মেন্যু
shekorer shondhane

শিকড়ের সন্ধানে

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯৬ টি কভার: পেপার ব্যাক ‘Know Thyself’ সক্রেটিসের বিখ্যাত একটি উক্তি। সক্রেটিস নিজেকে জানতে বলেছেন। নিজেকে জানতে পারার মধ্যেই সক্রেটিস মানবজীবনের সার্থকতা খুঁজেছেন। সক্রেটিসের এই দর্শন আদতে কানায় কানায় সত্য।... আরো পড়ুন
পরিমাণ

314  430 (27% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

23 রিভিউ এবং রেটিং - শিকড়ের সন্ধানে

4.8
Based on 23 reviews
5 star
95%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
4%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    Zihadul Islam Nabil:

    (১)

    দৈনিক ১৭ বার আমরা ফরজ সালাতে আমরা সূরা ফাতিহা তেলাওয়াত করি।শেষ আয়াতে আমরা আশ্রয় চাই ইহুদি (আল মাগদুবি আলাইহিম) এবং খ্রিস্টান (আদ-দাল্লিন) থেকে।
    কিন্তু কেন?
    রোজ এতবার তাদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার উদ্দেশ্য কী?
    ইহুদি এবং খ্রিস্টান কারা এবং তাদের পরিচয় কী?
    কেনই বা আল্লাহ তাদের অভিশপ্ত এবং পথভ্রষ্ট বলেছেন?

    (২)

    কুরআনুল কারিমে একটা বৃহৎ অংশজুড়ে আল্লাহ দিয়েছেন ইহুদি-খ্রিষ্টানদের পরিচয় ও ইতিহাস।তাদের করে যাওয়া ভুলগুলো আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।আমরা কী সেই সম্পর্কে আদৌ জানি?
    আমরা জানিনা কারণ আমরা কুরআন পড়িনা।কুরআন আমাদের অধিকাংশের জীবনে কিছু অর্থহীন শব্দের ঝুড়ি,যার অবস্থান শেলফের সবচেয়ে ওপরের তাকে,কিংবা কোনো দামি সংরক্ষিত কুঠুরিতে।

    (৩)

    অর্থসহ কুরআন পড়তে অনেকেই উৎসাহিত করেন,কিন্তু তারা কি খোজ রাখেন-পড়তে গিয়ে আমাদের অধিকাংশ লোক বিড়ম্বনার শিকার হই।মনে হয়,কুরআনে শুধুই পূর্ববর্তী নবিদের কাহিনি।আবার,কাহিনিগুলোও যেনো এলোমেলো, কোথা থেকে শুরু এবং কথায় শেষ তা বোঝা যায়না; দৈনন্দিন জীবনের সাথে এর যেন কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই!
    কখনো কি ভেবে দেখেছি- আল্লাহ রব্বুল আলামিন এর প্রেরণ করা ঐশিগ্রন্থে উল্লেখিত ঘটনাবলির সাথে আমাদের নৃত্যদিনের জীবনের কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না-এমন কি কখনো সম্ভব? এমন ভাবাও কি অন্যয় নয়?

    (৪)

    কুরআনের প্রচুর আয়াত রয়েছে বনী ইসরাইল এবং তাদের ঘটনাবলী নিয়ে।আমরা অনেকে হয়তো জানি,তৎকালীন বনী ইসরায়েল বর্তমানের ইহুদি। এ বিষয়ে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন হয়তো মাথার ভেতর ঘুরপাক খায়।

    ⚫বনী ইসরাইল থেকে তারা কিভাবে ইহুদি জাতিতে পরিণত হলো?

    ⚫ইহুদি,খ্রিষ্টান ও মুসলমান সকলেরই আদিপিতা হযরত ইব্রাহিম (আ)। তাহলে এক উম্মাহ কিভাবে ৩ ভাগে বিভক্ত হলো?

    ⚫ইহুদিরা দাবি করে,তারা ‘Chosen People’
    তারা আরো দাবি করে ‘জেরুজালেম’ তাদের জন্মগত অধিকার,যা সৃষ্টিকর্তা তাদের দিয়েছে।এইসকল দাবির কি কোনো যথার্থতা আছে?

    ⚫পক্ষান্তরে খ্রিস্টান রা ঈসা ইবনে মারিয়াম (আ) কে আল্লাহর পুত্র দাবি করে।তাদের দাবির বিপক্ষে আমরা কিভাবে দাড়াতে পারি?

    ⚫আমরা কেনই বা মুসলিম? ইহুদি বা খ্রিষ্টান থেকে আমরা কেনই বা আলাদা? আমরা জন্মগত মুসলিম পরিচয় বহন করলেই কি জান্নাতে যেতে পারব?

