মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে

অনুবাদক ও সম্পাদক : আমীমুল ইহসান
বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৮৪

ইসলামি ঘরানায় বর্তমানে ছোটগল্প বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই অনেক লেখকই দাওয়াহর জন্য এটিকেই বেছে নিচ্ছেন। ছোট গল্প যেহেতু দশ থেকে পঞ্চাশ মিনিট দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট হয়, তাই পাঠকরা সাধারণত বিরক্ত হয় না। তাছাড়া গল্পে গল্পে পাঠকের বোধবিশ্বাসে সহজেই রেখাপাত করা সম্ভব হয়। যাক, ছোটগল্প নিয়ে একদিন আলাদা আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।

‘স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে’ এর গল্পগুলো পুরোপুরি রবিবাবুদের ছোটগল্পের সংজ্ঞায় পড়ে না। এগুলো অনেকটা বিভূতিভূষণ ও বনফুলের ছোটগল্পগুলোর মতো। গল্পকে রোমাঞ্চকর কোনো পরিণতি দেয়ার চেয়ে গল্পের মূল মেসেজটা পাঠকের হৃদয়ে চারিয়ে দেয়ার চিন্তাই এখানে লেখককে তাড়িত করেছে।

শাইখ আব্দুল মালিক আল কাসিমের রচনা যারা পড়েন তাদের অজানা নয় যে, তার প্রায় সব রচনার সারনির্যাস হলো দাওয়াহ ও আত্মশুদ্ধি। আশির দশকে লেখা ‘আজ-জামানুল কাদিম’গল্প গ্রন্থটি তার রচনাবলির মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয়। তার দায়িসুলভ প্রতিভার পূর্ণ স্ফূরণ ঘটেছে এই গল্পগুলোতে। মৃত্যু, কবর, তাওবা, সাদাকা, দাওয়াহ, সদাচার, তিলাওয়াত, মুহাসাবা, হিজাব ইত্যাদির মতো মুমিনের জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোকে উপজীব্য করে তিনি গল্পগুলো নির্মাণ করেছেন।

গ্রন্থটি রচনা করতে গিয়ে মনে হয় তিনি মেয়েদের প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ রেখেছেন। অধিকাংশ গল্পেই তিনি মেয়েদের বিভিন্ন দ্বীনি বিষয়গুলোকে দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। নারীদের পর্দা, দাওয়াত ও ইবাদতসহ দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকগুলো বিশুদ্ধ ভাবনা উঠে এসেছে গল্পে গল্পে। তাই আমি বলব, বইটি যতটা না যুবকদের তার চেয়েও বেশি মেয়েদের।

গল্পগুলো আশির দশকে আরবের তৎকালনি সমাজজীবনের প্রেক্ষাপটে লেখা। বইটি পড়তে গিয়ে পাঠক সেই সময়ের কিছুটা আভাস পাবেন। তখন বর্তমান যুগের মতো প্রযুক্তি এতটা বিস্তার লাভ করেনি। দাওয়াতের উপকরণ হিসেবে তিনি বারবার বলেছেন বয়ানের ক্যাসেটের কথা। তবে অনুবাদ করার সময় আমরা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার্থে গল্পের আবহটাকে কিছুটা যুগোপযোগী করার চেষ্টা করেছি। যেমন সময় অপচয় করা প্রসঙ্গে আমরা ইন্টারনেটের কথা বলেছি, ইউটিউবের কথা বলেছি। বুঝতেই পারছেন আশির দশকে এসবের নাম-গন্ধও ছিল না।

আজ-জামানুল কাদিম-এ তিন খণ্ডে মোট ছত্রিশটি গল্প আছে। কিছু গল্প সাইজে বেশ ছোট হওয়ার কারণে এবং কিছু গল্পের মেসেজ আমাদের উদ্দিষ্ট পাঠকদের জন্য কম গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়ায় বাদ পড়েছে। প্রতি খণ্ড থেকে নয়টি করে মোট সাতাশটি গল্প আমরা মলাটবদ্ধ করেছি।

