মেন্যু
১০০০ টাকার পণ্য কিনলে সারা দেশে ডেলিভারি একদম ফ্রি।

নট ফর সেল

বস্তুবাদী সভ্যতায় সবকিছুরই মূল্যায়ন হয় তার বাজারদরের উপর। যা কিছু অর্থ-বিনিময়ে বিকোয় না তার সেখানে কোনো মুল্য নেই। তাই বেচা-কেনার এ বাজারে তারা সব কিছুকেই তুলেছে, সব কিছু…। রূপ-লাবণ্য, জীবন-যৌবন সবই সেখানে পণ্য; বেচাও যায়, কেনাও যায়।
সব কিছুকে অর্থ-মুল্যে মুল্যায়নের এ অশুভ স্বভাব তাদের কোন নরকে নিয়ে গেছে সে প্রশ্নের উত্তর এখানে সরাসরি নেই; আছে আমার মাকে কেন বিশ্বসুন্দরী করা হয় না, আছে নানা রকমের আত্মজিজ্ঞাসা, বইমেলা আছে, আছে ওজন বিড়ম্বনার কথা, অনির্দিষ্টকালের জন্য আত্মার উন্নয়নের কথা; ভালো শাশুড়িদের গল্প আছে; আছে আরও নানা কিছু। আশা করি বইটি পড়তে পড়তে এমন আরো অনেক বিষয়ের পোষাকি রূপ আর বাস্তবতার মধ্যেকার ফারাকটা উপলব্ধি করা যাবে।

পরিমাণ

126.00  180.00 (30% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

4 রিভিউ এবং রেটিং - নট ফর সেল

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  1. 5 out of 5
    Rated 5 out of 5

    :

    আমার পড়া সবচেয়ে প্রিয় বইগুলার মধ্যে একটা এই বইটা।

    ২০১৫ তে প্রথম পড়া, তারপর আবার পড়লাম ৪ দিন আগে, রিভিউ লিখবো বলে, ঢাকা-রাজশাহীর ট্রেন জার্নিতে।

    প্রচলিত ধারার কোনো ইসলামি বই না, একজন বিশ্বাসী মানবীর নিজের জীবন থেকে লেখা, যা পড়া শেষেও পাঠকের মনে থেকে যাবে কিছু ভাবনার খোরাক, কিছু আত্ম-জিজ্ঞাসা!

    একজন প্রাক্টিসিং মুসলিম নারী তার জীবনের ছোট ছোট অনেকগুলো ঘটনা লিখেছেন। বইমেলার গল্প আছে, আছে বিজ্ঞাপনের প্রতারণার গল্প, আছে ওজন বিড়ম্বনা, ভালো শাশুড়ির গল্প, ‘আমি’ময়তার স্বার্থপরতা আর অনেক অনেক আত্মজিজ্ঞাসা!

    ইবাদত মানে যে শুধু নামাজ-রোজা না, একজন মুসলমানের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটা কাজই যে তার ইবাদত হয়ে উঠতে পারে, লেখিকা তা দেখিয়েছেন; সেটা কিভাবে হয়, তা-ও দেখিয়েছেন নিজের জীবন থেকে উদাহরণ টেনে। আপাত মুসলিম নামধারী ব্যক্তিরা যে ইসলামের নামে কত ভুলভাল চর্চা চালিয়ে যায়, সেগুলো আসলেই শিউরে ওঠার মত!

    বিধর্মীদের চেয়েও কিভাবে সালমান রুশদী আর তসলিমা নাসরিন এর মত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকারীরা ইসলামকে বেশি অবমাননা করে, মুসলিমদের বেশি কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সুন্দর উদাহরণের মাধ্যমে তাও ফুটে উঠেছে।

    বস্তুবাদী সভ্যতায় সবকিছুরই বাজার দরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন যে আমাদের কোন নরকের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা সেটা বুঝতেও পারছি না! বেচাকেনার এই বাজারে তারা তুলছে সব কিছু; রূপ-লাবণ্য, জীবন-যৌবন – সবই এখানে পণ্য; বেচাও যায়, কেনাও যায়। আর যা অর্থ-বিনিময়ে বিকোয় না তার কোনো মূল্যই নেই!
    বইটা পড়তে পড়তে এমন আরো অনেক বিষয়ের পোষাকী আর বাস্তব রূপের পার্থক্য চোখে পরবে।

    আর লেখিকার বর্ণনার সাবলীলতা আর বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় বইটাকে আরও সুখপাঠ্য করেছে!

