মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

সালাফদের ক্ষুধা

অনুবাদ: মাসউদ আলিমী
পৃষ্ঠা: ১৪৪ পৃষ্ঠা
বাঁধাই: পেপার ব্যাক কভার

একজন দাঈ এই একবিংশ শতাব্দীর মানুষের খাবার দাবার নিয়ে বলেন, “We eat, because we are bored”. আসলেই। কিছু করার নেই– চলো কিছু খাই, ভালো লাগছে না– চলো কিছু খাই, এক রুম থেকে আরেক রুমে যাচ্ছেন, ফ্রিজ খুলে কিছু না কিছু মুখে দিচ্ছেন, পেটে ক্ষুধা নেই তারপরও কিছু না কিছু চিবোচ্ছেন! আমরা এখন আর বাঁচার জন্য খাই না, খাওয়ার জন্য বাঁচি। যা কিছু হবে হোক, আমাদের পেট সবসময় ভর্তি। বিশাল সব ভুঁড়ি নিয়ে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি, এটা আমাদের কাছে মোটেই লজ্জাজনক কিছু নয়, এমনকি যারা ইসলাম চর্চা করেন তাদের কাছেও না, তাদেরকে দেখবেন বরং এই ভুড়ি নিয়ে কত মজা করছেন। অথচ ভুড়িওয়ালাকে দেখে উমার (রাঃ) বলেছিলেন, এটা আল্লাহর আযাব!
.
নবী রাসূল থেকে সাহাবা কিংবা যেকোনো সোনালি প্রজন্মের মধ্যে একটা জিনিস সবসময় এক ছিল, তারা পেটের বিষয়ে সবসময় সজাগ থাকতেন। বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু না হলেই নয়, ঠিক ততটুকু খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতেন। আর এটাই ছিল তাদের আত্মশুদ্ধি, আল্লাহ্‌মুখীতা আর দুনিয়া বিমুখীতার অন্যতম কারণ। এমনকি চিকিৎসা বিজ্ঞানেও অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ, পেট ভরে খাওয়াটা বারণ। অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণজনিত কারণে যত রোগ বালাই উৎপত্তি, না খেয়ে সেরকম কিছু নেই, মেডিক্যাল পরিসংখ্যানগুলো সেটাই নির্দেশ করে।
.
দ্বীন ইসলামের যুহদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো খাওয়া দাওয়ার ক্ষেত্রে সংযম। এটা স্বাস্থ্য, দ্বীন, অন্তরের পরিশুদ্ধি সবকিছুর মূলকেন্দ্র। যুহদের উপর আমাদের সালাফদের মধ্যে যারা কলম ধরেছেন ইমাম ইবনু আবিদ দুনিয়া তাদের মধ্যে অন্যতম। “আল জু’ ” তাঁর লেখা এমন এক অনবদ্য বই যা সালাফদের খাওয়া দাওয়ার যুহদ, তাঁরা কতটুকু খেতেন, কি খেতেন, বিলাসিতা কীভাবে পরিহার করতেন, অধিক খাওয়াকে তাঁরা কীভাবে দেখতেন এসব বিষয় আলোচিত হয়েছে। এরই অনূদিত রূপ বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি।

পরিমাণ

150.00  200.00 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - সালাফদের ক্ষুধা

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 1 out of 5
    Rated 1 out of 5

    :

    বইটি পড়ে ভাল লাগেনি, কোনভাবে অনুপ্রাণিত হলাম না
    0 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    #বিষয়
    আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা রিযিক পাওয়ার জন্য হেঁটে যেতে বলেছেন আর তাঁর দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য রুদ্ধশ্বাসে ছুঁটতে বলেছেন। অথচ আজকাল আমরা রিযিকের জন্য রুদ্ধশ্বাসে ছুঁটি আর আল্লাহর দিকে? হেঁটে যাওয়ার মতো সুযোগও হয়তো হয়ে উঠে না! রিযিক বিশেষত খাবার অন্বেষণই হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য। আমরা এমন জীবনযাপন করি যেন আমরা খাওয়ার জন্যই বাঁচি। অথচ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তো আমাদের খাওয়ার জন্য সৃষ্টি করেননি, সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদাত করার জন্য। আমরা ভুলে যাই ‘খাওয়া’টাও আমাদের জন্য এক প্রকার পরীক্ষা। ইমাম হাসান আল বাসরি (রহি) বলেছেন, “তোমাদের পিতা আদম (আ) এর পরীক্ষা ছিল খাওয়া। এই খাওয়াই তোমাদের জন্য কিয়ামত পর্যন্ত পরীক্ষা।”
    খাবার সম্পর্কে আমাদের সালাফগণ কেমন মনোভাব পোষণ করতেন – সেটাই ‘সালাফদের ক্ষুধা’ বইটির বিষয়বস্তু।