পরিমাণ

168.00  240.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

6 রিভিউ এবং রেটিং - স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    #ওয়াফিলাইফ_পাঠকের_ভালোলাগা_মার্চ_২০২০
    .
    বর্তমানে পাঠকসমাজে ইসলামিক ধাঁচের ছোটগল্প গুলো উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কারণ এতে পাঠকের অনুসন্ধিৎসা আর আকর্ষণের মেলবন্ধনে বইয়ের আলোচ্য বিষয় সহজেই বোধগম্য হয়। এমনই কয়েকটি গল্প-উপাখ্যানে মলাটবদ্ধ হয়েছে “স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে” বইটি।
    .
    বইয়ের লেখক শাইখ আব্দুল মালিক কাসিম।জন্মেছেন করেছেন সৌদি আরবের ‘বীর’ নগরীতে। তিনি একাধারে লেখক, গবেষক এবং দাঈ।
    তার লেখা নিয়ে রঞ্জিত বিশেষণের দরকার নেই। তার লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়নি, এমন পাঠকের সংখ্যা নগন্য। এই বইটিতেও তার ব্যতিরেক হয়নি।
    .
    |বইয়ের কথাঃ| ৩টি খন্ডের অধ্যায়ে ২৭টি ছোটগল্পের সমাহারে সজ্জিত হয়েছে বইটি। ঈমানের বাধঁন, ধৈর্য, সাদকা, কৃতজ্ঞতা কিংবা তাওবা ইসলামের এমন সব মৌলিক বিষয়াদিই বইটির প্রধান অনুষঙ্গ। তার সাথে যোগ হয়েছে কিছু মানুষের প্রত্যাবর্তনের উপাখ্যান।
    .
    ফিতনার যুগে মানুষ যেখানে আপন আত্মাকে ভুলে পাপ সায়রে হাবুডুবু খেয়ে অসহায় পাথেয় খোঁজে হন্যে হয়ে, লেখক সেখানে গল্পের আদলে জ্বালিয়ে দিয়েছেন ‘সমাধানের আলোকবার্তিকা’। পরিচিত পরিবেশ, চরিত্রগুলোর জীবন্ত উপস্থাপন! পাঠকের মনোজগত আলোড়িত করতে আর কি লাগে?
    এই জায়গাটায় লেখকের মুন্সিয়ানায় বইয়ের প্রতিটা গল্প হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। শব্দের গাঁথুনিতে দেখিয়ে দিয়েছেন আলোর বাতায়ন।
    .
    প্রত্যেকটি গল্পতে ভিন্ন কাহিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের উপস্থিতি! তাই বইয়ের সারনির্যাস তুলে ধরা সম্ভব নয়। আকর্ষণীয় সব শিরোনামের মোড়কে দরদমাখা লেখনী দিয়ে অনুর্বর হৃদরাজ্যে বসন্ত আনয়নের সর্বময় প্রচেষ্টা করেছেন লেখক।
    গল্পের ছলে বইটি পাঠককে বুঝিয়ে দিবে মহান রবের আনুগত্যের বাধকতা কিংবা নবীজি (সঃ) এর প্রতি ভালোবাসার প্রশান্তি। কোনো গল্পে আবার প্রোথিত হয়েছে জান্নাতের অমিয় সম্ভাবনা, কোথাও আবার স্থান পেয়েছে জাহান্নামের ভয়াবহতা। কিছু গল্পে উপস্থাপিত হয়েছে আধাঁর পেরিয়ে আলোতে আসার বন্ধুর পথ চলার উপাখ্যান। মোটকথা, লেখকের অসাধারণ জীবনদর্শন আর বাস্তবধর্মী লিখনশৈলীর সমন্বয়ে বইটি দ্বীনের ব্যাপারে গাফেল হৃদয়ে বিশ্বাসের ফল্গুধারা বওয়ানোর একটি গল্পময় অলংকরণ।
    .
    |ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকঃ| কিছু স্থানে বানানবিভ্রাট ছাড়া কোনো ত্রুটি আমার চোখে পড়েনি।
    বইটির প্রতিটি গল্পই জীবন্ত হয়েছে লেখকের দক্ষ হাতের আঁচড়ে। লিখনশৈলী কিংবা শব্দচয়ন সবকিছুই প্রশংসার দাবিদার।
    অনুবাদের প্রাঞ্জলতাগুণ দেখে মনে হয় অনুবাদক সাহেব লেখককে পুরোটাই আত্মস্থ করে ফেলেছেন। পড়ে মনেই হয়না যে এটা কোন অনুবাদ গ্রন্থ।
    বাইন্ডিং, কোয়ালিটি আর প্রচ্ছদের জন্য ‘রুহামা পাবলিকেশন’-র ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য।
    .
    |পাঠ্যানুভূতিঃ| রবের প্রতি উদাসীনতা আর পার্থিব জীবনের ভোগবিলাসে মত্ত এ জাতির জন্য বইটি অদ্যপ্রান্ত এক রিমাইন্ডার। বেপরোয়া জীবনের বিস্মৃত আত্মাকে ঝালিয়ে নিতে, আদিগন্ত অনন্ত পথযাত্রায় নিজের সঞ্চয় কতটুকু, তার হিসেব কষার উপলব্ধি’কে আরো সুগভীর করার জন্য বইটি পড়া দরকার।
    বইটির সবগুলো গল্প হৃদয় জাগানিয়া, তার সাথে মূল্যবান সব ম্যাসেজ আর চমৎকার নির্দেশনার সমাহার। লেখকের সাহিত্য শৈলীর পটুত্ব বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে উঁকি দেয় শব্দের ভাস্মরে। চিত্রময়ী উপস্থাপনের নিগূঢ়তায় নিজেকে প্রত্যেকটি গল্পের অংশীদার মনে হয়।
    বইটি একবারের জন্য হলেও পড়ার অনুরোধ রইলো। হয়তো রবের অনুগ্রহে, বইয়ের যেকোনো গল্প ঘুরিয়ে দিতে পারে জীবনের বাঁক। হতাশাময় জীবনে পেয়ে যেতে পারেন হিদায়াহ’র ছোয়া ইনশাআল্লাহ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ইসলামি ঘরানায় ছোটগল্পগুলো বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কেননা ছোটগল্প খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে সক্ষম। 
    শাইখ আব্দুল মালিক আল কাসিমের “আল জামান আল কাদিম” গ্রন্থটিও এমন কতগুলো ছোটগল্পের সমষ্টি। বিজ্ঞ অনুবাদক আমিনুল ইহসান কতৃক বাংলায় অনুবাদের পর যার নাম দেয়া হয়েছে “স্বাগত তোমায় আলোর ভূবনে” ।
    ,
    সার-সংক্ষেপঃ-
    স্বাগত তোমায় আলোর ভূবনে বইতে তিন খন্ডে মোট ২৭টি গল্প রয়েছে। গলগুলোতে ফুটে উঠেছে ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা , তাওবা, সাদাকা প্রভৃতি কিছু মৌলিক বিষয়াদি। সেই সাথে কিছু মানুষের দ্বীনের পথে ফিরে আসার উপাখ্যান।

