মেন্যু
nobiye rohmot sallallahu alaihi wa sallam

নবীয়ে রহমত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

পৃষ্ঠা : 527, কভার : হার্ড কভার, সংস্করণ : 1st Published, 2016
আইএসবিএন : 77898491123282
এই বইটির কিছু বৈশিষ্ট আছে যা অনেক সীরাত গ্রন্থে পাওয়া যায়না। সীরাত গ্রন্থ গুলো সাধারণত সরাসরি আমাদের নবীর জন্ম দিয়ে শুরু হয়না । শুরু হয়না তৎকালীন বিশ্ব পরিস্থিতি, আরবের ইতিহাস,... আরো পড়ুন
পরিমাণ

300  500 (40% ছাড়ে)

পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন
পছন্দের তালিকায় যুক্ত করুন

- ৫৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি আমল চেকলিষ্ট।

- ৮৯৯ টাকা অর্ডারে ১টি ফ্রি বই।

1 রিভিউ এবং রেটিং - নবীয়ে রহমত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

5.0
Based on 1 review
5 star
100%
4 star
0%
3 star
0%
2 star
0%
1 star
0%
 আপনার রিভিউটি লিখুন

Your email address will not be published.

  1. 5 out of 5

    nishumoshiur:

    দুনিয়ার ইতিহাসের স্মৃতিচারণকালে অনেক বিখ্যাত মানুষের নাম উঠে আসবে, যারা দুনিয়ার নকশা বদলে দিয়েছে। অনেক বীর সম্রাট, বীর সেনাপতি, বিজ্ঞানী, সমাজ সংস্কারক, নেতাসহ অনেক শ্রেণীর মানুষের নাম উঠে আসবে। তাঁদের অবদানগুলোও অস্বীকার করার মতো না। কিন্তু একদল অতিমানব যারা আল্লাহ্‌ কর্তৃক নির্বাচিত, তারা দুনিয়াতে যে অবদান রেখেছেন, সেসবের তুলনা সবকিছুকে ম্লান করে দেয়। নবী ও রাসূলগণ মানবজাতির উপর যে ইহসান, উপকার করে গিয়েছেন, সেসবের বদলা কখনোই মানবজাতি দিতে পারবে না। তারা মানুষকে তার সৃষ্টিকারী, পালনকারী, ইচ্ছা মতো চলার তৌফিক দানকারী সেই মহান স্রষ্টার সাথে মানুষের পরিচয় করে দিয়েছেন। যে স্রষ্টা তাকে দয়া করে মায়া করে বানিয়েছেন, যার অজস্র নিয়ামত ভোগ করছে প্রতিটি মুহূর্ত, সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার রাস্তা দেখে দিয়ে গিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতার শেষ মানুষ হলেন আমাদের প্রিয় নবী, জগতবাসীর জন্য রহমতস্বরুপ প্রেরিত হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ্‌ পাক যাকে আমাদের আদর্শরুপে প্রেরণ করেছেন, তিনি তাঁর গোটা জীবন আল্লাহ্‌ পাকের খুশি মতো কাটিয়ে দেখিয়েছেন কিভাবে স্রষ্টাকে খুশি করানো যায়, কোন রাস্তায় পরকালের জীবনে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতের বাগানে বিচরণ করা যায়। এজন্য নবী(সা) এর জীবনী আমাদের জানতে হবে, যাতে আমরা সেই অনুসারে জীবনকে সাজাতে পারি।

    লেখক সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. উপমহাদেশ তথা গোটা বিশ্বের জন্য ইসলামের এক বড় খাদেম ছিলেন। তিনি সবসময় তাঁর লেখা, বক্তৃতা ও কাজে কর্মে ইসলামের উচ্চ মর্যাদাকে ধরে রেখেছেন। প্রাচ্যবিদদের ধারালো থাবা মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস, ঐতিহ্যকে ক্ষতবিক্ষত করে যাচ্ছে যুগযুগ ধরে। তিনি সেসবের দাঁতভাঙা জবাব দেন, দলিলপ্রমাণ ও তাঁদেরই লেখা দ্বারা। তাঁর গবেষণা সীরাতে নববীকেও নতুন করে, শক্তিশালীরুপে আমাদের মাঝে নিয়ে এসেছেন। সাইয়েদ নদভী সাহেব মানেই যেন সাধারণ থেকে বেশি কিছু, এই গ্রন্থেও সেই ঝলক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    সাইয়েদ নদভী সাহেব প্রথমেই নবী(সা) এর জন্মের মুহূর্তে গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। কি পরিবেশে আল্লাহ্‌ পাক তাঁর প্রিয় হাবীবকে দুনিয়াতে পাঠালেন, তা বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। অন্ধকার যুগের বর্ণনা এনে দেখিয়েছেন তখনকার যুগের বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা কেমন আকিদায় বিশ্বাসী ছিলেন। প্রাচ্যে, প্রতিচ্যে, ভারতবর্ষে কি রকম ধর্মের অন্ধকার অবস্থা ছিল তা সংক্ষেপে এনেছেন। এক্ষেত্রে অনেক ঐতিহাসিক ও প্রাচ্যবিদদের উদ্বৃতি দেয়া হয়েছে। ।
    এরপর জাযিরাতুল আরবে নবীর আবির্ভাবে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, যে কারণে আল্লাহ্‌ নবী(সা) আরবে পাঠালেন। আরবের ইতিহাস, ভাষা ও সেখানকার লোকদের মাঝে যে বৈশিষ্ট্য ছিল, যা পরবর্তিতে নবুয়তের দ্যুতি ছড়াতে কাজে লেগেছে তা উল্লেখ করেছেন।
    এরপর নবী(সা) এর আবির্ভাবের পূর্বে মক্কার অবস্থান, নবী(সা) এর বংশের সাথে ইব্রাহীম(আ) এর বংশের যোগসূত্র দেখানো হয়েছে। আবরাহা বাদশার মক্কা আক্রমণ ও অালৌকিক পরাজয় ছিল বিরাট এক ঘটনার বিবরণ এসেছে।