    #লেখক/অনুবাদক
    বইটির মূল লেখক হাফিয আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু উবাইদ ইবনু সুফিয়ান ইবনু কায়েস আল কুরাশি, আবু বকর ইবনু আবিদ দুনিয়া আল বাগদাদি। তিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামেই প্রসিদ্ধ। জন্ম ২০৮ হিজরিতে বাগদাদ শহরে। তাঁর শিক্ষিকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সাঈদ ইবনু সুলাইমান আল ওয়াসীতি, ইবরাহিম ইবনু মুনযির আল হিযামিন,খালিদ ইবনু খিদাশ মুহাল্লবি, আলি আঁতকে ইবনু জা’দ জাওহারি প্রমুখ।
    অনুবাদকের নাম মাসউদ আলিমী। তিনি ২০১৮ সালে ইফতা কোর্স সমাপ্ত করেন জামিয়া কোরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগ মাদ্রাসা থেকে। বর্তমানে তিনি মিরপুর-২ জামিয়া হুসাইনিয়া দারুল উলূম রূপনগরে শিক্ষকতা করছেন।

    #বইটির_ভালো_লাগা_মন্দ_লাগা
    বইটির প্রচ্ছদ যেমন ভালো লেগেছে পড়তে ভালো লেগেছে তারচেয়ে বেশি। নতুন করে অনেক সালাফের নাম জানতে পারার বিষয়টি আনন্দ দিয়েছে। বানান ভুল, প্রিন্টিং মিস্টেকের বালাই নেই বললেই চলে। মন্দ লাগার মতো কিছু চোখে পড়েনি আলহামদুলিল্লাহ।

    #কেন_পড়বো?
    হালাল খাবার খাওয়া বিষয়টা নিশ্চয় নাজায়েজ কিছু নয়, কিন্তু অন্য কাজের মতো খাওয়ার বিষয়েও আমাদের সুন্নাহকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, সালাফদের অনুসরণ করা উচিত। বিশেষ করে আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ, আমাদের শিক্ষক রাসুলুল্লাহকে (সা) ভালোবাসার যেই দাবিটা আমরা করি সেই দাবি রক্ষার্থে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরতে হবে। উমার (রা) যথাযথ ভাবেই তার প্রিয় মানুষদের ভালোবাসার দাবী রেখেছিলেন। তাঁকে (রা) উত্তম পোশাক ও খাবার গ্রহণের কথা বলা হলে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা) ও আবু বকর (রা) এর জীবনযাপন স্মরণ করে বলেন, “আমার পূর্বের দুই সাথী একটি পথ অবলম্বন করেছেন। এখন আমার ভয় হয় তাঁদের বিপরীত করতে। তাহলে তো আমার সাথে বিপরীত আচরণ করা হবে।” অন্য বর্ণনায়, “যদি সম্ভব হতো, কঠিন জীবনযাপনে আমিও তাঁদের শরিক হতাম। যাতে করে আমি তাঁদের সাথে প্রশান্তিময় ভবিষ্যৎ জীবনে শরিক হতে পারি।”
    কোনো কিছু মানতে গেলে তো আগে জানতে হবে। তাই খাওয়ার বিষয়ে মুহাম্মাদ (সা) এর সুন্নাহ, সালাফদের আচরণ জানতে হলে ‘সালাফদের ক্ষুধা’ বইটি পড়তে হবে।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?