মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

পড়তে ভালোবাসি

অনুবাদ : শামীম আহমাদ
সম্পাদনা : আলী হাসান উসামা
প্রকাশনী : মাকতাবাতুল হাসান
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৫৬

দীনি বই পড়ার এক অনন্য গাইডলাইন; কী বই পড়বেন, কোন ক্যাটাগরির জন্য কোন ধরনের বই নির্বাচন করবেন, পড়ার পদ্ধতি কেমন হবে, মনেই বা কীভাবে রাখবেন ইত্যাদি এই বইতে আলোচিত হয়েছে।

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

4 রিভিউ এবং রেটিং - পড়তে ভালোবাসি

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ★যে কারণে সংগ্রহ করেছি বইটি—
    বইয়ের নাম দেখেই বইটি মূলত কেনা। আমি বই পড়তে খুব ভালোবাসি। আর এখানে বইয়ের নাম ‘পড়তে ভালোবাসি’ তাই বইটি কিনেছি।
    .
    ★পাঠ প্রতিক্রিয়া—

    বইটি আমায় অনেক ভাবিয়েছে। আমাকে শিখিয়েছে নতুন করে চিন্তা করার। আগের আমার ও মনে হতো বই পড়া আমার শখ। কিন্তু না বই পড়া কখনো শখ হতে পারে না। কোন টা বাদ দিয়ে কোন টা বলবো বুঝতেছি না। প্রতিটা লাইন ই অনেক বেশি মূল্যবান।
    .
    ইসলামি বই পড়তে আগ্রহী বা কিভাবে নিয়মিত পড়া শুরু করবেন তা বুঝতে পারছেন না তাদের জন্য ডা. রাগিব সারজানি “পড়তে ভালোবাসি” বইটিতে অসাধারন সব পরামর্শ দিয়েছেন। একবার হলেও সকল ব‌ই পড়ুয়া দের ব‌ই টি পড়ে দেখা উচিৎ বলে আমার মনে হয়।
    .
    ★বইটি যাদের উদ্দশ্যে লেখা—এই বইটা মূলত ছাত্র/ছাত্রী দেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা। ইসলামী পড়াশোনা এবং ক্লাসের পড়াশোনায় কিভাবে মনোযোগী হওয়া যায়, কিভাবে পড়াকে উপভোগ করা যায় এবং ভালোবাসা যায়, সেই সম্পর্কে লেখা আছে বইটি তে ।
    .
    ★ব‌ই পড়া নিয়ে কিছুকথাঃ-

    সৈয়দ মুজতবা আলী দিয়ে শুরু করা যাক –
    -‘এক ড্রইংরুম-বিহারিণী ভদ্র মহিলা [নিশ্চিত বাঙালিনি] গিয়েছেন বাজারে স্বামীর জন্মদিনের জন্য উপহার কিনতে৷ দোকানদার এটা দেখায়, সেটা শোঁকায়, এটা নাড়ে, সেটা কাড়ে, কিন্তু গরবিনি ধনীর [উভয়ার্থে] কিছুই আর মনঃপূত হয় না৷ সব কিছুই তার স্বামীর ভাণ্ডারে রয়েছে। শেষটায় দোকানদার নিরাশ হয়ে বললেন, “তবে একখানা ভালো বই দিলে হয় না? ”
    .
    আরো একটি ঘটনা,,অনেক আগেই পড়েছি। আবারও পড়লাম। যখন দেখি মানুষের বই পড়ার প্রতি অনিহা। তখন ই গল্পটা মনে পড়ে যাই।
    .
    -এক রাজা তার হেকিমের একখানা বই কিছুতেই বাগাতে না পেরে তাকে খুন করেন।বই হস্তাগত হলো।রাজা বাহ্যজ্ঞান হারিয়ে বইখানা পড়ছেন।কিন্তু পাতায় পাতায় এমন জুড়ে গিয়েছে যে রাজা বার বার আঙ্গুল দিয়ে মুখ থেকে থুথু নিয়ে জোড়া ছাড়িয়ে পাতা উল্টাচ্ছেন।এদিকে হেকিম আপন মৃত্যুর জন্য তৈরি ছিলেন বলে প্রতিশোধের ব্যবস্থাও করে গিয়েছেন।তিনি পাতায় পাতায় কোণের দিকে মাখিয়ে রেখেছিলেন মারাত্মক বিষ।রাজার আঙ্গুল সেই বিষ মেখে নিয়ে যাচ্ছে মুখে।
    রাজাকে এই প্রতিহিংসার খবরটিও হেকিম রেখে গিয়েছিলেন কেতাবের শেষ পাতায়।সেইটে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজা বিষবাণের ঘায়ে ঢলে পড়লেন।

