মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

ইশকুল অব লাভ

পৃষ্ঠা ২৫৬
হার্ড বাইন্ডিং

কিছু মানুষের জীবনগল্প আমাদের মতো আটপৌড়ে হয় না।
প্রমত্তা নদীর মতো তাদের জীবন সবসময় বয়ে চলে ভাঙা-গড়ার তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বের ভেতর দিয়ে।
এমনকি তাদের ভালোবাসার গল্পগুলোও হয় ঘাত-অভিঘাতের প্রচণ্ড সংগ্রামমুখর।
ইশকুল অব লাভের ‘হাজি সাহেব’ ও ‘দিদিমা’এর জীবনগল্পও অনেকটা সে ধরনের।
তখন ইংরেজ সরকারের ক্রান্তিকাল চলছে। হিন্দু-মুসলিম দাঙার অণলে পুড়ে যাচ্ছে দেশ। বিশ্বাসের দালানগুলোও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
ইতিহাসের এমন এক ক্লান্তিকর সময়েই মিলিত হয় দু’জন মানুষ। সময়ের খামখেয়ালি সিদ্ধান্তে দুটি বিপরীত মেরুর মানুষ মুখোমুখি হয় ভালোবাসার চৌরাস্তায়।
একদিকে হুড়মুড় করে রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ছে।
অন্যদিকে দু’টি মানুষের জীবনের বিনিসূতো যুক্ত হচ্ছে ভালোবাসার রেশমি বুননে।
দাঙা, অবিশ্বাস, আগুন, সংঘাত আর আবেগের সাংঘর্ষিক আবহের ভেতর দিয়ে হাজি সাহেব এগিয়ে যান, ভালোবাসার জান্নাতে।
দিদিমার সঙ্গে তার সংগ্রামমুখর ভালোবাসার এ উপাখ্যানেই থেমে যায়নি ‘ইশকুল অব লাভ’ এর প্লট। গল্পের ছুঁতোয় উঠে এসেছে বৃটিশশাসিত কলকতার বাম রাজনীতি, কোনঠাসা ইসলামি ঐতিহ্য, খ্রিস্টান মিশনারির প্রকোপ আর লেন্দুপ দর্জির অভাগা সিকিমের ভাগ্যহত হওয়ার বেদনানীল গল্প। ইতিহাসের এই শিক্ষাগুলো আমাদের বাংলাদেশি মুসলমানদের জন্যে খুব বেশি প্রাসঙ্গিক। হয়তো আমাদের সচেতনতা থামিয়ে দেবে নতুন আরেকটি সিকিম তৈরির কালো তোড়জোড়।
গল্পের শেষ দৃশ্যে এসে আপনিও অনুভব করবেন, দিদিমার মতো আমরা প্রত্যেকেই বুঝি আমাদের ভুবনে একা। ভীষণ একা।
হায়! চোখের কোণে দু’ ফোঁটা অশ্রুই বুঝি আমাদের সবার জীবনের অন্তিম দৃশ্য।
.
গল্পকার আতীক উল্লাহ ভাইয়ের সার্থকতা এখানেই। দুটি প্রেমিক অন্তরের জীবনগল্পের ভেতর দিয়ে তিনি ফুটিয়ে তোলেন ইতিহাসের কিছু নাবলা কষ্টের কথা। কখনো ইতিহাসের পেছনে হারিয়ে যায় জীবনগল্প। একটু বাদেই ইতিহাসের সেই অমসৃণ মেঠো পথ ধরেই আবার উঠে আসে দু’টি প্রেমিক হৃদয়ের ঢেকিছাটা আবেগের প্রমত্তা ঢেউ।

 

