মেন্যু


ওপারেতে সর্বসুখ: জান্নাতের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা

পৃষ্ঠা : 120, কভার : পেপার ব্যাক, সংস্করণ : 1st Edition
ভাষা : বাংলা

ক্ষণিকের এ দুনিয়ায় সুখী হবার জন্য কতই না তোড়জোড় আমাদের! সুখের খোঁজে আমরা ঠিক যেন যন্ত্রের মতো ছুটে চলি সারাদিন সারাবেলা। বিলাসবহুল বাড়ি, দৃষ্টিনন্দন গাড়ি আর অফুরান অর্থকড়ি—সত্যিই কি আমাদের জীবনে সুখ এনে দিতে পারে? না, কখনোই নয়। দুনিয়া কখনো পরম সুখপ্রাপ্তির স্থান নয়। আসল সুখের ঠিকানা একমাত্র জান্নাত। কেবল সেখানে গেলেই ঘুচে যাবে সব অভাব-অনটন, দূর হবে সকল দুঃখ-কষ্ট আর না-পাওয়ার বেদনা।

কী আছে সেই জান্নাতে? কেন জান্নাত এত বেশি আকাঙ্ক্ষিত? কীভাবে যাওয়া যাবে সেখানে? কারা যেতে পারবে? কারা পারবে না?—এসব নিয়েই আমাদের এবারের আয়োজন ‘ওপারেতে সর্বসুখ’ বইটি।

পরিমাণ

120  172 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
প্রসাধনী
- ১৪৯৯+ টাকার অর্ডারে সারাদেশে ফ্রি শিপিং!

1 রিভিউ এবং রেটিং - ওপারেতে সর্বসুখ: জান্নাতের মনোমুগ্ধকর বর্ণনা

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5

    :

    #Rokomari_Book_Club_Review_Competition
    রিভিউকারী- মাহিরা ইশক
    বই: ওপারেতে সর্বসুখ

    সুপ্রিয় পাঠক, রিভিউ পর্বে যাওয়ার আগে, চলুন আপনাদের নিয়ে এক মনোহর কল্পনাপর্ব সেরে আসি! কল্পনা করুন, এমন এক জান্নাতি মজলিসের কথা! যেখানে অগণিত নিয়ামাতের মধ্যে থেকে বাছাইকৃত কিছু সৃষ্টি তার স্রষ্টা সত্ত্বাকে একপলক দেখার অভিপ্রায় নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছে। তিঁনি আসবেন, তাঁর পক্ষ থেকে সালাম নিবেদিত হবে জান্নাতবাসীর কাছে! মজলিসের কোনো এক কোণায়-কানায় থাকার সৌভাগ্য হয়েছে আপনারও! সেই মধুর অপেক্ষা, আপন রবের দীদারের মত শ্রেষ্ঠ উপহার পেতে চলেছেন আর একটু পরেই….

    আহ! কল্পনাতেও কি সুন্দর মুহূর্ত, সত্যিটা না জানি কতটা সুন্দর হয়। মন কেমনের গল্পে, চিবুক ছুঁয়ে যাওয়া তপ্ত অশ্রু আর ভাঙা হৃদয়ের টুকরোগুলো তখন নস্যি হয়ে যাবে সেই অপার্থিব সুখের নিকট। প্রিয় মানুষের অপ্রিয় প্রস্থান আর ভালোবাসার বিশ্বাসঘাতকতা তখন কতোই না ঠুনকো! না বলা শত অনুযোগ, না পাওয়ার অভিযোগ কিংবা দাঁতে দাঁত চেপে রাখা ধৈর্য্যের বিনিময়ে আর কিছু চাওয়ার থাকবেনা মনুষ্য অন্তরসমূহের।

    এমন হাজারো নিয়ামাতে ভরপুর জান্নাতের সাথে স্বল্পদৈর্ঘ্য জীবনের ওপারেই মোলাকাত। এপারের যবণিকায় নিজের ঈমান-আমল ঠিক রেখে, আল্লাহর সন্তুষ্টি কুড়োঁতে পারলেই, ওপারের অফুরন্ত সুখ। রবের সৃজিত জান্নাত, যা কোনো চর্মচক্ষু কখনো দেখেনি, না পেরেছে কোনো অন্তর্চক্ষু কল্পনা করতে! ওপারের জান্নাতের হাজারো নিয়ামাহ, অনন্ত সুখের বর্ণনায় রচিত আমাদের আলোচ্য ‘ওপারেতে সর্বসুখ’ বইটি।

    ▪️লেখক বৃত্তান্ত :

