মেন্যু
shoni shaheb osustho

শনি সাহেব অসুস্থ

পৃষ্ঠা : ২১৬ শনি সাহেব । নাস্তিকদের জন্য এক আতঙ্কের নাম । ইসলামের বিরুদ্ধে একের পর এক ভুল-ব্যাখ্যার অপনোদন করে তাদের বিপাকে ফেলে দেন তিনি । আধুনিক বিজ্ঞান এবং কুরআন হাদীসের... আরো পড়ুন
পরিমাণ

207  280 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী প্রসাধনী

2 রিভিউ এবং রেটিং - শনি সাহেব অসুস্থ

4.5
Based on 2 reviews
5 star
50%
4 star
50%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5

    :

    বিশ্বাসী বলে যারা দাবি করে তাদের বিশ্বাসের ভিতকে আরো মজবুত -দৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠার জন্য লেখক ‘কামরুল আহমেদ’ এর এক অনবদ্য সৃষ্টি ‘শনি সাহেব অসুস্থ’ গ্রন্থ। এটি মূলত ১৩টি অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে একটি উপন্যাস।

    ✦ বইটির বিষয়বস্তু—
    “““““““““““““““
    লেখক এখানে নাস্তিকতাবাদ তথা ইসলাম বিদ্বেষীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও মিথ্যাচারের জবাবে যুক্তিখণ্ডন করেছেন। দিয়েছেন নানা সংশয়-দ্বিধার বৈজ্ঞানিক ও তুলনামুলক সমাধান। যার ভিত্তি ছিলো আল-কোরআন নামক কষ্টিপাথর।পাশাপাশি ইসলাম এবং ইসলামের বিভিন্ন বিধানের প্রকৃত সৌন্দর্য ও মহত্ব তুলে ধরেছেন। আর এই সব কিছুই লেখক শনি চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন সাবলীলভাবে।

    শনি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পিতা ওয়াহিদ সাহেব দিনমজুর। সপ্তাহে দু-এক দিন তাদের না খেয়েই থাকতে হয়। তখন শনি রোযা রাখে। তবে সে আলোকিত মানুষ। যে আলো হেদায়েতের, সিরাতুল মুস্তাকিমের।

    শনি দশম শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের পরিচিত মুখ। ক্লাস সিক্স থেকে টেন, বাদাম বিক্রেতা থেকে প্রধান শিক্ষক সবাই তাকে চেনে। শনি গ্রুপের প্রধান আকর্ষণ শনি। স্কুলে কিছু নাস্তিক শিক্ষক আছেন যারা ক্লাসে এসে প্রায়শই ইসলামের বিভিন্ন প্রসঙ্গ এনে ইসলামকে বিষোদগার করেন, ইসলামের নামে অপপ্রচার ও মিথ্যাচার করেন।

    শনি নাস্তিক শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশ্ন যেমন পর্দা, যেনা- ব্যভিচার, ডরইনের শিম্পাঞ্জি থেকে মানুষ হওয়ার গল্প , সমকামিতা, বাল্যবিবাহ, আল্লাহকে কেন দেখা যায় না, মহাবিশ্ব সৃষ্টিতত্ত্ব তথা বিগ ব্যাং, সৌরজগতে পৃথিবী ও সূর্যের নিজ কক্ষপথে আবর্তন, কুরবানী ইত্যাদি সহ আরো অনেক প্রশ্নের যৌক্তিক ও বিজ্ঞান সম্মত জবাব দেয়। কিন্তু এই সব যুক্তি তাদের পেটে হজম হতে চায় না। বদ হজম করে পেটে। কারণ সবার পেটেতো আর ঘি মজে না। এ নিয়েই শিক্ষকদের সাথে তার তর্ক বাদে, যৌক্তিক তর্ক। ফলে একাধিকবার স্কুল থেকে বহিষ্কারের ওয়ারনিংও পায় শনি। কিন্তু সে অনঢ়। কোন রক্তচক্ষুকে সে ভয় পায় না। তার প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। রোষানলের জের ধরে শেষ পর্যন্ত শনি হামলার শিকার হয়। নিথর দেহ পড়ে থাকে নদীর পাড়ে কোন এক সকালে।

    ✦ পাঠ্যানুভূতি—
    “““““““““““““`
    তুলনামূলক ধর্ম তত্ত্বের সাথে সম্পৃক্ত বিষয় হওয়াই ভালো লাগার অন্যতম কারণ। ইসলামের তুলনামূলক সৌন্দর্য দেখলে নাফসে মুতমায়িন্না হয় আমার হৃদয়। বিশেষকরে একদম শেষদিকে প্রিয় নবীর আগমনের বিষয়টি যখন বেদ থেকে আলোচনা করছিলেন তখন হৃদয় ঠান্ডা হয়ে গেছে।

    বইটি পড়ার সময় মোহগ্রস্ত ছিলাম যে কখন শেষ করবো। মোহের শুরুয়াত হয়েছিল যখন লেখকের আরেক অনবদ্য প্রয়াস ফাতিমা কুসুম-লেডি অফ ডার্কনেস পড়ছিলাম। লেখকের উপস্থাপনা ছিলো মনোমুগ্ধকর, সাবলীল। বিশেষকরে বিভিন্ন প্রবাদের প্রাসঙ্গিক উদৃতি ও ব্যাখ্যা আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছে। “বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন” এর পরিবর্তিত শিরোনাম “বিয়ের দাবিতে ব্যাভিচারের বাড়িতে ব্যাভিচারিণীর অনশন” সেই লেগেছে।

