মেন্যু
rasule arabi

রাসূলে আরাবি (সা.)

পৃষ্ঠা : 368, কভার : হার্ড কভার
অনুবাদক : আশিক আরমান নিলয় অনুবাদ নিরীক্ষণ : মুফতী আসাদ আফরোজ নবিজি ﷺ-এর জীবনী অত্যন্ত মহান ও মর্যাদাপূর্ণ একটি বিষয়। নবি ও রাসূল হিসেবে মুহাম্মাদ ﷺ-এর আগমন এবং ইসলামের উত্থান সম্পর্কে বিস্তারিত... আরো পড়ুন
পরিমাণ

370  500 (26% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

40 রিভিউ এবং রেটিং - রাসূলে আরাবি (সা.)

4.9
Based on 40 reviews
5 star
92%
4 star
7%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
Showing 3 of 40 reviews (4 star). See all 40 reviews
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 4 out of 5

    আথিলাহ ফালাক:

    ১.
    বসন্তের কুহুগানে মেতে ওঠা এক সোমবারের সকাল। সুবহে সাদিকের স্নিগ্ধ বাতাস বয়ে চলেছে মক্কা নগরীতে। ভ্রমরের গুঞ্জনের মাধুরী এসে জানান দেয় সদ্য ভুমিষ্ট হওয়া শিশুর ক্রন্দন। ম্লান করে দিলো মা আমেনার শত কষ্ট, দেখতে পেলেন ‘তার শরীর থেকে একটি আলো বেরিয়ে সিরিয়ার প্রসাদগুলো আলোকিত করে ফেলেছে’ [১]
    নাতির জন্মের খবরে দাদা আব্দুল মুত্তালিব আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে নাম রাখলেন “মুহাম্মাদ”। বাস্তবেই আপনি সমগ্র পৃথিবীর কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। পৃথিবীর প্রতি মুহূর্তে কোনো না কোনো জায়গায় উচ্চারিত হয় আপনার নাম যা কেয়ামত আগ পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হতে থাকবে।

    ২.
    জন্মের আগেই বাবাকে হারিয়ে যে শিশুটির জীবন মাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল, আল্লাহর ইচ্ছায় স্নেহময়ী মায়ের ভালোবাসাও বিদীর্ণ হলো। এক বুক ভাঙা কষ্ট নিয়ে ইয়াতিম নাতির পাশের এসে দাঁড়ালেন দাদা আবদুল মুত্তালিব। মায়ের চলে যাওয়ার কষ্ট একটু একটু করে যেই না বালক ভুলতে শুরু করেছিলেন, দাদা’র মৃত্যু একরত্তি নিষ্পাপ বালকের হৃদয়ে যে ঝড় উঠেছিল তা যেন পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে কষ্টের, বেদনার।
    আপনার রব আপনাকে একাকী কখনই ছেড়ে দেননি। তৎকালীন সময়ে মূর্তিপূজা, জুলুম-অত্যাচার, নারীর অসম্মান, শির্কের মতোন পাপে লিপ্ত মানুষদের মধ্যে থেকেও আপনার অন্তরে ঈমানের বীজ গেঁথে দিয়েছিলেন আপনার রব।
    .
    যুবা বয়সে আপনার অসীম সাহস, বুদ্ধিদীপ্ত, ন্যায়পরায়ণতা ও বিশ্বাস মানুষকে এতই মুগ্ধ করেছিল যে তারা আপনাকে ডাকতো ‘আল-আমিন’। ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আম্মাজান খাদিজা রাঃ সাথে বিবাহের পরেও অহংকার আপনার পা ছুঁতে পারে নি। প্রিয়তমা স্ত্রীর প্রতি যে ভালোবাসার নিদর্শন আপনি দেখিয়েছেন তা আজও বিরল। খাদিজা রাঃ মৃত্যুকালে আপনি এতই ভেঙে পড়েন যে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না। মৃত্যুর বহুকাল পরেও বাড়িতে কোনো পশু যবেহ করা হলে আপনি খাদিজা রাঃ সাথীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন সম্মানস্বরূপ!

