মেন্যু


অভিশপ্ত রঙধনু

প্রকাশনী : দারুল ইহদা
পৃষ্ঠা : 272, কভার : পেপার ব্যাক, সংস্করণ : 2nd edition, June 2021

সমসাময়িক যে সমস্যাগুলো উম্মাহ মোকাবেলা করছে তার মধ্যে অন্যতম এই ‘সমকামিতা’। যে কোনো ফিতনাকে মোকাবেলা করার জন্য তার ইতিহাস, দর্শন, যুক্তি এবং কেন তা ফিতনা, তার ফিকহ জানা দরকার। আপনি ঘরের দরজা খুললেই দেখবেন এসব ফিতনা দাঁড়িয়ে। যা ঘৃণার জিনিস ছিল, দেখবেন তা হবে উপহাসের জিনিস, এরপর উপহাস থেকে হবে জাস্ট ঠাট্টা-তামাশার জিনিস, এরপর তা হবে স্বাভাবিক একটা জিনিস। একেই ফিতনা বলে। যা একসময় ঘৃণা করতাম, তা এখন আর ঘৃণা করছি না, হাদিসে এসেছে তার মানে সে ফিতনায় নিপতিত।

সেদিন দেখলাম, মুক্তচিন্তা আর ব্যক্তিস্বাধীনতার দেশ আমেরিকায় এক মুসলিম বাবাকে জেলে আটকে রেখেছে। কারণ, সে তার সন্তানকে ‘সমকাম স্বাভাবিক ভাবার’ ক্লাসে যেতে দিতে চায় না। নাটক সিনেমায় সমকামী চরিত্র রাখা হচ্ছে। বসে নেই এনজিওরা। বাঙালি ছেলেমেয়েরা বিয়ে করছে সমলিঙ্গের বিদেশীদের। খোলা হচ্ছে সমকামীদের মসজিদ। মিডিয়া এগুলো প্রচার করছে ফলাও করে। চুপ করে থাকলে সমাধান, যার আলোচনা নেই তা দাফন হয়ে যায়, এ কথা এই মিডিয়া আগ্রাসনের যুগে খাটেনা।

এটা এই ফিতনার ব্যাপারে একটা ‘বিশ্বকোষ’। সমকাম নামক ফিতনার দর্শন, ইতিহাস, ষড়যন্ত্র, যুক্তি-প্রতিযুক্তি, বায়োলজি, ইসলামের দৃষ্টিকোণ, শাস্তি সব উঠে এসেছে বইটিতে। কীভাবে আপনার আমার সন্তানকে এই মহামারী থেকে বাঁচাব, তারও কিছু ‘এদিক-সেদিক’ উঠে এসেছে। প্রতিটি সচেতন মুসলিমের শেলফের একটু আড়ালে বইটির জায়গা পাওয়া উচিত।

Out of stock

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

6 রিভিউ এবং রেটিং - অভিশপ্ত রঙধনু

5.0
Based on 6 reviews
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    ❀ বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।

    সমকামিতা হালের একটি আলোচিত এবং সমালোচিত টপিক। ব্যাপারটা কারো কাছে মানবিক,কারো কাছে স্বাভাবিক কিংবা কারো কাছে বিকৃত।অশ্লীলতা এবং নিলজ্জতার কালো এক অধ্যায় সমকামিতা।সমকামিরা লজ্জাহীন এবং অভিশপ্ত। জঙ্গিবাদ,নাস্তিককার মতো সমকামিতাও এখন আধুনিক পৃথিবীর একটি ভাইরাস।মিডিয়াই এই ভাইরাসকে আমাদের মাঝে ছড়াতে সাহায্য করেছে।
    কোনো মানুষই সমকামি হয়ে জন্মায় না,নিজের অবাধ্যতা এবং নিলজ্জতাই তাকে সমকামী করে তোলে। ইসলাম ধর্মে সমকাতিমায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। লূত(আঃ) এর জাতিরাই প্রথম সমকামীতায় লিপ্ত হয় বলে কুরআন থেকে জানা যায়।শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তা’আলা তাঁদের ভূমিকে উল্টিয়ে দেন এবং পাথর বৃষ্টি বর্ষন করেন।লূত (আঃ) উদ্দেশ্য করে কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন,
    ❝তোমরা এমন অশ্লীল ও কুকর্ম করেছো যা তোমাদের পূর্বে কেউ করেনি।তোমরা স্ত্রী লোককে বাদ দিয়ে পুরুষের দ্বারা নিজের যৌন ইচ্ছা নিবারন করে নিয়েছো। প্রকৃতপক্ষে তোমরা হচ্ছো সীমালঙ্ঘনকারী❞।

