজ ডিজাইন কিংবা প্রচ্ছদ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও।

    ||এ বই পড়ে যা শিখেছি||
    ১। জিন থেকে রক্ষা পেতে সালাফগণ আযান দিতেন, আয়াতুল কুরসি পড়তেন, সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করতেন। এছাড়াও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াতও ফলদায়ক।
    ২। কারও উপর যদি জিনের সমস্যা প্রকট থাকে আর সে নিয়মিত তেলাওয়াত করে তবে আশা করা যায় খারাপ জিন একসময় ক্লান্ত হয়ে ঐ তিলাওয়াতকারী ব্যাক্তিকে ছেড়ে যাবে, সমস্যা করবে না।
    ৩। শয়তান কখনো আস্তিকতা ও আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে আমাদের সন্দিহান ও হতাশ করার চক্রান্ত করে, কখনোবা বেগানা নারীর আকর্ষণ দ্বারা, আবার কখনো দুনিয়ার লোভ দেখিয়ে আদম সন্তানকে গাফেল করে। এগুলো শয়তানের প্রধান অস্ত্র। হিংসা আর লোভ শয়তানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আর এ দিয়েও সে আদম সন্তানকে গুমরাহ করে।
    ৪। বান্দা যখন রাগ দমন করে, তাওবা করে, সাদাকা করে, আল্লাহর ভয়ে কাঁদে তখন শয়তান খুব কষ্ট পায়।

    ||শেষ কথা||
    শয়তানের চক্রান্তগুলো যেন সালাফগণ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন। নববী ইলমের শিক্ষায় তারা ছিলেন আমাদের চেয়েও অগ্রসর।আর তাইতো আমাদের শিখিয়ে গেছেন শয়তানের নানা চক্তান্ত।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?