    এরপর নবী(সা) এর জন্ম থেকে নবুয়ত লাভ করা পর্যন্ত ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। এরপরই সেই শুভোক্ষণ যখন আল্লাহ্‌ পাক নবী(সা) কে নবুয়ত দ্বারা সম্মানিত করলেন। এরপর প্রাথমিক অবস্থায় দাওয়াত এবং সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের ঘটনা উল্লেখ হয়েছে।
    দাওয়াত যখন ছড়াতে শুরু করলো কুরাঈশ ইসলাম বিরোধীদেরও আবির্ভাব হতে থাকলো। দিনকে দিন বিরোধীরা নবী(সা) ও সাহাবীদের উপর অত্যাচার ও নিপীড়ন বাড়াতে থাকলো। একমসয় হিজরতের মহা ইবাদত শুরু হয়ে গেল। এখানে দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবী(সা) ও তাঁর সাহাবীদের ত্যাগ অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ছিল।
    প্রথমে লেখক মদীনার ভৌগলিক অবস্থা, সেখানকার পরিবেশ ও মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোকে নবুয়তের সংরক্ষণের জন্য সঠিক অবস্থানের কারণ দেখানো হয়েছে। মদীনায় হিজরতের পর পুরো পরিবেশই পাল্টে গেল। নতুন রাষ্ট্র গঠনে ও ইসলামের প্রচার, প্রসারে নবী(সা).পূর্ণ মনোনিবেশ করলেন। এরই ধারায় একে একে সব যুদ্ধ সংগঠিত হয়, যেমন- বদর যুদ্ধ, উহুদ যুদ্ধ, খন্দকের যুদ্ধ ইত্যাদি। প্রত্যেক যুদ্ধ মুসলমানদের তাদের করণীয়গুলোকে যেন দেখিয়ে দেয়। অসংখ্য শিক্ষণীয় ব্যাপার ও ইসলামের জন্য সাহাবীদের ভালবাসার অগণিত ঘটনা ফুটে উঠেছে।
    এরপর একসময় হুদাইবিয়ার সন্ধি এবং এর ফল উঠে এসেছে। এসময় নবী(সা) কতই না সাহসিকতার সাথে দুনিয়ার তৎকালীন সম্রাটদের কাছল ইসলামের দাওয়াত পৌছেছেন তার বর্ণনা ও প্রেরিত চিঠিগুলো সংক্ষেপে দেয়া হয়েছে। এরপর খায়বরে ইহুদীদের পরাজয়, তাদের ষড়যন্ত্রের সত্যতা ইহুদী পন্ডিতদের লেখা থেকেই দলিল দেয়া হয়েছে।

    এরপর সেই কাঙ্খিত বিজয় যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ্‌ পাক নবী(সা) কে দিয়েছিলেন, সেই মক্কা বিজয় হয়। ইসলাম তাঁর অবস্থানকে বিশ্বের দরবারে মেলে ধরে। এরপর হুনায়ন, তায়েফ ও তাবুক যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিদায় হজ্জ পালন হয় এবং নবুয়তের হক আদায় সম্পূর্ণতার ঘোষনা হয়।
    এরপরই নবী(সা) এর ইন্তেকাল হয়। শেষে নবী(সা) এর স্ত্রী-সন্তানদের সংক্ষেপে বর্ণনা আসে, নবীর আখলাক ও শামায়েল তথা নবী(সা) এর জীবনের প্রভাব আমাদের জীবনে কিভাবে পরে বা কি শিক্ষা নিয়ে এসেছে, সেসব বৈশিষ্ট্য আনা হয়েছে।
    সবশেষে লেখকের এই সীরাত রচনায় সহায়ক গ্রন্থ সমূহের বিশাল তালিকা দেয়া হয়েছে।

    যথেষ্ট গবেষণা ও পরিশ্রমের ফসল এই গ্রন্থখানা। অজস্র তথ্যে বিপুল এক সমাহার হয়েছে। তবে অনেক জায়গাতে ঘটনাসমূহ খুব সংক্ষেপে বলে যাওয়া হয়েছে। প্রাচ্যবিদদের আপত্তির অনেক জায়গার জবাব দেয়া হয়েছে। সীরাতের অন্যান্য গ্রন্থ থাকলেও সাইয়েদ নদভী সাহেবের গ্রন্থের স্বকীয়তা বজায় আছেই এটাতে। গবেষণার দিককে বাস্তব সম্মত ও বিভিন্ন দিক থেকে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক যেভাবে কোন ঘটনার পিছনে আল্লাহ্‌ পাকের হিকমতের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা আসলেই ভাবিয়ে তোলে, যে মহান রাব্বুল আলামীন কত জ্ঞানের অধিকারী ও কিভাবে তিনি তাঁর কাজের আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। পাঠকের অবশ্যই চিন্তার জগতে নতুন দরজা খুলবে এই গ্রন্থ অধ্যয়নে।

    4 out of 6 people found this helpful. Was this review helpful to you?
    Yes
    No
Top