মেন্যু


প্রিয়তমা

প্রকাশনী : নবপ্রকাশ

আয়েশার সঙ্গে রাসুল মুহাম্মদের (সা.) দাম্পত্যজীবন কি অসুখী ছিলো? একজন কেবলই কিশোরী, আরেকজন পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রবল ব্যক্তিত্ববান মানুষ; কেমন ছিলো অসম বয়সী এ দুজনের প্রেমময় সংসারের হালচাল? ঝগড়া হতো? খুনসুটি? মান-অভিমানে কান্না হতো?
খাদিজা (রা.) কেন প্রৌঢ়ত্বের দ্বারপ্রান্তে এসে হাত বাড়িয়ে আগলে নিলেন যুবক মুহাম্মদের হাত? মুহাম্মদ (সা.) যেদিন নবি হলেন, ভয়ে কাঁপছিলেন তিনি; খাদিজা তাঁকে বুকে জড়িয়ে কেন বলেছিলেন, ‘ভয় নেই আপনার’?
কেন সুদূর ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান নাজ্জাশির রাজপ্রাসাদে আয়োজন করা হলো মুহাম্মদ (সা.) এবং কুরাইশকন্যা উম্মে হাবিবার বিয়ে? কেন ইহুদি রাজকুমারী সাফিয়্যাকে যুদ্ধদাসী থেকে বরণ করে নিলেন উম্মুল মুমিনিন হিসেবে?
রাসুল মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর ১১ জন স্ত্রীর দাম্পত্যজীবন ও প্রেমের অসংখ্য গল্পভাষ্য নিয়ে রচিত ইতিহাস-অনুসন্ধানী লেখক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর-এর অনবদ্য উপাখ্যানগ্রন্থ ‘প্রিয়তমা’। একদিকে নিরেট নির্মোহ ইতিহাসের বর্ণিল আয়োজন, আরেক দিকে উম্মুল মুমিনিনদের জীবনের অনালোচিত অধ্যায়ের নতুন আবিস্কার। নতুন ভাষা ও প্রাঞ্জল গদ্যে রাসুলের দাম্পত্যজীবনের পূর্ণ ছায়াছবি উঠে এসেছে এ গ্রন্থে।

পরিমাণ

281  375 (25% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
প্রসাধনী
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

8 রিভিউ এবং রেটিং - প্রিয়তমা

4.9
Based on 8 reviews
5 star
87%
4 star
12%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    প্রথমে বইটি অর্ধেক পড়ার পর হারিয়ে ফেলেছিলাম । পড়ে আবার কিনলাম বাকি অর্ধেক পড়ার জন্য । আল্লাহামদুলিল্লাহ আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহিওয়াসাল্লাম এর পারিবারিক জীবন কেমন ছিল তা জানা আমাদের জন্য অনেক জরুরি ।
    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  2. 5 out of 5

    :

    ★এক নজরে লেখক পরিচিতি :
    সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর এর পাঠ্যগ্রহ মূলত ইতিহাস। পাঠ্যগ্রহের কারণেই তিনি লিখেন মূলত ইতিহাস এবং ধর্মদর্শনের মিশেলে। প্রথাগত ধর্মীয় আবহের বাইরে গিয়ে নির্মাণ করার চেষ্টা করছেন নতুন এক ভাষাভঙ্গী। সাবলীল, প্রাঞ্জল আর সাহসী গদ্য দিয়ে তিনি আমাদের চেনা চিত্রকে দৃশ্যমান করেন নতুন এক উপখ্যানের আদলে। এটাই তাঁর বিশেষত্ব।
    বর্তমানে মুক্ত পৃথিবীর মানুষ হিসেবে একমাত্র কাজ -লেখালেখি।

    ★গ্রন্থালোচনা ★

    “প্রিয়তমা”নামকরণের কারণ :
    এতে উম্মুল মুমীনিন তথা রাসূলুল্লাহ (সা:) এর প্রিয়তমা স্ত্রীদের কথা এতে উল্লেখ করেছেন।