    বাঙালির বই কেনার প্রতি বৈরাগ্য দেখে মনে হয়,সে যেন গল্পটা জানে, আর মরার ভয়ে বই কেনা,বই পড়া ছেড়ে দিয়েছে।
    .
    ★জীবনের জন্য পড়া…

    “পড়া” কখনও কোনো মানুষের নিছক শখ হতে পারে না, পড়া হবে মানব জীবনের অনিবার্য পথ ও পাথেয়। পড়া ব্যতীত একটা দিন ও অতিবাহিত না হয়।কারন কুরআন এর সূচনা হয়েছে “পড়ো” শব্দটা দিয়ে। তবে পড়তে হবে জিবন কে গড়ার জন্য। যে পড়া জিবন কে পরিশুদ্ধ করে । ধ্বংস করে না। নষ্ট করে না।
    .
    পড়াকে ভালোবাসতে শেখার ১০টা পদ্ধতি…

    ১. লক্ষ্যের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা—– পড়ার ক্ষেত্রে আপনার লক্ষ্য কী, কেন পড়বেন সেটা স্মরণ রাখা।

    আমি পড়বো – কারন আল্লাহ তায়ালা আমাকে পড়তে আদেশ দিয়েছেন। তিনি আমাকে এবং সকল মুসলিমকে স্পষ্ট আদেশের সুরে বলেছেন, -পড়ো। কারন আমার পড়া নিছক কোন পড়া নয়, এটা আমার প্রতিপালকের আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ।
    .
    আমি পড়বো – কারন আমার চারপাশের মানুষকে উপকৃত করতে চাই । আমার বাবা-মা ও সন্তানকে। ভাই, বোন, স্বজন ও বন্ধুদের। আমি হতে চাই ‘মেশক- আতর’ বহনকারীর মতো – পাশ দিয়ে যে-ই যাবে, আমি আমার সৌরভ দিয়ে তাকেই উপকৃত ও আনন্দিত করতে চাই।
    .
    আমি পড়বো – কারন আমি আমার জাতিকে উপকৃত করতে চাই। যে জাতি পড়ালেখা ছেড়ে দেয়, সে জাতি হয়ে ওঠে অবজ্ঞেয়, অসম্মানিত ও মর্যাদাহীন। নিজের মাঝে ও তাদের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি করতে চাই। আমি পড়তে চাই ও পড়াতে চাই। জাগাতে চাই ও জাগতে চাই….!
    হে প্রিয় বন্ধু!
    নিঃসন্দেহে এ মহৎ লক্ষ্যের অনুভূতি ও চেতনা তোমার পড়ার প্রতি আগ্রহ ও উদ্দীপনাকে আরও বহু গুন বাড়িয়ে দেবে। তোমার পড়াশুনার মুহূর্তগুলো কে করে তুলবে আনন্দময়- অর্থময়।

    ২. পড়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা—- নিজের লক্ষ্য যদি নির্ধারিত হয়ে থাকে, তখন এলোমেলোভাবে পড়ার কোনো সুযোগ থাকে না। তবে গোছালোভাবে পড়তে চাইলে পড়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করে নেওয়া প্রয়োজন।

    ৩. পড়ার সময় নির্ধারণ করা–
    পড়ার জন্য নির্ধারিত সময় বের করে নিতে হবে। এটা খুব জরুরী। পড়ার জন্য এমন সময় নির্ধারণ করতে হবে যেন তখন মস্তিষ্ক থাকে সতেজ সজীব এবং নির্ভার সুস্থির। কারণ জীবনে সুন্দর কিছু অর্জন করতে হলে সকল মনোযোগ পড়ার সময় কেন্দ্রীভূত রাখতে হবে। ফজরের পর, আসরের পর- এই সময়ে মস্তিষ্ক খুব সচল থাকে। কর্মজীবী ব্যস্ত মানুষদের ক্ষেত্রে কাজের ফাঁকের সময়গুলো থেকে সুবিধা অর্জন করতে হবে। যদি এভাবে চালিয়ে যেতে পারেন সময়ে বরকত পাবেন। আপনি হয়ে উঠবেন আরও প্রাজ্ঞ ও সমৃদ্ধ।