    বইয়ের প্রথম গল্পের নাম “ওপারের যাত্রী”। এখানে উঠে এসেছে দুই বোন নাওরা ও হ্যানার গল্প। যেখানে নাওরা ছিল ইসলামের যাবতীয় বিধান পালনে অগ্রগামী। পক্ষান্তরে হ্যানা বিভিন্ন ফিল্ম ও মুভির প্রতি চরম আসক্ত। ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয় ইউটিউব দেখে। তবে হ্যানার এই অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয় নি। সেও চলে আসে দ্বীনের পথে। কিবেমন কারন লুকায়িত ছিল তার দ্বীনে ফেরত আসার পেছনে? জানতে হলে পড়ুন “স্বাগত তোমায় আলোর ভূবনে” বইটি।

    বইয়ের দ্বিতীয় গল্প “গাফিলতি”। এই গল্প রয়েছে বোন ও এক শায়খের অডিও ক্যাসেট শুনে তার ভাইয়ের দ্বীনে ফিরে আসার কাহিনী।

    বইয়ের তৃতীয় শিরোনামের গল্প “উপহার”। এখানে রয়েছে এক খ্রিস্টান লোকের ইসলাম গ্রহনের কাহিনী। যে গল্পের কথকের উপহার দেয়া একটি বই পড়ে খ্রিস্টধর্ম থেকে ফিরে এসে ইসলাম গ্রহণ করে। তখন তার নাম হয়ে যায় আব্দুল্লাহ।

    এভাবে প্রতিটি গল্পেই রয়েছে অসংখ্য মানুষের দীনের পথে আসার কাহিনী, উপদেশমালা। আবার কোন কোন গল্পে উঠে এসেছে নারীদের জন্য পর্দা, দাওয়াত ও ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। এছাড়াও কিশোর, তরুণ, বয়োজ্যেষ্ঠ সহ সকলের জন্যই রয়েছে গল্পের মাধ্যমে শিক্ষণীয় অনেক দিক নির্দেশনা।