    “প্রিয়তমা” রাসূলপত্নীদের জীবনীগ্রন্থ নয়, বরং তাঁদের জীবনের সুরম্য গল্পভাষ্য। জীবনের গল্পগুলো জীবনীর মতো নয়, তা উপস্থাপন করা হয়েছে গল্পের আদলে। জীবনের গল্প বলতে গিয়ে উঠে এসেছে তাঁদের সঙ্গে রাসূলের দাম্পত্য ভালোবাসা, সাংসারিক প্রেম, পারস্পরিক সৌহার্দ, জীবনযুদ্ধে লড়ে যাওয়ার সঞ্জীবনী, নারী অধিকার, নারীশিক্ষাসহ আরো অনেক অজানা কাহিনীকাব্য।

    আয়েশা (রাঃ) বউ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ঘরে আসার কিছু দিন পরের ঘটনা।
    তাঁর কিশোরী মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়, অকারণ কৌতুহল দোলা দিয়ে যায় মনে। রাসূল (সা:) কাকে অধিক ভালোবাসেন? তাঁকে কতটুকু ভালোবাসেন? অন্য স্ত্রীদের চেয়ে বেশি না কম?
    একদিন সাহস করে জিজ্ঞেস করেই ফেললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে কতটুকু ভালোবাসেন?
    রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একটু চিন্তা করে বললেন, তোমার এবং আমার মধ্যে ভালবাসার বন্ধনটা এত শক্ত, যেমন একটা রশির মধ্যে সুতাগুলো শক্তভাবে জড়িয়ে থাকে। একই বাঁধনে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা থাকে। রাসূলের জবাব শুনে তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন।
    এবং এরপর থেকে মাঝে মাঝেই জিজ্ঞেস করতেন, হে আল্লাহর রাসূল!
    বন্ধন কি আগের মতোই আছে না ঢিল হয়ে গেছে?
    রাসূলুল্লাহ (সা:) তাঁর দুষ্টুমির জবাবে বলতেন বন্ধন আগের মতোই দৃঢ় আছে। বাঁধনে কোন দুর্বলতা বা পরিবর্তন আসেনি।

    একবার হযরত মায়মুনা বিনতে হারিস (রা:) গিরগিটির গোশত রান্না করেন।
    রাসূলুল্লাহ দেখে বললেন আমি তা খেতে পছন্দ করি না, সাহাবীদের বললেন তোমরা খেতে পারো। মায়মুনা (রা:) হয়তো আগে এ মাংস খেতেন কিন্তু রাসূলের অপছন্দ দেখে তিনি নিজের অপছন্দের কারণ বানিয়ে নিলেন।
    এ কেবল দু’জনের মাঝে অপরিসীম ভালোবাসা থাকলেই সম্ভব।
    একজন সঙ্গী যখন তার অপর সঙ্গীর পছন্দ- অপছন্দকে নিজের সৌভাগ্যের ললাট লিখন করে নেয় তখন এ ভালোবাসা জাগতিক সকল ক্ষুদ্রতা ও পরিসীমা ছাড়িয়ে যায়।
    এমন ভালোবাসার জন্যই যুগে যুগে রচিত হয়েছে অসংখ্য মহাকাব্য।

    রাসূলের ভালোবাসার ছায়ায় থেকে সকল উম্মুল মুমীনিনই নিজেদের কোনো না কোনো মহত্ত্বে উচ্চকিত করে তুলেছিলেন। কেউ ছিলেন, হাদিসবিশারদ, কেউ জ্ঞানের আধার, কেউ খোদাভীতিতে অতুলনীয়, কারো ছিলো কোরআন পাঠের মুগ্ধকর চরিত্র, তেমনি কেউ ছিলেন দানশীলতায় এগিয়ে।