    ৪. পরিমিত ধীরতা— আপনাকে হতে হবে অলিম্পিকের ‘ম্যারাথন’ দৌড়বিদদের মতো। বিশাল দীর্ঘপথ তারা দৌড়ায়। কিন্তু সূচনা হয় খুবই ধীর ও মন্থরতার সাথে। এরপর ক্রমান্বয়ে গতি বাড়াতে থাকে এবং অবশেষে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। পড়ার বিষয়টিও ঠিক এমন হতে হবে।

    ৫. একাগ্রতা– প্রথমে বলা হয়েছে, পড়া কোনো শখের বিষয় নয়। এটা অনেক কষ্ট ও পরিশ্রমের কাজ। মেধা, বুদ্ধি ও চিন্তা এবং সম্পদের পাশাপাশি প্রয়োজন ধৈর্য। আন্তরিকতার সাথে নিজেকে উৎসর্গ করা। প্রতিটি শব্দ-বাক্য পূর্ণ মনোযোগের সাথে বোঝা দরকার, যাতে আপনার দ্বারা অন্যদেরও উপকৃত করা যায়। পড়তে পড়তে এমন অনেক বিষয় আসবে, যা খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো নোট খাতায় তুলে রাখতে হবে।

    ৬. নিয়ম ও শৃঙ্খলা—- জগৎ ও জীবনের প্রতেক বিষয়ে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা অতি উচ্চমানের দুটো গুণ।

    ৭.পারিবারিক লাইব্রেরি করা— একটি পারিবারিক লাইব্রেরির গুরত্ব অনেক। একটি লাইব্রেরির একটি জগৎ। শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য পারিবারিক লাইব্রেরির গুরত্ব অপরিহার্য। আপনি আপনার জীবনের বিভিন্ন পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে এটা গ্রহণ করুন। তারপর নিজের পছন্দ অনুযায়ী লাইব্রেরিটি সাজান। আর মনে রাখেন এই লাইব্রেরিটি আপনার জন্য “সাদাকায় জারিয়া” হিসেবে থেকে যাবে। আপনার লাইব্রেরির বই থেকে যত মানুষ উপকৃত হবে, তাদের প্রত্যেকের পড়ার বিনিময়ে আপনি সাওয়াব পেতে থাকবেন।

    ৮. পঠিত বিষয় অন্যের কাছে উপস্থাপন করা—রাসুল (সাঃ) বলেছেন, একটি আয়াত যদি হয়, তোমরা আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও।
    –অধিত জ্ঞান আরও ভালোভাবে মাথায় বসে যাবে;
    –আপনার শিক্ষা ও জ্ঞান দ্বারা অন্যরাও উপকৃত হবে; –আপনার শেখানো বিষয় যত মানুষেরর মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে, এবং যাদের কাছে পৌঁছাবে তার বিনিময়ে আপনিও সাওয়াব পেতে থাকবেন।
    অর্থাৎ এটিও একটি সাদাকায়ে জারিয়ার মত। এ ক্ষেত্রে আপনার বন্ধু, সহপাঠী, বিবাহিত হলে স্ত্রী-সন্তান উপযুক্ত প্লাটফর্ম জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।
    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,, তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় করো। আর আল্লাহই তোমাদের শেখান। তিনি সকল বিষয়ে জ্ঞানী।

    ৯.পড়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা– এটি একটি চমৎকার ফলপ্রসূ বিষয়। যাকে সাহিত্য আড্ডা বা গ্রুপ স্ট্যাডি বলে। ঐক্যবদ্ধ শক্তির ব্যাপারটাই অন্যরকম। ব্যাপক সমীহজাগানিয়া। আহ! যদি সবাই বুঝতো।