    এমন আরো বহু অগোছালো সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন আমাদের মনে চক্কর খায়,যার উত্তর নিয়ে আমরা হীনমন্যতায় ভুগি।এই সকল প্রশ্নের উত্তর লেখিকা দিয়েছেন অত্যন্ত গোছালো,সুন্দর,সাবলীল ও সরল ভাষায়।পুরো বইজুড়ে গল্পের ঢংয়ে নিয়ে গেছেন শিকড় থেকে শিখড়ে,জ্ঞানের গভীর থেকে গভীর অরন্যে।প্রানচঞ্চল ভাষায় চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের পরিচয় ও ইতিহাস এবং আহলে কিতাবদের সাথে আমাদের সংশ্লিষ্টতা ও পার্থক্য;যা আমাদের উদ্ভুদ্ধ করবে-

    -অর্থসহ কুরআন চর্চায়।
    -সিরাত অধ্যয়নে।
    – ঈমান,আকিদা ও বিশুদ্ধ তাওহীদের সুক্ষ ইলম অর্জনে।

    ইনশাআল্লাহ।

    সর্বোপরি,সকল জ্ঞানপিপাসুদের জন্য ‘শিকড়ের সন্ধানে’ একটা ‘মাস্ট রিড’ বই।

    ⬛সমালোচনা:
    বইয়ের শারিরীক ও গঠনগত কিছুদিক নিয়ে কথা না বলে পারছিনা।প্রকাশনির এই ব্যাপারে নজর দেয়া উচিত।

    ১) বইয়ের প্রচ্ছদ খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হয়নি।

    ২)প্রকাশনীর উচিত ছিল বইটা হার্ডকাভার করা।প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার সংগ্রহ উপযোগী অনন্যসাধারণ বই কিন্তু যত্নে না রাখলে সহজেই ছিড়ে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    ফয়সাল আদিব:

    গাছের শিখড় না থাকলে যেমন মজবুত শাখাপ্রশাখাও মূল্যহীন হয়ে পড়ে তেমনি ‘তাওহীদ’ নামক শিখড়কে এড়িয়ে মানবজাতি যতই উন্নতি ও প্রগতির জয়গান গেয়ে চলুক তার পতন অতি সন্নিকটে।

    আল্লাহ আল কুরআনে সবচেয়ে বেশি যে জাতির ঘটনা বর্ণনা করেছেন সেটা হল বনী ইসরাইল।মহান আল্লাহ এমনি এমনিই কোন কিছু বর্ণনা করেন না। বরং তাঁর প্রতিটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বর্ণনা কিংবা অতি সামান্য ইঙ্গিতের পিছনেও লুকিয়ে থাকে গভীর রহস্য ও কল্পনাতীত হেকমত।অনুরূপ বনী ইসরাইলের ঘটনা বর্ণনারও অন্যতম উদ্দেশ্য হল তাদের পদলঙ্খনের কারণসমূহ চিহ্নিত করে দেওয়া,এত মর্যাদা ও সম্মানের আসনে আদিষ্ট একটি জাতি কিভাবে নিজেদেরকে নির্লজ্জতা ও নিকৃষ্টতার সর্বনিম্ন স্হরে নামিয়ে আনল,কিভাবে তাওহীদকে এড়িয়ে তারা নিজেদের ধ্বংসের কবর রচনা করল এবং এগুলো থেকে বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিমদের জন্য কেমন শিক্ষা রয়েছে, সংকট উৎরে যাওয়ার নির্দেশনা ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়কে লেখিকা খুবই সহয ও সাবলীল ভাষায় চিত্রায়িত করার প্রয়াস চালিয়েছেন বইটিতে।

    বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কিভাবে এক উম্মাহ ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দ্বীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম এই তিন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল তার দিকে কুরআন হতে দলিলপ্রমাণের মাধ্যমে উপস্হাপন করা।ইহুদি-খ্রিস্টানরা যেসব কারণে অভিশপ্ত হয়েছিল আজ প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সেই দোষগুলোই আমরা কিভাবে হরদমে চর্চা করছি তা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে।কেনই বা মুসলিমরা খেলাফতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়ে মজলুমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হল,কেনই বা মহান আল্লাহ তাঁর দ্বীনের দায়ভার মুসলিমদের হাতে সোপর্দ করাকে উপযুক্ত মনে করছেন না এসব সূক্ষ্ম বিষয়েও গভীর আলোকপাত করা হয়েছে।শুধু তাই নয় বর্তমান ইহুদিদের দাবি অনুযায়ী তারা ফিলিস্তিনের কতৃত্ব লাভের অধিকার রাখে; এটা কতটা অযৌক্তিক এবং অবান্তর তাও বইটিতে খন্ডন করা হয়েছে। এছাড়াও ইহুদি-খ্রিষ্টানদের অসংখ্য অভিযোগ খন্ডন এবং তাদের ধর্মগ্রন্থ থেকেই তাদের দাবির অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে আলোচ্য বইটিতে।প্রত্যেক মুসলিমের উচিত বইটা পড়ে শুধু বুক শেলফে সাঁজিয়ে রাখা নয় বরং এর সারনির্যাসকে নিজের জীবনে কাজে লাগানো।

