মেন্যু
prio podorekha

প্রিয় পদরেখা (হার্ডকভার)

পৃষ্ঠা: ২০৮ আজকে আমরা যারা মুসলমান, ইসলাম নিয়ে গর্ববোধ করি, তাদের সহজে মুসলমান হওয়া ও ইসলামকে সহজভাবে পাওয়ার পেছনে একদল মানুষের নীরব ও নিভৃত সাধনা রয়েছে। যাদের ত্যাগ ও আত্মত্যাগ, দুনিয়ার... আরো পড়ুন
পরিমাণ

132  240 (45% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

1 রিভিউ এবং রেটিং - প্রিয় পদরেখা (হার্ডকভার)

3.0
Based on 1 review
5 star
0%
4 star
0%
3 star
100%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 3 out of 5

    আহলুল্লাহ মুনীব:

    বইয়ের আগে লেখকের সাথে কিছু স্মৃতি । অনেক মানুষ আছেন কালি ও কলমের শক্তিতে অনেক উঁচুতে পৌঁছে গেলেও মানুষ হিসেবে রয়ে যান সে তুলনায় অনেক নিচে। সাদা কাগজের বুকে শব্দের তরঙ্গমালা কুলকুল রবে বইয়ে দিলেও তাদের জীবন নিষ্প্রভ, আলোহীন।

    আমি তাকে দেখেছি । খুব কাছ থেকে দেখেছি । কিন্ত , দূর্ভাগ্য আমার , আঁচল ছেড়া বলে এই নাদান তার কিছুই ধরে রাখতে পারিনি । একরাশ মুগ্ধতা ছাড়া । এযুগে মানুষ এতাে বড় হয়ে এতাে বিনম্র হয় , আমি তাকেই প্রথম দেখেছি । বিমানযােগে ঢাকা থেকে চট্রগাম , মাঝে রাতে ময়মনসিংহ সফর -অথচ গায়ের জামা পেছনের কোণ ছেড়া ! এ নিয়ে তার লৌকিক কোন রাখঢাক নেই । যাত্রাপথে বারকয়েক গাড়ির পায়ে – পেটে গণ্ডগােল দেখা দিলেও তার মুখে ফুটেনি উষ্মা – অনুযােগের স্বর । উল্টো চালকের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বে খুশী হয়ে শক্তছোট কাগজে ছাপা চালকের পরিচয়টুকু ‘প্রয়ােজনে লাগতে পারে’ বলে স্মিত হেসে পকেটে রেখে দেওয়া আমাকে চমৎকৃত করেছে ।

    পথে মেযবানের লজ্জা ও অস্বস্তি দূর করতে ক্ষণে ক্ষণে সান্ত্বনা দেওয়া তাকে আরও বড় করেছে । আরও মহৎ করেছে । শেষে বললেন “ আমরা তাে ছােট মানুষ ! শেষে গিয়ে একটু দুআ নেবাে । ‘ -এই তিনি ।

    ফিরতি পথে ছােট দুই সফরসঙ্গীকে পিতুস্নেহে বলা , “ তােমাদের আব্বু তাে এখন আমাদের সঙ্গে নেই । থাকলে আমাদের নাস্তা করাতেন । চলাে , এবার আমি তােমাদের পেটপুরে খাইয়ে দেই । -এটা শুধু তিনিই পেরেছেন ।

    একযুগ আগের স্মৃতি এগুলাে । “ আফগানিস্তানে আমি আল্লাহকে দেখেছি ‘ পড়ে যার সাথে আমার পরিচয় । হৃদয়পটে আঁকা আছে এখনও যার মায়াময় মুখচ্ছবি । অসাধারণ প্রজ্ঞা , সাত্ত্বিকতা আর পূত চরিত্রের ধারক বাবার জানের বদলা যিনি … !

    তিনি রচনা করেছেন এ অসাধারণ প্রেম , স্মৃতি আর ভালবাসার পংক্তিমালা । তার কলমে চেনাজানা অনেককে চিনবেন নতুন করে । গতানুগতিকতার স্রোত থেকে বেরিয়ে জীবনের দহলিজে দাঁড়িয়ে । কালি – কলমের রেখা থেকে গােলাপের পাপড়িতে । এখানে দেখবেন পুরাতন এয়ারপাের্টে স্বপ্নপুরুষ আলী মিয়া রহ , -এর আগমন অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটানাে একবালকের চাতকচাহনী ।

    শাহী নাগড়া , আলীগড়ী পায়জামা , চিকন কাজ করা দু – পাল্লা টুপি , ধােপদুরুস্ত সাদা পাঞ্জাবী , সদরিয়া ও আচকান পরা আজন্ম সৈনিক মাওলানা মহিউদ্দীন খানকে দেখতে পাবেন চঞ্চল বালকের ঘােরলাগা চোখে ।

    লেখক উষ্ণ হৃদয় ও দৃপ্ত চেতনার স্বাপ্নিক আল্লামা সুলতান যওক নদভীকে নিয়ে লিখেছেন আবেগপ্রবণ বাঁধনহারা এক লেখা । এছাড়া হাফেজ্জী হুজুরকে ঘিরে স্মৃতির বিস্রস্ত পত্র .. বাংলার শাইখুল হাদিস পূর্ণতার প্রতিচ্ছবি .. ময়মনসিংহ নামটি শুনলে যার মুখ ভেসে উঠে চোখে .. যে বার্তা রেখে গেলেন মুফতী আমিনী .. আবু সাইদ মুহাম্মাদ উমর আলী রহ . – কে নিয়ে রচিত ‘ সতীর্থদের ভালােবাসায় তিনি অমর হয়ে থাকবেন .. অধ্যাপক মাওলানা আখতার ফারুক রহ . -কে নিয়ে রচিত ‘ আবেগ আর প্রত্যয়ে ভরা দুটি চোখ .. মাওলানা হারুন ইসলামাবাদী রহ . -কে নিয়ে রচিত ‘ কালের কপােলতলে স্নিগ্ধ হাসির ঝিলিক ’ ..

    আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রহ . এর তিন শিষ্য মাওলানা সৈয়দ মুসলেহুদ্দীন রহ . , আল্লামা ইমাম আহমদ রহ . এবং মাওলানা রিয়াসত আলী রহ . কে নিয়ে রচিত “ শ্যামল বাংলায় ভূস্বর্গের ছায়া ছাড়াও আরও অনেক মনীষীর জীবন , কর্ম , গুণাবলী , প্রতিভা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পাঠক পরিচিত হবেন । চেনা মানুষের অজানা অনেক কিছুই আপনাকে । আপ্লুত করবে । সবুজবাংলার মুসলিম জাগরণের পার্থসারথি বহু মানুষের জীবনদর্শন ও আদর্শিক চেতনা আপনাকে আরােও শাণিত করবে । চেতনাকে ঋদ্ধ করবে । আপনাকে নতুন কিছুর স্বাদ দেবে ।

    বইয়ের ছত্রে ছত্রে লেখক তার স্মৃতিগুলাে বুনন করেছেন কুশলী হাতে । সবমিলিয়ে চমৎকার এক বই এটি । সবাইকে পড়ার সাদর আমন্ত্রণ রইল …।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top