    নবীজী(সঃ) বলেন, ❝সে অভিশপ্ত যে লূত (আঃ) এর জাতির মতো কাজ করে।❞

    ♦বইটিতে যা যা আছেঃ

    বইটির মূল ভিত্তি হলো মাওলানা জাফিরুদ্দিন রাহি- এর “Islam on Homosexuality” বই কে কেন্দ্র করে।এছাড়াও বেশ কয়েকজন লেখকের মোট ১৯ টি অধ্যায় রয়েছে এই বইয়ে।
    বইটিতে সমকামিতার ইসলামি বিধান,বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সামাজিক দৃষ্টিকোন নিয়ে অত্যন্ত চমৎকার সব আলোচনা করা হয়েছে। এখানে জানা যাবে, সমকামিতার উৎপত্তি,বর্তমান বিশ্বে এর প্রভাব, পাশ্চাত্য ষড়যন্ত্র,সমকামিতার শাস্তি এবং সামাজিক দৃষ্টিকোনে এর কুফল।
    ‘অভিশপ্ত রঙধনু’ বইটিকে এককথায়
    বলা যায় সমকামিতার উপর একটা মারাত্মক সার্জারি কিংবা অপারেশন বলতে পারেন।

    ♦সারসংক্ষেপঃ

    বইটিতে মোট ১৯ টি অধ্যায় থাকলেও এখানে ঘুরে ফিরে ৪ টা শক্তিশালী দিক নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। যথাক্রমে – ইসলামিক দৃষ্টিকোনে সমকামিতা,বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন, চিকিৎসা ও সার্জারি দৃষ্টিকোন এবং সর্বশেষ সামাজিক দৃষ্টিকোন।
    ▣কুরআন থেকে জানা যায়,লূত(আঃ) এর জাতি থেকেই এই সমকামিতার উৎপত্তি। নবীজী(সঃ) বলেন, ❝ নিশ্চয়ই আমি আমার উম্মতের জন্য যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি ভয় করি,তা হলো লূত(আঃ) এর জাতির কর্ম ❞ এবং দাড়িবিহীন বালকদের সাথে অবাধ মেলামেশায় নিষেধ আছে। সমকামিতায় লিপ্ত পুরুষ কিংবা নারীকে নবীজী হত্যাকান্ডের আদেশ দিয়েছেন।
    ▣সৃষ্টিকর্তা কাউকেই সমকামী হিসেবে সৃষ্টি করেননি।বিজ্ঞানীরা ১৯৯০-২০০৩ সাল পর্যন্ত একটি রিসার্চের মাধ্যমে জানতে পারেন “Gay Gene” X এবং Y ক্রোমোসম থেকে আসে না,সমকামিতা জন্মগত নয়।
    সমকামিতা যদি জিনগত/প্রাকৃতিক হতো তাহলে আল্লাহ এটাকে পাপ বলতেন না।
    ▣ চিকিৎসা এবং সার্জারি ক্ষেত্রেও জানা গেছে অনেক তথ্য। পায়ুপথে মিলন আমাদের বডিও সাপোর্ট করেনা।প্রতিবার ঘর্ষনেই ইনজুরি সৃষ্টি হয়।সমকামীদের মলদ্বারে সাধারন মানুষের চেয়ে ২০ গুন বেশি ক্যান্সার হয় এবং এইডস হবার সম্ভাবনাও অনেক প্রবল।
    ▣সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে,আমেরিকার এক তৃতীয়াংশ তরুন নিজেকে পুরুষ কিংবা নারী হিসেবে পরিচয় দিতে চায়না। এছাড়া বিভিন্ন সমকামী পুরুষ “ড্রাগ কুউন” অর্থ্যাৎ মেয়ে সেজে চলতে,স্টেজ শো করতে পছন্দ করেন।
    এই হলো বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমকামিতা। এভাবে চললে পৃথিবী একজন জনশূন্য হয়ে যাবে।সমকামিরা নতুন প্রজন্ম চায় না।