    বইটির লেখক আরিফুল ইসলাম। ইসলামি সাহিত্যাঙ্গনে যার বিচরণ খুব বেশিদিনের না হলেও, যারা এখন এই ফরম্যাটের জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। নাস্তিক্যবাদের খন্ডন নিয়ে ‘আর্গুমেন্ট অফ আরজু’ লিখে বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। এরপরে প্রদীপ্ত কুটির, চার তারা, তারা ঝলমল ইত্যাদি বইগুলো লিখে উত্তরোত্তর সমাদৃত হচ্ছেন ইসলামি পাঠক পাড়ায়।

    ▪️বই পর্যালোচনা :

    দু’দিনের দুনিয়ায় সুখী হওয়ার কতই না আয়োজন আমাদের! চাহিদার সাথে সুখী হওয়ার সমানুপাতিকতা আমরা জুড়ে দিয়েছি পার্থিব বেড়াজালের বন্দীত্ব গ্রহণ করে। দুনিয়ার সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু আমাদের চাহিদার নেই। যার লাখ টাকা আছে, তার কোটি চাই, যার একটা ফ্ল্যাট আছ, তার দু’টো চাই। মন তৃপ্ত হয়না। কারণ প্রকৃতপক্ষে তৃপ্ত হওয়ার জায়গা দুনিয়া নয়। অ্যাকুরিয়ামে হাজার সুবিধা দেওয়ার পরেও যেমন মাছেরা তৃপ্ত হয়না, তেমনি মানুষও দুনিয়ার সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্যে তৃপ্ত হয়না। কারণ তৃপ্ত হওয়ার জায়গা তো কেবলই জান্নাত।

    কি আছে সেই জান্নাতে? কিভাবে অর্জিত হবে সেই কাঙ্ক্ষিত জান্নাত? কি নিয়ামাতে ভরপুর জান্নাতি একেকটা মঞ্জিল?

    এই প্রশ্নগুলোরই উত্তর পাওয়ার জন্য আপনাদের পাড়ি দিতে হবে ‘ওপারেতে সর্বসুখ’ বইয়ের সাথে। ১১৭ পৃষ্ঠার নাতিদীর্ঘ যাত্রায়। জান্নাতের একেকটা নিয়ামাত, জান্নাতের সুখ-সৌন্দর্যের মনোমুগ্ধকর আয়োজনের বর্ণনায় মলাটবন্দী হয়েছে বইটি। জান্নাতের আঁতিপাঁতি বর্ণনায় মোট ৪৩টি অধ্যায়ের আন্ডারে কয়েকটি পরিচ্ছেদে আলোচনা হয়েছে পুরো বইয়ের।

    জান্নাতি জীবনের মৌলিক বিষয়াদি সহ আরো অনেক কিছুই স্থান পেয়েছে বইটিতে। চূড়ান্ত সফলতা, জান্নাতের নিয়ামাহ্, জান্নাতের দুয়ার, জান্নাতিদের কৃতজ্ঞতা, কে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন, কারা পেয়েছেন জান্নাতের সুসংবাদ, জান্নাতে যাওয়া আমল, জান্নাতের আহার,ঝর্ণাধারা, জান্নাতের হাট, জান্নাতের সুগন্ধ, হুরদের কথা প্রায় সব মুখ্য ও আনুষঙ্গিক যুগপৎ আলোচনাই উঠে এসেছে এক মলাটে। কেবল কাঠখোট্টা শব্দবিন্যাসেই শেষ নয়, বরং বাস্তবিকভাবেই আমাদের পথচলার অসংগতিগুলোকে তুলে ধরে, লেখক আলোচনায় প্রবেশ করেছেন। মনকাড়া বর্ণনা তাতে দিয়েছে আরেক চামচ বাড়তি বিশেষত্ব। অসাধারণ বর্ণনআভঙ্গি অথচ সহজবোধ্য শব্দচয়ন। মাখোমাখো সাহিত্য নেই, তবুও কি ভীষণ ভাবে পাঠক ধরে রাখার ক্ষমতা আছে একেকটা লিখায়, না পড়লে বোঝানো সম্ভব নয়।

    ▪️ভালোমন্দ :

    বাংলাভাষী পাঠকদের জন্য জান্নাত বিষয়ক বহু বই অনূদিত হলেও, এ বিষয়ে বিশুদ্ধতার মান বজায় রেখে মৌলিক বই লিখাটা এ’কালে অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং বাঙালি লেখকের জন্য। সেদিক থেকে লেখকের মুন্সিয়ানার প্রশংসা না করলেই নয়।

    লেখকের লিখার ধাঁচটাও সুন্দর! অনেকটা সম্মুখ আলোচনার মতো। বাহুল্যতা আর স্বল্পতা দু’টোর মধ্যিখানে থেকে লেখক আলোচনা করেছেন প্রত্যেকটা টপিক। পাঠের একটা ধারা আর সাবলীলতা বজায় থাকায় বইটি অনন্যতা লাভ করেছে৷ আলোচনার ভেতর কুরআনের আয়াত, হাদীসের রেফারেন্স এসেছে প্রয়োজনমাফিক। বিশুদ্ধতা নিয়ে পাঠকদের খুঁতখুঁতানিও কমলো বৈকি!