    Was this review helpful to you?
  2. 3 out of 5
    Rated 3 out of 5

    :

    রেহনুমা বিনতে আনিস আমার খুবই প্রিয় একজন লেখিকা। ফেসবুকে হোক বা বইয়ের পাতায়- উনার লেখাগুলো আমার খুব প্রিয়। উনার লেখাগুলোতে আমি চিন্তার খোরাক পাই।

    একজন বিশ্বাসীর কাছে পৃথিবীকে দেখার ধরনটা আর দশজনের থেকে ভিন্ন। একজন মুসলিম মহিলার, যিনি ইসলামকে নিজের দ্বীন হিসেবে গ্রহন করেছেন- তার মনে একটা আদর্শ এবং নৈতিকতার একটা শক্ত ধারণা থাকে। সেই ধারণার আলোকে পরিবার- সমাজের বিভিন্ন ব্যাপারগুলো নিয়ে তার দেখাটা অন্যদের চেয়ে আলাদা।

    “নট ফর সেল”- বইটিতে লেখিকার ব্যাক্তিগত জীবনের বিভিন্ন ঘটনার আলোকে সমাজ- সংসারের বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা উঠে এসেছে। বইটিতে নানারকমের আত্মজিজ্ঞাসা আছে, বইমেলা আছে, ওজন বিড়ম্বনার কথা আছে, অনির্দিষ্টকালের জন্য আত্মার উন্নয়নের কথা আছে, ভালো শাশুড়িদের গল্প আছে, আরো আছে নানা কিছু। বইটি পড়ে আমি আনন্দ পেয়েছি, কিন্তু পড়ার শেষে মনের মধ্যে রয়ে গেছে কিছু চিন্তার খোরাক।

    বইয়ের লেখিকা এবং সিয়ান পাবলিকেশনকে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন।

    1 out of 1 people found this helpful. Was this review helpful to you?
  3. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    ??? বই রিভিউ :

    ? বইটি মূলত একজন বিশ্বাসী মানবীর লেখা একগুচ্ছ ভাবনা। এই ভাবনাগুলো আমাদের ও ভাবিয়ে তুলবে সত্যিই তো এমন না হয়ে ওমন হওয়া উচিত। লেখিকার এই ভাবনা গুলো থেকে আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে,অন্যরকম দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক কিছু জানার আছে। এই বইটি পড়ে আপনি নিজেকে দেখা, সমাজকে দেখা, পৃথিবীকে দেখার এক অন্যরকম মাধ্যম খুঁজে পাবেন।

    ♻️ আচ্ছা, পেয়ালার কোন অংশটা বেশি দামি? দেয়াল না ভেতরের ফাঁকা জায়গাটা? পেয়ালার দেয়াল খাওয়া যায় না, তবে ভেতরের তরলটুকু খাওয়া যাবে না যদি দেয়ালটা না থাকে। আমাদের ভাবনাগুলো এই খালি জায়গাটার মতো। কিছু ভাবনা প্রদও উপমাটির সমার্থক—অন্তঃসারশূন্য। কিছু ভাবনা মানুষকে আলোর দিকে নেয়, কিছু ভাবনা অন্ধকারে। সবকিছু ঐ শব্দের দেয়ালেই ঘেরা।

    ? শব্দের ক্ষমতা কত তা বোঝার জন্য আমরা আল-কুরআনের দিকে তাকাতে পারি। আল্লাহর বেছে নেওয়া কিছু শব্দ মানুষকে যুগ যুগ ধরে পথ দেখাচ্ছে। এই শব্দমালার অলৌকিকতা মৃত মানুষ জীবিত করার চেয়েও শক্তিশালী, জলরাশিকে বিচ্ছিন্ন করার চেয়েও ক্ষমতাবান।

    ? একজন বিশ্বাসী কিভাবে পৃথিবীকে দেখেন তা সেক্যুলার সমাজ জানে না। বিশ্বাসী মানুষদেরও যে একটা আদর্শ ও নৈতিকতার শক্ত ধারা আছে তা সমাজের বহুলাংশের কাছে অজানা। একজন বিশ্বাসীর কিছু অসাধারণ ভাবনা নিয়েই বইটি সাজানো হয়েছে।