    আমরা দুই থেকে তিনজন উম্মুল মুমীনিনের জীবনী সহ রাসূলুল্লাহ এর সাথে বিবাহ পরবর্তী,ও পারিবারিক সকল ঘটনাই মোটামুটি জানি।
    বাকি আট থেকে নয় জনের ব্যাপারে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া পর্যন্তই আমাদের জ্ঞান স্থগিত।
    প্রিয়তমা বইটিতে এগারজন উম্মুল মুমীনিনের রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগ থেকে বিবাহ পরবর্তী জীবন, রাসূলের সাথে কেমন করে দিন অতিবাহিত করেছেন, আর তাঁর সাংসারিক জীবন কেমন ভালবাসাপূর্ন ছিলো তা খুব যত্নের সহিত লেখক আমাদের জানিয়েছেন।

    কোনো একজন আম্মাজান রান্নায় পারদর্শী ছিলেন, রাসূলুল্লাহ তাঁর রান্নার প্রশংসা করতেন।
    কেউ তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন, রাসূল সা: এর তাঁর বুদ্ধির তা’রীফ করতেন।
    নারীদের বিষয় গুলোতে (যেমন অন্য স্ত্রীদের একটু অন্য চোখে দেখা) তিনি অন্য স্ত্রীদের সতর্ক করে দিতেন।
    কেউ ভুল কর‍লে রাসূল সা: তাদের ভুল শুধরে দিতেন।
    আবার তিনি স্ত্রীদের কাছে নিজের প্রবল ব্যক্তিত্ত্বের বাহাদুরি প্রকাশ করতেন না, নিজেকে স্ত্রীদের কাছে সমর্পণ করে দিতেন তাদের ভালোবাসার কাছে।

    মোট কথা রাসূল সা:এর জীবনের টুকরো টুকরো আয়না ছিলেন তারা।
    যে আয়নায় তাকালে রাসূলের জীবনের ছায়াচিত্র স্বচ্ছ হয়ে ভেসে উঠবে।
    তাঁরা তাঁর আলোকেই নিজেদের জীবনকে সাজিয়ে তুলেছেন এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য উৎসর্গ করছিলেন তাঁদের লব্ধ জ্ঞানের আধার।

    আমাদের লৌকিক সমাজের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই শোনা যায় স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্যকলহ, মানসিক টানাপোড়ন, পরস্পরের বিশ্বাসহীনতা, সংসার ভাঙ্গার করুণ সুর। আমরা কখনো কি তাঁদের সংসারের আদলে আমাদের পারিবারিক সমস্যা গুলো দূর করার চেষ্টা করেছি? হয়তো করা হয়নি! অথচ তাঁদের জীবনে রয়েছে প্রেম আর ভালোবাসা পূর্ণ এক সংসারের ছায়াচিত্র।
    যা সমগ্র পৃথিবীর জন্য শিক্ষণীয়। যে গ্রহণ করবে তার জীবন আলোকিত হবে।
    এ গ্রন্থটিতেই সেই সুখী আর প্রেমময় জীবনের গল্পই বলা হয়েছে।

    ★মন্তব্য: অনেকে নাম দেখেই নেগেটিভ আচরণ করেছেন তাদের বলছি জাষ্ট দুই পেইজ পড়ে দেখুন তারপর আপনিই ডিসিশন নিন নামটা স্বার্থক হয়েছে কিনা।
    বইয়ের ব্যাপারে বলবো, আমরা সবাই নরমালী ফল খাই বা খেতে পছন্দ করি।
    সেই ফল কে লেখক জুস আকারে আমাদের খাইয়েছেন।
    যাতে উপকরণ বেশি থাকলে ও খাবার কিন্তু পিওর আবার টেষ্ট ও একটু বেশি।

    আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) মুস্তালিক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে হার হারিয়ে গেলে তিনি তা খুঁজতে গিয়ে দেরি করে ফেলেন। ফিরে এসে দেখেন কাফেলা তাকে ফেলে চলে গেছেন।
    এর কিছুক্ষণ পর এক সাহাবা এসে তাকে চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় পান।
    আমার জানা ছিলো যে, রাসূলুল্লাহ প্রতি যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে পিছনে একজন সাহাবা কে রেখে আসতেন।
    যাতে তিনি কাফেলা কোন কিছু ফেলে আসলে তা নিয়ে আসতে পারেন।
    কিন্তু বইয়ে লিখা ছিলো সাহাবী সাফওয়ান( রাঃ)অধিক ঘুমকাতুরে ছিলেন তাই তিনি দেরিতে ঘুম থেকে উঠে রওয়ানা করলেন।(ঐ বিষয়টি উল্লেখ ছিলো না হয়তো আমার জানায় ভুল ছিলো )

