মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

কুরআন-হাদিসের আলোকে স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখ্যা

প্রকাশনী : আশরাফ বুক ডিপো

অনুবাদ: জোজন আরিফ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

কি অমুসলিম, ধার্মিক কি অধার্মিক, সবাই স্বপ্নের ব্যাপারে আগ্রহবোধ করেন। ইবনু সিরিন রহ. বলেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার। মনের কল্পনা ও অজ্ঞতা, শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় প্রদর্শন ও কুমন্ত্রণা এবং আল্লাহ্‌ তাআলার পক্ষ থেকে সুসংবাদ।’

স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে গবেষণার শেষ নেই। কিন্তু ইসলামে স্বপ্ন তুচ্ছ বিষয় নয়। এর প্রভাব রয়েছে মানব জীবনে। তাই ইসলাম স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রদানে কঠোর। স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার চাবি সকলের হাতে দিয়ে দেয়নি। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ ইলম, অভিজ্ঞতা, ইত্যাদি বিষয়াদি। কারণ, ভুল ব্যাখ্যার প্রভাব কখনও কখনও অত্যন্ত খারাপ হয়। তাই আলিমরাও স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে ভয় পান। কেবল স্বপ্নের বিষয়ে দক্ষ আলিমরাই ব্যাখ্যা দেন।
.
স্বপ্ন কী? স্বপ্ন কত প্রকার? কীভাবে এর ব্যাখ্যা করা হয়? কুরআন সুন্নাহয় এ ব্যাপারে কি এসেছে? এসব প্রশ্নের উত্তর নিয়েই রচিত বইটি। 

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

2 রিভিউ এবং রেটিং - কুরআন-হাদিসের আলোকে স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখ্যা

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    বইঃ স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখা (কুরআন হাদিসের আলোকে)
    মূল লেখকঃ ড. আহমাদ ফরিদ
    ভাষান্তরঃ জোজন আরিফ
    প্রকাশনঃ আশরাফ বুক ডিপো
    পৃষ্ঠাঃ ১০৪
    মুদ্রিত মূল্যঃ ১৪০

    #আলোচ্য বিষয়ঃ
    →অবতরনিকা
    →ভূমিকা
    →স্বপ্নের মর্মার্থ ও প্রকারভেদ
    →ভালো স্বপ্নের মাঝে নিহিত কল্যাণ
    →নবী কে স্বপ্নে দেখার উপকারিতা
    →স্বপ্ন দেখার আদব
    →স্বপ্ন ব্যাখ্যার বিভিন্ন পদ্ধতি
    • কুরআনের আলোকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা
    • মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিসের আলোকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা
    • শব্দের অর্থানুসারে স্বপ্নের ব্যাখ্যা
    • প্রবাদবাক্যের সাহায্যে
    স্বপ্নের ব্যাখ্যা
    • মর্মার্থ ভিত্তিক স্বপ্নের ব্যাখ্যা
    • বিপরীত অর্থগ্রহণের মাধ্যমে স্বপ্নের ব্যাখ্যা
    →স্বপ্নের হুকুম ও উপকারিতা
    →আমাদের পূর্বসূরিদের স্বপ্ন ব্যাখ্যা
    →শব্দকোষ

    এমন সব চমৎকার ও বিরল ঘটনাবলি খুব সুন্দরভাবে, প্রাঞ্জলভাষায় ব্যক্ত করা হয়েছে।

    #স্বপ্ন কীঃ

    স্বপ্ন! অতি ছোট্ট একটি শব্দ। যদিও শব্দটি খুব ছোট, কিন্তু এর বিস্তৃতি বিশাল। এমন কোনো মানুষ নেই যার মনে স্বপ্ন নামক শব্দটি কড়া নাড়েনি। স্বপ্ন হচ্ছে মানুষের ভেতর কিংবা বাহিরের নানা জল্পনা-কল্পনার সংমিশ্রণে তৈরি এক তন্দ্রাবিষ্ট ইন্দ্রজাল। সেটা হতে পারে, ভয়াবহ কিংবা স্বপ্নিল। কারো স্বপ্ন থাকে আকাশ ছোঁয়া। কেউবা আবার স্বপ্ন দেখে ছোট্ট শব্দটির তুলনায়ও ক্ষুদ্র। কেউ কেউ বিপদশঙ্কুল ও কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে পৌঁছে যায় সাফল্যের মহা সোঁপানে। আবার কেউবা তলিয়ে যায় হতাশার অথৈ সাগরে। তবু আমরা প্রতিনিয়ত স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি; নিদ্রায় কিংবা জাগরণে। অথচ আমরা আদৌ জানিনা স্বপ্ন কী! স্বপ্ন আমরা কেন আর কীভাবে দেখি। স্বপ্নের একটি ব্যবহার রূপক অর্থে। কিন্তু প্রকৃত স্বপ্ন হলো সেটাই যা আমরা নিদ্রিত অবস্থায় দেখি।
    ইমাম ইবনু সিরিন এর মতে, আমরা যে স্বপ্ন দেখি তা তিন ধরনের। মনের কল্পনা ও অভিজ্ঞতা, শয়তানের পক্ষ হতে ভয় প্রদর্শন ও কুমন্ত্রণা এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে সুসংবাদ বা সত্য স্বপ্ন। এই স্বপ্নের রয়েছে বিশদ ব্যাখ্যা।