    ব্যক্তিগত অনূভুতি:-
    ব্যক্তিগত অনূভুতি যদি বলতে হয় তাহলে বলবো বইটি এককথায় অসাধারন। প্রতিটি পাতায় ফুটে উঠেছে লেখকের সত্তার পরিচয় ও  সাহিত্যিক পরিশ্রমের ছোয়া। বিজ্ঞ অনুবাদক আমিনুল ইহসান এর অনুবাদও হয়েছে যথার্থ। পড়ে মনেই হয় না এটা কোন অনুবাদ গ্রন্থ বরং এটাকে মৌলিক লেখাই মনে হচ্ছে। গল্পগুলো ছোট হওয়াই পাঠক তা স্বল্প সময়ের মধ্যে পড়ে শেষ করতে পারবে। সেই সাথে অন্তরে গেথে যাবে শিক্ষনীয় সব দিক নির্দেশনা।  
    সবগুলো গল্প মন ছুঁয়ে যাওয়ার মত এবং শান্তির সঞ্চারক। যা আপনাকে আরো গভীরভাবে ইসলামের প্রতি আনুগত্য করতে অনুপ্রেরণা যোগাবে। কিছু কিছু বিষয় নতুনভাবে উপলদ্ধি করতে শেখাবে। অন্তরে এনে দেবে অনাবিল প্রশান্তি।
    সব মিলিয়ে বইটি খুবই ভালো এবং উপকারী। তাই বাংলাভাষী সকলের প্রতি  অনুরোধ “স্বাগত তোমায় আলোর ভূবনে” বইটি একবার হলেও পড়ুন।

    Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    “স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে” । লিখেছেন, আরব বিশ্বের খ্যাতিমান লেখক শাইখ “আব্দুল মালিক আল কাসিম” । তিনি একাধারে লেখক,গবেষক এবং দাঈ । যে একবার তাঁর লেখা পড়েছে, মােহাচ্ছন্ন হয়েছে বারবার । তাঁর লেখাগুলো পড়া যেন মনের গহীনে জানালা খুলে নীল আকাশ দেখার মতাে । তাঁর লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়নি, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম । এ বইয়েও তার ব্যতিক্রম হয়নি ।

    বইটি গল্পে গল্পে আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আল্লাহর আনুগত্যের কথা— রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভালোবাসার কথা । অন্তরে জাগিয়ে তুলবে আখিরাতের অতুল স্বপ্ন—জান্নাতের অমিত সম্ভাবনা । চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে তুচ্ছ দুনিয়ার অসারতা । গল্পের ভেতরে বিচরণ করতে গিয়ে উপলব্ধি করতে পারবেন, আপনার হৃদয়ে বাসা বেঁধেছে আল্লাহর ভয় আর পরকালের প্রস্তুতির দুর্নিবার বাসনা ।

    যারা তাত্ত্বিক লেখা পড়ার ব্যাপারে ধৈর্যশীল নন তাদের জন্য এবইটি এক অনন্য বিকল্প । গল্পের জাদুতে মনের অজান্তেই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে এক অন্য ভুবনে । নাড়া দেবে অনুভূতির মর্মমূল ধরে । দুনিয়া,কবর,হাশর,জান্নাত,জাহান্নাম ইত্যাদির মতো মৌলিক ও জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোকে উপজীব্য করে কলমের নিখুঁত আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে অনেকগুলো দৃশ্যপট । সবর,শোকর,সাদাকা,তাওবা,দাওয়াত,তিলাওয়াত ইত্যাদির আলোচনাও বারবার এসেছে ঘুরে ফিরে । গল্পের ছলে জাগ্রত করার চেষ্টা করা হয়েছে হৃদয়ের সুপ্ত উপলব্ধিগুলোকে । পার্থিব জীবনের রূপ-রস-গন্ধে সারাক্ষন বিভোর হয়ে থাকা মানুষগুলো পরকালের কথা বেমালুম ভুলে যায় । তাই মাঝে মাঝে তাদেরকে মনে করিয়ে দিতে হয় জীবনের পরম পরিণতির কথা । শোনাতে হয় সুখময় জান্নাতের কথা,জাহান্নামের ভয়াবহতার কথা,মহান রবের ভালোবাসার কথা । লেখক গল্পে গল্পে এই কাজটি করারই সফল প্রয়াস পেয়েছেন আলোচ্য গ্রন্থে ।