    বাহ্যিক সাজসজ্জাও ভালো লেগেছে। তবে, প্রচ্ছদে বইয়ের নাম আর লেখকের নামের ফন্ট আরেকটু উজ্জ্বল হতে পারতো! এমনিতেও নীলের সাথে কালো রঙের কম্বিনেশন খুব একটা জমেনা। তার উপর কালোটাও খুবই হালকা। কেমন যেন ফুঁটে উঠেনি। আর, বানান ভুল, টাইপিং মিস্টেক, স্পেসজনিত সমস্যাগুলো চোখে লাগছে। আশা করি, পরবর্তী সংস্করণে খেয়াল রাখা হবে।

    ▪️বইটির প্রয়োজনীয়তা :

    একজন মুসলিম হিসেবে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো জানা আমাদের জন্য সন্দেহাতীতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই দিক বিবেচনায় বক্ষ্যমাণ বইটির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কুরআনের বিশাল একটা অংশজুড়ে জান্নাতের বর্ণনা পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু আয়াত, কিংবা বিচ্ছিন্ন কিছু হাদীস সম্পর্কেই জেনেছি। অথবা কারো জান্নাত সম্পর্কে ধারণা শুধু পাঠ্যবইয়ের ‘আটটি জান্নাত’-ওইটুকুতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে দিনশেষে। তাদের জন্য এই বইটি জান্নাত সম্পর্কে জানার জন্য সবদিক দিয়েই পারফেক্ট।

    তাছাড়া, আমরা প্রতিযোগিতামূলক এই দুনিয়াতে কেবল আউটপুট আর পুরস্কারের লোভেই ছুটে চলেছি অহর্নিশ। দিনের পর দিন। মাইলের পর মাইল। পড়াশোনা করি ভালো রেজাল্টের জন্য, চাকরি করি ভালো ফিউচারের জন্য, ভালো রেজাল্ট করি হাই স্ট্যাটাসের জন্য। পুরস্কার জানা আছে বলেই, আমরা কাজের দিকে অধিক মনোযোগ দিই। তেমনই দুনিয়ায় আমরা যে ত্যাগ করবো, তার পুরস্কার ‘জান্নাত’ এর খুঁটিনাটি নিয়ামাহ সম্পর্কে জানলে, স্বভাবতই আমাদের আমলে, আখলাকে, লেনদেনে পরিবর্তন আসতে বাধ্য। হোক সেটা অতিক্ষুদ্র কিংবা বৃহৎ! সেক্ষেত্রে, জান্নাতের নিয়ামাত সম্পর্কে বিশদভাবে জানতে, বইটির প্রয়োজনীয়তা নিঃসন্দেহে অধিক কার্যকর এবং সুন্দর অপশান।

    .
    ▪️পাঠ্যাভিমত :

    যুহদ অর্জনের জন্য জাহান্নামের প্রতি অধিক ভয় আর জান্নাতের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থাকাটা জরুরী। দুনিয়াবী হাজারো কষ্টে-অপ্রাপ্তিতে ‘আশার আলো’ দেখাতে রাব্বে কারীম তাই কুরআনে বর্ণনা করেছেন জান্নাতের অসংখ্য নিয়ামাতের কথা। এপারে চলতে চলতে যেন আমরা ওপারের সর্বসুখের কথা ভুলে না যাই। জান্নাতের বর্ণনা পড়ে নিজেকে বারংবার রিমাইন্ডার দেওয়ার জন্য হলেও, বক্ষ্যমাণ বইটি পড়ার জরুরত ইগ্নোর করা যায়না।

    এ বিষয়ে বাংলায় অনূদিত অনেক বই-ই আছে। তবে, এই মৌলিক বইটির মনোহর চিত্রায়ণ আমাকে বিমোহিত করেছে আক্ষরিক অর্থেই। কর্মমুখর যান্ত্রিক আটপৌরে জীবনে একটুখানি প্রশান্তি পেতে, রবের দেওয়া আশ্বাসে প্রত্যেকটা সুবহে সাদিকে বুকভর্তি আশা নিয়ে জাগতে কিংবা কল্পনার বাতায়ন দিয়ে জান্নাতের আকাশে একটু উঁকিঝুঁকি দিতে, বইটা পড়েতে পারেন ইন শা আল্লাহ্।

    2 out of 2 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top