    ? বইটি মোট সতেরটি খন্ডে বিভক্ত। সমাজের বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক দিক নিয়ে লেখিকার নানাবিধ ভাবনা বইটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে খুব সুন্দর উপস্থাপনার মাধ্যমে। বইটি পড়ে আপনি এক অন্যরকম ভাবনার জগৎতে তলিয়ে যাবেন। বইটি পড়ার শেষে রয়ে যাবে কিছু ভাবনার খোরাক।কিছু আত্নজিজ্ঞাসা।

    ? বইটিতে সামাজিক, পারিবারিক ও বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

    ? আমাদের বর্তমান সমাজের একটি খুব বিখ্যাত পোগ্রাম ‘লাক্স চ্যানেল আই বিশ্ব সুন্দরী অ্যাওর্য়াড প্রতিযোগিতা’। এই প্রতিযোগিতাটি গুণাহে ভরপুর একটি পোগ্রাম। এই প্রতিযোগিতাটিতে কেবল উঠতি বয়সী ললনারাই এপ্লাই করতে পারে। একটু বেশী বয়সি মেয়েরা অঘোষিত বাতিল বলে আগেই গণনার খাতায় নাম উঠে যায়। এখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার তেমন মূল্য নেই।! মেয়েটিকে দেখতে সুন্দরী, তার- বুক, হিপ, উচ্চতা, কোমরের মাপ ইত্যাদিতে পার্ফেক্ট হতে হবে।! কেননা এগুলি দ্বারা তার সৌন্দর্য বিচার করা হবে!! কত জঘন্য একটা প্রতিযোগিতা ভাবা যায়?

    ? কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় প্রতি বছর হাজার হাজার ললনার ভীড় চোখে পরার মতো।! তারা সবাই চায় বিশ্ব সুন্দরীর খেতাব পেতে!।
    আমাদের সমাজটা কোন দিকে যাচ্ছে ভাবা যায়!?।

    ? এই বইয়ের ‘আমার মাকে কেন বিশ্বসুন্দরী করা হয় না?’ খন্ডটি পড়লে আপনিও লেখিকার মতো অন্যরকম করে ভাবতে শুরু করবেন।

    ? আমাদের বর্তমান সমাজের দৃশ্য এক বিচিএ রকম রূপ লাভ করেছে। আধুনিক যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে বর্তমান যুগের নারীরা এখন নিজের স্বাধীনতা চায়। তারা মনে করে বাইরে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করাই তাদের সে স্বধীনতা এনে দেবে। এর জন্য আমি মূলত দোষারোপ করবো বর্তমানের সমাজ ব্যবস্থাকে এরপর পরিবারের প্রধানকে।

    ? আমাদের পরিবারের অবস্থা হচ্ছে এই যে, ‘ওমুকের মেয়ে বিসিএস ক্যাডার, ইনঞ্জিনিয়ার হইছে। তুমি কি করলা?!!’ অন্যের দেখাদেখি তোমাকেও কিছু করতে হবে। অনেক মেয়েকে বাধ্য হয়েই দুনিয়ার এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নামতে হয়।

    ?️ ঘরে বসে থাকা যাবে না!! আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে তোমাকেও এগিয়ে যেতে হবে।!
    অথচ ঘরই হলো একটি মেয়ের জন্য সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান।

    ❄️ মহান আল্লাহ বলেছেন—

    “আর তোমরা নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাক- জাহেলী যুগের মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।“
    [আল-কুরআন = ৩৩ : ৩৩]

    ? রাসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—

    “নারী গোপন জিনিষ, যখন সে ঘর থেকে বের হয় শয়তান তাকে তাড়া করে। আর সে আল্লাহ তাআলার সবচে’ নিকটতম তখন হয় যখন সে নিজের ঘরের মাঝে লুকিয়ে থাকে।“
    [তাবরাণী ২৯৭৪]