    বইটি অনুবাদ করেছেন “আমীমুল ইহসান” । অনুবাদ চমৎকার হয়েছে, সাবলীল । যেকোনো শ্রেনির পাঠকদের কাছে সহজবোধ্য হবে । অনুবাদক মূল লেখার ভাবানুবাদকে প্রাধান্য দিয়েছেন । বইটি মূলত ৩টি খন্ডে বিভক্ত । প্রতিটি খন্ডে ৯টি করে মোট ২৭টি গল্প মলাটবদ্ধ করা হয়েছে । প্রতিটি গল্পে রয়েছে, সত্বান্বেষীদের জন্য দারুন সব ম্যাসেজ । প্রতিটি গল্পেই পাঠকদের দিকে ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে হৃদয় জাগানিয়া কিছু আহ্বান । গুনাহের সাগরে হাবুডুবু খাওয়া ও গাফেলতির জীবনে যারা অভ্যস্ত, যাদের অন্তর প্রতিনিয়ত কলুষিত হচ্ছে রবের অবাধ্যতায়, তাদের বিবেককে নাড়া দিতে ও তাদের ঈমানকে গল্পে গল্পে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে এই বইয়ে ।
    যারা মহান রবের দাসত্ব থেকে বহু বহু দূরে তারা যদি একটু মনোযোগ দিয়ে বইটি পড়ে; তবে অন্তর বিগলিত হবেই । চোখ থেকে ঝড়বে অনুশোচনার দু-ফোটা অশ্রু । এই বইয়ের প্রতিটি পাতায় পাতায় অনেকগুলাে ঝাঁকুনি অপেক্ষা করছে পাঠকদের জন্য । কল্পনার জগতে এক নতুন যাত্রা শুরু হবে । যান্ত্রিক জীবনের পার্থিব যে চক্রে আটকে গেছে আমাদের পুরো যুব সমাজ, ভোগবিলাস ও উদাসীনতায় যারা মত্ত হয়ে থাকে প্রতিক্ষণ, তাদের জন্য অসাধারণ একটি রিমাইন্ডার হবে এই বইটি । ইনশাআল্লাহ্ ।

    আমাদের সবার অন্তরেই ঈমানের বীজ বুনে দেয়া আছে । শুধুমাত্র সঠিক পরিচর্যার অভাবে সেগুলো বেড়ে উঠতে পারছে না । একারনে মাঝে মাঝে ইসলামের দিকে, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে ইচ্ছে হলেও কিছু একটা আসতে বাধা দেয় । সেটা হতে পারে শয়তানের ওয়াসওয়াসা, অন্তরের প্রবৃত্তি আর না হয় উদাসীনতা । ভাই, আপনি যদি এরকম হন, তাহলে গা ঝাড়া দিয়ে উঠুন । সব পিছুটানের আগাছা উপড়ে ফেলুন । বইটা হাতে নিয়ে পড়তে বসুন । বইয়ের যেকোনো একটি গল্পই ঘুরিয়ে দিতে পারে আপনার জীবনের মোড় । হতাশাময় জীবনে উদিত হতে পারে এক নতুন সূর্য । শুরু হবে এক নতুন সকাল ।
    আল্লাহর জন্য, আল্লাহর দ্বীনের জন্য বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করবে । দোদুল্যমান এই জীবনে এনে দেবে এক পশলা বৃষ্টির ছোঁয়া ।
    সর্বোপরি, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান,আশ্রয় চান । তিনি সহজ করে দেবেন । কারন তিনিই তো উত্তম সাহায্যকারী ।
    ==================
    বক্ষ্যমাণ এই গ্রন্থটি বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের জন্য নিয়ে এসেছে, “রুহামা পাবলিকেশন” । বইয়ের পৃষ্ঠামান, সাজসজ্জা প্রশংসনীয় । তবে, প্রচ্ছদ ভাল লাগেনি । আরেকটু সুন্দর হতে পারতো । বইটি প্রকাশিত হয়েছে, একুশে বইমেলা ২০১৯ -এ ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ???লেখক পরিচিতি : ???

    ? ড. শাইখ আব্দুল মালিক আল-কাসিম। আরববিশ্বের খ্যাতনামা লেখক, গবেষক ও দায়ি। জন্মগ্রহণ করেছেন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের উওরে অবস্থিত ‘বীর’ নগরীতে— বিখ্যাত আসিম বংশের কাসিম গোএে। তাঁর দাদা শাইখ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম আল- আসিমি আন- নাজদি রহ. ছিলেন হাম্বলি মাজহাবের প্রখ্যাত ফকিহ। তাঁর পিতা শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান রহ. ও ছিলেন আরবের যশস্বী আলিম ও বহু গ্রন্থপ্রণেতা। তিনি জন্ম সূএেই পেয়েছিলেন প্রখর মেধা, তীক্ষ্ণ প্রতিভা আর ইলম অর্জনের অদম্য স্পৃহা। পরিবারের ইলমি পরিবেশে নিখুঁত তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছেন খ্যাতনামা এই লেখক।