    আম্মাজান সাওদা (রাঃ) এর বয়সের স্থানে একটু হেরফের হয়েছে দেখলাম।
    এক জায়গায় লিখা বিয়ের সময় বয়স ছিলো ৫৫বছর। আরেক জায়গায় ৫০বছর।

    বাদবাকি চমৎকার উপস্থাপনা।
    এক কথায় ভালো লাগার মতোই।

    রাসূলুল্লাহর প্রিয়তমাদের আল্লাহ পাক শান্তিতে রাখুক।
    সবাইকে পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে শেষ করছি।

    4 out of 4 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
  3. 4 out of 5

    :

    প্রিয় নবীজি (সা.) ছিলেন পিতা-মাতা,ভাই-বোন বিহীন ইয়াতিম।তাওহীদ-র ডাক দেয়ায় যাকে তাঁর আত্মীয়-স্বজন, গোত্রের লোকেরা ত্যাগ করেছিল।কাফির রা অনবরত অপমান করত,হুমকি দিত,অত্যাচার করত,যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হত।ছিল না সম্পদের রোশনাই বা জাঁকজমক বিলাস-ব্যসন।চোখের সামনে একের পর এক প্রিয়জনদের মৃত্যু তাঁর হৃদয়কে ভারাক্রান্ত করে রাখত।নানাবিধ দুশ্চিন্তা তাঁকে তাড়া করে ফিরতো।অথচ সরল-সিধা অনাড়ম্বর সেই মানুষটাই ছিলেন সব থেকে প্রশান্ত,সদা হাস্যমুখী,অবিচল।দুনিয়ার কোন সমস্যায় তাঁর সবর কে অতিক্রম করতে পারত না।তিনি ছিলেন আল্লাহ রাসূল।আর আল্লাহ তাঁর জীবনকে এমন সব মানুষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করে দিয়ে ছিলেন যারা তাঁর হৃদয়ে প্রশান্তির ফল্গুধারা প্রবাবিহ করত।এদের মধ্যে সর্বাগ্রে ছিলেন তাঁর ‘প্রিয়তমা-রা’।যারা ছিলেন আল্লাহর রাসূলের সহধর্মিণী।

    কেমন মানুষ ছিলেন তাঁরা?রাসূলের (সা.)- এর সাথে তাঁদের সম্পর্কই বা কেমন ছিল?এগুলো জানতে হলে তাঁদের সম্পর্কে বিশদ জানতে হবে।আর সেটা জানাতেই লেখক সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর আমাদের সামনে হাজির করেছেন তার বই ‘প্রিয়তমা’।সাধারণত রাসূল সা. -এর জীবনী গ্রন্থ গুলোতে তাঁর সামগ্রীক জীবনের ওপর আলোকপাত করা হয় যেখানে রাসূলের পারিবারিক,বৈবাহিক জীবনের খুঁটিনাটি অনেক সময়ই পাশ কাটিয়ে যায়।লেখক এই বইয়ে আমাদের উম্মুল মু’মিননদের জীবনী নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন এবং রাসূলের(সা.) সাথে তাঁদের দাম্পত্যের খুঁটিনাটি বিষয় গুলো গুরুত্ব দিয়ে চয়ন করেছেন।
    তাদের জন্ম,পরিবার,চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য,অন্য উম্মুল মু’মিনিন দের তাঁদের সম্পর্ক,রাসূলের (সা.)সাথে তাঁদের প্রেম -ভালোবাসা তো বটেই অভিমান বা রাগের সম্পর্কও কেমন ছিল, লেখকের সাবলীল বর্ননায় সেটাও আমরা দেখতে পাই।