    ?️ আবার অনেক মেয়েরা চায় নিজের ক্যারিয়া গড়তে!। এই ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে কত নামায কাজা হচ্ছে / বাদ যাচ্ছে, ফরয পর্দার বিধান লঙ্গন হচ্ছে, নন-মাহরাম কত পুরুষের সাথে কথা বলা- কাজ করা হচ্ছে সেগুলা আমাদের চিন্তার কোন বিষয়ই না!!! এইভাবেই চলছে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা!।

    বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা আজ নারীকে পণ্য বানিয়ে ছাড়ছে। অথচ আমাদের কোনো হুশ নেই!। আমরা সবাই এই দুনিয়ার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে এর মাঝেই ডুবে আছি।

    ??? ডিয়ার গার্লস –
    “গার্লস আর নট ফর সেল
    দে আর স্পেশাল গিফট ফর এভরি মেইল”

    তোমাদের নিজেদের সেটা বুঝতে হবে। নতুবা কোথাও নিজেদের সম্মান খুজেঁ পাবে না। ইসলাম আমাদের মেয়েদের যে সম্মান আর মর্যাদা দিয়েছে তার বাইরে গিয়ে যদি সম্মান খোজঁ তবে প্রতি পদে পদে অশান্তি আর অসম্মান ছাড়া কিছুই পাওয়া যাবে না।

    ? এমন না যে মেয়েদের বাড়ির বাইরে চাকরি করা ইসলাম একেবারে নিষেধ করেছে। জরুরি প্রয়োজনে চাকরি করা মেয়েদের জন্য জায়েয। তবে সে ক্ষেএে অবশ্যই আল্লাহ সুবহানা ওয়া তায়ালা আনহু’র প্রদত্ত প্রটেকশান বিধান ‘পর্দা’ অবশ্যই ম্যানটেইন করতে হবে।

    ?️ দুনিয়াতে আজ মিথ্যা বলা, লোক ঠকানো, প্রতারণা করা, স্বার্থপরতা এসবই স্বাভাবিক ব্যাপার!!। বরং এগুলোর উল্টোটা যেনো আজ অস্বাভাবিক হয়ে দাড়িঁয়েছে!।

    কোনো কিছু কিনতে গেলে প্রথমেই আমাদের মাথায় যে কথাটি আছে সেটি হলো পণ্যটি ভালো হবে তো। ভেজালের ভীড়ে আসল জিনিষ চেনা দায় হয়ে গেছে আজকাল। বিজ্ঞাপনে চকচকা, নির্ভেজাল, এক নাম্বার মার্কা পণ্য দেখায়!! বিজ্ঞাপনের চকচকা আর বাহারি পণ্যের প্রতি প্রলুব্ধ হয়ে যখন আমরা সেটি ক্রয় করে ব্যবহার করি সেটির আসল রূপ আমাদের সামনে ধরা পরে।!
    এভাবে মানুষ ঠকিয়ে ব্যবসা করা ইদানিং খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়!!। শুধু ব্যবসা না, আজকাল প্রতিটি ক্ষেএে মানুষ ঠকানো ডাল ভাত!!।
    ? অথচ আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আনহু ব্যবসাকে হালাল করেছেন।

    ? তিনি বলেছেন—

    “মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়। যারা লোকের নিকট হতে মেপে লওয়ার সময় পূর্ণমাএায় গ্রহণ করে এবং যখন তাদের জন্য মাপে বা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করেনা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে মহা দিবসে।“
    [আল-কুরআন= ৮৩: ১-৫]

    ? এই বইটি আপনাকে সমাজের নানান রকম দিক নিয়ে নতুনভাবে ভাবনার মাঝে ডুবিয়ে দেবে। পারিবারিক বিভিন্ন দিক, সামাজিক নানা বিষয়, বিভিন্ন বিষয় যা আজ আমাদের সমাজে স্বাভাবিক লেখিকা আপনাকে সেই স্বাভাবিক বিষয়গুলো নিয়ে আবার নতুন করে আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে।

    ? বইটি কেন পড়বেন?