    ♦সমকামিতা কি জেনেটিকালঃ

    সমকামিতার সাথে জিনের সম্পর্ক আছে দাবি করাটা ততোটাই হাস্যকর,যতটা অতিরিক্ত মদ্যপান,ধূমপান বা ড্রাগ এডিকশনের জন্য জিন দায়ী দাবি করাটা। সমকামিতা একটা চয়েজ,জিন নয়। কালচারাল ট্রেন্ড।

    ♦বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বইটি এবং সমকামিতাঃ

    বইটি পড়ে জানতে পারলাম- বাংলাদেশে সমকামিতা প্রচার শুরু হয় ৯০ এর শেষেরদিকে।দেশের সংবিধানের ৩৭৭ তম ধারা অনুযায়ী –
    ❝সমকামি কার্যকালাপের জন্য শাস্তি হিসেবে দশ বছরথেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তদুপরি অর্থদণ্ডদন্ডিত করার আদেশ দেয়া হয় ❞। জাতিসঙ্ঘ থেকে অলরেডি ২০১৩ সালে বাংলাদেশকে সমকামী বৈধতা
    আইন করার জন্য চাপ দেয়া হয়েছে।
    কার্ক-ম্যাডসনের তৈরী করা সমকামিতার মিথ্যা মনগড়া মতবাদ বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে।বাংলাদেশে সমকামিতা প্রসারে কারা কারা কাজ করছে,কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এই কাজের সাথে যুক্ত
    তা এই বইয়ে দেখানো হয়েছে।
    পহেলা বৈশাখে সমকামী প্যারেড র্যালী ,বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো হয়।বাংলাদেশে তাদের সবচেয়ে এ্যাকটিভ সংগঠনের নাম “BOB” এটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সমকামিরা ফেসবুক গ্রুপ,চ্যাটিং, বিভিন্ন গেট টুগেদারের মাধ্যমে একত্রিত হয়।
    তাদের খরচ বহন করেন বিদেশী এনজিও
    সংস্থাগুলো।
    সারা বাংলাদেশব্যাপী সমকামীরা বিভিন্ন নাম দিয়ে
    ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশী এনজিওগুলাের অর্থায়নে
    জেলায় জেলায় সমকামীদের ক্লাব খুলে দেওয়া হয়েছে।
    সমকামিতার বিষবাষ্পে বাংলাদেশ কতটুকু নিমজ্জিত,
    এই বইয়ে তার বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
    বাংলাদেশে এসব বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে হয়তো আপনার
    আমার সন্তানরা এই গোষ্ঠীর ফাঁদে পড়তে বাধ্য হবে।

    ♦ভালোলাগা/মন্দলাগাঃ

    ▣ভালোদিক-
    নজরকারা প্রচ্ছদ, ভালো লেখার মান,যুক্তি খন্ডন,প্রমান, দর্শন, রেফারেন্সে পরিপূর্ন অত্যন্ত চমৎকার একটি বই।
    কয়েকজন লেখক মিলে কি উপহার দিয়েছেন তা তারা নিজেরাই জানেন না।সমকাতিতার উপরে লেখা অন্যতম সেরা একটি বই।
    ▣মন্দলাগাঃ
    লেখকের প্রশ্নগুলোর কয়েকটি উত্তর ছিলো অত্যন্ত দীর্ঘ,কিছুটা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে।
    বানান ভুল চোখে পড়েছে অনেক।আশা করছি ২য় সংস্করনে ঠিক হয়ে যাবে।