    ১০. আলেমদের থেকে শেখা– অন্যের কাছ থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। অন্যদের বলার সুযোগ দিতে হবে। কেউ সমালোচনা করলে তা শুনতে হবে। ভুল গুলো শুধরিয়ে নিতে হবে। যে কোনো বিষয় ভালো করে জানা বা পড়ার জন্য একজন শিক্ষক থাকা চাই। ইসলামের ক্ষেত্রে ও এমন। একজন বিজ্ঞ শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে কল্যাণের দার উন্মোচন হয়। যে কোনো বিষয় বুঝতে সুবিধা হয়। তাই দ্বীনী বিষয়ে আলেমদের স্মরণাপন্ন হওয়ার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তাই প্রতিনিয়ত একজন আলেমের সংস্পর্শে না থাকতে পারলেও সপ্তাহে, মাসে বা বছরে একবার হলেও দিক নির্দেশনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

    ★কি পড়বেন??
    তার ১০টি মৌলিক বিষয়-
    ১. কোরআনুল কারিম
    ২. হাদিসুর রাসুল (সাঃ)
    ৩.ধর্মের বিধি-বিধান
    ৪.পাঠ্যবিষয়ে বিশেষজ্ঞতা অর্জন
    ৫. ইতিহাস পাঠ
    ৬. বিশ্বের বিভিন্ন চলমান ঘটনা পাঠ
    ৭. অন্যদের মত-অভিমত ও মন্তব্য গুলো পড়া
    ৮. ইসলাম সম্পর্কে অপপ্রচার এবং প্রতিরোধ
    ৯. শিশুবিষয়ক লেখা পাঠ
    ১০. চিত্তবিনোদন মূলক পাঠ

    হাদিসে এসেছে..
    হযরত আবু হুরাইরা (রা) বর্নীত। রাসুল(স) বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন রাস্তা অবলম্বন করবে, যার মাধ্যমে সে জ্ঞান অন্বেষণ করে ; তবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেবেন।
    (তিরমিযীঃ ৯/২৪৩)

    অচিরেই তোমরা স্মরণ করবে আমি তোমাদের যা বলি, আর আমি আমার বিষয় আল্লাহর নিকট সমর্পণ করছি।
    (সুরা গাফির: ৪৪)

    ★পরিশিষ্ট—

    পরিশেষে বলব, আপনি যদি বই-পাঠক হয়ে থাকেন কিংবা পাঠে অভ্যস্ত না-ও হয়ে থাকেন, তবুও এই বইটি পড়ুন! বই পড়ার অভ্যাস হয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ্।

    Was this review helpful to you?
  2. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    ◉বই- পড়তে ভালোবাসি ,
    ◉লেখক- ড. রাগিব সারজানি
    ◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍◍

    ∎বইটি কী নিয়ে লেখা?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    এটা মূলত একটি অনুবাদ গ্রন্থ।পড়ার ব্যাপারে যত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস এর কাহিনী, টিপস, উপকারিতা ইত্যাদি নিয়ে বইটি লেখা।

    ∎কী কী পাবেন বইতে?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ◉কুরআন-হাদিসের আলোকে পড়ার ব্যাপারটিকে বুঝতে পারবেন,
    ◉কী পড়ব? কিভাবে পড়ব? কেন পড়ব? পড়ার সময় কোথায় এত ব্যাস্ততায়? এর উত্তর পাবেন এখানেই,
    ◉পড়াকে কিভাবে আপনার ইবাদতের সামিল করতে পারেন তা জানতে পারবেন,
    ◉শুধু পাঠ্য বই নয়, পাঠ্য বই এর বাইরেও আরও অনেক বই কেন পড়বেন তা জানা যাবে।
    ◉পড়ার ব্যাপারে কি কি টিপ্স ফলো করবেন?