    ?️ আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ করে আত্মনিয়োগ করেন লেখালেখিতে— গড়ে তোলেন ‘দারুল কাসিম লিন নাশরি ওয়াত তাওজি’ নামের এক প্রকাশনা সংস্থা। প্রচারবিমুখ এই শায়খ একে একে উম্মাহকে উপহার দেন সওরটিরও অধিক অমূল্য গ্রন্থ।

    ? আত্মশুদ্ধিবিষয়ক বাইশটি মূল্যবান বইয়ের সম্মিলনে পাঁচ ভলিউমে প্রকাশিত তাঁর ‘আইনা নাহনু মিন হা-উলায়ি’ নামের সিরিজটি পড়ে উপকৃত হয়েছে লাখো মানুষ। বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এই সিরিজের অনেকগুলো বই।

    ? সাধারণ মানুষের জন্য তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় ছয় খন্ডে রচনা করেছেন রিয়াজুস সালিহিনের চমৎকার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এ ছাড়াও তাঁর কুরআন শরিফের শেষ দশ পারার তাফসিরটিও বেশ সমাদৃত হয়েছে।

    ???বই রিভিউ : ???

    ? দুনিয়ার এই ক্ষণিকের জীবন আমাদের জন্য শুধুমাএ পরীক্ষার স্থান। অথচ এই জীবনের মোহে আমরা ডুবে আছি। আমাদের আচরণ, চাল-চলন, কথাবার্তার ধরণ, কাজ-কর্ম এমন যে আমরা এ দুনিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা!! আমরা মৃত্যুকে ভুলে দুনিয়ার জীবন নিয়ে ব্যস্ত।! অথচ মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিএ কুরআনে ঘোষণা দিয়েছেন—
    کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ۟ ثُمَّ اِلَیۡنَا تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۵۷﴾
    “প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে, তারপর আমার কাছেই তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।”
    [সূরা = আল -আনকাবুত :৫৭]

    দুনিয়ার যদি কোন মূল্য থাকতো তবে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু কাফেরদের এক ফোঁটা পানি পান করতে দিতেন না।

    ⭐ মালিক ইবনু দিনার রহ. বলেন –
    “তুমি যে পরিমাণ দুনিয়ার জন্য চিন্তিত হবে, তোমার অন্তর থেকে সে পরিমাণ আখেরাত বের হয়ে যাবে।
    আর, তুমি যে পরিমাণ আখেরাতের জন্য চিন্তিত হবে, তোমার অন্তর থেকে সে পরিমাণ দুনিয়া বের হয়ে যাবে।”

    ? অথচ দুনিয়া পাগল এই আমরা দুনিয়াতে একটু ভালো থাকার জন্য, একটু সুখে থাকার জন্য কত কিছুই না করি।! আর আল্লাহ’র ইবাদত করার সময়টুকু যেন আমাদের হয়ে উঠে না!! দুনিয়ার মোহে পড়ে পরকালের প্রস্তুতির কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই!। পরকালই যে আমাদের আসল ঠিকানা সেটা আমাদের মনেই থাকে না!!। মৃত্যু যেকোন মুর্হূতে ঘটতে পারে । অথচ আমাদের তার জন্য নেই কোন চিন্তা, ভাববার সময়!!

    ? হায়! আমরা দুনিয়ার এই পরীক্ষার হলে খেলতামাশা করেই সময় নষ্ট করে ফেলি, কত বোকা আমরা।
    কিন্তু আমাদের রব চান আমরা যেনো তাঁরই দেখানো পথে চলি। তাইতো আমাদের প্রভু স্বয়ং আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন, বলো:
    اِہۡدِ نَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِیۡمَ ۙ﴿۶﴾
    আমাদেরকে সরল পথ দেখান। পথের হিদায়াত দিন।
    [সূরা = আল – ফাতিহা : ৬]

    আর আমরা… দুনিয়াতেই ডুবে আছি!! কি করুণ অবস্থা আমাদের!!!

    ? একদা হাসান বসরি (রা:) একটি জানাজার পেছনে পেছনে গোরস্তানে যান। কবরের পাড়ে বসে তিনি বলেন, ‘পার্থিব জীবনে দুনিয়াবিমুখ হওয়া চাই আর ভীত হওয়া চাই আখিরাতের ব্যাপারে।‘

    ? কবরের কাছে এসে সমান হয়ে যায় সবাই। কে রাজা কে প্রজা কোনো ফারাক নেই। সবার একই অবস্থা, একই পরিণতি। শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য আর কত দৃষ্টান্ত চাই আমাদের?