    ♦বইটি কাদের জন্য এবং কেন পড়বেনঃ

    সমকামিতা একটি মানসিক ব্যধি। সমকামিতার বিষবাম্প পাশ্চাত্যের মতো ধীরে ধীরে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত বইটি সমকামিতায় আসক্ত ভাইবোনের প্রতি একপথ্য।যারা এই ব্যধির কারনে কষ্টে ভুগছেন তাদের ইহকাল এবং পরকালের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য এবং সুস্থ,সুন্দর পরিবার গড়তে আপনাকে এবং সন্তানদের এই মরনফাঁদ থেকে রক্ষা করতে এই বইটি অপরিহার্য। সমকামিতা থেকে আমাদের দেশ এবং জাতিকে কলুষমুক্ত করতে বইটি সব বয়সি মানুষের পড়া জরুরি।

    ♦বইটি পড়ে আমার পরিবর্তনঃ

    বইটি পড়ার আগে সমকামিতা সম্পর্কে আমার ধারনা খুবই কম ছিলো। এটা যে একটা ভাইরাস এবং ক্যান্সারের চেয়েও বিপদজনক সেটা এই বই পড়ে জানতে পারি। আমাদের দেশেও এই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তা’আলা এবং তার রাসূলেএর দেয়া সমকামিতার সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা গুলো জানতে পারি। এই বিপদ থেকে নিজে বাঁচবো এবং সমাজকে সচেতন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

    ♦লেখক পরিচিতিঃ

    কয়েকজন লেখক মিলে বইটি সম্পাদনা করে তাদের মধ্যে অন্যতম-
    ▣অধ্যায়( ১-৯) সম্পাদনা করেন মাওলানা জাফিরুদ্দিন। “দারুল উলুম মাসলাক” তার পাঠকপ্রিয় রচনা।
    ▣অধ্যায়(১২,১৫,১৯)সম্পাদনা করেন ডাঃ শামসুল আরেফিন।”ডাবল স্ট্যান্ডার্ড, কুররাতু আইয়ুন সিরিজ” তার অনতম সেরা সৃষ্টি।
    ▣অধ্যায়( ১৩,১৪) সম্পাদনা করেন আসিফ আদনান।অন্যতম সেরা বই “চিন্তাপরাধ “বইটি তার।
    ▣অধ্যায় (১৬)সম্পাদনা করেন ড্যানিয়েল হ্যাকিকাতজু। আমেরিকার টেক্সাস শহরে জন্মগ্রহণকারী এক মুসলমান তিনি।সমকামিতা নিয়ে তার লেখাগুলো একজন চিন্তাশীল মানুষকে গভীরভাবে ভাবতে সাহায্য করবে।

    ♦মন্তব্যঃ

    এবারের অভিজ্ঞতা একদমই আলাদা।গত দু তিন দিন ধরে বইটার বিষয়বস্তু মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে।বর্তমানে যে ফিতনাগুলো মুসলিম উম্মাহের জন্য বিপজ্জনক তার মধ্যে ‘সমকামিতা’ অন্যতম। সমকামিরা বিভিন্ন দাবি করে- “ভালোবাসার অধিকার মানুষের স্বাধীন অধিকার,একজন পুরুষ ভালোবেসে আরেকজন পুরুষের সাথে একসাথে থাকতে পারে”।(নাউজুবিল্লা)। একটা রিসার্চে দেখা গিয়েছে সমকামি পুরুষরা শিশুকামি হয়ে থাকে এবং ৯৩% সমকামি পুরুষ ছোটোবেলাতেই অন্য পুরুষের দ্বারা যৌননির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন।সমকামিতা-নাস্তিকতা-বিবর্তনবাদ একই সূত্রে গাঁথা। এরা আল্লাহর ওহীকে অস্বীকার করে নিজেদের মতো জীবন গড়তে চায়। ইসলাম বলে, ❝ সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব নেমে আসে❞
    বর্তমান বৈশ্বিক মহামারী “করোনা” ভাইরাস এমনই আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কথা পাপের শাস্তি।মহান রব আল্লাহ তা’আলা শিরকের গুনাহ ছাড়া সব গুনাই মাফ করে দেন।সুতরাং ভাই,বোন,বন্ধুরা ফিরে আসুন। লূত(আঃ) জাতির শাস্তির কথা ভেবে হলেও ফিরে আসুন। বইটি সমাজের এই অন্ধকারে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে আনুক মানবমনে।

    6 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No