মেন্যু


রবের আশ্রয়ে

প্রকাশনী : সমর্পণ প্রকাশন

মোট পৃষ্ঠা : ২০০

তুলা রাশি কোনো লোককে দিয়ে বাটি-চালান দেওয়ার দৃশ্য; ঘরবন্দি, শরীরবন্দির নাম দিয়ে শিরকি তাবিজের ব্যবহার; কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দুআগুলো বাদ দিয়ে শিরক-কুফর-মিশ্রিত মন্ত্র দ্বারা ঝারফুঁক—এগুলো এখনও গ্রামে বেশ প্রচলিত। গাঁয়ের লোকেরা অসুস্থ হলেই দৌড়ে যায় ভণ্ড কবিরাজদের কাছে। আর কবিরাজরা দুষ্ট জিন কিংবা শয়তানের সহযোগিতা নিয়ে বিভ্রান্ত করে সরলপ্রাণ মানুষদের। অনেক সময় মোটা অঙ্কের টাকাও হাতিয়ে নেয় আশু-বিপদের ভয় দেখিয়ে। কিন্তু দিনশেষে ওদের চেষ্টা-তদবিরের মাধ্যমে রোগ-ব্যাধি আর সারে না।
আল্লাহ তাআলা কুরআন নামক এক বিশেষ নিয়ামাত এই উম্মাহকে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আর আমি কুরআন নাজিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।” [সূরা বানী ইসরাঈল, ৮২]

আমরা যদি কুরআনকে আর কুরআনের ব্যাখা হাদীসকে আঁকড়ে ধরতাম, তবে হয়তো কোনো কবিরাজ, জাদুকর কিংবা ফকিরদের কাছে দৌড়তে হতো না দৈনন্দিন সমস্যাগুলো নিয়ে। গলায় বাঁধতে হতো না কুফুরি-কালামের তাবিজ, কোমরে ঝুলত না রঙিন পৈতা, বাজুতে থাকত না কড়ি কিংবা শেকড়বাকড়। কুরআন-সুন্নাহ’য় বর্ণিত দুআ-দরুদের মাধ্যমেই জিন, জাদু, বদনজর, ওয়াসওয়াসা ও বিভিন্ন রোগবালাই থেকে বাঁচাতে পারতাম নিজেদের।

আশার কথা হলো, ইদানীং অনেকেই সচেতন হয়েছেন বা হচ্ছেন। শিরক-কুফর-যুক্ত তাবিজ-তুমার-মাদুলির বদলে কুরআন-সুন্নাহ’য় বর্ণিত দুআ, যিকর ও চিকিৎসা-পদ্ধতির শরণাপন্ন হচ্ছেন। মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানোর বদলে সুন্নাহ-নির্দেশিত পন্থায় ঝাড়ফুঁক করাচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ, তাদের জন্যেই হাফিয আল-মুনাদি লিখেছেন “রবের আশ্রয়ে”। বইটিতে মানুষের বানানো কোনো মন্ত্র কিংবা শিরকি-পদ্ধতি স্থান পায়নি। নিরেট কুরআন-সুন্নাহ’র নির্যাস থেকে জিন-জাদু-বদনজর ও রুকইয়ার পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন লেখক। ইন শা আল্লাহ বইটি আমাদের জন্য উল্লেখযোগ্য পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

পরিমাণ

199  284 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

1 রিভিউ এবং রেটিং - রবের আশ্রয়ে

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    বইঃরবের আশ্রয়ে
    লেখকঃহাফিজ আল মুনাদি
    প্রকাশনীঃসমর্পণ প্রকাশন
    মূল্যঃ২৮৪

    প্রাককথনঃ
    ————–

    রুকইয়া শব্দটি আমাদের সমাজে কিছুটা পরিচিতি লাভ করলেও সর্বত্র এর প্রায়োগিক দিক নিয়ে সংশয় এখনও রয়ে গেছে।কুরআন-সুন্নাহ থেকে দূরে থেকে,কুসংস্কারকে আকড়ে ধরার ফলে উম্মাহ আজ শিরক-কুফরে চরমভাবে জর্জরিত।অন্তরের ব্যাধির নিরাময়ে কুরআনই আমাদের একমাত্র নিয়ামক।আল্লাহ তায়ালা বলেন,
    “আর আমি কুরআন নাজিল করেছি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত” (সূরা বনি ঈসরাইল,৮২)
    শিরক কুফরকে সমাজ থেকে দূর করার জন্য রুকইয়ার প্রসার ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