    ∎বইটি কাদের জন্য?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    ◉যারা পড়াটাকেও ইবাদাত হিসেবে কাজে লাগাতে চান।
    ◉যারা বই পড়েন কিন্ত কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই, যখন- তখন যা মন চায় তাই পড়েন,
    ◉বই দেখলে পড়তে ইচ্ছে করে কিন্তু পড়া হয়ে উঠে না,এটি আপনাকে পড়তে আরও উৎসাহিত করবে
    ◉কখনো ই বই পড়তে ইচ্ছে করে না,বা কোনো পাঠ্যবিষয়ের বাইরের বই ছুয়েও দেখা হয়নি, বইটি আপনারই জন্যে।

    ∎বেস্ট পার্ট কী?
    ▔▔▔▔▔▔▔▔▔
    আমি বই পড়ছি, বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছি আর প্রতিটি মূহুর্ত আমার ইবাদত হিসেবে আমলনামায় নেকির পাল্লা ভারি করছে, শুধু মাত্র নিয়তে একটুখানি পরিবর্তনের কারণে, ব্যাপারটা মজার না??? এটাই এর বেস্ট পার্ট লেগেছে, যা আমি শিখতে পেরেছি।

    ∎ মন্তব্য
    ▔▔▔▔▔▔
    অন্নেক কম মূল্যের একটি বই, ৬০ টাকা! ছাড়ে আরও কমে ৩০-৪০ টাকায় পেয়ে যাবেন। এই টুকু টাকার হাদিয়ায় যে পড়ার ধরন ও নিয়তে এতটা পরিবর্তন আনতে পারবেন , আর পড়ার ব্যাপারে যে পরিমাণ গাইডলাইন পাবেন তা লাখ টাকাতেও পাওয়া অসম্ভব, মাশা আল্লাহ!

    বই এর লিংক-https://www.wafilife.com/shop/books/porte-valobashi/

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    “অনুসন্ধান করে দেখা গিয়েছে, দুটো চোখ নিয়েই মাছির কারবার নয়, তার সমস্ত মাথা জুড়ে নাকি গাদা গাদা চোখ বসানো আছে। আমরা দেখতে পাই শুধু সামনের দিক, কিন্তু মাছির মাথার চতুর্দিকে চক্রাকারে চোখ বসানো আছে বলে সে একই সময়ে সমস্ত পৃথিবীটা দেখতে পায়। চোখ বাড়াবার পন্থাটা কি? প্রথমত-বই পড়া, এবং তার জন্য দরকার বই কেনার প্রবৃত্তি।”

    উপরের কথাগুলো সৈয়দ মুজতবা আলীর। মাছির মত পূঞ্জাক্ষি অর্জনের অর্থাৎ মনের চোখ ফোটানোর উপায় হিসেবে তিনি তুলে ধরেছেন বই পড়াকে।

    আমরা যারা ইসলামী বই পড়ি তাদের জন্য তো বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা আরো অনেক অনেক বেশি। আমরা শুধু আমাদের দুনিয়াবি জ্ঞান-গরিমা বাড়ানোর জন্যেই বই পড়িনা, আমরা বই পড়ি আমাদের পরকালীন সমৃদ্ধির জন্যেও। আমরা শুধু সাংসারিক জ্বালা যন্তণা থেকে বাঁচতে বই পড়িনা, আমরা ইসলামি বই পড়ি জান্নাতে যাওয়ার উপায় খুঁজতে, জাহান্নাম থেকে বাঁচতে।

    আর সেই বই পড়ার তাড়না সৃষ্টির কারণ ও পদ্ধতি নিয়েই রচিত হয়েছে ‘পড়তে ভালোবাসি’ বইটি। লিখেছেন নামজাদা লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ, দাঈ ও ডাক্তার ড. রাগিব সিরজানি।

    বিষয়বস্তুঃ
    বই পড়ার গুরুত্ব,প্রয়োজনীয়তা ও উপায় নিয়ে এ বইয়ে অতি সংক্ষেপে প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য ভাষায় আলোচনা করা হয়েছে এ বইটিতে। একজন মুসলিম কেন পড়বে? কী কী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকবে তার বই পড়ার পেছনে? সে কী শুধু বিনোদনের জন্য বই পড়বে? বই না পড়ার সম্ভাব্য কারণ কী ও তা সমাধানের উপায়গুলো কী কী – এসব প্রশ্নের উত্তরই এ বইয়ের বিষয়বস্তু।