    ৩.
    ইসলামের দাওয়াত যখন প্রকাশ্য দেওয়া শুরু করেন, একের পর এক তীর এসে আপনার বুকে বিঁধতে থাকে। সাফা পাহাড়ের চূড়ায় যেদিন একত্রিত করে মানুষ জনকে জাহান্নাম থেকে বাঁচার কথা বলছিলেন, আপন চাচা আবু লাহাব তীব্র তিরস্কার করে বলেন ‘ধ্বংস হয়ে যায় তুমি!এসব বলার জন্যই কি তুমি আমাদের জমা করেছিলে?'[২] তাদের চোখে ‘আল-আমিন’ থাকা আপনি যেন রাতারাতি বনে গেলেন- গণক, উন্মাদ, মিথ্যুক, কবি, জাদুকর ও আরও জঘন্য নামে। শত বাঁধা, বিদ্রুপের স্বীকার হয়েও আপনি দ্বীনের দাওয়াত দিতে ছাড়েন নি। ইসলাম শুরুর দিকে আপনাদের জন্য কতই না কঙ্কটকীর্ন যাত্রা ছিলো। বিলাল রাঃ কে উত্তপ্ত বালুর উপর শুইয়ে বুকে পাথর চাপা দেওয়ার পরও আপনাকে বিশ্বাস করে চিৎকার করে গেছেন আহাদ!আহাদ! [৩] প্রিয় সাহাবীদের ভালোবাসা আপনার প্রতি এত তীব্র ছিলো যে নগ্ন পিঠে উত্তপ্ত লোহার টুকরোর লেহনও সহ্য করে নিয়েছেন আপনার জন্য। বৃদ্ধা সুমাইয়া রাঃ যোনিতে বর্শার আঘাতও থামাতে পারেনি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র বাণী!
    .
    যেদিন হিজরতের উদেশ্য বেরিয়ে পড়লেন প্রানপ্রিয় ভূমি মক্কা ছেড়ে, সেদিনও আপনার প্রিয় বন্ধু আবু বকর রাঃ আপনার হাত ধরে রেখেছিলেন। সাওর পর্বতের গুহায় অবস্থানরত অবস্থায় আপনি যখন ঘুমিয়ে পড়েছিলেন আবু বকর রাঃ উরুতে, হটাৎ কিছু একটা দংশনের যাতনায় তিনি দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট সহ্য করেছেন।অসহ্য অশ্রুধারার এক ফোঁটা আপনার মুখমন্ডল পড়তে আপনি জেগে দেখলেন প্রিয় বন্ধু বিষে নীল হয়েছেন, আপনি পরম মমতায় তার ক্ষতস্থানে আপনার লাল লাগিয়ে দিতে ব্যথা উধাও হয়ে গিয়েছিল। কোন ভালোবাসার অমৃত সুধা পান করেছিলেন আবু বকর রাঃ?

    ৪ .
    যে মক্কা থেকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গিয়েছিলেন, বিজয়বেশে যখন প্রবেশ করলেন, হাজার হাজার সমর্থকদের পাশে পেয়ে নীরব ঘাতকদের ওপর প্রতিশোধের মোক্ষম সুযোগ পেয়েও আপনি তাদের দিকে থাবা বসান নি। বদলে আপনি ঐতিহাসিক ক্ষমা ঘোষণা করে বলেছিলেন “আজ আপনাদের প্রতি কোনো আক্রোশ নেই। যান আপনারা সবাই মুক্ত” [৪]
    আপনার ক্ষমা ও ভালোবাসার চাক্ষুস সেদিন সবাই দেখেছিল যেমন দেখেছিল তায়েফের ময়দানে ওরা যেদিন আপনাকে রক্তাক্ত করেছিল। আপনি তাদের ধ্বংসের দুয়া না করে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিলেন “আমি আশা করি এমন প্রজন্মকে যারা আসবেন, যারা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর দাসত্ব করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না” [৫]
    আপনার ভালোবাসার মহিমা দিনে দিনে মানুষকে ছুঁয়ে গেছে ইয়া রাসূলাল্লাহ। মক্কার সেই কঠিন দিন পার করে যখন আপনি সাধিত হয়েছেন এক আল্লাহর আরাধনায়, তখনও আপনি নিরাহঙ্কার হয়ে জীবন যাপিত করেছেন। আল্লাহ আপনার পূর্বের ও পরবর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেছেন জেনেও অপনি রাতের পর রাত দীর্ঘ তাহাজ্জুদ সালাতে দন্ডায়মান হয়েছেন। রবের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা আপনার অন্তরে সর্বদা বিরাজমান ছিলো।
    .
    অন্তিম অবস্থাতেও আপনি আমাদের কথা ভেবে গেছেন বারেবারে “সালাত!সালাত! এবং তোমাদের দাস ও অধীনস্তরা। বারবার বলে গেছেন একই কথা [৬]
    নিজের কথা না ভেবে উম্মতের কথা ভেবে গেছেন দিনরাত্রি। অথচ আমরা আপনার উম্মত হওয়ার যোগ্যতা রাখি না ইয়া রাসূলুল্লাহ। আজ যখন গোটা মুসলিম জাতি অপদস্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়, রক্তাক্ত হয়ে ঘরে ফেরে আপনার কথা বড় মনে হয় ইয়া রাসূলুল্লাহ। কারাগারের অন্ধকার রাত্রিতে বিনিদ্র কাটে যাদের সময়, ঢেউয়ের মতন একের পর এক বিপদ যখন আমাদের মাথায় নেমে আসে, আপনার কথা ভাবি ইয়া রাসূলুল্লাহ। আমি তো আপনার মতো করে আপনাকে ভালোবাসতে পারবো না, আমি তো আপনার প্রিয় সাহাবীদের মতো করে শত আঘাত সহ্য করতে পারবো না তবুও ক্ষুদ্র লড়াই চালিয়ে যাই। বিদআত পরিত্যাগ করে আপনার রাস্তায় হাঁটতে চাই ইয়া রাসূলুল্লাহ, কেয়ামতের কঠিন ময়দানে আপনার হাতে হাউজে কাউসারের পানি পান করবো বলে অপেক্ষায় থাকি ইয়া হাবিবাল্লাহ। জান্নাতের সুগন্ধি ময়দানে দাঁড়িয়ে আপনার সাক্ষাৎ লাভ করবো বলে অন্তরকে সাত্বনা দিই ইয়া রাসূলুল্লাহ। আম্মাজান খাদিজার কথা বলতে গিয়ে আপনি উচ্চারণ করেছিলেন “তার ভালোবাসার রিজিক আল্লাহ আমার অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন”। আমি আজ আপনকে বলতে চাই ইয়া রাসূলুল্লাহ “ইন্নি কাদরু জিকরি হুৱাহা”