    আমাদের আম্মাজানেরা এসেছিলেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থেনৈতিক, সামাজিক,পারিবারিক পরিবেশ থেকে।তাঁদের কেউ ছিলেন অনেক ধনী।কেউ ছিলেন গোত্র প্রধানের কন্যা।কেউ ছিলেন সাধারণ পরিবারের।কেউ এসেছিলেন বন্ধু আবু বকর (রা.) বা উমর (রা.) এর ঘর থেকে কেউ বা ঘোরতর শত্রু আবু সুফিয়ানের ঘর থেকে।তাঁদের কেউ ছিলেন রাসূল সা. থেকে বয়সে বেশ বড়,কেউ বা সমবয়সী,কেউ অনেক ছোট।
    তাঁদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেও ছিল বিস্তর পার্থক্য।কিন্তু তাঁদের সবার প্রিয়তম ছিল একজন।যিনি দোজাহানের বাদশাহ হয়েও বেছে নিয়েছিলেন অনাড়ম্বর, দীনহীন জীবন।দিনের পর দিন তাঁর ঘরে চুলায় হাড়ি উঠত না।তেলের অভাবে ঘরে প্রদ্বীপ জলতো না।তারপরও তাঁরা ছিলেন সুখী।তাঁদের ঘরে বিরাজমান ছিল স্বর্গীয় পরিবেশ। কিন্ত কিভাবে?
    সেটা জানতে হলেই হাতে নিতে হবে ‘প্রিয়তমা’।

    আজকে পরিবার আমাদের সব থেকে ভঙ্গুর সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।নারী -পুরুষের অবাধ মেলামেশা,বিবাহ বহির্ভূত অবৈধ সম্পর্ক,পরকীয়া,পারিবারিক সহিংসতা,ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব,নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ ইত্যাদি বহুবিধ কারণ পরিবার প্রথাকে ঠুনকো,বিশৃঙ্খল, অশান্তিময় করে তুলছে।হু হু করে বাড়ছে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা।পাশ্চত্য বটেই আমাদের মত সিংহভাগ মুসলিমের দেশও এর কবল থেকে রেহাই পাচ্ছে না।এই অবস্থায় পরিবারকে শৃঙ্খল এবং শান্তিময় করার জন্য আমাদের কে ফিরতে হবে কুরআন এবং সুন্নাহর কাছে।আর রাসূল সা. -এর জীবন-ই তো কুরআনের জীবন্ত দর্পন।একজন স্ত্রী-র কর্তব্য কি? একজন আদর্শ স্বামী-ই বা তার স্ত্রীর প্রতি, পরিবারের প্রতি কেমন হবেন? তা জানতে আমাদের ঢুকতে হবে রাসূলের (সা.) অন্দরমহলে।’প্রিয়তমা’- কে সেই অন্দরমহলের দরজা বলা যেতে পারে।

    সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর মূলত ইতিহাস নিয়ে লেখেন।তার লেখনী রীতি বেশ সহজ-সরস।তাই পড়তেও ভালো লাগে।লেখার শেষে গ্রন্থসূত্র জুড়ে দেয়া হয়েছে যা জীবনীগ্রন্থকে গ্রহনযোগ্য করতে আবশ্যক একটি কাজ।

    নবপ্রকাশ থেকে ২০১৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হার্ড কভারের বইটির মুদ্রিত মূল্য ৫২০ টাকা।প্রচ্ছদ করেছেন রাবেয়া আফরোজা।লেখক বইটি তার প্রিয়তমাকে উৎসর্গ করেছেন।

    কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে।প্রচ্ছদ আরো সুন্দর হতে পারতো।কোন কোন জায়গায় পারিপার্শ্বিক বর্ননার বাহুল্যতা বোধ হয়েছে।

    সব মিলিয়ে বইটি পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। আমরা যারা ইসলাম নিয়ে মাত্র জানাশোনা শুরু করেছি তাদের ভালো লাগবে,ইনশাআল্লাহ।

    5 out of 5 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No