মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

শেষ চিঠি(হার্ডকভার)

পরিমাণ

110.00  180.00 (39% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

3 রিভিউ এবং রেটিং - শেষ চিঠি(হার্ডকভার)

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    বর্তমান সময়ে অনেক গল্প উপন্যাসে লক্ষ্য করলে  দেখা যায় সেখানে শিক্ষণীয় বিষয়ের চাইতে কুরুচিপূর্ণ বিষয়গুলোকে অধিক পরিমানে সবার দৃষ্টিগোচর করা হচ্ছে। এসব গল্প উপন্যাসে কৌশলে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে মিথ্যা ইতিহাস, ইসলাম বিদ্বেষ, অশ্লীলতা সহ নানারকম ইস্যু। কিন্তু গল্প বা উপন্যাসের মাধ্যমেও যে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য তুলে ধরা যায় তা হয়তো অনেকেরই অজানা। আর এই অভাবকে কিছুটা হলেও পূর্ণ করতে মাহিন মাহমুদ লিখেছেন একটি অন্যতম উপন্যাস “শেষ চিঠি”।
    ,
    ▶ সার-সংক্ষেপঃ-
    পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুযায়ী চলাফের করা মেয়ে নওশিন। যদিও সে ধার্মিক ফ্যামিলির মেডিকেল কলেজপড়ুয়া মেয়ে। কিন্তু ইসলামের যাবতীয় বিধিবিধান তার কাছে বর্তমান যুগের সাথে সাংঘর্ষিক মনে হয়।
    এদিকে শাপলা চত্বরের লোমহর্ষক ট্রাজেডিতে পা হারায় সায়মার বাবা। অসহায় বাবার একমাত্র মেয়ে সাইমা। তাদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসে তরুন ও কথাবার্তায় অমায়িক স্বভাবের আলেম আহসান জামিল। আহসান জামিলের অমায়িক ব্যবহার ও কথাবার্তায় মুগ্ধ হয়ে সায়মা একসময় আহসান জামিলকে নিয়ে বিয়ের  স্বপ্ন দেখতে থাকে।
    কিন্তু পরিবারের পছন্দক্রমেই বিয়ে আহসান ও নওশিনের মধ্যে। বিয়ের পরেও পশ্চিমা সংস্কৃতির মেনে চলা নওশিন আহসান কে মেনে নিতে পারছিল না। বারবার তার মনে পড়তে থাকে ভালোবাসার মানুষটির কথা। একসময় ভালোবাসার মানুষটির হাতেই কিডন্যাপ হয় নওশিন। কিন্তু কিডন্যাপ অবস্থা থেকে অনেক কষ্টে মুক্তি পাওয়ার পর স্বামী আহসানের সাথে লজ্জা ও অনুশোচনায় সামনা-সামনি কথা বলতে পারে না। ফলে সে তার মনের সমস্ত কথা একটি চিঠির মাধ্যমে  লিখে আহসানকে জানায়।
    কি লেখা ছিল সেই চিঠিতে?
    অসহায় সায়মারই বা কী হয় শেষে?
    আহসান ও নওশিনের ভাগ্যেই বা কি ঘটে শেষ পর্যন্ত?
    এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে “শেষ চিঠি” উপন্যাসটি।
    .
    ▶ ব্যক্তিগত অনূভুতিঃ-
    বর্তমান সময়ে যেখানে সবখানে অশ্লীল ও অবৈধ প্রেম কাহিনী সম্বলিত উপন্যাসে ভরপুর সেখানে লেখক মাহিন মাহমুদের ইসলামি ভাবধারা সামনে রেখে উপন্যাস রচনা করা সত্যিই প্রশংসনীয়। লেখক কোনরকম কৃত্রিমতার আশ্রয় না নিয়ে উপন্যাসটিকে সহজ শব্দের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। উপন্যাসটি পড়ে পাঠক জানতে পারবেন আসলে পাপীকে নয় বরং ঘৃণা করা উচিত পাপকে।
    বইয়ের প্রতিটি বাক্যই যে অভূতপূর্ব ভালোলাগায় সম্মোহিত করে রাখে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। পড়তে পড়তে একসময় দেখবেন বইটি পড়া শেষ কিন্তু সেই পড়ার রেশ রয়ে যাবে অনেকদিন।
    Was this review helpful to you?
  2. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    লেখকবৃন্দ:
    ইবনু রজব হাম্বলি ১৩৩৫ হিজরির আলিম। হাম্বলি মাযহাবের একজন সুপরিচিত গবেষক। ইমাম নববি রহ.-এর চল্লিশ হাদীসের বিখ্যাত ব্যাখ্যা গ্রন্থ ‘জামিউল কালিম ওয়াল হিকাম’ এর রচিয়তা। ইতিপূর্বে তার রচিত ‘নূরুল ইকতিবাস’ গ্রন্থের অনুবাদ ‘নবীজির পদাঙ্ক অনুসরণ’ বাংলার পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
    আবু বাকর যাইদ রহ. ১৯৪৪ হিজরির আলিম। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনু উসাইমীন রহ. সহ বহু বিখ্যাত আলিমদের শিক্ষক।
    শাইখ সালমান আওদাহ হাফি. বর্তমান জীবিত আলিমদের মধ্যে একজন খ্যাতিমান আলিম। পড়াশোনা করেছেন ইবনু বায, ইবনু উসাইমীন, আব্দুল্লাহ জিবরীহ সহ বহু বিজ্ঞ আলিমদের অধীনে। তিনি একজন মাযলুম আলিমও বটে। বর্তমানে রাজনৈতিক চালের অংশ হিসেবে সৌদির কারাগারে বাস করছেন। আল্লাহ তার মুক্তি ত্বরান্বিত করুক।