পরিমাণ

230.00  420.00 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - ইশকুল অব লাভ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ‘ইশকুল অব লাভ’, ভালবাসার বিদ্যালয়।
    নামটা যেমন চিত্তাকর্ষক তেমনি মনোহারি, মুহাব্বাতের ফোঁটা ফোঁটা মায়া দিয়ে নির্মাণ করা যেন দাম্পত্যের স্মৃতিসৌধ। নামকরণে একশোতে একশো দেয়া যায়।
    বইয়ের নামকরণ দিয়েই তাহলে শর্ট রিভিউ শুরু করা যাক।
    খৃষ্টানদের দাওয়াতি মিশন ছড়িয়ে দিতে শুরু হয়েছিল মাদার তেরেসার জীবনোৎস্বর্গ করা একটি ‘লরেটো’ কাফেলার পদযাত্রা, সে কাফেলার শুরু নিয়েও আরেকটি ইতিহাস অংকন করেছেন লেখক। সেসব প্রতিষ্ঠান গুলো আদতে মিশনারি হলেও তারা নাম দিয়েছিল ইশকুল অব লাভ। তাদের সে পদযাত্রায় সঙ্গি হয়েছিল অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব, বক্ষমাণ বইটির আলোচ্য ইতিহাস, ব্যক্তি ও প্রেক্ষাপট সে প্রতিষ্ঠানে কাটানো একটা দীর্ঘ সময় জুড়ে বিধায় মুহতারাম লেখক মহোদয় বইটির নামকরণ করেছেন ইশকুল অব লাভ নামেই।
    কিন্তু এসব চাপার জোর আর মেকি শ্লোগানের সব আটঘাট পেরিয়ে গল্পের নায়িকা দিদিমা যখন হাজিসাহেবের কোলে ঢেরা বাঁধলেন তখন টের পেয়ে গেলেন আসলে তার সত্যিকার ইশকুল অব লাভ হাজি সাহেবের সংসার জীবনই। কুমারিত্ব উৎসর্গের নামে ইশকুল অব লাভ এ বেহুদা যিন্দেগী কাটিয়ে দেয়ার চাইতে একজন হাজি সাহেবের গৃহকর্ত্রী হয়ে অগনিত তালিবে ইলমের মা’ হওয়া কম সূখকর নয়।

    এই দিদিমাকে ঘিরেই পুরো বইয়ের গল্প।
    দিদিমা প্রথম জীবনে একজন হিন্দু মহাজনের কন্যা নিলীমা, কিছুদিন পর অখন্ড ভারতের প্রথম দিককার রেল কর্মকর্তার পালিতা কন্যা, তারপর বৃটিশদের তৈরী বিখ্যাত লরেটো স্কুলের ছাত্রী, হায়দ্রাবাদের নিজামের কন্যার বান্ধবী, ইহুদি কন্যার প্রতিবেশী, কলকাতার চার্চে উৎসর্গ করা সিস্টার অতঃপর একজন হাজি সাহেবের বাগদত্তা..
    ভারতভাগের অজানা ইতিহাস। কিছু কথা, কিছু গল্প, কিছু ইতিহাস, কিছু হাসি, কিছু কান্না, কিছু শৈশব, কিছু ঈমানদীপ্ত আখ্যান। এসব উপখ্যান জানা থাকাও অস্বাভাবিক কিছুনা, কিন্তু কিছু জায়গায় ইতিহাসের গল্পকথায় মনে হয়েছে আমি নিজেও সে ইতিহাসের সাক্ষী একজন বাস্তব নিরীক্ষক।

    গল্পের টুইস্ট এটাই, গতানুগতিক উপন্যাস বলা যায়না আবার কথার ফুলঝুরি ছিটিয়ে দেয়া কোন কাব্যের স্তুতিও নয় যেন। তাহলে এটা কি?
    ইতিহাস গেলানোর নতুন মাত্রার নতুন আবিস্কার বলা যায়। বলতে পারি ইতিহাসের কাব্য গ্রন্থ। আমার বিশ্লেষণ হয়তো ঠিক নয়। তবে গ্রন্থটি অধ্যয়ন করলে আপনি এর মান নির্ণয়ে গোলক ধাঁধাঁয় পরে যাবেন।

    ইশকুল অভ লাভ
    রচনায়ঃ মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
    প্রকাশনায়ঃ মাকতাবাতুল আযহার
    মুদ্রিত মূল্যঃ ৪২০৳
    পৃষ্টা সংখ্যাঃ ২৫৬
    ধরণঃ ঐতিহাসিক উপন্যাস।

    Was this review helpful to you?