    বইয়ের বিষয়বস্তুঃ
    ———————–
    মানসিক রোগ ও জিন-জাদু সংক্রান্ত প্যারানরমাল সমস্যার মৌলিক আলোচনা ও পার্থক্য নিয়েই রচিত এই বই।রুকইয়া শারঈ হলো শারীরিক,মানসিক,জিন-জাদু ও বদনজর থেকে আরোগ্য লাভের আশায় আল্লাহর উপর ভরসা করে কুরআন পাঠের মাধ্যমে তার নিরাময় করা।বর্তমানে সমাজে কুসংস্কারকে আকড়ে ধরার কারনে প্যারানরমাল সমস্যাগুলো যেনো আরো গেড়ে বসেছে।এসব থেকে পরিত্রান পাওয়ার পাওয়ার জন্য সহায়ক হবে এই বইটি।

    বইয়ের সার-সংক্ষেপঃ
    —————————–
    রবের আশ্রয়ে বইটি সাতটি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে।
    **প্রথম অধ্যায়ে রুকইয়া কি,এর সম্পর্কে ধারণা এবং রুকইয়ার কিছু বেসিক জিনিস সম্পর্ক আলোচনা করা হয়েছে।
    **দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রচলিত তাবিজ,গনক,জাদুকরদের নিয়ে বলা হয়েছে।এদের চিনার উপায়,এরা কিভাবে জিনের অনুগত হয়ে মানুষকে ধোকা দেয় এবং শিরকের মত ক্ষমার অযোগ্য গুনাহ করে থাকে।
    **তৃতীয় অধ্যায় সাজানো হয়েছে জিনদের নিয়ে।কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর সহ আরো আছে মানুষের উপর জিনের আছরের প্রকৃতি,লক্ষণ,পদ্ধতি,এর রুকইয়া এবং নিরাপদ থাকার উপায়।
    **চতুর্থ অধ্যায়ে আছে জাদু সম্পর্কিত সকল বিষয়।এর প্রকারভেদ,বিভিন্ন স্বার্থসিদ্ধির জন্য এর অপব্যবহার,লক্ষণ,প্রতিকার এবং এর থেকে সুরক্ষিত থাকার উপায়।
    **পঞ্চম অধ্যায়ে বদনজর ও ওয়াসওয়াসার ধারণা,বাস্তবতা,প্রভাব,লক্ষণ,প্রকারভেদ,প্রতিকার সম্পর্কিত আলোচনা রয়েছে।সাথে আছে বোবায় ধরা ও দুঃস্বপ্নের ব্যাপারে।
    **ষষ্ঠ অধ্যায়ে আছে কিছু মানসিক রোগের আলোচনা যেমনঃসিজোফ্রেনিয়া,হিস্টিরিয়া,হ্যালোসিনেশন,মৃগীরোগ,বাইপোলার ডিসঅর্ডার,বিষন্নতা।
    **সপ্তম অধ্যায়ে রুকইয়ার জন্য কুরআনের প্রয়োজনীয় সকল আয়াত সাজিয়ে দেয়া হয়েছে।

    বইটি কেন পড়তে হবেঃ
    ———————————

    সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে না পারলে শিরক কুফর থেকে আমরা মুক্ত হতে পারবো না।ফলে আমরা যত আমলই করি না কেনো তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবেনা,তা সব নিষ্ফল হয়ে যাবে।প্যারানরমাল সমস্যার ক্ষেত্রে কুরআনি চিকিৎসা কে সুপরিচিত করে এর বাস্তবায়নের জন্য এই বইটি আদর্শ।মানসিক ও প্যারানরমাল সমস্যার মধ্যকার পার্থক্য না বুঝার কারনে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা নিতে ব্যর্থ হই।বইটিতে সাবলীলভাবে এসকল বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে যা প্রত্যেকের জানা আবশ্যক।রুকইয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আয়াতগুলো এখানে উল্লেখ থাকাতে আর অন্য জায়গা থেকে সংগ্রহ করতে হবেনা যা খুবই সুবিধাজনক বলে আমার মনে হয়েছে।

    মন্তব্যঃ
    ———
    সঠিক জ্ঞানের অভাবের কারণে মানুষ ফকির-কবিরাজ-ওঝাদের কাছে গিয়ে ঈমানহারা হয় আর বিজ্ঞানের ওসিলা দিয়ে কেউ কেউ আবার প্যারানরমাল সমস্যাগুলোকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতে চায়।এই দুইয়ের সমন্বয়ে রচিত হয়েছে বইটি যা মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে যার ফলে আমরা দৃঢ়ভাবে রয়ে যাবো আমাদের রবের আশ্রয়ে।

    রেটিংঃ৯.৫/১০

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top