মেন্যু
sesh ratrir golpogulo

শেষরাত্রির গল্পগুলো

শেষ রাত্রির গল্পগুলো’-কিছু গল্পের সমাহার। লেখকের ভাষায় ‘প্রবন্ধগল্প’।প্রতিটি গল্প একেকটি গল্পের আসর,যেখানে লেখক ও পাঠক পরস্পর গল্প করবেন।
প্রথম গল্পটি ‘শেষ রাত্রির গল্প’ পড়ে যে কোন পাঠকই চাইবেন মহান রবের সাথে নিরবে একটু মিলিত হতে শেষ রাত্রির প্রহরগুলোতে।রাসুলের(সা) হাদীস,সালাফদের কথা দিয়ে গল্পাকারে এমন একটি আবহ তৈরি করা হয়েছে যে,মন চাইবে চারপাশের সবাইকে নিয়েই সে পবিত্র সময়টার বরকত কুড়িয়ে নেই!
বইটিতে কয়েকটি ‘রিমাইন্ডার’ মূলক গল্প আছে।’আক্ষেপের গল্প’,’পরীক্ষার গল্প’ তেমন দুটি গল্প। প্রথমটিতে আমাদের এমন কিছু আক্ষেপের সাথে পরিচয় ঘটে,যেগুলোর কথা আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন।যা পাপীরা কিয়ামতের দিন করবে।সেদিন এমন আক্ষেপকারী ব্যক্তি কতই না দুর্ভাগা হবে!সাথে সাথে প্রেরণা পাই এমন আক্ষেপ থেকে মুক্তির।
বইটিতে আছে কিছু দিনলিপি। যার পরতে পরতে রয়েছে অনেক শিক্ষণীয় জিনিস। আছে কিছু কিছু গল্প যেন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোকবর্তিকা।

পরিমাণ

200  300 (33% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ৪৯৯+ টাকার অর্ডারে একটি প্রিমিয়াম বুকমার্ক ফ্রি!
- ১,৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

প্রসাধনী প্রসাধনী

3 রিভিউ এবং রেটিং - শেষরাত্রির গল্পগুলো

4.7
Based on 3 reviews
5 star
66%
4 star
33%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    কিছু বই আছে যেগুলো পড়া শুরু করলে শেষ পর্যন্ত চুম্বকের মতো টেনে ধরে থাকে । শেষ না করে উঠতেই ইচ্ছে করে না । যা পাঠক হৃদয়ে স্থান করে নেয় মনের মণিকোঠায় । তেমনই একটি বই “শেষ রাত্রির গল্পগুলো” । লিখেছেন তরুন লেখক “আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব” ।

    ✦ বইটির বিষয়বস্তু—
    “““““““““““““““
    বইয়ের নাম দেখলে মনে হয় এটা কোনো গল্পের বই । আসলে এটা কোনো গল্পগ্রন্থ নয় । গল্পের আসর বলা যেতে পারে । লেখক-পাঠকের গল্পের আসর । বইয়ে উঠে এসেছে লেখকের জীবনবোধ । টুকরো স্মৃতিকথা । ছোট-বড় অভিজ্ঞতা । ভাবনা ও অনুভূতির অপূর্ব সংমিশ্রন । ইসলামি জীবনদর্শন । একটি ইসলামি পরিবারে বেড়ে ওঠা শৈশবকথা । ইসলামি চাঁদরে মোড়া দিনলিপিগুলোতে রয়েছে প্রচুর শিক্ষণীয় বিষয় । আরো আছে দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার গল্প, সব ভালোবাসার উপর নবিজীর ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেয়ার গল্প, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উপায় আরো কতো কি! সবগুলো প্রবন্ধগল্পই যেন পাঠকদের জন্য একেকটি অপেক্ষমান চমক ।