    সারসংক্ষেপঃ
    বইয়ের প্রারম্ভিকায় অনুবাদক মুসলমান হিসেবে আমাদের বই পড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। লেখক সিরাত থেকে দুটি ঘটনা তুলে এনে মুসলমানদের বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করেছেন।
    আমরা, মুসলিমরা বই পড়ব আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে৷ আল্লাহর নির্দেশ মেনে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ অর্জনের জন্য আমরা বই পড়ব। বিদ্যা যেন আমাদের অহংকারী না করে। ইলম অর্জন করে আমরা আরো ভালো মুসলিম যেন হতে পারি সেটিই যেন হয় আমাদের বই পড়ার উদ্দেশ্য।

    মুসলমানদের পড়াশোনার কত সমৃদ্ধ ইতিহাস! আর আফসোস, এখন আমরা দুনিয়াবি শিক্ষায় বড় বড় ডাক্তার, প্রফেসর হয়েও ওযুর মাসলা জানিনা!

    লেখক এখানে বই না পড়ার দুটি সম্ভাব্য কারণ তুলে তার সমাধান আলোচনা করেছেন।

    #প্রথম সমস্যা হচ্ছে বই পড়ার অনভ্যস্ততা। অনেক লোক আছেন জীবনেও আউট বই পড়েনি। এখন দ্বীনের বুঝ পাওয়ার পর সে বুঝতে পারল ইসলামী বই পড়া তো অনেক দরকারী। তো সে কীভাবে বই পড়ার অভ্যাস করবে?

    এ সমস্যার সমাধানকল্পে লেখক বই পড়াকে ভালোবাসতে শিখার দশটি সোনালী উপায় তুলে ধরে আলোচনা করেছেন।

    ১. নিয়তঃ লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে সফলতার মূলমন্ত্র। এতে পড়াকে উপভোগ করা যায় ও উদ্যমী হওয়া যায়। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন আপনি ইসলামি বই কেন পড়বেন? লেখকই উত্তর দিচ্ছেন, আপনি বই পড়বেনঃ
    i)আল্লাহর আদেশ মেনে,
    ii)দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতে উপকার পেতে,
    iii) নিজের ও আশপাশের মানুষকে উপকৃত করতে,
    iv) নিজ জাতিকে উপকৃত করতে,
    v)উম্মাহর মাঝে জাগরণ সৃস্টি করতে,
    vi)আল্লাহর নিকট হতে প্রতিদান পাবার আশায়

    ২. পড়ার পরিমাণ নির্ধারণঃ আগামী কয়েকমাসে কোন বইগুলো পড়বেন তা নির্ধারণ করে নিন আর সেই তালিকা মেনে চলুন। তালিকাটি না মানতে পারলে কারণ খুঁজে বের করুন যে কেন হলনা। মাস শেষে একটা বিরতি নিন।

    ৩. পড়ার সময় নির্ধারণঃ এমন সময়ে বই পড়ূন যখন মাথা সতেজ থাকে, কাজের চাপ না থাকে। যেমন- সকালে বা রাতে। কাজের ফাকের সময়গুলোতেও পড়া যায়। সবসময় সাথে পড়ার জন্যে কোন না কোনও বই রাখলে অভ্যাস সহজেই গড়ে উঠবে।

    ৪. পরিমিত ধীরতাঃ সারাদিন না পড়ে বিরতি নিবেন, এবং ধীরস্থিরভাবে নিয়মিত পড়ে যাবেন।

    ৫. একাগ্রতাঃ বুঝে বুঝে পড়া, মনোযোগ দেয়া, নোট নেয়া- এসব কাজগুলো করারও অভ্যাস করতে হবে। এতে লাভ কী হবে জানেন? এতে করে অপরকে বলা যাবে যে বই পড়ে আপনি কী শিখলেন। কিছু বুঝতে না পারলে বা আপত্তি থাকলে আলেমদের শরণাপন্ন হওয়াও যাবে।

    ৬. নিয়ম মেনে পড়াঃ ডায়েরিতে সারবস্তু সুন্দর করে লিখে রাখুন, যা পড়ছেন তার সুবিন্যস্ত নোট রাখুন।

    ৭. পারিবারিক লাইব্রেরি করাঃ বাইরে খাওয়া/ পিকনিকের খরচ বাচিয়েও চাইলেই বাসায় মধ্যম মানের লাইব্রেরি বানিয়ে ফেলা যায়।