    ??? কিছু বই আছে যা পড়া শেষ না হওয়া অবধি জানার আকাঙ্ক্ষা বেড়ে যায়, এরপর কি কি আছে পড়ার জন্য একটা অন্য রকম ফিলিস্ কাজ করে। আবার কিছু বই আছে এমন যে পড়ার পরে আমাদের হৃদয়ের মাঝে দাগ কেটে যায়। এমনও বই আছে যা পড়ার পরেও খুব যত্ন করে রেখে দিই। আর কিছু বইয়ের এমনও অদ্ভুত লেখনী শক্তি আছে যা কেবল সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। আর বইটি থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছুই থাকে এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বইটা পড়তে পড়তে মনে হয় অন্তরে কিছু একটা খানিকক্ষণ পর পর ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে।

    ✨?✨ ‘স্বাগত তোমায় আলোর ভুবনে’ নিঃসন্দেহে এমনই একটি বই। বইটি পড়ার সময় আপনার মনের মাঝে উপলদ্ধিরা এক অন্যরকম কাজ করতে থাকবে। বইটার কিছু খন্ডে তো আপনার চোখের পানি ধরে রাখাই মুশকিল হবে। মনে হবে বইটির প্রতিটি খন্ড যেন হৃদয় মাঝে এক চরম সত্যের বাসা বেঁধে দিয়ে যাচ্ছে। যে সত্যটা আমরা জানি কিন্তু ভুলে থাকতে চাই!!। আরও স্পষ্ট করে দিয়ে যাচ্ছে আমাদের সত্যের সম্মুখীন হতে হবে কোনো একদিন। আর বইটি পড়া শেষে থেকে যাবে একরাশ চিন্তায় ফেলে দেবার মতো অনুভূতির আলো।

    ??? বইটি মূলত ৩ খন্ডে সাজানো হয়েছে। এই ৩টি খন্ডের অধ্যায়গুলো আবার ২৭টি শিরোনামে বিভক্ত। বইটার প্রতিটি অধ্যায় যেন হৃদয়ের গহিনে পৌছেঁ দেবার মতো র্বাতা বহন করে। প্রতিটা অধ্যায়ে রয়েছে অজস্র শিক্ষণীয় দিক। বইয়ের পৃষ্ঠাগুলো জানান দিয়ে যাবে আমার অবস্থা কি! আমি দুনিয়ার জন্য কি কি করছি, আর আখিরাতের জন্য আমার কাছে কি কিছু আছে!!?

    ? মৃত্যু অবধারিত। কার, কখন, কোথায়, মৃত্যু ঘটবে কেউ বলতে পারবে না। মৃত্যুর কাছে আমরা কত অসহায়!! অথচ দুনিয়াতে বেঁচে থাকতে আমাদের বড়াইয়ের শেষ থাকে না!! এইটা আমার ওইটা আমার, আমার এত এত কিছু আছে বা সামান্য কিছু আছে আমার। অথচ দুনিয়াতে কিছুই আমার না।! আমার আমার করা এই আমিটাই যে ক্ষণস্থায়ী বাসিন্দা দুনিয়ার বুকে !!!। এই কথাটা যেনো আমাদের স্মরণেই থাকে না!! কত প্রস্তুতি, কত চিন্তা আমাদের এই দুনিয়াকে ঘিরে!!!

    আজ যে মানুষটা একটা পরিবারের অংশ। যার সাথে প্রতিদিন কথা বলি, মজা করি, হাসি-ঠাট্টা করি, অভিমান করি, সুখ-দুঃখের কথা বলি, যার স্বপ্ন থাকে হাজারটা, যে কিনা চিন্তা করে রাখে আগামীকাল সে এই এই কাজগুলা করবে। অথচ দেখা গেলো কাল সে এই দুনিয়াতেই নেই!!!
    আহা! এইতো দুনিয়া, আজ আছি তো কাল নেই। হায়!!এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে পাবার আশায় আমাদের সারাটা জীবন শেষ হয়ে যায়!!

    ??? পবিএ কুরআনে বলা হয়েছে —–

    کُلُّ نَفۡسٍ ذَآئِقَۃُ الۡمَوۡتِ ؕ وَ اِنَّمَا تُوَفَّوۡنَ اُجُوۡرَکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ فَمَنۡ زُحۡزِحَ عَنِ النَّارِ وَ اُدۡخِلَ الۡجَنَّۃَ فَقَدۡ فَازَ ؕ وَ مَا الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَاۤ اِلَّا مَتَاعُ الۡغُرُوۡرِ ﴿۱۸۵﴾
    “প্রতিটি প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। আর ‘অবশ্যই কিয়ামতের দিনে তাদের প্রতিদান পরিপূর্ণভাবে দেয়া হবে। সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলতা পাবে। আর দুনিয়ার জীবন শুধু ধোঁকার সামগ্রী।”
    [ সূরা- আলে ইমরান : ১৮৫ ]