    ? বইটি পড়বেন কারণ—

    ❄️ বইটির প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে এক অন্য রকম দৃষ্টিভঙ্গিতে।

    ❄️ বইটির অধ্যায়গুলি আপনাকে জানান দেবে নতুন করে কিছু জানার এবং মানার প্রয়াস।

    ❄️ বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে, বিভিন্ন ঘটনার চিন্তা-ভাবনা আপনার অনুভূতিকে নাড়া দেবে।

    ❄️ সমাজ, সংসারের নানা দিক নিয়ে এক অন্যরকম চিন্তার খোরাক জোগাবে।

    ❄️ সর্বপরি, ভাবনার এক নতুন জগৎতে আপনিও নতুনভাবে ভাবতে শুরু করবেন।

    ?➡️ বইটি থেকে কিছু অংশ উপস্থাপন করার চেষ্ট করছি যেন পাঠকরা বইটি পড়তে আগ্রহী হন—

    ?️??️ আমার ক্যানাডিয়ান নওমুসলিমা ছাএী আয়শা; বয়স ১৯, পরির মতো সুন্দরী; আমার কাছে আরবি পড়া শেখার পাশাপাশি ইসলাম সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়।
    ওর সাথে পরিচয় এই রমাদানে। সেদিন ইফতার পার্টি ছিল, রাতে কিয়ামুল লাইল। ইফতারের পর আমরা পাশাপাশি নামাজে দাঁড়ালাম। সামনে, পেছনে, পাশে এত মহিলা এবং বাচ্চারা গিজগিজ করছে যে, নামাযে মনোযোগ ধরে রাখা যুদ্ধসম কঠিন ব্যাপার। লক্ষ্য করলাম এর মাঝেই সে একমনে স্রষ্টার সাথে বাক্যালাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এই ময়দানে সে যেন একাই দাঁড়িয়ে! জানতে পারলাম পাঁচ ওয়াক্তের পাশাপাশি সে এমন অনেক নফল সলাত আদায় করে যার নামও অনেক জন্মগত মুসলিমের অজানা।

    ইসলামের প্রতি ওর আগ্রহ আমাকে চমৎকৃত করলো। সে ইসলাম গ্রহণ করেছে মাএ দু’বছর। কিন্তু সে তার ধর্মের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক; ফলে সে এর সবটুকুই পালন করতে আগ্রহী এবং যত্নশীল। দেখলাম সে এর মাঝেই ভারী সুন্দর বোরকা এবং স্কার্ফের কালেকশন করে নিয়েছে। তবে এর সবটুকুই ইসলামের দৃষ্টিতে যতটুকু গ্রহণযোগ্য সে বিবেচনা মাথায় রেখে। যেমন, কানাডায় নেইল পলিশ ছাড়া কোনো স্টাইলিশ মেয়ের দেখা পাওয়া অস্বাভাবিক, কিন্তু ওর হাতে-পায়ে কোথাও নেইল পলিশ নেই। স্কার্ফ বা ওড়না যখন যা-ই পরে একটি চুলও কোনোদিন বেরিয়ে থাকতে দেখিনি।

    রাতে কুরআনের আলোচনার সময় বাংলায় আলোচনা হওয়ায় বেচারি বুঝতে পারছিল না। আমি তখন ওর আগ্রহ দেখে কিছু অংশ মুখে এবং কিছু অংশ লিখে বুঝিয়ে দিতে লাগলাম। সে কৃতজ্ঞচিত্তে সব শুষে নিতে লাগল এবং মাঝে মাঝে প্রশ্ন করে সঠিকভাবে বুঝে নিল। যখন আলোচনা শেষে নামাজ শুরু হবে, সে এসে আমাকে বলল, ‘আমি কি আপনার পাশে দাঁড়াতে পারি? তাহলে আমি আপনাকে দেখে আমার posture গুলো ঠিক হচ্ছে কি না যাচাই করে নিতে পারব’। আমি তো হতবাক! অনেক সময় অনেক আত্নীয় বন্ধুবান্ধবকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিশেষ করে রুকু এবং সিজদায় posture এর ভুলের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তাদের বিরাগভাজন হয়েছি। আর সে কিনা বলে নামাজ সঠিকভাবে পড়ার জন্য posture ঝালাই করে নেবে! ওর আগ্রহ আবারও আমাকে চমৎকৃত করল।

    এর পর থেকে কুরআনের ওয়েবলিঙ্ক নেওয়া থেকে শুরু করে ভ্রূ তোলার মাসআলা পর্যন্ত নানান বিষয়ে ওর সাথে আলাপ হয়েছে। ভালো লেগেছে যে, সে কোনো বিষয়ে জানার সাথে সাথে তা গ্রহণ করেছে, কুতর্কের আশ্রয় নেয়নি। অথচ এতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ইসলামের সকল হুকুম আহকাম আঁকড়ে ধরার আগ্রহ অনেক ইসলাম জানা মানুষের মাঝেও দেখা যায় না!