    “আপনাকে ভালোবাসি ইয়া রাসূলুল্লাহ”

    ফুটনোট
    _______

    ১.রাসূলে আরাবি, পৃষ্ঠা-২৬
    ২.রাসূলে আরাবি, পৃষ্ঠা-৫৩
    ৩.রাসূলে আরাবি, পৃষ্ঠা-৭৭
    ৪.রাসূলে আরাবি, পৃষ্ঠা-২৮৬
    ৫.রাসূলে আরাবি, পৃষ্ঠা-১২১-১২৩
    ৬. রাসূলে আরাবি, পৃষ্ঠা-৩৪৬

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 4 out of 5

    সিরাজাম বিনতে কামাল:

    মহান আল্লাহ বলেন- “নি:সন্দেহে তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ- তার জন্য যে আল্লাহ ও আখিরাতকে কামনা করে থাকে এবং আল্লাহকে অনেক স্মরণ করে।”
    [সূরাহ আহযাব, আয়াত নং: ২১]

    আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে গোটা মানবজাতির জন্য উত্তম আদর্শ ও কল্যাণ দিয়ে দুনিয়ায় রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন রাহমাতুললিল আলামীন মহানবীকে (সা.)।

    নবীজীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে অর্থাৎ নবীর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করলে সেই জীবন হবে সার্থক এবং সেই ব্যক্তি নিঃসন্দেহে একজন উত্তম ব্যক্তি।

    নবীজীবনীর প্রত্যেকটা মুহূর্তেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় কিছু রেখেছেন। সীরাহের পাতায় পাতায় আমরা তা দেখতে পাই।

    নবীকে (সা.) জানতে হলে আমাদের সিরাহ পড়তে হবে। আর রাসূলে আরাবি (সা.) বইটিও সিরাহগ্রন্থ। বইটিতে নবীজীবনী থরে থরে সাজানো হয়েছে। যারা প্রথমেই বড় কলেবরের সিরাহগ্রন্থ পাঠ করতে চাননা, আবার সবকিছু একটু বিশ্লেষণ সহ’ই জানতে চান তাদের জন্য বইটি সুখপাঠ্য হবে, ইন শা আল্লাহ!

    বইয়ের ভাষা ব্যবহার সহজ ও প্রাঞ্জল হয়েছে। যা সাধারণ পাঠকগণের জন্যেও সুখপাঠ্য ইন শা আল্লাহ!

    Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    Mohammad Saiful:

    সম্পূর্ণ বইটি এখনো পড়া হয়নি, কারণ সিরাত গ্রন্থটি আপাতত বর্তমানে আমার হাতে নেই। ১০০ পৃষ্ঠার উন্মুক্ত Pdf পড়ে মাশাল্লাহ সিরাত গ্রন্থটি মোটামুটি ভাল লেগেছে, যেটুকু পড়েছি তাতে মনে হলো সংক্ষিপ্ত বইটাতে ছোট পরিসরে নবী জীবনের অনেকগুলো তথ্যের সমাবেশ ঘটেছে।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top