    ৮. অন্যকে পঠিত বিষয় জানানোঃ এতে পঠিত জ্ঞান মাথায় ভালোভাবে বসে যাবে। অন্যকে উপকৃত করা যাবে। নেকিয়ে জারিয়াহ হবে। আল্লাহতালা জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে দিবেন৷

    ৯. স্টাডি সার্কেল বানানোঃ কয়েকজন মিলে বসুন। কে কি পড়ল তা আলোচনা করুন। এতে জ্ঞান শক্ত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, বই পড়ার আগ্রহে ভাটা পড়েনা।

    ১০. আলেমদের থেকে শিক্ষাঃ আলেমদের সাথে মাশোয়ারা করে বই পড়া। কি পড়বেন তার লিস্ট আনা। পড়তে কোথাও খটকা লাগলে জেনে নেয়া। এতে করে বই পড়ে বিভ্রান্ত হওয়ার ফিতনা থেকে আপনি বেঁচে যাবেন।

    দ্বিতীয় সমস্যাঃ অনেকে আজেবাজে বই পড়ে সময় নস্ট করে। তাই ইসলামী বই পড়ার সময় পায় না। বই পড়া তাদের কাছে যেন শুধুই বিনোদন। ইসলামী বইতে মনোযোগ রাখতেই পারে না। এই সমস্যার সমাধান কী?

    দ্বিতীয় সমস্যার সমাধানঃ

    এ সমস্যার সমাধান নিহিত আছে আমরা কী ধরনের বই কীভাবে পড়ব তা নির্ধারণ করার মাঝে। এই বইয়ের একটি উপহার হচ্ছে যে লেখক আপনাকে একটি খসড়া বুক লিস্ট বানিয়ে দিয়েছেন। এখানে মোটাদাগে দশ ধরনের ইসলামি বই পড়তে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। তা হচ্ছেঃ

    প্রথমে, আল কুরআনঃ আমাদের হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হচ্ছে আল কুরআন। এ কিতাব আপনি নিয়মিত পড়বেন। প্রতিদিন কিছু অংশ তিলাওয়াত করবেন, অর্থ বুঝতে ও অনুধাবন করতে চেস্টা করবেন।

    দ্বিতীয়ত,হাদিসের বইঃ রিয়াদুস সলিহীন, লু’লু ওয়া আল মারজান, সহীহ বুখারী/মুসলিম ইত্যাদি প্রসিদ্ধ হাদীসগ্রন্থ দিয়ে শুরু করবেন। আমাদের নবীজি ছিলেন আল কুরআনের শিক্ষার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আল কুরআনের পরেই হেদায়েতের জন্য আমরা নবীজি (স) এর হাদীসের দিকে ঝুকবো।

    তৃতীয়ত, মৌলিক ধারার ইসলামী বইঃ যেমন তাফসীর ইবনে কাসির, আর রাহিকুল মাখতূম, আলোর কাফেলা, মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্ব কী হারাল, আমাদের সভ্যতার শ্রেষ্ঠ কাজগুলি ইত্যাদি অসাধারণ মৌলিক বইগুলো লিস্টে রাখবেন।

    চতুর্থত, দুনিয়াবি জ্ঞানের বইঃ যেসব বই দুনিয়াবি বিষয়ে জ্ঞান বাড়াবে, বিশেষজ্ঞ করে তুলবে সে ধরনের বইও পড়বেন। মুসলিমদের রয়েছে জ্ঞানচর্চার সুবিশাল ইতিহাস।

    পঞ্চমত, সাম্প্রতিক বিশ্ব নিয়েও পড়া ও জানা থাকা উচিত। কুয়োর ব্যাঙ না হয়ে আমরা যেন সব ধরনের মত নিয়ে পড়ি ও জানি, পলিটিক্স নিয়ে পড়া বাড়াই।

    ষষ্টত, ইসলাম সম্পর্কে অপপ্রচার এর জবাব নিয়ে লেখা বিখ্যাত বইগুলো পড়া উচিত।

    সপ্তমত, শিশু লালনপালন নিয়ে পড়া অত্যাবশ্যক। পরিবার গঠনে ও একটি আদর্শ আগামী প্রজন্ম রেখে যেতে হবে আমাদের, আমরা যেন না ভুলি।