    .
    জ্ঞানের পথে চলার বাঁকে:
    শিক্ষক বিহীন পড়াশোনা মানুষকে লাগামহীন করে তোলে। জ্ঞানের ভূমি চড়ে বেড়ানোর নিমিত্তে যখন পাঠক যখন পথে নামে, সে হয়ে উঠে দিকভ্রান্ত পথিকের ন্যায়। কখনো এদিক, কখনো অদিক, কোনো দিকে সে সুস্থির নয়। কিন্তু একজন পথিক আর শিক্ষক বিহীন পাঠকের মাঝে প্রধান পার্থক্য হচ্ছে, পথিক বুঝতে পারে সে পথ হারিয়ে ফেলেছে, কিন্তু পাঠক বুঝতে পারে না সে ভুল বিষয় শিখছে। তাই জ্ঞানার্জনের প্রারম্ভে মোটা দাগে কিছু দিকনির্দেশনা প্রয়োজন; যেন চোরাফাঁদগুলো এড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পাঠক পৌঁছাতে পারে। জ্ঞান অর্জনের আদবকেতা, জ্ঞানের চোরাফাঁদ, সমালোচনার আদব নিয়ে বইটি রচিত।
    .
    ভালো লাগা কিছু বিষয়
    ইলম অন্বেষণের প্রারম্ভে কম বেশি সবার মনেই একটা ‘জানি জানি’ ভাব কাজ করে। মূলত ইলম চর্চার স্তর যখন অগভীর হয়, তখন গভীরতা অজানাই থাকে। ফলশ্রুতিতে পাঠক হয়ে উঠে দাম্ভিক, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং বিনয়-হীন কঠোর সমালোচক। ইলম তার আত্মার পরিচর্যার বদলে বিষে পরিণত হয়। জ্ঞান অর্জন করতে গিয়ে মূর্খতার ফাঁদে আটকে যায়। ‘জ্ঞানের পথে চলার বাঁকে’ এই রোগগুলোর নিরাময় নিয়েই রচিত।
    মোট ৩টি অধ্যায়। প্রথম অধ্যায় পাঠককে জ্ঞানের দাবী, আদবকেতাগুলো শেখাবে। দ্বিতীয় অধ্যায় শেখাবে জ্ঞানের পথচলায় যে সকল চোরাফাঁদের সম্মুখীন হতে হয়, সেগুলো চেনার এবং বেঁচে থাকার উপায়। এছাড়া একটি গোছালো রুটিন হাতে দিয়ে দেবে, যদিও আরবী বই নিয়ে। চতুর্থ অধ্যায় সমালোচনার আদব নিয়ে লেখা।
    ইলম অর্জনের শুরুতে যে কয়েকটি বিষয় পাঠকদেরকে জোর করে শেখানো উচিত, সেগুলো এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে। সাহিত্যমান অত্যন্ত সাবলীল, কাঠ-কঠিন প্রকাশভঙ্গী এড়িয়ে চলেছেন অনুবাদকদ্বয়। সর্বোপরি বর্তমান অনলাইন এবং মসজিদ বিতর্কের এই যুগে বইটি সকলের ঘরে থাকা আবশ্যক।
    .
    যা কিছু ভালো লাগেনি:
    প্রচ্ছদ ডিজাইন খুব সাদামাটা। একে তো বইয়ের দৈর্ঘ্য প্রস্থ কম, উপরন্তু প্রচ্ছদের সাদামাটা ভাব বইটিকে শত বইয়ের ভিড়ে হারিয়ে দেবে। দ্বিতীয়ত বেশ কিছু আয়াতের তরজমাতে ভুল হয়েছে, কিছু বানান ভুলও নজরে পড়েছে। সম্ভবত প্রকাশক বইটির কোনো শারঈ সম্পাদনা করাননি এবং প্রুফ চেক করাননি। আশা করি দ্বিতীয় সংস্করণে এগুলো শুধরে নেয়া হবে।
    .
    শেষ কথা:
    কিছু বই না পড়লে ইলমের ভিত্তিটা দুর্বল থেকে যায়। বিক্ষিপ্ত ইলম চর্চা ব্যক্তির জন্য তো বটেই, অন্যদের জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। উপরন্তু ‘আমি কতটা কম জানি’ এই বোধ পাকাপোক্ত হয় না। ‘জ্ঞানের পথে চলার বাঁকে’ এমনই একটি বই, যা সরাসরি ভিত্তি নিয়ে কাজ করবে। ইলম অর্জনের ভিত্তি। পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারার ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব রাখতে সক্ষম এই বইটি।
    Was this review helpful to you?
  3. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    মিজান সাহেব ব্যবসায়ী মানুষ। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার। মিজান সাহেব একটু ধার্মিক মনোভাব এর হলেও সৎ উদ্দেশ্য রেখে বড় মেয়ে নওশিনকে মেডিকেল এ পড়াচ্ছেন। তিনি চান ছেলে মেয়ে ধর্মীয় ধ্যান ধারণায় বেড়ে উঠুক। তবে বড় মেয়ে এর বিপরীত। সে চায় পশ্চিমা-সংস্কৃতিতে নিজেকে সাজাতে।
    একজন প্রতারক, নারী পাচার কারির সাথে তাঁর ভালবাসা।
    অন্যদিকে তরুণ আলেম লেখক আহসান। অপসংস্কৃতির বিপরীত স্রোতে লিখে চলে একের পর এক মানুষকে আলোর পথে আনতে। স্বনামধন্য এই লেখককেই পাত্র হিসেবে পছন্দ করে মিজান সাহেব। বিয়েও হয়। কিন্তু বিয়ের পর নওশিন তাঁর ভালবাসার মানুষকে ভুলতে পারে না। এক সময় কিডন্যাপ ও হয় পাচার এর উদ্দেশ্যে ভালবাসার মানুষটির দ্বারা। সেখান থেকে অনেক চড়াই উৎরাই পার করে মুক্তিও পায় সে। মুক্তি পেয়ে স্বামী আহসানকে কল করে সব বলতে সাহস না পেয়ে চিঠি লিখে। যে চিঠির ডাকবক্স কখনো খুলাই হয়না।

