মেন্যু
shotabdir chithi

শতাব্দীর চিঠি

প্রকাশনী : ফোয়ারা
পৃষ্ঠা : 96, কভার : হার্ড কভার
আজ আমরা ইউরোপের উত্থান পতনের ইতিহাস গড়গড়িয়ে উগরে দিতে পারি। কিন্তু যদি বাঙালির ইতিহাস জিজ্ঞেস করা হয়, তবে সেটা সর্বোচ্চ পলাশির প্রান্তর থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত গিয়ে থামবে।... আরো পড়ুন

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - শতাব্দীর চিঠি

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    শাহরিয়ার নূহাশ:

    একাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে ১২৩০ সাল পর্যন্ত সেন’দের দ্বারা শাসিত ছিল এই বাংলা। এই সেনেরা এসেছিল দক্ষিণাত্যের কর্ণাটক থেকে। তারা বাংলায় ছড়িয়ে দিয়েছিল ত্রাস ও হিংস্রতার রাজত্ব।
    সবচেয়ে বেশি বিপদের শিকার ছিল বাংলাভাষী মানুষেরা। বৈদিক সেন’রা এই অঞ্চলকে শাসন করেছে কিন্তু ভালোবাসেনি। তারা এ দেশের মানুষদের বলতো দাস,দস্যু,সর্প।
    তাদের রাজভাষা ছিল সংস্কৃত। বাংলার চর্চা ছিল নিষিদ্ধ।

    তখনি সেন’দের প্রতাপশালী রাজা লক্ষণ সেনের দুঃশাসনের হাত ভেঙে দিয়ে বাংলা জয় করলেন প্রথম বঙ্গবিজয়ী বীর ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি। বিনা রক্তপাতেই বাংলা জয় করে তিনি সূচনা করেন এক নতুন দিনের,ইনসাফের যুগের।
    মুসলিম শাসকের ন্যায় পরায়ণতা দেখে তারাও জনগণ এক কাতারে এসে সমবেত হয়। তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেন বাংলা ভাষার। যেই ভাষার উপর অত্যাচার করেছিল মনুবাদী সেন’রা।
    তার শাসনামলেই রচিত হয় বাংলার ইতিহাস খ্যাত প্রচীন গ্রন্থ সমূহ।

    খন্ড খন্ড হয়ে পরে থাকা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলকে তিনি একত্রিত করার প্রয়াস চালান। যার পুরোধা ছিলেন গিয়াসউদ্দীন আযম শাহ। এরপর আসেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ। ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয় তারা আগে নাকি বাংলায় রাজা বলতে কোন রাজা ছিলেন না। তিনি রাঢ়, বরেন্দ্র,বঙ্গ,সমতট ইত্যাদি বিভিন্ন জনপথকে একত্রিত করে তার নাম দেন ‘বাঙ্গালাহ’। এবং নিজে হয়ে গেলেন “শাহে বাঙ্গালাহ” বা “শাহে বাঙ্গালিয়ান”। ১৩৩৮ সালে বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি হয়তো ভাবেন নি এই নামেই পরিচিত হবে এ অঞ্চলের বাসিন্দারা। কিন্তু তারা ভুলে যাবে ইলিয়াস শাহের নামটিও। একটি দিনের জন্যও ইলিয়াস শাহকে স্মরণ করবে না ‘বাঙ্গালী’রা।

    সেই সাজানো বাগানে শকুনের চোখ পড়লো। অসাম্প্রদায়িক বাংলাকে রক্তাক্ত করবার প্রয়াস চালালো হিন্দু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। যার মূলে ছিল গনেশ নারায়ণ। একে একে এই পাষন্ড গুপ্তহত্যা করলো বাংলার তিন সুলতানকে। দখল করে নেয় বাংলার রাজত্ব। মুসলিম সেনাদের করে বরখাস্ত। আমির উমারাদের করে পদচ্যুত। বাহিরের শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সাথে চলতো তার নিয়মিত বার্তালাপ।

    তার পাশবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যায় বাংলার মানুষ। হিন্দুরাও তাকে চাইতো না। মুসলিম সাধকদের শিরচ্ছেদ ছিল তার কাছে বিনোদনের খোরাক।

    এই নরপশুকে রুখে দেওয়ার জন্য বুক টান করে দাঁড়ালেন বাঙালি মুসলিম জাতিসত্তার আদি পুরুষ “নূর কুতুবুল আলম”। গনেশ নারায়ণের মুসলিম বিদ্বেষ যখন বাংলা থেকে ইসলাম কে চিরতরে বিদায় দিতে প্রত্যয়ী তখন নূর কুতুবুল আলমের ঐতিহাসিক কর্মপন্থার মাধ্যমেই বেঁচে যায় বাংলার ইসলাম। বাংলাও হতে পারতো স্পেনের ন্যায় এক অতীত ইতিহাস। কিন্তু নূর কুতুবুল আলমের তাজদীদি কাজের জন্যই বাংলায় ইসলাম টিকে যায়।

    ইতিহাসে বাঙালি মুসলমানগণ যদি কারো কাছে ঋণী থেকে থাকে যা অপরিশোধ যোগ্য তবে সেই ব্যাক্তিটিই হলেন নূর কুতুবুল আলম। অথচ বাঙ্গালি মুসলিমরা তার নামটাও জানে না। তার কর্মপন্থা বুঝে না। তিনি বাঙ্গালী মানসপট থেকে নিশ্চিহ্ন প্রায়।

    এই নূর কুতুবুল আলমের কর্মময় জীবন নিয়ে লেখা “শতাব্দীর চিঠি” নামক এই বইটি। মূসা আল হাফিজের অসাধারণ বাক্যমালা বইটিতে মনযোগ নিবিষ্ট করতে বাধ্য করবে। পাঠক এর মাধ্যমে জানতে পারবে ভুলে যাওয়া আত্মপরিচয়। বাঙ্গালী মুসলিমদের সংগ্রামী ইতিহাস।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No