    #পর্যালোচনাঃ

    পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই চলছে এই স্বপ্ন নিয়ে গবেষণা, রচিত হয়েছে অসংখ্য বই-পুস্তক। তবু আজও আমরা অক্ষম; স্বপ্ন কী, তার মর্মার্থ, স্বপ্ন ব্যাখ্যার সঠিক পদ্ধতি, স্বপ্ন দেখলে কী কী করণীয় এসব নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর উদঘাটন করতে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, আল্লাহ তাআলার একমাত্র মনোনীত দ্বীন ইসলাম সেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হয়েছে। ইসলামসম্মত সব ব্যাখ্যা নিয়ে সাজানো হয়েছে,
    “স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখ্যা” নামের বইটি।

    জোজন আরিফ কর্তৃক অনুবাদিত “স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখ্যা” বইটি ড. আহমাদ ফরিদ রচিত “Authentic Interpretation of the Dreams” এর অনুবাদ। বইটি সম্পূর্ণ কুরআন হাদিসের আলোকে রচিত। এটি বাজারে বিক্রিত কোনো খাবনামা নয়।

    •••স্বপ্ন দেখার আদব-

    →স্বপ্ন সত্য হওয়ার জন্য একজন মুসলিমকে যেসব আদব মেনে চলতে হবে-
    • একজন বান্দাকে সর্বদা সত্য কথা বলতে হবে।

    • একজন মানুষ তার সকল কাজে আল্লাহকে ভয় করবে।

    • একজন মুসলিমের উচিত ঘুমের আদবকে শ্রদ্ধা করা
    • একজন ব্যক্তির উচিত আল্লাহর নিকট ভালো স্বপ্নের জন্য প্রার্থনা করা।

    →স্বপ্ন দেখার পর একজন ব্যক্তির আদব -সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এ বইয়ে।

    ••• স্বপ্ন সত্য হওয়ার জন্য একজন মুসলিমকে যেসব আদব মেনে চলতে হয়, তার মধ্যে প্রধান এবং অন্যতম হলো একজন বান্দাকে সর্বদা সত্য কথা বলতে হবে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
    “কিয়ামত যখন ঘনিয়ে আসবে তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কম সময়ই মিথ্যা হবে।”

    ••• তিনটি বিষয় এর ইঙ্গিত বহন করে-

    • প্রথমত, আলেমদের মৃত্যুর কারণে দ্বীনি ইলম উঠে যাবে।

    • দ্বিতীয়ত, যখন পৃথিবীতে মুমিনের সংখ্যা কমে যাবে তখন কুফরি, জাহিলিয়াত ও মূল্যবোধের অবক্ষয় জনসাধারণের মধ্যে মহামারী আকার ধারণ করবে।

    •তৃতীয়ত, হাদিসটি বিশেষ করে মুসা ইবনু মারিয়াম আলাইহিস সালাম এর সময়কালের সাথে সম্পর্কযুক্ত এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

    ••• একজন মানুষ তার সকল কাজে আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে-

    আল্লাহ তাআলা তাঁর মুমিন ও মুত্তাকী বান্দাদের পার্থিব জীবনের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, মনে রেখো, যারা আল্লাহর বন্ধু, তাদের না কোনো ভয়-ভীতি আছে, না তারা চিন্তিত হবে। যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করেছে। তাদের জন্য সুসংবাদ পার্থিব ও পরকালীন জীবনে। আল্লাহর কথার কোনো হেরফের হয়না, এটাই মহাসফলতা।” সূরা ইউনুস, (৬২-৬৪)

    ••• ঘুমের আদব-

    একজন মুসলিমের উচিত ডান কাতে হয়ে, তার ডান হাত গালের নিচে রেখে কিবলামুখী হয়ে শোয়া। নরম ও আরামদায়ক বিছানায় শোয়া উচিত না। কারণ নরম ও আরামদায়ক বিছানা তাকে শেষ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়তে উঠতে দেয়না।
    একজন মুসলিমের উচিত ঘুমের আদব-শিষ্টাচারকে শ্রদ্ধা করা। ঘুমের আদব সমুহের মধ্যে রয়েছে-

    • একজন ব্যক্তির উচিত নেক নিয়তে ঘুমাতে যাওয়া
    • পবিত্র অবস্থায় ঘুমানো
    •তওবা করে ঘুমানো