    ?️ আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আমরা কত ভাবলেশহীন হয়ে দিন যাপন করছি!! দুনিয়া যেনো আমাদের সব, তাই তো আমরা দুনিয়ার পিছনেই ছুটে চলেছি। অথচ আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু আমাদের মৃত্যুর কথা আল – কুরআনে উল্লেখ করে বার বার আমাদের সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। আর আমরা যেনো সেই মহান বার্তা ভুলেই বসে আছি!!।

    ?️ এই বইটার প্রতিটি ঘটনা পাঠকদের মনে বার বার স্মরণ করিয়ে দিবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আনহু’র এই মহা-মূল্যবান বার্তা। মৃত্যু যা প্রতিটা মানুষের জীবনেই ঘটবে, আর আমরা কি করছি দুনিয়ার এই সল্প সময়ের জীবনের লোভে পরে !!

    ?️??️ বইটার প্রচ্ছদ, ডিজাইন, বাইন্ডিং সব কিছু খুবই চমৎকার । বইটার নাম শুনেই পড়ার প্রতি অন্য রকম একটা আগ্রহ কাজ করবে।

    ? আমার কিছু কথা :
    বইটা কেনার আগে থেকে পড়া শেষ করা অবধি আমার আগ্রহের শেষ ছিলো না। বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিল কিছু খণ্ড আমাকে উদ্দেশ্য করেই লেখা। আমার মহান রব এর এত অবাধ্য হওয়ার পরেও কত নিয়ামত দিয়ে তিঁনি আমাকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন। বইটা যেনো বার বার আমার করুণ দশা জানান দিয়ে যাচ্ছিল!। বইটা শেষ করার পর মনে হলো এত শিক্ষণীয় একটা বই আর মূল্যবান মণি, মুক্তা যে বইটাতে ছড়িয়ে আছে তা সবার জানা দরকার। তাই পড়া শেষ করার পর তো মনে হলো যেনো রিভিউ না দিলেই নয়। কবে যে রিভিউ দিবো এইটাই শুধু মনে হচ্ছিলো। অবশেষে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু লেখার তাওফিক দিলেন। বইটাই এমন যে সবারই পড়া উচিত বলে আমি মনে করি।

    ▫️⏳▪️ পরিশেষে,

    নিয়ত মৃত্যুর খবর আসে,
    খাটিয়ায় চড়ে গোরস্তানে যায় কত প্রিয়জন,
    আপন হাতে কত লাশ মোরা করেছি দাফন,
    কিন্তু খানিক বাদেই ভুলে যাই সব,
    ক্ষণিকের মলিন চেহারা হেসে ওঠে ফের,
    আলোহীন বিকৃত এক উল্লাসে।

    ?️??️ বইটা গল্পে গল্পে আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আল্লাহ’র আনুগত্যের কথা— রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভালোবাসার কথা। অন্তরে জাগিয়ে তুলবে আখিরাতের অতুল স্বপ্ন—জান্নাতের অমিত সম্ভাবনা। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবে তুচ্ছ দুনিয়ার অসারতা। গল্পের ভেতরে বিচরণ করতে গিয়ে উপলদ্ধি করতে পারবেন, আপনার হৃদয়ে বাসা বেঁধেছে আল্লাহ’র ভয় আর পরকালের প্রস্তুতির দুর্নিবার বাসনা।

    ✨ আমাদের অন্তরে যেনো সর্বদাই মৃত্যুর কথা জাগরুক থাকে। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু যেনো আমাদের মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য বেশি বেশি নেক আমল সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার তাওফিক নসিব করেন।
    আমিন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  5. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    এ রকম বই পড়লে পাঠকরা আনন্দের সহিত পড়তে পারে। আল্লাহ লেখককে তুমি কবুল কর
    Was this review helpful to you?
  6. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ্‌ তায়ালা বইটা পড়ার সুযোগ দিয়েছেন। বইটার কভার পেজ খুবই সুন্দর। প্রত্যেকটা গল্পই হৃদয়কে নাড়িয়ে দেয়। দাওয়াহ এর জন্য খুবই উপকারি একটা বই। যারা দাওয়াহ করতে চান তাদের জন্যই বইটা। আকিদা, মৃত্যু, সময়ের মূল্য, আখিরাত, গাফিলতি, এক কথায় “একের ভিতর সব” টাইপের একটা বই।
    Was this review helpful to you?