    ✦ পাঠ্যানুভূতি—
    “““““““““““““`
    বইটা পড়ার আগে এইধরনের প্রবন্ধ গল্পের সাথে আমি পরিচিত ছিলাম না । মনে হয়েছে লেখক আমার সাথে কথা বলছেন । আর কিভাবে কিভাবে যেন আমার মনের কথাগুলো, প্রশ্নগুলোও জেনে ফেলছেন । সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো সম্পর্কে বলেও ফেলছেন । মনে হয়েছে হৃদয়ের বদ্ধ দুয়ারে কেউ যেন কড়া নাড়ছে, ঘুমন্ত হৃদয়কে জাগিয়ে তুলছে । আমি যখন দ্বীনের পথে হাঁটতে শিখেছি মাত্র ঠিক তখনই বইটি আমার হাতে আসে । যেকারনে বইটির প্রতিটি কথাই আমার মনে প্রভাব ফেলেছিল । বইটির ভাষাগত আবেদন আর শব্দ গাঁথুনি অত্যন্ত সুগভীর । ‘একটি স্বপ্নের বেড়ে উঠার গল্প’, ‘স্বপ্ন যখন পৌঁছে গেলো মঞ্জিলে’ আর ‘স্বপ্নের উড়াউড়ি,স্বপ্নের অবশেষ’ শিরোনামে রয়েছে লেখকের হিজাজ সফরের এক আবেগোপাখ্যান । সেইসব রুদ্ধশ্বাস গল্প চোখ থেকে অশ্রু ঝড়িয়েছে । স্বপ্নের শহরগুলোর প্রতি জাগিয়ে তুলেছে ভালোবাসা আর শুনিয়েছে এক রোমাঞ্চকর কাহিনী ।

    লেখক আমার সমবয়সী । যখনই তার বই হাতে নেই, ভাবি আমার বয়সী একটা ছেলে দ্বীনের খেদমতে কতদূর এগিয়ে গিয়েছে । আসলে আল্লাহ্ সবাইকে দিয়ে তাঁর দ্বীনের খেদমত করান না । আমার বয়সী একটা ছেলে কিভাবে এত চমৎকার করে লেখে সেটাই মাঝেমধ্যে ভাবি । মৌলিক লেখকদের মধ্যে নজীব ভাই আমার সবচেয়ে প্রিয় একজন । পুরো বইতেই সে আমাদেরকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন । শেষ করছি তারই একটি কবিতা দিয়ে—
    “বুকের খাতায় খুব যতনে
    একটা স্বপন আঁকি
    ফিরদাউসের ফুল বাগানে
    আমি হবো পাখি” ।


    বইটি প্রকাশিত হয়েছে “সঞ্চারী” প্রকাশনী থেকে ।
    পৃষ্ঠা সংখ্যা—১৩৬ ।
    প্রচ্ছদ মূল্য— ৩০০ টাকা ।
    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ২য় বারের মতো পড়লাম ‘শেষ রাত্রির গল্পগুলো’। এর আগে বইটি পড়েছিলাম প্রায় দু’বছর আগে। তাহাজ্জুদ নিয়ে যে গল্প বইয়ে আছে তা পড়ার নিয়তে আবার হাতে নিয়েছিলাম। কিন্তু লেখক যেই ধাঁচে লেখেন সে ধরনের লিখা আমার প্রিয়। তার উপর এই বইয়ের বিষয়বস্তু সমূহও এক কথায় অসাধারণ। তাই পুরোটা না পড়ে আর রেখে দিতে পারিনি।
    এই বইয়ের লেখক হলেন আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে অন্যতম ‘আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব’ ভাই।
    .
    বইটির প্রথম দিকের গল্প তাহাজ্জুদ নিয়ে লিখা। কিভাবে তাহাজ্জুদ শুরু করা যায়, কেন আমাদের তাহাজ্জুদ পড়া দরকার বা, যারা অনিয়মিতভাবে তাহাজ্জুদ পড়ে কিভাবে নিয়মিত হওয়া যায় তা নিয়ে লিখা। মূলত এই গল্প পড়ার জন্যই ২য় বারের মতো বইটি আমার হাতে নেওয়া যাতে তাহাজ্জুদের জন্য কিছু মোটিভেশান পেতে পারি।
    বইয়ের প্রতিটা গল্প আপনাকে ইসলামের পথে প্রচুর প্রেরণা যোগাবে। লেখকের বাইতুল্লাহর জিয়ারতের গল্পগুলো চোখে প্রায় পানি নিয়ে এসেছিল। লেখক প্রত্যেকটা গল্প কতটা যত্ন আর আবেগ দিয়ে লিখেছেন তা পড়লেই বুঝা যায়। প্রতিটা গল্পেই আমি নিজেকে আচ্ছামতন ‘শাসিয়ে নেয়ার’ মতো উপকরণ আছে এখানে।
    .
    রাসূল(সাঃ) এর প্রতি লেখকের ছোটবেলার ভালোবাসার যে প্রকাশ তাতেও চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠার জন্য যথেষ্ট। পাঞ্জাবি পড়া কিন্তু ছোটবেলায় দাড়ি না থাকায় মুখে কলম দিয়ে কালো করে দিয়ে এঁকে দাড়ি আঁকানোতে লেখকের ছেলেবেলার রাসূলপ্রেম বুঝা যায়।
    .
    আরেকটি গল্পের কথা বলতেই হয় তাহলো ‘বিড়ালওয়ালার গল্প’। আবু হুরায়রা (রাঃ) ছোট ছোট বাচ্চাদের পেলে তাদের আদর করে কাছে টেনে নিতেন আর তাদের দিয়ে নিজের জন্য দোয়া করিয়ে নিতেন। বাচ্চাদের বলতে বলতেন ‘আল্লাহুম্মাগফির লি আবি হুরায়রা’। একই ধরনের কাজ করতেন ‘উমার (রাঃ) ও।
    তো আমিও কেন বাদ যাব? আমিও করি সাথে।
    .
    ‘আল্লাহুম্মাগফির লি আবি হুরায়রা’,
    ‘আল্লাহুম্মাগফির লি ‘উমার’,
    ‘আল্লাহুম্মাগফির লি নজীব’,
    ‘আল্লাহুম্মাগফির লি রেজাউল বাবলু’।
    3 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    :