    সবশেষে, চিত্তবিনোদনমূলক বইও মাঝে মাঝে পড়া যায়। তবে এসব বইতে যেন অনৈসলামিক কিছু না থাকে এবং খুব বেশি সময় সেসব বইতে মগ্ন যেন না হয়ে পড়ি। ভারী, জটিল বই পড়ে ক্লান্ত হলে মাঝে সাঝে মনকে হালকা করতে এসব বই পড়বেন।

    পাঠানুভূতিঃ
    ছোট্ট এ বইটি পড়ার পর ইসলামী বই পড়ার ক্ষুধাটা যেন আরো বেড়ে গেল। ছোট এ বইটি অনেক সুন্দর ও উপকারী। অনুবাদও প্রাঞ্জল ছিল। আমার তো মনে হয়, যারা বই পড়েন, যারা বই পড়তে আগ্রহী কিন্তু বই পড়তে পারেন না এমন সবারই এই বই পড়া উচিত।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  4. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    লেখক ড. রাগেব সারজানি ইতোমধ্যে তাঁর দুটি বই তাতারিদের ইতিহাস” ও আন্দালুসের ইতিহাস” এর মাধ্যমে এদেশে ইসলামি বই পাঠকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।

    বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় পড়া বলতে একাডেমিকের বাহিরে অন্য কোন বইকে সাধারণত গণনায় ধরা হয় না। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষিত সমাজে এ বিষয়টা ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত। কেউ শখের বসে বা “একুশে বই মেলা” উপলক্ষে ১-২টা বই পড়বে, এতটুকুই ব্যস। এর বাহিরে পড়া মানে ভিনগ্রহের প্রাণী বলে ধরে নেয়া হয়।
    আমাদের আলোচ্য বইটিতে এজন্য শুরুতেই পড়ার উদ্দেশ্যটাই লেখক তুলে ধরেছেন। একজন মানুষ, একজন মুসলিম কেন পড়বে, পড়া তার জীবনে কতটুকু গুরুত্ব বহন করে তা নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সিরাত থেকেই তুলে ধরেছেন। আল্লাহ্ পাক কেন পড়ো শব্দ দিয়ে কুরআন নাজিল শুরু করলেন, লেখক তা সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
    এরপর যখন একজন ব্যক্তি আগ্রহী হওয়ার পর কিভাবে ভালবাসতে হয় তা দেখানো হয়েছে যেখানে পাঠক পূর্বে পড়াকে ততোটা ভালবাসতো না। পড়াকে ভালবাসার উপায় এবং সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উপকরণও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন- পড়ার জন্য একাগ্রতা, উপযুক্ত সময়, পড়ার পরিমাণ, পাঠাগার গড়া ইত্যাদি।

    শেষ অধ্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় এনেছেন সেটি হলো, পড়ার বিষয়বস্তু। আমরা বেশির ভাগই পড়ার ক্ষেত্রে এমন বিষয়বস্তুকে প্রাধান্য দেই, হয়তো সেটার গুরুত্ব ব্যক্তিজীবনে তেমন নেই। অথচ অনেক আবশ্যক বিষয় বাকি পরে থাকে। বইটিতে এ সমন্ধে সুন্দর দিকনির্দেশনা দেয়া আছে। কুুুুরআনুল কারীমকে প্রথমে রেখে এরপর একে একে তিনি বিষয়বস্তুগুলো পর্যায়ক্রমে সাজিয়েছেন। সেখানে যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে, তেমনি শখের সাহিত্য ও চিত্তবিনোদনমূলক বইয়ের কথাও এসেছে।

    একজন পাঠক মানেই সে তার পড়া সমন্ধে সচেতন থাকবে, যে কোন পাঠ তার জ্ঞানকে বাড়ানোর সাথে তার জীবনের উন্নতি বা আমলে অগ্রসর হয়। পাঠক নতুন হোক বা পুরাতন সবার জন্য এক পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। নতুন পাঠক হলে শুরুতেই পাবে সহজ নির্দেশনা। অন্যদিকে পুরানো পাঠক হলে পাবে পড়ার নতুন উদ্দিপনা।

    3 out of 3 people found this helpful. Was this review helpful to you?