    তবে কিছুকিছু ক্ষেত্রে শনি সাহেবের স্পর্ধা লিমিট ক্রস করেছে। বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতায় শনি কে বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে দেখানো যেতো। তাছাড়া শনিকে দিয়ে যে জ্ঞানগর্ভ, ভারী-ভারী কথা বলা হয়েছে সেক্ষেত্রে শনির পড়ার শ্রেণী আর একটু উপরের দিকে হলে বেশী মানানসই হতো।

    শনি আর সাজিদরা আমাদের গর্ব। মুসলিম জাতির অহংকার। যুগের ইবনে তাইমিয়া, খালিদ বিন ওয়ালিদ। সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা।আমি সাজিদ হতে চাই। আর আমার প্রজন্ম হোক শনি আর ফাতিমার যোগ্য উত্তরসুরী। লাইট ইন দ্যা ডার্কনেস।।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    নাস্তিকতাবাদের বিপক্ষে বিগত কয়েক বছরে যতগুলো বই প্রকাশিত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি বই হলো “শনি সাহেব অসুস্থ”। বইটি মূলত একটি উপন্যাস। লিখেছেন কামরুল আহমেদ।
    .
    গ্রামের এক হতদরিদ্র মানুষ ওয়াহিদ সাহেবের। স্ত্রী আলিয়া বেগম এবং এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। সে দিন আনে দিন খায়। যখন তার কাজ থাকে না তখন বাড়ির সবাই রোযা রেখে দিন পার করে। ওয়াহিদ সাহেবের বড় মেয়ে ফাতিমা কুসুম ও ছোট ছেলের নাম শনি সাহেব। শনি সাহেব ঝাউঝি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। পক্ষান্তরে ফাতিমা কুসুম কামরুন্নাহার ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। দুই ভাই বোনই পরিপূর্ণ ভাবে তার মের সকল বিধিবিধান মেনে চলে। সকলের কাছে তারা ইসলামের শান্তির বার্তা পৌছে দিতে চেষ্টা করে।
    এ জন্য স্কুলের প্রায় শিক্ষকের কাছে শনি সাহেব যেন দু চোখের বিষ।  নাস্তিকতায় বিশ্বাসী স্কুলের শিক্ষক প্রকাশ পাল, মামুন সাহেব, শুভাষিশ রায়, ও রেবেকা ম্যাডামের সাথে ইসলাম নিয়ে শনি সাহেবের তর্ক যেন লেগেই থাকে। তারা বিভিন্নভাবে শনি সাহেবকে তর্কে হারানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শনি সাহেব প্রতিবারই আল্লাহর রহমতে তাদের বিজ্ঞান ও যুক্তির সাহায্যে সকল ভ্রান্তির জবাব দেয়। 
    একে একে সে শিক্ষকদের করা পর্দা, বিবর্তনবাদ, সমকামিতা, রাসূল (স) এর বাল্যবিবাহ, আল্লাহকে দেখা যায় না কেন, বিগ ব্যাং, কুরবানী করা সহ আরো অনেক প্রশ্নের যুক্তি ও বিজ্ঞান সম্মত জবাব প্রদান করেন। কিন্তু অনেক স্যারই তার এই সব যুক্তি গুলোকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করে। স্যারদের সাথে তর্কবিতর্ক করার কারনে তাকে অনেক বার ওয়ার্নিং লেটার দেয়া হয়েছে।
    এদিকে শনি সাহেবের উত্তম নসিহতের ফলে ক্লাসের প্রায় সকল ছাত্র ছাত্রী শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে ইসলাম পালন করতে শুরু করে। ছাত্রীগণও পরিপূর্ণ ভাবে পর্দা মেনে স্কুলে যায়।
    এভাবে একসময় শনি সাহেব বেশকিছু শিক্ষকের চক্ষুশুল হয়ে উঠে। তাকে হত্যা চেষ্টা পর্যন্ত করা হয়।

    ব্যক্তিগত অনূভুতি:-
    ভালোলাগা কিছু বইয়ের মধ্যে অন্যতম বই এটি। তবে বইয়ের কিছু কিছু জায়গায় সংলাপ তেমন ভালো লাগে নি। কেননা স্যাররা যতই নাস্তিক হোক না কেন তারা শনি সাহেবের শিক্ষক। সুতরাং শিক্ষকদের সাথে কথা বলার সময় সংযত আচরণ করা উচিত।
    তবে আমি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি এভাবে শনি সাহেবের স্কুলের মত একদিন সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে ইসলামের সুমহান আলো ছড়িয়ে পড়বে। মুসলিমরা সবখানে তাদের বিরুদ্ধে উপস্থাপিত প্রশ্নগুলোর যুক্তি,  বিজ্ঞান কুরআন হাদীস থেকে রেফারেন্স সমৃদ্ধ উত্তর প্রদানের মাধ্যমে সরিয়ে দিবে অবিশ্বাসের জঞ্জাল সেই সাথে ফুটিয়ে তুলবে ইসলামের সৌন্দর্য।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top