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 1 out of 5

    Md.Tanzib Ali Apurbo:

    লেখিকা ফেমিনিস্ট। তার গ্রুপে কোর্সের মাধ্যমে নারীদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করতে কুযুক্তি দিয়ে সহশিক্ষাকে জায়েজ করে এবং নারীদেরকে ঘর ছেড়ে ক্যারিয়ার মুখী হতে প্ররোচনা দেয়।
    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  4. 5 out of 5

    Salman Reja:

    এককথায় অসাধারণ একটা বই। একবার পড়তে শুরু করে শেষ না করে উঠতে পারিনি। আল্লাহ লেখিকার জ্ঞান এবং হায়াতে বারাকাহ দান করুন। বইটা পড়ে আফসোস হয়েছে, ইশশ!! এরকম বই কেন আরো আগে পেলাম না! কেন আরো আগে পড়লাম না!
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  5. 5 out of 5

    tanvirr187:

    আলহামদুলিল্লাহ। এত চমৎকার বই আমি খুব কম পড়েছি! এর বিষয়বস্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং লেখা হয়েছে সহজ ভাষায় ।
    প্রতিটি জাতির জন্য নিজেদের ইতিহাস জানা খুব জরুরি। সকল নবির উম্মতই মুসলিম জাতির সদস্য । আল কুরআনে একটি বিরাট অংশজুড়ে রয়েছে পূর্ববর্তী নবিদের কাহিনি।শিকড়ের সন্ধানে বইতে লেখিকা আমাদের নিয়ে গেছেন অতীতে,একেবারে গোড়াই,যেখান থেকে আমাদের আত্নপরিচয় শুরু। এখানে তৎকালীন বিভিন্ন নবির অনুসারিদের পাশাপাশি বনি ইসরাঈলের ইতিবৃত্ত বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন।
    কিভাবে ইহুদি মতবাদের সৃষ্টি,কিভাবে ঈসা নবীর প্রচার করা একত্ববাদী ইসলামি ধর্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে বিকৃত হয়ে খৃষ্টবাদের জন্ম হয়েছে তা লেখিকা খুব সুন্দরভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে বিবৃতি করেছেন।
    সুরা বাকারার পুরোটা জুড়ে মুসা আলাইহিস সালামের কাহিনী বলা হচ্ছে,কোথা থেকে শুরু হয়েছে,কিসের পরে কী হলো তা বুঝতে হয়তো অনেকের সমস্য হয়। আসলে কুরআনের বর্ণনা পদ্ধতিটা কথোপকথনের ভঙ্গির মত। আদতে কুরআন কোনো ইতিহাসের বই নয়। তাই কাহিনিগুলো ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়নি। আল্লাহ হয়তো আমাদের একটা বিষয় শেখাতে চান— তখন কোনো কাহিনির যে অংশটা ওই শিক্ষার সাথে প্রাসঙ্গিক,তখন কেবল সেটাই উল্লেখ করেন। এই বইতে লেখিকা কুরআনে বর্ণিত বনি ইসরাইল এবং অন্যান্যা নবির কাহিনি ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরেছেন এবং কোন সুরা ও আয়াতের সাথে কোন সুরা এবং আয়াত এর যোগসূত্র(link up) হবে তা সুনিপুন ভাবে বর্ণনা করেছেন, যাতে যেকোন পাঠক মাত্রই তা সহজে বুঝতে পারবে।এই গ্রন্থটিতে কুরআনে বিবৃত বনি ইসরাইলের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হয়েছে যাতে সহজেই বোঝা যাবে__একটি উম্মাহ থেকে কীভাবে ইহুদি, খৃষ্টান ও মুসলিম এই তিন জাতির উদ্ভব হয়েছে। এছাড়াও এই বইতে খুব চমৎকারভাবে ইবরাহিম(আঃ) থেকে আমাদের শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত ক্রমটা তুলে ধরা হয়েছে।
    সবাইকে বইটি পড়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top