    “হে আমার রব! আপনারই নামে আমার শরীরটা বিছানায় রাখলাম এবং আপনারই নামে আবার উঠব। যদি আপনি ইতোমধ্যে আমার জান কবচ করে নেন তাহলে, তার উপর রহম করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হেফাজত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হেফাজত করে থাকেন।” (সহীহ বুখারী মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজী)

    ••• স্বপ্ন দেখার পরে আদব-

    আবু কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
    “সুন্দর স্বপ্ন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে। কেউ স্বপ্নে খারাপ কিছু দেখলে বাম পাশে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে আর শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বনির রাজীম) তাহলে এ স্বপ্ন তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।” (সহিহ বুখারী)

    #বৈশিষ্ট্যঃ

    অনুবাদ করার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ভাষার সাথে সামঞ্জস্য রাখতে গিয়ে সব এলোমেলো হয়ে যায়। যা পাঠকের পড়ার উপযোগী আর থাকে না এবং বুঝতেও খুব কষ্ট হয়। কিন্তু এ বইয়ের ভাষার সৌন্দর্য মানানসই রয়েছে। লেখক সাবলীলতাকেই প্রাধাণ্য দিয়েছেন।

    #মন্তব্যঃ

    স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখ্যা বইটি শুধুমাত্র স্বপ্ন দিয়েই সাজানো হয়েছে এমনটা নয়। এখানে রয়েছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ। তাঁর স্ত্রী ও সাহাবীদের মেনে চলা জীবনচরিতের আলোকে জীবনপ্রবাহের পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা। সম্পূর্ণ কুরআন হাদিস মেনে রেফারেন্স সহ ইসলামী মতাদর্শ।

    বইটি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অত্যাবশ্যকীয় রুটিনের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। তাই সুন্দর ও সৎ গুনাবলী অর্জনের জন্য আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত বইটি অবশ্যই সংগ্রহে রাখা।

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5

    :

    ঘুম মানুষের শরীরের অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করার মাধ্যম। সেই ঘুমের মধ্যেই কখনো কখনো মানুষ হারিয়ে যায় অন্য জগতে। দৃশ্যপটে ভেসে ওঠে নানারুপ চিন্তা ও দৃশ্য। অবচেতন মনে দেখতে  থাকে বিভিন্ন অদ্ভুত ঘটনা। সাধারণ পরিভাষায় যাকে আমরা স্বপ্ন বলি। এই স্বপ্ন ঘুমন্ত মানুষের জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। স্বপ্নে দৃশ্যমান ঘটনাগুলি কাল্পনিক হলেও দেখার সময় আসল বলেই মনে হয়।
    স্বপ্নে কোনকিছু দেখার পর মানুষ অনেক সময় বিচলিত হয়ে যায়। ভয়ের কোন স্বপ্ন দেখলে মানুষ ভীত সন্তস্ত্র হয়ে পড়ে। মনের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে নানারকম প্রশ্ন।
    ইসলামী জীবনব্যবস্থায় যেহেতু  আল্লাহ প্রদত্ত মানব জীবনের কোন কিছুই তো অনর্থক নয় । তাহলে  কেন সে এই স্বপ্ন দেখলো? এই স্বপ্ন কি বাস্তবে রুপায়িত হবে? এর সঠিক ব্যাখ্যাই বা কি?
    স্বপ্ন সম্পর্কিত এমন আরো অনেক তথ্য সম্বলিত একটি অন্যতম বই হলো ” স্বপ্নের প্রামাণিক ব্যাখ্যা”। বইটিতে স্বপ্ন ও তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের আলোকে দালিলীক আলোচনা স্থান পেয়েছে।
    বইটি লিখেছেন ড. আহমাদ ফরিদ।
    বইটি অনুবাদ করেছেন জোজন আরিফ।
    বইয়ের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো –
    -স্বপ্নের মর্মার্থ ও প্রকারভেদ
    -স্বপ্ন দেখার আদব
    -স্বপ্ন ব্যাখ্যার বিভিন্ন পদ্ধতি
    -স্বপ্নের হুকুম ও উপকারিতা
    -পূর্বসূরিদের স্বপ্ন ব্যাখ্যার কিছু বিরল ঘটনা ইত্যাদি।
    .
    বইটি অনুবাদ করা হলেও পড়তে গিয়ে কখনো মনে হয়নি এটি একটি অনুবাদ বই। বরং যথেষ্ট সহজ, সাবলীল ও বোধগম্য ভাষায় রচিত বলে মনে হয়েছে।
    স্বপ্ন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যেকোনো পাঠক বইটি থেকে স্বপ্ন সম্পর্কে  খুটিনাটি অনেক তথ্য পাবে। সব মিলিয়ে বইটি খুবই ভালো এবং উপকারী।
    তাই স্বপ্ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এ জাতীয় গ্রন্থ ইসলামী মনোভাবাপন্ন সকলের জন্য একবার হলেও পড়া উচিৎ।
    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?