    বইটি পড়ে প্রথমেই যা মনে হয়েছে তা হলো, লেখকের বয়স কি আসলেই এতো কম? যদি এত কমই হয়ে থাকে, তাহলে লেখা এত্ত পরিণত কীভাবে? এত সুন্দর করে লিখে কেমন করে?

    আসলেই ঈর্ষণীয় লেখনীশক্তির অধিকারী এ লেখককে নিয়ে ইসলামী সাহিত্যানুরাগীগণ আশাবাদী হতেই পারেন। সঠিকভাবে চ্যানেল করতে পারলে তিনি এদেশে ইসলামী বইয়ের জাগরণে একজন অগ্রপথিক লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন বলেই ধারণা করছি। একইসাথে বাংলা ও আরবি – উভয়ভাষাতেই অসম্ভব দক্ষতা ও কাব্যের প্রতি আলাদা টান লেখককে করেছে অনন্য।

    আসি বইটির আলোচনায়।

    যারা নতুন ইসলাম প্র্যাক্টিস করছেন, মনে অনেক প্রশ্ন থাকে। আবার যারা কাব্যানুরাগী বা বই পড়ার বাতিক আছে, তারা প্রথম প্রথম ইসলামী কঠিন বইগুলো পড়তে পারেন না। তারা এ বই পড়তে পারেন।

    বইয়ে ২৬ টি ছোট অধ্যায়ে দ্বীন পালনের শুরুর দিকের কমন ফেস করা কিছু প্রবলেম নিয়ে সহজ, সংক্ষেপে আলোচনা এসেছে। এসেছে লেখকের উমরাহ সফরনামা ও বায়তুল্লাহ ও রওজার প্রতি লেখকের আবেগ নিয়ে লেখাও।

    এ বইয়ের প্রাণ হচ্ছে ‘শেষরাত্রির গল্পগুলো’ শিরোনামের প্রথম প্রবন্ধটি। তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়ে অসম্ভব সুন্দর কিছু টিপস ও সাজেশন দিয়েছেন লেখক, দিয়েছেন অনুপ্রেরণা।

    এছাড়া জাগো গো ভগিণী, আমি নিষ্পাপ হতে চাই, বিষমাখা পুস্প, পরীক্ষার গল্প – এই লেখাগুলোও ভাল লেগেছে। বইয়ের লেখাগুলো আসলে একেকটি একেক বিষয়বস্তুর উপর। তাই বইটিকে প্রবন্ধ সংকলন বললেও ভুল হবে না। বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে শক্তিশালী লেখনী। পাশাপাশি লেখকের বাংলা ও আরবি শব্দের ভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ। বইটি পড়ে ‘প্রণোদনা’ নামক নতুন এক শব্দের সাথে পরিচিত হলাম। লেখকের হাজ্বের গল্পটি হৃদয় ছুঁয়েছে। ও হ্যা, লেখক কিন্তু একজন কবিও বটে। প্রবন্ধ সংকলন হলেও লেখার মাঝে মাঝে কবিতার সুন্দর, মিষ্টি কয়েক লাইন যেন প্রবন্ধের মধ্যে তারল্য সিঞ্চন করেছে।

    বইটির খারাপ দিক হল, প্রবন্ধগুলো কোন সিকুয়েন্স ফলো করেনি। একেক লেখা একেক ব্যাপারে। লেখক নিজেও বলেছেন শুরুতে সে কথা। লেখাগুলো অনেক সময় খুবই প্রাথমিক লেভেলের পাঠকের জন্য মনে হয়েছে। কাব্য বা বেশি আদিখ্যেতা যাদের অপছন্দ তারা একটূ বিরক্ত হতে পারেন। বোনদের এ বই খুবই পছন্দ হওয়ার কথা।

    5 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top