    এদিকে নওশিন নিজেকে দোষী ভাবে। ভাবে স্বামী হয়তো টাকে আর গ্রহণ করতে রাজি নয়, তাই যোগাযোগ করে না। এদিকে নওশিনকে না পেয়ে এক সময় অন্য একজন এর সাথে বিয়েও ঠিক হয়ে যায় আহাসান এর।

    বিয়ের ঠিক হবার পর হঠাৎ করেই নওশিন এর সাথে আবার দেখা হয় আহসান এর। কিন্তু ততদিনে…
    যেদিন আহসানের বিয়ে সেদিন নওশিন নিজেকে ঠিক রাখতে পারছে না…নিজের মনের ভিতর নানা প্রশ্ন উকি দিয়ে যাচ্ছে তাঁর। কেন এমন হলো?

    শেষ পর্যন্ত কি হলো এই শেষ চিঠিতে…জানতে হলে পরে ফেলুন বইটি।।

    প্রতিক্রিয়াঃ
    অনেক ভুলের মাঝে আমাদের বাস। কথা বলার মাধ্যমে খুব সহজেই যেখানে ভুল বুঝাবুঝি দূর করা সম্ভব সেখানে আমাদের মনে অনেক সঙ্কোচ ও দ্বিধা কাজ করে। এই দ্বিধার জন্যই দেখা যায় সম্পর্কগুলোই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে না। যেকোন বিষয়ে কথা বলে সমাধান করাই উত্তম। আমাদের ও পশ্চিমা-সংস্কৃতিতে থেকে বের হয়ে নিজেদের ঐতিহ্যকে ধারণ করার মানুষিকতা সৃষ্টি করা দরকার।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?