    ক’দিন আগে নতুন করে ওর ইসলামের বোধ এবং অনুভূতির পরিচয় পেয়ে আবারও মুগ্ধ হলাম। ক্যানাডার একটি বৃহৎ ফ্যাশন হাউজ একটি ফ্যাশন শোর আয়োজন করছে। এক পর্বে সমাপ্য শোটিতে মডেলিং করার জন্য ওকে ৪০,০০০ ক্যানাডিয়ান ডলার অফার করা হয়। সে সরাসরি না করে দেয় এই বলে, ‘আমার ধর্ম আমাকে নিজেকে পুজিঁ করার অনুমতি দেয় না।‘ শুনে এত ভালো লাগল! মনে হলো, এই মেয়েটি খানিকটা দেরিতে ইসলামকে খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু সে-ই তো পেয়েছে এর আসল স্বাদ! দোকানে, লাইব্রেরিতে, মসজিদে ওর মতো এমন আরও অনেক নওমুসলিমা বোনকে দেখে আনন্দিত হই, আশা জাগে ইসলামের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিয়ে। আবার ভয় হয় আমরা যারা জন্মগতভাবে একে পেয়েও হেলায় হারাচ্ছি তারা বুঝি আবার অপাংক্তেয় হয়ে পড়ি!

    ? বইটি পড়ে আপনি জানতে পারবেন—

    ? আমার মাকে কেন বিশ্বসুন্দরী করা হয় না?

    ? আমি ‘লেডি’ নই

    ? চট্টগ্রামের পর্দানশীল বোনেরা

    ? নট ফর সেল

    ? ওজন বিড়ম্বনা

    ? বিজ্ঞাপন

    ? “অনির্দিষ্টকালের জন্য আত্মার উন্নয়ন কাজ চলিতেছে”

    ? সভ্য না বর্বর?

    ? প্রত্যাবর্তন

    ? আত্মপরিচয়

    ? আমার জীবনে বইমেলা

    ? ভালো শাশুড়িদের গল্প

    ? IICU ফিমেল ক্যাম্পাস

    ? একটি উত্তম বৃক্ষ

    ? সব ক’টা জানালা খুলে দাওনা

    এছাড়াও আরো ভাবনায় ফেলে দেয়ার মতো বিবিধ বিষয়।

    ? বইটার প্রচ্ছদ, ডিজাইন, বাইন্ডিং খুবই সুন্দর। বইটার প্রচ্ছদ দেখে আর নাম শুনেই আপনার পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মাবে।

    ?⏳? পরিশেষে,
    বস্তুবাদী সভ্যতায় সবকিছুই মূল্যায়ন হয় তার বাজার দরের উপর। যা কিছু অর্থ-বিনিময়ে বিকোয় না তার সেখানে কোনো মূল্য নেই। তাই বেচা-কেনার এ বাজারে তারা সব কিছুকেই তুলেছে, সব কিছু…। রূপ-লাবণ্য, জীবন-যৌবন সবই সেখানে পণ্য; বেচাও যায়, কেনাও যায়।
    সব কিছুকে অর্থ-মূল্যে মূল্যায়নের এ অশুভ স্বভাব তাদের কোন নরকে নিয়ে গেছে সে প্রশ্নের উওর এখানে সরাসরি নেই। আমরা নিজেরা যত দিন না নিজেদের ভালোটা বুঝতে শিখবো, যত দিন না ইসলাম জেনে মানতে শিখবো তত দিন আমাদের ভালো হবে আশা করাটা শুধু বোকামি আর কিছুই নয়।

    ? আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তায়ালা আনহু আমাদের সকলকে সহিহ বুঝ দান করুন।
    আমিন ।

    Was this review helpful to you?
  4. 4 out of 5
    Rated 4 out of 5

    :

    অমি মনে করি সব বোনদের বুক টা পড়া দরকার
    বিশেষ করে কোনো বোন ক গিফট করার জন্য বুক টা
    Perfect choice
    Was this review helpful to you?